Last update
Loading...

বিদ্যুতের উৎপাদন নিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে সরকার : রিজভী

বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য নিয়ে সরকার জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। শুধু বিপর্যয় বললে ভুল হবে মানুষের জীবন বিপন্ন হতে চলছে। গরমজনিত রোগে হাসপাতালগুলোতে ভিড় বাড়ছে। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে সবসময় ডাহা মিথ্যা কথা বলে এসেছে। মূলত কুইক রেন্টালের নামে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ করে ক্ষমতাসীনদের আত্মীয় স্বজনদের মোটাতাজাকরণ ছাড়া আর কিছুই উন্নতি হয়নি। আজ মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব বলেন। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। লিখিত বক্তব্যে রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির ঘটনা দেশ-বিদেশে মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সর্বত্র সরকারের প্রতি চারদিক থেকে ধিক্কার উঠেছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আকস্মিকভাবে পুলিশি হানা সরকারের একটি অশুভ নীলনকশারই অংশ। ভোটারবিহীন সরকার ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের অনাচারে বেসামাল হয়ে পড়ায় মানুষের চোখকে ভিন্ন দিকে সরানোর জন্যই বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঘৃণ্য আক্রমণ চালিয়েছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদকে ধুলায় মিশিয়ে দেয়া হয়েছে স্বেচ্ছাচার, একদেশদর্শীতা আর দুর্নীতির চাপে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষার কয়েকদিন পরেই উত্তরপত্র ছাত্রদের রুমে রুমে পাওয়াসহ অশিক্ষা-কুশিক্ষায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ না থাকায় টাকা পাচারসহ অর্থনীতির ত্রাহি অবস্থা, ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয়েরমুখে ক্ষমতাপীয়াসি সরকারের ন্যূনতম কোনো ভাবমূর্তি নেই। তাই ফন্দিবাজ সরকার নিজেদের কুকর্ম ঢাকতেই মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশি চালিয়েছে। অশুভ পরিকল্পনা কখনই মানুষের চোখকে ধুলা দিতে পারে না। বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া পুলিশ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে হানা দিতে পারত না। এ ঘটনায় জনমনে এই প্রশ্নই দেখা দিয়েছে আবারো প্রধানমন্ত্রী পিছনের দরজা দিয়ে আরেকটি ভোটারশূন্য নির্বাচন করবেন কিনা? রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পুলিশি হানার ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা হতে যাচ্ছে। জনসভা উপলক্ষে বিএনপি ঢাকা মহানগরী ও অঙ্গ সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে অনুমতির জন্য আমরা গণপূর্ত বিভাগ ও পুলিশের কাছে চিঠি দিয়েছি। আজকের মধ্যেই তারা অনুমতি দিবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। তিনি লোডশেডিং প্রসঙ্গে বলেন, ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। গ্রামাঞ্চল ও মফস্বল শহরে লোডশেডিং হচ্ছে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা করে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহীর মতো বড় বড় শহর-নগরেও লোডশেডিং হচ্ছে দফায় দফায়। এদিকে বিদ্যুৎ সঙ্কটে সারা দেশের মানুষের মধ্যে যখন ত্রাহি দশা, তখন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ওয়েবসাইট দিচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। পিডিবির ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, গতকাল ও এর আগের কয়েকদিন দেশে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন ছিল, উৎপাদিত হয়েছে তার চেয়ে বেশি। তাদের বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়- ২১ মে বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ৮ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট; উৎপাদন ছিল ৮ হাজার ৮৩০ মেগাওয়াট। ২০ মে চাহিদা ছিল ৮ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট; উৎপাদন ৮ হাজার ৮১৯ মেগাওয়াট।
১৯ মে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৮ হাজার ৫৫০ মেগাওয়াট; উৎপাদন ছিল ৮ হাজার ৭৫৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ দেশের কোথাও কোনো লোডশেডিং নেই বরং চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি। আর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু সাংবাদিকদের বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এ মুহূর্তে আমরা দিতে পারব না। এটা হতে আমাদের আরও ৩-৪ বছর লেগে যাবে। আরইবির কর্তকর্তারা গতকাল বলেছেন রাজধানীর চাহিদা মেটাতে গিয়ে তাদের সরবরাহ অনেকাংশে কাটছাঁট করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এ কারণে ঢাকার বাইরের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোতে গড়ে ৬-৭ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হয়েছে। কোথাও কোথাও আরও বেশি। ঢাকাকে আলোকিত রাখতে রাতে বেশিরভাগ গ্রামকে রাখা হচ্ছে অন্ধকারে। রিজভী আরো বলেন, বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে সবসময় ডাহা মিথ্যা কথা বলে এসেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য নিয়ে তারা জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে। মূলত কুইক রেন্টালের নামে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ করে ক্ষমতাসীনদের আত্মীয় স্বজনদের মোটাতাজাকরণ ছাড়া আর কিছুই উন্নতি হয়নি। ভর্তুকি দিয়ে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ স্থাপন করে মূলতঃ লুটপাটেরই সুযোগ দেয়া হয়েছে, আর কেটে নেয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের পকেট। অনুন্নোয়নের শরীরে প্রসাধনী মাখলেই উন্নয়ন হয় না। সেটি হয় ধাপ্পাবাজি। আওয়ামী সরকার শুরু থেকেই এ কাজটি করে আসছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কথা বলে জনগণের পকেট থেকে লক্ষ কোটি টাকা বের করে নিয়ে জনগণকে উপহার দেয়া হয়েছে দুর্বিষহ লোডশেডিং। জৈষ্ঠ্যের খরতাপে মানুষের যখন স্বস্তি দরকার তখন এই দীঘক্ষণ লোডশেডিং সরকারের উন্নয়নের জলজ্যান্ত উদাহরণ।

0 comments:

Post a Comment