Last update
Loading...
সংসদে আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের সঙ্গে সংবিধান সংশোধনীতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। অন্যান্য বিল পাসে যেসব প্রক্রিয়া রয়েছে সংবিধান সংশোধনে সেসব প্রক্রিয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন পড়ে বিভক্তি ভোটের। সংবিধান সংশোধন করতে হলে অন্তত দুই দফা বিভক্তি ভোট লাগে।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে বলা রয়েছে, যেসব বিধান সংশোধনীর জন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন রয়েছে সেখানেই বিভক্তি ভোটের প্রশ্ন রয়েছে। আর কেবল সংবিধান সংশোধনেই প্রয়োজন পড়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার। অন্যান্য আইন সংশোধনের সময় স্পিকার ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর ফলাফল মৌখিকভাবে উল্লেখ করলেও সংবিধান সংশোধনের সময় পক্ষে-বিপক্ষে কত ভোট পড়েছে তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হয়।
সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি পর্যালোচনা ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, সংবিধানের ১৪২ ও সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৯৯ ধারায় সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হয়েছে।
সংবিধানে ১৪২ (আ) ধারায় বলা আছে, ‘সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থপিত হইবে না।’
সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৯৯ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিল বা তাহার অংশ গৃহীত হইয়াছে বলিয়া ঘোষিত হইবে না এবং সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে না।’
বিধির ৯৯ (গ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘অনুরূপ বিলের উপর ভোট গ্রহণ কেবল বিভক্তি ভোটের দ্বারা হইবে।’
প্রসঙ্গত, সংবিধান সংশোধনীর যে দফাগুলো সংশোধন করা হবে এবং সংশোধনী পাসের বিষয়টি বিভক্ত ভোটে দিতে হবে। তবে বিভক্তি ভোটের আগে এর বিষয়ে সংসদ কক্ষে কণ্ঠভোটে (‘হ্যাঁ‘- ‘না’) ভোটের আয়োজন করা হবে।
সংবিধান সংশোধনের সময় সাধারণ আইনের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বিলটি প্রথমে বিবেচনার জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। পরে এই বিলটির বিষয়ে কোনও সদস্যদের যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব বা বিলের ওপর সংশোধনী প্রস্তাব থাকলে সংসদ সদস্যরা তা উপস্থাপন করবেন। এই দুটি বিষয়ই সাধারণ আইন পাশের মতো ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোটে নিষ্পত্তি হয়।
এরপর সংশোধনীর দফা বা তফশিলগুলো ভোটে দেওয়া হবে। এই দফাগুলো বিভক্তি ভোটে পাসের বিধান রয়েছে। তবে স্পিকার চাইলে প্রত্যেক দফা আলাদাভাবে ভোটের দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সংসদ সদস্যদের সন্মেতিতে দফা বা তফসিলগুলো একত্রে ভোটে দিতে পারেন।
বিভক্তি ভোটে যাওয়ার আগে স্পিকার ভোট নেওয়ার জন্য সংসদের লবিগুলো নির্ধারণ করে তা হাউজকে জানিয়ে দেন। এক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের জন্য লবি পৃথক করা হয়। ভোটাররা তাদের নম্বর অনুসারে যে লবিতে গিয়ে ভোট দেবেন সেটাও জানিয়ে দেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের জাতীয় আসনের নম্বরকে তার নিজের ভোটার নম্বর হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়।
ভোট হওয়ার আগে স্পিকার লবিগুলো (ভোটের স্থান) খালি করার জন্য দুই মিনিট সময় ধরে ঘণ্টা বাজান। ঘণ্টা বাজানো শেষ হওয়ার পর স্পিকার বিলের দফা কণ্ঠ ভোটে দেন। কণ্ঠ ভোটের পর ‘হ্যাঁ’ পক্ষের সংসদ সদস্যদের ‘হ্যাঁ’ লবি এবং ‘না’ পক্ষের সংসদ সদস্যদের ‘না’ লবিতে যাওয়ার নির্দেশনা দেন। সবাই লবিতে প্রবেশ করলে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে স্পিকারের দফতরে ভোটের ফলাফল পৌঁছালে দরজা খুলে দেওয়া হয়। এ সময় স্পিকার ভোটের ফলাফল প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন। বিলের দফাগুলো সংশোধনীর পর বিল পাসের বিষয়ও একই প্রক্রিয়ায় শেষ হয়।
মধ্য আফ্রিকায় বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে সমুন্নত রাখছে বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন। ব্যানব্যাট নামে এটা সবচেয়ে বেশি পরিচিত। শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের ৩টি কন্টিনজেন্টের মধ্যে সবচেয়ে বড়। ৮০৬ সদস্যের এ ব্যাটালিয়নে বিভিন্ন স্তরের অফিসার রয়েছেন ৬৫ জন। অপর দুই কন্টিনজেন্ট হচ্ছে বাংলাদেশ স্পেশাল ফোর্স (ব্যানএসএফ) ও বাংলাদেশ মেডিকেল (ব্যানমেড)। আফ্রিকার বিস্তীর্ণ দুর্গম অঞ্চল  জুড়ে কাজ করছে ব্যানব্যাট।
নিজেদের ৫টি ক্যাম্প থেকে তারা একের পর এক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। ক্যাম্পগুলো আছে- বেলেকো, বোকারাঙ্গা, বোসামতেলে, বোসামবেলে আর হেডকোয়ার্টার বোয়ারে। জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী প্রথমদিকে ক্যামেরুনের সীমান্ত এলাকা বেলেকো থেকে মধ্য আফ্রিকার রাজধানী বাংগুই পর্যন্ত ৬১০ কিলোমিটার সড়কের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০১৪ সালে ৭৫০ সদস্য নিয়ে শুরু হয় এই ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম। এরপর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকস সদস্যরা কাজের মাধ্যমে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। এতে আস্থা বাড়ে জাতিসংঘেরও। এ কারণে গত বছর থেকে এ ব্যাটালিয়নের ওপর বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে দেয়া হয় স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। ৬ হাজার স্কয়ার কিলোমিটার থেকে এক লাফে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬১ হাজার স্কয়ার কিলোমিটার এলাকা। কাজের পরিধি বাড়ে ক্যামেরুন ও চাদ সীমান্ত পর্যন্ত। জাতিসংঘের এই আস্থার মর্যাদা দিতে প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। ব্যানব্যাটে কাজ করছেন এমন কয়েক সেনা কর্মকর্তা মানবজমিনেক বলেন, আফ্রিকা মহাদেশের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক’-এর লাইফ লাইন রক্ষায় কাজ করছেন তারা। দেশটির একমাত্র মহাসড়ক দিয়ে সপ্তাহের ছয়দিন খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে নির্বিঘ্ন নিরাপত্তা দেয়। তা নাহলে না খেয়েই মরতে হতো অসংখ্য হতদরিদ্র মানুষকে। এই ব্যবস্থাকে জাতিসংঘের পরিভাষায় বলা হচ্ছে, মেইন সাপ্লাই রুট বা এমএসআর। দেশটির রাজধানী বাংগুইসহ সারা দেশের মানুষের খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আসে ক্যামেরুন বর্ডার দিয়ে। ল্যান্ডলকড (কোনো সমুদ্রবন্দর নেই) কান্ট্রি হিসাবে পার্শ্ববর্তী অন্য কোনো দেশ থেকে কোনো পণ্যসামগ্রী আনার সুযোগ নেই তাদের। শেষ ৭ মাসে ৮ হাজারের বেশি গাড়িকে নিরাপত্তা দিয়েছে ব্যানব্যাটের সদস্যরা। অতীতে এ রুটে অসংখ্য গাড়ি লুটের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে অসংখ্য মালবাহী গাড়ি। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা দায়িত্ব নেয়ার পর এ ধরনের হামলার সংখ্যা শূন্যের কোঠায় গিয়ে পৌঁছেছে। তাই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ওপর ব্যাপক আস্থাশীল। যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যানব্যাটের সদস্যরা নিরাপত্তা না দেয় ততক্ষণ পর্যন্ত তারা রাস্তায় চলাচল করার সাহস পায় না। সংশ্লিষ্টরা জানান, বেলেকো থেকে বাংগুই পর্যন্ত ৬১০ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার রাস্তা ভালো। ২০০ কিলোমিটার রাস্তা ভঙ্গুর আর রয়েছে ছোট-বড় গর্ত। বাকি রাস্তা বলা চলে চলাচলের অনুপযোগী। এ অবস্থায়ও ঝুঁকি নিয়ে অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাহসী সৈনিকরা। এজন্য তাদের জীবন দিতে হচ্ছে, ত্যাগও স্বীকার করতে হচ্ছে। সর্বশেষ ২৬শে মে বকেদের ইয়ালোকা নামক স্থানে দুর্গম রাস্তায় দায়িত্বরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় মারা যান ল্যান্স কর্পোরাল রিপন ও সৈনিক আরজান। এর পাশাপাশি গত বছর থেকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে স্থানীয়দের রক্ষা করতে কাজ করছে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। ব্যানব্যাটের সেনা কর্মকর্তারা মানবজমিনকে বলেন, ব্যানব্যাটের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ৫টি সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রায় ১২শ স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী তৎপর। সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে- এন্টি বালাকা, থ্রি-আর (রিটার্ন, রিক্লেমেশন, রিহ্যাবিলিটেশন), ফ্রন্ট ডেমোক্রেটিক দো পিপল আফ্রিকান (এপডিপিসি), ন্যাশনাল মুভমেন্ট ফর দি লিবারেশন অব কার (এমএনএলসি) ও সম্প্রতি সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করা কোয়ালিশন সিরিরি। তাদের হাতে রয়েছে এম-৪৭, একে-৪৭, মেশিনগান, আরপিজি, হ্যান্ডগ্রেনেড থেকে শুরু করে স্থানীয়ভাবে তৈরি নানা ধরনের মারণাস্ত্র। সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুটি বড় ধরনের সফল অপারেশন পরিচালনা করে ব্যানব্যাট। একটি অপারেশন জিনজ্যাগ ও অপরটি অপারেশন এমবারাঙ্গা। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত সিসির একটি শক্তিশালী ঘাঁটি নিশ্চিহ্ন করা হয় অপারেশন জিনজ্যাগের মাধ্যমে। সেখানে সংগঠনটি যেন আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য অপারেশন চলমান রয়েছে। অপারেশন এমবারাঙ্গার মাধ্যমে দেশের উত্তরাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের আরেকটি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। এভাবে একের পর এক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনা করে সফলতা দেখাচ্ছেন অকুতোভয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে তারা দেশকে রাখছেন মাথার ওপরে। আর লাল-সবুজের পতাকাকে মধ্য আফ্রিকার দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায় ওড়াচ্ছে পতপত করে। যা দেখে আফ্রিকানরা মাথা উঁচু করে দিচ্ছেন স্যালুট। আর বলছেন- শাবাশ বাংলাদেশ।
সুবর্ণা। যেমন নাম, তেমন তার রূপ। রাস্তায় বেরুলে হাজারো যুবক তার দিকে চেয়ে থাকতো। কেউ কেউ সাহস করে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। তখন সুবর্ণা স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে পা দিয়েছে। তার জীবনে আসে রওনক নামের এক স্মার্ট বয়। সুবর্ণা প্রেমে পড়ে তার। কত সময় একসঙ্গে কাটিয়েছে তার হিসাব নেই। রওনক সিগারেট খেতো।
এক টান দুই টান করতে করতে সুবর্ণাও এক সময় চেইন স্মোকার হয়ে যায়। একটা সময় সিগারেটে যেন তার পোষায় না। রওনকের সঙ্গে শিসা, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল অবশেষে ইয়াবার নেশায় আসক্ত হয়। একসময় রওনককে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে বন্ধুদের সহযোগিতায় গোপনে কাবিন করে।
এরপর শুরু হয় নতুন অশান্তি। মেয়ের অশান্তির ধকল সইতে না পেরে দুঃখ-কষ্টে বাবা মারা যান। এসবই সুবর্ণার মুখের কথা। খানিকটা বিরতি নিয়ে একটু পানি খেলো সুবর্ণা। পুরো সময়টাজুড়েই তার চোখ দুটোকে খুব অশান্ত মনে হয়েছিল। আবার বলতে থাকেন, বাবা মারা যাওয়ার পর রওনকের সঙ্গেও সম্পর্ক চুকে যায়।
এরপর তার মা দিশাহারা অবস্থায় মেয়েকে বিভিন্ন রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি করেন। লং টাইম রিহ্যাবে থাকার পর বাসায় গিয়ে সুযোগ পেলেই নেশায় বুঁদ হয়ে যায়। এভাবে ৭-৮টা রিহ্যাবে ট্রিটমেন্ট নিয়েছে সে। সর্বশেষ পান্থপথের ব্রেইন অ্যান্ড লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। দুই বোনের মধ্যে বড় সে। ছোটবোনও কিছুটা আসক্ত হলে টের পেয়ে মা তাকে বিয়ে দিয়ে দেন। মা-মেয়ের সংসারে ছেলে গার্ডিয়ান না থাকায় অনেকটা ডেসপারেট সুবর্ণা। নিজেদের বাসাভাড়া, দোকান ভাড়ার টাকা দিয়ে সুযোগ পেলেই নেশা করে। এখনো মাঝে মাঝে লেটনাইটে বাসায় ফিরে। কখনো কখনো বান্ধবীর বাসায় আছে বলে তিন-চার দিনেও বাসায় ফেরে না। এভাবেই চলছে দিন রাত্রি।
আরেক কাহিনী। নাম ময়না হলেও বাবা-মা আদর করে ময়না পাখি বলে ডাকতো। মা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বাবা ল্যান্ড প্রপার্টি বেচাকেনার ব্যবসা করেন। এক ভাই এক বোনের মধ্যে ময়না ছোট। বড় ভাই ও বাবা-মায়ের অনেক আদরের ময়না হঠাৎ করেই যে খাঁচার বাইরের আদারের দিকে ঝুঁকবে ভুলেও বুঝতে পারেনি কেউ। অতি ব্যস্ততার কারণে বাবা-মা কেউই ময়নাকে সময় দিতে পারে না। ফলে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে পা রাখবে ঠিক এমন সময় রাহাত নামের কলেজপড়ুয়া কিশোরের সঙ্গে মন দেয়া-নেয়া হয় ময়নার। প্রেমিক রাহাতের অনুরোধে প্রথমে সখের বসে সিগারেটে আসক্ত হয়। মাঝে মধ্যে বন্ধুদের আয়োজনে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের পার্টিতে অংশ নিতো। পরবর্তীকালে বন্ধুদের সঙ্গে রাত জেগে আড্ডা, দিনের বেলায় অনেক বেলা করে ঘুমানো।
এসব দেখে বাবা-মায়ের সন্দেহ হলে জানতে পারে, তাদের ময়না পাখি আধার খেতে শিখে গেছে। বাসার আধারে তার মন বসে না। অনেক চেষ্টার পর প্রেমিক রাহাতের সঙ্গে তার সম্পর্কটা চুকাতে পারলেও ইয়াবার নেশাটা চুকাতে পারেনি বাবা-মা। সুযোগ পেলেই বাসা থেকে পালিয়ে সাবেক প্রেমিক বা পরিচিত ইয়াবা পার্টনারদের সঙ্গে নেশা করে। একসময় খুব উশৃঙ্খল জীবনে জড়িয়ে সামাজিকভাবেও বিছিন্ন হয়ে পড়ে। এত চাপ সামলাতে না পেরে সম্প্রতি ময়না একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে বাসায় ফিরে বেডরুমে আত্মহত্যা করে।
ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়ার মেয়ে রুমকি। বাবা সরকারি কর্মকর্তা। মা হাসপাতালের নার্স। হঠাৎ কোনো একটা অসুস্থতাজনিত কারণে রুমকিকে তার মা ঘুমের ওষুধ খেতে দেন। এরপর একটি অপারেশনের সময় প্যাথেডিন ইনজেকশন দেয়া হয়। পরবর্তীকালে সে প্যাথেডিনটা কনটিনিউ করতে থাকে। গত ২০ বছর ধরে এমনটাই চলছে রুমকির। ল’য়ের শিক্ষার্থী রুমকি এরই মাঝে ভালোবেসে বিয়ে করেছে। কিন্তু সংসারের সুখ বেশি দিন তার কপালে জোটেনি।
রুমকির স্বামী যখন জানতে পারেন তার স্ত্রী মাদকাসক্ত তখন সে স্বেচ্ছায় স্ত্রীর কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। তার ভাষায়, অন্ধ অক্ষমের সঙ্গে সংসার করা যায়, কিন্তু মাদকাসক্তের সঙ্গে নয়। পরবর্তীকালে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকলেও নেশা ছাড়তে পারেনি রুমকি। বাবা-মা অবস্থাসম্পন্ন হওয়াতে হাত বাড়ালেই নেশার টাকা পেয়ে যেত। একইসঙ্গে ড্রাগ বা নেশা জাতীয় দ্রব্য অ্যাভেল্যাভেল হওয়াতে রুমকি দিনে দিনে নেশার প্রতি এতটাই বুঁদ হয়েছে যে বয়স ৪০-এর কোঠায় হলেও তরুণ মাদকাসক্তদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নেশা করে সে। এক পর্যায়ে বাবা-মা দুজনেই হাল ছেড়ে দেন। এখন রুমকির ঠিকানা কালেভদ্রে বাবার বাড়ি এবং ঢাকা শহরের বিভিন্ন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে। এভাবেই হয়তো চলতে থাকবে আমৃত।
ঢাকার নামকরা এক ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থী স্বর্ণা। ইতিমধ্যে বিদেশের শিক্ষার পাঠও চুকিয়েছে সে। বাবা বড় রাজনীতিবিদ। মা গৃহিণী। দুই ভাইবোনের মধ্যে স্বর্ণা ছোট। স্বর্ণার নেশার হাতে খড়ি সিগারেটের মধ্যদিয়ে। ছোটবেলায় বাবাকে সিগারেট খেতে দেখেই একসময় সিগারেটের প্রতি আসক্ত হয় স্বর্ণা। বাবার সঙ্গে প্রায় বিদেশ যাওয়ার সুবাদে সেখানকার ওয়েস্টার্ন কালচার মেইনটেন করা ছেলেমেয়েদের সঙ্গে বাবার সামনে সিগারেট খেত।
