Last update
Loading...

সেনা জিপের সামনে বাঁধা যুবক, ভারতে বিতর্ক

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উপনির্বাচনে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যকে নির্যাতনের রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এসেছে আরেক বিতর্ক। বৃহস্পতিবার কাশ্মীরে ইন্টারনেট চালুর নিষেধাজ্ঞা উঠে পাওয়ার পর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর জিপের সামনে দড়ি দিয়ে বাঁধা রয়েছে এক যুবক। জিপটি সমানে সামনে ধাবমান। এ সময় এক সেনা সদস্যকে বলতে শোনা গেছে, 'যারা পাথর নিক্ষেপ করবে, তারা একই পরিণতি ভোগ করবে।' মূলত বিক্ষুব্ধ জনতা যাতে জিপে পাথর ছুড়তে না পারে সেজন্যই ওই যুবককে জীবন্ত ঢাল বানিয়ে ব্যবহার করেছে সেনাবাহিনী। ওই যুবকের নাম ফারুক আহমেদ দার। বাদগামের সিতাহরন গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ফারুক জানিয়েছেন, তিনি পাথর নিক্ষেপকারী নন। জীবনে কখনও এমন কাজ করেননি। শাল ও কার্পেটে অ্যাম্বড্রয়েরির কাজ করেন তিনি। তার এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরে নতুন তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন তদন্তে নেমে জেনেছে, ৫৩ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের জওয়ানরাই এ ঘটনায় জড়িত। তদন্তকারীদের নিগ্রহের শিকার ফারুক জানিয়েছেন, তিনি ভোট দিতে বেরিয়েছিলেন। সেখান থেকে বোনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে জওয়ানেরা তাকে আটক করে। ফারুকের দাবি, আটকের পর তাকে জিপে বেঁধে প্রায় ১০-১২টি গ্রামে ঘোরানো হয়। তবে সেনাবাহিনীর দাবি, ১০০ মিটার পরেই ফারুককে ছেড়ে দেয়া হয়।
দূরত্ব যাই হোক না কেন, এমন অমানবিক কাজ সেনাবাহিনী কী করে করল, সেই প্রশ্নেই ফের ক্রুদ্ধ কাশ্মীর। কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ টুইটারে লিখেছেন, 'পাথর থেকে বাঁচতে বাহিনী একটি মানুষকে ঢাল বানাল কী করে? আমি হতবাক!' ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবিও করেছেন তিনি। ভিডিওটি বিরওয়াহ অঞ্চলের বলে মনে করা হচ্ছে। সেটি ওমরের নির্বাচনী কেন্দ্রেই পড়ে। ওমর এও বলেছেন, 'জওয়ানদের হেনস্থা নিয়ে দেশজুড়ে যে পরিমাণ ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, জিপে বাঁধা যুবককে নিয়ে কিন্তু সেটা হবে না।' সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী ওই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও ভিডিওটি খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছু জানেন না। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে গত ৯ এপ্রিল শ্রীনগর সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন চলাকালে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) এক জওয়ানকে মারধর করার একটি ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়ে। সিআরপিএফের জওয়ানকে মারধরের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে শুক্রবার পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আনন্দবাজার পত্রিকা

0 comments:

Post a Comment