Last update
Loading...

ক্ষোভ-অসন্তোষ তৃণমূলে সভাপতির হুশিয়ারি

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূলের নেতারা স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কর্মকাণ্ড নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। একদল এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আরেক দল পেছন থেকে টেনে ধরছে। দলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে খোন্দকার মোশতাক ঢুকে গেছে। তাদের কথায় দলের মধ্যে অনৈক্য এবং পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসহীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে। বিভিন্ন সময় দলের সাধারণ সম্পাদকের দেয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন জেলা পর্যায়ের এসব নেতা। তারা আওয়ামী লীগের মধ্যে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশের কথাও তুলে ধরেন। তৃণমূলের কমিটি উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া নিয়েও তাদের বক্তৃতায় ক্ষোভ ঝাড়েন। নেতারা দলের অভ্যন্তরের শৃঙ্খলা ফেরানোর জোর দাবি জানান। সবার কথা শুনে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি এমপিদের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার নির্দেশ দেন। এছাড়া তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে মনোনয়নের জন্য পাঠানো নাম যাতে জেলায় গিয়ে পরিবর্তন না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে বলেন। একই সঙ্গে নৌকার বিরুদ্ধে যাতে কেউ অবস্থান না নেন সে বিষয়ে সাবধান করেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। দলে অনুপ্রবেশ নিয়ে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও একটা জরিপ করিয়েছেন। কোথায় কে বা কারা জামায়াত-শিবির-বিএনপির লোকদের দলে ভেড়াচ্ছেন সে খবর তার কাছে আছে। তিনি বলেন, নিজের গ্রুপ ভারি করার জন্য অনেকে জামায়াত-শিবির বিএনপিকে দলে টেনে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন করেছে, মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে এমন অনেকেই আছে, দলের লোকদের হত্যার সঙ্গে জড়িতরাও আছে। এরা দলের কোনো উপকার নয় ক্ষতিই করবে। এরা আসে কমিশন খাওয়ার লোভে। নানা প্রজেক্টে ভাগ বসাতে আসে। নিজেদের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করবে, অপকর্মের দায় থেকে বাঁচতে চাইবে। এদের হাত এতই শক্তিশালী হয় যে, তাদের কনুইয়ের গুঁতোয় নিবেদিত ও ত্যাগী কর্মীরা হারিয়ে যায়।
দলের নেতাদের সতর্ক করে অনুপ্রবেশকারীদের ‘আবর্জনা’ উল্লেখ করে তাদের দলে না নিতে কঠোর হুশিয়ারি দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। একই সঙ্গে যারা জামায়াত-শিবির-বিএনপির লোকদের টেনে আনবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও ঘোষণা দেন। শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ বর্ধিত সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বর্ধিত সভায় নিজের সদস্যপদ নবায়নের মাধ্যমে দলের নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। এর আগে সকাল ১০টা পাঁচ মিনিটে মঞ্চে আসেন তিনি। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্বাগত ভাষণের পর বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও শোক প্রস্তাবের পর বর্ধিত সভার উদ্বোধনী ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। প্রায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিটের উদ্বোধনী ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ আর ২০৪১ সালের মধ্যে গড়ব উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। উদ্বোধনী বক্তব্য শেষে দলের এবারের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রের প্যাকেটের মোড়ক উম্মোচন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তার ভাষণের পর প্রতি জেলার জন্য সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষ থেকে একটি করে ল্যাপটপ উপহার দেন তিনি। এরপরই শুরু হয় তৃণমূল নেতাদের বক্তব্যের পালা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। তৃণমূল থেকে আসা ৮ বিভাগের ৮ জন নেতা বক্তব্য রাখেন। শেখ হাসিনা মঞ্চে বসে সবার বক্তব্য শোনেন। পরে সবার অভিযোগ, অনুযোগ ও আহ্বানে সাড়া দেন তিনি। রংপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজুর মাধ্যমে তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য শুরু হয়। রাজু তার বক্তব্যে বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক মাঝেমধ্যে এমন কথা বলেন, তখন আমরা ভীত হয়ে পড়ি, দল বুঝি আর ক্ষমতায় আসবে না। এতে আমরা তৃণমূল নেতারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলি। