Last update
Loading...

মিরসরাইয়ে পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় আহত শিশুর চিকিৎসা দায়িত্ব কে নেবে?

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই সদর ইউনিয়নের জামালের দোকান এলাকায় সোমবার (২২ মে) সন্ধ্যায় একটি সিএনজি-অটোরিক্সাকে সিগন্যাল দেয় মহাসড়কে দায়িত্বরত জোরারগঞ্জ চৌধুরীহাট হাইওয়ে পুলিশের টহল দল। এসময় সিএনজি চালক গাড়ী না থামিয়ে দ্রুত গতিতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিএনজি-অটোরিক্সাটিকে পেছনের দিক থেকে ধাক্কা দেয় হাইওয়ে পুলিশের গাড়ি। এতে সড়কের পাশে দঁাঁড়িয়ে থাকা উত্তর তালবাড়ীয়া এলাকার নাদের ইসালামের ছেলে মোঃ শরীফ (১৩) কে ঘটনাস্থলে চাপা দেয় সিএনজি-অটোরিক্সা গাড়িটি। পরবর্তীতে উপস্থিত এলাকাবাসী শরীফকে সিএনজির ভেতর থেকে উদ্ধার করে মিরসরাই সদরের মাতৃকা হাসপাতালে এনে ভর্তি করায়। অটোরিক্সা চালক এসময় পালিয়ে যায়। মাতৃকা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. জামশেদ আলম বলেন, শরীফের শরীরের কোমরের নীচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশের মাংশ অনেকটা ঝরে গেছে। তার শরীরে প্রায় ৪২ টি সেলাই করা হয়েছে। তার অবস্থা এখনো আশংঙ্কাজনক। এসময় আহত হয় সিএনজির ভেতরে থাকা যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন সহ আরো ৩জন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে তিনি জানান। শরীফের ভাই সিএনজি চালক আইয়ুব নবী ইসলাম (প্রকাশ-মিয়া) বলেন, আমার ভাই ছিলো একদম সহজ সরল। সোমবার বিকেলে সে বন্ধুদের সাথে জামালের দোকান এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলো। এসময় পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় একটি সিএনজি-অটোরিক্সা আমার ভাইয়ের উপর তুলে দেয়। এতে এলাকাবাসী ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তিনি আরো বলেন, শরীফ এর আগে যাত্রীবাহী মিশুককারে চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতো। গত চার মাস আগে মহাসড়কের নিজামপুর এলাকায় ঢাকাগামী দূরপাল্লার যাত্রীবাহী একটি বাস তাদের গাড়িকে চাপা দেয়। এতে শরীফের বাম হাত ভেঙ্গে যায় এবং পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কেটে যায়। ওই সময় শরীফ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রায় সাড়ে তিন মাস চিকিৎসাধীন ছিলো। আমার বাবা বৃদ্ধ হওয়ায় এখন বাড়িতে থাকে। আমি একমাত্র পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
ওই সময় অনেক টাকা ব্যায় করে তাকে চিকিৎসা করেছি। এখন আবারো সে দুর্ঘটনার শিকার হলো। এবার তাকে বাঁচানোটা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কে দিবে তার চিকিৎসার খরচ। ভাইয়ের সাথে আজ দু’দিন হাসপাতালে পড়ে আছি। গাড়িও চালাতে পারিনি। কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে উঠে আইয়ুব নবী। মঙ্গলবার (২৩ মে) দুপুরে মাতৃকা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বেডে ঘুমাচ্ছে শরীফ। পাশে ছেলের শরীরের উপর হাত বুলিয়ে অঝোরে কাঁদছেন মা আনোয়ারা বেগম। শরীফ অনেকটা নিথর ভাবে শুয়ে আছে বেডে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত কিছুই খাইনি শরীফ। এতে শরীফের শারিরীক অবস্থা আরো সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। শরীফের মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের কি হবে এখন। কীভাবে সে হাটবে। কে দিবে তার চিকিৎসার ব্যায়। কি অপরাধ ছিলো তার। আল্লা কেন আমাদের এতো বিপদ দেয়? তিনি আরো বলেন, শরীফের নিচের অংশের মাংশপেশী অনেকটা খসে পড়েছে। শরীফ রাত থেকে কিছু খেতে পারছেনা। তার শরীর থেকে এখনো রক্ত ঝরছে। ডাক্তার অনেকগুলো সেলাই দিয়েছে। এছাড়াও শরীফের পুরষাঙ্গও অনেকটা থেতলে গেছে। আল্লাহ চাইলে ছেলেকে বাঁচানো যাবে। জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি আমি শুনেছি। ওই সময় জামালের দোকান অংশে ফাঁড়ির এসআই শাফায়েত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এসময় তিনি এ বিষয়ে শাফায়েতের সাথে কথা বলতে বলে ফোনের সংযোগ বিছিন্ন করে দেন। জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাফায়েতের ব্যবহৃত মুঠোফোনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টায় একাধিকবার কল দিয়েও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিএনজি-অটোরিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ হলেও অনেক সময় সিএনজি নেওয়ার জন্য গাড়িগুলো মহাসড়কে আসলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বরত সদস্যরা চাঁদা নেওয়ার জন্য চালকদের উপর প্রায় বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে আসছে।

0 comments:

Post a Comment