Last update
Loading...

ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ

বিপুল উৎসাহ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ইরানের ১২তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৫০০ ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি পঞ্চম সিটি কাউন্সিল ও স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনেও ভোট দিয়েছে ইরানি জনগণ। সকাল ৮টা থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের বিপুল উপস্থিত দেখা যায়। তারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। ইরানের বাইরে বিশ্বের ১০২টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসী ইরানি নাগরিকরাও তাদের প্রেসিডেন্টকে বেছে নিতে ভোট দিয়েছেন। ওইসব দেশে ভোটগ্রহণের জন্য স্থাপন করা হয় ৩১০টি কেন্দ্র। আমেরিকায় ৫৫টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২১টি, ইরাকে ২২ এবং ব্রিটেনে ১২টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। তবে কানাডা প্রবাসী ইরানি নাগরিকদের ভোটগ্রহণের জন্য দেশটিতে কোনো কেন্দ্র স্থাপন করা যায়নি; তাদের জন্য আমেরিকা সীমান্তে কিছু কেন্দ্রে ভোট দেয়ার সুযোগ রাখা হয়।
এবারের নির্বাচনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি ও ইরানের বিচার বিভাগের সাবেক উপপ্রধান ইব্রাহিম রাইসি, ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য আগা মিরসালিম এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তফা হাশেমি তাবা। এ নির্বাচনে ছয়জন প্রার্থী অংশ নিলেও তেহরানের মেয়র বাকের কলিবফ রক্ষণশীল প্রার্থী ইব্রাহিম রাইসিকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির প্রতি সমর্থন ঘোষণা দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন বর্তমান সরকারের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসহাক জাহাঙ্গিরী। এ দু’জন প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সংস্কারপন্থী প্রার্থী ড. হাসান রুহানি এবং ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারের তত্ত্বাবধায়ক ইব্রাহিম রাইসির মধ্যে। ইরানের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা পাঁচ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার ২৩৪ জন। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন ১৩ লাখ ৫০ হাজার ২৯৪ জন। ইরানের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী- কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে ব্যর্থ হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় দফা ভোট নেয়া হবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি দেশের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তিনি এ নির্বাচনকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ ইরানি নাগরিকদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর শুকরিয়া জানাই।’

0 comments:

Post a Comment