আমুদে বাবা মৌন থেকেই অনেকটা সায় দিতেন সিগারেটের প্রতি। একসময় গাঁজা ধরে। তখনও বাবা খুব একটা কিছু বলতেন না। মা শাসন করতে চাইলেও বাবার প্রশ্রয়ে তেমন পেরে উঠতেন না। একসময় নেশার সর্বশেষ স্তরে পৌঁছায় স্বর্ণা। পরিবারের মাঝে থেকেও একা হয়ে পড়ে স্বর্ণা। ফলে নেশাটাকেই আপন করে ফেলে। পরবর্তীকালে পছন্দ করে এক ছেলেকে বিয়ে করে। সেও মাদকাসক্ত। স্বর্ণার কোলজুড়ে দুই ছেলে মেয়ে আসলেও স্বামী-স্ত্রী কেউই মাদকের জগত থেকে বের হতে পারেনি। অবশেষে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। এখন ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাবার বাসাতেই থাকে। সম্প্রতি সে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। প্রায়ই বন্ধুদের সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণে যায় স্বর্ণা। মাঝে মাঝে রিহ্যাব সেন্টারে ট্রিটমেন্ট নিলেও বাইরে গিয়ে সব ভুলে যায়।
বাংলাদেশে এক নারী স্বামীর হাত ধরে কিভাবে ইয়াবায় আসক্ত হয়েছে সম্প্রতি এমনই একটি আলোচিত ঘটনা উঠে এসেছে বিবিসি বাংলায়। নারী জানায়, দ্বিতীয় স্বামীর মাধ্যমে ইয়াবার সঙ্গে আমার পরিচয়। সে একজন সরকারি কর্মকর্তা। সে আমাকে অনেক ভালোবাসতো। একদিন সে বাড়িতে অনেকগুলো ইয়াবা নিয়ে আসে। স্বামীর কাছে জানতে চায় ট্যাবলেটের মতো দেখতে এগুলো কী? তখন সে বলে, এটা খুব ভালো জিনিস। এখন এটা সবাই খায়, মেয়েরাও খায়।
আর তুমি তো আমার স্ত্রী। সুতরাং তুমিও আমার সঙ্গে খাবে। আমি মনে করলাম, যদি তার সঙ্গে বসে না খাই তাহলে হয়তো সে বাইরের মেয়েদের সঙ্গে গিয়ে খাওয়া শুরু করবে। তখন আমি তার সঙ্গে খাওয়া শুরু করি। এভাবে কয়েক মাস ধরে স্বামী-স্ত্রী মিলে বাড়িতে একসঙ্গে ইয়াবা খেতে থাকি। তিন মাস পর আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি। এত শুকিয়ে যাই, আমাকে ৮০ বছরের বৃদ্ধ মহিলার মতো দেখাতো। শরীর পুরোটা কালো হয়ে গিয়েছিল। আমার শরীরে অর্ধেক কাপড় থাকতো, অর্ধেক থাকতো না। আমি সারাক্ষণ মাথা আঁচড়াতাম। মনে হতো মাথায় শুধু উকুন।
যে-ই দেখতো সে-ই আমাকে পাগল মনে করতো। মা যখন আসতো তখন আমি তার সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করতে শুরু করি। খেতেও পারতাম না। কিছু মুখে দিলে সেটা রবারের মতো শক্ত লাগতো। তখন আমি খুব অসুস্থ। আমার মা একদিন ভাত মেখে আমাকে খাওয়াতে যাবেন, তখন আমার মনে হলো আমাকে তিনি কেঁচো খাওয়াচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর আমি বমি করতে শুরু করি। তখন মা আমাকে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। স্বামীকে না জানিয়েও আমার চিকিৎসা চলতে থাকে। মায়ের বাসায় তিন বছরের মতো ছিলাম। তারপর নিজের বাসায় চলে যাই। তখন আবার স্বামী প্রত্যেক দিন ইয়াবা নিয়ে আসতে শুরু করে। প্রত্যেক রাতে ২০টা করে খেতো। সে নিজে নষ্ট, এবং তার নোংরামির শিকার হয়েছি আমিও। তারপর আমি আবারও ইয়াবাতে আসক্ত হয়ে পড়ি।
এ বিষয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মো. ফারুক আলম বলেন, আগে ছেলেদের মধ্যে মাদকাসক্ত বেশি থাকলেও ইদানিং মেয়েদের মধ্যে এটা বেড়ে যাচ্ছে। মেয়েদের মাদকাসক্তের কয়েকটা ধরন রয়েছে। ফেনসিডিল ও হেরোইনের প্রতি আসক্ত কম। মেয়েদের মধ্যে বিড়ি, সিগারেট, ঘুমের ওষুধ, ইয়াবা খুব জনপ্রিয়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে এগুলো খুব সহজলভ্য। মেয়েদের ইয়াবা গ্রহণের আর একটি বিশেষ কারণ হচ্ছে, তাদের ধারণা ইয়াবা খেলে স্লিম হওয়া যায়।
যেসব মেয়েরা ফিট থাকতে চায় তারা ইয়াবা খেয়ে খিদা কমায়। গত জুন মাসে দেশব্যাপী ১৯ হাজার ৮শ জনেরও বেশি ব্যক্তির ওপর একটি সার্ভে করা হয়। যেখানে ৩.৩৩% ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে মাদকাসক্ত। মেয়েদের মাদকাসক্ত থেকে ফেরাতে হলে সরকারি পদক্ষেপে এর সাপ্লাই বা সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। তখন এটা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে ফ্রেন্ডশিপ থাকবে কিন্তু আড্ডা দেয়া যাবে না। একই সঙ্গে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় ও স্কুল-কলেজ পর্যায়ে মাদকের কুফল সম্পর্কে ছেলে-মেয়েকে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে মাদকের ক্ষতিকর দিক বোঝাতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে একটি ভুল ধারণা থেকে অধিকাংশ নারী মাদক নিয়ে থাকেন। তারা ভাবেন মাদক নিলে তাদের সৌন্দর্য ও স্মার্টনেস বাড়ে। এভাবেই তারা প্রলুব্ধ হয়। আরেকটি অন্যতম কারণ হচ্ছে তার সঙ্গী। সঙ্গী মাদকাসক্ত হওয়ায় সেও খুব সহজেই মাদক ধরে ফেলে। এটা পুরুষ কিংবা অনেক সময় নারী সঙ্গীর দ্বারাও আসক্ত হতে পারেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নারীদের বিভিন্ন কারণে তৈরি হওয়া হতাশা থেকেও তারা মাদক গ্রহণ করে। সিগারেটকে নেশা জগতের প্রবেশ দ্বার বলা চলে। এটা নারী-পুরুষ সবার জন্য প্রযোজ্য।
সব ধূমপায়ী ড্রাগ এডিক্টেড নয়, কিন্তু দেখা যায় ৮০ জন ড্রাগ এডিক্টেডই ধূমপায়ী ছিল। অনেক সময় নারী শিক্ষার্থীরা রাত জেগে পড়াশোনা করতে ইয়াবা খেয়ে থাকে। কাজেই ইয়াবা বা যেকোনো নেশাই দিন শেষে তাদের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে না, এই তথ্যটি সবাইকে জানাতে হবে। পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যোবোধের চর্চা করতে হবে। যেটা তাদের সব রকম হতাশা কাটিয়ে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।
তেজগাঁও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনসালটেন্ট অফিসার ডা. মোহাম্মদ ইমামুল হক বলেন, আগে ছেলেরা মেয়েদের বন্ধু হতো আর এখন মেয়েরা ছেলেদের বন্ধু হয়। এখন ছেলেদের আগেই মেয়েরা হ্যান্ডসেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়। এরই নাম অতি আধুনিকতা। আর এই আধুনিকতা এখন মাদক পর্যন্ত গড়িয়েছে।
দুই চ্যালেঞ্জ নিয়ে মধ্য আফ্রিকার মতো দুর্গম অঞ্চলে প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করছেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। একটি হচ্ছে- সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাত থেকে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করা, অপরটি প্রতিবেশী দেশ ক্যামেরুন থেকে দেশটির জন্য আসা রসদের নিরাপত্তা দেয়া। এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমে মধ্য  আফ্রিকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনটি কন্টিনজেন্ট নিয়ে এখানে আছে বাংলাদেশ। একটি হলো ব্যানএসএফ, যার সদস্য সংখ্যা ১৫০ জন। কমান্ডো ট্রেনিংসহ বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা এরই মধ্যে সাফল্যের সঙ্গে অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন।
ব্যানব্যাট নামে আরেকটি কন্টিনজেন্টের সদস্য রয়েছেন ৮০২ জন। এছাড়া চিকিৎসা সেবার জন্য গঠিত ব্যানমেড কন্টিনজেন্টের সদস্য রয়েছে ৬৯ জন। সবমিলিয়ে বর্তমানে এখানে কাজ করছেন ১০৪৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী। মধ্য আফ্রিকার দুর্গম অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে সক্রিয় রয়েছে প্রায় ১০টি দুর্ধর্ষ বাহিনী। সংখ্যায় তারা প্রায় ৯ হাজার। এদের মধ্যে এন্টি বালাকা আর এক্স সেলেকা সবচেয়ে বেশি দুর্ধর্ষ। এসব সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে রয়েছে- এম-১৬, আরপিজি, এইচএমজি ও কালাশনিকভ এর মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র। নিজেদের ৫টি ক্যাম্প থেকে তারা একের পর এক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। ক্যাম্পগুলো আছে-বেলেকো, বোকারাঙ্গা, বোসামতেলে, বোসামবেলে আর হেডকোয়ার্টার বোয়ারে। সম্প্রতি পৃথক দু’টি অপারেশনে একটানা ৮২ ও ৩০ দিন সময় লেগে যায়। এসময়টুকু তাদের থাকতে হয়েছে গহীন জঙ্গল আর ঝুঁকিপূর্ণ এরিয়ায়। সম্প্রতি মধ্য আফ্রিকার গ্রীমারিতে ৪টি এপিসি ও ২টি এলএবি নিয়ে ৫ দিন ধরে আটকে ছিলেন ৮০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী। এপিসিতে ত্রুটি দেখা দেয়ায় ঘন জঙ্গলের মাঝে আটকে থাকেন তারা। দলটি বাংগুই থেকে ৩৮০ কিলোমিটর দূরত্বে অবস্থিত বামবারিতে যাচ্ছিলো। সাধারণত এ রাস্তা যেতে সময় লাগে ৩ দিন। অন্যদিকে আফ্রিকা মহাদেশের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক’-এর লাইফ লাইন রক্ষায় কাজ করছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। দেশটির একমাত্র মহাসড়ক দিয়ে সপ্তাহের ছয়দিন খাদ্যসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে নির্বিঘ্ন নিরাপত্তা দেয়। তা নাহলে না খেয়েই মরতে হতো অসংখ্য হতদরিদ্র মানুষকে। এই ব্যবস্থাকে জাতিসংঘের পরিভাষায় বলা হচ্ছে, মেইন সাপ্লাই রুট বা এমএসআর। দেশটির রাজধানী বাংগুইসহ সারাদেশের মানুষের খাবারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী আসে ক্যামেরুন বর্ডার দিয়ে। ল্যান্ডলকড (কোন সমুদ্রবন্দর নেই) কান্ট্রি হিসাবে পার্শ্ববর্তী অন্য কোন দেশ থেকে কোনো পণ্যসামগ্রী আনার সুযোগ নেই তাদের। শেষ ৭ মাসে ৮ হাজারের বেশি গাড়িকে নিরাপত্তা দিয়েছে ব্যানব্যাটের সদস্যরা। অতীতে এ রুটে অসংখ্য গাড়ি লুটের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে অসংখ্য মালবাহী গাড়িকে। কথিত আছে, রাস্তায় কোনো পণ্যবাহী গাড়ি বিকল হলে স্থানীয়রা মনে করে, ঈশ্বর তাদের জন্য উপহার পাঠিয়েছেন। তাই তারা সেটি নিজ দায়িত্বেই লুটে নেন। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা দায়িত্ব নেয়ার পর এ ধরনের হামলার সংখ্যা শূন্যের কোঠায় গিয়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী প্রথমদিকে ক্যামেরুনের সীমান্ত এলাকা বেলেকো থেকে মধ্য আফ্রিকার রাজধানী বাংগুই পর্যন্ত ৬১০ কিলোমিটার সড়কের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে ৭৫০ সদস্য নিয়ে শুরু হয় এই ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম। এরপর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকষ সদস্যরা তাদের কাজের মাধ্যমে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। এতে আস্থা বাড়ে জাতিসংঘেরও। এ কারনে গত বছর থেকে এ ব্যাটালিয়নের ওপর বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে দেয়া হয় স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। ৬ হাজার স্কয়ার কিলোমিটার থেকে এক লাফে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬১ হাজার স্কয়ার কিলোমিটার এলাকা। কাজের পরিধি বাড়ে ক্যামেরুন ও চাদ সীমান্ত পর্যন্ত। জাতিসংঘের এই আস্থার মর্যাদা দিতে প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। গতকাল সরজমিনে ব্যানব্যাটের কার্যালয় বোয়ার থেকে বোসামতেলের ক্যাম্পে যাওয়া হয়। চলাচলের অনুপযুক্ত এ সড়কের নিরাপত্তা দেয়া সত্যিই দুরূহ বিষয়। এ রাস্তায় একটি গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে তা উদ্ধারের কোনো উপায় নেই। তাই রাস্তার দুই পাশে দেখা গেলো অসংখ্য বড় বড় গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মজার বিষয় এদেশে গাড়ি উদ্ধারে কোনো যন্ত্রপাতি নেই। মাঝে-মধ্যে এপিসি নিয়ে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা ওই রাস্তায় গেলে দুর্ঘটনায় শিকার গাড়িকে উদ্ধার করে। এমনকি একটি গাড়ি নষ্ট হলে অনেক সময় তিন চারদিন সেখানে অস্থায়ী তাঁবু টাঙিয়ে বসে থাকতে হয়। ক্যামেরুন থেকে মিস্ত্রি এনে সেটা সারানো হয়। এ রকম পরিবেশের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এখানে কাজ করছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। মধ্য আফ্রিকায় প্রচুর পরিমাণে হীরা, ইউরেনিয়াম, তেল এবং সোনার খনি রয়েছে। কিন্তু নিজেদের হানাহানির কারণে সেই সম্পদ তাদের ভাগ্যবদলে কাজে লাগছে না। নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে রক্ত ঝরছে নিয়মিত। এখানকার মানুষের হাতে হাতে অস্ত্র। অসংখ্য সশস্ত্র গ্রুপ পরস্পরের সঙ্গে হানাহানিতে লিপ্ত। বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বড় সেন্ট্রাল আফ্রিকায় মানুষ মাত্র ৪৭ লাখ। এই অল্প সংখ্যক মানুষের দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা জাতিগত সংঘাতে বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশ্বের দ্বিতীয় অশান্তিময় দেশ হচ্ছে এই সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক।
খতনা জটিলতায় পড়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নেয়া লাখো ছেলেশিশু। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই মুসলিম। হাজার হাজার বছর ধরে খতনা সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত রয়েছে মুসলিম সমাজে। বাংলাদেশে এ সংস্কৃতি মুসলমানি নামে খ্যাত। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এ সংস্কৃতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে স্বাস্থ্যকর ও বিজ্ঞানসম্মত বলে। কিন্তু রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে খতনাবিহীন বেড়ে উঠছে লাখো শিশু।
১২-১৪ বছর বয়স হলেও খতনা সম্পন্ন হয়নি বহু রোহিঙ্গা শিশুর। ক্যাম্পগুলোতে অন্ন-বস্ত্র-স্বাস্থ্য ও বাসস্থান নিয়ে কাজ করছেন সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক নানা সংস্থা। কিন্তু ছেলেশিশুদের খতনার কোনো উদ্যোগ নেই তাদের। স্থায়ী প্রশাসনের একটি অস্থায়ী নির্দেশনায় আটকে আছে খতনার ব্যাপারে বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থার উদ্যোগ। ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে কাজ করেন এমন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, যথাযথ বয়সে ছেলেশিশুদের খতনা সম্পন্ন না হলে একদিকে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে অন্যদিকে দেখা দেয় সামাজিক সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পুরুষের খতনা এইচআইভি বা এইডস প্রতিরোধে একটি কার্যকর ভূমিকা রাখে, এটি আংশিক সুরক্ষা দেয়। যেসব দেশে খতনার হার বেশি, সেসব দেশে এইডসের হার তুলনামূলক কম।
সরজমিন উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং (নতুন ক্যাম্প), ময়নারঘোনা ও নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু জিরোপয়েন্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী শতাধিক ছেলেশিশুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের বেশিরভাগেরই খতনা হয়নি। ময়নারঘোনা ক্যাম্পের বাসিন্দা আবদুস শুক্কুর  বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার পর থেকে আমরা পরিবারের সদস্যদের দুবেলা খাবার ও মাথাগোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতেই ব্যস্ত ছিলাম।
এখন চাল-ডাল মিলছে কিন্তু সেগুলোর রান্নার জ্বালানি মিলছে না। খাবার পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। টয়লেট ও গোসলের সমস্যা তীব্র। পরিবারের কোনো না কোনো সদস্যের রোগবালাই লেগেই আছে। ক্যাম্পের জীবনে এর বাইরে ভাবার সুযোগ কোথায়? আমাদের ছেলেশিশুদের খতনা প্রয়োজন।
কিন্তু হাজামের (স্থানীয় কবিরাজ) মাধ্যমে ছাড়া সেটা সম্পন্ন করা ছাড়া এখানে তো সরকারি বা বেসরকারিভাবে তার কোনো উদ্যোগ নেই। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, এদেশে আশ্রয় নেয়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অস্ত্র-বস্ত্র ও বাসস্থান নিশ্চিতকরণেই মনোযোগ নিবদ্ধ রয়েছে বাংলাদেশ সরকারসহ বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর। খতনার মতো বিষয়গুলো খুব বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারিভাবে দেয়া হচ্ছে না খতনা সেবা। নানা সময়ে ২০-৫০ জন করে শিশুর খতনা সম্পন্ন করেছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। তারই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ান ফিল্ড হাসপাতাল খৎনার একটি উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু একটি শিশুর খৎনায় অতিরিক্ত রক্তপাত ত্রুটির অভিযোগ তুলে শিশুটির পরিবার।
