Last update
Loading...

তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা

তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা। ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার কোটি টাকা, যা ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১১ শতাংশ। তবে এর বাইরেও ৪২ হাজার কোটি টাকা অবলোপন (রাইট অফ) করেছে বিভিন্ন ব্যাংক। ফলে অবলেপন মিলিয়ে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকায়। এসব ঋণের বেশিরভাগই সরকারি ব্যাংকে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। এই পরিমাণ অর্থ ৪টি পদ্মা সেতুর ব্যয়ের সমান। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সুশাসনের অভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সুশাসনের অভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। এর ফলে মুদ্রা এবং পুঁজি উভয় বাজারে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে প্রতি বছর মুনাফা থেকে বড় অংকের প্রভিশন করতে হয়। এতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়ার ক্ষমতা কমে যায়। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলোতে ঋণ দেয়ার সময় মূল্যায়নটি সঠিকভাবে হয় না। কিছু অসৎ ব্যবসায়ীর কাছে ঋণ চলে যায়। তারা ঋণ নিয়ে আর পরিশোধ করেন না।
ফলে খেলাপির পরিমাণ বেড়ে যায়। জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে মোট খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, চলতি বছর মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ৬ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলো সর্বমোট ৬ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ খেলাপি হয়ে যায়। বছর শেষে দাঁড়ায় ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। মার্চভিত্তিক এ প্রতিবেদন ব্যাংকগুলোর পাঠানো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিকে গত ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলো থেকে খেলাপি ঋণের যে তথ্য পাঠানো হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে ওই ঋণ আরও বেড়ে যায়। সরকারি চার ব্যাংকের পাঠানোর তথ্যের তুলনায় পরিদর্শনে আরও ৪ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ পায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে অগ্রণী ৯২৭ কোটি, রূপালির ৬৯১ কোটি ও সোনালী ব্যাংক ৬৮২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ গোপন করে। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রান্তিকেও খেলাপি ঋণের স্থিতি আরও বাড়বে।

0 comments:

Post a Comment