Last update
Loading...
জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ জেরুসালেম সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রস্তাবের বিষয় বিবেচনা করছে। এতে জেরুসালেমের অবস্থানের যে কোনো ধরনের পরিবর্তনের বৈধতা নেই এবং তার পূর্বের অবস্থান সংরক্ষিত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শনিবার মিসর এই খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করে।
কূটনৈতিকরা বলছেন, সোমবার প্রস্তাবটির ওপর ভোটাভুটি হতে পারে। আন্তর্জাতিক মতামত উপেক্ষা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ মাসে জেরুসালেমকে ইসলাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তিনি মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুসালেমে সরিয়ে আনারও ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। খসড়া প্রস্তাবটিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, ‘আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মধ্য দিয়েই’ জেরুসালেম ইস্যুর সমাধান করতে হবে। এছাড়াও এতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার কথা সরাসরি উল্লেখ না করে ‘জেরুজালেমকে নিয়ে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।’
জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস ঠেকাতে মিসরের প্রস্তাব
জেরুসালেমের সঙ্কটের ব্যাপারে কোনো একটি দেশের একক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আইনগত বৈধতা পাবে না, এমন একটি প্রস্তাব উঠতে যাচ্ছে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে জাতিসঙ্ঘে এই প্রস্তাব তুলতে যাচ্ছে মিসর। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ভেটো দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের সমর্থনে অন্যান্য দেশ যেন জেরুসালেমে দূতাবাস স্থানান্তর না করে, সে বিষয়টিও থাকবে প্রস্তাবে। কূটনীতিকরা মনে করছেন, নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য এর সমর্থন করলেও বিরোধিতা আসতে পারে ওয়াশিংটন থেকে। তারা ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ মাসের শুরুতে তেল আভিভ থেকে জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে শহরটিকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প। বিক্ষোভকারীদের সাথে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্ঘাতে শুক্রবার চারজন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় আরব বিশ্বের নেতারা। এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হতে পারে, এমন শঙ্কা প্রকাশ করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে পথে নেমে আসেন ফিলিস্তিনের মানুষ। গাজা উপত্যকা ও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরাইলি নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সাথে সঙ্ঘাত শুরু হয় বিক্ষোভকারীদের। ইসরাইলি সেনাদের সাথে বিক্ষোভকারীদের সঙ্ঘাতে শুক্রবার মারা গেছেন চারজন ফিলিস্তিনি। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের জেরুসালেম সফরের সময়ও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনের আন্দোলনকারী জোট 'ফাতাহ'।
দেশে প্রচলিত এমন সাত এনার্জি ড্রিংকসের পাঁচটিতে মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বাজারে প্রাপ্ত সাত কোম্পানির এনার্জি ড্রিংকস দৈব চয়নের মাধ্যমে সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইনের উপস্থিতি পায়। ‘শক্তি বাড়বে’ এমন বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে প্রধানত তরুণ ও যুবক এসব এনার্জি ড্রিংকস পান করে। অনেকেই দৈনিক দুই থেকে তিন ক্যান পর্যন্ত এনার্জি ড্রিংকস পান করে। কিন্তু শক্তির পরিবর্তে এদের অনেককেই পেয়ে বসেছে নিস্তেজতা বা হতাশা। এনার্জি ড্রিংকস পানকারীদের অনেকেই এখন অস্থিরতায় ভুগছে, ঘুম হয় না অনেকের। বাংলাদেশে কোমল পানীয়ে ক্যাফেইনের মাত্রা কত থাকবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলে দেয়া না হলেও আমেরিকান ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইউএসএফডিএ) একটি মাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এফডিএর একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য প্রতিদিন ২০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন নিরাপদ বলে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এর বেশি পান করা হলে শরীরে এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। বাংলাদেশ ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির বাজারের সাত ব্র্যান্ডের পাঁচ এনার্জি ড্রিংকসেই সর্বোচ্চ ৭০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন পেয়েছে। এসব ড্রিংকসে অতিরিক্ত ক্যাফেইনের সাথে মাত্রাতিরিক্ত চিনির উপস্থিতিও রয়েছে। রামপুরার বনশ্রী আবাসিক এলাকায় রাতে এক যুবক বাজারের একটি ব্র্যান্ডের এনার্জি ড্রিংকস পান করছিলেন। ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এ যুবক কেন এনার্জি ড্রিংকস পান করছেন জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, ‘আমি অনেক রাইত পর্যন্ত রিকশা চালাই। শইলডায় অনেক বেশি শক্তি দরহার, এই কারণে খাইতাছি।’ এ ড্রিংকস পান করলেই যে শক্তি পাওয়া যাবে, তা বুঝলেন কিভাবে? প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘দেহেন না টিভিতে এড দেয় কী বিশাল শক্তি পায় এই এইডা খাইয়া। এই কারণে খাইতাছি।’ এটি পান করলে কি শক্তি পান? উত্তরে রিকশাওয়ালা একটু হেসে জানান, শক্তি পাই। পরথম ভালোই পাইতাম। কিন্তু এখন ভোর রাইত পর্যন্ত সজাগ থাকি, ঘুম আহেনা।’ নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলা ইটাখোলা এলাকার হাইস্কুলের ছাত্র কিশোর সফিক জানিয়েছে, সে প্রতিদিন একটি করে এনার্জি ড্রিংকস পান করে। আগে রাতে পড়তে পারত না ঘুমের জন্য।
এখন তার ঘুম পায় না। অনেক রাত জেগে পড়তে পারে। সফিক আরো জানায়, এটি না খাইলে ভালো লাগে না, পড়তে পারি না। এখন খাইলেই পড়তে পারি। আগে এমন ছিল না। একটু চেষ্টা করলেই ঘুম তাড়িয়ে পড়তে পারতাম কিন্তু এখন পারি না।’ বাংলাদেশ ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এনার্জি ড্রিংকসে অতিরিক্ত ক্যাফেইন দেয়া হয় পানকারীদের মধ্যে ড্রিংকসকে জনপ্রিয় করে রাখার জন্য। এটি পান করলে পানকারী যেন দ্রুত ফল পায় এ জন্য সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে ক্যাফেইন দেয়া হচ্ছে। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না। তিনি এফডিএকে উদ্ধৃত করে বলেন, এফডিএ অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান করলে কিছু স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা জানিয়েছে। এফডিএ অনুসারে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান করলে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যায়, হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচলকারী ধমনীর রক্ত চলাচল ধীর করে দেয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত ক্যাফেইন খেলে বুক ধড়ফড়ানি, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, উচ্চ রক্তচাপ, ঘুমের ব্যাঘাত হয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান করলে শরীরে টান টান উত্তেজনা দেখা দেয়, কিন্তু অনবরত পান করলে একসময় শরীরের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। এ ছাড়া মায়ো ক্লিনিক থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান করলে মাইগ্রেনজনিত মাথাব্যথা, ইনসোমনিয়া, স্নায়ুবিক দুর্বলতা, বিরক্তি ভাব, অস্থিরতা, প্রায় প্রস্রাব হওয়া অথবা প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে অসমর্থ হয়ে যান পানকারী।
দুঃসাহসিক ভিডিও করতে গিয়ে এক চীনা তরুণের মৃত্যু নিয়ে শুরু হয়েছে অনুসন্ধান। এ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে চলছে তর্কবিতর্ক। তার মৃত্যুর জন্য হুওশান ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম এবং এর দর্শকদের দায়ী করা হচ্ছে। খবর বিবিসির। সম্প্রতি উ ইয়ংনিং নামে ওই তরুণ ৬২ তলা ভবন থেকে পড়ে গিয়ে মারা যান। চীনে ইন্টারনেট ভিডিও তৈরি করে অর্থ উপার্জন করেন তরুণরা। ‘জ্যান্ত মাছ খাওয়া’, ‘কাঁচা ডিম গিলে ফেলা’, ‘নগ্ন নৃত্য’ বা ‘আকাশছোঁয়া উঁচু ভবনে ঝুলে থাকার মতো দুঃসাহসিক কাজের ভিডিও প্রচার করে তারা অর্থ আয় করেন। দেশটির ভিডিওশিল্পে এখন শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ হচ্ছে।
এ অবস্থায় উ ইয়ংনিংয়ের মৃত্যু নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে- হুওশানের মতো ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম এবং এর দর্শকরাও কি এ মৃত্যুর জন্য কোনোভাবে দায়ী নয়? খবরে বলা হয়েছে, কোনো যন্ত্রপাতি ছাড়াই চীনের চাংশা শহরে ৬২ তলা ভবনে উঠেছিল উ ইয়ংনিং। এই ভিডিও তিনি ইন্টারনেটে ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এমন কাজ তিনি আগেও করেছেন। কিন্তু এবার ৬২ তলা ভবন থেকে পড়ে গিয়ে মারা যান তিনি। বেইজিংয়ের একটি সংবাদমাধ্যম অনুসন্ধান করে জানিয়েছে, ৫০০টিরও বেশি ছোট ভিডিও এবং ‘লাইভ স্ট্রিম হুওশান নামে একটি ওয়েবসাইটে ছেড়েছিলেন উ ইয়ংনিং, যা থেকে তিনি আয় করেন সাড়ে পাঁচ লাখ ইউয়ান বা প্রায় ৮৩ হাজার মার্কিন ডলার। হুওশানে তার ‘ফ্যান’ ছিল ১০ লাখের মতো। হুওশান অবশ্য বলছে, তারা কখনই উ ইয়ংনিংকে বিপজ্জনক কাজের উৎসাহ দেয়নি।
বাংলাদেশের বিজয় দিবস ও কাতারের জাতীয় দিবস ২০১৭ উপলক্ষে আল নূর কালচারাল সেন্টারের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ ও বিশ্বাসে কাতার’। ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ফানার ভবনে অধ্যাপক এ. কে. এম. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে ও প্রকৌশলী মুনিরুল হকের পরিচালনায় উদ্বোধনী ভাষণ দেন আল নূর সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক মাওলানা ইউসুফ নূর। প্রধান আলোচক ছিলেন আইইবি কাতার শাখার চেয়ারম্যান ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার রিয়াজুল হাসান, আল নূর সংস্কৃতি বিভাগের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুল আলম। আলোচনায় অংশ নেন কাতার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইমাম ও খতিব মাওলানা মুশাহিদুর রহমান, আলনূর সমাজ কল্যাণ পরিচালক পেয়ার মুহাম্মদ ও অর্থ সম্পাদক সালেহ নূরন্নবী। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলোয়াত করেন রমজান হোসেন। মহিলা কর্ণার ও শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পরিচালনায় ছিলেন মাওলানা মাহমুদা, ফেরদৌসি পেয়ার, হেনা পারভিন ও লুৎফর নাহার। মাওলানা ইউসুফ নূর বলেন, বাংলাদেশকে আমরা হৃদয়ে লালন করি আর কাতারের সাথে রয়েছে আমাদের বিশ্বাসের সম্পর্ক। বাংলাদেশ আমাদের দিয়েছে পরিচয় আর কাতার দিয়েছে ভাগ্যোন্নয়নের সুযোগ।
তাই উভয় দেশের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব পালন আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, সব নবী রাসূল ছিলেন মুক্তিকামী জনগণের কাণ্ডারি ও স্বাধীনতার অতন্দ্র সেনানি। মুহাম্মদ (সা.) ও অন্যান্য নবীদের মহান সংগ্রাম আমাদের প্রতিরোধ চেতনাকে শাণিত করে আর অসত্যের বিরুদ্ধে লড়তে অনুপ্রাণিত করে। প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ও তাৎপর্য বিষয়ে সারগর্ভ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বর্ণনার ক্ষেত্রে দলীয় সংকীর্ণতা পরিহার করতে হবে। আমরা বীরের জাতি, থাকব চির উন্নত মমশির। বাঙালি জাতির সুনাম ক্ষুণ্ন হয় এমন যেকোনো তৎপরতা থেকে দূরে থাকা সবার কর্তব্য। স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করা দরকার। দেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা কারো কল্যাণ বয়ে আনবে না। বাংলাদেশ বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার রিয়াজুল হাসান বলেন, আমাদের অর্জন অনেক তবে এখনো অনেক কিছু করার বাকি আছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইস্পিত লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব। পেয়ার মুহাম্মদ বলেন, উন্নততর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ কমিউনিটি গঠন সময়ের দাবি। ড. শামসুল আলম আলনূর কালচারাল সেন্টারর সাথে তার সংশ্লিষ্টতার কথা স্মরণ করে বলেন, এ  সেন্টারর কল্যাণে কাতারে আমি কুরআন ও ইসলাম শিক্ষার সুয়োগ পেয়েছি। মাওলানা মুশাহিদুর রহমান বলেন, দেশপ্রেমের বাণী প্রচারর জন্য এ ধরনের অনুষ্ঠান প্রশংসনীয়, তবে তার বাস্তব প্রয়োগ আরও জরুরি।
ইব্রাহিম আবু তোরায়াহ। ২০০৮ সালে ইসরাইলি বিমান হামলায় দুই পা হারান। এ সমস্যা অবশ্য তার প্রতিরোধের আগুন নেভাতে পারেনি। জেরুজালেম ইস্যুতে প্রতিবাদে ঠিকই হাজির হয়েছিলেন স্বাধীন ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে। তবে ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর গুলিতে শেষ পর্যন্ত জীবনের কাছে হার মানতে হয়েছে নিরস্ত্র  ও দুই পাবিহীন ইব্রাহিমকে। খবর আলজাজিরার শুক্রবার ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে ইব্রাহিম তোরায়াসহ আরও চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ওই সংঘর্ষ চলাকালে ইসরাইলি এক সেনার গুলি ইব্রাহিমের মাথায় এসে লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মিডলইস্ট মনিটরের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির প্রতিবাদে গাজা ও পশ্চিমতীরে নতুন করে সংঘর্ষে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হন। এতে আহত হন আরও ৯০০ জন। এই চারজনকে নিয়ে সম্প্রতি বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।  আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। শুক্রবার জুমার নামাজের পর গাজায় বিক্ষোভকালে ইসরাইলি সেনার গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৫০ জন আহত হন। অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিমতীরে দুই ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী নিহত এবং ১০ জন আহত হন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
