Last update
Loading...

রোজার আগে হৃদরোগীদের প্রস্তুতি

রমজান মাস সিয়াম সাধনার মাস। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশিরভাগ হৃদরোগীই রোজা রাখেন। কিন্তু হৃদরোগীদের মধ্যে যারা পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া রোজা রাখেন তারা বেশ কিছু জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পূর্বপ্রস্তুতিসহ রোজা রাখলে বিভিন্ন জটিলতা এড়ানো সম্ভব। হৃদরোগ ও রমজান সম্পর্কে লিখেছেন মুন্নু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফউল্লাহ- হৃদরোগ এমন একটি জটিল রোগ যার পরিণতি অনেক ক্ষেত্রে খুবই ভয়াবহ। যার পরিপ্রেক্ষিতে বুদ্ধিমান মানুষ হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে পূর্ব সতর্কতা অবলম্বন করে থাকেন এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হলে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থতা লাভের চেষ্টা করেন। মানবদেহ এমন একটি কাঠামো যাকে আল্লাহতায়ালা এমন এক ধরনের পটেনশিয়ালিটি বা যোগ্যতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যার দরুন মানুষ অনেক কিছুই করতে পারেন। ৫০ বছর বয়সের পর মানুষের শারীরিক যোগ্যতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তাই বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি যারা অত্যাধিক দুর্বল তাদের রোজা রাখা সঠিক হবে না, কারণ তারা দীর্ঘ সময় অনাহারে থাকলে খুব তাড়াতাড়ি আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। হৃদরোগীদের হৃদরোগ চিকিৎসার হাতিয়ার হিসেবে চিকিৎসকরা অনেক ধরনের মেডিসিন ব্যবহার করে থাকেন। রোজা রাখার ফলে যদি চিকিৎসক বিবেচনা করেন যে এসব মেডিসিন গ্রহণের যে বিচ্যুতি হবে, তাতে রোগীর অসুস্থতা বৃদ্ধি পাবে, সে বিষয়টি খেয়ালে রাখতে হবে। এ ছাড়া হৃদরোগীদের বেলায় আরও কিছু বাড়তি সতর্কতা হিসেবে রোগীর রক্তের সুগার কন্ট্রোল, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ অতীব জরুরি। রোজা রাখার ক্ষেত্রে এ দুটি বিষয়কে আমরা প্রাধান্য দিয়ে থাকি। যেসব হৃদরোগী এমন ধরনের ঝুঁকিতে আছেন যে, রোজা রাখার ফলে রক্তে সুগার,
কোলেস্টেরল অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যেতে পারে তাদের জন্য রোজা না রাখাই উচিত। যারা হার্ট ফেইলিউরজনিত হৃদরোগে ভুগছেন মানে হৃদরোগের জটিলতা হিসেবে পা ফুলে যায় বা হৃদরোগজনিত শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাদের বেলায় রোজা রাখার ফলে খাদ্য ও মেডিসিন গ্রহণে (অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ ও হার্টের রক্ত প্রবাহের সমস্যা সৃষ্টি ইত্যাদি বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে) বিচ্যুতির ফলে তাদের অসুস্থতা বৃদ্ধির সমূহ আশংকা থাকে, তাই হার্ট ফেইলিউর রোগীদের রোজা না রাখাই উত্তম। প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তি রোজা রাখার ফলে তার সুস্থতা বজায় রাখা এবং উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের বেলায় তার শারীরিক যোগ্যতা বৃদ্ধির পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে পারবে। বছরে এক মাস এ ধরনের শারীরিক যোগ্যতার মহড়া রোজাদার ব্যক্তি শারীরিক যোগ্যতা বৃদ্ধি করাসহ স্বাস্থ্য রক্ষায় মুখ্য ভূমিকা রাখে। কারণ ইসলাম সর্বদাই আধুনিক একটি ধর্ম এবং তার প্রতিটি বিধানই মানব কল্যাণে নির্মিত। রোজার সময় অতিভোজন কাম্য নহে, কেননা আমাদের সমাজের অনেকই রমজানে কাজকর্মের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে বিশ্রাম গ্রহণ করে একমাস পার করে দেন এবং এ ধরনের ব্যক্তি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েন। যারা ওজন আধিক্যে ভুগছেন (মেদ ভুঁড়ি) তারা অবশ্যই রোজার সময় খাদ্য গ্রহণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শারীরিক ওজন কমানোর কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তার মানে গত ১১ মাসে আপনার যে মেদ চর্বি জমা হয়েছে তা কমিয়ে ফেলবেন। কেউ যদি এটা বাল্যকাল থেকে অর্থাৎ রোজা রাখার বয়স হলে শুরু করে তবে তার মেদ ভুঁড়ি হওয়ার কোনো আশংকাই থাকবে না। রোজা আল্লাহতায়ালার নির্দেশ এটাকে সঠিকভাবে পালন করে এর থেকে শারীরিক সুস্থতার উপাদানগুলো কাজে লাগিয়ে সুস্থ সুন্দর ব্যাধিমুক্ত জীবন লাভ করতে পারি।

0 comments:

Post a Comment