Last update
Loading...

নবাব প্যালেসের আড়াই শ’ বছরের জয়তুন গাছটি কেটে ফেলা হলো

জানা গেছে, বগুড়া নবাব প্যালেসের ভিতরে থাকা জয়তুন গাছটির বয়স আড়াই শ’ বছর। গত কয়েক দিন আগে দমকা হাওয়ায় গাছটির ছোট্ট একটি ডাল ভেঙ্গে যায়। সেটি সরাতে গিয়ে কেটে ফেলা হলো পুরো জয়তুন গাছটি। পুরো দেশে এ ধরনের গাছ আছে হাতেগোণা কয়েকটি। রোববার দিনব্যাপী বগুড়ার সংরক্ষিত এলাকা নবাব প্যালেসের ভেতর থেকে কালের সাক্ষী এই গাছটি কেটে নিয়ে যায় ঠিকাদারের লোকজন। এলাকাটি সংরক্ষিত দাবি করে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকে সাইনবোর্ড টানানো হলেও সেখানে গাছ কাটতে বাধা দেয়া কিংবা নজরদারি করার জন্য ঐ বিভাগের কোনো লোকজনকে দেখা যায়নি। এর আগে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে বিক্রি হয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়ি (নবাব প্যালেস) রক্ষা পায়। অবিভক্ত পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম সৈয়দ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব থাকায় সরকার বাড়িটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। স্বাভাবিক কারণেই এই বাড়ির সীমানার মধ্যে যা কিছু রয়েছে তার সবই সংরক্ষিত। সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশের পর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে নবাব প্যালেসে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সাথে এটির যেকোনো রকমের পরিবর্তন পরিবর্ধন দণ্ডনীয় অপরাধ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ আড়াই শ' বছর বয়সী প্রাচীন গাছটি কেটে নেয়া হলো নির্বিঘ্নে।
বগুড়া নবাববাড়ির মধ্যেই রয়েছে প্যালেজ মিউজিয়াম। এই মিউজিয়ামের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম খান লজে বলেন, সম্প্রতি দমকা বাতাসে তাদের মিউজিয়ামের সামনে থাকা জয়তুন গাছের একটি ডাল ভেঙ্গে পড়ে। এরপর তিনি ডালটি কাটার অনুমতি চেয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের রাজশাহী বিভাগের পরিচালক নাহিদ সুলতানাকে ফোন করেন। তিনি ডাল কাটার অনুমতি দেন। পরে পুরো গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হবার কারণে সেটি কেটে ফেলা হয়। জানা গেছে, সংরক্ষিত এই এলাকার ভেতরে গত বৃহস্পতিবার থেকে বিশাল আকৃতির এই প্রাচীন গাছটি কাটা শুরু হয়। শহরের ফুলবাড়ি এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী রোকন শেখ মাত্র ২৮ হাজার টাকায় গাছটি কিনে নেন। এরপর তার লোকজন গাছের ডাল কেটে নিয়ে যায়। রবিবার কাটা হয় গাছের মূল কান্ডটি। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের রাজশাহী বিভাগের পরিচালক নাহিদ সুলতানা বলেন, গাছ কাটার কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। বাতাসে ভেঙ্গে পড়া ডালটি সরাতে বলা হয়েছিলো। এখন দেখা যাচ্ছে পুরো গাছটিই কেটে ফেলা হয়েছে। এটি আইনত দণ্ডনীয়। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

0 comments:

Post a Comment