Last update
Loading...

হেজবুল্লাহ কমান্ডার হত্যার পর ফের অশান্ত কাশ্মীর

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের শীর্ষ নেতা সাবজার আহমেদ ভাট নিহত হওয়ার পর রাজধানী শ্রীনগরে ফের কারফিউ জারি করা হয়েছে। এছাড়া শনিবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। শ্রীনগর জেলার ৭টি থানায় কারফিউ জারি করেছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি অনন্তনাগ, পুলওয়ামা ও সোপিয়ানেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করা হয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোমবার প?র্যন্ত শ্রীনগর জেলার সব স্কুল-কলেজ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খবর এনডিটিভির শ্রীনগর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণের ট্রুল এলাকায় শনিবার ভোরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন ভাট।
পাশাপাশি এদিন ১০ বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যা করেছে সেনারা। এর ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই ফের উত্তাল হয়ে ওঠে কাশ্মীর। শনিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীনগরের নৌহাট্টা, রেইনাওয়ারি, খানইয়ার, এমআর গুঞ্জ, সাফা কাদাল, কারালহুদ ও মাইসুমা থানায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া শ্রীনগর শহরের সবখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে সবজার ভাটের মৃত্যু নিয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ইসলামাবাদ। পাক প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজের অভিযোগ, ভারতীয় সেনার গুলিতে সবজারের মৃত্যু বিচারবহির্ভূত ঘটনা। এক বিবৃতিতে সারতাজ আজিজ বলেন, এ ঘটনা সম্পূর্ণ মানবাধিকারবিরোধী। এর ফলে কাশ্মীরের জনমনে পরিবর্তন আসতে পারে। অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত জাতিসংঘের।
ভবিষ্যতে যাতে এমন না ঘটে সে দিকেও নজর দিতে হবে। কাশ্মীরে হিজবুল সংগঠন মুজাহিদিন সবচেয়ে বড় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী। ১৯৮৯ সাল থেকে কাশ্মীরে এ গোষ্ঠীসহ বেশ কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এ সংগঠনটির শীর্ষ নেতা বুরহান ওয়ানি গত বছরের জুলাই মাসে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর তরুণ ভাটই দলটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।  অন্যদিকে, কাশ্মীরের কেরান সেক্টরে রোববার পাকিস্তান সেনাদের গুলিতে এক ভারতীয় নাগরিক নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। জম্মুর সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, নিহতের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। ভারতীয় সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কাপুরুষোচিত হামলা। কেরান সেক্টরের শ্রমিকদের টার্গেট করে পাক বাহিনী এ হামলা চালিয়ে আবারও অস্ত্রবিরতি চুক্তির লংঘন করেছে।

0 comments:

Post a Comment