Last update
Loading...

‘ভয়ংকর’ ইংল্যান্ডের সামনে অননুমেয় পাকিস্তান

বাংলাদেশের কাছে হেরে ২০১৫ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে বিদায়টা যেন শাপেবর হয়েছে ইংল্যান্ডের জন্য। ওই ধাক্কার পর সনাতনী ধ্যান-ধারণা বিসর্জন দিয়ে ইংল্যান্ড হয়ে উঠেছে মারকাটারি ক্রিকেটের রোল মডেল। গত দুই বছরে খোলনলচে বদলে যাওয়া ইংল্যান্ড বড় ভয়ংকর দল। নিজেদের আঙ্গিনায় এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছেন মরগানরা। প্রতিযোগিতার একমাত্র দল হিসেবে শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে স্বাগতিকরা। আজ প্রথম সেমিফাইনালে সেই ইংল্যান্ডের মুখোমুখি পাকিস্তান। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই যাদের বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল সবাই। কিন্তু চিরকালের অনুমান-অযোগ্য পাকিস্তান ঠিকই সমালোচকদের চোয়াল ঝুলিয়ে দিয়ে উঠে এসেছে শেষ চারে। এখন তাদের চোখে ফাইনালের স্বপ্ন! ইংল্যান্ডকে ফেভারিট মেনেই আশায় বুক বেঁধেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। ম্যাচটা যে তাদের সৌভাগ্যের ভেন্যু কার্ডিফে। সোমবার কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনেই অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনালে রূপ নেয়া গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে শ্রীলংকাকে তিন উইকেটে হারিয়ে সেমির টিকিট কাটে পাকিস্তান। ৬১ রানে অপরাজিত থাকা অধিনায়কের ব্যাটেই প্রায় হারা ম্যাচ জিতেছে পাকিস্তান। অষ্টম উইকেটে সরফরাজ ও মোহাম্মদ আমিরের ৭৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। কার্ডিফে স্বাগতিকদের বিপক্ষেও সুখ স্মৃতি রয়েছে পাকিস্তানের। গত বছর এখানেই ইংল্যান্ডের ৩০২ রানের পাহাড় টপকে চার উইকেটে জিতেছিল তারা। ৯০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন সরফরাজ। আজও তার পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন দেখছেন পাকিস্তান অধিনায়ক, ‘কার্ডিফে গত বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০০ তাড়া করে জিতেছিলাম আমরা। এবারও জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। কার্ডিফে সব সময়ই আমাদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকে।’ মুদ্রার উল্টো পিঠের চিত্রটাও জানা আছে সরফরাজের। কার্ডিফের সেই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছিল পাকিস্তান! ইংল্যান্ডের বর্তমান দলটি আরও শানিত।
ওয়ানডেতে শেষ ১২ ম্যাচের ১১টিতেই তারা জিতেছে। ব্যাট হাতে দুর্ধর্ষ ফর্মে আছেন রুট, হেলস, মরগান, স্টোকস, বাটলাররা। উড, প্লাংকেট, রশিদরা মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন বল হাতে। এই ইংল্যান্ডকে হারানো যে ভীষণ কঠিন, তা মেনে নিচ্ছেন সরফরাজ, ‘ইংল্যান্ড খুবই ভালো দল। সব বিভাগেই শক্তিশালী। এমন বিশ্বমানের একটি দলের বিপক্ষে খেলতে গেলে আমাদেরও ইতিবাচক থাকতে হবে। ইংল্যান্ড যে ক্রিকেট খেলছে তাতে তাদের হারানো সত্যিই কঠিন। তবে অসম্ভব নয়। তাদের সঙ্গে টক্কর দিতে স্মার্ট ক্রিকেট খেলতে হবে আমাদের।’ সরফরাজের যত উদ্বেগ দলের নড়বড়ে মিডলঅর্ডার নিয়ে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগানের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছেন জেসন রয়। শেষ আট ম্যাচে ইংলিশ ওপেনারের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৫১ রান। আজ তার জায়গায় একাদশে আসতে পারেন জনি বেয়ারস্টো। ইংল্যান্ডের বাকি সব অস্ত্রই গর্জে উঠতে প্রস্তুত। সেটাই জানালেন পেসার মার্ক উড, ‘এমন একটি দলের অংশ হতে পারাও দারুণ গর্বের। ব্যাটে-বলে চ্যাম্পিয়নে ঠাসা এক দল। এক দলে এত ম্যাচ উইনার কখনও দেখিনি। কার্ডিফে জ্বলে উঠতে সবাই প্রস্তুত।’ ইতিহাসও ইংল্যান্ডের পক্ষে। এর আগে দু’বার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক হয়ে দু’বারই ফাইনালে খেলেছে তারা। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কখনোই সেমির বাধা পেরোতে পারেনি পাকিস্তান। আজ ছবিটা কি বদলাবে?
হেড-টু-হেড
ম্যাচ ইংল্যান্ড জয়ী পাকিস্তান জয়ী পরিত্যক্ত

0 comments:

Post a Comment