Last update
Loading...

প্রশ্ন ফাঁসে ১০ স্কুল ৬ কোচিং জড়িত!

বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ভর্তি এবং এসএসসি-এইচএসসি (পাবলিক) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে ১০টি স্কুল ও ছয়টি কোচিং সেন্টারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ বা ডিবি) প্রাথমিক তদন্তে প্রতিষ্ঠানগুলোর জড়িত থাকার সত্যতা মিলেছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন আরও ১৯টি কোচিং সেন্টারের ওপর প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। এদিকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল হোতা বিজি প্রেসের সেই কর্মচারী আলমগীর ওরফে আলমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে ডিবি। প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় এটিই প্রথম চার্জশিট। ১৮ মে ডিবির পরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।
বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ অনেক পুরনো হলেও গত বছরের আগস্ট থেকে এ নিয়ে ডিবির একটি টিম কাজ শুরু করে। এ পর্যন্ত চারটি মামলা করেছে ডিবির ওই টিম। এসব মামলার মধ্যে একটি মামলায় চার্জশিট দেয়া হল। আরও একটি চার্জশিট চূড়ান্ত করা হয়েছে। যে কোনোদিন এটি আদালতে দাখিল করা হবে। অন্য দুটি মামলার চার্জশিটও দ্রুত দাখিল করতে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসব মামলা তদন্ত করতে গিয়েই প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে ওই ১০টি স্কুল ও ছয়টি কোচিং সেন্টারের সংশ্লিষ্টতা পায় গোয়েন্দারা। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন আরও ১৯টি কোচিং সেন্টারের নাম পেয়েছে তারা। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, যে ছয়টি কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্ণমালা কোচিং সেন্টার, মেধা বিকাশ কোচিং সেন্টার, সাইফুর্স কোচিং সেন্টার, টেক কেয়ার কোচিং সেন্টার ও অ্যাডভান্স কোচিং সেন্টার। এছাড়া জড়িত ১০টি স্কুলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- মাণ্ডা আইডিয়াল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল কলোনি হাই স্কুল, মানিকনগর আইডিয়াল হাই স্কুল এবং একই এলাকার মা ও মণি উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিবির সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) আবু নাসের জনি যুগান্তরকে বলেন, চিহ্নিত ১০ স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং ছয় কোচিং সেন্টারের মালিককে শিগগিরই তলব করা হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হবে। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। সম্প্রতি আরও যে ১৯ কোচিং সেন্টারের তালিকা এসেছে তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তদন্তের পরই এ ব্যাপারে জানানো যাবে। এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টার ও স্কুল কর্তৃপক্ষ। জানতে চাইলে বর্ণমালা কোচিং সেন্টারের পরিচালক মো. আমিন যুগান্তরকে জানান, তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ডিবিকে সহযোগিতা করছেন। যারা কোচিং সেন্টার চালায় তারা চুনোপুঁটি। তাদের পক্ষে প্রশ্ন ফাঁস করা সম্ভব নয়। প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে যারা জড়িত, দুর্বলতা তাদের মধ্যেই।
কারণ আমি নিজে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত না থাকলেও দেখতে পাই যে, অনেক শিক্ষার্থী ফাঁস করা প্রশ্নপত্র আমার কোচিং সেন্টারে নিয়ে আসে। ছাত্ররা এখন পরীক্ষার আগে বই নিয়ে না বসে ফেসবুক, ইমুসহ নানা অনলাইন সাইট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। মেধা বিকাশ কোচিং সেন্টারের কেউ প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত নন বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তানভীর রহমান বলেন, এইচএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সম্প্রতি ঢাকা কোচিং সেন্টারের পরিচালক আশরাফ এবং অভিনব কোচিং সেন্টারের পরিচালক মারুফকে সম্প্রতি ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করছে। এরপর এ বিষয়ে ডিবি আমার সহযোগিতা চেয়েছে। আমি সহযোগিতা করছি। সাইফুর্স কোচিং সেন্টারের পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ অবান্তর ও ভিত্তিহীন। কারণ আমরা একাডেমিক ক্লাস নিই না। আমরা কেবল বিভিন্ন ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাস নিই। এর সঙ্গে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সম্পর্ক নেই।’ টেক কেয়ার কোচিং সেন্টারের পরিচালক মোরশেদ আলমের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ফোন ধরেন তার ভাই মাসুম মিয়া। তিনি যুগান্তরকে জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মোরশেদ আলম রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি কোনো কথা বলার পরিস্থিতিতে নেই। তার জানা মতে, টেক কেয়ার কোচিং সেন্টারের কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত নন। মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয় থেকে পাওয়া অ্যাডভান্স কোচিং সেন্টারের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোন ধরেন মাজহার নামের এক শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘আমি মাত্র তিন মাস ধরে এখানে চাকরি করি। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের নাম হাফিজ উদ্দিন। সাংবাদিকদের কাছে তার নম্বর দেয়া নিষেধ। আমি আপনাকে তার নম্বর দিয়েছি জানতে পারলে আমার চাকরি চলে যাবে। আপনি সিনিয়র শিক্ষক নয়ন স্যারের সঙ্গে কথা বলুন। তিনি প্রায় চার বছর ধরে এখানে শিক্ষকতা করেন।’ এরপর তিনি (মাজহার) তার সেলফোনটি নয়নকে ধরিয়ে দেন। তবে নয়ন প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এবং হাফিজ উদ্দিনের সেলফোন নম্বর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এছাড়া জানতে চাইলে মাণ্ডা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সালমা সুলতানা বলেন, এই স্কুলে শিক্ষার্থীরা এতদিন কমলাপুর শেরেবাংলা রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশ নিত। ওই স্কুলটি প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত। তাই একটি মহল আমাদেরও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি জানান, অপবাদ দূর করতে সামনের বছর থেকে অন্য স্কুলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে এখানকার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কমলাপুর শেরেবাংলা রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল আলিমসহ দুই শিক্ষক এখন জেল খাটছেন।
ওই স্কুলের একজন শিক্ষক এখানে আগে ক্লাস নিতেন। এ কারণে অনেক মনে করছেন, আমাদের স্কুলটিও প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত। প্রকৃত পক্ষে আমরা এ ধরনের কোনো নোংরা কাজে জড়িত নই। মা ও মণি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজিত বিশ্বাস বলেন, আমরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরোধী। এই স্কুলটি তুলনামূলক নতুন। এখানকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম ব্যাচ এবার দশম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে। এখনও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। তাই আমাদের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগটি যৌক্তিক নয়। মানিকনগর আইডিয়াল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম মিন্টু বলে, ‘আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের যে স্কুলের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষা দেয়াই সেই স্কুলটি প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত বলে জানতে পেরেছি। এ কারণে আমরা বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। তাই আগামী বছর থেকে সিটি মডেল স্কুলের মাধ্যমে পরীক্ষা দেয়ানোর ব্যবস্থা করছি।’ তিনি আরও জানান, কপাল মন্দ হওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। মতিঝিল কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নাজনীন ফেরদৌস জানান, তাদের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর তারা অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করেছেন। কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের কাছে ডিবি ও এসবি থেকে লোক এসেছিল। বিষয়টি নিয়ে এখন তারা তদন্ত করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যদি তদন্ত করে এখানকার কারও বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পায়, তবে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া যাবে সেসব প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিল করা হবে। যেসব শিক্ষক এ ধরনের অপকর্মে যুক্ত তাদের এমপিও বাতিল করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা হবে। তিনি বলেন, এর আগে কমলাপুর শেরেবাংলা রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষসহ দুই শিক্ষককে একই ধরনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।
