Last update
Loading...

আপনি খুনি সাবধান হয়ে যান : প্রধানমন্ত্রীও ক্ষুব্ধ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনকে ‘খুনি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি আ জ ম নাছিরকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘আপনি মানুষকে হুমকি দেন। হেসে হেসে গুলি করেন। আমরা জানি আপনি চট্টগ্রামে ১২ জনকে হত্যা করেছেন। আপনার তত্ত্বাবধানে এখানে (চট্টগ্রামে) খুন হয়েছে। খুনি হয়ে মেয়র হিসেবে চেয়ারে বসে আছেন। আপনি সংশোধন হয়ে যান। সাবধান হয়ে যান। আমরা চট্টগ্রামবাসী আপনার অপকর্মে ক্ষুব্ধ। শুধু আমরা নই, প্রধানমন্ত্রীও আপনার কাজকর্মে ক্ষুব্ধ।’ সোমবার বিকালে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠের বিশাল জনসভায় মহিউদ্দিন চৌধুরী এমন হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনি সংশোধন হয়ে যান। না হয় আপনাকে কী করতে হবে তা আমার জানা আছে। একজন মেয়রকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দেয়া হয়। কিন্তু আপনাকে দিচ্ছে না। যার কারণ আপনি অযোগ্য, অথর্ব। গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই, ডিজিএফআই আপনার বিরুদ্ধে রিপোর্ট দিয়েছে। ট্যাক্সের পয়সা খেয়ে সারা জীবন থেকে যাবেন তা হবে না।
আপনার বিরুদ্ধে প্রস্তাব নিয়ে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছাব। আপনি একজন অথর্ব লোক। আপনাকে অবশ্যই অপসারণ করতে হবে।’ সমাবেশে মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র আ জ ম নাছির ছাড়াও এমএ লতিফ এমপি, দিদারুল আলম এমপি ও সামশুল হক চৌধুরী এমপির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন কথা বলেন। তাদেরকে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত ও তুলাধোনা করেন। চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম ও খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন নেতা সৈয়দ ছগীরের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। বিকাল সাড়ে ৪টায় লালদীঘি ময়দানে ট্রেড লাইসেন্স ফি বর্ধিতকরণ রোধ, পূর্বের নির্ধারিত হোল্ডিং ট্যাক্স বহাল, ইয়াবা-মাদক-অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা প্রতিরোধে সর্বাত্মক পুলিশি অভিযান, পাথরঘাটাস্থ মনোহরখালী ইকবাল রোডে পাইকারি মৎস্য বাজার বহাল রাখাসহ বিভিন্ন দাবিতে আয়োজিত জনসভায় এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। সভা শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়। সোনালী যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন সামশুল আলম। এতে বক্তব্য দেন ১৪ দলের পক্ষে জসিম উদ্দিন বাবুল। যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, মমতাজ খান, মো. মহসিন, নুরুল আনোয়ার, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ছাত্রলীগ নেতা রাকীব হায়দার, কামাল উদ্দিন বাদল, আজগর আলী, সৌরভ বিকাশ বড়–য়া, মহিলা নেত্রী হোসনে আরা বেগম। এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, পাথরঘাটা মনোহরখালী ইকবাল রোডে অবস্থিত পাইকারি মৎস্য বাজার উচ্ছেদ করার অন্যতম কারণ এটাকে ইয়াবার স্টেশন হিসেবে গড়ে তোলা। মেয়র ও অন্যদের যৌথ উদ্যোগে এটা করার কু-উদ্দেশ্য রয়েছে। মেয়র হয়ে ইয়াবার ব্যবসা করবেন, বন্দর খাবেন। আপনার আর কী কী খেতে ইচ্ছা করছে। ইয়াবা বিক্রির টাকা খেয়ে মানুষের চরিত্র হনন করবেন। মানুষকে হুমকি দিচ্ছেন। হুমকি বন্ধ রাখুন।
