Last update
Loading...

পুলিশের পোশাক জঙ্গিদের হাতে যাওয়ার আশঙ্কা

জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে পুলিশের পোশাকসামগ্রী চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পোশাক ব্যবহার করে নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত হতে পারে তারা। পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তাই পুলিশের কোনো কর্মকর্তা যেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে পোশাকসামগ্রী না কিনতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হকের পক্ষে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ৩০ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে পুলিশের সব সদস্যকেই সরকারিভাবে সরবরাহ করা পোশাকসামগ্রী ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে পোশাক কেনা বা তৈরির কোনো সুযোগ থাকবে না। বর্তমানে পুলিশের কনস্টেবল থেকে শুরু করে এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তারা সরকারিভাবে সরবরাহ করা পেশাকসমাগ্রী ব্যবহার করেন। কিন্তু পরিদর্শক থেকে শুরু করে আইজিপি পদমর্যদার কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে পোশাক কিনে ব্যবহার করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পোশাকসামগ্রীর মধ্যে প্রায় অর্ধশত আইটেম রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে- শার্ট (হাফ ও ফুল), ফুল প্যান্ট, বুট, মোজা, ফিল্ড ক্যাপ, লেদার বেল্ট, নেম প্লেট, সানগ্লাস, র‌্যাংক ব্যাজ, রেইনকোট, জ্যাকেট, জার্সি, কার্ডিগান, ছাতা ইত্যাদি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনিছুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, প্রস্তাবটি মাত্র এসেছে। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আছে। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি একভাবে চলছিল।
হঠাৎ করে কেন অন্যভাবে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, তা ভেবে দেখা হচ্ছে। সরকারিভাবে সরবরাহকৃত পোশাক পরা বাধ্যতামূলক করা হলে কর্মকর্তাদের কিট ভাতা (পোশাক কেনা সংক্রান্ত ভাতা) বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পোশাক সরবরাহ করতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হবে কিনা, তাও দেখার বিষয়। তাই প্রস্তাবটি অনেকে ভালো চোখে দেখছেন না। নানা কারণে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি। ভালোভাবে যাচাইয়ের পর এ নিয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। তবে পুলিশ সদর দফতরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পরিদর্শক থেকে তার ওপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পোশাক সরকারিভাবে সরবরাহ করতে অতিরিক্ত কোনো অর্থের প্রয়োজন হবে না। এসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) ও সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) ছাড়া পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কিট ভাতা বাবদ প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এ টাকা দিয়েই সরকারিভাবে পোশাকসামগ্রী কিনে সরবরাহ করা সম্ভব। সরকারিভাবে সরবরাহ করা পোশাক কেন সবার জন্য ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে- জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক রেজাউল করিম বলেন, কনস্টেবল থেকে এসআই বা সার্জেন্ট পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পোশাক আগে থেকেই সরকারিভাবে সরবরাহ করায় তাদের পোশাকের রং ও মান একই রকম থাকে। কিন্তু পরিদর্শক থেকে ওপরের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে পোশাকসামগ্রী কেনায় পোশাকের রং ও মানে ভিন্নতা দেখা দেয়। এতে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ ড্রেস রুলস যথাযথভাবে মানা হয় না। মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা পুলিশ, এপিবিএন ও এসপিবিএনের পোশাকসামগ্রী ভিন্ন হওয়ায় বদলিজনিত কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পোশাকও পরিবর্তন করা হয়।
এতে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এসব কারণসহ নানা কারণে সরকারিভাবে পোশাক সরবরাহ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে পোশাকসামগ্রী সরবরাহ না করায় অবৈধ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পোশাকসামগ্রী উৎপাদন ও বিক্রির সুযোগ পেয়ে থাকে। এতে পুলিশের পোশাকসামগ্রী অপরাধীদের কাছে সহজলভ্য হয়ে উঠছে। তাই অপরাধী চক্র এসব পোশাকসামগ্রী ব্যবহার করে অপরাধ তৎপরতায় লিপ্ত হয়। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশে জঙ্গি তৎপরতাসহ অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী পুলিশসামগ্রী বাজার থেকে কিনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশের সব সদস্যকে সরকারিভাবে পোশাক সরবরাহ করা হলে কোনো প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে পুলিশের পোশাকসামগ্রী উৎপাদন ও তৈরি করতে পারবে না। অবৈধভাবে পুলিশের পোশাকসামগ্রী বিক্রির অপরাধে গত বছরের জুনে পলওয়েল সুপার মার্কেটের ৮টি দোকানের ১৩ জন মালিক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা করা হয়েছে। প্রাধিকারভুক্ত (পাওয়ার যোগ্য) পুলিশ সদস্যদের জন্য কেনা পোশাক বিক্রির অপরাধে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিরপুর ১৪ নম্বরের একটি দোকান ও চার মালিক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় মামলা করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, পুলিশের পোশাকে শৃঙ্খলা রক্ষা ও পরিদর্শক থেকে তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মনোবল ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরকারিভাবে পোশাকসামগ্রী সরবরাহের অনুমতি দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হল।

0 comments:

Post a Comment