Last update
Loading...

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া শান্তি অসম্ভব

পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংকটের একমাত্র সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আল কুদস ওয়াকফ আন্তর্জাতিক ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে আরও অধিকসংখ্যক মুসলিমদের জেরুজালেম সফরের আহ্বান জানান এরদোগান। তিনি বলেন, ‘মুসলিম হিসেবে আমাদের বেশি বেশি করে আল কুদস (জেরুজালেম) সফরে যাওয়া উচিত।’ খবর আরটি নিউজের। এরদোগান জানান, ২০১৫ সালে প্রায় ছয় লাখ আমেরিকান, চার লাখ রাশিয়ান এবং তিন লাখ ফরাসি নাগরিক জেরুজালেম পরিদর্শন করেন। একই সময়ে মুসলিম দেশগুলোর মধ্য তুরস্ক থেকে সর্বোচ্চ ২৬ হাজার লোক জেরুজালেম সফর করেন। এরদোগান প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কেন হাজার হাজার মুসলিম পবিত্র এই স্থানটি পরিদর্শন করতে আসছেন না? মুসলিমদের এ ধরনের সফর আমাদের ফিলিস্তিনি মুসলিম ভাইদের জন্য সর্বাধিক সমর্থন জোগাবে।’ ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান সংঘাত সম্পর্কে এরদোগান বলেন, ফিলিস্তিনি সমস্যার ন্যায্য সমাধান ছাড়া এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ‘অসম্ভব’। ইসরাইলের আচরণকে ‘বর্ণবাদী’ ও ‘বৈষম্যমূলক’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘গাজার ওপর ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা মানবতার বিরুদ্ধে চরম অপরাধ।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘১৯৬৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।’ ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়। ১৯৮০ সালে সমগ্র শহরটিকে একত্র করে এটিকে ইসরাইলের একটি অবিচ্ছেদ্য এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। তবে, দেশটির এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনো স্বীকৃতি নেই। এরদোগান জানান, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে তুরস্ক সবসময়ই সমর্থন দিয়ে যাবে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আল-কুদস সম্পর্কিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আল কুদস’ তিনটি ঐশ্বরিক ধর্মের জন্যই পবিত্র স্থান। এটি হচ্ছে সব মানুষের ইতিহাসের প্রাণ। আমাদের ধর্ম ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব থেকে ‘আল কুদস’ এবং আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই উভয়ই আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কুদসকে একটি শান্তির শহরে পরিণত করার চেষ্টা চালিয়ে যাব।’ সংলাপই দ্বন্দ্বের একমাত্র সমাধান -পুতিন: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব সমাধান করা সম্ভব। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী অবকাশযাপন কেন্দ্র সোচিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। পুতিন বলেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সরাসরি সংলাপ অনুষ্ঠানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে রাশিয়া। এ সময় পুতিন একপেশে পদক্ষেপ নেয়ার বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার সংকট নিরসনের জন্য দুই পক্ষকে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পরে সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ আব্বাস মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাস মোকাবেলায় রাশিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রাশিয়ার অংশগ্রহণ ছাড়া ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের আগেকার সীমানা অনুযায়ী একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব নয়। রাশিয়া এনে দিতে পারে আরব-ইসরাইল সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান। মাহমুদ আব্বাস ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের অব্যাহত অবৈধ বসতি নির্মাণসহ সেখানকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এ ছাড়া, ইসরাইলের কারাগারে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নাগরিকের করুণ বন্দিদশার কথা উল্লেখ করেন। এ সময় মাহমুদ আব্বাস জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলের হত্যা ও দমন অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ বন্ধ করে দিতে পারে।

0 comments:

Post a Comment