এতে পুরো উদ্যোগটি বন্ধ রাখার একটি অস্থায়ী নির্দেশ দেয় স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু পরে এ ব্যাপারে নতুন কোন নির্দেশনা আসেনি। রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর প্রধানরা কোনো রকমভাবে নিজেদের সন্তানদেরকে খতনা করিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগ অভিভাবক অর্থের অভাবে তাদের সন্তানদের খতনা করাতে পারছেন না।
বালুখালী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প, মেটারনাল, চাইল্ড হেলথ অ্যান্ড প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক ও ড্যাব মহাসচিব প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে শিশু রয়েছে অন্তত ৪ লাখ। যার বেশিরভাগই ছেলে শিশু। মুসলিম ধর্মাবলম্বী এসব ছেলে শিশুর খতনা করানো প্রয়োজন। খতনা করালে শিশুদের মূত্রপথের সংক্রমণ প্রতিরোধ হয়। যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি কমে। বেশিদিন খতনা না করালে নানাধরনের রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি যেমন রয়েছে তেমনি সৃষ্টি হবে একধরনের সামাজিক সমস্যা।
তিনি বলেন, আমরা একবার শিশুদের খতনা করানোর উদ্যোগ নিয়েছিলাম। প্রতিদিন একশ করে ছেলেশিশুকে খতনা করানোর লক্ষ্য নিয়ে সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কয়েক মাস আগে স্থানীয় প্রশাসনের অস্থায়ী একটি নির্দেশনার কারণে সেটার বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে যখন স্থানীয় প্রশাসন ওই নির্দেশনাটি দিয়েছিল তখন তা সঠিকই ছিল।
কারণ ব্লিডিং ডিজঅর্ডার থাকে অনেক শিশুর। আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবনের পর খৎনা করালে অতিরিক্ত রক্তপাত বা অন্যান্য সমস্যা তেমন হয় না। তখনও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করার করার ক্ষেত্রে ফিল্ড লেভেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার তেমন সুযোগ-সুবিধা ছিল না। এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন নির্দেশনা না পাওয়া ও অন্যকোন সংস্থা এ ব্যাপারে উদ্যোগ না নেয়ায় আমরাও সেটা বন্ধ রেখেছি। কিন্তু রোহিঙ্গা ছেলে শিশুদের খৎনার ব্যাপারে সবারই এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করি।
আনা চাপম্যানের পর এবার ২৯ বছর বয়সী আরেক রাশিয়ান যুবতীকে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তার নাম মারিয়া বুতিনা। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি রাশিয়ান সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক গ্রুপের ভিতর অনুপ্রবেশ করে তথ্য হাতিয়ে নেন। বিশেষ করে তিনি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে। একই সঙ্গে অস্ত্র রাখার অধিকার বিষয়ে একজন পরামর্শক হয়ে ওঠেন। যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়াকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল কাউন্সেলর মুয়েলার যে তদন্ত করছেন তার সঙ্গে মারিয়া বুতিনার অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি কাহিনী। অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্রেমলিনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নিদের্শনা মতো কাজ করতেন মারিয়া বুতিনা। এ বিষয়ে সোমবার তার আইনজীবী রবার্ট ড্রিসকোল একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, তার মক্কেল কোনো গুপ্তচর বা এজেন্ট নন। তিনি শুধু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক একজন ছাত্রী। তিনি নিজের ব্যবসা পরিচালনার জন্য শুধু এই ডিগ্রিটি নেয়ার চেষ্টা করছেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা অতিরঞ্জিত। যুক্তরাষ্ট্রের কোন সুনির্দিষ্ট নীতি, আইনকে খাটো করার বা এখানে প্রভাব বিস্তারের কোনো ইঙ্গিত নেই তার বিরুদ্ধে। তাই তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েক মাস ধরে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, মারিয়া বুতিনা বসবাস করেন ওয়াশিংটনে। গত রোববার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার তার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে জেলেই থাকতে হচ্ছে। এমনটা জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে। ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের মধ্যে এর কয়েক ঘন্টা পরে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাতে সায় দেন ট্রাম্প। কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের কর্মকর্তাদের ইমেইল হ্যাক করার কারণে আইন মন্ত্রণালয় ১২ জন রাশিয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। এর কয়েকদিন পরেই গ্রেপ্তার করা হলো মারিয়া বুতিনাকে। 
মারিয়ার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ:
সোমবার এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট কেভিন হেলসনের একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, তাকে এসাইনমেন্ট দেয়া হয়েছিল রাশিয়ান ফেডারেশনের স্বার্থে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রভাব ব্যবহার করা হচ্ছে এমন মার্কিনির সঙ্গে কারো সম্পর্ক আছে কিনা তা খুঁজে বের করা। তিনি সরকারের কাছে তার কর্মকান্ডের বিস্তারিত নিবন্ধিত না করেই কাজ শুরু করেন। যেমনটা করা হয় ফরেন এজেন্ট রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে। যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ অধিকারকে অনুমোদন দেয় এমন একটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেন মারিয়া বুতিনা। আইন মন্ত্রণালয় এ কথা বললেও তারা ওই গ্রুপ অথবা ওই গ্রুপের কোনো রাজনীতিকের নাম প্রকাশ করে নি। এফিডেভিট অনুযায়ী, মারিয়া চেষ্টা করছিলেন রাশিয়ংা সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একটি ব্লাক চ্যানেল প্রতিষ্ঠার জন্য। ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, মারিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রাজনীতিকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন, যাতে তিনি রাশিয়ার স্বার্থ রক্ষা করতে পারেন। এমন মিশন নিয়ে তিনি একটি ইভেন্ট আয়োজন করেছিলেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের প্রভাবকে রাশিয়ান ফেডারেশনের দিকে ব্যবহার করা যায়। আর এসব বিষয় তিনি রাশিয়ায় কর্মকর্তাদের জানাতেন টুইটার ব্যবহার করে সরাসরি। অথবা অন্য কোনো মাধ্যম ব্যবহার করে তিনি এটা করতেন।
কে এই গুপ্তচর:
মারিয়া বুতিনার আসল বাড়ি হলো সার্বিয়ায়। তিনি আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে পড়তে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছেন স্টুডেন্ট ভিসায়। কিন্তু সেখানে তিনি গোপনে রাশিয়ান সরকারের পক্ষে কাজ করতে থাকেন। তিনি একটি গ্রুপ গড়ে তোলেন। এর নাম দেন ‘রাইট টু বিয়ার আর্মস’। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছার আগেই তিনি এ গ্রুপটি প্রতিষ্ঠা করেন। আগেই যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র বিষয়ক তদবিরকারী সংস্থা হলো ন্যাশনাল রাইফেল এসোসিয়েশন। এর সঙ্গে সম্পর্ক আছে মারিয়ার। এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টকে মারিয়া বলেছেন, রাশিয়া সরকারের পক্ষে তিনি কাজ করেন না। তিনি রাশিয়ায় একটি ব্যাংকার ও সাবেক সিনেটর আলেক্সান্দার তোরশিনের এসিসট্যান্ট ছিলেন। তার বিরুদ্ধে এপ্রিলে অবরোধ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়।  তোরশিন ন্যাশনাল রাইফেল এসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য এবং ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া এ সংস্থার বিভিন্ন ইভেন্টে যোগ দিয়েছেন মারিয়া। এমনকি তিনি ট্রাম্পের প্রচারণা বিষয়ক ইভেন্টেও যোগ দিয়েছেন। ট্রাম্পের কাছে তার রাশিয়া বিষয়ক পররাষ্ট্র নীতি কেমন তাও নাকি জানতে চেয়েছিলেন।
ফিলিস্তিন আমার হৃদয়, আর আমিও একজন ফিলিস্তিনি’ এমনটাই দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে বললেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। সোমবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ফুটবলার। এ সময় ম্যারাডোনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে জলপাই গাছের শাখা বহনকারী একটি পাখির ছবি উপহার দেন আব্বাস। এর পরে ম্যারাডোনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে আলিঙ্গনের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, এই মানুষটা ফিলিস্তিনে শান্তি চায়। প্রেসিডেন্ট আব্বাসের একটা দেশ আছে এবং সেখানে তার অধিকার রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে রাশিয়ায় যান আব্বাস। অন্যদিকে ভেনিজুয়েলার নিউজ নেটওয়ার্ক চ্যানেল তেলিসুর’র ভাষ্যকার হিসেবে সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ কাভার করেন ম্যারাডোনা। এর আগে ওই চ্যানেলে বিশ্বকাপের শেষ শো’তে ম্যারাডোনা বলেন, আমাদের কেনা যায় না, আমরা সবদিক থেকেই বামপন্থি রাজনীতির সমর্থক। একথা মানুষ জানে যে আমরা সত্য কথা বলি এবং সাম্য চাই। এর আগে ম্যারাডোনা প্রকাশ্যেই ভেনিজুয়েলা, কিউবা ও ইরানের নেতাদের প্রশংসা করেন। ২০০৭’র ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত ইরানি কূটনীতিক মহসিন বহরভন্দকে তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ (তৎকালীন) এবং কিউবার নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রোর (তৎকালীন) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। এখন আমি আপনাদের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই। গতকাল বেলারুশের ক্লাব ডায়নামো ব্রেস্টের চেয়ারম্যানের পদে নিয়োগ দেয়া হয় ৫৭ বছর বয়সী দিয়েগো ম্যারাডোনাকে। এর আগে এই ক্লাবটির কোচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পরেন ম্যারাডোনা। গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়ার ম্যাচে গ্যালারিতে বসে অশোভন অঙ্গভঙ্গি করেন তিনি। শেষ ষোলতে কলম্বিয়া-ইংল্যান্ডের ম্যাচের রেফারিংকে ডাকাতি বলায় তাকে সতর্ক করে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা)। পরে অবশ্য এ বিষয়ে ক্ষমা চান ম্যারাডোনা।
এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগে সম্ভাব্য আর্জেন্টিনা-ইসরাইলের ম্যাচ নিয়ে উত্তাল হয় ফিলিস্তিন। আর ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির প্রবল আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদলায় আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন। গত ৯ই জুন জেরুজালেমে আর্জেন্টিনা-ইসরাইলের প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। তবে এ ম্যাচ আয়োজনের প্রতিবাদে ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, মেসি (লিওনেল) তোমরা জেরুজালেমে খেলতে এসোনা। তারা (ইসরাইল) আমাদের মাতৃভূমি দখল করে রেখেছে। মেসি শান্তি ও ভালোবাসার প্রতীক। ফিলিস্তিনে তার লাখো ভক্ত-সমর্থক রয়েছে। ওই ম্যাচের নির্ধারিত সূচির দু’দিন আগে মেসিদের জেরুজালেম সফর বাতিল করে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন। আর্জেন্টিনা ফুটবল প্রধান বলেন, বিশ্বশান্তির জন্যই তাদের এই সিদ্ধান্ত।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোন তখন শিশু। বেড়ে উঠছেন ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় শহর আমিয়েনসে। দক্ষিণের একটি ক্লাব অলিম্পিক ডি মার্সেল তখন তার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৯৩ সালে ওই ক্লাবটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস লীগ বিজয়ী হয়। এই ক্লাবের ক্যাপ্টেন অবশ্যই ছিলেন দিদিয়ে ডেশ্যাম্পস।
এবার ১৫ই জুলাই। রাশিয়াতে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে। তার মাঝে বিশ্বকাপ বিজয়ী ফ্রান্সের হাতে তুলে দেয়া হবে কাপ। এখানেই তিনি সেই ডেশ্যাম্পসকে শক্ত করে আলিঙ্গন করেছিলেন। এই সেই ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি দলের ক্যাপ্টেন। এখন তিনি চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স দলের ম্যানেজার।
মস্কোতে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানোর পর ফ্রান্সে অভূতপূর্ব সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে জাতীয় দলকে। সূর্য ডোবা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্যারিসে ঢল নামে লাখ লাখ মানুষের। মেট্রোতে উপচে পড়ছিল মানুষ। এখানে ওখানে, বাসস্টপেজে- সর্বত্র শুধু মানুষ আর মানুষ। আতশবাজি, আলোকসজ্জা তো চলতেই থাকে। রাজধানী প্যারিস যেন গাড়িশূন্য হয়ে গিয়েছিল। চারদিকে শুধু তিন রঙা ফরাসি পতাকা উড়ছিল। মানুষের মুখে মুখে বিজয়ের গান। সোমবার বিকালে ফরাসি টিম চ্যাম্পস এলিসি প্রদক্ষিণ করে ছাদখোলা একটি বাসে। এরপরই তাদেরকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে অভ্যর্থনা জানান প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোন। তাদের হৃদয় প্রশস্ত হয়ে গেছে। তারা ইতিহাস নির্মাণ করেছেন। একই সঙ্গে খেলোয়াড় এবং ম্যানেজার হিসেবে তৃতীয় ব্যক্তি হলেন ডেশ্যাম্পস।
প্যারিসের পাশে বন্ডির বানলিউতে বেড়ে উঠেছে তরুণ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলায় টিনেজার হিসেবে পেলের পর গোল করা তিনিই দ্বিতীয় খেলোয়াড়। ফুটবল পাগল প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোন, খেলা চলাকালে প্রেসিডেন্সিয়াল বক্সে তার আনন্দকে ধরে রাখতে পারেন নি। তার কাছে ফুটবল শুধু একটি স্পোর্টসের চেয়ে বেশি কিছু। তিনি ছাত্র থাকা অবস্থায় লেফট-ব্যাক হিসেবে খেলতেন। তাই তিনি খেলাকে উপভোগ করেছেন। তিনি প্যারিসের সারসিলি থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুরু করেছিলেন। সেখানে কিশোর ফুটবলারদের সঙ্গে তিনি বলে লাথি দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছিলেন। হ্যাঁ, ফুটবল তার কাছে অন্য অর্থও বহন করে। নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক বিজয়ের জন্য তিনি ফুটবলকে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠতে পারে। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স যখন বিশ্বকাপ জেতে তখন প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাক। ওই সময়ে আগস্ট মাসে তার জনপ্রিয়তা শতকরা ৪৫ থেকে বেড়ে ৫৯ ভাগে উঠে যায়। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পরবর্তী দেড় বছর পর্যন্ত এই জনপ্রিয়তা শতকরা ৫০ ভাগের উপরে ছিল।
ইমানুয়েল ম্যাক্রোনের জন্য এই বিজয় একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এরই মধ্যে। বলা হচ্ছে, তার চেয়ে যারা কম সৌভাগ্যবান তাদেরকে তিনি তেমন গণ্য করছেন না। এ ছাড়া রাজনৈতিক কারণ তো আছেই। ফ্রান্সে ফুটবল সামাজিক গতি নির্ধারণ করে। এবং তা তিনি প্রমাণ করেছেন। গত বছর নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি মার্সেইলিতে বলেছিলেন, যারা বানউরিয়াস থেকে সরে যেতে চাইছেন সেখানে ‘স্পোর্টস কিলস হাউজ অ্যারেস্ট’। গ্রেটার প্যারিসকে ঘিরে রেখেছে হাউজিং এস্টেটগুলো। বেশির ভাগ অভিবাসী বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস এখানে। স্কুল পরবর্তী বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবের মধ্যে এখানে রয়েছে চমৎকার নেটওয়ার্ক। এসব ক্লাবই হয়ে উঠেছে জাতীয় টিমের বিশাল একটি স্থান। প্রশিক্ষণ এবং মেধা হলো ম্যাক্রোনের দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রে। কীভাবে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় সেই দৃষ্টিভঙ্গি। এক্ষেত্রে ফুটবল একটি উল্লেখ করার মতো প্রতীক।
দ্বিতীয় কারণ হলো, টিমটি নিজেরাই ফ্রান্সের জন্য একটি প্রচারক হয়ে উঠেছে। ১৯৯৮ সালেও এ দেশটি বহু সংস্কৃতির মানুষের হয়ে উঠবে সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত ছিল না। তখন টিমকে বলা হতো ‘ব্লাক, ব্লাংক, বিউর’ হিসেবে।
