Last update
Loading...

নৌকা ডুবে গেছে, কেউ তুলতে পারবে না : খালেদা জিয়া

সহায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকারের ব্যর্থতায় ক্ষমতাসীন দলের নৌকা ডুবে গেছে। কেউ আর টেনে তুলতে পারবে না।
তিনি আজ শনিবার এক ইফতার মাহফিলে বলেছেন, আগামী নির্বাচন হতে হবে সহায়ক সরকারের অধীনে, হাসিনার অধীনে এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। কোনো দল অংশ গ্রহণ করবে না। হাসিনাকে বাদ দিতেই হবে, ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতেই হবে।
আজ রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও জাগপার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শফিউল আলম প্রধানের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন এসব বলেন।
মরহুম শফিউল আলম প্রধানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনও করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
প্রসঙ্গত, গত ২১ মে প্রধান মারা যান। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে খালেদা জিয়াসহ জোট নেতারা মোনাজাতে অংশ নেন।
জাগপার সভানেত্রী রেহানা প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জোট নেতাদের মধ্যে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এমএ রকীব, ন্যাপ-ভাসানীর অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম ও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন বক্তব্য রাখেন।
২০ দলীয় জোটের শরিক মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার চৌধুরী বুলবুল, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদও ইফতারে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভার পর মূল মঞ্চে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জাগপার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শফিউল আলম প্রধানের সহধর্মিনী অধ্যাপক রেহানা প্রধান, তার মেয়ে ব্যারিস্টার তাহমিয়া প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জোট নেতাদের নিয়ে ইফতার করেন খালেদা জিয়া।
ইফতার মাহফিলে জাগপার সিনিয়র নেতা আসাদুর রহমান খান, রাকিব উদ্দিন চৌধুরী মুন্না, খন্দকার আবিদুর রহমান, নিজামউদ্দিন অমিত, শেখ জামাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা বেলায়েত হোসেন মোড়ল, শেখ ফরিদ উদ্দিন, নজরুল ইসলাম বাবলুসহ নেতৃবৃন্দ ইফতারে ছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়া বলেন, নিজেরা হেলিকপ্টারে বিভিন্ন জায়গায় উদ্বোধনের নামে যাচ্ছেন, কিছু উদ্বোধন করছেন। আর সেখানে ওরা নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের নামে নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। নৌকা যে ডুবে গেছে- এটা বুঝতে পারছেন না। এই নৌকা ডুবে গেছে, এই নৌকাকে আর আপনার হাজার লোক দিয়ে টেনেও তুলতে পারবে না।
তিনি বলেন, নৌকার সাথে যাদের রেখেছেন, আশ-পাশে যারা আছে, আপনার ডানে-বায়ে যারা আছে, যারা অন্য দল করে আপনার দলে এসেছে-তারা কী জিনিস? আপনি কিন্তু নিজেই বলে দিয়েছেন তারা কী খায়, কী রকম তাদের লাইফস্টাইল। এসব লোককে দিয়ে দেশের কিছু হবে না। এরা দেশের কিছু করতে পারে না। আপনিও পারবেন না।
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে দাবি পুনর্ব্যক্ত খালেদা জিয়া বলেন, আমি বলব একটা নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন। সেই নির্বাচন হতে হবে সহায়ক সরকারের অধীনে। শেখ হাসিনার অধীনে এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। কোনো দল অংশগ্রহণ করবে না। হাসিনাকে বাদ দিতেই হবে, ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতেই হবে। আগামীতে সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে প্রত্যেকে ভোট দিতে যাবে। সবাই এটা চায়, সারা পৃথিবীর মানুষ এটা চায়। ইনশা আল্লাহ বাংলাদেশে এই নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনের ফলাফল আপনারা বুঝতে পারবেন, ইনশা আল্লাহ বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট জিতে এসে এদেশের মানুষকে যা যা ওয়াদা করেছি আমরা আমাদের ভিশন-২০৩০ এ। সব কিছু করবো, আরো কিছু করার আছে, সেটাও করব।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামনে ঈদ। এই ঈদের মানুষ দেশে যায়। দেখেছেন রাস্তাঘাটের যে দুরাবস্থা। আজ পত্রিকায় ছবি দিয়েছে পাঁচ ঘণ্টার রাস্তা দিয়ে ১০ ঘণ্টায় অতিক্রম করতে হচ্ছে। আর যানজট থাকলে ১৫-২০ ঘণ্টা লেগে যায়। গাড়িতে যাত্রীরা কী দূরাবস্থার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। মহাসড়কে পাবলিক টয়লেট করা উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।
পার্বত্য জেলায় পাহাড়ধসে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে যেভাবে ভুমিধসে মানুষগুলো মারা গেলো, তাদের উদ্ধার করা, তাদের পুনর্বাসনে বর্তমান সরকারের কোনো চিন্তাভাবনা আমরা দেখছি না, কোনো দায়িত্ববোধও দেখছি না। জনগণের নয়, আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী বিদেশ ভ্রমণে ব্যস্ত। যেখানে চট্টগ্রামের রাঙামাটিতে ঘটনা ঘটলো ১০টা কত মিনিটে ঘটলো, সেটা জানার পরও বেলা ১২টায় কত মিনিটে হাসিনা দেশ ত্যাগ করলেন। কেনো? দেশে এতো বড় ঘটনা, এখন পর্যন্ত ১৫২ জন মারা গেছে, আরো হয়তো মারা যাবে কিংবা অনেকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এতো বড় ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী কিভাবে বিদেশে যান। এটা কী জনগণের প্রতি তার দায়িত্ববোধ? আজকে তিনি দেশে ফিরেছেন। এসে মায়াকান্না দেখবেন হয়ত।’
চালের মূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, চালের দাম যে এতো বৃদ্ধি হয়েছে তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না সরকার। কেনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না? দেশের সবচেয়ে নিম্নমানের মোটা চালের দাম হলো ৫০ টাকা কেজি। এছাড়া সব জিনিসের দাম বেড়েছে। বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির দাম বেড়েছে।
বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাজেটে কত কর বাড়িয়েছে, ভ্যাটের পরিধি বাড়িয়েছে। যে ১৫% ভ্যাট প্রস্তাব করেছেন, সেটার কোনো প্রয়োজন নাই। ব্যাংকের এক লাখ টাকা জমা রাখলে সেখানে আটশ’ টাকা কেটে নিয়ে যাবে। কোনো মানুষের অর্থ থেকে এটা কাটছে? ব্যাংকের টাকা চুরি করেছে, দুর্নীতি হয়েছে। বেসিক ব্যাংকে টাকা লুট হয়েছে, এখন মানুষের পকেট কেটে টাকা তা ব্যাংকে দেয়া হচ্ছে। এসব বন্ধ করুন।
একাদশ নির্বাচন বেগম জিয়া বলেন, সামনে নির্বাচন। আমি জনগণের উদ্দেশে বলতে চাই. আওয়ামী লীগের চেহারা আপনারা ভালোভাবে দেখে নিয়েছেন। তাদের হাত থেকে বাঁচতে চান, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যারা গণতন্ত্রের পক্ষে, গরীব-সাধারণ মানুষের পক্ষে, সমস্যা-সমাধানের পক্ষে, দেশের শান্তি-উন্নয়নের পক্ষে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে পক্ষে, তাদের পক্ষে থাকুন। সেই রকম দলই হলো বিএনপি ও ২০ দল। যাদের দেশপ্রেম আছে, প্রতিটি মানুষের সাথে সম্পর্ক আছে।

0 comments:

Post a Comment