Last update
Loading...

অ্যামাজনকে বোকা বানিয়ে ভারতীয়ের ৭০ লাখ রুপি প্রতারণা

অ্যামাজনকে দিনের পর দিন বোকা বানিয়ে ৭০ লাখ রুপির ক্ষতি করেছেন বেঙ্গালুরে বসবাসকারী এক বাঙালি নারী। অ্যামাজনে দেনু টি নাইয়ার, ঘোষ নামে তার একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট আছে। সেই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায়ই মোবাইল, টিভি, এসএলআর ক্যামেরার মতো দামি দামি জিনিস কিনতেন দীপান্বিতা। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই অ্যামাজনের কাস্টমার রিটার্ন সিস্টেম বা সি-রিটার্ন দিয়ে তা ফেরত পাঠাতেন। ফেরত পাঠানোর সময় মূল্যবান জিনিসটি বের করে নিয়ে একই রকম দেখতে নিন্মমানের একটি সামগ্রী ভরে দিতেন প্যাকেটের মধ্যে। আর এভাবেই আন্তর্জাতিক এই অনলাইন সংস্থাকে দিনের পর দিন অভিনব প্রক্রিয়ায় বোকা বানিয়েছেন দীপান্বিতা ঘোষ। আর্থিক প্রতারণার দায়ে বেঙ্গালুরুর হেন্নুর থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে দীপান্বিতাকে। পূর্ব বেঙ্গালুরুর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অজয় হিলোরি জানালেন, দীপান্বিতা যেখানে অর্ডার ডেলিভারি নিতেন সেখান থেকে কখনও তা রিটার্ন করতেন না। এমনকি অনেক সময় দু’টো ঠিকানা দু’টো আলাদা শহরেরও হতো। শুধু ফেরত দেয়ার সময় প্যাকেজিং একই রেখে বদলে দিতেন ভিতরের জিনিসটি। দামি প্রোডাক্টের বদলে প্রায় একই দেখতে নিন্মমানের প্রোডাক্ট ভরা হতো প্যাকেটে। ফেরত দেয়ার পর ব্যাংক একাউন্টে রুপি রিটার্নও পেয়ে যেতেন।
এভাবেই প্রায় এক বছর ধরে অ্যামাজনকে বোকা বানিয়ে যাচ্ছিলেন দীপান্বিতা। সম্প্রতি ঘটনাটি নজরে আসে অ্যামাজন কর্তৃপক্ষের। দেখা যায়, দেনু টি নাইয়ার, ঘোষের অ্যাকাউন্ট থেকে মূল্যবান সামগ্রীর বদলে নিন্মমানের প্রোডাক্ট রিটার্ন করা হয়েছে একাধিকবার। এরপরেই অ্যামাজনের তরফে পুলিশে অভিযোগ জানান হয়। ঘটনার তদন্তে নামে হেন্নুর পুলিশ। তদন্তে দেখা যায়, অন্য একটি শপিং সংস্থা চালাতেন দীপান্বিতা। রাজর্ষি৯৬ ছদ্মনামে এই শপিং সংস্থাটি চালাতেন তিনি। অ্যামাজন থেকে কেনা ইলেকট্রুনিক প্রোডাক্ট সেখানে বিক্রি করতেন তিনি। যখন ক্রেতারা তার শপিং সাইটে অর্ডার দিত, তখন তিনি একই প্রডাক্ট অ্যামাজনে অর্ডার দিতেন এবং সেই প্রোডাক্ট সরাসরি কাস্টমারদের ঠিকানায় পাঠাতেন। কিন্তু ফেরত দেয়ার সময় নিজের ঠিকানা থেকেই নিন্মমানের অন্য একটি প্রোডাক্ট ফেরত পাঠিয়ে দিতেন। ফেরতের রুপিও পেয়ে যেতেন নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। পুলিশ সূত্রে খবর, এ ভাবে ১০৪টি প্রোডাক্ট কিনে ৬৯ লাখ ৯১ হাজার ৯৪০ রুপি প্রতারণা করেছিলেন দীপান্বিতা। অ্যামাজনের গত ১৮ এপ্রিল থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এরপর প্রতারণার দায়ে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে দীপান্বিতাকে গ্রেফতার করা হয়।
আইটি ডেস্ক

0 comments:

Post a Comment