আট বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ ফুটবলে ফরাসি পক্ষ বড় এক ইগো নিয়ে বসলো। প্রশিক্ষণ সেশনের সময় তারা ধর্মঘটে গেল। তারপর তারা বিশ্বকাপে গেল এবং টুর্নামেন্ট থেকে আউট হয়ে যায়। এ বছর ডেশ্যাম্পস পছন্দের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে নিলেন। খেলার পরে ড্রেসিংরুমে তারা ছিলেন সুশৃঙ্খল। ফ্রান্সকে তো সবটুকু দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কথা বলেছিলেন এমবাপ্পে। আরেকজন গোলদাতা অ্যান্তোনি গ্রিজম্যান টুইট করে বলেছেন, চ্যাম্পিয়ন ডু মন্ডে। ভিভা লা ফ্রান্স।
রাশিয়াতে এই বিজয় উদযাপন করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটাকে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করতে পারেন। টিমকে এভাবে আলিঙ্গন করার চূড়ান্ত কারণ হয়তো এটাই। তিনি এ জন্য খেলোয়াড়দেরকে ডেমোক্রেটিক হিরো বা গণতান্ত্রিক বীর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
(দ্য ইকোনমিস্ট অবলম্বনে)
একসময় দেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছে গ্রাম-গঞ্জের হাটবাজারগুলো সয়লাব হয়ে যেত। এখন আর সেসব মাছ দেখা যায় না। জেলেদের জালেও ধরা পড়ে না। দেশীয় এসব মাছের মধ্যে রয়েছে— কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, ডারকা, মলা, ঢেলা, চেলা, শাল চোপরা, শৌল, বোয়াল, আইড়, ভ্যাদা, বুড়াল, বাইম, খলিসা, ফলি, চিংড়ি, মালান্দা, খরকাটি, গজার, শবেদা, চেং, টাকি, চিতল, গতা, পোয়া, বালিয়া, উপর চকুয়া, কাকিলা, গুত্তুম, বৌরানীসহ প্রায় ৫০টিরও বেশি মিঠা পানির বিভিন্ন ধরনের মাছ।এসব মাছ হারিয়ে যাওয়ার পেছনে অন্তত ১৪টি কারণকে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ।
গ্রাম বাংলায় পৌষ-মাঘ মাসে পুকুর, খাল, ডোবা, ঘেরের পানি কমতে থাকলে দেশি মাছ ধরার ধুম পড়ে যেত। এখন সেসব দেখা যায় না। বর্ষাকালে ধানের জমিতে কইয়া জাল, বড়শি ও চাই পেতে মাছ ধরার রীতিও হারিয়ে গেছে অনেক এলাকা থেকে। যারা একসময় পুকুর, খাল-বিল, ডোবা, নালায় মাছ ধরে পরিবারের চাহিদা পূরণ করতেন, তাদের অনেকেই এখন বাজার থেকে চাষের মাছ কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,দেশীয় মাছ ক্রমশ হারিয়ে যাওয়ার জন্য মূলত অনেকগুলো কারণই দায়ী। এরমধ্যে মধ্যে জলবায়ুর প্রভাব, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, কারেন্ট জালের অবৈধ ব্যবহার, ফসলি জমিতে অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার, জলাশয় দূষণ, নদ-নদীর নব্যতা হ্রাস, উজানে বাঁধ নির্মাণ, নদী সংশ্লিষ্ট খাল-বিলের গভীরতা কমে যাওয়া, ডোবা ও জলাশয় ভরাট করা, মা মাছের আবাসস্থলের অভাব, ডিম ছাড়ার আগেই মা মাছ ধরে ফেলা, ডোবা-নালা- পুকুর ছেঁকে মাছ ধরা, বিদেশি রাক্ষুসে মাছের চাষ  ও মাছের প্রজননে ব্যাঘাত ঘটানো। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই ১৪টি কারণে  ৫০ টির  বেশি দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে।
মৎস্য অধিদফতরের সূত্র বলছে, হারিয়ে যাওয়া দেশি প্রজাতির মাছের সংখ্যা আড়াইশ’র বেশি। হাটবাজার, পুকুর, খাল, বিল কোথায়ও এখন আর মিঠাপানির সুস্বাদু সেসব মাছ মিলছে না। দেশি মাছের বদলে এখন বাজারে জায়গা দখল করে নিয়েছে চাষের পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, ক্রস ও কার্প জাতীয় মাছ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি ও চাষাবাদ ব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির  মাছ। একই সঙ্গে পোনা আহরণ, নেটজাল ও মশারি জাল ব্যবহার করে খালে-বিলে -সাগরে মাছ ধরার কারণেও দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। মৎস্য অধিদফতর সূত্রও বলছে, দুই দশক আগে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে প্রায় আড়াইশ’ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ পাওয়া যেত।
রাজধানীর শান্তিনগর বাজারের মাছ ব্যবসায়ী বরগুনা জেলার আমতলীর বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৫-১৬ বছর আগেও আমাদের এলাকায় মাছ কিনে খাওয়ার তেমন রেওয়াজ ছিল না। কেনার মধ্যে শুধু ইলিশ মাছ কেনার কথাই মনে পড়ে। মাছের প্রয়োজন হলে সবাই বাড়ির সামনে খালে বা নদীতে চলে যেত। খালে, পুকুরে তখন এত মাছ ছিল যে, পানিতে নেমে খালি হাতেও মাছ ধরতে পারতো।’
এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৎস্য খামারি সালাউদ্দিন মুফতির সঙ্গে কথা হয় মোবাইল ফোনে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বাড়িতে দু’টি পুকুর আছে। জন্মের পর থেকেই এই পুকুর দু’টি দেখছি। ২০ বছর আগেও সারাবছর ধরে বাড়ির সবাই পুকুর থেকে  মাছ ধরত। শীতের মৌসুমে পুকুর ‘আউড়ান’ (অনেক মানুষ একসঙ্গে পুকুরে নেমে পানি ঘোলা করা, যেন ঘোলা পানি খেয়ে মাছ দুর্বল হয়ে ওপরে ভেসে উঠে এবং সহজে সেগুলো ধরা যায়) হতো। এরপর জাল, ডালা, খুচন নিয়ে মাছ ধরতে নেমে যেত ছোট-বড় সবাই। কেউ কেউ খালি হাতেও মাছ ধরত। শোল, গজার, টাকি, চিংড়ি, শিং, কই, টেংরা, পাবদা, ফলিসহ বিভিন্ন জাতের মাছ ধরা পড়ত। তবে এখন ওই দুই পুকুরে চেলা, পুঁটি, বেলে ছাড়া কোনও মাছ নেই।’’
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের কলার দোয়ানিয়া গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আসলাম মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘স্থানীয় কলার দোয়ানিয়া বাজারেও হাটের দিন দেশি প্রজাতির অনেক মাছ উঠত। এখন আর সেসব মাছ ওঠে না। বাজার ভরা থাকে চাষের পাঙ্গাস আর তেলাপিয়ায়। মাঝে-মধ্যে সিজনে জাটকাও ওঠে।’
দেশি মাছ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি ইরি ধান ও অন্যান্য সবজিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারকে দায়ী করেন।
গতবছর মার্চ মাসে নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাওর এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠেছিল। সংশ্লিষ্ট জেলার মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ধান পঁচে হাওরের পানিতে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হয়ে অক্সিজেন কমে যাওয়ার কারণেই মাছ মরে গেছে। তবে হাওর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্ভিদ পঁচে অ্যামোনিয়া তৈরি হয় না। অন্য কোনও কারণ আছে। সেগুলোকে খুঁজে বের করতে খুব দ্রুত বৈজ্ঞানিক গবেষণা করতে হবে বলা হলেও তা এখনও করা হয়নি। জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কোনও গবেষণার পরিকল্পনাও  নেই।
এ প্রসঙ্গে মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহম্মদ গোলজার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা বিষয়টি গভীরভাবে মনিটর করছি। বিভিন্ন কারণেই দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। যে মাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে অনেক প্রজাতির মাছ রক্ষায় গবেষণা চলছে। পাবদা, টেংরা, বোয়াল, আইড় মাছ এখন চাষ হচ্ছে। পাঙ্গাসের চাষ হচ্ছে আগে থেকেই। কৈ মাছেরও চাষ হচ্ছে। আরও গবেষণা হবে। দেশি প্রজাতির মাছ রক্ষায় মৎস্য অধিদফতর প্রতিবছরই মৎস্য মেলার আয়োজন করে। একই কর্মসূচি জেলা, উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
পিরোজপুরের কয়েকজন প্রবীণ জানান, একসময় এলাকার বলেশ্বর, সন্ধ্যা ও পায়রা নদীতে দুই কেজি ওজনের ইলিশ পাওয়া যেত। পাওয়া যেত পাঁচ থেকে ছয় কেজি ওজনের বোয়াল ও আইড় মাছ। এমন কোনও মাছ ছিল না যা এ অঞ্চলের বিলে পাওয়া যেত না। এলাকার নলামারা বিলে তারা জাল দিয়ে ১২ কেজি ওজনের কালবাউশ মাছ ধরেছেন। এক সময় ছিল বেলে, ডগরি, কাজলি, ভাঙ্গান, ভোলা প্রভৃতি মাছ খাওয়ার অযোগ্য মনে করে ধরার পর ফেলে দিতেন। এখন আর সেদিন নেই বলে জানান তারা।
দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিভিন্ন কারণেই দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে মানুষের সচেতনতার অভাবও রয়েছে। হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ রক্ষায়  ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এখন পাবদা, টেংরা, বোয়াল, আইড়, পাঙ্গাস ও কৈ মাছের চাষ হচ্ছে।’
প্রেসিডেন্ট পদ ত্যাগ করার পর প্রথমবারের মতো নিজের পিতৃভূমি কেনিয়া সফর করেছেন বারাক ওবামা। সেখানে তার সৎবোন ড. অউমা ওবামার একটি প্রতিষ্ঠানকে সমর্থন দিতে হাজির হয়েছিলেন তিনি। ড. অউমা কেনিয়াতে সাউতি কু নামের একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়েছেন। এর উদ্দেশ্য হলো স্পোর্টস, বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ ও ভকেশনাল সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা। কেনিয়ার গ্রামে বসবাসকারী যুব শ্রেণিকে অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়াই এর লক্ষ্য। একই সঙ্গে পড়াশোনা ও খেলাধুলার মাধ্যমে যুব শ্রেণি এখান থেকে নতুন দক্ষতা অর্জন করবে। এই প্রতিষ্ঠানেই গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। দু’দিনের সফরে তিনি তার পিতার আদি বাড়ি সিয়াইয়া কাউন্টিতে অবস্থিত নইয়াং’ওমা কিগেলো সফর করেন। এই গ্রামেই বড় হয়েছিলেন তার পিতা। এ ছাড়া বোনের ওই প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন ওবামা। সেখানেই তিনি কেনিয়াতে ২৭ বছর বয়সে তিনি প্রথম যখন সফরে গিয়েছিলেন সেই সময়কার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন। তিনি বর্ণনা করেন ড. অউমা ওবামার সঙ্গে কীভাবে তিনি সময় কাটিয়েছেন। এ সময় বোনের এ উদ্যোগ যেন সফল হয় সে কামনা করেন। ওই সেন্টারটি উদ্বোধনের পরে ওবামা সেখানে নাচেন। তিনি বাস্কেটবল খেলেন। অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে এসব দৃশ্য দেখা গেছে। এ নিয়ে ১৫ই জুলাই টুইটারে একটি পোস্ট দিয়েছেন কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা। তিনি লিখেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সফরের সময় তিনি তার সঙ্গে ও ড. অউমা ওবামার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ওবামার দেশে ফিরে যাওয়া নিয়ে তিনি লিখেছেন, আপনি ফিরে এসেছেন এটা আমাদের কাছে পরম আনন্দের। উল্লেখ্য, রাজনৈতিকভাবে ভীষণ বিভক্ত কেনিয়া। সেখানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কেনিয়াত্তা বিজয়ী হওয়ার পর সেই বিভেদ আরো বড় করে দেখা দেয়। এরপর মার্চে প্রেসিডেন্ট কেনিয়াত্তা ও তার রাজনৈতিক বিরোধী নেতা রাইলা ওডিঙ্গা বৈঠক করে ঐকমত্য পোষণ করেন। বিভেদ দূর করে দেন। তাদের এ বৈঠককে বিস্ময়কর হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এবারের সফরে ওই ওডিঙ্গার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা ছিল ওবামার।
ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হচ্ছে। রেলওয়ে পুলিশ সূত্র বলছে, দিনে গড়ে দুজনের বেশি লোক ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাচ্ছে। বেশির ভাগ ঘটনাই অসচেতনতা, রেললাইনের পাশে অবৈধ স্থাপনা, অরক্ষিত রেল ক্রসিংয়ের জন্য হচ্ছে। নানা উদ্যোগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে সুফল  আসছে না। পরিসংখ্যান বলছে বছরের পর বছর ধরে সমানতালেই ট্রেনে কাটা পড়ে মানুষ মারা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রেনে ভ্রমণ করা যতটা নিরাপদ তার চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকি রেললাইন দিয়ে চলাচল। বিষয়টি নিয়ে রেল সংশ্লিষ্টদের আরো তৎপর হওয়া দরকার।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী ট্রেনে কাটা পড়ে দেশে গত সাড়ে ৫ বছরে ৪ হাজার ৮২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিটা ঘটনায় রেলওয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। এর বাইরে কিছু হত্যা মামলাও রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৩ সালে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০২ জনের। ২০১৪ সালে ৮৯৮ জন। ২০১৫ সালে ৮২১ জন। ২০১৬ সালে ৯৭১ জন। ২০১৭ সালে ১ হাজার ২২ জন এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ৭৪ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৪ জন, মার্চ মাসে ৮৫ জন, এপ্রিল মাসে ৬৬ জন, মে মাসে ৯০ জন ও জুন মাসে ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে শুধু ঢাকা অঞ্চলে মৃত্যু বরণ করেছেন ১ হাজার ৭৩৪ জন। এর মধ্যে ২০১৩ সালে ৩১৮, ২০১৪ সালে ৩০৫, ২০১৫ সালে ২৮৫, ২০১৬ সালে ৩০৫, ২০১৭ সালে ৩৪৬ ও ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত ১৭৫ জন। যারা মারা গিয়েছেন তাদের মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, কানে হেডফোন লাগিয়ে রেললাইন ধরে হাঁটার কারণে ৩৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রেললাইনের ওপর বসা বা চলাচলের জন্য ৪৩৮ জন, রেলওয়ে ক্রসিং ও পারাপারের চেষ্টায় ৮৮৬ জন, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ৯৬ জন ও অন্যান্যভাবে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রাজধানীর চকবাজারের হুসেনি দালান এলাকার বাসিন্দা ফরিদ মিয়া (৬০)। পরিবারপরিজন নিয়ে তিনি সেখানেই থাকতেন। ভাঙাড়ির এই ব্যবসায়ী গত ২৮শে জুন মালামাল কিনতে এসেছিলেন মালিবাগ এলাকায়। রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় কমলাপুরগামী একটি ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। গত ১০ই জুন জারিয়া-ময়মনসিংহ রেলপথের ১৮ নম্বর সেতুর পাশে বালুঘাটা এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান আব্দুর রহিম (৫৫)। তার বাড়ি বালুঘাটা এলাকায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আব্দুর রহিম রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। এসময় ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা ২৭২ নম্বর ডাউন ট্রেনটি তাকে কেটে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। চলতি মাসের ২ তারিখে গাইবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন এক স্কুল শিক্ষার্থী। তার নাম মনিরা আক্তার। ওই দিন সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের হাজী গেট সংলগ্ন রেললাইনে এই ঘটনা ঘটে। মনিরা একই ইউনিয়নের উজির গ্রামের মোফাজ্জর মিয়ার মেয়ে। শুধু তাই নয় ১৩ই মে গাইবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত আরো এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওইদিন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ঘটনাটি ঘটে। সান্তাহার থেকে দিনাজপুরগামী দোলনচাপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি মহিমাগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে বোনারপাড়া যাওয়ার পর দেওয়ানতলা ব্রিজ এলাকায় ওই যুবকে ট্রেনটি কেটে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
