Last update
Loading...

জাকার্তার সেই খ্রিস্টান গভর্নরের কারাদণ্ড

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার সাবেক গভর্নর বাসুকি জাহাজা পুরনামার বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দেয়া ও কোরআন অবমাননার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ব্লাসফেমি আইনের আওতায় ২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে চীনা বংশোদ্ভূত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী এ রাজনীতিককে। অশোক নামে পরিচিত বিদায়ী এ গভর্নরের বিরুদ্ধে গত বছর নির্বাচনী প্রচারণায় কোরআনের বাণী নিয়ে ব্যঙ্গ করার অভিযোগ উঠে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আপিল করার পরিকল্পনার কথা জানান পুরনামা। খবর বিবিসির। পুরনামার বিরুদ্ধে এ অভিযোগে তার সাজা দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম নেতারা। পরে সেই আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। পাশাপাশি ধর্মীয় অবমাননার দায়ে ব্লাসফেমি আইনে মামলা করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট এ মামলা এগিয়ে নেয়ার আদেশ দেন। মঙ্গলবার শুনানি শেষে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় জার্কাতার প্রথম খ্রিস্টান গভর্নর পুরনামার বিরুদ্ধে ২ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা দেন আদালত। তার বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দেয়ার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। রায় ঘোষণার আগে পুরনামার পক্ষের প্রতিবাদকারী ও তার বিরোধীরা জাকার্তায় সর্বোচ্চ আদালতের বাইরে জড়ো হয়। একপক্ষ তাকে বেকসুর খালাস দেয়ার ও অপরপক্ষ তাকে লম্বা সময়ের জন্য কারাদণ্ড দেয়ার দাবি জানাচ্ছিল।
অন্যদিকে ধর্মীয় নেতারা তার মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। সাঁজোয়া যান নিয়ে দাঙ্গা পুলিশ দুইপক্ষের মাঝে অবস্থান নিয়ে তাদের আলাদা করে রেখেছিল। রায়কে কেন্দ্র করে নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা করছে দেশটির সরকার। জোরদার করা হয়েছে সুপ্রিমকোর্ট এলাকাসহ পুরো রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ। তবে আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুরনামা। তার দাবি, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার জন্য তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বর জাকার্তার ১৭তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন পুরনামা। চীনা বংশোদ্ভূত এ খ্রিস্টান রাজনীতিক শুরুতে তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু ধর্ম অবমাননার অভিযোগের জেরে তার জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকে। এ কারণে সাম্প্রতিক গভর্নর নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে মুসলিম প্রার্থী আনিস বাস্বেদানের কাছে হেরে যান তিনি। আনিস এখনও দায়িত্ব নেননি।

0 comments:

Post a Comment