চার্জশিট দাখিল : আরও জানা গেছে, যে মামলাটির চার্জশিট দাখিল হয়েছে, সেখানে বিজি প্রেসের আলম ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- সাইফুল ইসলাম ওরফে জুয়েল, রুবেল ব্যাপারী, আবদুস সাত্তার, মেজবাহ আহমেদ, কাওছার হোসেন, আল আমিন, হৃদয় হোসেন এবং জাহাঙ্গীর আলম। এরই মধ্যে এদের সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জুয়েল জামিন পেয়ে গেছে। যাদের নামে চার্জশিট দেয়া হয়েছে তাদের সবাই মামলার আসামি ছিল। তবে আলমের নাম এজাহারে ছিল না। তদন্তে তার নাম বেরিয়ে আসে। মাসতিনেক আগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে মামলার এজাহারে ইকরাম হোসাইনের নাম থাকলেও চার্জশিট থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। এইচএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গত বছরের ৯ জুন রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় এ মামলা করেন ডিবির এসআই আবু সালেহ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এটিই ডিবির প্রথম মামলা। আসামিদের গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে এইচএসসির রসায়ন, গণিত, হিসাববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের প্রশ্নপত্র উদ্ধার করা হয় বলে চার্জশিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়, জুয়েল এবং আলম একে অপরের ভায়রা ভাই। বিজি প্রেসে প্রশ্নপত্র কম্পোজ করার সময় আলম তা মুখস্থ করে ফেলত। পরে মুখস্থ করা প্রশ্নপত্র নিজে কম্পিউটারে কম্পোজ করে জুয়েলের হাতে দিত। অন্যদের সহযোগিতায় অর্থের বিনিময়ে জুয়েল তা বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হাতে তুলে দিত। ডিবি জানায়, আলমের শ্বশুর বিজি প্রেসের কর্মচারী (বাইন্ডার) থাকা অবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি কয়েক বছর আগে অবসরে যান। অবসরে যাওয়ার আগে তার মেয়ের জামাই আলমকে বিজি প্রেসে চাকরি দেন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের কৌশল শেখান। শুধু তাই নয়, হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন আলম। মামলার তথ্য গোপন করে তিনি বিজি প্রেসে চাকরি নেন। বিজি প্রেসের আরও ৭-৮ জন নিন্ম পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত বলে ডিবি জানিয়েছে।
বিজি প্রেসের বক্তব্য : প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে জানতে চাইলে বিজি প্রেসের উপপরিচালক আবদুল মালেক বলেন, প্রায় এক বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে আলমকে সম্প্রতি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কিনা বা তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত কিনা তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। এ বিষয়ে বিজি প্রেসের কোনো বক্তব্য নেই। বিজি প্রেসের আরও কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’
অন্য তিনটি মামলা : মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গত বছরের ৭ অক্টোবর শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন ডিবির এএসআই আবু সুফিয়ান গাজী। ওই মামলায় আশরাফ উদ্দিন সৈকত, ওমর ফারুক এবং ইফাদ আহমেদ অরণ্যকে আসামি করা হয়। এ মামলার তদন্ত চালাচ্ছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রতিবেদন প্রায় প্রস্তুত। যে কোনো দিন তা আদালতে দাখিল করা হবে। এসএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ১৯ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় আরেকটি মামলা করেন ডিবির এসআই আসলাম আলী শেখ। এ মামলায় জাহিদ হাসান রকি ওরফে আহমেদ নিলয় এবং জিসান রাজ ওরফে আহম্মেদ নিরবকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার আগে তারা প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে। পরে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন নামে ফেসবুক, ইমু, হোয়াটস অ্যাপস প্রভৃতির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র প্রকাশ করে। এ মামলায় এসকে আবদুল আলম, নিশু চৌধুরী এবং সৈকতসহ কয়েকজন এখনও পলাতক।
পলাতক দু-একজনকে গ্রেফতার করতে পারলেই এ মামলায় চার্জশিট দেয়া হবে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ২৭ মার্চ স্কুল-কলেজের প্রিন্সপাল, শিক্ষক এবং কোচিং সেন্টারের শিক্ষকসহ নয়জনকে গ্রেফতার করে ডিবি। এ মামলায় শিগগিহরই চার্জশিট দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক আবু মো. ফজুলল করিম। তিনি আরও জানান, এ মামলায় আশুলিয়া গাজীর চট এমএম উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোজাফফর হোসেন, টঙ্গীর কোর্নিয়া কোচিং সেন্টারের শিক্ষক মো. হামিদুর রহমান ওরফে তুহিন, সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গণিত শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম, এএম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক মো. আতিকুল ইসলাম, এএম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অফিস সহকারী মো. আবদুল মজিদ এবং ছাত্র মো. আরিফ হোসেন আকাশ ওরফে আদু ভাই, মো. সাইদুর রহমান, মো. রাকিব হোসেন, তানভীর হোসেনকে আসামি করে চার্জশিট দেয়া হবে।

0 comments:

Post a Comment