Last update
Loading...

বাংলাদেশ হবে আঞ্চলিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। আমাদের অনুসৃত উন্মুক্ত অর্থনীতি উপ-আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে উইন-উইন অবস্থান তৈরি করে সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ আড়াই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে এবং জনপ্রতি মাথাপিছু আয় ১২ হাজার ডলারে উন্নীত হবে। বুধবার জাতীয় সংসদে দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ৪৫ বছরে উৎপাদিত ১৩ হাজার ৫৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত আট বছরেই উৎপাদিত হয়েছে ৮ হাজার ৩৪০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৬১ ভাগই অর্জিত হয়েছে ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। তিনি আরও জানান, ২০২১ সালে আইটি খাতে ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং এ খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানির টার্গেট নিয়ে কালিয়াকৈরে ৩৫৫ একর জমির ওপর পিপিপি ভিত্তিতে হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ সহস াব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারসের (পিডব্লিউইসি) ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের ২৯তম এবং ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে। যার বর্তমান অবস্থান ৩১তম। ৪৫ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৩ হাজার মেগাওয়াট : মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরনো হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ১৩ হাজার ১৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভসহ ১৫ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রতি বছর দুই লাখ ক্যান্সারে আক্রান্ত : সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতি বছর ২ লাখেরও বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে, প্রতি ১০ লাখে একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন, আর এর চিকিৎসাও ব্যয়বহুল। ওষুধ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে দেশি কোম্পাানগুলোকে ক্যান্সারের ওষুধ তৈরিতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত থ্রাস্ট সেক্টর : এমএ আউয়ালের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে সরকার থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে ঘোষণা করছে। বিগত জোট সরকারের আমলে যেখানে বিশ্বের মাত্র ৯৭টি দেশে কর্মী প্রেরণ করা হতো, বর্তমানে ১৬২টি দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। ১৬২ দেশে ১ কোটিরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছে। আন্তঃদেশীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্ক : গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মহাসড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধার কারণে ৫টি আন্তঃদেশীয়, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক মহাসড়ক নেটওয়ার্ক উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পৃক্ত। গণভবনে কবি-শিল্পীদের সম্মানে ইফতার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি, কবি, শিল্পী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্মানে বুধবার তার সরকারি বাসভবন গণভবন লনে ইফতারের আয়োজন করেন। প্রধানমন্ত্রী বিকাল ৬টা ১০ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন এবং টেবিল ঘুরে ঘুরে অতিথিদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, ড. হাছান মাহমুদ এমপি, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, হাবিব-ই-মিল্লাত এমপি, নুর-ই-আলম লিটন চৌধুরী এমপি, কাজী রোজী এমপি ও শেখ কবির হোসেন ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এছাড়াও অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, অধ্যাপক ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান এবং ড. রফিকুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, বিশিষ্ট অভিনেতা আবদুর রাজ্জাক, হাসান ইমাম, রিয়াজ এবং শমী কায়সার,
বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী হাশেম খান, সঙ্গীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ, সামিনা চৌধুরী এবং ফাহিমা চৌধুরী, কবি রুবি রহমান, ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, ফরিদুর রেজা সাগর, শাইখ সিরাজ, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আফজাল হুসাইনও ইফতারে যোগ দেন। ইফতারের আগে জাতির শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মহিউদ্দিন কাশেমী মোনাজাত পরিচালনা করেন। ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি : দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনতে আমরা ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আমরা একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত মোট ৪টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এগুলো হল- ১. মেঘনা ইকোনমিক জোন, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ, ২. আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ, ৩. আমান ইকোনমিক জোন, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ, ৪. বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, কোনাবাড়ী, গাজীপুর। তিনি বলেন, এছাড়া ১০টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রি-কোয়ালিফিকেশন লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।

0 comments:

Post a Comment