প্রযুক্তির যুগে গুগল-ফেসবুক এখন প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা এখন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন দেখতে আগ্রহী। দিন দিন এর ব্যবহার বাড়ছে। বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও। এ সুযোগে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে দেশ থেকে কোটি কোটি ডলার নিয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেট জায়ান্ট এ দুই প্রতিষ্ঠান। বিপুল অঙ্কের অর্থ কামিয়ে নিলেও সরকারকে এক পয়সাও রাজস্ব দিচ্ছে না। বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের অর্থ ক্রেডিট কার্ডে ডলারে পরিশোধ করছেন। প্রতি বছর ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন বাবদ কত ডলার বিদেশে যাচ্ছে তার সঠিক হিসাবও নেই। তবে ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের রাজস্ব ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গুগল চুক্তি করতে বাধ্য হয় এবং এমনকি যুক্তরাজ্যকে ১০ বছরের বকেয়া রাজস্ব বাবদ ১৩ কোটি পাউন্ড পরিশোধও করে গুগল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফর্মেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার যুগান্তরকে বলেন, ইচ্ছে করলেই প্রযুক্তিকে ধরে রাখা সম্ভব নয়। তেমনি ডিজিটাল বিজ্ঞাপন রোধ করা যাবে না। তবে ফেসবুক-গুগলের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার এখান থেকে কিভাবে রাজস্ব আদায় করতে পারে সেটি খুঁজে বের করতে হবে। জানা গেছে, গুগল ও ফেসবুকের বাংলাদেশে কোনো অফিস না থাকায় তারা দেশের প্রচলিত আইনকে তোয়াক্কা করছে না। অথচ যে কোনো দেশে ব্যবসা পরিচালনার প্রধান শর্ত হচ্ছে ওই দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। এ দুই ইন্টারনেট জায়ান্ট কত আয় করছে সেটি প্রকাশ করছে না বা করার প্রয়োজনও মনে করছে না। এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে হলে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও তার সঙ্গে ৪ শতাংশ উৎসে কর দিতে হয়। গুগল-ফেসবুক এসব না মানায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সরকার শুধু হারাচ্ছেই না পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের টাকা ডলারে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি নিউজ পেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) গুগল ও ফেসবুকের এ অর্থ পাচারের কাহিনীর বর্ণনা দিয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি ধারণাপত্র পৌঁছে দেয়। সেখানে বলা হয়েছে, একজন বিজ্ঞাপনদাতা যদি ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে এক ডলার ব্যয় করেন তার ৬০ ভাগই (৬০ সেন্ট) চলে যাচ্ছে গুগল ও ফেসবুকে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের প্রবৃদ্ধিতে সবাইকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে ফেসবুক। ২০১৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের প্রবৃদ্ধি পায় ৫৭ ভাগ।
এ সময় বিজ্ঞাপনের আকার ৩৩০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৫২০ কোটিতে। ২০১৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৫০ ভাগে। তবে মোট আয় ৪৪.৮ ভাগ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩২ কোটি ডলারে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য ছাড়াও আয়ারল্যান্ড এবং জার্মানিসহ ইউরোপের অনেক দেশ গুগল ও ফেসবুককে জবাবদিহির মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে গুগলের চুক্তি সই হয়। তারা বকেয়াও পরিশোধ করেছে যুক্তরাজ্যকে। যুক্তরাষ্ট্রও তাদের জবাবদিহিতার আওতায় এনেছে। ফলে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য দেশ থেকে তাদের আয়ের বড় একটি অংশ পাঠিয়ে দিচ্ছে ট্যাক্স হ্যাভেন (শূন্যকর) হিসেবে খ্যাত বারমুডায়। যদিও সেখানে গুগলের কোনো অফিস নেই। ২০১২ সালে ফেসবুকের আয়কর বিবরণীতে দেখা যায়, ফেসবুক তাদের আয়ের ৬৪.৫ কোটি পাউন্ড করস্বর্গখ্যাত কেম্যান আইল্যান্ডে পাচার করেছে। বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞাপন থেকে তাদের যে রাজস্ব আসে তা এখানে জমা হয়। ২০১২ সালে ফেসবুক ১৫০ কোটি পাউন্ড আয় করলেও আইরিশ সরকারকে কর দেয় মাত্র ৪৪ লাখ পাউন্ড। আয়ারল্যান্ডে রয়েছে ফেসবুকের সহযোগী অফিস। কর ফাঁকি দিয়ে অর্থ নিজ দেশে নিয়ে যেতে ফেসবুক ‘ডাবল আইরিশ’ নামের একটি জটিল ওয়েব সাবসিডিয়ারি পরিচালনা করে। তারা আমেরিকান বহুজাতিক সংস্থাগুলোর নিয়োজিত বলে দেখানো হয়েছে। গুগল-ফেসবুকে সরাসরি বিজ্ঞাপন দেয় এমন একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত সাশ্রয়ী ও অধিক কার্যকর হওয়ায় গুগল-ফেসবুকে তারা বিজ্ঞাপন দেয়। কম খরচে পণ্যের বিজ্ঞাপন নির্দিষ্ট শ্রেণীর ক্রেতা-দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয় গুগল-ফেসবুক।
অথচ ওই অর্থ খরচ করে কোনো অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বা সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেয়া সম্ভব নয়। আর তাতে ভালো সাড়া পাওয়া যায় না। কারণ একজন ক্রেতা বা দর্শক সব সংবাদপত্র ও অনলাইনের পাঠক নন। এদিক থেকে গুগল-ফেসবুক ক্রেতা-দর্শককে বিজ্ঞাপন দেখাতে বাধ্য করে। দেশীয় প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভোক্তার কাছে পণ্য নিয়ে পেঁঁছানো যায়। তবে ডিজিটাল প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন দেয়ার মাধ্যমে মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়। এ কারণে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্লাটফর্ম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্প্রতি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক খবরে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মিডিয়া ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ এমের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে চীন বাদে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাবদ বৈশ্বিক ব্যয় প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাবে। ২০১৮ সালে এ ব্যয় চলতি বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়বে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপন খাতে গুগল ও ফেসবুকের আধিপত্যের কারণে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দুটি ডিজিটাল ডুওপলি বা দ্বৈত আধিপত্য বিস্তারকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রেডিট কার্ড বা হুন্ডির মাধ্যমে ফেসবুক বা গুগলে বিজ্ঞাপন দেয়া বন্ধ করা যাবে না। এটি রোধ করার মতো কারিগরি ক্ষমতাও খুব একটা নেই। ভবিষ্যতে অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজার আরও বাড়বে। তবে সঠিক নজরদারির মাধ্যমে পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব।
ফলে এ খাতে এখনই সরকারকে দৃষ্টি দিতে হবে। ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিদেশি মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়ার একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, বিদেশি ইলেকট্রুনিক বা অনলাইন মিডিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন বাবদ বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের ক্ষেত্রে চুক্তি ও ইনভয়েসের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের যথার্থতা এবং সঠিকতা নিরূপণসহ প্রযোজ্য করাদি কর্তন করতে হবে। অথচ বিগত সময়ে এ নির্দেশনা মেনে কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশে টাকা পাঠায়নি। কথা হয় বেসিসের সাবেক সভাপতি শামীম আহসানের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশে অফিস না করলে গুগল-ফেসবুককে প্রচলিত আইনের আওতায় আনা সম্ভব নয়। এজন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সঠিকভাবে অনলাইন মার্কেটিং করতে না পারার কারণে দেশের ই-কমার্স সাইটগুলো পিছিয়ে পড়ছে। বেসিসের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ বিদেশে পাঠানো যায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এর চেয়ে বেশি অর্থ খরচ করছে, যেমন উবার। এসব বিষয়ও ভাববার সময় এসেছে।
ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার রোডম্যাপের কথা স্বীকার করেছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের বলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ রয়েছে। শুক্রবার ‘ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর’ টিভি চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলি আঁতাতের বিষয়ে এ স্বীকারোক্তি দেন তিনি।
আদেল আল জুবায়ের বলেন, আমাদের একটি শান্তি প্রক্রিয়া রয়েছে। ওই প্রক্রিয়ার পর ইসরাইলের সঙ্গে সব মুসলিম ও আরব দেশের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এটি হবে পরিপূর্ণ সম্পর্ক। এর অর্থ হল, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকবে। আরব ও ইসরাইলিদের মধ্যে শান্তির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আন্তরিক বলেও দাবি করেন তিনি। আল জুবায়ের বলেন, ইসরাইল নয় বরং ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষেই সৌদি আরব কাজ করে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্র ভূমি বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় বিশ্বের মুসলমানরা যখন ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন ঠিক তখনি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দখলদারদের সঙ্গে পরিপূর্ণ সম্পর্কের রোডম্যাপের কথা স্বীকার করলেন।
গাড়ি চালানোর অনুমতির পর এবার মোটরসাইকেল ও ট্রাক চালানোর অনুমতি মিলেছে সেৌদি আরবের নারীদের। শুক্রবার দেশটির ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সেৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর নিষেধাজ্ঞার ইতিটানতে দেশটির এক ঐতিহাসিক ঘোষণার প্রায় তিন মাস নতুন এ ঘোষণা এলো। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি বাদশা সালমান এ বিষয়ে এক ডিক্রি জারি করেন। ট্রাফিক বিভাগের বরাত দিয়ে আল-আরাবিয়া জানায়, জারি করা রাজকীয় ডিক্রির অধীনে গাড়ির পাশাপাশি নারীরা ট্রাক ও মোটরসাইকেলও চালাতে পারবেন। ২০১৮ সালের জুন থেকে এই আইন বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য নারী চালকদের বিশেষ কোনো লাইসেন্স প্রয়োজন হবে না জানিয়েছে তারা। তবে রাস্তায় কোনো দুর্ঘটনা বা ট্রাফিক বিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িতদের নারীদের দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত বিশেষ কেন্দ্র থেকে তদারক করা হবে। সেৌদি  'ভিশন-২০৩০' নামে একটি সংস্কার কর্মসূচি শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তেলের ওপর নির্ভরতা থেকে অর্থনীতিকে বের করে আনা, তরুণ নাগরিকদের কর্মসংস্থানে নতুন নতুন খাত তৈরি, নারীর ক্ষমতায়ন ও নাগরিকদের জীবনযাপনের ওপর কড়াকড়ি শিথিলের মতো বিষয়গুলো। এর প্রথম ধাপ হিসেবে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে নারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় দেশটি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র ও অসমতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভয়াবহ এ দারিদ্র দেশটির গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলছে। জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ কথা বলেছেন। চরম দারিদ্র ও মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার ফিলিপ অলস্টন বলেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ৮ জন নাগরিকের একজনই দারিদ্রযসীমার নিচে বাস করছে। এছাড়া প্রতি ৮ জনের ৪ জনই এমন অবস্থায় জীবনযাপন করছে, যাকে 'চরম দারিদ্র' হিসেবে বিবেচনা করা যায়। তিনি আরও বলেন, দারিদ্রপীড়িত এসব মানুষের বেশিরভাগেরই এ দুর্দশা থেকে বাঁচার কোনো রাস্তা নেই। খবর ইন্ডিপেনডেন্ট ও রয়টার্সের। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ এ দারিদ্রের কারণে জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা দেশটি রাজনীতি, নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গিকে দায়ী করে এর সমালোচনা করেছেন। সমপ্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘরহীন মানুষদের আশ্রয় শিবির থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ছোট ছোট শহরগুলো এবং সমপ্রতি ঘূর্ণিঝড় আক্রান্ত ও বিধ্বস্ত পুয়ের্তোরিকো পর্যন্ত সফর করেন। বৈশ্বিক অসমতার মূল্যায়নে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ এলাকাগুলোর দারিদ্র ও মানবাধিকার বিষয়ে এক প্রতিবেদন প্রস্তুত করছেন তিনি। খুব শিগগিরই পূর্ণ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হবে। ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের চুম্বকাংশ তুলে ধরে তিনি বলেন,  'ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র অসমতায় চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছে। বহু বছর ধরে গৃহীত অর্থনৈতিক নীতির কারণে দেশটি এ ভয়াবহ দারিদ্র ও অসমতার মুখে পড়েছে। তবে কর সংস্কার ও কল্যাণমূলক ভাতা ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে খরচ কমাতে ট্রাম্প ও তার দল রিপাবলিকান সমর্থিত প্রস্তাব কার্যকর হলে এ পরিস্থিতি আরও নাজুক আকার ধারণ করবে।' অলস্টন বলেন, 'আমেরিকান স্বপ্ন খুব দ্রুতই মরীচিকায় পরিণত হতে যাচ্ছে। কেননা এ মুহূর্তে বিশ্বের অন্যান্য ধনী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক সচলতার হার সবচেয়ে কম। যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্রের মধ্যে জন্মগ্রহণ করা একটা শিশুর পক্ষে বর্তমানে দারিদ্রের চক্র থেকে বের হয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।' তিনি জানান, দেশটিতে দরিদ্র শিশুরা তাদের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছে না বললেই চলে। একইভাবে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও মানসম্মত শিক্ষায় তাদের কোনো প্রবেশাধিকার নেই। এ মুহূর্তে এদের যেটা সবচেয়ে বেশি দরকার সেটা হচ্ছে দারিদ্রের শিকল ভেঙে বের হয়ে আসা।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান শুক্রবার দেশটির ইস্তানবুল শহরে প্রথম চালকবিহীন মেট্রো লাইন চালু করেছেন। বহুদিন ধরে প্রত্যাশিত এ প্রকল্প চালুর কারণে যানজটপূর্ণ এ শহরে জনদুর্ভোগ কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এএফপি জানায়, এরদোগান ইতিমধ্যে ২০১৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য তার অবস্থানকে শক্ত করেছেন।
দেশজুড়ে নতুন নতুন অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সে অবস্থানকে আরও পাকাপোক্ত করছেন তিনি। নতুন এ মেট্রো লাইনটি তুরস্কের উসকুদার শহর এবং বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা উমরানিয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে। এতে ওই শহর দুটির মধ্যে যাতায়াতকারী নাগরিকদের যানজটের দুর্দশা আর পোহাতে হবে না। ওই মেট্রো লাইনে উদ্বোধনী ভ্রমণের আগে এরদোগান বলেন, ‘ধাপে ধাপে আমরা আরও কাছে চলে আসছি। যানজটবিহীন ইস্তানবুল গড়াই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের অর্থনীতিকে অস্ত্র হিসেবে কাজে লাগিয়ে যারা দেশকে উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে তাদের জন্য এ মেট্রো লাইনের উদ্বোধন মহা আনন্দের।’ আগামী বছরের মধ্যে আরও কয়েকটি মেট্রো লাইন চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
টরেন্টোতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে
ফিলিস্তিনি ও তাদের সমর্থকদের বিক্ষোভ
