Last update
Loading...

রহমতে ভরে ওঠে বান্দার থলি

রোজার সাহরি-ইফতারিতে অফুরন্ত প্রতিদান মিলে। এ আমলে ভারী হয় রোজাদারের নেকি-পুণ্যের থলি। প্রতিটি রোজা পালনের মধ্য দিয়ে আল্লাহর আনুগত্যের পরিচয় দেয় রোজাদার। এর বিনিময়ে দয়া দিয়ে, অনুগ্রহ দিয়ে, রহমত দিয়ে, বরকত দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেয়া হয় আনুগত্যশীল বান্দার থলিটা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহতায়ালার কসম! মুসলমানদের জন্য রমজানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমজান মাসের চেয়ে বেশি ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা মুমিনরা এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদাতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে রোজাদারদের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গনিমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস ৮৩৬৮) হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাসের সময় আসে, তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। হাদিস বিজজ্ঞানীরা বলেন, মুমিন বান্দারা যাতে রমজান মাসের অতি মূল্যবান ও বরকতপূর্ণ সময় নেক কাজে ব্যয় করতে পারেন এবং মুনাফিকদের মতো খায়ের ও বরকত থেকে বঞ্চিত না থাকেন, তাই আল্লাহতায়ালা এ মাসের শুরু থেকেই সৃষ্টিজগতে এমন আবহ সৃষ্টি করে দেন, যা পুরো পরিবেশকেই রহমত-বরকতে আচ্ছাদিত করে রাখে,
এতে ইবাদাত-বন্দেগি ও নেক আমলের উৎসাহ-উদ্দীপনা বেড়ে যায়। তাদের পুণ্য ও প্রতিদানের সুসংবাদ দিতে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং পাপাচার ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। মুমিনদের সব ধরনের ফিতনা-ফাসাদ ও অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতে কুমন্ত্রণাদাতা দুষ্টু জিন ও শয়তানদের শিকল লাগিয়ে আবদ্ধ করা হয়। তারপর কল্যাণের পথে অগ্রগামী হওয়ার ও অন্যায় থেকে নিবৃত্ত থাকার আহ্বান জানানো হয় মুমিন বান্দাদের। যেমন আবু হুরায়রা (রা.) থেকেই বর্ণিত এক হাদিসে আছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন রমজান মাসের প্রথম রাতের শুরু হয়, তখন দুষ্টু জিন ও শয়তানদের জিঞ্জিরবদ্ধ করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, তার একটি দরজাও খোলা হয় না। জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, এর একটি দরজাও বন্ধ করা হয় না। আর একজন ঘোষক ঘোষণা করতে থাকে হে কল্যাণের প্রত্যাশী! অগ্রসর হও, হে অকল্যাণের প্রার্থী! থেমে যাও। আর আল্লাহতায়ালা এ মাসের প্রতি রাতে অসংখ্য জাহান্নামিকে মুক্তি দান করেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৮৭৯৪)
লেখক : খতিব, গুলশান সেন্ট্রাল আজাদ মসজিদ ঢাকা

0 comments:

Post a Comment