Last update
Loading...

থানা হাজতে মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে না পুলিশ

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, থানা হাজতে আসামির মৃত্যু যেভাবেই হোক, এর দায় এড়াতে পারে না পুলিশ। সোমবার সকালে সিলেট কারাগার পরিদর্শন শেষে জৈন্তাপুর থানায় আসামির মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। রিয়াজুল হক বলেন, থানা হাজতে মৃত্যুর শাস্তি শুধু প্রত্যাহার হতে পারে না। আরও কঠোর শাস্তি দিতে হবে। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি পাঠানো হবে। তিনি জানান, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে জেল খাটছেন তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। প্রয়োজনে তাদের আইনি সহায়তা দিয়ে বিচারকাজ যাতে দ্রুত শেষ করা যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সেই সঙ্গে যারা দীর্ঘদিন ধরে জেল খাটছেন বিচার শেষে যাতে তাদের সাজা সমন্বয় করা হয় সেই দাবি জানান রিয়াজুল হক। এছাড়া বৃদ্ধ, অচল যারা কারাগারে রয়েছেন, তাদের মুক্তির বিষয়ে সরকারের কাছে লিখিতভাবে জানানোর জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেন তিনি। কাজী রিয়াজুল হক সাংবাদিকদের বলেন,
যারা ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি তাদের ২০ বছর সাজা খাটার পরই মুক্তি দেয়া উচিত। তিনি বলেন, ২০ বছর সাজা খাটার পর আর কারও অপরাধ করার মানসিকতা থাকার কথা নয়। সুতরাং তাদের মুক্তি দিয়ে এসব বন্দিদের স্বাধীন রাষ্ট্রের সব অধিকার ফিরিয়ে দেয়া উচিত। এ সময় সিলেটের জৈন্তাপুর থানা হাজাতে এক আসামি মৃত্যুর বিষয়টি তার নজরে আনলে রিয়াজুল হক বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। তারা ভিডিও দেখিয়ে বুঝাতে চেষ্টা করেছেন এটা আত্মহত্যা। কিন্তু প্রশ্ন হল, এতো সময় ধরে থানা হাজতে একজন আসামি আত্মহত্যার চেষ্টা করছে, থানার কেউই দেখল না সেটা কিভাবে হয়? এ দায় এড়াতে পারে না পুলিশ। তিনি বলেন, এটি একটি মডেল থানা। সেখানে দেখভালের জন্য আধুনিক সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এতো সুবিধা থাকতেও যারা তা থামাতে পারেনি তাদের এর দায় নিতেই হবে। তিনি আরও বলেন, এর দায়ে একজন এএসআই ও সেন্ট্রিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর শাস্তি আরও কঠোর হওয়া উচিৎ। শুধু প্রত্যাহার নয় অন্তত সাময়িক বরখাস্ত করে দ্রুত বিভাগীয় মামলা করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়টি তদন্তের জন্য জাতীয় মানবাধিকার একটি দল পাঠাবে বলেও জানান তিনি। এর আগে প্রায় দেড় ঘণ্টা কারাগারের বন্দিদের সঙ্গে কথা বলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। কারাগার পরিদর্শনের সময় কাজী রিয়াজুল হকের সঙ্গে ছিলেন ডিআইজি প্রিজন্স ফজলুল হক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফায়াত মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম প্রমুখ।

0 comments:

Post a Comment