Last update
Loading...

মাদক শুল্ক ও ভ্যাট আইনে রেইনট্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

মাদকদ্রব্য বিক্রি বা মজুদের কোনো অনুমতি নেই বনানীর বহুল আলোচিত ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেল কর্তৃপক্ষের। তারপরও সেখানে মদ-ইয়াবা বিক্রি ও মজুদ করা হয়। মদ আমদানির লাইসেন্সও তাদের নেই। অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে তারা বিদেশ থেকে মদ এনে বিক্রি করেন। এভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে তারা ৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা ভ্যাট আদায় করলেও সরকারের কোষাগারে তা জমা দেননি। এ পর্যন্ত মাত্র ১০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছেন। আর বাকি টাকা তারা আত্মসাৎ করেছেন। তাই হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মাদক, শুল্ক এবং ভ্যাট আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মঙ্গলবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মইনুল খান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। রাজধানীর কাকরাইলের ইডিইবি ভবনে অবস্থিত শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরে দুপরের প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। এর আগে সেখানে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রেইনন্ট্রি কর্তৃপক্ষকে জেরা করেন গোয়েন্দা অধিদফতরের কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় রেইনট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এইচএম আদনান হারুন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কেন কীভাবে কারা হোটেলে মদ এনেছিল তা হোটেল কর্তৃপক্ষের ‘জানা’ ছিল না।
ব্রিফিংয়ে মইনুল খান সাংবাদিকদের জানান, ১৪ মে শুল্ক গোয়েন্দা অভিযানে উদ্ধার ১০ বোতল বিদেশি মদকে হোটেল কর্তৃপক্ষ জুস বলে দাবি করে আসছিল। আইনি লড়াইও চালিয়েছিল। এ মদের স্যাম্পল (নমুনা) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে বলা হয়েছে, এসব পানীয়তে ১৩ দশমিক ৫ ভাগ অ্যালকোহল রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো পানীয়তে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ৪ দশমিক ৫ ভাগের বেশি হলে তাকে মাদকদ্রব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মঙ্গলবারের জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে, উদ্ধার করা বোতলগুলো জুসের নয়, সেগুলো ছিল বিদেশি মদের বোতল। তবে এসব মদের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তারা। তাই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব আনা হয়েছে। তবে রেইনট্রি কর্তৃপক্ষ শুল্ক গোয়েন্দাদের কাছে দাবি করেছে, এসব মদ অতিথিরা এনেছিলেন। তারা চলে যাওয়ার সময় এগুলো রেখে যান। হোটেল পরিষ্কার করার সময় এগুলো পাওয়া গেলে হোটেলটির ১০১ নম্বর কক্ষে রাখা হয়। কর্তৃপক্ষের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দাদের প্রশ্ন ছিল- মদ পাওয়া যাওয়ার পর বিষয়টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, সংশ্লিষ্ট থানা বা দফতরে জানানো হয়েছে কিনা। এর জবাবে হোটেল কর্তৃপক্ষ বলেছেন, এ বিষয়ে তারা কাউকে কিছু জানায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হোটেলে মদ থাকার বিষয়টি আগে থেকে কর্তৃপক্ষ জানতেন না। এটা জনতেন হোটেলের জিএম ফ্রাংক হেনরি ফরজে এবং ম্যানেজার ইমদাদুল আমিন। পরে ওই দু’জনকে শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে তলব করা হয়। মঙ্গলবার বিকাল ৫টার পর জিএম ফ্রাংক হেনরি ফরজে এবং ম্যানেজার ইমদাদুল আমিনসহ রেইনট্রির চার কর্মকর্তা শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে হাজির হন।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর সেখান থেকে বেরিয়ে যান তারা। এ বিষয়ে গোয়েন্দার ডিজি মইনুল হক জানান, তারা বিভিন্ন প্রশ্নের অসঙ্গতিপূর্ণ উত্তর দিয়েছেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে শুল্ক অধিদফতরের মহাপরিচালক আরও জানান, রেইনট্রি কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছিল। সর্বশেষ সোমবার আদালতে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছিল। কিন্তু শুল্ক অধিদফতরের পাল্টা চ্যালেঞ্জের কারণে কর্তৃপক্ষ গোয়েন্দা কার্যালয়ে হাজির হতে বাধ্য হন। রেইনট্রি থেকে উদ্ধার করা মদকে ধর্ষণ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উল্লেখ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের ডিজি বলেন হোটেলে ধর্ষণের শিকার দুই তরুণী মামলার এজাহারে বলেছেন, তাদের জোর করে মদ খাওয়ানো হয়েছিল। গোয়েন্দা তদন্তে এটা প্রমাণিত যে, রেইনট্রি হোটেলে এর আগে মদ বিক্রি হয়েছে, ঘটনার সময়েও ব্যবহার হয়েছে। ইয়াবাও এখানে বিক্রি হতো। এদিকে শুল্ক গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় রেইনট্রির এমডি এইচএম আদনান হারুন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর তাদের কাছে যেসব তথ্য-প্রমাণ চেয়েছে তারা সেসব সরবরাহ করেছেন। তাদের দেয়া তথ্যে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট। তিনি জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষের মদের লাইসেন্স নেই। কেন কীভাবে কারা হোটেলে মদ এনেছিল তা কর্তৃপক্ষের ‘জানা’ ছিল না।

0 comments:

Post a Comment