না হয় অবস্থা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। চট্টগ্রামের তিন সংসদ সদস্য- এমএ লতিফ, দিদারুল আলম ও সামশুল হক চৌধুরীকে উদ্দেশ করে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, কেউ মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদ সদস্যদের কাজ হচ্ছে সংসদে নিজের এলাকার কথা বলা। তারা সংসদে কথা বলেন না। আমাদের বিচ্ছু (সামশুল হক চৌধুরী) ও লতিফ সংসদে যান না। বন্দরে বসে থাকেন। চেয়ারম্যানের চেম্বারে বসে থাকেন তারা। লজ্জা লাগে না তাদের। তিনি বলেন, এটা আপনাদের দায়িত্ব! কী দায়িত্ব পালন করছেন? কিসের ব্যবসা করছেন। জাহাজের ব্যবসা। লোহার ব্যবসা। ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার ব্যবসা- এসব করছেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, একই কাজে জড়িত আঁরার (আমাদের) নাছির। কেউ অন্যায় করলে কথা বলতে হবে। নাছির সাহেব সিটি কর্পোরেশনের দরজায় তালা মেরে সার্বক্ষণিক বন্দরের চেয়ারম্যানের চেম্বারে বসে থাকেন। উনি (মেয়র) স্টিভিডোরশিপ ও লোড-আনলোডের লাইসেন্সসহ চারটি লাইসেন্স নিয়েছেন। কী কারণে নিয়েছেন। বাহুবলে। বিচার করার নামে? এটা কি তার দায়িত্ব? তিনি এসব কাজ করছেন। শহরে সমস্যা যে আছে সে সমস্যার হিসাব নাই। সিটি কর্পোরেশনকে আড্ডাখানা বানিয়েছেন। সাত-আটটা পদে একটাতেও স্থায়ী কোনো লোক নেই। অস্থায়ী লোক দিয়ে চালাচ্ছেন। উনি থাকেন না। তার তল্পিবাহক কিছু লোক কাজ করেন। মেয়র সাহেব আপনি আওয়ামী লীগ করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি এসে আপনাকে সাবধান করে দিয়েছেন। আপনি পরিবর্তন হচ্ছেন না। এ সভার পর থেকে আপনার অসৎ ইচ্ছা, আপনার চক্রান্ত পরিহার করুন। তা না হলে কী করতে হবে আমি মহিউদ্দিন চৌধুরীর জানা আছে। চসিকের হোল্ডিং ট্যাক্স সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৭ শতাংশের স্থানে ১৯ শতাংশ ট্যাক্স নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৭ শতাংশ ঘরের ট্যাক্স, ৭ শতাংশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ট্যাক্স, ৩ শতাংশ সড়কবাতি ট্যাক্স। কিন্তু ২ শতাংশ বাড়িয়ে নিচ্ছেন। অথচ ঢাকায় ১৩ শতাংশ ট্যাক্স নেয়া হচ্ছে। এটা নিয়ে চট্টগ্রামে বসবাসকারী বাসিন্দারা শহর ছেড়ে চলে যাক এ চক্রান্ত করছেন। এটা কি আপনার ইচ্ছা। ইচ্ছা পরিহার করুন। ট্যাক্স না দিলে গৃহত্যাগের হুমকি দিচ্ছেন। যারা ট্যাক্স দিতে পারবে না তাদের মাফ করে দেন। জুলুম করবেন কী কারণে। এ ট্যাক্সটা মানুষের বোঝা হয়েছে। সেই বোঝা যাতে মানুষকে বইতে না হয় সেই চিন্তা আপনাকে করতে হবে। মাত্র আর দু’বছর সময় আছে। এই দু’বছরের মধ্যে বিজ্ঞ লোকদের ডেকে এটার সমাধান করবেন। যদি আমাকেও ডাকেন আমিও সেখানে যাব। মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, উনি তো আমার পরামর্শ নেন না।
আমি যখন মেয়র ছিলাম শিক্ষা স্বাস্থ্য বাসস্থান সবকিছু আয়ত্তে এনেছি। আপনি ট্যাক্স বাড়াচ্ছেন কিন্তু কোথাও উন্নয়ন করেননি। আগে উন্নয়ন করেন তারপর ট্যাক্স বাড়িয়ে দেব। আমরা একটি মামলা করেছি। মামলায় মহামান্য হাইকোর্ট বর্ধিত ট্যাক্স না দেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এ দায়িত্ব পালন করতে পারলে পালন করুন। না হয় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন না কি করবেন তা আপনি জানেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, পাথরঘাটা মনোহরখালী ইকবাল রোডে পাইকারি মৎস্য বাজারে ২০-৩০টি আড়ত আছে। মেয়র সেখানে বিল্ডিং তৈরি করে বড়লোকদের কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। নগরীর বিভিন্ন জায়গায় ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তি বিক্রি করে ১১০টি দোকান তৈরি করেছেন। আউটার স্টেডিয়ামের মাঠে বিজয় মেলা হয়, আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলা করে। ওখানে যেন বিজয় মেলা হতে না পারে সে জন্য সুইমিং পুল তৈরি করবেন। সুইমিং পুল করার অনেক জায়গা রয়েছে। আগ্রাবাদে জায়গা রয়েছে। আউটার স্টেডিয়ামের টিনের ঘেরা না তুললে আমার ছেলেরা শক্তি প্রয়োগ করে তা সরিয়ে ফেলবে। অপকর্ম বন্ধ করুন। আপনাকে ১৫ দিন সময় দিলাম। চেম্বারের সভাপতি মাহবুব আলম ও খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সৈয়দ ছগীর আহমদের সমালোচনা করে বলেন, চেম্বার অব কমার্স এর কাজটা কী। ‘হালী দেশের বাআরি যন’ (খালি দেশের বাইরে যাওয়া)। তারা যার তার সঙ্গে দেশের বাইরে যান। মানুষকে দেখান কার কার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক আছে। চেম্বারে যারা আছেন তারা সুদখোর। আরেকটা সগির। যত সব অপকর্ম করছে।

0 comments:

Post a Comment