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জেলার বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের কমিটি কিভাবে হয় আমরা জানি না। জেলা উপজেলার কমিটি ঢাকা থেকে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
আর এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমরা স্থানীয় নেতারা জড়িত না থাকায় জামায়াত, শিবির ও বিএনপির সক্রিয় নেতাকর্মীরাও আমাদের দলে জায়গা পাচ্ছে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সমবেত হচ্ছে। তারা কাদের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের ঢুকছে সেটা তদন্ত করে দেখতে হবে। এগুলো শক্ত হাতে দমন না করলে আওয়ামী লীগের নিবেদিত নেতাকর্মীরা টিকে থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, এমপিরা নির্বাচিত হয়ে বলয়ের বাইরে যেতে পারেন না। আর বলয়ের কারণে যাকে-তাকে দিয়ে কমিটি দেয়া হয়। মন্ত্রী-এমপিসহ প্রভাবশালী নেতারা নিজেদের বলয় গড়তে এবং নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যস্ত বলে অভিযোগ করেন তিনি। ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি জহিরুল হক খোকা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় এক মোশতাক ষড়যন্ত্র করেছিল কিন্তু এখন আওয়ামী লীগের রন্ধ্রে, রন্ধ্রে খন্দকার মোশতাক ঢুকে গেছে। নেত্রী আপনি বারবার মাফ করে দেন। ফলে অপরাধীরা সাহস সঞ্চয় করেছে। আর মাফ করবেন না। তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে দেখেছি অশুভ প্রতিযোগিতা। তিনি বলেন, আমাদের একদল আপনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছি। আরেক দল আপনাকে পেছনের দিকে টানছে। খোকা বলেন, আমাদের ভেতরে বেশিরভাগ বিরোধ আদর্শের নয়, ব্যক্তিত্বের এবং নেতৃত্বের। এসব বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে হবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে জাতীয়ভাবে কাজকর্মই শুধু জনগণ বিবেচনা করবে না, স্থানীয়ভাবে এমপিরা কি করছেন, সে প্রশ্নও আসবে? সেদিকেও খেয়াল রাখার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দীন আহমদ কামরান বলেন, সিলেট বিভাগে ১৯টি সংসদীয় আসন ছাড়াও জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে যাদেরকেই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে নেতাকর্মীরা রাতদিন খেটে তাদের বিজয়ী করেছেন। কিন্তু বিজয়ী হওয়ার পর এমপি এবং অন্যান্য লাভজনক পদধারীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিজয়ী হওয়ার পর বেশির ভাগই জনপ্রতিনিধি সাধারণ নেতাকর্মীর খবর রাখেননি। আগামীতে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দেয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। সিলেটের সাবেক এ মেয়র বলেন, তার এলাকায় সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনগুলো কমিটি কিভাবে এবং কখন দেয়া হয় তা তারা জানেন না। তাদের জানানো হয় না। ঢাকা থেকে যাদের নামে কমিটি দেয়া হয় তাদের আমরা চিনি না ,জানি না। অথচ আমরা জানি ওই এলাকায় কে নিবেদিত, কার কত ত্যাগ কে পারবে, আর কে পারবে না। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি মোসলেম উদ্দিন বলেন, আমাদের সরকারের টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার ফলে যে উন্নয়ন হয়েছে সে হিসাবে আমরা জাগরণ সৃষ্টি করতে পারিনি। এমপিদের সঙ্গে সংগঠনের নেতাকর্মীদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দলীয় মুখপাত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, স্পোকসম্যানের কথায় আমরা যদি বিভ্রান্ত হই তাহলে দলের আরও ক্ষতি হবে। তিনি আরও বলেন, অনেক নেতা মূল দলের কর্মসূচিতে না গিয়ে বিভিন্ন দোকানের কর্মসূচিতে যান এবং তখন সেগুলো নিয়ে সংবাদ হয় অথচ মূল দলের কর্মসূচি সংবাদ হয় না। এ বিষয়টি দলীয় প্রধানের নজরে আনেন তিনি। রাজশাহী জেলার সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সব জায়গায় কমবেশি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও অনেক জায়গায় দ্বন্দ্ব আছে, তবে আমি ঐক্যের কথা বলব। দ্বন্দ্ব থাকতেই পারে তবে নিরসনের উপায় বের করতে হবে। বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসুন আমার এলাকায় যেখানে যে সমস্যা রয়েছে তা সমাধান করি। খুলনা জেলার সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, দলের মধ্যে শৃঙ্খলা এনে দিলে ‘শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার’- এ স্লোগান দিতে হবে না। তিনি দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোয় দেখেছি আপনি (শেখ হাসিনা) মনোনয়ন দেন। কিন্তু নৌকার বিরুদ্ধে আরেকজন দাঁড়িয়ে যায়।
তার নিজের ক্ষেত্রেই একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, দলে শৃঙ্খলা ফেরানো অত্যন্ত জরুরি। দলের বিরুদ্ধে যদি আমিও যাই, আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলায় ২ বছর ধরে ছাত্রলীগের কমিটি নেই। ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও এসএম জাকির হোসেনের সঙ্গে এ নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছি। তারা নামও পাঠাতে বলল। নাম পাঠালাম। কিন্তু এরপর আর খবর নেই। এ সময় খুলনা আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, সহযোগী সংগঠনের কমিটি হয় অথচ আমি জানি না। সহযোগী সংগঠনের সবাই কমিটি দেন ঢাকায় বসে। তিনি দলের স্পোকসম্যান (মুখপাত্র) একজন করার দাবি জানান। বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ বলেন, দলের সিদ্ধান্ত একজনই বলবেন। দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকে কথা বললে আমরা বিব্রত হই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমাদের সমস্যায় ফেলে। বরিশাল বিভাগের সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বিশাল রাজনৈতিক দল, সেই সঙ্গে একটি বিশাল পরিবারও। আমরা সবাই ভাই ভাই। নিজেদের মধ্যে কোথাও কোনো বিভেদ থাকলে, ভুল বোঝাবুঝি থাকলে মীমাংসা হবে না কেন? হতে হবে। সবাই এক হয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। তাদের বক্তব্য শোনার পর প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে নিজ জেলার নেতাদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার নির্দেশ দেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নৌকা প্রতীক যাদের দেব, তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দলের পক্ষে কাজ করতে হবে। কেউ অন্য কাউকে সমর্থন দেবেন না। নৌকার বাইরে যাবেন না। দলীয়প্রধান বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার সময় আমরা তৃণমূলের মতামত নেয়ার ব্যবস্থা করেছি।
কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ইউনিয়ন, থানা বা পৌরসভা থেকে পাঠানো নাম জেলায় এসে বদলে গেছে। এ রকম ঘটনা যেন আর না ঘটে। ভবিষ্যতে কেউ আর এমন করবেন না। আর নাম পাঠানোর ক্ষেত্রে ছয়জনই স্বাক্ষর করে পাঠাবেন। মনোনয়নে একমত হতে না পারলে প্যানেল পাঠাবেন, কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত নেব। দলের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি সঠিকভাবে সারা দেশে পালনের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এ কর্মসূচি শেষে কেন্দ্রে ফরমের মুড়ি পাঠাবেন। আর নিয়মিতভাবে বছর শেষে কেন্দ্রে সাংগঠনিক রিপোর্ট দেবেন। এছাড়া তৃণমূল নেতাদের সরবরাহ করা বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও-নাশকতা চিত্র এবং আওয়ামী লীগ-বিএনপির তুলনামূলক উন্নয়নের চিত্র সংবলিত সিডিটি গ্রামের হাটে-বাজারে ও পাড়া-মহল্লায় প্রচারের নির্দেশ দেন তিনি। সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের উদ্বোধন : অনুষ্ঠানের মাঝখানে চাঁদা দিয়ে নিজের সদস্যপদ নবায়ন করেন শেখ হাসিনা। তাকে দলের সাধারণ সম্পাদক ২০ টাকা দিয়ে নবায়ন করার আহ্বান জানালে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমি বেশি দেব, ১০০ বা ৫০০ টাকা দেব। বেশি দিলে আপত্তি নেই তো। ৫০০ টাকা দিয়েই সদস্যপদ নবায়ন করেন তিনি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক এজেএম শফিউল আলম ভূঁইয়া এবং সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ফারজানা বেগমকে দিয়ে আওয়ামী লীগের নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। জেলা নেতারা সারা দেশে এ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। প্রতিটি উপজেলার সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমের জন্য জেলা থেকে একটি করে উপকমিটি করে দেয়ার জন্য শেখ হাসিনা জেলা নেতাদের নির্দেশ দেন। এ সভায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও জাতীয় কমিটির সদস্য, দলীয় মন্ত্রী-এমপি,
জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, প্রচার, দফতর ও তথ্য গবেষণা সম্পাদক এবং উপপ্রচার ও উপদফতর সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। ২০তম জাতীয় সম্মেলনের পর আওয়ামী লীগের প্রথম বর্ধিত সভা ছিল এটি। সূচনা বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের জন্য বছরের পর বছর কারাগারে আটক ছিলেন। কিন্তু কখনও আপস করেননি। দেশের জন্য জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের লক্ষ্য একটাই- বঙ্গবন্ধু যে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছেন, উন্নত জীবন দিতে চেয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন করা। কী পেলাম-না পেলাম, সেটা বড় কথা না। কতটুকু জাতিকে দিতে পারলাম, সেটাই বড় কথা। এ আদর্শ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। প্রতিটি দিন, প্রতিটি ঘণ্টা, প্রতিটি মিনিট ও প্রতিটি সেকেন্ড জনগণের জন্য দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌকা ছাড়া দেশের মানুষের উন্নয়ন সম্ভব নয়, তাই জনগণেরে উন্নত জীবন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিশ্রাম নেই। দেশের ইতিহাস মানেই আওয়ামী লীগের ইতিহাস। জনগণের যা অর্জন তা এ সংগঠনের হাত ধরেই এসেছে। বিএনপির ভিশন ২০৩০ আওয়ামী লীগের কাছ থেকেই চুরি করা- এমন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের কাছে শিখেই বিএনপি নেত্রী ভিশন ২০৩০ দিয়েছে। তাদের ভিশন মানেই জ্বালাও-পোড়াও আর মানুষ হত্যার ভিশন। তাও তাকে ধন্যবাদ দিতে চাই এ কারণে যে, ‘জ্বালাও-পোড়াও’ থেকে বেরিয়ে এসে এ ধরনের ভিশন দিয়েছেন। বিএনপির পক্ষে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যা-ই হোক, মানুষ মানুষের কাছে শেখে। তারা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছে। নকল করে হয়তো পাস করা যায়, কিন্তু দেশের জনগণের দায়িত্ব এটা বিবেচনা করার- ‘চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি ধরা না পড়ে।’ তবু ভালো, তারা হত্যা-সহিংসতার পথ ছেড়ে জাতির সামনে একটা বিষয় তুলে ধরেছে। সভায় বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির মধ্যে কোনো মানবতাবোধ নেই।তাদের রাজনীতি হচ্ছে লুটে খাওয়ার। ক্ষমতায় থাকতে বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে চলতে দেয়নি। সবক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ছিল তাদের লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের পাশাপাশি আন্দোলনের নামে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে এই জোটের সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও মানুষ পুড়িয়ে মারার বিবরণ তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কীভাবে অত্যাচার-নির্যাতন তারা করেছে, সেগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরা উচিত। তারা ক্ষমতায় আসতে চায়! ক্ষমতায় এলেই তো জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও লটুপাট করবে। ক্ষমতায় থাকতে তারা সন্ত্রাস ছাড়া আর কিছু দিতেও পারেনি। ক্ষমতা উপভোগ করেছে। আবারও ক্ষমতায় এলে তারা হাওয়া ভবন, খাওয়া ভবন ও খোয়াব ভবন সৃষ্টি করে লুটপাট করবে। তিনি বলেন, বিএনপি তো ক্ষমতায় ছিল। জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারাও ক্ষমতায় ছিলেন। তারা দেশের উন্নতি করতে পারেননি কেন? সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আবার কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এসবের সঙ্গে যদি নিজ দলের কেউ জড়িত থাকে, তাকেও ছাড় দেয়া হবে না। আর জঙ্গি মারা গেলেই খালেদা জিয়ার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার হেতু কী, তাও খুঁজে দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

0 comments:

Post a Comment