Last update
Loading...

৪৬ বছরে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি কালো টাকা সাদা হয়েছে

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৩৭২ কোটি কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যা থেকে সরকার ১ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে। তবে ফখরুদ্দিন- মঈনুদ্দিন নেতৃত্বাধীন তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ৯ হাজার ৬৮২ কোটি ৯৯ লাখ কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ১৬তম অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান। সংসদে দেওয়া অর্থমন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী, ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ২ কোটি ২৫ লাখ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। যা থেকে রাজস্ব আয় হয় ১৯ লাখ টাকা মাত্র। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ৫০ কোটি ৭৬ লাখ কালো টাকা সাদা করে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৮১ লাখ টাকা। এরপর ১৯৮১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ৪৫ কোটি ৮৯ লাখ কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। রাজস্ব আয় হয়েছে ৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে ১৫০ কোটি ৭৯ লাখ কালো টাকা সাদা করা হয়। এ থেকে রাজস্ব পাওয়া যায় ১৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। ১৯৯৭ থেকে ২০০০ পর্যন্ত সময়ে ৯৫০ কোটি ৪১ লাখ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। যা থেকে রাজস্ব এসেছে ১৪১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৮২৭ কোটি ৭৪ লাখ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ হয়। যা থেকে রাজস্ব এসেছে ১০২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এরপর ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ৯ হাজার ৬৮২ কোটি ৯৯ লাখ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। এ থেকে সরকার রাজস্ব পায় ৯১১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ৮০৫ কোটি ১ লাখ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ পেয়ে, রাজস্ব দেয় ২৩০ কোটি ৪১ লাখ টাকা। ২০১৩ থেকে অদ্যাবধি ৮৫৬ কোটি ৩০ লাখ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ থেকে রাজস্ব পাওয়া গেছে ৪৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সরকার দলীয় সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক থেকে আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাতের খবর প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এলে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক পরিদর্শন দল প্রেরণ করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য ব্যাংকসমূহকে কেস টু কেস ভিত্তিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া গ্রাহকদের হিসাবে এধরনের কোনো জাল-জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে কিনা তা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত পরিদর্শনেও খতিয়ে দেখা হয়। একইভাবে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দলও বিষয়টি নিয়মিত নিরীক্ষা করে থাকে এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নত করে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এখন থেকে চেক জাল করে গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ জালিয়াতি বা প্রতারণার ঘটনায় ব্যাংকের নিজস্ব তদন্তে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত রয়েছে প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকের দাবি পূরণ করতে হবে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বস্তিবাসীদের আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে সরকারি দলের সদস্য চট্টগ্রামের এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় ৫ কোটি ৭০ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয়ে নগর বস্তিবাসীদের আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পে ৫ কোটি মার্কিন ডলার বিশ্বব্যাংকের ঋণ এবং বাকি ৭০ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার বাংলাদেশ সরকার প্রদান করবে। মন্ত্রী বলেন, দেশের নগরাঞ্চলের বস্তিবাসী এবং অস্থায়ী বাসিন্দাদের আবসনের ব্যবস্থা করা ও তাদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাংক স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উন্নত জীবনব্যবস্থা শীর্ষক প্রকল্পে ৫০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের সাথে গত বছর ৩০ জুন একটি ঋণচুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যায় হবে ৫৭ দশমিক ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তন্মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশ সরকার প্রদান করবে ৭ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার। মন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পটির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশন, কুমিল্লা সিটি করর্পোরেশন এবং সিরাজগঞ্জ পৌরসভা এলাকার ১৯টি কমিউনিটিতে বসবাসরত বস্তিবাসী এবং অস্থায়ী বাসিন্দাদের আবাসন, অন্যান্য অবকাঠামো এবং সেবাসমূহ উন্নয়নে বিভিন্নখাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে তাদের আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধি ও পরিকল্পনা, জমির নিরাপত্তা পরিবেশ উন্নয়ন এবং সামাজিক ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য খাতে সহায়তা প্রদান করা হবে। এরফলে ওই সব এলাকার বসিন্দাদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। নাটোর-১ আসনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদে জানান, দেশের শিক্ষিত বেকার বুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক হতে ঋন প্রদান করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে কর্মসংস্থান ব্যাংক হতে এ পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৮শত ৩৭ জন উদ্যোক্তার মধ্যে ৫ শত ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৮৫৭৬.৭৪ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণ সরকারি দলের সদস্য মো: মামুনুর রশীদ কিরনের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন,
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৮ হাজার ৫৭৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা কৃষি ঋণ হিসেবে বিতরণ করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংক এ ঋণ বিতরণ করেছে।  তিনি বলেন, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহের পাশাপাশি ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে সকল বেসরকারি বাণিজ্যিক ও বিদেশি ব্যাংকসমূহের জন্য কৃষিঋণ বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ৩৮টি বেসরকারি বাণিজ্যক ব্যাংকগুলো ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৮ হাজার ৩৬০ কোটি ৪২ লাখ টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬ হাজার ৫৮৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা কৃষিঋণ ও পল্লীঋণ বিতরণ করছে। তিনি বলেন, এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ১ হাজার ৩১৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ৩৫৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড ২৮৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা, এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড ২৭৬ কোটি ২ লাখ টাকা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড ২৫২ কোটি ৭২ লাখ টাকা, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড ২২৫ কোটি ৪ লাখ টাকা, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড ২১২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং এবি ব্যাংক লিমিটেড ২০৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণ করেছে। সালমা ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নানামুখি পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে আগের তুলনায় অনেক বেশি শৃঙ্খলা পুঁজিবাজারে বিদ্যমান, যা যেকোন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমেয়। আরো অধিকতর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পক্ষে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স ডেপেলপমেন্ট রেগুলেটরী অথরিটি, মাইক্রোক্রেডিট রেগুরেটরি অথরিটি নিয়মিত সভা করছে।

0 comments:

Post a Comment