Last update
Loading...

বান্দরবানে পাহাড়ধসে শিশু ও মহিলাসহ ৬ জন নিহত

বান্দরবানে প্রবল বর্ষণে পৃথক তিনটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনায় ৪ শিশু ও মহিলাসহ ৬ জন নিহত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোর রাতে শহরের কাছে কালাঘাটা ও লেমু ঝিড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী, সেনাবাহিনী সদস্য ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। চাপাপড়া মাটির গভীরতা বেশি হওয়ায় এখনো দুজনের লাশ উদ্ধার করা যায়নি। এদিকে প্রবল বর্ষণে সাংঙ্গু মাতামুহারী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দুই সহস্রাধিক পরিবার। দমকল বাহিনী সূত্র ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভোর রাত ৩টার দিকে প্রবল বর্ষণের সময় শহরের কালাঘাটা এলাকার কবরস্থানের পাশে ঘরের উপর মাটি চাপা পড়লে রেবা ত্রিপুরা (২২) নামের বান্দরবান সরকারি কলেজের এক কলেজছাত্র নিহত হয়। মাটি চাপা পড়ে আহত হয় আরো ৪ কলেজছাত্র। এরা হলো বীর বাহাদুর ত্রিপুরা সূর্য চাকমা ও প্রশেন ত্রিপুরা। তারা ঐ এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকতো। রেবা ত্রিপুরা রাতে তার বন্ধুৃদের সাথে কালাঘাটার ঐ এলাকায় থাকতে আসে। রাতে প্রবল বৃষ্টির সময় মাটি চাপা পড়ে তার মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে লেমু ঝিড়ি জেলে পাড়া ও আগা পাড়া এলাকায় এলাকায় পাহাড়ের মাটি ধসে গিয়ে মা মেয়ে নিহত হয়েছে। এরা হলো মা কামরুন্নাহার বেগম (৪০) ও তার মেয়ে সুখিয়া বেগম (৮)। আহত হয় কারুন্নাহারে স্বামী আবদুল আজিজ। এদিকে লেমু ঝিড়ি আগা পাড়া এলাকায় লাল মহন বড়ুয়ার ঘরে উপর মাটিচাপা পড়লে তার ৩ শিশু নিহত হয়।
এরা হলো মিতু বড়ুয়া, শুভ বড়ুয়া ও লতা বড়ুয়া। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে লেমু ঝিড়ির জেলে পাড়া এলাকার ধসে পরা মাটির গভীরতা বেশি হওয়ায় মা-মেয়ের লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। সেখানে দমকল বাহিনীর সদস্যরা লাশ উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে। দমকল বাহিনীর সহকারী স্টেশন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ঘোষ জানান, খবর পেয়ে দককল বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে প্রবল বৃষ্টি ও ধসে পরা মাটির গভীরতা বেশি হওয়ায় মা-মেয়ের দুটি লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে বলে জানান দমকল বাহিনীর এই কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, প্রশাসনের পক্ষ হতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড় ধসে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খোজ খবর নেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য-সহযোগিতা করা হবে প্রশাসনের পক্ষ হতে। এদিকে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢলে জেলা শহর, লামা ও আলীকদম উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার দুই সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সড়কের উপর পাহাড় ধসে পড়ায় ও পানি উঠায় বান্দরবানের থানছি, রুমা, লামা ও আলীকদম উপজেলার সড়ক যোগযোগ বন্ধ রয়েছে। বান্দরবানের সাথে রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। জেলা শহরের মেম্বার পাড়া, আর্মি পাড়া ওয়াপদা ব্রীজ কাশেম পাড়া এলাকা পানিতে তালিয়ে গেছে। এসব এলাকার লোকজন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রািতষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে অনেক পরিবার।

0 comments:

Post a Comment