Last update
Loading...

ইরাক-সিরিয়ায় কোণঠাসা হয়ে আইএসের মরণ কামড় মিসরে

ইরাক ও সিরিয়ায় কোণঠাসা হয়ে নিজেদের অস্তিত্বের ঠিকানা হিসেবে মিসরকে বেছে নিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এ লক্ষ্যে তারা দেশটিতে হামলা বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে। রোববার সেখানকার চার্চে জোড়া বোমা হামলা তারই ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ইরাক ও সিরিয়ার মতো এ অঞ্চলে কোনো ভূখণ্ড বা জনবসতি দখল করতে পারেনি আইএস। ভূখণ্ড দখল করতে না পারলেও সুয়েজ খালের পশ্চিমে সিনাই উপদ্বীপে একটা উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে জঙ্গি সংগঠনটি। ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির পাশাপাশি নিজেদের কৌশলেও পরিবর্তন এনেছে আইএস। খবর এএফপির। মিসরের সিনাই উপদ্বীপের দুটি কেন্দ্রীয় শহর টানটা ও আলেকজান্দ্রিয়ায় রোববারের ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস সংশ্লিষ্ট একটি মিসরীয় গোষ্ঠী। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এ অঞ্চলে তিনটি চার্চে হামলা চালিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠীটি। বেসামরিক নাগরিকের পাশাপাশি কয়েকশ’ পুলিশ ও সেনা হত্যা করেছে তারা। আইএস জঙ্গিরা এর আগেও মিসরীয় কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে মিসরের এই সংখ্যালঘু খ্রিস্টানদের ওপর হামলার ঘটনা প্রথম সামনে আসে গত বছরের ডিসেম্বরে। দেশটির রাজধানী শহর কায়রোর একটি চার্চে বোমা হামলায় ২৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সিনাইয়ে ৭ জন কপটিক খ্রিস্টানকে হত্যা করে তারা। এ ছাড়া ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের গাজা সীমান্তের এ এলাকা থেকে কয়েক ডজন পরিবার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। গত ডিসেম্বরে কায়রোর চার্চে হামলার মধ্য দিয়েই মূলত আইএসের কৌশলগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। নাভান্তি গ্র“প অ্যানালিটিক্যাল কোম্পানির জঙ্গিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জ্যান্টজেন গার্নেট বলেন, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের পর মিসরের কপটিক খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে একটা পদ্ধতিগত হামলা শুরু করে আইএস ও তার মিসরীয় সমর্থকরা। তিনি বলেন, ‘ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস যখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে তখন সংগঠনটি অন্যান্য এলাকায় প্রায়ই বড় ধরনের হামলা পরিচালনা করছে। জঙ্গি তৎপরতা অব্যাহত রাখা, সংগঠনের নৈতিক জায়গা বলবৎ রাখা ও দলের নতুন নিয়োগ ধরে রাখাই তাদের এ হামলার লক্ষ্য।’ ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা দখল করে ২০১৪ সালে ‘খেলাফত’ ঘোষণা করে আইএস। গত এক বছরে দখল করা ওইসব অঞ্চলের অনেকটাই হারিয়েছে তারা।
বর্তমানে তারা ইরাকি বাহিনীর আক্রমণে ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর দ্বারপ্রান্তে। ইরাকি বাহিনীর মতে, আইএসের পরাজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। গত ফেব্রুয়ারিতে মিসরের খ্রিস্টানদের ওপর হামলার পর এক ভিডিও বার্তায় আইএস তাদের ওপর আরও হামলার হুমকি দেয়। টানটা ও আলেকজান্দ্রিয়ায় রোববারের হামলার পর গোষ্ঠীটি দাবি করে, তারা ‘ক্রুসেডারদের’ বিরুদ্ধে দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়েছে। মিসরের ৯ কোটি জনগণের মাত্র ১০ শতাংশ কপটিক খ্রিস্টান। ২০১৩ সালে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিসরের প্রথম প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসির ক্ষমতাচ্যুতির পর গত কয়েক বছর ধরে আইএসের হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে এরা। মিসরের ইসলামপন্থীদের অভিযোগ- মুরসির ক্ষমতাচ্যুতির পর ইসলামপন্থীদের ওপর যে ব্যাপক দমন-পীড়ন তাতে সমর্থন রয়েছে কপটিক চার্চগুলোর। তবে মুরসির ক্ষমতাচ্যুতির আগেও দেশটির খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে ২০১১ সালের আলেকজান্দ্রিয়ার চার্চে হামলা একটি। পুলিশ ওই হামলার জন্য আল কায়দা সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে দোষারোপ করে। এ ছাড়া ২০১৪ সালে আইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের আগে পুলিশকে টার্গেট করে বেশ কয়েকটি হামলা চালায় আনসার বাইত আল মাকদিস।

0 comments:

Post a Comment