Last update
Loading...

স্ম র ণ : স্যার আবদুল হালীম গজনবী

আজ প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও সমাজহিতৈষী স্যার আবদুল হালীম গজনবীর মৃত্যুবার্ষিকী। বাঙালি মুসলিম সমাজের এই খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের বড় বোন করিমুন নিসার সন্তান। তার বড় ভাই স্যার আবদুল করীম গজনবী (১৮৭২-১৯৩৯) ছিলেন রাজনীতিক ও প্রথিতযশা ব্যক্তি। রোকেয়ার জীবনী প্রসঙ্গে আলোচনায় তার এই বোনের নামও উল্লেখ করা হয়। আবদুল হালীম গজনবীর জন্ম ১৮৭৯ সালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার জমিদার পরিবারে। সে কালের মুসলিম অভিজাত শ্রেণীর রীতি মোতাবেক তার শিক্ষাজীবন অতিবাহিত হয় বিদেশে। পৈতৃক সূত্রে সামন্ত হলেও দেশ ও জাতির স্বার্থে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। নিছক গোষ্ঠীগত সঙ্কীর্ণ মনোভাবের পরিচয় দেননি। তৎকালীন ব্রিটিশ বঙ্গের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাবিষয়ক আন্দোলনে তিনি ছিলেন সক্রিয়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে কলকাতার কর্তৃত্বমুক্ত ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ নামে পৃথক প্রদেশ বর্তমান বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছিল। বর্ণবাদী সাম্প্রদায়িক ও সঙ্কীর্ণমনা একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় কংগ্রেস এর প্রচণ্ড বিরোধিতা করে সহিংস আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়। ১৯০৬ সালে গুজরাটের সুরাট শহরে কংগ্রেসের সম্মেলনে এই ইস্যুতে গজনবীর সাথে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মতভেদ ঘটে। এরপরই তিনি স্বজাতির কথা ভেবে কংগ্রেসের কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। আবদুল হালীম ১৯১৯ থেকে ২১ সালের ঐতিহাসিক খিলাফত আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন।
১৯২০ সালের ১৯ মার্চ দ্বিতীয় খিলাফত দিবস পালন উপলক্ষে টাঙ্গাইলে বিশাল জনসমাবেশ হয়েছিল। এতে তিনিই সভাপতিত্ব করেন। ১৯২৬ থেকে ’৪৫ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই দশক ধরে তিনি ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের সদস্য। এর পাশাপাশি ১৯২৯ সালে নিখিল ভারত মুসলিম কনফারেন্সের সভাপতি নির্বাচিত হন। যুক্ত পার্লামেন্টারি কমিটির সদস্যরূপে তিনি পশ্চাৎপদ মুসলিমসমাজের স্বার্থে পৃথক নির্বাচনের পক্ষে অটল ভূমিকা পালন করেছেন। তার এ দাবি বাস্তবায়িত হয়েছিল। পৃথক নির্বাচনের মাধ্যমেই ১৯৪৬ সালে উপমহাদেশের মুসলমানেরা পৃথক আবাসভূমির পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। গজনবী চেম্বার অব মার্চেন্টসের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে তদানীন্তন ভারতীয় প্রতিনিধিদলের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন। কিছু দিনের জন্য ছিলেন কলকাতা মহানগরীর শেরিফ। আবদুল হালীম ও আবদুল করিম ‘গজনবী ভ্রাতৃদ্বয়’ ছিলেন উপমহাদেশে সুপরিচিত। দু’জনই আইন পরিষদের সদস্য ছিলেন। আবদুল হালীম নিজ মতের ওপর খুব জোর দিতেন। এই নীতিনিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাসের কারণে সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজেরা তাকে ব্যঙ্গ করে বলত ‘ভুল গজনবী’। এভাবে তারা তাকে অগ্রজ থেকে আলাদা করে দেখাতে চাইত। ১৯৫৬ সালের ১৮ জুন ৭৭ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।
হ মীযানুল করীম

0 comments:

Post a Comment