জেরুসালেমের সঙ্কটের ব্যাপারে কোনো একটি দেশের একক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আইনগত বৈধতা পাবে না, এমন একটি প্রস্তাব উঠতে যাচ্ছে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে জাতিসঙ্ঘে এই প্রস্তাব তুলতে যাচ্ছে মিসর। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ভেটো দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের সমর্থনে অন্যান্য দেশ যেন জেরুসালেমে দূতাবাস স্থানান্তর না করে, সে বিষয়টিও থাকবে প্রস্তাবে।
কূটনীতিকরা মনে করছেন, নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য এর সমর্থন করলেও বিরোধিতা আসতে পারে ওয়াশিংটন থেকে। তারা ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ মাসের শুরুতে তেল আভিভ থেকে জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে শহরটিকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প। বিক্ষোভকারীদের সাথে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্ঘাতে শুক্রবার চারজন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় আরব বিশ্বের নেতারা। এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হতে পারে, এমন শঙ্কা প্রকাশ করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে পথে নেমে আসেন ফিলিস্তিনের মানুষ। গাজা উপত্যকা ও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরাইলি নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সাথে সঙ্ঘাত শুরু হয় বিক্ষোভকারীদের। বিক্ষোভকারীদের সাথে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্ঘাতে শুক্রবার মারা গেছেন চারজন ফিলিস্তিনি। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের জেরুসালেম সফরের সময়ও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনের আন্দোলনকারী জোট 'ফাতাহ'।
১০ম দিনে ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদা
ফিলিস্তিনের পবিত্র নগরী জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতির প্রতিবাদে ইন্তিফাদা বা সর্বাত্মক প্রতিরোধ পালন করছেন ফিলিস্তিনিরা। গতকাল ১৬ ডিসেম্বর এ ইন্তিফাদার নবম দিন অতিবাহিত হয়। ইন্তিফাদার অষ্টম দিনে শুক্রবার ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৪০ ফিলিস্তিনি। এ নিয়ে ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর দুনিয়াজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। ৮ ডিসেম্বর থেকে তৃতীয় ইন্তিফাদার ডাক দেয় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন বা হামাস। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরপরই জেরুসালেম, গাজা উপত্যকা, পশ্চিমতীরের রামাল্লা, হেবরন, বেথলেহেম, নাবলুস, কালকিলিয়া, তুলকার্ম ও জেনিনের রাস্তায় নেমে আসেন মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিরা। বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। হতাহত হন বহু বিক্ষোভকারী। তারপরও দমে যাননি মুক্তিকামী মানুষ। প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন তারা। ট্রাম্প আর নেতানিয়াহুর ছবি পুড়িয়ে, আমেরিকা-ইসরাইলের পতাকা জ্বালিয়ে দিয়ে স্লোগান তুলছেন, ফিলিস্তিনিদের রাজধানী নির্ধারণের অধিকার আমেরিকাকে কেউ দেয়নি। আর হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, ইসরাইল নামে কোনো দেশ নেই। তাই এর কোনো রাজধানীও থাকতে পারে না। ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ সংগ্রামের বিপরীতে তাদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। শুক্রবার ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনিরা হচ্ছেন গাজা উপত্যকার ইয়াসির সকার (৩২), ইবরাহিম আবু সুরিয়া (২৯), পশ্চিম তীরের রামাল্লার মোহাম্মদ আমিন আকেল (২২) এবং পূর্ব জেরুসালেমের বাসেল ইবরাহিম। গাজায় আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কাদরা এক বিবৃতিতে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছেন। পূর্ব জেরুসালেমের উত্তরে আনাতা গ্রামে সংঘর্ষ চলাকালে ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া গুলি বুকে বিদ্ধ হলে ইবরাহিম আবু সুরিয়া নিহত হন। অন্যরাও ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় একই পরিণতি বরণ করেন।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামাসের কঠোর হুঁশিয়ারি
ইসরাইলি সেনাদের বর্বরোচিত হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর তেল আবিবের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন বা হামাস। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলি সেনাদের হামলায় ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের নিহতের ঘটনায় আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে ইসরাইল একটি অপরাধী সরকার। হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেরুসালেমকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কখনোই ট্রাম্পের ঘোষণাকে বাস্তবায়িত হতে দেবে না বরং নিজেদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায় করে ছাড়বে।- বিবিসি
এক মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্টের বোন নিহত হয়েছেন। শনিবার দেশটির রাজধানীর কাছে একটি পাহাড়ে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এই ঘটনায় আরো পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ক্ষমতাসীন দলের প্রেসিডেন্ট রিনাল্ডো সানচেজ টুইটারে জানান, ‘ঈশ্বর তার প্রিয় পাত্রী হিল্ডা হার্নান্ডেজেককে তার কাছে নিয়ে গেছেন।
হিল্ডা ন্যাশনাল পার্টির একজন অক্লান্ত পরিশ্রমী যোদ্ধা ছিলেন।’ হিল্ডাকে বহনকারী হন্ডুরান বিমান বাহিনীর এএস৩৫ বি-৩ হেলিকপ্টারটি রাজধানীর টোকোনটিন বিমান বন্দর থেকে উড়ে যায়। এ সময় আবহাওয়া অবস্থা খারাপ ছিল। সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ইয়ারবাবুয়েনা পর্বতের কাছে আকাশযানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনাস্থলে ‘কাউকে জীবিত পাওয়া যায়নি।’ এই দুর্ঘটনায় আরো যারা মারা গেছেন তারা হলেন, পাইলট লেফটেন্যান্ট ইভান ভাসকুয়েজ পোর্টিলো, কো-পাইলট সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট গার্সন ডিয়াজ নোলাস্কো, সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন প্যাট্রিসিয়া ভালাদারেস এবং মন্ত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিভাগের দুই কর্মী নাগুম লাগোস ও মার্কোস বানেগাস। লিন্ডার মৃত্যুর খবর জানার পর প্রেসিডেন্ট তারই টুইটার অ্যাকাউন্টে তার বোনের একটি ছবি পোস্ট করেন।
কানাডার এক শীর্ষ ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীকে তাদের নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তাদের মৃত্যুকে ‘রহস্যজনক’ বলে বর্ণনা করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার টরন্টোতে নিজেদের বাড়ির বেইজমেন্টে ব্যারি শেরম্যান ও তার স্ত্রী হানির লাশ পাওয়া যায়। বিশ্বজুড়ে ‘জেনেরিক’ ওষুধ বিক্রয়কারী কোম্পানি অ্যাপোটেক্সের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ব্যারি কানাডার সবচেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। জনসেবক বা দাতা হিসেবেও তার খ্যাতি ছিল। ব্যারি ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়ে পুলিশ খুব বেশি তথ্য দেয়নি, তারা লাশের পরিচয়ও নিশ্চিত করেনি। ঘটনায় স্তম্ভিত বন্ধু ও কর্মকর্তারা পরে ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীর নাম জানায়। কানাডার অন্টারিও প্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এরিক হসকিনস টুইটারে বলেন, ‘কথা হারিয়ে ফেলছি। আমার প্রিয়প্রন্ধু ব্যারি ও তার স্ত্রী হানিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তারা ছিলেন চমৎকার মানুষ, অসাধারণ দাতা এবং স্বাস্থ্যসেবায় অনন্য নেতা’। পুলিশের মুখপাত্র পুলিশের কনস্টেবল ডেভিড হপকিনস জানান, শুক্রবার বিকেলের আগে ব্যারির বাড়ি থেকে ইমার্জেন্সি সার্ভিসে ফোন দেয়া হয়েছিল। তাদের মৃত্যুর ঘটনাটি সন্দেহের সৃষ্টি করছে এবং আমরা সেভাবেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ ফোর্বসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যারির ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩২০ কোটি ডলার। তিনি ১৯৭৪ সালে অ্যাপোটেক্স ইনকরপোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন; এটি এখন বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রীর মৃত্যুকে গভীর শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে অ্যাপোটেক্স। ব্যারি-হানি দম্পতির চার সন্তান আছে।
সৌদি আরব, জর্দান ও কাতারে পাড়ি জমানো নারী শ্রমিকদের মধ্যে অনেকে মালিক ও তার পরিবারের সদস্যদের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার এসব নারীর মধ্যে অনেকে উপায় না পেয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। সৌদি আরবে পালানো নারীরা বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নিচ্ছেন। অনেকের পরিবারের সদস্যরা তাদের আপনজনকে দ্রুত দেশে ফেরত আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে নিয়োগকারী কোম্পানির নাম, নির্যাতনের ধরন, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সির নাম, টেলিফোন নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করে আবেদন করছেন। পরে ওই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হচ্ছে সৌদি আরব, জর্দান ও কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসে।
তবে গত দেড় বছরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যত অভিযোগ জমা পড়েছে তার মধ্যে নির্যাতিত নারীদের দেশে ফেরানোর সংখ্যা খুবই কম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ দিকে বিদেশ যাওয়ার পর নারী শ্রমিকের ওপর নির্যাতন প্রসঙ্গেও রয়েছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, যাওয়ার আগে নারী শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তার এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশ যেতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যাওয়ার পরই তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে বলেন, ‘দেশে আমি দুধের বাচ্চা রেখে এসেছি। আমি আর থাকতে পারব না’। তখনই তারা দেশে ফিরতে নির্যাতনের ‘বানোয়াট’ অভিযোগ তৈরি করেন। তবে সবাই না। যদিও ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে মুচলেকায় উল্লেখ রয়েছে, বিদেশ যাওয়ার পর কোনোভাবেই চুক্তি মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ের আগে দেশে ফিরতে পারবেন না। অন্য দিকে মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসে জমা পড়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নারীকর্মীদের যে সময় পর্যন্ত কাজ করানোর কথা রয়েছে; সেই সময়েরও বেশি কাজ করানো হচ্ছে। কাউকে কাউকে আত্মীয়স্বজনেরর বাসাবাড়িতেও অতিরিক্ত কাজ করানোর অভিযোগ থাকলেও বেতন দিতে গড়িমসি শুরু হয়। আবার অনেক মালিকের দৃষ্টি পড়ছে খারাপভাবেও। এসব অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কিছু নারীকে এজেন্সির পাঠানো টিকিটে ইতোমধ্যে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দফতরে সৌদি আরবের জেদ্দায় নির্যাতনের শিকার মুক্তা বেগমকে দেশে ফেরত আনার জন্য তার ভাই মো: বোরহান লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট ফরমে উল্লেখ করেন, মোসাম্মৎ মুক্তা বেগম, পাসপোর্ট নম্বর বিএম০৮৬৬৩৭৩, মোবাইল নম্বর ০০৯৬৬৫৫৮২৬৫৫০৯।
 বাবার নাম আব্দুল করিম তালুকদার। গ্রামের নাম মাদারীপুর বাহোরান্দি। চলতি বছরের ২৯ নভেম্বর রিক্রুটিং এজেন্সি তানিয়া ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের (আরএল-৪৩৬) মাধ্যমে সৌদি আরব যান। অভিযোগে মুক্তার ভাই দেশে ফেরত আসার কারণের জায়গায় উল্লেখ করেন, সৌদি আরবে বিভিন্ন নিয়োগকর্তার বাসায় শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হয়রানির শিকার হন তার বোন। নিয়োগকর্তার বাসা থেকে পালিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের (জেদ্দা) আশ্রয়ে আছেন। সৌদি আরবের দালাল তাকে আটকানোর চেষ্টা করছে। তাকে জরুরি ভিত্তিতে দেশে আনা প্রয়োজন। এ প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তরে মুক্তার ভাই বোরহান বলেন, তাকে সৌদি আরব পাঠাতে ৭০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। শুধু মুক্তা নন- সৌদি আরবে রিক্রুটিং এজেন্সির পাঠানো এমন কয়েক শ’ নারী শ্রমিক এখন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিপরীতে দেশে ফেরা নারীর সংখ্যা খুবই কম বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কমকর্তা। শুধু সৌদি আরব নয় ; একইভাবে জর্দান, কাতারে ও অনেক নারী শ্রমিক নির্যাতিত হচ্ছেন। প্রতিটি পরিবারের পক্ষ থেকেই তাদের দেশে ফেরত আনতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে আবার নিখোঁজও রয়েছেন মাসের পর মাস। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগে জানা যায়, ফরিদপুরের হাজিগঞ্জের হাজার বিঘা গ্রামের রওশন আরা ২০১৪ সালে বিএমইটির ক্লিয়ারেন্স নিয়ে জর্দান যান। ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের আবেদন ফরমে তার বোন জুলেখা বেগম দেশে ফেরত আনার কারণের জায়গায় উল্লেখ করেন, তার বোন জর্দানে ছয় মাস ধরে নিখোঁজ। নিয়োগকর্তাকে ফোন করলে রওশন আরাকে এজেন্সি অফিসে রেখে আসে বলে জানান। নিয়োগকর্তার শারীরিক নির্যাতনে তার হাত ভেঙে গেছে। এর পর থেকে পরিবারের সাথে আর কোনো যোগাযোগ নেই। রওশন আরার পরিবার তাকে নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন। নিয়োগকর্তার কাছ থেকে বকেয়া বেতন আদায়সহ রওশন আরাকে যেকোনো অবস্থায় দেশে ফেরত আনা জরুরি। একইভাবে কাতারে পাড়ি জমানো নারী শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই সমস্যায় রয়েছেন।  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সৌদি আরবে নির্যাতিত নারী শ্রমিকদের মধ্যে পালিয়ে ৩৫০ জন বর্তমানে শেল্টার হোমে অবস্থান নিয়েছেন।
এ ছাড়া দেশে ফেরত আসার জন্য গত দুই দিন ৭০ নারী শ্রমিক জেদ্দা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন। তবে তাদের কী কারণে সেখানে অপেক্ষা করতে হচ্ছে তা জানা যায়নি। সৌদি আরবে নারী শ্রমিক নির্যাতন প্রসঙ্গে একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা সরকারি নিয়মকানুন মেনেই বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিক পাঠাচ্ছি। কিন্তু কিছু মহিলা সেখানে যাওয়ার পর নানা অভিযোগ তুলে দেশে চলে আসতে পরিবারকে দিয়ে অভিযোগ দিচ্ছেন মন্ত্রণালয়ে। তবে তিনি স্বীকার করেন, সৌদি আরবে গৃহকর্তা-কর্ত্রীরা নারী শ্রমিকদের ইদানীং কিছুটা নির্যাতন করছেন। বেতনও পাচ্ছেন না। সময়ের বেশি তাদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এসব ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের এখনই গুরুত্ব সহকারে উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। এ দিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস-২০১৭ উপলক্ষে আজ রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বক্তৃতা করবেন বলে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত সৌদি, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন এক লাখ ১৩ হাজার নারী শ্রমিক। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস-২০১৭ এ বিদেশে নির্যাতিত নারী শ্রমিকদের কিভাবে বেতনভাতা নিশ্চিতসহ তাদের সুরক্ষা করা যায় তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের ভাবা উচিত।
ফরিদপুরে গরু চোর সন্দেহে রাসেল শেখ (৪২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় একটি ট্রাক পুড়িয়ে দেয় স্থানীয় জনতা। রোববার ভোর ৪টার দিকে সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের সাদীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল শেখ একই ইউনিয়নের বিলমামুদপুর গ্রামের ইউনুস শেখের ছেলে। গ্রামবাসী জানায়, চার থেকে ৫ জন একটি ট্রাকে করে সাদীপুর গ্রামে আসে। তারা আশপাশের বাড়িতে থাকা গরুগুলোর দড়ি খুলতে শুরু করলে এলাকাবাসীরা টের পেয়ে তাদের ঘিরে ফেলে।
এক পর্যায়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে রাসেল শেখ। অন্যরা পালিয়ে যায়। এর এক পর্যায়ে  উত্তেজিত গ্রামবাসী চোরদের আনা ট্রাকটি পুড়িয়ে দেয়। আলিয়াবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ডাবলু যুগান্তরকে বলেন, গণপিটুনিতে আহত রাসেলকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফরিদপুর কোতয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়রা ট্রাকটি পুড়িয়ে দেন পরে খবর পেয়ে ফরিদপুর শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বল জানান এসআই।
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ৫টি পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। বিস্ফোরণে রফিকুল ইসলাম (ধান ব্যবসায়ী) ও মতি মিয়া (অটোচালক)  নামে দুই ব্যক্তি দগ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় আরো ১০/১২জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গৌরীপুরের শাহগঞ্জ বাজারে অবস্থিত অচিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের ছাদ থেকে এ পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয় বলে প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। গৌরীপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সৈয়দা মাকনূন হৃদি জানান, মতি মিয়ার শরীরের ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে, তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আর রফিকুল ইসলামের চিকিৎসা চলছে। গৌরীপুর থানার সহকারি পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ জালাল জানান, শাহগঞ্জ বাজারে ৫টি পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। একটি রিকশা পুড়ে গেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম অন্তর পেট্রোল বোমা হামলার খবর জানিয়েছেন।
সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার আহম্মদ জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি অংশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তরের ওপর হামলা করেছে বলে জানা গেছে। চেয়ারম্যান জানিয়েছে, ওরা মহান বিজয় দিবস অনুষ্ঠান উদযাপন করতে দেয়নি। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এখনও উদঘাটন সম্ভব হয়নি। পেট্টোল বোমায় দগ্ধ অচিন্তপুর ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল রশিদের পুত্র মো. মতি মিয়া (২৮) জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহগঞ্জ বাজারে অবস্থিত অচিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের ছাদ থেকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। আমি অটোরিকশায় ছিলাম। হঠাৎ করেই আমার পুরো রিকশাটি পুড়ে যায় ও আগুন ধরে যায়। আহতের চাচাতো ভাই প্রত্যক্ষদর্শী খোরশেদ আলম জানান, পুরো শরীরে আগুন নিয়ে দৌড়ে আমার দোকানে ওঠে। অপর দগ্ধ ব্যক্তি খালিজুড়ী গ্রামের আব্দুল মজিদের পুত্র ধান ব্যবসায়ী  মো. রফিকুল ইসলাম (৪২) জানান, আমি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিভাবে শরীরে আগুন ধরে গেলো বুঝতে পারি নাই। ঘটনার পরপরই শাহগঞ্জ বাজারের সকল দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ড. ফায়জুল আমীর সরকার
বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে শহীদদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের জন্য দোয়া প্রার্থনা করায় টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সংসদের সাবেক কমান্ডার আবদুল কাদের তালুকদার বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আজ রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হবে। গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  গ্রেফতার ড. ফায়জুল আমীর সরকার গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ৮টার দিকে গোপালপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের আগে একাত্তরে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ দোয়া অনুষ্ঠানে মোনাজাতে নেতৃত্ব দেন গোপালপুর কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. ফায়জুল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা শারমীন, ওসি হাসান আল মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম আক্তার মুক্তা, পৌরমেয়র রকিবুল হক ছানা, জেলা পরিষদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের তালুকদার, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহবায়ক অ্যাডভোকেট কেএম আবদুস সালাম, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুস সোবহান তুলাসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, সব সরকারি কর্মকর্তা এবং মিডিয়া কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ ফায়জুল বলেন, হে আল্লাহ তুমি পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী, যাদের ফাঁসি হয়েছে তাদের বেহেশত নসিব করো। হে আল্লাহ তুমি বিচারের পর তাদের বেহেশত নসিব করো। দোয়া অনুষ্ঠানে তার এ ধরনের বক্তব্যে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান। উত্তেজনা দেখা দিলে উপস্থিত নেতারা সবাইকে শান্ত করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা শারমীন জানান, দোয়া অনুষ্ঠানে এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক বক্তব্য শুনে তিনি নিজের কানকে প্রথমে বিশ্বাস করতে চাননি। একই কথা আবার রিপিট করলে তিনি মনোযোগ দিয়ে তা শোনেন। আশপাশে যারা ছিলেন তাদের কাছ থেকে তিনি শতভাগ নিশ্চিত হন। ওসি হাসান আল মামুন বলেন, এমন ঘটনা সত্যিই হতবাক হওয়ার মতো। ঘটনার পরপরই তাকে আটক করা হয়। মামলার পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার জানান, একুশে গ্রেনেড হামলা মামলার প্রধান তিন আসামির বাড়ি গোপালপুরে। গোপালপুরের দুই জঙ্গি সম্প্রতি ক্রসফায়ারে মারা গেছে। অধ্যক্ষ ড. ফায়জুলের মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মানুষ, যারা জামায়াত শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের মুখ থেকে এমন কথা বের হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আমরা তার কঠিন শাস্তি চাই। সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং গোপালপুর কামিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুস সোবহান তুলা জানান, মুখ ফসকে হয়তো তিনি এ কথা বলেছেন। তবে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আহাদুজ্জামান জানান, শনিবার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের অনুষ্ঠানে মহান বিজয় দিবসে একাত্তরের বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বেহেশত নসিব কামনা করেন ফায়জুল। জানা গেছে, ফায়জুল কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের আবদুল মান্নান সরকারের ছেলে। গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় ২০০৯ সালে তিনি যোগদান করেন। এর আগে তিনি কুমিল্লা শহরের একটি মাদ্রাসায় এক বছর ও জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ীর একটি মাদ্রাসায় পাঁচ বছর শিক্ষকতা করেন।
মহান বিজয় দিবসে শনিবার সাভার স্মৃতিসৌধে বীর
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর শপথ নেয় জনতা -যুগান্তর
যথাযথ মর্যাদায় শনিবার মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নেয়া এবং ক্ষুধা-দারিদ্র্য-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়, শপথ ও দাবির মাধ্যমে দিনটি পালন করে গোটা জাতি। সব যুুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে যুদ্ধাপরাধী মুক্ত করার দাবি জানায় সর্বস্তরের মানুষ। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বাঙালি জাতি ভালোবাসা আর অহংকারের প্রতীক জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধায় কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।
ভোরে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে (পুরনো বিমানবন্দর) ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের সূচনা হয়। দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংবাদপত্রগুলো বের করে বিশেষ ক্রোড়পত্র। জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। এদিন ছিল সরকারি ছুটি। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়। প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো সাজানো ছিল জাতীয় পতাকা ও রং-বেরঙের কাগজে। জেলখানা, হাসপাতাল, এতিমখানা ও শিশু সদনগুলোয় পরিবেশন করা হয় উন্নত খাবার। সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সালাম জানায়। শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাবনত জাতি ফুলে ফুলে ভরে দেয় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদি। সেখানে সর্বস্তরের লাখো মানুষের ঢল নামে। এ ছাড়া দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা শহরের চিত্রও ছিল প্রায় অভিন্ন। মানুষে মানুষে বৈষম্য ভুলে সাম্প্রদায়িকতা প্রতিহত করে নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ছিল শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের চোখে-মুখে। শিশুকিশোর ও তরুণ-তরুণীদের হাতে, কারও গালে কিংবা কপালে আঁকা ছিল রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা, প্রিয় মাতৃভূমির মানচিত্র। তরুণ প্রজন্মের ছেলেদের গায়ে ছিল জাতীয় পতাকার রঙে শার্ট, পাঞ্জাবি বা গেঞ্জি এবং মেয়েদের পরনে ছিল লাল-সবুজের শাড়ি অথবা সালোয়ার-কামিজ। বিজয় দিবসে আনন্দ-উৎসবের আলোয় সাজে ঢাকাসহ পুরো দেশ। পতাকায় সজ্জিত রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোর প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ।
সচিবালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থান আলোর ঝলকানি। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের দেয়ালে লাল-সবুজের ছাপ। আলোর সাজে সাজানো হয় জাতীয় সংসদ ভবনও। মূল ভবন আর আশপাশের সব ভবনে জ্বলে লাল-সবুজ আলো। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ভবনের পাশাপাশি সাজানো হয় রাজপথের দুই পাশ। সন্ধ্যার পর রং-বেরঙের আলোকচ্ছটায় ঝলমলিয়ে ওঠে এলাকাগুলো। আলো দিয়ে তৈরি করা হয় প্রিয় লাল-সবুজ পতাকা। মনকাড়া এমন আলোকসজ্জায় মুগ্ধ সবাই। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তস্নাত লাল-সবুজের পতাকা হাতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের শপথ আর পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার প্রত্যয়। চোখে ছিল একাত্তরের ঘাতক রাজাকার-আলবদর-যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের প্রতি তীব্র ঘৃণা-ধিক্কার। কুয়াশার চাদরে মোড়ানো সকালে সূর্য ওঠার আগেই জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে ছিল মানুষের দীর্ঘ লাইন। দিনের আলোর উজ্জ্বলতা যতই বাড়তে থাকে জনতার ভিড়ও তত বাড়তে থাকে। দিনটি পালনে সকাল ৮টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। স্বাধীনতার মহান স্থপতির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয়প্রধান হিসেবে দলের সিনিয়র নেতাকর্মীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ৪৭তম বিজয় দিবস উপলক্ষে ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পাঁচ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটা কার্ড এবং ডাক বিভাগের ইস্যুকৃত একটি স্মারকগ্রন্থ তিনি অবমুক্ত করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর দৃষ্টিনন্দন কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। বিকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবনে এক সংবর্ধনার আয়োজন করেন রাষ্ট্রপতি। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এতে বিজয় দিবসের কেক কাটেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গভবনের বিশাল চত্বর ঘুরে ঘুরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। আগত অতিথিদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন তারা। বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের সব মুক্তিযোদ্ধাকে (এফএফ) শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এবারও তিনি নগরীর মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন। মহান বিজয় দিবসে রাজধানীজুড়ে ছিল নানা আয়োজন। বিকালে রাজধানীতে বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা করে আওয়ামী লীগ। ৩ কিলোমিটারের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় লাখো মানুষ অংশ নেন। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে এ শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শেষ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর। দিনের শুরুতে বাঙালির অধিকার সংগ্রামের অন্যতম সূতিকাগার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিজয় শোভাযাত্রা ও পতাকা মিছিলের আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও শিশু একাডেমি। তরুণ-তরুণী একসঙ্গে শপথ নেয় অসমাপ্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার। মুক্তি সেনাদের মতো তারাও দেশ মাতৃকার জন্য আমুত্যু লড়াই করে বাঙালির কাক্সিক্ষত বিজয় ছিনিয়ে আনতে প্রস্তুত। বিজয় শোভাযাত্রাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি, টিএসসি, জাতীয় গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের সামনে দিয়ে ঘুরে যায়। সকালে রাজধানীর হাতিরঝিলে বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে সাইকেল র‌্যাবলি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া শিখা চিরন্তনে শহীদদের আত্মদানের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন ও তরুণ প্রজন্মের হাতে পতাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম। বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ছায়ানটের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। সকাল থেকেই ঢাকার রাজপথে চলে লাল-সবুজের মেলা। রিকশা, সাইকেল, মোটরসাইকেল, বাস কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সবাই মেতেছেন উৎসবের রঙে। কেউ হাতে পতাকা নিয়ে কেউ বা গালে কিংবা কপালে পতাকা একেছেন। মহান বিজয় দিবসে বিজয়ের গৌরবগাঁথা নিয়ে পৃথক আলোচনা সভা, বক্তৃতা, রচনা প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দোয়ার আয়োজন করে রাজধানীর বেরাইদের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এগুলো হল- বেরাইদ গণপাঠাগার, বেরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, একেএম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, রওশনআরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বেরাইদ মুসলিম হাইস্কুল, আলহাজ রহিমউল্লাহ মাদ্রাসা ও এতিমখানা, বেরাইদ মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং বেরাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় স্কেটিং র‌্যালি।
প্রতিদিন অনেক ক্যান্সার রোগী তাদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় রেডিয়েশন থেরাপি না পেয়ে সরকারি হাসপাতালগুলো থেকে ফিরে যান। অপর্যাপ্ত চিকিৎসায় সঠিকভাবে ক্যান্সার নিরাময় না হওয়ায় অনেক রোগীকে করুণভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়। অথচ ১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের একটি লিনিয়ার এক্সিলারেটর (রেডিও থেরাপি) মেশিন ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বাক্সবন্দি পড়ে আছে। যথাসময়ে মেশিনটি স্থাপন সম্ভব হলে গত পাঁচ বছরে অন্তত সোয়া লাখ ক্যান্সার রোগীকে প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া সম্ভব হতো। ঊর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অপরিণত সিদ্ধান্ত ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিনটি নিয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অব্যবহৃত পড়ে থাকায় মেশিনটি নষ্ট হওয়ারও উপক্রম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সচল প্রতিটি লিনিয়ার মেশিনে গড়ে ৮০-৯০ জন রোগীকে রেডিও থেরাপি দেয়া হয়। সেই হিসাবে মেশিনটি স্থাপন হলে মাসে প্রায় ২ হাজার রোগী সেবা পেতেন। পাঁচ বছরে এ সংখ্যা এক লাখ ১৫ হাজার ছাড়িয়ে যেত। জানা গেছে, ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে ২০১২ সালে রাজস্ব অর্থায়নে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের জন্য কেনা হয় একটি অত্যাধুনিক লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন। ক্যান্সার হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোল্লা ওবায়েদুল্লাহ বাকী জানান, এটি সে সময়ের সর্বাধুনিক মেশিন হওয়ায় তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব হুমায়ুন কবীর এটিকে নিজ জেলা চট্টগ্রামে স্থাপনের ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু এতে তিনি আপত্তি করেন। তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক বিষয়টি জানতে পেরে এটি তার এলাকা খুলনায় স্থাপনের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা মোতাবেক মেশিনটি ঢাকার ক্যান্সার হাসপাতাল থেকে ওই বছরের ৬ নভেম্বর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু খুলনায় এ ধরনের মেশিন স্থাপনের ব্যবস্থা না থাকায় সেটি এখনও বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোল্লা ওবায়েদুল্লাহ বাকী যুগান্তরকে বলেন, এ লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিনটি দিয়ে শুধু রেডিও থেরাপি নয়, আরও অনেক কাজ করা যায়। বিশেষ করে রেনাল ক্যান্সার, ব্রেন টিউমার ক্যান্সার চিকিৎসায় বিশেষ কার্যকরী। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় মেশিনটি আজও ব্যবহার করা সম্ভব হল না। যথাসময়ে এটি ব্যবহার করতে পারলে অনেক জটিল ক্যান্সার রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো। তিনি বলেন, পাঁচ বছর পার হয়েছে। মেশিনটি নির্ধারিত কার্যকালের অর্ধেক সময় অতিবাহিত হয়েছে। এখন এটি কতটা ভালো আছে তা বলা কঠিন। কারণ এ ধরনের মেশিন অব্যবহৃত পড়ে থাকলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, লিনিয়ার মেশিন স্থাপনের জন্য বিশেষ ধরনের বাঙ্কার তৈরি করতে হয়। উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয়তা নিরোধক বাঙ্কার ছাড়া এ ধরনের মেশিন স্থাপন করা হলে সেটি থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। মেশিনটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপনের জন্য একটি বাঙ্কার তৈরি করা হয়। এটি নির্মাণে গণপূর্ত অধিদফতরকে এক কোটি ৯২ লাখ ৬১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। গণপূর্ত অধিদফতর বাঙ্কার স্থাপনে অপারগতা প্রকাশ করায় এ টাকা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরকে অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর বাঙ্কার নির্মাণ হলেও সেটি আন্তর্জাতিক মানের হয়নি। এমনকি এ মেশিনটি স্থাপনের জন্য উপযুক্তও নয়। ফলে ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মেশিন সরবরাহকারী কোম্পানি বাঙ্কার মেরামতে একটি নকশা প্রদান করে।
কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এরপর ২০১৫ সালের ২ আগস্ট মেশিনটি স্থাপনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানানো হয়। অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আমেরিকান উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর খুলনা মেডিকেল কলেজের বাঙ্কারটি পরিদর্শন করে এবং ৮ সেপ্টেম্বর এ ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৮ মার্চ তারিখে মেশিনটি পুনরায় জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এমনকি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ একটি বাঙ্কার ও কন্ট্রোল রুম করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও ঘটে নতুন বিপত্তি। বাঙ্কার ও কন্ট্রোল রুম তৈরি করতে একটি দরপত্র আহ্বান করে গণপূর্ত বিভাগ। যেখানে ইলেকট্রিফিকেশন, এসি, চিলার, ক্যাবলিং ইত্যাদি কোনো কিছুর উল্লেখ নেই। অথচ এসব ছাড়া বাঙ্কার কোনো কাজে আসবে না। আবার বাঙ্কার নির্মাণের পর এসব কাজ করতে আরও অন্তত ৫০ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। অন্যথায় মেশিনটি সচল করা সম্ভব হবে না। ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতিবছর দেশে ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার রোগী মৃত্যুবরণ করে। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সারের (আইএআরসি) সমীক্ষা অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর হার শতকরা ৭ দশমিক ৫ ভাগ। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ এ হার ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। দেশে ক্যান্সারের এ করুণ দশার পরও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অনেকটাই উদাসীন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) অধ্যাপক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, লিনিয়ার মেশিনটি চূড়ান্তভাবে জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে বাঙ্কার নির্মাণে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে কয়েক মাসের মধ্যে এটি স্থাপন হবে। ৫ বছরের বেশি সময় মেশিনটি অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের মেশিন অব্যবহৃত থাকলে সমস্যা হতেই পারে। তবে স্থাপন না করে আগেই মন্তব্য করা ঠিক হবে না। মেশিনটি কেন এতদিন ফেলে রাখা হল জানতে চাইলে তিনি বলেন, সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা না করেই মেশিনটি ঢাকা থেকে খুলনায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে স্থাপন করা সম্ভব না হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রকাশ্য মাখামাখিতে ইসরাইলজুড়ে জয়ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের নতুন ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে মোহাম্মদ বিন সালমানের নিয়োগ ছিল ইসরাইলের জন্য প্রথম ‘শুভ বার্তা’। তখন সৌদি আরবকে ইসরাইলের ‘স্বর্গরাজ্য’ হিসেবে অ্যাখ্যা দেয়া হয়েছিল। যদিও ঘনিষ্ঠ এ সম্পর্কের কারণে ইসরাইলকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে ইসরাইলের মন্ত্রীরা স্বীকার করেছেন যে, সৌদির সঙ্গে গোপন কৌশলগত আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবের একটি পত্রিকাকে এক নজিরবিহীন সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের সেনাপ্রধান বলেছেন, ইরানকে টার্গেট করেই দুই দেশ এক চুক্তি সম্পন্ন করেছে। হারেৎজ পত্রিকার এক নিবন্ধে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে অপবিত্র এ সম্পর্ক এটাই ইঙ্গিত দেয় যে তারা তাদের অতীতের শত্রুতাকে ইরানের কম্বলের মধ্যে সমাহিত করেছে। এক সময়ের শাশ্বত শত্রুতা এখন চমৎকার বন্ধুত্বে রূপান্তরিত হচ্ছে। সৌদির সঙ্গে ইসরাইলের এ সম্পর্কের খবরে মর্মান্তিক আঘাত পেতেন সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ। বস্তুত কবরের মধ্যেও হয়তো তিনি নড়েচড়ে বসেছেন। ফিলিস্তিনে আরব ও ইহুদীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার এক রহস্য উন্মোচক মতাদর্শের মধ্যেই শান্তির ভিশন লুকিয়ে রয়েছে। যেমনটা সম্ভবত কোনো আরব ও মুসলিম নেতা, এমনকি তার উত্তরসূরিদের মধ্যে কেউ দিতে পারেননি। প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের সঙ্গে এক বৈঠকে ওই মতাদর্শের উন্মোচন করেন ইবনে সৌদ। সেখানে ইসরাইল ও ইহুদিদের নিয়ে সৌদি আরবের প্রকাশ্য ধারণা সুস্পষ্ট হয়। ১৯৩৮ সালের নভেম্বরে ইসরাইলে আবর বিপ্লবের শুরুর দিকে বাদশাহ ইবনে সৌদ এক চিঠিতে রুজভেল্টকে লিখেছিলেন, ‘ফিলিস্তিনে ইহুদিদের কোনো অধিকার নেই এবং সেখানে তাদের অধিকার চাওয়া মানবজাতির ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন অন্যায় আবদার।’ প্রেসিডেন্টকে বাদশাহ আরও মনে করিয়ে দেন যে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড আরবদের কাছ থেকে এসেছে এবং আরব দেশগুলোর মধ্যেই এটি অবস্থিত। ইহুদিরা শুধু একটি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য এটি দখল করে। আর সেই সময়ের বৃহত্তর অংশই ছিল গণহত্যা এবং ট্র্যাজেডিতে পরিপূর্ণ। বাদশাহ সৌদ হুমকির সুরে আরও বলেছিলেন, যদি ইউরোপের ইহুদিরা ফিলিস্তিনের দিকে অগ্রসর হয় তবে ‘স্বর্গে ফাটল ধরবে, পৃথিবী বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং পাহাড়গুলো প্রকম্পিত হবে।’ এর পাঁচ বছর পর ১৯৪৩ সালের এপ্রিলে বাদশাহ সৌদ রুজভেল্টকে আরও একটি চিঠি লেখেন। ওই চিঠিতে তিনি মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যকার ধর্মীয় দ্বন্দ্বের বিষয়ে তুলে ধরেন। ইসলামের আবির্ভাব, মুসলিম ও মহানবী (সা.) এর প্রতি ইহুদিদের বিশ্বাসঘাতক আচরণের ইতিহাস তুলে ধরেন সৌদি বাদশাহ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি উল্লেখ করে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যাদের সঙ্গে ইহুদিদের কোনো সম্পর্ক নেই সেসব মিত্রদের উচিত নয় ফিলিস্তিনে ইহুদিদের অনুমতি দেয়া। ন্যায় ও ন্যায্যতার দৃষ্টিকোণ থেকে এখানে তাদের কোনো ভিত্তি নেই। জালিয়াতি এবং প্রতারণার মাধ্যমেই তাদের উত্থান হয়েছে। বাদশাহ তার চিঠির ইতি টানেন এভাবে, ‘যদি ইহুদিরা তাদের ইচ্ছা পূরণ করতে পারেন, তবে ফিলিস্তিন সর্বদাই অতীতের মতো ভয়াবহ সমস্যায় জর্জরিত হবে। কারণ তারা (ইহুদিরা) অতীতেও বহু সমস্যার কারণ ছিল।’ বাদশাহ আবদুল আজিজের এ বার্তা ম্যাজিকের মতো কাজ করে। ১৯৪৩ সালের মে মাসে রুজভেল্ট চিঠির জবাবে লেখেন, আরব ও ইহুদীদের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা ছাড়া ফিলিস্তিনের মৌলিক পরিস্থিতি পরিবর্তন না করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। দুই বছর পর ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইয়াল্টা কনফারেন্সে অংশগ্রহণের পর রুজভেল্ট সুয়েজ খালে গ্রেট বিটার লেকে ভ্রমণ করেন, যেখানে তিনি ইউএস ক্রুজার কুইন্সি জাহাজের ওপর বাদশাহ ইবনে সৌদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এটাই ছিল এ ধরনের প্রথম বৈঠক। ওই বৈঠকে রাজকীয় উপহার বিনিময়, রাজকীয় ভোজ ও আরবীয় কফি পানের মাধ্যমে ফিলিস্তিন ইস্যুতে আলোচনা হয়। ফিলিস্তিনে একটি ইহুদি ন্যাশনাল হোম প্রতিষ্ঠার জন্য তার সমর্থনের কথা বাদশাহকে অবগত করেন রুজভেল্ট। তিনি ইউরোপীয় ইহুদিদের দুর্দশার কথা বাদশাহকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বাদশাহ সৌদ তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। একটি ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ মন্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘অতীতের মতোই ফিলিস্তিন রক্তের সাগরে ডুবে যাবে।’ বাদশা ইবনে সৌদ ফিলিস্তিনে ইহুদি অভিবাসনের প্রতি তার সমর্থনের বিনিময়ে মার্কিনিদের ত্রাণ সহায়তা নিতে অস্বীকার করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি এ হুশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, হয় আরব না হয় ইহুদি, যুক্তরাষ্ট্রকে এর যেকোনো একটাকে বেছে নিতে হবে। ইবনে সৌদ বলেন, ‘আরবরা মরে যাবে কিন্তু ইহুদিদের কাছে তাদের এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেবে না।’ দেশে ফিরে আসার পরও রুজভেল্ট স্পষ্টত ইবনে সৌদের এ বক্তব্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন। যেমন ১৯৪৫ সালের মার্চে মার্কিন কংগ্রেসের একটি যৌথ সেশনে তিনি বলেন, ‘দুই-তিন ডজন চিঠি বিনিময় করে মুসলিম ও ইহুদি সমস্যার পুরো বিষয়টি সম্পর্কে আমি যতটুকু জানতে পারতাম, ইবনে সৌদের সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলে আমি তার চেয়ে বেশি জানতে পেরেছি।’ একই বছরের ৫ এপ্রিল রুজভেল্ট ইবনে সৌদের কাছে একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি তাকে নিশ্চিত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না ‘যাতে আরব জনগণের নিকট শত্রু বলে প্রমাণিত হয়।’ এক্ষেত্রে ইবনে সৌদের প্রতি রুজভেল্টকে যে বিষয়টি আকৃষ্ট করেছিল সেটা ভূ-রাজনীতি নয়, বরং ফিলিস্তিনের ব্যাপারে বাদশার ব্যক্তিগত অবস্থান বা প্রতিশ্রুতি। আর সেটা হচ্ছে, ইসলাম ধর্মের জন্মভূমিতে বসে ইবনে সৌদ নিজেকে ধর্ম বিশ্বাসের রক্ষক হিসেবে দেখতেন। একইভাবে মক্কা ও মদিনার পরেই ইসলামের পবিত্রতম স্থান ফিলিস্তিন ছিল তার সেই দৃষ্টির কেন্দ্রে। মুসলিম বিশ্বও তার এই দৃষ্টিভঙ্গিকে শ্রদ্ধার চোখে দেখত। ইবনে সৌদের এ সংকটের প্রতি এক ধরনের সহানুভূতিও দেখিয়েছেন রুজভেল্ট। ইহুদি নেতা রাব্বি স্টিফেন ওয়াইজের কাছে বিরল এক স্বীকারোক্তিতে তিনি এ কথা বলেছেন। ইবনে সৌদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তিনি একজন বৃদ্ধ মানুষ। তিনি আর যে কয়েক দিন বাঁচেন, শান্তিতে বাঁচতে চান।’
মাথাব্যথার অন্যতম কারণ সাইনোসাইটিস। এছাড়া মাইগ্রেন, দুশ্চিন্তা ও চোখের কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে। সাইনোসাইটিসে নাক বন্ধ, সর্দি, জ্বর জ্বর ভাব থাকে। সাইনাস কি?: নাক ও চোখের চারপাশে হাড়ের ভেতরে কিছু বায়ুকোষ বা কুটুরিকে সাইনাস বলে।
উপসর্গ: এ রোগীদের মাথাব্যথার সঙ্গে নাকে গন্ধ না পাওয়া, শারীরিক দুর্বলতা, নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও দম বন্ধ হয়ে আসা লক্ষণ থাকে।
কারণ: ভাইরাস ও অ্যালার্জি এর প্রধান কারণ। এছাড়া নাকের হাড় বাঁকা, নাকে পলিপ ও টিউমার অন্যতম। মফা ও সিফিলিস থেকেও এ সমস্যা হতে পারে।
চিকিৎসা: নাকের ঝিলি্লর প্রদাহ কমানোর জন্য টপিক্যাল নেস্যাল স্টেরয়েড ব্যবহার করা যায়। খুব স্বল্প সময়ের জন্য নাকের ড্রপ বা ডিকনজেস্টেন্ট ব্যবহার করা ভালো। নাসারন্ধ্র পরিষ্কার রাখার ওষুধ সিউডোইফিড্রিন দেয়া হয়। এন্টিবায়োটিক ও এন্টিহিস্টামিন রোগভেদে দেয়া যায়।
সার্জিক্যাল চিকিৎসা: ওষুধের দ্বারা সম্পূর্ণ নিরাময় না হলে বা আশানুরূপ উন্নতি না হলে কিংবা ঘন ঘন ওষুধের প্রয়োজন হলে বা এ এলাকায় কাঠামোগত কোনো ক্রটি থাকলে অপারেশনের প্রয়োজন হয়। এন্ডোসকপি সাইনাস সার্জারি, নাকের কটারি, এসএমডি, টারবিনেকটসি বা সেপ্টোপ্লাস্টি ধরনের অপারেশন করা হয়।
অধ্যাপক ডা. জাহীর আল-আমিন, নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
ইমপালস হাসপাতাল, তেজগঁাও ঢাকা। মোবাইল- ০১৭১৫০১৬৭২৭
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ায় চার শয়নকক্ষের একটি খামারবাড়ি বিনা মূল্যে বিক্রির জন্য অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। তবে যিনি বাড়িটির মালিক হবেন তাকে বর্তমানের অবস্থান থেকে বাড়িটিকে অবশ্যই সরিয়ে নিতে হবে। বাড়ির মালিক রজার এবং লিন্ডা ডোলেচেক দম্পতি বিজ্ঞাপনে লিখেছেন, রিগল্ড কাউন্টির বাড়িটি শেষ পর্যন্ত কেউ নিতে আগ্রহী না হলে সেটিকে ভেঙে ফেলা হবে।
কিন্তু কেন তারা এ সিদ্ধান্ত নিলেন? স্থানীয় পত্রিকা দ্য ডেস ময়েনস রেজিস্টার জানায়, ওই দম্পতির চার সন্তান এ বাড়িতেই বড় হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে তারা বাড়িটিকে বিক্রি করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বিজ্ঞাপনে ওই দম্পতি লিখেছেন, এমন একটি পরিবার চাই যারা আমাদের মতো উপভোগ করতে চান। আড়াই তলা বাড়িটির মেরামতে রজার দম্পতি খরচ করেছেন দেড় লাখ ডলার। তা সত্ত্বেও বাড়িটির বর্তমান দামে ৫২ হাজার ৭০০ ডলার বলে ধরা হয়েছে। রজার দম্পতি ১৯৮৪ সালে বাড়িটি কেনেন। সাত বছর আগে এখানে একটি নতুন ভবন তৈরি করেন। সেটিই বিক্রি করতে চান। এপি।
ভারতের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন রাহুল গান্ধী। আনুষ্ঠানিকভাবে মা সোনিয়া গান্ধীর কাছ থেকে শনিবার দায়িত্ব বুঝে নিলেন তিনি। ভারতের রাজধানী নয়াদিলি্লর ২৪ আকবর রোডে কংগ্রেস পার্টির সদর দফতরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন রাহুল। সভাপতির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে রাহুল গান্ধী বলেন, 'আমরা ভারতকে একুশ শতকে নিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশকে মধ্যযুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বিজেপি।' সভাপতি হিসেবে বিদায়ী ভাষণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সোনিয়া গান্ধী। খবর এনডিটিভির। সোনিয়া গান্ধী প্রায় ২০ বছর ধরে ১৩২ বছরের পুরনো এ রাজনৈতিক দলটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন। নেহেরু-গান্ধী পরিবারের পঞ্চম প্রজন্মের সদস্য ৪৭ বছর বয়সী রাহুল গান্ধী। এর আগে তাকে একজন 'অনাগ্রহী রাজনীতিক' হিসেবে দেখতেন পর্যবেক্ষকরা। কিন্তু চলতি গুজরাট বিধানসভার নির্বাচনে দলীয় প্রচারণায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি সেই ইমেজ ভেঙে বেরিয়ে আসার চষ্টো করেছেন বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের। রাহুলের অভিষেক অনুষ্ঠান শুরুর আগে সকাল থেকেই কংগ্রেস কার্যালয়ে উত্সবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে। ড্রামের শব্দের পাশাপাশি লোকনৃত্য শিল্পীরা পতাকা ও ব্যানার নিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে মিছিল করে আসা দলীয় কর্মীদের স্বাগত জানাতে থাকেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রাহুল বলেন, বহু ভারতীয়র মতোই আমি একজন আদর্শবাদী। কংগ্রেসপ্রধান হিসেবে দেয়া প্রথম বক্তৃতায় আক্রমণাত্মক ভাষায় প্রধানমন্ত্রী মোদির সমালোচনা করেন রাহুল। তিনি বলেন, 'বিদ্বেষের আগুনকে একমাত্র কংগ্রেসই নিভিয়ে ফেলতে পারে। তারা (বিজেপি) ধ্বংস করে, আমরা সংস্কার করি। তারা জ্বালিয়ে দেয়, আমরা নিভিয়ে ফেলি। তারা ক্ষুব্ধ হয়, আমরা ভালোবাসি।
আমি আপনাদের বলতে চাই গোটা কংগ্রেস দল আমার পরিবার।' তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশকে পেছনে নিয়ে যাচ্ছেন। ভারতকে একুশ শতকে নিয়ে এসেছে কংগ্রেস। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমাদের মধ্যযুগে ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এর আগে নতুন সভাপতি রাহুলকে শুভেচ্ছা জানান বিদায়ী সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। বিদায়ী ভাষণ দেয়ার সময় সোনিয়া বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। আবেগাপ্লুত সোনিয়া বলেন, 'বিশ বছর আগে এমনই একদিনে সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলাম আমি। আজ কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে আমি শেষ ভাষণ দিচ্ছি। আপনাদের সামনে এক নতুন যুগ, নতুন নেতৃত্ব অপেক্ষা করছে।' এ কথাগুলো বলার পর সোনিয়ার কণ্ঠস্বর নিচু হয়ে আসে। এ সময় কিছুক্ষণ নীরব ছিলেন তিনি। তখনই মঞ্চে মা সোনিয়ার পাশে এসে দাঁড়ান পুত্র রাহুল। মায়ের কপালে একটি চুমু এঁকে দেন তিনি। সোনিয়া গান্ধী বলেন, 'রাহুল আমার ছেলে, তার প্রশংসা করা আমার উচিত নয়। আমি শুধু এটাই বলতে চাই যে, সে শৈশব থেকে সহিংসতার প্রকোপে পড়েছে। রাজনীতিতে যোগ দেয়ার পরে তাকে ব্যক্তিগতভাবে কঠোর আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। আমি তাকে এক শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করেছি। কোটি কোটি দেশবাসী ও যেসব কংগ্রেস কর্মী আমাকে ভালোবেসেছেন, এতদিন ধরে আমার সঙ্গ দিয়েছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।' গুরুত্বপূর্ণ এ সন্ধিক্ষণে দাঁড়ানো কংগ্রেস নতুন নেত্বত্বে এগিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। ১৯৯৮ সাল থেকে কংগ্রেসপ্রধানের দায়িত্বে থাকা ৭১ বছর বয়সী সোনিয়া গান্ধী শুক্রবার রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার কথা বলেন। এনডিটিভিকে এক সাক্ষাত্কারে বলেন, এখনই অবসরে যাওয়ার সময়। অসুস্থতার কারণে সমপ্রতি দলীয় সমাবেশ ও দলের অন্যান্য কর্মসূচিতে কমই উপস্থিত হয়েছেন তিনি। কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদ্বীপ সূর্যেওয়ালা বলেন, 'সোনিয়া দলের সভাপতিত্ব থেকে অবসর নিচ্ছেন, রাজনীতি থেকে নয়।' সোনিয়া কংগ্রেস দলের পার্লামেন্টারি অংশের নেতৃত্ব দেবেন বলে ধারণা পর্যবেক্ষক মহলের। তবে সোনিয়া আবারও নির্বাচনে লড়বেন বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্র। তিনি বলেন, 'আমি নই, রায়েরবেরেলি থেকে মা আবার লড়বেন। আমার দেখা নারীদের মধ্যে মা সবচেয়ে সাহসী।' ২০০৪ সাল থেকে ওই আসনে জয়ী হয়ে আসছেন সোনিয়া। রাহুল গান্ধী দলীয় সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মনমোহন সিং বলেন, 'কংগ্রেসের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক দিন। রাহুল দেশবাসীর সমস্যা জানেন। আমি আশা করছি রাহুলের নেতৃত্বে কংগ্রেস এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।' কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা গুলাম নবী আজাদ বলেন, 'আমি নিশ্চিত যে তিনি দলীয় সভাপতি হিসেবে প্রমাণিত হবেন। দেশ যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তিনি তার মোকাবেলা করতে সক্ষম হবেন।' কংগ্রেসের মুখপাত্র সূর্যেওয়ালা বলেন, 'রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসকে আবারও রাষ্ট্র নির্মাণের নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে।'
প্রাচীনকালে এ দেশে শিক্ষকদের ‘গুরু’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। আর ছাত্রছাত্রীদের অভিহিত করা হতো শিষ্য হিসেবে। বর্তমানে প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার বিদ্যাপীঠ পর্যন্ত কোথাও শিক্ষকদের গুরু বলা হয় না। তার মানে, আগের দিনের সেই গুরু প্রথা বাতিল হয়ে গেছে। শিষ্য প্রথাও বিলুপ্ত প্রায়। সময় দ্রুত এগিয়ে চলেছে। শিক্ষক থেকে আরম্ভ করে সবাই রাতারাতি বড়লোক হতে চান। আর এ জন্যই দেশের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো আজ লাল, সবুজ, হলুদ, কালো, গোলাপি, বেগুনি দলে বিভক্ত। আর তদানুযায়ী শিক্ষকদের মাঝেও বিভক্তির অভাব নেই। এ বিভক্তি এত দ্রুত ধাবমান যে, শ্রেণীকেন্দ্রিক উন্নত শিক্ষা প্রদান বাদ দিয়ে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষকই নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত, ব্যস্ত নানামুখী প্রচার আর প্রপাগান্ডা নিয়ে। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলতে পারি, যেখানে বর্তমানে একটি বিভাগীয় প্রধান যিনি একদম অসততার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন, অবৈধ প্রভাব খাটিয়েছেন এবং ছাত্রছাত্রীদের মগজ ধোলাই করাসহ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্বৃত্তায়ন করে চলেছেন। ওই একই বিভাগের আরেক শিক্ষক মিথ্যা ছাড়া সত্য বলেন না বললেই চলে এবং তিনি বহাল তবিয়তে বর্তমানে প্রক্টরের দায়িত্বও পালন করে চলেছেন। তাদের অসৎ কর্মকাণ্ডে উসকানিদাতা উপ-রেজিস্ট্রার যিনি গার্মেন্টের শ্রমিক নেতার মতো আচরণ করেন প্রায়ই। পরিচালনা পর্ষদের চার সদস্যের মধ্যে সবাই অন্যায় ইচ্ছা বাস্তবায়নে বিশ্বাসী ও নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, যাদের অন্যায়-অনাচার আর পাপের বোঝা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। বর্তমান সরকারবিরোধী হয়েও অনেকে ব্যস্ত কী করে কূটনৈতিকপাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে নানা পদের মিষ্টি বিলিয়ে স্বপদে বহাল তবিয়তে থাকা যায় তা নিয়ে। অথচ, অনেক আগেই সিদ্ধান্ত ছিল যে, কূটনৈতিকপাড়ায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা চলবে না। এমনকি এ বিত্তশালীরা সাবেক এক উপাচার্যের ন্যায্য পাওনার প্রায় আট লাখ টাকা দিচ্ছেন না; উকিল নোটিশ পাঠিয়েও ফল হচ্ছে না। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের চরম অসৎ ও দুর্নীতিবাজ ডেপুটি ডিরেক্টররা পরিচালনা পর্ষদের ছত্রছায়ায় দুর্নীতিতে মগ্ন। আসলে শিক্ষা যখন বেনিয়া হয়ে উঠে, তখন ইউজিসি শত চেষ্টা করলেও তাদের আটকানোর কোনো সহজ পথ খুঁজে পান না। ইউজিসির বর্তমান চেয়ারম্যান যতই শিক্ষার মান উন্নত করার জন্য প্রয়াস নিতে চান না কেন, একটি জায়গায় এসে তিনি হয়তো সীমাবদ্ধতা ঠিকই টের পেয়ে যান। টাঙ্গাইলে চলে যাওয়ার নির্দেশ সত্ত্বেও কেবল ক্ষমতার দাপটে ওই বিশ্ববিদ্যায়টি এখনও কূটনৈতিক পাড়ায় চলছে। উকিল নোটিশের জবাব কিংবা প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান চেয়ারম্যানকে বললে, নানা দোহাই দেন। বলেন, ‘আমি তখন পরিচালনা পরিষদে ছিলাম না’। সুশীল সমাজের লোক যখন কুশীল সমাজের কাজ করেন, নয়ছয় করেন, তখন বলার আর কিছুই থাকে না। বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে চলতি বছরের শেষভাগে অ্যাসেসভিশন কাউন্সিল স্থাপন করার। সম্প্রতি শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য সরকার কর্তৃক আয়োজিত হেক্যাপ প্রকল্পের আওতায় (যা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রচলিত হচ্ছে) অন্যতম ভালো কাজ ছিল ৬৯টি বেসরকারি-সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইকিউসি স্থাপন করা। এর মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৮টি।
৩৮টির মধ্যে আবার আইকিউসির কার্যক্রম বাস্তবায়নে মূল সমস্যা হচ্ছে, আইকিউসির পরিচালকদের পদমর্যাদা কী হবে। থাইল্যান্ডে আইকিউসির ডিনের পদমর্যাদা হচ্ছে Vice President মর্যাদায়। এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশে দাঁড়াচ্ছে উপ-উপাচার্য সমকক্ষের। কিন্তু এটি করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোয় যে পরিবর্তন করতে হয়, সেটি কিন্তু সংসদে পাস হয়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে সংযুক্ত হওয়া দরকার। আর ডিরেক্টর আইকিউসিকে রিপোর্ট করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে। কিন্তু সমস্যা হল মাঝখানের স্তরগুলো ( যেমন : রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার, উপ-উপাচার্য) নাখোশ হন। একই অবস্থা বেসরকারি খাতেও। তারপরও ইউসিজি এবং কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ইউনিট তাদের আন্তরিকতায় কাজ করে চলেছে। এ কাজগুলো অবশ্যই এককেন্দ্রিকভাবে করা প্রয়োজন। বিচ্ছিন্নভাবে করলে চলবে না। যিনি কোয়ালিটি নিয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কাজ করে চলেছেন, তাকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে। Right Man in the Right Place-এ- এই নীতির বাস্তবায়ন দরকার এ ক্ষেত্রে। এখন কৌশলগত শিক্ষা পদ্ধতি কেমন হবে? যদি মনে করি, অ্যারাবিকের শিক্ষক যিনি নিজে কোর্স কারিকুলাম নিয়ে কখনও কাজ করেননি, তিনি যদি তা উপস্থাপন করেন তখন হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হবে। Plan-Do-Check-Act এ ক্ষেত্রে কেবল খাবি খেতে থাকবে। ‘অটিজম’-এ আক্রান্ত ছাত্রছাত্রীদের কীভাবে শিক্ষকরা উবধষ করে কর্ম উপযোগী শিক্ষার ব্যবস্থা করবেন, সে জন্য একটি মডিউল তৈরি করা হয়েছিল। ইউজিসির চেয়ারম্যান সেটি উদ্বোধন করেছিলেন; কিন্তু বর্তমানে তা নানা কারণে স্থগিত রয়েছে। আসলে যে কোনো কাজের ধারাবাহিকতা থাকা বাঞ্ছনীয়। আইকিউসির ক্ষেত্রে একই ধরনের সমস্যা হতে পারে। আগামী ২০১৯-এ হেক্যাপ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। আইকিউসির মতো উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, Outcome based teaching-learning প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু করা প্রয়োজন। অ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতিতে উন্নয়ন করা, শিক্ষা পদ্ধতিকে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগীকরণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীতকরণ একটি বৈপ্লবিক চিন্তা-চেতনার কাজ। কিন্তু প্রকল্প শেষ হলে আর দশটা সাধারণ প্রকল্পের মতো এটি যে মাঝ পথে থেমে যাবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়? যদিও বর্তমানে ইউজিসি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বলতে পারে যে, প্রকল্প মেয়াদ শেষ হলেও আইকিউসির মতো কার্যক্রম চালু রাখা দরকার। আর বেসরকারিগুলোকে বলতে পারে যে, আইকিউসির কার্যক্রম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এর আওতায় ইন্টারনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স হিসেবে চালুকরণ প্রয়োজন। বর্তমানে দুটো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্বউদ্যোগে আইকিউসি চালু করেছে। কিন্তু আর যারা করেনি, তাদের কী হবে?
আবার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে স্বায়ত্তশাসনের জিগির তোলে, তার কী হবে? বস্তুত তারা কি স্বায়ত্তশাসনের দোহাই দিয়ে প্রকল্প শেষ হলে নিজস্ব অর্থায়নে আইকিউসি রাখতে দেবে? বিভিন্ন দেশে দেখা যায়, আইকিউসি অ্যাকচুয়েলি ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্সের কার্যক্রমে সমন্বয় করে থাকে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাগ্রো বেজড ডিপার্টমেন্টে প্রফেসর ড. সঞ্চয় কুমার অধিকারীর নেতৃত্বে যে স্টাডিটি হয়েছিল, সেখানে অনেক ভালো দিকনির্দেশনা ছিল। আসলে বাংলাদেশের জন্য ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করে পার্লামেন্টে আইন হিসেবে পাস করা দরকার। তেমনি বর্তমান সরকারের একটি ভালো প্রকল্প আইকিউসি। আর এটি যেন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বহাল থাকে, কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারে, সে জন্য উদ্যোগ থাকাসহ এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা বাঞ্ছনীয়। কারণ, চিঠিপত্র লিখে এ দেশে খুব কমই কাজ হয়। একজন দক্ষ শিক্ষাবিদ হিসেবে ইউজিসির বর্তমান চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীকে এ ব্যাপারে বোঝাতে পারেন। এ দেশে বহুরূপীর সংখ্যা কম নয়। ক্ষণে ক্ষণে যারা রং পাল্টায়। বিপরীতে যারা সাচ্চা মানুষ এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করছেন তারা বাস্তবতা বুঝে ব্যবস্থা নিতে পারেন। এখন পর্যন্ত শিক্ষা আইন ২০১৬-এর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রাইমারি, সেকেন্ডারি, হায়ার সেকেন্ডারি, আন্ডার গ্র্যাজুয়েট এবং পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট একই সূত্রেগাঁথা। একটি গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি, সরকারের চেষ্টা সত্ত্বেও প্রাইমারি থেকে হায়ার সেকেন্ডারি পর্যন্ত শিক্ষার উন্নতিতে প্রধান অন্তরায় অনেক শিক্ষক বিদ্যাপীঠে কাজ-কর্মে ফাঁকি দিতে সর্বদা ব্যস্ত। আর এসব কালো শিক্ষকদের জন্য ভালো শিক্ষকরা কাজে-কর্মে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কেননা, কালো শিক্ষকরা আবার একজোট হয়ে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ন্যক্কারজনক ও জঘন্য ঘটনার সঙ্গেও কোনো কোনো শিক্ষকের সম্পৃক্ততা রয়েছে। কিছু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিভাগ আর কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মদদে শিক্ষার্থীরা মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদে উৎসাহিত হচ্ছে। এসবে সংশ্লিষ্ট সঠিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। অন্যের গবেষণা প্রবন্ধ কাট-পেস্ট করে অনেক শিক্ষক প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। শিক্ষককে সততা ও নৈতিক বলে বলীয়ান হওয়া দরকার। আসলে শিক্ষকরা যখন নৈতিকভাবে দুর্বল হয়, মিথ্যা বলেন, পরনিন্দা করেন, অর্ধসত্য বলেন, তখন তাদের কি আর শিক্ষক বলা যায়? বস্তুত, বর্তমান শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-প্রশিক্ষণ এবং নানমুখী পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি দুষ্টু কর্মকর্তা এবং শিক্ষকদের প্রমাণ সাপেক্ষে ছাঁটাই করাসহ তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। এরা রক্ত-বীজের মতো একজন থেকে সৃষ্টি করে লক্ষ জন। এদের দ্বারা যেন আমাদের আগামী প্রজন্ম কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিক অবশ্যই ভালোভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।
প্রফেসর ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী: শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ
pipulbd@gmail.com
আরেকটি সৌরজগতের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ সৌরজগৎটি আমাদের সৌরজগতের মতোই বিভিন্ন গ্রহ ও উপগ্রহ নিয়ে গঠিত। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধানী দূরবীক্ষণ যন্ত্র কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবটের সাহায্যে এ নতুন সৌরজগতের সন্ধান পেয়েছেন। এএফপি। এক বিবৃতিতে নাসা জানিয়েছে, ‘আমাদের সৌরজগতে একটি নক্ষত্র বলয়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রহ সংযুক্ত রয়েছে। আর নতুন সৌরজগৎ দেখতে আমাদের সৌরজগতের মতোই। একে আমাদের সৌরজগতের ছোট সংস্করণ বলা যেতে পারে।’ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও অস্টিনে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের অধ্যাপক অ্যান্ড্রিউ ভানদারবার্গ বলেন, ‘নতুন এ সৌরজগতের নক্ষত্র হল কেপলার-৯০। এর বলয়ে সাতটি গ্রহের সন্ধান আগেই পাওয়া গিয়েছিল। গ্রহগুলো নক্ষত্রের বেশ কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। এবার একটি নতুন গ্রহের সন্ধানও পাওয়া গেছে। কেপলার-৯০ আই নামের ওই গ্রহটি পৃথিবীর মতো পাথুরে গ্রহ। গ্রহটি ১৪.৪ দিনে তার নক্ষত্র প্রদক্ষিণ করে। এখানে তাপমাত্রা অনেক বেশি।’ নাসা বলছে, নতুন গ্রহটির সন্ধান পাওয়ায় বলা যায়, এই সৌরজগতের কক্ষপথ ঠিক আমাদের মতো। এই সৌরজগতেও ৮ গ্রহ সাজানো রয়েছে আমাদের সৌরজগতের মতো। নাসা জানিয়েছে, নতুন সন্ধান পাওয়া গ্রহ কেপলার-৯০ আইয়ের তাপমাত্রা প্রায় ৮০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। গ্রহটি সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকা বুধ গ্রহের মতোই উত্তপ্ত। উল্লেখ্য, ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধান পেতে ২০০৯ সালে কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ মহাকাশে পাঠিয়েছিল নাসা। এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার নক্ষত্র অভিবীক্ষণ করেছে কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ। পৃথিবীর মতো ‘বাসযোগ্য’ প্রায় আড়াই হাজার ভিনগ্রহ আবিষ্কার করেছে কেপলার।
গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর সংঘর্ষে এক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে শতাধিক। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজের পর ইসরাইলি এক সেনার গুলিতে ওই ফিলিস্তিনি যুবকের মৃত্যু হয়ে বলে জানিয়েছে বিবিসি। খবরে বলা হয়, গাজা উপত্যকার পূর্ব ও উত্তর সীমান্ত অঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তবে ইসরাইলের পুলিশ বলছে, পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরে এক ইসরাইলি পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত করেন এক ফিলিস্তিনি। পরে ওই ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরা্ইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বকে আরো সংকটময় করবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফিলিস্তিন ও ইসরাইল—দুটি দেশই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। দীর্ঘ সময় ধরে এই শহরটি নিয়ে দুটি দেশের মধ্যে সংঘাত চলে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম দেশ, যে এই স্বীকৃতি দিল। এর প্রতিবাদ জানিয়েছে আরব ও ইসলামি বিশ্ব। এর সমর্থন দেয়নি যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্ররাও।
না, এখানে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটা খুব ভালো করেই জানা আছে যে কংগ্রেস পার্টি হতাশাজনকভাবে নেহরু-গান্ধী বংশের ওপর নির্ভরশীল। কংগ্রেস সভাপতির পদে রাহুল গান্ধীকে মনোনীত করাটা প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু কংগ্রেসের নেতা মণি শংকর আয়ার এ ঘটনায় আরেকটি মাত্রা দিয়েছেন। তিনি রাহুলের এই মনোনয়নকে মোগল রাজবংশের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, রাজার পুত্র সব সময় রাজাই হবে। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু তাঁর মেয়ে ইন্দিরা গান্ধীকে যখন কংগ্রেসের সভাপতির পদের জন্য প্রস্তুত করে তুলছিলেন, সেই সময় কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটিতে দলের তৎকালীন সভাপতি ইউ এন ধীবর ইন্দিরা গান্ধীর নাম প্রস্তাব করেন, কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দ বল্লভ পন্থ বলেছিলেন যে ইন্দিরার স্বাস্থ্যের অবস্থা যেহেতু ভালো নয়, কাজেই তাঁকে এ দায়িত্ব দিয়ে বিরক্ত করা উচিত হবে না। নেহরু তখন তাঁর এই মন্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেছিলেন যে তাঁর নিজের এবং পন্থের তুলনায় ইন্দিরার স্বাস্থ্য অনেক ভালো। এরপর ইন্দিরা দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। রাহুলকে সভাপতি করার ব্যাপারে কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধীও কোনো ভিন্নমত পোষণ করেননি। তিনি সোজা তাঁর ছেলেকে সভাপতির আসনে বসান। তবে একটি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল যে, সোনিয়া হয়তো তাঁর মেয়ে প্রিয়াঙ্কার নাম ঘোষণা করতে পারেন, কারণ রাহুল কোনোভাবেই নিজেকে তুলে ধরতে পারছেন না। তবে অন্যান্য ভারতীয় মায়ের মতো তিনি উত্তরাধিকার হিসেবে ছেলেকেই বেছে নেন। সভাপতি পদে রাহুল গান্ধীর মনোনয়নকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, এর মধ্য দিয়ে একটি নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে। আরেক কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং বলেন, সোনিয়া গান্ধী ও কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্তে সভাপতির পদে রাহুলকে বসানো হয়েছে। দিগ্বিজয় সিং আরও বলেন, কংগ্রেসের তৃণমূল নেতা-কর্মীরাও এমনটিই চাইছিলেন। হ্যাঁ, এটা তৃণমূল নেতা-কর্মীদের একটি অভিন্ন ইচ্ছা। প্রকৃতপক্ষে এখন ১০ জনপথ থেকে দলের কার্যক্রম চালানো হবে, যেমনটি চালানো হয়েছিল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধীর আমলে তিন মূর্তি অথবা সফদরজংয়ের বাসভবন থেকে। যেদিন সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত হন এবং ড. মনমোহন সিংকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়, সেদিন আমি পার্লামেন্টের কেন্দ্রীয় হলে ঘটনার সাক্ষী ছিলাম। তখন দলের সদস্যরা কাঁদছিলেন। তাঁরা বলছিলেন যে সোনিয়া গান্ধীরই প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত। কিন্তু তখন সোনিয়া নিশ্চুপ ছিলেন, কারণ তখন থেকেই তাঁর মনে ছিল ছেলের চিন্তা এবং তিনি যদি সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী হতেন, তখন এটিকে একটি সাজানো মঞ্চনাটকের মতো দেখাত। এমনকি ড. মনমোহন সিংও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, রাহুল গান্ধীর জন্য চেয়ারটা ছেড়ে দিতে হলে তিনি খুশিই হবেন। যাহোক, দেরি করে হলেও রাহুলের সভাপতি হওয়ার সুযোগ হয়েছে; বিশেষ করে সোনিয়া গান্ধীর দুর্বল স্বাস্থ্যের কারণে রাহুল গান্ধীর দলের ভার গ্রহণ করাটা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতাকে নামফলকে পরিণত করেছেন। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রকাশ্যে হিন্দুত্ববাদের কথা না বললেও এটা পরিষ্কার যে, ২০১৯ সালের নির্বাচনে কেবল হিন্দুত্ববাদের স্লোগান নিয়ে মাঠে নামবে দলটি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সত্য গোপন করেননি যে তিনি নাগপুরে আরএসএস সদর দপ্তরে যান এবং মহারাজ ভাগওয়াতের মতো নেতাদের কাছ থেকে পথনির্দেশ চান। তাঁর ‘সাব কা সাথ, সাব কা বিকাস’ স্লোগানটি এখন নিছক একটি স্লোগান বলেই প্রমাণিত হয়েছে। এখন মুসলমানরা আর তাঁর পরিকল্পনা বা কর্মসূচিকে গণনার মধ্যে আনে না এবং এটা খুবই দুঃখজনক যে তারা নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
উত্তর প্রদেশের নির্বাচনে বিপুল বিজয় এটা প্রমাণ করেছে যে কীভাবে বিজেপি এই রাজ্যের ক্ষমতা হস্তগত করেছে। এটা স্পষ্ট যে এই দলটি জনগণকে জানাতে চেয়েছিল যে তারা কোনোভাবেই মুসলিম ভোটারদের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। সদ্য শুরু হওয়া গুজরাট নির্বাচনের আগে মোদি এটা স্পষ্ট করে দেন যে যিনি গুজরাটে জয় পাবেন, তিনি ভারতের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করবেন। এই রাজ্যে বিজেপির একটানা প্রায় ২৩ বছরের শাসন অক্ষুণ্ন রাখতে অক্লান্ত প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে গুজরাট দখলে আনার মরিয়া চেষ্টায় রীতিমতো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধীও। তবে এখন পর্যন্ত রাহুল গান্ধীর রেকর্ড কোনো দিক থেকে চিত্তাকর্ষক নয়। তিনি উত্তর প্রদেশসহ অনেক নির্বাচনে লড়াই করেছেন। উত্তর প্রদেশ নির্বাচনের সময় তিনি সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের সঙ্গে জোট বেঁধেছিলেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তারা বিজেপির কাছে শুধু পরাজিতই হয়নি, এই নির্বাচনে কংগ্রেসের অবস্থান চতুর্থ স্থানে নেমে আসে। এখন গুজরাটের নির্বাচনে তাঁর জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে হবে। যদি তিনি তা করতে ব্যর্থ হন, তবে বোঝা যাবে যে তিনি নিজে নিজে আর কোনো জয় পাবেন না। যদি তিনি কংগ্রেসকে ক্ষমতায় দেখতে চান, তাহলে তাঁকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে দলকে টেনে তোলার কোনো ক্ষমতা রাহুলের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। তবে এ অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে। আমরা ইন্দিরা গান্ধীকে দেখেছি, যিনি ‘গুঙ্গি গুড়িয়া’ বা ‘বোবা পুতুল’ নামে পরিচিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সবার এমনকি বিরোধীদেরও মন জয় করেন। তাঁর ছেলে রাজীব গান্ধী, যিনি রাষ্ট্রপতি জৈল সিংয়ের চাপে পড়ে প্রধানমন্ত্রী হন, তাঁকেও সবাই মেনে নিয়েছিলেন। তাহলে রাহুল গান্ধীকেও মেনে না নেওয়ারও কোনো কারণ নেই। তবে এটা নির্ভর করবে তিনি দলকে কীভাবে টেনে তুলবেন এবং নির্বাচনে জেতাতে পারবেন, তার ওপর। এই সময়ে এটা করা কঠিন হবে বলেই মনে হচ্ছে; কারণ, ধর্মনিরপেক্ষতাকে পটভূমি করা হয়েছে যখন কিনা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে হিন্দুত্ববাদের আদর্শ। এটি খুবই দুঃখের বিষয় যে একটি দেশ যা বহুত্ববাদের ওপর ভর করে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে, সেই দেশ স্বাধীনতার মূল্যবোধ অনুসরণ করতে সক্ষম হয়নি।
অনুবাদ: রোকেয়া রহমান।
কুলদীপ নায়ার: ভারতীয় সাংবাদিক।
গত সোমবার সকালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বোমা হামলায় কেউ মারা যায়নি—এটা স্বস্তির বিষয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের ওপর এ রকম চোরাগোপ্তা হামলার প্রবণতা যে বন্ধ হচ্ছে না, তা যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই এবং শান্তিকামী সব মানুষকে অশুভ সন্ত্রাসবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাই। সন্দেহভাজন বোমা হামলাকারী ব্যক্তি একজন অভিবাসী বাংলাদেশি—এই তথ্য যারপরনাই দুর্ভাগ্যজনক। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নয়, খোদ বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও বাংলাদেশি সমাজের জন্যও। আমরা উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত হতে চাই, যদিও আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশকে ‘মধ্যপন্থী মুসলিম দেশ’ বলে বর্ণনা করে থাকে। আমাদের এই ভাবমূর্তিও যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের জোরের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে সন্দেহভাজন হামলাকারী আকায়েদ উল্লাহ বাংলাদেশ, বাংলাদেশি বা মুসলমান সম্প্রদায়—এসবের কোনো কিছুরই প্রতিনিধিত্ব করেন না। এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটায় তারা বিচ্ছিন্ন সমাজবিরোধী, মানবতাবিরোধী অশুভ শক্তির প্রতিনিধি, যে শক্তিকে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে।