রেলওয়ে পুলিশ ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছে। তার মধ্যে কানে ইয়ার ফোন দিয়ে রেললাইনে চলা, রেল লাইনের ওপর বসা বা হাঁটা-চলা করা, রেলওয়ে ক্রসিং ও পারাপারের চেষ্টা, ট্রেনের ছাদে উঠে ভ্রমণ ছাড়াও আরো কিছু কারণ। আর যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী, কর্মজীবী, চাকরজীবী, ছোটখাটো ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য পেশার মানুষ রয়েছেন। তবে রেলওয়ে ক্রসিং পারাপারের চেষ্টা ও রেললাইনের ওপর বসা বা চলাচলরত অবস্থায় বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রেললাইনে কাটা মৃত্যুতে পুরুষের সংখ্যা বেশি। এর বাইরে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে রেললাইনে ফেলে রাখার কিছু ঘটনা ও রেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে কিছু যানবাহনের সংঘর্ষে আরো কিছু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াসিন ফারুক মানবজমিনকে বলেন, আমাদের অন্যান্য কাজের মতো ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু রোধ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। রেললাইনের আশপাশের এলাকায় মাইকিং, রেল বস্তি ও রেললাইন দিয়ে চলাচলরত মানুষকে নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করি। লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং করা হয় নিয়মিত। তিনি বলেন, এত কিছুর পরও মানুষকে সচেতন করা যাচ্ছে না। অনেকেই শখ করে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করে। আবার কানে হেডফোন দিয়ে গানশুনে কথা বলে রেললাইন ধরে হাটে। এসব কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই আমাদের সচেতনতার সৃষ্টির পাশাপাশি রেললাইনে চলাচলকারীদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে। না হলে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু বন্ধ করা যাবে না। ইয়াসিন ফারুক বলেন, ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে অনেক সময় হত্যার অভিযোগ করেন। এসব বিষয় আমরা খতিয়ে দেখি। ফরেনসিক রিপোর্ট দেখে যদি হত্যার আলামত পাওয়া যায় তবে এক্ষেত্রে আমরা হত্যার তদন্ত করে থাকি।
রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়েই মৃত্যু হচ্ছে হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে দুর্বৃত্তরা মানুষ হত্যা করেও অপরাধ ঢাকতে রেললাইনে মরদেহ ফেলে রেখে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা। ১৪ই জুন রাজধানীর খিলগাঁও বাগিচা মসজিদ সংলগ্ন রেললাইন থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী সেলিনা পারভিনের ছেলে সুমন জাহিদের মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ। বাসা থেকে ডেকে নেয়ার দুই ঘণ্টার মাথায় তার মরদেহ রেললাইনের পাশে পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে ট্রেনে কাটা পড়েই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে রেললাইনে ফেলে রেখে গেছে। পরে ট্রেন এসে কেটে চলে গেছে। কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি চৌধুরী মঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন সুমন জাহিদ। এরপর থেকে অজ্ঞাতনামা লোকেরা তাকে নানাভাবে হুমকি দামকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগও করেন তার পরিবার। গত বছরের ২৯শে নভেম্বর কোটচাঁদপুরে রেললাইনের ওপর থেকে শফিউদ্দিন শফি (২৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে জিআরপি পুলিশ। উদ্ধার করা লাশের দুই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন এবং দেহের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তিনি উপজেলা শহরের গাবতলাপাড়ার মৃত মনিরুদ্দিনের ছেলে। নিখোঁজ থাকার পর তার মরদেহ রেললাইনে পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, হত্যার পর লাশটি পরিকল্পিতভাবে রেললাইনের ওপর ফেলে রাখা হয়েছিল।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, শখের বশে, সিট সংকট অথবা প্রচণ্ড গরমে বাতাসের জন্য অনেকেই ট্রেনের ছাদে উঠেন। এর বাইরে অপকর্ম করতে অনেকেই ছাদে উঠে। বিশেষ করে মাদকসেবীরা নির্বিঘ্নে সেখানে বসে মাদক সেবন করে। ছিনতাইকারীরা ছিনতাই করে। আবার পূর্বশত্রুতার জের ধরে অনেকেই ধাক্কা মেরে ফেলে দিচ্ছে। আবার অন্যত্র হত্যা করে ট্রেনের ওপর থেকে ফেলে দেয়া। অপরাধ ঢাকতে এমন পথ অবলম্বন করে অপরাধীরা। কারণ ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যুতে সাধারণত আসামিকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে অনেক সময় থানায় মামলা হয়। তবে মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি থাকে না।
দিন পার হলে ঘটনাটিকে শুধুই অসাবধানতা বশত মৃত্যু হিসাবে ধরে নেয়া হয়। সূত্র বলছে, এসব অভিযোগে প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষী খোঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। চলতি বছরের ২৪শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয় নরসিংদির ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সাকিব খান। সে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। পরে ওই দিনই রেলওয়ে পুলিশ ঢাকার বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের ছাদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। সাকিব নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের হোমিও চিকিৎসক মো শরফুউদ্দিনের ছেলে। মা পারুল বেগম ফুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। সাকিবের বাবার অভিযোগ ছিল, স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। ফেসবুকে নরসিংদীর স্থানীয় এমপির ছবির নিচে খারাপ কমেন্টস করার জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। 
বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শামসুউদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, অসচেতনতার জন্যই রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এ নিয়ে রেলওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। জনসচেতনতার জন্য লিফলেট, মাইকিং, পোস্টারিং, সভা করা হয়। আর হত্যার অভিযোগ এলে তদন্তও রেলওয়ে পুলিশ করে।
বাংলাদেশে ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসায় ৮টি বিভাগীয় শহরে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ৮টি হাসপাতাল নির্মিত হবে বলে জানিয়েছেন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এতে করে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সময় ও অর্থ বাঁচবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল  এসোসিয়েশন মিলনায়তনে ‘ক্যানসার চিকিৎসায় আত্ম-সামাজিক বাধা দূর করতে মিডিয়ার ভূমিকা’- শীর্ষক আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, দেশে ক্যানসার রোগী বাড়ছে। কিন্তু চিকিৎসা অপ্রতুল। ক্যানসার রোগের চিকিৎসা সুবিধা খুবই কম, এজন্য সুবিধা বাড়াতে হবে। বর্তমানে এনআইসিআরএইচ এ ৩০০ বেড রয়েছে, যা ১৬ কোটি মানুষের চাহিদা মেটাতে অপ্রতুল। বাংলাদেশে প্রতি তিন হাজার ক্যানাসার রোগীর বিপরীতে মাত্র ১টি করে শয্যা বরাদ্দ আছে। তবে বিকেন্দ্রিকরণের মাধ্যমে ৮টি বিভাগীয় শহরে ১০০ শয্যা উপযোগী ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। ফলে যতটুকু ঘাটতি আছে সেটা হয়ে যাবে। তিনি বলেন, যে দেশে ৬০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে অসংক্রামক রোগে এর মধ্যে ক্যানসার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এর জন্য পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত সচেতনতা জরুরি। কারণ ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর পানি দূষণ, ইটভাটার পরিবেশ দূষণ এবং মানুষের লাইফস্টাইলের পরিবর্তন ক্যানসার চিকিৎসার জন্য অনেকাংশে দায়ী। তাছাড়া ক্যানসার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় খরচও বেশি হয়ে থাকে।
এমনকি এই রোগের চিকিৎসায় ৪ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যায়। তবে প্রাথমিক স্তরে রোগ শনাক্তের মাধ্যমে চিকিৎসা নিলে সুস্থ থাকা সম্ভব। এজন্য সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের নিয়মিত  স্বাস্থ্য চেক-আপ করা করাতে হবে। ধনীরা নিয়মিত চেক-আপ করান। কিন্তু গরিবরা করান না। এটা শুরু করতে হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, দেশে নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ বাড়লেও প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, ভারত পাকিস্তানের তুলনায় দেশের স্বাস্থ্যখাত অনেকদূর এগিয়ে গেছে। মূলত সরকারের হেলথ সেক্টর কাজ করছে বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। এমনকি এমডিজি অর্জনেও এগিয়ে আছে। ইতিমধ্যে আমরা পোলিও, টিটেনাস, রাতকানা নির্মূলে সক্ষম হয়েছি। ডায়রিয়ার প্রকোপ কমিয়েছি। কিনু্ত অসংক্রামক রোগ ক্যানসারের চিকিৎসায় অবকাঠামো ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, যন্ত্রপাতি ও জনবলসহ অনেক কিছুই ঘাটতি আছে। এজন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
বাংলাদেশ হেল্‌থ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোয়াররফ হোসেন, বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির মহাসচিব ডা. এসএম আবদুর রহমান, ক্যানসার  বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এমএ হাই, বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দীন ফারুক, রশ বাংলাদেশের হেড অব মেডিকেল ডা. ফারজানা হক প্রমুখ। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট হাসপাতালের এপিডেমোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জহিরুল ইসলাম।
দরজায় কড়া নাড়ছে নির্বাচন। কী হয়, কী হবে, নানা অনিশ্চয়তা। তারপরও পর্দার অন্তরালে তৎপরতা থেমে নেই। নিজেদের প্রস্তুত করছে রাজনৈতিক দলগুলো। ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে এরই মধ্যে দলের তৃণমূলকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে ধরে নিয়ে সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনই দলটি প্রধান চ্যালেঞ্জ মনে করছে। ওদিকে, নানা অনিশ্চয়তার পরও বিএনপি নির্বাচনের এক ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটি এখন সবচেয়ে বেশি চেষ্টা করছে অপেক্ষাকৃত প্রগতিশীল মনোভাবাপন্ন দলগুলোর সমন্বয়ে একটি বৃহৎ জোট গঠনের জন্য। বিএনপির পক্ষ থেকে একে জাতীয় ঐক্য নামে অভিহিত করা হচ্ছে। এ জাতীয় ঐক্যের জন্য বিএনপি সর্বোচ্চ ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যের প্রচেষ্টায় বিএনপির পক্ষ থেকে গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাসদ (রব), কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ, বিকল্প ধারা, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এখনও দলগুলোর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বেশিরভাগ দলই অভিন্ন স্বার্থে এ জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে একমত হয়েছে। শুরুর দিকে ভিন্ন মঞ্চ থেকে অভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হতে পারে। তবে, বেশ কিছু জটিলতাও এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে। ২০ দলীয় জোটের ভেতরও কিছু টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব বাড়ছে। সিলেট সিটি করপোরেশনে জোটের বাইরে গিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে মেয়র পদে প্রার্থী দেয়া হয়েছে। অন্য সিটিগুলোতে জামায়াতের প্রার্থী না থাকলেও বিএনপির পক্ষে সেভাবে সরব নেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের অবস্থান কোন দিকে যায় সেদিকে দৃষ্টি থাকবে পর্যবেক্ষক মহলের। জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদ সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
তবে, বিএনপির বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব, প্রলোভন আর চাপ এ তিনটি বিষয়ই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলেন, একটি সিটি নির্বাচনে একজন বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই প্রার্থী হতে হয়েছে। এরআগে নানা চাপ এবং প্রলোভনে ২০ দলের শরিক বেশ কয়েকটি দলের মধ্যে ভাঙন দেখা দেয়। সামনের দিনগুলোতে এমন পরিস্থিতি আরো প্রবল হতে পারে। তবে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় সম্ভাব্য জোটের নেতৃত্ব কে দেবেন তা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। যদিও পরিস্থিতির পরিবর্তনে এ নিয়ে ছাড় দিতেও বেশিরভাগ দল প্রস্তুত রয়েছে বলে একটি সূত্র জানাচ্ছে। এক্ষেত্রে জোটের নেতৃত্বে বড় ধরনের চমকও থাকতে পারে। সরকারের অংশীদার জাতীয় পার্টির আগামী দিনে কী ভূমিকা হতে পারে তা নিয়েও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে আলোচনা রয়েছে।
অতীতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নানা নাটকীয়তা তৈরি করেছিলেন। যদিও বিএনপির সঙ্গে কখনও তার নির্বাচনী ঐক্য হয়নি। চার দলীয় জোট গঠনের সময় এরশাদ ঐক্যের কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেও পরে জোট ত্যাগ করেন। এখন জাতীয় পার্টিতে রওশন এরশাদও একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন। তবে, আগামীদিনে মহাজোটে জাতীয় পার্টির স্থান অন্য একটি দল নিতে পারে এমন গুঞ্জনও রয়েছে। যে দলটি এখন বিএনপির ঐক্য প্রচেষ্টার আলোচনাতেও আছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। এর আগে পরে রাজনীতিতে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও সর্বত্রই ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। এবং এ নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এমন কোনো ঘটনাও ঘটেনি। কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতেও কঠোর অবস্থান নিয়ে ক্ষমতাসীনরা সর্বত্র একটি বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। সামনের দিনগুলোতেও যে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে তা বলাই বাহুল্য।
নানা ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলো কিছু নড়াচড়ার চেষ্টা করলেও সরকারের যে তা পছন্দ হয়নি তা তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশকে নিয়ে চীন-ভারতের এক ধরনের ঠান্ডা লড়াইয়ের খবর মাঝে মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বেরোয়। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে দিল্লিকে এটা বুঝানোর চেষ্টা হয়েছে যে, চীনের অবস্থান শুধুই বাণিজ্যিক। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানি এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তার জামিনে মুক্তির ব্যাপারে এখন বিএনপির হেভিওয়েট আইনজীবীরাও কোনো আশার কথা বলছেন না। দলটি শেষ পর্যন্ত এ ইস্যুতে কী কৌশল অবলম্বন করে, আদৌ কোনো কৌশল অবলম্বন করতে পারে কি-না সেদিকেও খেয়াল রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।
প্রকাশ্যে রাজনীতি এখন স্থির। সর্বত্র নিয়ন্ত্রণ। পর্দার আড়ালে জোট রাজনীতিতে নড়াচড়া চলছে। সামনের দিনগুলোতে তা আরো তীব্র হবে। যদিও তীব্র প্রতিযোগিতার কোনো আভাস নেই।
রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সচেতন করে তুলতে প্রচারণা শুরু করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট স্টেট কোরাপশন’ শীর্ষক এক সংবাদ  সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেন। বলেন, রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি বাংলাদেশকে শেষ করে ফেলছে। দুর্নীতির মাধ্যমে সমাজের মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের কাছে চলে যাওয়া টাকা শেষ পর্যন্ত দেশে না থেকে পাচার হয়ে যায়। এখন প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়।
যেগুলো আর কখনো ফিরে আসে না। গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির তথ্য মতে ২০০৫ থেকে ২০১৪ এই দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে কমপক্ষে ৬ লাখ কোটি টাকা। যার মধ্যে ২০১৪ সালে হয়েছিল ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের নিরিখে ২০১৪ সালকে ভিত্তি ধরে এটা যৌক্তিকভাবে অনুমান করাই যায় পাচারের অঙ্ক এখন বছরে কমপক্ষে ১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তিনি বলেন, মানুষকে দুর্নীতির বিষয়ে সচেতন করতে তাদের যথেষ্ট তথ্য দিতে হবে।
এর মাধ্যমে মানুষকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন করতে হবে। মানুষের এই জানাশোনা, সচেতনতা তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রণোদনা যোগাবে। মান্না বলেন, যত দ্রুত সম্ভব আমরা অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই। তাই ক্যাম্পেইন এর জন্য যতগুলো মাধ্যমে সম্ভব আমরা প্রচারণা চালিয়ে যেতে চাই। আমাদের এই লড়াইয়ে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানাব। কারণ, এই সমস্যা আমাদের সকলের। আমরা একটি ফেসবুক পেজ খুলেছি।