আমেরিকান সমাজে এবং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই হামলার সম্ভাব্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া ভাবনার বিষয়। ঘটনার পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর দেশে বিদ্যমান অভিবাসনব্যবস্থার ‘ভয়ংকর ক্ষতিকর’ দিকের কথা পুনরুল্লেখ করে বলেছেন যে তিনি এই ব্যবস্থা উন্নত করতে বদ্ধপরিকর, যেখানে ‘আমাদের দেশ’ ও ‘আমাদের জনগণের’ স্থান হবে সবকিছুর আগে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসননীতির বিরুদ্ধে আমেরিকান সমাজে প্রবল প্রতিবাদ আছে। কেননা তা সংকীর্ণ, বহুত্ববাদী নীতির প্রতিকূল এবং বর্ণবাদী বৈষম্যমূলক। অন্যদিকে এই সংকীর্ণতার পক্ষে কিছু সমর্থনও সে দেশে আছে। এ রকম পরিস্থিতিতে অভিবাসী সম্প্রদায়ের কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির দ্বারা সন্ত্রাসবাদী হামলা পরিচালিত হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকদের অভিবাসনবিরোধী অবস্থান জোরদার করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আর হামলাকারীরা ইসলাম ধর্মাবলম্বী হলে পুরো মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্যই বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাই আকায়েদ উল্লাহর মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রবল সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত। কিন্তু কাজটা যে খুব সহজ নয়, তা বেশ স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী আকায়েদ উল্লাহ পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে তিনি হামলা চালাতে চেয়েছেন ইসলামিক স্টেটের ওপর মার্কিন বাহিনীর হামলার প্রতিশোধ নিতে। ইতিমধ্যে ইসলামিক স্টেটের মূল ঘাঁটির পতন ঘটেছে এবং সংগঠনটি অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কিন্তু আকায়েদ উল্লাহর মতো ‘লোন উলফ’ বা ‘একাকী নেকড়ে’দের নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন। সেই কঠিন কাজটা সবাই মিলে করতে হবে।
যে দেশে প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার নারী, সে দেশে নারীকে ফসলের মাঠে কাজ করতে না যাওয়ার ফতোয়ার খবরটি একই সঙ্গে আমাদের উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ করেছে। আমরা আরও বিস্মিত হয়েছি যে এই নারীবিদ্বেষী প্রচারণা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের নীরবতা দেখে। গতকাল প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, নারীদের ফসলের মাঠে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কল্যাণপুর জামে মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। মসজিদ পরিচালনা কমিটির যে বৈঠকে এই বেআইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে ইমাম ছাড়াও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য পদাধিকারীও উপস্থিত ছিলেন। অতএব, এটিকে ব্যক্তিবিশেষের সিদ্ধান্ত হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। নারীরা ফসলের মাঠে গেলে ফসল চুরি ও অসামাজিক কাজ হয় বলে মসজিদ কমিটি দাবি করলেও তার পক্ষে কোনো তথ্য–প্রমাণ দিতে পারেনি। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে, তা তিনি নারী হোন বা পুরুষ হোন তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার নেওয়ার বিধান আছে। মসজিদ কমিটি কারও বিরুদ্ধে তথ্য–প্রমাণ না দিয়ে ঢালাও অভিযোগ এনে নারীদের মাঠে যাওয়ার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, সেটি কেবল অনৈতিক নয়, আইনের চোখেও অন্যায়। স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবিষয়ক বৈঠকে তোলার কথা বলেছেন। এ রকম একটি গুরুতর বিষয়ে বৈঠক পর্যন্ত অপেক্ষা করার যুক্তি আছে বলে আমরা মনে করি না। দেশের সংবিধান নারী-পুরুষনির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিককে অবাধে চলাচলের অধিকার দিয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কাউকে বাধা দিলে সেটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেই গণ্য হবে। অতএব, প্রশাসনের দায়িত্ব হবে কল্যাণপুর জামে মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। এ ধরনের ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে ধর্ম কিংবা সমাজ কোনোটাই নিরাপদ নয়। দ্বিতীয়ত, নারীরা যাতে নির্বিঘ্নে মাঠে যেতে পারেন, সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের জানা উচিত, সমাজটা শুধু পুরুষের একার নয়, নারীদেরও সমান অধিকার আছে।
শারমিন সুলতানা ফুটপাতে নাক চেপে হাঁটছেন। তাঁর সামনের পথচারী হাঁটতে হাঁটতে ধূমপান করছেন। পেছনের পথচারীদের মুখে সে ধোঁয়ার ঝাপটা লাগছে। খারাপ লাগলেও কেউ কিছু বলছেন না। শারমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফুটপাতে হাঁটার সময় বা রাস্তায় বাসের জন্য দাঁড়ালে অনেক সময় সিগারেটের ধোঁয়া খেতে হয়! ক্ষতি হলেও করার কিছু থাকে না।’ সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে উন্মুক্ত স্থানে ধূমপানের আধিক্য চোখে পড়েছে। ফুটপাতে, পার্কে, মার্কেটের সামনে—যেখানে জনসমাগম সেখানেই দেখা গেছে কেউ না কেউ ধূমপান করছে। অনেক সময় ফুটপাতে হাঁটার সময় ধূমপায়ীর হাতে থাকা সিগারেটের আগুন অন্য পথচারীদের হাতে, গায়ে লাগছে। চোখ শক্ত করে একবার তাকানো ছাড়া আর কিছু করার থাকে না বলে জানালেন একাধিক ভুক্তভোগী। আইন অনুযায়ী, জনপরিসরে বা উন্মুক্ত স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ। কেউ এমন স্থানে ধূমপান করলে অনধিক ৩০০ টাকা জরিমানা করার বিধান আছে। একই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে তিনি দ্বিগুণ হারে দণ্ডিত হবেন। আইনে সিগারেটের দোকান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০ গজ দূরে থাকতে হবে বলে বলা হয়েছে। সম্প্রতি এই আইন না মানার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫–এর ২(চ) ধারা অনুসারে পাবলিক প্লেস বলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস; গ্রন্থাগার, লিফট, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, আদালত, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, নৌবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, প্রেক্ষাগৃহ, প্রদর্শনী কেন্দ্র, থিয়েটার হল, বিপণিবিতান, রেস্টুরেন্ট, পাবলিক টয়লেট, শিশুপার্ক, মেলা বা পাবলিক পরিবহনে আরোহণের জন্য যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সারি, জনসাধারণের সম্মিলিত ব্যবহারের স্থান বোঝায়। অন্তত ১০ জন পথচারী নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা ধূমপান নিয়ন্ত্রণে আইন আছে শুনেছেন, কিন্তু প্রয়োগ হতে দেখেননি। তাঁরা বলেন, ধূমপায়ীরা স্থান-কাল মানেন না। অনেক সময় হাতে সিগারেট লেগে পুড়ে যায়। শহরের যেখানে–সেখানে লোকসমাগমের জায়গায় সিগারেটের দোকান, ভ্রাম্যমাণ দোকানে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পাওয়া যায়। তাঁরা মনে করেন, মানুষের কাছে সহজলভ্য হয়ে গেছে বলে ধূমপানের হার বাড়ছে। ধূমপায়ীরা যে ধোঁয়া ছাড়েন, তা নিশ্বাসের সঙ্গে অন্যের শরীরে ঢুকে পড়ে। এটা পরোক্ষ ধূমপান। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত নিকোটিন অ্যান্ড টোব্যাকো রিসার্চ সাময়িকীতে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার: ঢাকা, বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রকাশিত এক জরিপে বলা হয়েছে, ৮৭ শতাংশ শিশু বলেছে, তারা সম্প্রতি জনপরিসরে (পাবলিক প্লেস) তথা দোকানে, রাস্তায় পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়েছে। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের ৪০ শতাংশ শিশু পরোক্ষ ধূমপানের শিকার। অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, যিনি বা যাঁরা পেশাদার ধূমপায়ীদের সঙ্গে বসবাস করেন, তাঁদের হৃদ্‌রোগ এবং ফুসফুস ক্যানসার হওয়ার প্রবণতা অন্যদের তুলনায় অন্তত ৩০ গুণ বেড়ে যায়। চিকিৎসকেরা বলেন, পরোক্ষ ধূমপান শিশুদের শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির অন্যতম প্রধান কারণ। এ বিপদ থেকে শিশুদের রক্ষার জন্য ব্যাপক জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। তবে ধূমপান করার ফলে অধূমপায়ী ব্যক্তির অসুবিধা হলেও ভুক্তভোগীর এ নিয়ে অভিযোগ জানানোর সুযোগ নেই। অবশ্য মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয় বলে জানিয়েছেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী মো. রুহুল কুদ্দুস। তামাকবিরোধী সংগঠন প্রত্যাশার সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ বলেন, ‘যাত্রীছাউনিসহ সব জায়গাই পাবলিক প্লেস। এ নিয়ে আমরা কিছু বলি না। মনে করি, এটা কোনো সমস্যা না। অথবা বললে ওই ব্যক্তি কী মনে করেন বা বলতে গিয়ে কী বিপদে পড়ি—এসব সাতপাঁচ ভেবে চুপ করে থাকি।’ হেলাল আহমেদ বলেন, একজন পুলিশকে অভিযোগ জানাতে পারবেন। কিন্তু দেখা যায়, পুলিশ নিজেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে ধূমপান করছে। আইন বাস্তবায়ন করতে গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতকেও অনেক বাধাবিপত্তি পেরোতে হয়। সরকারের যুগ্ম সচিব ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী মো. রুহুল কুদ্দুস প্রথম আলোকে বলেন, ধূমপান নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
তবে বর্তমানের আইনে এমন কোনো বিধান নেই, যার আওতায় কোনো ব্যক্তি অভিযোগ জানাতে পারেন বা জরিমানা চাইতে পারেন। রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আইন আরও কঠোর করতে তামাক ও জর্দাজাতীয় দ্রব্য বিক্রির বিষয়টি লাইসেন্সের আওতায় আনা যেতে পারে। তাতে যেখানে–সেখানে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি কমতে পারে। এখন আইনের যেসব দুর্বলতা আছে, সেগুলো সংশোধন করে আরও কঠোর করার ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার সৈয়দ মাহফুজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ‘পাবলিক প্লেস’–এর সংজ্ঞা নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি আছে। আইন অনুযায়ী, প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধ নয়। একজন ব্যক্তি খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে ধূমপান করতে পারেন। সুতরাং যখন খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে কেউ ধূমপান করেন এবং তা কারও ক্ষতি না করে, তা আইন অনুযায়ী অপরাধ বলা যাবে না। তবে যদি দেখা যায় ফুটপাতে লোকজন আছে, সেখানে একজন ধূমপান করলে তিনি আইন অনুযায়ী অন্যের ক্ষতি করছেন। মাহফুজুল হক বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মাঝামাঝি অবস্থায় আছে বলা যায়। অর্থাৎ খুব ভালোও নয়, আবার খারাপও নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে আগের চেয়ে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ও পাবলিক প্লেসে ধূমপানের হার কমেছে। দু-একজন চালক বাসে ধূমপান করলেও বাসে ধূমপান তুলনামূলক কমেছে। বাংলাদেশের যে কেউ যেকোনো দোকানে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করতে পারে। ধূমপানের সামগ্রী বিক্রি করতে গেলে কোনো অনুমোদন লাগে না। এ জন্য আলাদা লাইসেন্স নিতে হবে আইনে এমন কোনো ধারা নেই। এটিও ধূমপান নিয়ন্ত্রণে পরোক্ষভাবে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে ইদানীং আলাপ হচ্ছে, আইনে এই ধারা সংযুক্ত করা হতে পারে। তখন হয়তো জনসমক্ষে ধূমপান কমে যাওয়া এবং তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করেন মাহফুজুল হক।
লাল ইটে ঠিকরে পড়ছে দুপুরের রোদ। ছড়াচ্ছে বর্ণিল আলো। কৃষ্ণচূড়া, শিমুলের পাতায় মৃদু দুলুনি। এর মধ্যেই ঝাড়-পোঁছের কাজ করছেন একদল নারী-পুরুষ। দম ফেলার ফুরসত নেই। স্মৃতিসৌধটি ঝকঝকে করার কঠিন দায়িত্ব তাঁদের কাঁধে। বরাবরের মতো শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসকে ঘিরে বছরে একবারই ধোয়ামোছার কাজ চলে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে। বাকি সময় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে। হকার আর ছিন্নমূলদের রাজত্ব। মাদকসেবীদের আড্ডাও বসে। রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রোকাইয়া হাসিনা মিলি শহীদ বুদ্ধিজীবী রাশীদুল হাসানের মেয়ে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারা বছর স্মৃতিসৌধের যে অবস্থা থাকে, তাতে উপেক্ষা এবং অবহেলা স্পষ্ট। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারের জন্য এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও কষ্টকর।’ গতবারের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রাজনৈতিক পোস্টারে স্মৃতিসৌধ সয়লাব ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শহীদদের পরিচয় তুলে ধরার তেমন কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। মনে হয় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা মানুষের জন্যই এ আয়োজন।’ ১৯৭১ সালে বিজয়ের ঠিক আগ মুহূর্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের দোসরদের সহযোগিতায় বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। হত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয় রায়েরবাজারের ইটখোলা। এই শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯৯৯ সালে স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করা হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ। গতকাল দুপুরে দেখা যায়, ধোয়ামোছা কাজের ঠিকাদার মো. সেকান্দার পাইপ দিয়ে পানি দিচ্ছেন। একসঙ্গে ঝাড়ু দিচ্ছেন ১৫ জন নারী। তাঁদের একজন ৪৫ বছর বয়সী মিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘চাইর দিন ধইরা সব ওয়ালে ব্রাশ মাইরা পরিষ্কার করছি। হাউসের মধ্যে নাইম্যা শেওলা ডলছি। আইজ খালি ঝাড়ু মারতেছি।’ একই কথা জানালেন মো. সেকান্দার। তিনি বলেন, ‘বছরে কয়েকবার পরিষ্কার করলে জায়গাটা পবিত্র থাকত। খরচও কম পড়ত।’ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষাকালজুড়ে স্মৃতিসৌধের সামনের রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। কাদামাটি ভেঙে দর্শনার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। এতে সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়ত নারী-শিশুরা। দেখা গেছে, স্মৃতিসৌধের সামনের রাস্তায় এবং ভেতরে বালু ফেলে ঠিক করা হচ্ছে। লাগানো হয়েছে নতুন ঘাস। ইটগুলো ধোয়া হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতার কাজটি কেবল শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসেই কেন, জানতে চাইলে স্মৃতিসৌধের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. মোহসিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এ ক্ষেত্রে লোকবল কম উল্লেখ করে মো. মোহসিন বলেন, ‘জনগণেরও সচেতনতার অভাব আছে। এ জায়গার পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্ব সবার।’ স্মৃতিসৌধটি বিনোদন পার্কের মতো ব্যবহৃত হয় বলে উল্লেখ করেন শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনীর। তিনি বলেন, ‘স্মৃতিসৌধ নির্মাণকালে এর ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় শহীদ পরিবার থেকে কিছু প্রস্তাব ছিল, যার সঙ্গে কর্তৃপক্ষ একমত পোষণ করেছিল। তবে সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি।’ স্মৃতিসৌধে স্থায়ীভাবে চারজন নিরাপত্তাকর্মী কাজ করেন। তাঁদের একজন মো. মতিন বলেন, ‘সন্ধ্যার পরে এখানে বখাটেরা আসে। তারা আমাদের মারধরের হুমকি দেয়। অনেকের সঙ্গে চাকুও থাকে।’ ২০০৬ সালে নিরাপত্তা রক্ষাকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার একজন নিরাপত্তাকর্মী মারা গেছেন বলে জানা যায়। স্থানীয় লোকজনের বেশির ভাগই জানেন না কেন এ সৌধ। পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত ১৫ নারীর মধ্যে মাত্র একজন বলেছেন ‘এইটা বুদ্ধিজীবী। যুদ্ধের সময় এইহানে মানুষ মারছে।’ এ কথা শেষ না হতেই বাকি ১৪ জন ঝাঁপিয়ে পড়ে বলেন, ‘না, এইটা শহীদ মিনার।’ তবে নিরাপত্তাকর্মীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢুকে পড়া ১০ বছরের শিশু রিয়াদ হোসেন বলে, ‘যুদ্ধের সময় এখানে বুদ্ধিজীবীদের মারা হয়েছে।’ পরের প্রজন্মের কাছে এই আত্মত্যাগের বিবরণ তুলে ধরার কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। এমনকি বুদ্ধিজীবী শহীদদের নিয়ে নেই কোনো স্মরণিকাও। স্মৃতিসৌধ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তরের। অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগের তুলনায় গত এক বছরে নিরাপত্তাব্যবস্থা অনেক জোরদার করা হয়েছে। তবে স্থায়ী লোকবলের অভাবে কিছু সমস্যা হয়।’ স্মরণিকা বা শহীদদের পরিচিতি তুলে ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কেবল লজিস্টিক (উপকরণগত) সহযোগিতা দেওয়া।