সেখানে রাষ্ট্রীয় ও অন্যান্য দুর্নীতির তথ্য দেব। আশা করি সকলে নিজের জায়গা থেকে দুর্নীতির তথ্য আমাদের পেজে দিয়ে সহযোগিতা করবেন। তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে খুব সহজেই দুর্নীতির তথ্যগুলো পৌঁছে যাবে। মান্না বলেন, বাংলাদেশের দুর্নীতি এতটাই সর্বগ্রাসী যে শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেই না, ছড়িয়ে পড়েছে বেসরকারি সেক্টরেও।
এখন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার নিচে সরকারি একটি পিওনের চাকরিও পাওয়া যায় না। বেসরকারি বিভিন্ন ধরনের সেবা পেতেও ঘুষ দেয়া লাগে। এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে দুর্নীতি হয় না। দেশের বেশির ভাগ মানুষ প্রান্তিক দুর্নীতির সরাসরি ভুক্তভোগী বলে তারা শুধু সেটা সম্পর্কেই কম-বেশি ধারণা রাখে। দুর্নীতি এ দেশে কতটা বীভৎস পর্যায়ে চলে গেছে সেটা তারা অনেকেই জানে না।
তারা এটা বোঝেও না। এই রাষ্ট্রের কাছ থেকে শিক্ষা-স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তাখাতসহ অন্যান্যখাতে তাদের যা যা প্রাপ্য সেসব তারা সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কারণেই পায় না বলে আমরা বিশ্বাস করি। মান্না বলেন, জিডিপি এবং মাথাপিছু আয়ের প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে ক্ষমতাসীন সরকার দাবি করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশে অনেক অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিসংখ্যান আমাদের ভিন্ন গল্প বলে। মেগা প্রকল্প ছাড়াই দেশে এখন প্রতি বছর দুর্নীতি হয় কমপক্ষে ৭৫ হাজার কোটি টাকা।
১০ হাজার কোটি টাকা বাজেটের পদ্মা সেতুর বাজেট এখন ৪০ হাজার কোটি টাকা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার ভূপেন হাজারিকা সেতুর নির্মাণ ব্যয় যেখানে ১১৫০ কোটি টাকা সেখানে ৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় এখনই ৪০ হাজার কোটি টাকা। শেষ হতে হতে কত হাজার কোটি টাকায় পৌঁছবে সেটা দেখার বিষয়। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে প্রতি কিলোমিটার রেললাইনের খরচ ১২ থেকে ৩০ কোটি টাকা। সেখানে ঢাকা-পায়রা বন্দর রেললাইনের খরচ হচ্ছে কিলোমিটার প্রতি ২৫০ কোটি টাকা।
সেতু, রেললাইন, সড়ক, ফ্লাইওভার সব কিছুতে ব্যয় বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় ৪/৫ গুণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ, জনতা ব্যাংক (এননটেক্স গ্রুপ), সোনালী ব্যাংক (হলমার্ক), বেসিক ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সোয়া এক লাখ কোটি টাকা। তিনি বলেন, আজকের পত্রপত্রিকা খুললে দেখবেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ৯৬৩ কেজি স্বর্ণের চাকতি রাখা হয়েছিল সেগুলো ভুতুড়েভাবে মিশ্র ধাতু হয়ে গেছে।
তার মানে রাখা হলো সোনা তা হয়ে গেল তামা- বিষয়টা অনেকটা এমন। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এ ভয়ংকর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে দুর্নীতি হচ্ছে না। এমনকি পৃথিবীর কোনো দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরি ও ভল্টে রাখা সোনা গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা পাওয়া যায় না।  সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের  ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার, কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকার ও মমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
দুই সপ্তাহ ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার  স্বজনরা সাক্ষাৎ করতে পারছেন না। জিয়া অরফারেজ ট্রাস্ট মামলায় তাকে কারাগারে নেয়ার পর থেকে প্রতি সপ্তাহেই তার সঙ্গে একবার সাক্ষাতের সুযোগ পেতেন স্বজনরা। কারাগারে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লেও স্বজনদের সঙ্গে এ সাক্ষাৎ অব্যাহত ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ৩০শে জুন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাদের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়। কিন্তু তারপর থেকে আর সাক্ষাৎ মিলছে না। প্রথমবার কোনো কারণ ছাড়াই সাক্ষাতের সিডিউল বাতিল করা হয়। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে শনিবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের ৫ সদস্য দেখা করতে যান। কিন্তু তাদের অভ্যর্থনা কক্ষে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রেখে কারা কর্মকর্তারা না করে দেন। তারা জানান, অসুস্থতার কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন দোতলা থেকে নেমে আসতে পারছেন না তাই দেখা হবে না। ওদিকে কারাগারে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরাও তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছেন না। এ ঘটনাকে স্বাভাবিকভাবে দেখছে না বিএনপি। দলটির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, কারাগারে প্রাপ্য ডিভিশন পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া। সাক্ষাতের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার খবর জানতে দেয়া হচ্ছে না।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা ঘোষণার পর আদালত ৮ই ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠান। তারপর থেকেই তিনি কারাবন্দি রয়েছেন পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডে কেয়ার সেন্টারে। কারাগারে নেয়ার পর তিনি স্নায়ুবিক ব্যথায় ভুগছেন। সার্ভাইকাল স্পনডাইলোসিস রোগের ভয়াবহতার কারণে তার বাম হাত ও বাম পা ফুলে যায়। ইতিপূর্বে তাঁর দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করায় তিনি একজন বিশেষ পরিচর্যা সাপেক্ষ রোগী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ জটিল নানা রোগে আক্রান্ত। কারাগারে নেয়ার পর প্রতিরাতে তার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। লাল হয়ে যায় ডান চোখ। তিনি ঠিকমতো হাঁটা-চলাও করতে পারছেন না। কিন্তু এত কিছুর পরও বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়নি সরকার। বিএনপি’র তরফে বারবার দাবির ও শান্তিপূর্ণ নানা কর্মসূচি পালনের পর সরকারি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল টিম গঠন করে কারা কর্তৃপক্ষ। খালেদা জিয়ার প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ৭ই এপ্রিল তাকে নেয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। সেখানে তার কয়েকটি এক্স-রে করা হলেও বিশেষায়িত কোনো চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়নি। এরপর বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তির মাধ্যমে তার বিশেষায়িত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। তারই অংশ হিসেবে তারা বারবার আবেদন করেছেন কারা কর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ডিআইজি প্রিজনের সঙ্গে সাক্ষাতও করেছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে পালন করেছেন নানা কর্মসূচি। এমন পরিস্থিতিতে ৫ই জুন কারাগারে মাথা ঘুরে পড়ে যান খালেদা জিয়া। চিকিৎসা বিদ্যায় যেটিকে টিআইএ (ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক) বলে জানান চিকিৎসকরা। এরপর তাকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়ার দাবিটি জোরালো হয়। একই দাবিতে সর্বশেষ ৯ই জুলাই ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।
১২ই জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছিলেন, কারাবিধি লঙ্ঘন করে ১১দিন ধরে পরিবারের লোকজনসহ কাউকেই দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। কারাবন্দি হিসেবে খালেদা জিয়ার যে সাংবিধানিক অধিকার পাওয়ার কথা সেটি থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। কারাবিধি অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের দেখা না করতে দেয়া তার এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘন। কারাবিধি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেছিলেন, খালেদা জিয়া কারাবিধির ৬১৭ বিধি অনুসারে ডিভিশন-১ প্রাপ্ত হন। আর ডিভিশন-১ প্রাপ্ত বন্দির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য কারাবিধির সপ্তদশ অধ্যায়ে (বিধি-৬৬৩-৬৮১) বর্ণিত অধিকারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার রাজনৈতিক সহকর্মী-বন্ধুবান্ধবের সাক্ষাৎকারের বিষয়টিও বিশদভাবে বলা আছে। এছাড়া খালেদা জিয়া তার সাজার মামলায় জামিনে আছেন তাই তাকে সাজাপ্রাপ্ত বন্দি নয়, বিচারাধীন মামলায় বন্দি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সে হিসেবেও কারাবিধির সপ্তবিংশ অধ্যায়ে (বিধি-৯০৯-৯১০) অনুসারে তিনি প্রথম শ্রেণির ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি। সেখানেও তার রাজনৈতিক সহকর্মী-বন্ধুদের সাক্ষাতের অধিকার বিধি-৬৮২তে দেয়া আছে। সেদিন বিএনপি মহাসচিব আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, আমরা আশঙ্কা করছি- খালেদা জিয়াকে পৃথিবী থেকেই সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে কিনা।
বিএনপি মহাসচিবের সে ব্রিফিংয়ের পর কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ১৪ই জুলাই খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান তার বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা। বিকাল ৫টার দিকে তারা কারাগারে প্রবেশ করে প্রায় একঘণ্টা অপেক্ষা পর বেরিয়ে আসেন। পুরো সময়টা তারা অপেক্ষায় ছিলেন কারাগারের ভেতরে ভিজিটিং রুমে। কারাগার থেকে বেরিয়ে সেলিনা ইসলাম গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, সাক্ষাতের অনুমতি মিললেও খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে নিচে নামতে না পারায় দেখা হয়নি। যতটুকু জেনেছি, খালেদা জিয়া জ্বরে ভুগছেন, তার শরীরের ব্যথা রয়েছে। যার কারণে তিনি দোতলা থেকে নেমে নিচতলায় আসতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আগে উপরে গিয়ে তার (খালেদা জিয়ার) রুমের পাশে করিডোরে দেখা করতাম। কিন্তু আজকে সে অসুস্থ জানানো হলেও আমাদের উপরে যেতে দেয়নি। আমরা তার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার খবর জানতে না দেয়ার জন্যই তার সঙ্গে সাক্ষাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত গতকাল এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে কতটুকু অসুস্থ সে খবরও জানতে দিচ্ছে না কারা কর্তৃপক্ষ। তার পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে গেলে তাদের দোতলায় যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। আসলে কারা কর্তৃৃপক্ষ দেশনেত্রীর চিকিৎসা নিয়ে শুধু উদাসীনই নয়, সরকারের নির্দেশে কোনো ভয়ঙ্কর মাস্টারপ্ল্যানের দিকে এগুচ্ছে কী না তা নিয়ে জনমনে এক বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী বন্দির সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় জেলার সাক্ষাতের দিনক্ষণ নির্ধারণ করেন। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশের সবচেয়ে বড় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
তিনি একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী। সর্বোপরি একজন সত্তরোর্ধ্ব বয়স্ক অসুস্থ নারী। সে অনুযায়ী তার স্বজন, পরিবারের সদস্য, আইনজীবী ও চিকিৎসকরা প্রতি সপ্তাহে দেখা পাওয়ার কথা। কিন্তু সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষ তার কিছুই গ্রাহ্য করছে না। স্বজনদের যেমন সাক্ষাতের সুযোগ দিচ্ছে না, তেমনি আমরা আইনজীবী এবং তার চিকিৎসকরাও সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছি না।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক পরিসরে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া আগামীতে প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণের কাজে আংশিকভাবে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তির মুখে এ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। সংখ্যা নির্ধারণ না হলেও কমিশন ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ ইভিএম ক্রয়ের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে সারা দেশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ইভিএমের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে ইভিএমকে পরিচিত করার লক্ষ্যে সারা দেশে ইভিএম মেলা আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে কমিশনের। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ গতকাল বলেন, আগামী দিনগুলোতে যত ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে সেখানে আমরা ইভিএম ব্যবহার করবো। যদি এখানে আমরা কার্যকরী ফলাফল পাই তাহলে আগামী সংসদ নির্বাচনেও কিছু কিছু কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করার চিন্তা থাকবে। তবে ব্যবহার করা হবে কি হবে না এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ইভিএম ব্যবহার করার জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।
তারপর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও মতবিনিময় করার সিদ্ধান্ত আছে। এ ছাড়া আরপিও সংশোধনীর বিষয় তো আছেই। সব কিছু মাথায় রেখেই নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ইভিএমে ওপর পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) এ প্রশিক্ষণ আয়োজন করছে। গত শনিবার উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রথম ব্যাচের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। গতকাল দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইভিএম সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশিক্ষণ দেবে ইসি। এমনকি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। গণমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ রোধে সাংবাদিকদেরও ইভিএমের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হতে পারে। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ইভিএমের ওপর পর্যায়ক্রমে সবাইকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। যেন এর সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক বলেন, ইভিএমের ওপর প্রশিক্ষণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। শুধু সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে নয়, সব নির্বাচনের জন্য কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ থাকা উচিত। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ইভিএমকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করার জন্য দশটি অঞ্চলে মেলা করার চিন্তা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বরিশাল অঞ্চলে একটি মেলা করা হয়েছে সেখানে বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবেও একটি মেলার করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে এসব মেলা আয়োজন করবে ইসি। এজন্য প্রতিটি জেলাতে দুটি করে ইভিএম মেশিন পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গত ১৫ই মে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশনের পর আসন্ন গাজীপুর নির্বাচনেও চারটি কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করে ইসি।
বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি নির্বাচনের পর আগামীতে স্থানীয় নির্বাচনের যেকোনো সিটি, উপজেলা কিংবা পৌরসভায় এককভাবে ইভিএম ব্যবহার হতে পারে। ইসি সূত্র জানায় আগামীতে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের পরিধি বাড়াতে ২৫৩৫টি নতুন মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে ইভিএম ক্রয় করছে ইসি। প্রাথমিকভাবে ২৫৩৫টি ইভিএম ক্রয়ের পরে আরো ১৫০০ সেট কেনার জন্য প্রস্তুতি চলছে। সংসদ নির্বাচনের আগে ১০ হাজারের উপর ইভিএম কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের ৪২ হাজার কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইভিএমগুলোর প্রতিটির দাম পড়ছে গড়ে প্রায় ২ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএমে ব্যবহারে সফলতা পেলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করবে ইসি। এজন্য ইতিমধ্যে সংসদ নির্বাচনে ব্যালটের পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করতে যাচ্ছে কমিশন। এর আগে সিইসি কেএম নূরুল হুদা জানিয়েছিলেন, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি নেই ইসির। রাজনৈতিক দল ও ভোটাররা সর্বসম্মতি দিলেই নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হতে পারে। ইসির সঙ্গে সংলাপে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০শে জুলাই অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটিতে ভোট। কমিশন সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে এসব নির্বাচনে ইভিএমের পরিধি বৃদ্ধি করেছে। এর মধ্যে বরিশাল সিটিতে ১০টি এবং রাজশাহী ও সিলেটে দুটি করে কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট নেয়া হবে। এর আগে সিটি নির্বাচনে বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটিতে একটি করে ওয়ার্ডে ইভিএমে নির্বাচন করে।
গত সিটি নির্বাচনে বুয়েটের তৈরি ইভিএমে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রাজশাহী সিটির পিটিআই কেন্দ্রে রণক্ষেত্র তৈরি হয়। ইভিএমের কারণে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া বিতর্কিত হয়ে পড়ে। সর্বপ্রথম এক এগারোর সময়কার এটিএম শামসুল হুদা কমিশন স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএমের প্রচলন ঘটায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সহায়তায় প্রথমে ২০১০ সালে এ প্রযুক্তির ৫৩০টি মেশিন কেনা হয়। ব্যবহার করতে গিয়ে ইভিএমে নানা যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। পরে ২০১১ সালে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) প্রস্তুত করা ৭০০ ইভিএম কেনা হয়। এগুলোও পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ছিল না। শামসুল হুদা কমিশন ২০১১ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ২১নং ওর্য়াডে বুয়েটের ইভিএম ব্যবহার করে। পরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি, টাঙ্গাইল পৌরসভা ও নরসিংদী পৌরসভায় এ প্রযুক্তি ব্যবহার হয়। পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় হুদা কমিশনের স্থলে বিধির নিয়মে নতুন কমিশন হিসেবে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদায়ী রকিব উদ্দিন কমিশন দায়িত্ব নেয়। তাদের মেয়াদে রাজশাহী সিটিতে ২০১৩ সালে ইভিএম ব্যবহার করে পুরো বিতর্কের মধ্যে পড়ে যায় ইসি। পরে কমিশনার হিসেবে মেয়াদ পূর্ণের আগে ইভিএম ব্যবহার করেনি। তবে, নতুন ইভিএমের প্রচলন চালু রেখে যায়। আর গত ফেব্রুয়ারিতে কেএম নূরুল হুদার কমিশন দায়িত্বে এসে কমিটি করে পুরনো ইভিএমকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। নতুন প্রবর্তিত ইভিএমে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ১৪১নং কেন্দ্রের ৬টি কক্ষে ব্যবহার করে। কিন্তু পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত হয়নি। পুরনো ইভিএমের মতো ত্রুটি নিয়ে নির্বাচন শেষ করে। এরপর গাজীপুর নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ধীরগতিতে ভোটগ্রহণ ও ভোটারদের ভোগান্তিতে ফেলার অভিযোগ আসে। ওই নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের অভিযোগ পাওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাম্প্রতিক কোটাবিরোধী আন্দোলন প্রচ্ছন্নভাবে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটার বিরুদ্ধেই আন্দোলন। গতকাল মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিভাতা ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে সরাসরি (জিটুপি) মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাংক হিসাবে প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের প্রয়োজনীয় সংখ্যায় পাওয়া না গেলে সুপ্রিম কোটের একটি নির্দেশনার আলোকে সরকার মেধা তালিকা থেকে শূন্য পদ পূরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আদালতের নির্দেশ অমান্য করতে পারি না এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা বাতিল করতে পারি না। কাজেই আমরা কেবিনেট সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি- এই বিষয়টি দেখার জন্য। কোটা নিয়ে আদালতের রায়ের বিষয়ে টকশোতে আসা বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার দুঃখ হয়, তারা এ ধরনের ভুল কী করে করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে কক্সবাজার জেলার সুবিধাভোগী, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অ্যাকাউন্টে এই সম্মানিভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরূপ চৌধুরী এই প্রকল্প এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করেন। মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে সরকার গঠনের পর সরকারি চাকরির জন্য কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে পাওয়া যেত না। ফলে, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং নাতি-নাতনিদের অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যাতে রাষ্ট্রপরিচালনায় মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণ থাকে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বেসরকারি টেলিভিশনের ‘টক শো’ কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা করে বলেন, কিছু বুদ্ধিজীবী যাদের আদালতের রায় সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই তারা ‘টক শো’তে যখন মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরুদ্ধে কথা বলেন তখন আমার দুঃখ হয়। আন্দোলনের নামে কতিপয় ছাত্র ভিসির বাড়িতে আক্রমণ করে লুটপাট করেছে। এর চেয়ে গর্হিত কাজ শিক্ষার্থীর জন্য আর কী হতে পারে। সেটা নিয়ে তারা কোনো উচ্চবাচ্য করেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে ভিসির (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি) বাড়িতে আক্রমণ, তাকে হত্যার প্রচেষ্টা এবং ভাঙচুর ও লুটপাট, একেবারে বেডরুমে ঢুকে লুটপাট চলেছে। অরাজক পরিস্থিতি দেখে আমি বলেছিলাম, ‘ঠিক আছে কোটা থাকবে না।’ কোটা থাকবে না কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এটাও দেখতে হবে স্বাধীনতাবিরোধী যারা যুদ্ধাপরাধী তারা যেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে বা রাষ্ট্রীয় কোনো পজিশন না পায়, সেটাও দেখতে হবে। আপনারা জানেন যে, হাইকোর্টে একটা রিট হয়েছিল। সে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট হুকুম দিল, এই ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে, না হলে পদ শূন্য থাকবে।
এটি যখন আপিল বিভাগে যায় তখন আপিল বিভাগ একটা রায় দেয়- ‘কোটা পূরণ করে যদি কোনো শূন্য পদ থাকে তাহলে মেধা তালিকা থেকে তা পূরণ করা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে তার সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য ভাতা বৃদ্ধি, বিজয় দিবস এবং নববর্ষে ভাতার ব্যবস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের বিনা পয়সায় যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি, বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং প্রয়োজনে বিদেশে গিয়েও চিকিৎসা গ্রহণের সুবিধা, সারাদেশের জেলা-উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স গড়ে তোলা প্রভৃতির উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে কারো কাছে হাত পেতে আমাদের চলতে হয় না। আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির শতকরা ৯০ ভাগ আমাদের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বাস্তবায়নের সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি। আজকের বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।’ তিনি বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছি, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হচ্ছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ৭ দশমিক ৭৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, দারিদ্র্যের হার কমেছে। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য নিয়ে তার সরকার যাত্রা শুরু করেছিল, আজকে দেশ ক্ষুধামুক্ত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, যাদের মহান আত্মত্যাগে এই স্বাধীনতা, তাদের জন্য আমরা যে ভাতার ব্যবস্থা করেছি, আমি জানি কাউকে ভাতা দিয়ে সম্মান দেয়া যায় না। কিন্তু, আমি চাইনা তারা কেউ কষ্ট পাক। এ কারণেই, এই উদ্যোগটা আমরা নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে সারা বাংলাদেশে যেখানেই মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে, এই ভাতার টাকা সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
বরিশাল এখন পোস্টার আর মাইকের নগরীতে পরিণত হয়েছে। পুরো নগরীতে পোস্টার আর পোস্টার। দুপুরের পর থেকেই একাধিক মাইকের শব্দে কান ঝালাপালা। ধানের শীষের পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মাঠে নেমে পড়েছেন স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আগেই মাঠে নেমে পড়েছেন তৃণমূল কর্মীরা। জাপা, ইসলামী আন্দোলনও পিছিয়ে  নেই। পাড়ায় মহল্লায় ওয়ার্ড কাউন্সিলরদেরও চলছে বিরামহীন প্রচারণা। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন পর বরিশালে ফিরে এসেছে নির্বাচনী পরিবেশ।
বরিশালে আগামী ৩০শে জুলাই অনুষ্ঠেয় সিটি নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে নানা শঙ্কা থাকলেও প্রার্থীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রচার প্রচারণা নিয়ে। এটাই স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছে সাধারণ ভোটারদের মাঝে। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ মেলেনি। বড় দল দু’টি একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনলেও তা খুব একটা আমলে নেয়নি নির্বাচন কমিশন।
বরিশালে এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মীর্জা আব্বাস সরোয়ারের পক্ষে এলাকায় এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। একসঙ্গে ১৫/২০টি অটো নিয়ে হচ্ছে ধানের শীষের মিছিল। মাইকে মাইকে চলছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেবার প্রচারণা। সম্ভবত এবারই প্রথম সরোয়ারের পক্ষে চান শিরিনসহ জেলা ও মহানগরের সব নেতা মাঠে নেমেছেন। এভাবে প্রচারণা চলতে থাকলে বিএনপির শঙ্কিত ভোটাররাও মাঠে নেমে আসবে বলে মনে করছেন জেলা যুবদল সভাপতি পারভেজ আকন বিপ্লব।
অপরদিকে প্রথম থেকেই আওয়ামী লীগের ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চলছে নগরীতে। একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বরিশাল এসেছেন। কেউ কেউ প্রচারণা করে ঢাকাও চলে গেছেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম মুরাদ, ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, অ্যাডভোকেট আফজাল হেসেন, সুুদিপ রায়, বলরাম পোদ্দার অন্যতম। এর মধ্যে অ্যাডভোকেট ফজলে নুর তাপস এবং অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রচারণায় অংশ নেননি।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস  গণসংযোগ করেছেন। তবে এখনও কেন্দ্রীয় কোনো নেতা বরিশালে এসে তার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেননি। এ সময় ইকবাল বলেন, ‘নগরবাসী আমাকে তাদের মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করলে নগর ভবন নয় এটা হবে সেবক ভবন।’
এদিকে দিনরাত প্রচার প্রচারণা চললেও বরিশালের ভোটাররা এখনও সতর্ক। প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। সবাইকেই আশ্বস্ত করছেন। হোটেল বা রেস্তরাঁয় চায়ের কাপে ঝড় নেই। কেউ কাউকে তার মনের কথাটিও বলতে সাহস পাচ্ছেন না। নির্বাচন কমিশনের এবং প্রশাসনের আশ্বাসে নির্বাচনী পরিবেশ ফিরে এলেও নির্বাচনের ২/৩দিন আগে বোঝা যাবে নির্বাচন কেমন হবে- এ বক্তব্য প্রায় সব ভোটারের।
এদিকে এক প্রার্থী অপর প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে একের পর এক অভিযোগ করে চলেছেন। এখন পর্যন্ত বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ৭ এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির ৫টি অভিযোগ জমা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার হেলাল উদ্দিন খান বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকি করতে বরিশাল জেলা প্রশাসনের ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে আইনি সহায়তা দিতে ৩০শে জুলাই নির্বাচন কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে থাকবেন।’
নতুন করে ঢাকা শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য চারটি বেস লাইন ঠিক করা হয়েছে। ওই বেস লাইন অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে ১৫ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বেস লাইন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করলে আগের চেয়ে এ সংখ্যা কয়েক গুণ ছাড়িয়ে যাবে। কারণ এর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর সমীক্ষা সঠিকভাবে করা হয়নি। আগের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকার সঙ্গে ভবনগুলোর প্রকৃত অবস্থা এবং তাতে বসবাসরত লোকের সংখ্যা সংক্রান্ত প্রকৃত কোনো তথ্য নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮শে জুন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহিদউল্লাহ খন্দকারের সভাপতিত্বে ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর প্রকৃত অবস্থা রিভিউ করতে উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, রাজউক কর্তৃক চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বর্তমান সংখ্যা ৩২১টি। এর মধ্যে বাহ্যিক পরিদর্শনে অতীব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা ৩৫টি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা ২২০টি, ভেঙে ফেলা হয়েছে ২৫টি, নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে ২৮টি, ২০১০ সালে জরিপে ছিল কিন্তু ২০১৬ সালে খুঁজে পাওয়া যায়নি ১৩টি। এসব ভবনকে নোটিশ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধির বক্তব্যের পর ওই সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা বলেন, রাজউক কর্তৃক চিহ্নিত ৩২১টি ভবনের বাইরেও আরো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থাকতে পারে। এছাড়া এর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার সময় বেস লাইন হিসেবে কি নির্ধারণ করা হয়েছে ওই বিষয়টিও জানা থাকা দরকার। একই সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাশিদা বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সভায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে দুইটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মালিক ও কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভবনে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয়া। এছাড়া চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে রাজউক বা সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা লাল রংয়ের সাইনবোর্ড লাগাবে। যাতে লেখা থাকবে ‘ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং এ ভবনে বসবাস করা নিরাপদ নয়’। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নিয়ে আলোচনার পর মতামত দিতে ১৫ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে ও সদস্য সচিব রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ)। এ কমিটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ, ভবনগুলোর প্রকৃত অবস্থা, সেখানে বসবাসরত লোকদের সংখ্যা নির্ধারণ, ভবনগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিরসন করতে কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে ওই বিষয়ে মতামত দেবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, আপাতত এ কমিটিকে তিন মাস সময় দেয়া হয়েছে।
অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অগ্রগতি দেখতে চায় বৃটেন। বৃটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তর প্রকাশিত এ বছরের বার্ষিক মানবাধিকার ও গণতন্ত্রবিষয়ক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের শেষাংশে বাংলাদেশে চলতি বছরে অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়টি স্থান পায়। সেখানে নির্বাচন ছাড়াও বৃটেনের অগ্রাধিকার হিসেবে রোহিঙ্গা ইস্যু, লৈঙ্গিক সমতায় অগ্রগতি, কন্যাশিশুর পড়ালেখা, আধুনিক দাসত্ব মোকাবিলায় কাজ করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া সেখানে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দেয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। মত প্রকাশসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাকে সমর্থন এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যাপারে বৃটেনের তাগিদ থাকবে বলে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে ওই বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। প্রতিবেদন প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছে এক রোহিঙ্গা শিশু ও মায়ের ছবি। বৃটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী লর্ড আহমেদ বৃটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ অফিসে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। যাতে ২০১৭ সালের বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন রয়েছে। ওই বছরে মানবাধিকার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি উল্লেখ করে বলা হয়Ñ বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের ওপর সরকারের চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘সরকারি এজেন্সিগুলোর’ গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতন অব্যাহত থাকার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে। মৃত্যুদ- ব্যবস্থা বিলোপের উদ্যোগেও বাংলাদেশের কোনো অগ্রগতি নেই।
বড় ধরনের কোনো সন্ত্রাসী হামলা না হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বৃটেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্বারোপের লক্ষ্যে পোপ ফ্রান্সিসের গত বছরের বাংলাদেশ সফর সফল হয়েছে। গত বছরের আগস্ট থেকে ছয় লাখ ৮৮ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও সহায়তা দেয়ায় যুক্তরাজ্য সরকার বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রশংসা করছে। প্রতিবেদনে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের বরাত দিয়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়। নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতন কমানোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি উল্লেখ করে বলা হয়Ñ গত বছর ২৫৩টি মৃত্যুদ-াদেশ এবং ছয়টি কার্যকর করা হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে মামলা দেয়ার অভিযোগ করে আসছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সাংবিধানিক একটি মামলা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত নভেম্বর মাসে চাপের মুখে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। বিচারব্যবস্থা থেকে দুর্নীতি দূর করার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।’ লন্ডনের প্রতিবেদনে ২০১৭ সালে বৈশ্বিক গণমাধ্যম স্বাধীনতায় বাংলাদেশের দুই ধাপ অবনতির তথ্য তুলে ধরা হয়। সরকার ৫৭ ধারা বিলোপ করে যে আইনের প্রস্তাব করেছে তা নিয়েও মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগের কথা স্থান পায়। এ দেশে নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর সহিংসতার উচ্চহারের কথা উল্লেখ করে বৃটিশ সরকারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮০ ভাগেরও বেশি বাংলাদেশি নারী ও কন্যাশিশু স্বামী বা সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক, মানসিক, যৌন বা আর্থিকভাবে নিপীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছে। রোহিঙ্গা শিবিরে নারীরা বড় ধরনের ঝুঁকিতে আছে। তাদের অনেকেই মিয়ানমারে বর্বর নিপীড়নের শিকার হয়েছে। যুক্তরাজ্য তাদের সহায়তার জন্য জাতিসংঘ ও অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। সেখানে জাতিগত নিধনযজ্ঞ, ধর্মীয় ও অন্যান্য স্বাধীনতায় বিধি নিষেধে বৃটেন অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
বানিয়াচং সদরের প্রধান সড়ক ও বাজারগুলোতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। হালকা বৃষ্টি হলেও সড়কে পানি জমে চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। আর একটু ভারি বর্ষণ হলে তো বাজারসহ বিভিন্ন রাস্তায় হাঁটু সমান পানি জমে থাকে এবং দোকানপাঠসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ে। বর্তমান সময়ে বানিয়াচংয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ভূমি খেকোরা খাল-নালা দখল করে ভরাট ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সড়ক পথ এমনকি বাজারের অলিগলি পর্যন্ত জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। এতে জন দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে। গত অর্ধযুগ ধরে বানিয়াচংয়ে গড়ের খাল ও সুনারু খাল দখলের রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ ভূমিখেকো গ্রাস করে ফেলেছে। গত কয়েক বছর আগে সরকারিভাবে উদ্যোগ নিয়ে কিছু জায়গা দখল মুক্ত করা হলেও আবারও তা বেদখল হয়ে গেছে। ফলে বিশাল বানিয়াচং গ্রামের পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই অনেক রাস্তা জলমগ্ন হয়ে যানবাহন ও জন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বানিয়াচং সদরের নতুন বাজার, হাসপাতাল সড়ক, বড়বাজার, জনাব আলী কলেজ সড়ক, আদর্শ বাজার সড়ক, বড় বাজারের পোস্ট অফিস রোড, শহীদ মিনার রোড, দারুল কোরআন মাদরাসা রোড এবং দোকানটুলা রোড, বড়বাজার এবং ৫/৬নং বাজাররোডসহ বেশ কয়েকটি রাস্তা একেবারেই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব রাস্তায় পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ফলে জনদুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। এই জলমগ্নতার কারণে পাকা রাস্তাগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে খানাখন্দকের সৃষ্টি হচ্ছে। এলজিইডি প্রতি বছরই সড়কগুলোতে সংস্কারের কাজ করছে। এতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। শুধু শুধু সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছা যাচ্ছে। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে না তোলে এলজিইডি এসব বিচ্ছিন্ন কাজে অনেকেই প্রশ্ন তোলছেন। পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচংয়ের খাল-বিলগুলো এক শ্রেণির ভূমি খেকোর দখলে চলে গেছে। এগুলো ভরাট হওয়ার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ঐতিহ্যবাহী গ্রামের বিভিন্ন জনপদে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এখানকার জনসাধারণ। এ দিকে বড়বাজারের পশ্চিমের দোকানটুলা সংলগ্ন রাস্তাটি অবস্থা একেবারেই নাজেহাল। সামান্য বৃষ্টি হলেই এ এলাকার হাজার হাজার মানুষের চলাচলের রাস্তাটি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। সামান্য একটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এ রাস্তাটি সামান্য বৃষ্টি হলেই জলে একাকার হয়ে যায়। দ্রুত এ রাস্তাটির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে অত্রালাকার হাজার হাজার মানুষের চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া জরুরি। এছাড়া বড়বাজারের মেইন রোড থেকে ১০০ গজ দূরবর্তী নতুনবাজার অভিমুখী রাস্তায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় নতুন রাস্তাটি ভেঙ্গে মানুষ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সব সময়ই বৃষ্টির পানি জমে থাকে এবং স্যাঁত স্যাঁতে অবস্থা বিরাজ করছে। বড়বাজার হতে আদর্শ বাজার রোডে ও বড়বাজার আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের ফলে রাস্তায় ময়লা আবর্জনা, কাঁদা ও পানি জমে থাকে। এতে বাজার ব্যবসায়ী ও ক্রেতাসাধারণ চরম দূুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থানের এ অবস্থা দেখে মনে হয় দেখার যেন কেউ নেই। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়রাম্যান শেখ বশির আহমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, যে সকল রাস্তায় কাজ করা হবে, সেসব রাস্তার কাজের পাশাপামি ড্রেনেজ ব্যবস্থাও থাকা দরকার। তিনি আক্ষেপ করে আরো জানান, আমি নিজে বেশ কয়েকটি রাস্তায় ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ কাজ করার সুপারিশ করেছি। কর্তৃপক্ষ রাস্তার কাজ অনুমোদন করলেও ড্রেনের কাজের অনুমোদন দেয়নি। ফলে ওই সকল রাস্তা মেরামত হলেও অল্প দিনের মধ্যেই আবার চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। তিনি আরো জানান, দ্রুত সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে প্রভাবশালীদের কবল থেকে খালগুলো পুনরুদ্ধার করতে না পারলে বানিয়াচংয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জনস্বার্থ বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এ বিষয়ে এখনই উদ্যোগী হয়ে ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় জনবিস্ফোরণ ঘটার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
মামুন। বয়স ২০। পিতা নৈশপ্রহরী। ঝালমুড়ি বিক্রি করেন বড় ভাই। মা অন্যের বাসায় কাজ করেন। এমনই কষ্টের টাকায় সন্তানকে ঢাকায় পড়াশুনা করাচ্ছেন তারা। মামুন পড়ছে রাজধানীর বিএফ শাহীন কলেজে। কিন্তু তার দারিদ্রতার দুর্বলতাকে ব্যবহার করেছে পলাতক ইয়াবা সম্রাট ইয়াছিন আরাফাত (২৮)। শুধু মামুন নয়। কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের নিজ গ্রাম হ্নীলা থেকে ঢাকায় পড়তে আসা বহু গরিব মেধাবী ছাত্রকে পড়াশোনার খরচ দিয়ে ঢাকায় ইয়াবা পাচার ও বিক্রিতে ব্যবহার করে আসছিল ইয়াছিন। গত রোববার রাতে সে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হাতে গ্রেপ্তার হয়। আর গতকাল সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.কে.এম মঈন উদ্দীন ছিদ্দিকের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তা স্বীকার করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র উপ- পরিদর্শক (এসআই) মো. জুয়েল মিয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কথা উল্লেখ করে বলেন, ইয়াছিনের বাড়ির কাছেই নাফ নদ। নাফ নদ পার হলেই মিয়ানমার। সেখান থেকে ইয়াবা নিয়ে তা কয়েকগুণ লাভে শিক্ষার্থী ও স্বল্প শিক্ষিত বেকার যুবকদের দিয়ে বাস ও বিমানে ঢাকায় পাঠাতো। মামুন ধরা পড়ার পনের দিন আগেও ইয়াছিন ঢাকায় ১০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান পাঠায়। সে এভাবে কোটি কোটি টাকার বহু চালান পাচার ও বিক্রি করেছে। গত সোমবার দুপুরের দিকে আদালতে নেয়া হলে সে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তার অপরাধ স্বীকার করে। তার আরো দু’সহযোগী শরীফ ও মাসুমকে ধরার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
পিবিআই ও ইয়াছিনের জবানবন্দি সূত্রে জানা যায়, ইয়াবা সম্রাট হিসেবে পরিচিত ইয়াছিন আরাফাতের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফে। নাফ নদের কাছে হ্নীলা গ্রামে। তার পিতার নাম জালাল আহম্মেদ। হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। এরপর ২০০৬ সালে ঢাকায় আসে। শাহজাহানপুরে থাকতো। জড়িয়ে পড়ে হুন্ডির ব্যবসায়।
তিন বছর পর ২০০৯ সালে আবার গ্রামে চলে যায়। জড়িয়ে পড়ে ইয়াবা ব্যবসায়। প্রায় এক দশকের ইয়াবা ব্যবসায় মাদক সাম্রাজ্যে জায়গা করে নেয়। কোটি কোটি টাকার নিষিদ্ধ ইয়াবা ঢাকায় পাচার করে। এক পর্যায়ে ইয়াবা পাচার ও বিক্রিতে বেছে নেয় ঢাকায় পড়াশোনার জন্য আসা গ্রামের মেধাবী ছাত্রদের। তাদের কাছে দানবীর সেজে প্রথমে তাদের মেস ভাড়া ও পড়াশোনার খরচ দিতো। পরে তাদের দিয়ে টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালান ঢাকায় পাঠাতো। মেসে রাখা হতো। তাদের দিয়ে বিক্রি করা হতো।
টেকনাফ থেকে ইয়াছিনের পাঠানো ইয়াবার চালানসহ গত ১৬ই মে সাতরাস্তা এলাকায় র‌্যাবের কাছে ধরা পড়ে বিএফ শাহীন কলেজের ছাত্র মামুন। তার কাছে ৪৩ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। যার অবৈধ বাজার মূল্য ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। চালানটি পরবর্তী ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য মামুনকে দেয়ার কথা ছিল ১ লাখ টাকা। ওই চালানে আসে ১ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট। মামুনের আগে ওই চালানে ইয়াছিনের পাঠানো আরো ৫৭ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট নাবিস্কোতে অপর একজনের হাতে ডেলিভারি দেয়া হয়। মামুন ধরা পড়ার পর ওই ঘটনায় মামলা হয় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায়। সেই মামলার তদন্তভার পড়ে পিবিআইয়ের   উপ-পরিদর্শক মো. জুয়েল মিয়ার হাতে।
তদন্ত ও মামুনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বিবিআই ঢাকা মেট্রোর একটি দল গত রোববার রাতে রাজধানী থেকে টেকনাফের হ্নীলায় গিয়ে ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে ঢাকায় আনা হয়। গতকাল দুপুরে নেয়া হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে স্বীকার করে। সে আরো বেশ কয়েকটি মামলার আসামি।
নিজ এলাকা থেকে পড়াশোনার জন্য গিয়ে ঢাকায় অবস্থান করা গরিব, অসহায় ও মেধাবী ছাত্রীদের টার্গেট করে সে তার ইয়াবা পাচার ও বিক্রির ব্যবসা গড়ে তোলে। এছাড়া তার দলে নিয়েছে স্বল্প শিক্ষিত বেকার যুবকদেরকেও। এসব কথা সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্বীকার করে।
জবানবন্দিতে ইয়াছিন আরাফাত বলে, ‘মামুন আমাদের গ্রামের ছোট ভাই ও পরিচিত। সে বিএফ শাহীন কলেজে পড়াশোনা করে। তার কলেজের বেতন বাকি পড়ায় মাঝে মাঝে সহযোগিতা করতাম।’ এভাবেই তাকে সহযোগিতার করার নামে ধীরে ধীরে ইয়াবা ব্যবসায় জড়ানোর কথা স্বীকার করে। একইভাবে মামুন ছাড়া আরো বেশকিছু ছাত্র ও স্বল্পশিক্ষিত বেকার যুবকদের দলে নিয়ে তাদের দিয়ে এই নিষিদ্ধ ব্যবসা চালিয়ে নিচ্ছে বলে জানায়।
পিবিআই ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ মানবজমিনকে বলেন, গ্রামের গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঢাকায় পড়াশোনার খরচ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খান। তাদের সে অসহায়ত্বকে পুঁজি করে উপকারের নামে ইয়াবা ব্যবসায় জড়াতো ইয়াছিন। বহু শিক্ষার্থী দিয়ে কোটি কোটি টাকার বড় বড় চালান বহন ও বিক্রি করেছে। এই ইয়াবা সম্রাটের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরকেও গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি।