অনলাইনে কুমারীত্ব নিলাম করলেন মডেল! দাম উঠলো ১৭ কোটি টাকা

অর্থের বিনিময়ে অনলাইনে নিজের কুমারীত্ব নিলাম করলেন রোমের মডেল! ১৭ কোটি টাকায় তা কিনেও  ফেললেন হংকংয়ের এক ব্যবসায়ী! সমপ্রতি এক টেলিভিশন...

রোমান্সে আগ্রহী সুস্মিতা সেন

অনেক দিন বডিউডের পর্দায় দেখা যাচ্ছে না সুস্মিমা সেনকে; কিন্তু অভিনয়কে বিদায় জানাননি। মনের মতো চিত্রনাট্য পাচ্ছেন না বলেই কাজ করছেন না বলে জানিয়েছেন। সুস্মিতা চান রোমান্টিক ছবিতে অভিনয় করতে। ছবিতে চুটিয়ে রোমান্স করার কথা নিজেই জানান তিনি। নিত্যদিন স্ক্রিপ্ট পড়ছেন; কিন্তু নতুনত্ব কোথায়? সেই তো কমেডি না হয় ভয়ের ছবির চিত্রনাট্য। কিন্তু তার অপেক্ষা রোমান্টিক চরিত্রের জন্য।
সে কারণেই এ মুহূর্তে কোনো ছবি হাতে নিচ্ছেন না সুস্মিতা। শুধু তাই নয়, রোমান্টিক ছবিতে চুটিয়ে রোমান্স করতে চান বলেও জানান এ তারকা। সুস্মিতা মনে করেন, এ মুহূর্তে খুব সুন্দর সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ইন্ডাস্ট্রি। নতুন প্রযোজকরা যেমন আসছেন, তেমনই স্টুডিওর মানও উন্নত হয়েছে। ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কও খুব ভালো। কিন্তু পছন্দের চরিত্র না পেলে এখনই কোনো ছবিতে সই করবেন না তিনি।

বিচার হয়নি ৪ বছরেও by উৎপল রায়



সাভারের ‘রানা প্লাজা’ ট্র্যাজেডির পর পেরিয়ে গেছে চার বছর। কিন্তু দেশ-বিদেশে আলোচিত ও মর্মন্তুদ ওই ঘটনার দোষীদের বিচার হয়নি আজও। ঘটনার পর হত্যা ও ইমারত আইনের দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া দুর্নীতির মাধ্যমে রানা প্লাজায় নয় তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগে আরো একটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে ভবন মালিক সোহেল রানার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে অস্ত্র আইনে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়। খোঁজ নিয়ে এবং মামলা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হত্যা ও ইমারত আইনে অভিযোগ গঠন করা হলেও এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি। আর দুর্নীতির মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল সকাল পৌনে নটায় হঠাৎ ধসে পড়ে সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নয় তলা রানা প্লাজা ভবন। এ ঘটনায় নিহত হন এক হাজার ১৩৬ জন। প্রায় হাজারখানেক শ্রমিক প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের  অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেন। বিশ্ব বিবেক ও মানবতাকে নাড়া দেয়া ওই ঘটনার দিনই সাভার থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর পালিয়ে যান ভবন মালিক ও সাভার থানা যুবলীগ নেতা সোহেল রানা। চার দিন পর ২৮শে এপ্রিল যশোরের বেনাপোল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা  হয়। ভয়াবহ ওই ঘটনায় দায়ের করা প্রথম মামলাটিতে হতাহতের ঘটনা উল্লেখ করে ভবন মালিক রানা, তার বাবা-মা, ভবনের কারখানা মালিক এবং ভবন অনুমোদন ও নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। আর অন্য মামলাটিতে ধসে পড়া ওই ভবনটির অবকাঠামো নির্মাণে ত্রুটি ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে। হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনের দুই মামলায় ২০১৫ সালের ১লা জুন পুলিশের অপরাধ তদন্ত  বিভাগের (সিআইডি) সহকারী সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে সোহেল রানা, তার বাবা আব্দুল খালেক ওরফে কুলু খালেক, মা মর্জিনা বেগম, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, স্থানীয় কাউন্সিলর মোহাম্মাদ আলী খান, প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, ধসে পড়া ওই ভবনের তিনটি গার্মেন্ট কারখানার মালিক, সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. সারোয়ার কামালসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যু ঘটানোসহ দণ্ডবিধির ৩০২, ৩২৬, ৩২৫, ৩৩৭, ৩৩৮, ৪২৭, ৪৬৫, ৪৭১, ২১২, ১১৪, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ৫৯৪ জনকে। অন্যদিকে ইমারত নির্মাণ আইনের মামলায় বিধি না মেনে রানা প্লাজা ভবন নির্মাণের অভিযোগে ১৮ আসামির বিরুদ্ধে ১৯৫২ সালের ইমারত নির্মাণ আইনের ১২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় ১৩৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। রানা, তার বাবা আব্দুল খালেক ওরফে কুলু খালেক, মা মর্জিনা বেগম, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, রানা প্লাজার নিউওয়েব বাটন লিমিটেডের চেয়ারম্যান বজলুস সামাদ আদনান, নিউওয়েব স্টাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান তাপস, ইথার টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ওরফে আনিসুজ্জামান, সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. সারোয়ার কামালসহ হত্যা মামলার ১৭ জনকে এই মামলায়ও আসামি করা হয়েছে। মাহবুবুল আলম নামক একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে ইমারত নির্মাণ মামলায় আসামি করা হলেও হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি। ফলে, দুই মামলা মিলিয়ে মোট আসামি ৪২ জন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ইতিমধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৩১ আসামি আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, হত্যা মামলায় মাত্র তিনজন আসামি কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন- প্রধান আসামি সোহেল রানা, প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ও সাইট ইঞ্জিনিয়ার সারোয়ার কামাল (এই তিনজন ইমারত আইনের মামলারও আসামি)। আসামিদের মধ্যে সাতজন এখনো পলাতক। আর ১ জন ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। দুই মামলার মধ্যে হত্যা মামলাটি বর্তমানে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। এই মামলায় গত বছরের ১৮ই জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ১৮ই সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের আদেশ দেন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এসএম কুদ্দুস জামান। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী ঢাকা জেলা ও দায়রা আদালতের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) খোন্দকার আবদুল মান্নান মানবজমিনকে জানান, উচ্চ আদালতে এই মামলায় সাতজন আসামির করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি এক আদেশে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার কার্যক্রমে ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। ফলে, আইনি জটিলতায় এই মামলায় নির্ধারিত তারিখে বিচারিক আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি। খোন্দকার আবদুল মান্নান বলেন, আগামী ৭ই মে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায় আছি আমরা।  তবে, ওই দিন (৭ই মে) থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করতে পারবো বলে আমরা আশাবাদী। ঘটনার চার বছর পার হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগও গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে কেন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করা যায়নি-এমন প্রশ্নের জবাবে খোন্দকার আবদুল মান্নান বলেন, বিচারকাজে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগুতে হয়। এছাড়া আসামিদেরও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। উচ্চ আদালতে যাওয়াও তাদের আইনগত অধিকার। তবে, আমরা আশা করি দ্রুত বিচার শুরু করে দ্রুতই তা শেষ করা যাবে।
এদিকে হত্যা মামলায় ৫৯৪ জনকে সাক্ষী করায় দ্রুত বিচার নিষ্পন্ন হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী নিহতদের স্বজন ও বিচারপ্রার্থীরা। তাদের যুক্তি-এমনিতেই এ মামলার বিচারকাজ অনেক পিছিয়ে আছে। এখন এত সংখ্যক সাক্ষীর সাক্ষ্য নিতে গেলে বছরের পর বছর সময় পার হয়ে যাবে। এতে করে বিচার বিলম্বিত হবে। তবে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, ৫৯৪ জনের তালিকা হলেও সবার সাক্ষ্য তারা নেবেন না। বেছে বেছে গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনা সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদেরই তারা আদালতে উপস্থাপন করবেন। এ বিষয়ে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি খোন্দকার আবদুল মান্নান বলেন,  তালিকার সবার সাক্ষ্য নেয়া হয়তো সম্ভব হবে না। মামলায় অভিযোগ প্রমাণে ঠিক যতজন সাক্ষীর প্রয়োজন হবে ততজন সাক্ষীকেই ডাকা হবে।
এদিকে এ ঘটনায় ইমারত নির্মাণের আইনের মামলাটি চলছিল ঢাকার  অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে। মামলায় গত বছরের ১৪ই জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ২৩শে আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের অতিরিক্ত পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) আনোয়ারুল কবীর বাবুল মানবজমিনকে জানান, ইমারত নির্মাণ আইনের মামলাটি বর্তমানে স্থগিত অবস্থায় আছে। এ মামলায় মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রানা প্লাজা ভবনের নিউওয়েব বটম লিমিটেডের চেয়ারম্যান বজলুস সামাদ আদনান, নিউওয়েব স্টাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান তাপস, ইথার  টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ওরফে আনিসুজ্জামানের করা একটি আবেদন জেলা ও দায়রা আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। যে কারণে সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি করা হয়। তিনি জানান, ইতিমধ্যে বজলুল সামাদ আদনানের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। আরো দুটি আবেদন শুনানি ও নিষ্পত্তি হলে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করা যাবে। আগামী ১৭ই মে এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য আছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী। তিনি বলেন, আসামিপক্ষের এ ধরনের আবেদন মামলার বিচারে কালক্ষেপণ করার একটি প্রয়াস। আনোয়ারুল কবীর বাবুল আরো জানান, ইমারত আইনের মামলায় সাভার পৌরসভার মেয়র মো. রেফাতউল্লাহ তার মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। পরে হাইকোর্টের এক আদেশে শুধু তার ক্ষেত্রে বিচার কার্যক্রম এক বছরের জন্য স্থগিত রয়েছে।
এদিকে রানা প্লাজা ভবন ধসের পর অনুসন্ধানে নামে দুদক। অনুসন্ধান শেষে ছয় তলা ভবনের অনুমোদন থাকলেও দুর্নীতির মাধ্যমে রানা প্লাজায় দশ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে নয়তলা পর্যন্ত নির্মাণ করার অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ই জুন সাভার থানায় রানার বাবা, মাসহ ১৭ জনকে আসামি করে দুর্নীতির মামলা দায়ের করে দুদক। মামলা দায়েরের সময় ভবন মালিক সোহেল রানাকে আসামি করা হয়নি। ২০১৫ সালের ১৬ই জুলাই আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। পরে মামলাটি বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। এই আদালতে গত বছরের ৬ই মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানি হয়। আদালত রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শেষে মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। পরে পুনঃতদন্ত শেষে সোহেল রানাকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে ১৮ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এ মামলায় দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা ও দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। আদালত সূত্র জানায়, গত ১৯শে এপ্রিল এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি শেষে এক আদেশে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য আগামী ৮ই মে নির্ধারণ করেছেন ঢাকা বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এম আতোয়ার রহমান। আইনজীবীরা জানান, আদালত যদি ওই দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করে সাক্ষ্যগ্রহণের আদেশ দেন তাহলে এ মামলায় আসামিদের বিচার শুরু হবে।

চার জয়িতার গল্প by তৌহিদুল ইসলাম লায়ন



দৈন্য, অবহেলা, বঞ্চনা আর নির্যাতনের করালগ্রাস থেকে বেরিয়ে আসা চার জয়িতার  সাফল্যের গল্পটা ঈর্ষণীয়। জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দৃঢ় মনোবল, অদম্য সাহস, সততা আর আপন কর্মের মাধ্যমে তারা এলাকায় হয়ে উঠেছেন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তারা হলেন, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের জয়িতা সালেহা খাতুন, মাত্রাই ইউনিয়নের বলিগ্রাম পূর্বপাড়ার জয়িতা কৃষ্ণা রানী, আহম্মেদবাদ ইউনিয়নের খোশালপুর নওপাড়া গ্রামের জয়িতা সুলতানা বেগম এবং কালাই পৌরসভার পূর্ব সড়াইল গ্রামের জয়িতা হেলেনা বেগম। আজ তারা জীবনের শত প্রতিকূলতাকে দূরে  ঠেলে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত।
ওই চার জয়িতা নারী জীবনের ফেলে আসা বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। গত ১৯৮৭ সালে এসএসসি পাস করার পর সালেহা বেগমের সচ্ছল পরিবারে বিয়ে হয়। সুখের সংসার যখন চলছিল, ঠিক তখনই হঠাৎ করে বিদ্যুতায়িত হয়ে স্বামীর মৃত্যুর ঘটনা তার জীবনে নেমে আসে অমানিশা। স্বামীর বাড়ির অনাদর, অবহেলা আর বঞ্চনার এক পর্যায়ে তার গর্ভে থাকা ৯ মাসের সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি আসেন। সেখানে মায়ের পরিকল্পনা মতো তার অজান্তে পেটের সন্তানকে গর্ভপাত করানোর জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তা থেকে নিজেকে রক্ষা করেন। পেটের ভাত জোগাড়ের জন্য ভাইয়ের বাড়িতে ঝি এর কাজ নেন। ইতিমধ্যেই তিনি ফুটফুটে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। সন্তানের ৯ মাস বয়সে চাকরি নেন ব্র্যাক স্কুলে। পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন আর এটা-ওটা করে টাকা জমাতে থাকেন। বর্তমানে সালেহা ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কর্মরত এবং তার ছেলে মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে বলে এখন তিনি অসহায়, বঞ্চিত মানুষের মানবিক ও আর্থিক সাহায্য করে থাকেন। আজ তিনি শুধু একজন সফল জননী নন, তিনি উপজেলা জিন্দারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের একজন সদস্যও বটে।
আরেক জয়িতা কৃষ্ণা রানী। দশম শ্রেণির ছাত্রী থাকা অবস্থায় বেকারের সঙ্গে জয়িতা কৃষ্ণা রানীর বিয়ে হওয়ায় সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। তাই বলে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তার কমেনি। শত কষ্টের মাঝেও লেখাপড়া চালিয়ে যান। বর্তমানে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত। পিছিয়ে পড়া সমাজে কৃষ্ণার এই শিক্ষার অগ্রগতি তাকে সম্মানিত করে। ফলে নানান সামাজিক কর্মকাণ্ড, বিচার সালিশ, সমস্যা নিরসনে ডাক পড়ে কৃষ্ণা রানীর। উৎসাহিত হয়ে তিনি তার ভূমিকা রাখতে শুরু করেন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন বন্ধসহ বিভিন্ন সামাজিক অনাচার নির্মূলে। কন্যা দায়গ্রস্ত পিতা এবং আর্তপীড়িতের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি তার কর্তব্য বলে মনে করেন। গর্ভবতী মায়েদের প্রতি রয়েছে তার মমত্ববোধ। ব্র্যাক থেকে মা ও শিশু বিষয়ক ৩ মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রসূতি মায়ের সেবা দিয়ে থাকেন। এলাকার একজন আদিবাসী মহিলার পঞ্চমবারের মতো পেটের সন্তান নষ্ট হয়ে যাবার পর যখন পারিবারিক জীবনে অশান্তি নেমে আসে, তখন তার সেবা ও পরামর্শ কৃষ্ণাকে নতুন জীবনের সন্ধান দেয়। সন্তান প্রসব কালীন সময় কৃষ্ণা রানীকে নিজের ঘাড়ে চেপে নিয়ে পানি উৎরিয়ে হাসপাতলে নেয়ার জন্য যানবাহনে তুলে দেয়ার দৃশ্য সবার মনকে আন্দোলিত করেছিল। আদিবাসী মহিলার সন্তানের বয়স এখন সাত বছর। তাই বলে সেখানেই থেমে থাকেনি কৃষ্ণা রানীর মানবসেবা। ২০০৯ সালে তিনি মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখছেন।
আরেক জয়িতা সুলতানা বেগম। ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী অবস্থায় তার বিয়ে হয়। অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বিয়ের ১ মাসের মধ্যেই তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে আসতে হয়। পরে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলেও স্বামীর পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত হতে হয়েছে বহুবার। নিজের চেষ্টায় আবার পড়াশোনা শুরু করে এস.এস.সি পাস করেন। বয়স্ক বাবার অসচ্ছল পরিবারে মাকে নিয়ে সংসার চালানোর হাল ধরেন। এক পর্যায়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সেলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে উক্ত দপ্তর থেকে সেলাই মেশিন পেলে কাজ শুরু করে দেন।  কাজের আগ্রহ দেখে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে তাকে ঋণ প্রদানসহ আর্থিক সাহায্যের কার্ডও করে দেয়া হয়। এক পর্যায়ে দ্বিতীয় বিয়ে হলে, আত্মমর্যাদা সম্পন্ন মহিলা সুলতানা আর্থিক সাহায্যের কার্ড প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু বিধি বাম। কিছুদিনের মধ্যেই স্বামীর খারাপ চারিত্রিক দিকগুলো তার সামনে ফুটে ওঠে। মাদকাসক্ত ও জুয়ারি স্বামী যৌতুকের কারণে নির্যাতন চালাতে থাকে তার উপর। সবশেষে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের দেয়া সেলাই মেশিনটি গোপনে বিক্রি করে দেয় তার স্বামী। ফলে, দ্বিতীয়বারের মতো তার সংসার ভাঙে। আবার শুরু হয় তার জীবনযুদ্ধ। পুনরায় ফিরে আসে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে। পুনরায় ঋণ নিয়ে শুরু করেন গাভী পালন, হাঁস-মুরগি পালন। চেষ্টা করেন ঘুরে দাঁড়ানোর, সফলও হন। বর্তমানে স্থানীয় স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন। এখন ৫ বিঘা বর্গা জমি, ১২ শতকের উপর তার বাড়ি,  ৮টি গরু, ২০টি হাঁস, ৫০টি মুরগি রয়েছে তার। তিনি নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে ও অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা কাটিয়ে তিনি এখন উন্নয়নের স্বপ্ন  দেখেন।
দিনমজুর পিতার কন্যা জয়িতা হেলেনা বেগম ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয় পাশের গ্রামের আরেক দিনমজুরের সঙ্গে। স্বামীর সম্বল ছিল এক শতাংশ বাড়ির জায়গা। একদিন একটি মুরগি কেনাই ছিল যার অসাধ্য, সেই মহিলাই এখন একটি মুরগির খামারের মালিক। বিয়ের পর এক বছর পর এক সন্তানের জন্ম হয়। সন্তানে বয়স যখন ২ বছর, তখন স্বামী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে চিকিৎসার জন্য শেষ সম্বল ১ শতক জমিও বিক্রি করতে হয়। স্বামী-সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি। কিন্তু দমে যাবার পাত্রী নন হেলেনা। উপজেলাতে স্থানীয় এক কোল্ড স্টোরেজে আলু বাছাইয়ের কাজ নেন, বাসাবাড়িতে ঝি-এর কাজ শুরু করেন। এক সময় ব্র্যাক থেকে ঋণ নিয়ে পরবর্তীতে ২ শতাংশ বাড়ির জায়গা কেনেন। ব্র্যাক থেকে বিভিন্ন সময়ে তিনি পঞ্চমবারের মতো ঋণ নেন এবং এরই মধ্যে গাভী পালন, হাঁস মুরগি পালন করে আবারো দশ শতাংশ জমি কেনেন। নিজে আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করেন। তার মনোবল আরো বেড়ে যায়। মাঝখানে আরো একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। বাড়িতে মুদির দোকানের পাশাপাশি করেছেন একটি মুরগির খামার। বড় ছেলে ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করছে। হেলেনা বেগম আর আগের অবস্থানে নেই। তিনি এখন এলাকার অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী একজন নারী।
এ ব্যাপারে কালাই উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লা নাসরীন জাহান বলেন, নারীরা ও শত বাধা পেরিয়ে জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে পারে। জয়িতা সেই সকল সংগ্রামী নারীর প্রতিচ্ছবি। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে সমাজের মাঠ পর্যায়ে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারীদের জয়কে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার একটি প্লাটফর্ম জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ কার্যক্রম। নির্বাচিত জয়িতাদের সম্মাননা তাদের এবং এলাকার অন্যদের এগিয়ে যাবার পথকে আরো উৎসাহিত করছে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আফাজ উদ্দিন বলেন, জীবনের বাধা বিপত্তিকে ঠেলে দৃঢ় মনোবল আর কর্মস্পৃহা নিয়ে কাজ করলে সফলতা অবশ্যই আসবে। জয়িতা সালেহা খাতুন, কৃষ্ণা রানী, সুলতানা বেগম আর হেলেনা বেগম সেটাই প্রমাণ করেছেন। তাদের আজকের এ সাফল্য সমাজে অন্য নারীদের উৎসাহী করবে বলে আমার বিশ্বাস।

রাজনীতিতে রং বদল by শামীমুল হক



রাজনীতিতে রং বদল নতুন কিছু নয়। কিন্তু কিছু কিছু রং বদল ইতিহাস হয়ে যায়। যুগ যুগ ধরে মানুষ মনে রাখে। রং বদলের ঘটনায় একেবারে বিপরীত আদর্শের রাজনীতিকেও আঁকড়ে ধরার নজির দেশে বহু। এ যাবৎকালের আলোচিত দল বদলের ঘটনা ঘটান রাজশাহীর পোড় খাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা ডা. আলাউদ্দিন। যার শরীরে জন্ম থেকেই আওয়ামী লীগের রক্ত। যার ধ্যান-জ্ঞানে আওয়ামী লীগ। সে সময় তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। সেই আলাউদ্দিন ১৯৯৬ সালে  আওয়ামী লীগের টিকিট না পেয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। হয়ে যান জাতীয়তাবাদী সৈনিক। উপহার হিসেবে পান বাঘা-চারঘাট মিলে রাজশাহী-৫ আসন থেকে বিএনপির টিকিট। আর সে নির্বাচনে জীবনে প্রথম বারের মতো ধানের শীষ প্রতীকই তাকে জয় এনে দেয়। নামের পাশে সংসদ সদস্য শব্দ বসানোর অধিকার পান। বিএনপির এমপি হয়ে সংসদে যান। বিএনপির পক্ষে সরব সংসদে। কিন্তু সরকারে তখন আওয়ামী লীগ। দুই বছর না পেরুতেই ১৯৯৮ সালে ফের আলাউদ্দিন যোগ দেন আওয়ামী লীগে। আওয়ামী লীগ থেকে উপহারস্বরূপ তাকে দেয়া হয় প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর পদ। কিন্তু আইন অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ চলে যায়। ফের উপনির্বাচনে ডা. আলাউদ্দিন আওয়ামী লীগের টিকিটে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হন। ধানের শীষের এমপি হন নৌকার এমপি। একই সময় ঘটে আরেক ঘটনা। সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপনও বদলান। একসময় জাসদের ডাকসাইটে নেতা স্বপন বিএনপিতে যোগ দিয়ে এমপি হন। পরে তিনিও যোগ দেন আওয়ামী লীগে। উপহার হিসেবে পান শিল্প উপমন্ত্রীর পদ। তার বেলায়ও ঘটে একই ঘটনা। সংসদ সদস্য পদ চলে যায়। তিনিও উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে লড়াই করে জয়ী হয়ে আসেন। আলোচিত এমন বদলের ঘটনা বহু। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিট না পেয়ে সাবেক এমপি নড়াইলের ধীরেন্দ্রনাথ সাহা যোগ দেন বিএনপিতে। লড়াই করেন ধানের শীষ নিয়ে সরাসরি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। সে সময় শেখ হাসিনা তিন আসনে নির্বাচন করে জয়ী হন। নিয়ম অনুযায়ী গোপালগঞ্জের আসনটি রেখে নড়াইলের দুটি আসন ছেড়ে দেন। উপনির্বাচনেও ধীরেন্দ্রনাথ ধানের শীষ নিয়ে লড়াই করেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী না দেয়ায় তিনি বিএনপির হয়ে জয়ী হন। এক সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে সংসদে যে ধীরেন্দ্রনাথ সরব ছিলেন, সেই ধীরেন্দ্র নাথ বিএনপির পক্ষে সংসদে বক্তব্য রাখেন। এখনো তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। খুলনার বিএনপি নেতা কাজী সেকান্দার ডালিম ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। পরে তিনিও বিএনপিতে ফিরে যান। এক সময় স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের প্রভাবশালী ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এখন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। সে সময়ের আরেক প্রভাবশালী নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন এরশাদের এক জনসভায় বিতর্কিত ভাষণ দিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচিত হন। তিনি এখন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগকে শায়েস্তা করতে যে দলের সৃষ্টি, যারা তখন আওয়ামী লীগের বিরোধিতায় রাজপথ উত্তপ্ত রাখতেন, সেই নেতাদের অনেকেই এখন রং বদলে আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি। কেউ কেউ আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীও হয়েছেন। এক সময়ে ছাত্র ইউনিয়নের দাপুটে সভাপতি নূহ আলম লেনিনও হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নজিবুল বাশার মাইজভান্ডারী এক সময় যোগ দেন বিএনপিতে। পরে বিএনপি ছেড়ে নিজেই তরিকুল ফেডারেশন নামে দল গঠন করেন। বর্তমানে ওই দলের এমপি তিনি। বদলের ঘটনায় আরেক নাম ফখরুল ইসলাম মুন্সী। তিনি মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন এনএসএফ-এর শীর্ষ নেতা ছিলেন। এরশাদ আমলে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হন। এরশাদ পতনের পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। টাঙ্গাইলের মাহমুদুল হাসান এরশাদ আমলে ঢাকার মেয়র ছিলেন। ছিলেন প্রভাবশালী মন্ত্রীও। এরশাদ পতনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে এমপি হন। আরেক আলোচিত নাম মোস্তফা মহসিন মন্টু। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য। ছিলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান। পরে ড. কামালের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ছেড়ে যোগ দেন গণ ফোরামে। এক সময়ের সাড়া জাগানো ছাত্রলীগ নেতা কিশোরগঞ্জের ফজলুর রহমান ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নৌকা প্রতীকে কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে গড়ে তুলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। এ দলের সেক্রেটারিও ছিলেন। বর্তমানে ফজলুর রহমান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচন করেন পাবনার ঈশ্বরদী থেকে। পরের নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। কিন্তু সে নির্বাচনেও তিনি জয়ী হতে পারেননি।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি রহমতউল্লাহ ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির এমপি ছিলেন। তিনিও ৯৬ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ওই সালের নির্বাচনের নৌকা প্রতীকে লড়াই করে এমপি নির্বাচিত হন। মৌলভীবাজারের এবাদুর রহমান চৌধুরী জাপার এমপি ছিলেন। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে এমপি হন। বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন তিনি। মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন ভোলা থেকে জাপার এমপি ছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লড়াই করে জয়ী হন। পরে বিএনপিতে যোগ দেন। মন্ত্রীও হন। রং বদলের এসব ঘটনার তালিকা দীর্ঘ। রাজনীতিতে রং বদল ইতিহাসের জন্ম দিলেও এ ঘটনা স্বাভাবিক বলেই মনে করেন রাজনীতিকরা।

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির চতুর্থ বর্ষ: কান্না থামেনি আহত শ্রমিকদের by হাফিজ উদ্দিন



২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল ভয়াবহ রানা প্লাজা ধসের ঘটনা ঘটে। দেশের ইতিহাসে এ এক নির্মম ট্র্যাজেডি। রানা প্লাজা ধসের চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কান্না থামেনি আহত শ্রমিকদের। কাটেনি দুঃখ-দুর্দশাও। সেই দিনের স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় আহত শ্রমিকদের। সাভারে রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার একশ’ ৩৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ২ হাজার চারশ’ ৩৮ জন। নিখোঁজ রয়েছে প্রায় তিন শ’ শ্রমিক। আহতদের মধ্যে একজন  হালিমা বেগম (৫২) গত শুক্রবার সাভার উপজেলার ছায়াবিথী এলাকায় দোকানে গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। রানা প্লাজার দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তার ডান পা। সে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারেন না। ক্র্যাচে ভর দিয়ে তাকে চলতে হয়। তবে তিনি বাঁচার তাগিদে সাহসিকতার সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন। ক্ষতিপূরণের যে সামান্য টাকা পেয়েছিলেন, তাই দিয়ে সাভার ছায়বিথী এলাকার জাহাঙ্গীরনগর হাউজিং সোসাইটির  গেটের সামনে একটি দোকান দিয়েছেন। ওই  দোকানের আয় দিয়েই চলে তাদের সংসার। হালিমা জানান, অনেক আগেই তার স্বামী হাবিবুর রহমান মারা যান। একমাত্র ছেলে রফিকুল ইসলামের কষ্টের কথা ভেবে তিনি বিয়েও করেননি। রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় তিনি পঙ্গু হয়ে গার্মেন্টের কর্মক্ষমতা হারান। হালিমার ৬ বছরের এক নাতনী রয়েছে।
ওই নাতনিই এখন তার এক মাত্র আনন্দের ও বাঁচার অবলম্বন। ছেলে বেকার, তাই সংসার তার একার উপার্জন দিয়ে কোনমতে চলছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথায় কষ্ট করলেও তিনি টাকার অভাবে সু-চিকিৎসা করাতে পারেন না। নিলুফা বেগম (৩৮) ভাড়া থাকেন সাভারের রাজাসন এলাকার পাহ্‌লোয়ান পাড়ায়। স্বামী আর এক সন্তান নিয়ে তার সংসার। তার স্বপ্ন ছিল একমাত্র সন্তান রিফাত পাটওয়ারীকে (১১) ভালো স্কুলে লেখাপড়া করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করবে। কিন্তু রানা প্লাজা ধসে তার সে স্বপ্ন ধূলিসাত হয়ে গেছে। এখন ছেলের লেখাপড়া তো দূরের কথা দু’বেলা দু’মুঠ ঠিকমতো খেতেও পারে না তারা। নিলুফা বেগম বলেন, তিনি রানা প্লাজার পঞ্চম তলার ফ্যান্টম অ্যাপারেলস-এ কাজ করতেন। ভবন ধসে পড়ার সাড়ে ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারীরা তাকে উদ্ধার করেন। পিলারের নিচে চাপা পড়ে তার ডান পা অকেজো হয়ে গেছে।
বিভিন্ন হাসপাতালে ৯ মাসের বেশি চিকিৎসা করিয়েছেন তিনি। চিকিৎসকরা তার ডান পা কেটে ফেলতে চাইলে তিনি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তা কাটতে দেননি। নিলুফা বলেন, সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন মেয়াদে তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা ও সাধারণ জনগণ এবং অন্যান্য জায়গা থেকে আরো এক লাখ ৪৫ হাজার টাকাসহ মোট ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। কিন্তু তার চিকিৎসায় খরচ করতে হয়েছে সাড়ে চার লাখ টাকা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। পায়ের যন্ত্রণায় রাতে ঘুমাতে পারি না। তবে এখন মনে হচ্ছে পা কেটে ফেললেই ভালো হতো। কষ্টের কথা বলতে গিয়ে নিলুফা কেঁদে ফেলেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, স্বপ্ন ছিল একমাত্র ছেলেকে ভালো স্কুলে লেখা পড়া করাবো। কিন্তু তা আর হলো কোথায়। এখন বাড়ির পাশে ‘বর্ণমালা’ নামে একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। কিন্তু টাকার অভাবে  ছেলের স্কুলের বেতনও দিতে পারছি না। ছেলের বাবা তৌহিদুল ইসলাম রিকশা চালিয়ে যা রোজগার করেন তা দিয়ে ছেলের লেখাপড়ার খরচ, সংসার চালানো, আবার নিজের পায়ের চিকিৎসা করানো মোটেই সম্ভব হচ্ছে না বলেন, নিলুফা। আশরাফুল ইসলাম সুজন (৩৪) কাজ করতেন রানা প্লাজার ষষ্ঠতলায় ইথার টেক্স কারখানায়। ভবন ধসে পড়ার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ টার দিকে উদ্ধারকারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সাভার সিআরপিতে চিকিৎসা করিয়েছেন তিনি। আশরাফুল ইসলাম সুজন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সরকারিভাবে ও বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পেয়েছি। প্রথমে ফ্রি চিকিৎসা পেলেও হাসপাতাল থেকে রিলিজ করার পরে আবার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে টাকা দাবি করে। তবে টাকার অভাবে তিনি চিকিৎসা করাতে পারছেন না বলে জানান। ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে আশরাফুল বলেন, প্রথমে মাথায় আঘাত পেয়ে পড়ে গিয়ে বাম হাতের ভিতরে রড ঢুকে বেরিয়ে যায়।
পরে ভবনের একটি ভিম ভেঙে বাম পায়ের উপর পরে। সে থেকেই বাম পা একে বারেই অচল। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে বাসায় আসার পর আর কেউ খোঁজ নেয় নাই। স্ত্রী, দুই সন্তান নিয়ে তার সংসার। থাকেন ভাটপাড়া মহল্লায়।
মেয়ে আশামনি বাড়ির পাশে ভাটপাড়া স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। কিন্তু টাকার অভাবে মেয়ের  স্কুলের খরচও ঠিকমতো দিতে পারি না। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজার বহুতল ভবন ধসে ১১শ’র বেশি লোক নিহত হয়। আহত হয় অশংখ্য শ্রমিক।

ব্যস্ত মান্না, বই লিখছেন মাহমুদুর, লন্ডনে শফিক by সালমা বেগম



সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত তিন জনই। লেখা এবং বলা দুই ক্ষেত্রেই আলোচিত। দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন। কয়েকমাস আগে মুক্তি মিলে তাদের। কেমন আছেন তারা? শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমান মান্না এবং মাহমুদুর রহমান। ডাকসুর সাবেক ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এরইমধ্যে আবার ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যস্ততার পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন নানা কর্মসূচিতে। আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের শরীর ভালো নেই। ভুগছেন নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায়। এ অবস্থাতেও একটি বই লেখার কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান বর্তমানে অসুস্থ স্ত্রীর পাশে বৃটেনে অবস্থান করছেন।
মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, আমি এখন ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত আছি। জেল থেকে বের হওয়ার পর দেখছি সবার হাতে এন্ড্রয়েড। মানে হাতের মুঠোয় বিশ্ব। আমার ইয়াং এইজ থেকেই সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছি। আমার কাছে মনে হয় যে, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র আসলে সমার্থক শব্দ। পরিপূর্ণ গণতন্ত্র মানুষের সব ধরনের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। একটা সময় টেলিভিশনে টকশো করতাম, আমার লেখা ছাপা হতো বিভিন্ন পত্রিকায়। কিন্তু এখন কোথাও ছাপতে চায় না। মনে হচ্ছে একটা ভয়ের চাদর সারা দেশে বিরাজ করছে। তাই এই সময়ে এসে আমার কাছে মনে হচ্ছে ফেসবুক একটি ভালো সামাজিক মাধ্যম। যেখানে বর্তমানে ঢাকা শহরের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ এই মাধ্যম ব্যবহার করছে। আমি চেষ্টা করছি এটার মধ্যে দিয়ে আমার কথাগুলো বলার জন্য। আমি কোনোভাবে মিসআন্ডারস্টুড হয়েছিলাম বা কেউ আমার সম্পর্কে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে আমি ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছিলাম। আমি কখনোই ক্ষমতা দখল করার স্বপ্নই দেখি নি। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলাম। কেউ বলতে পারবে না আমি এইগুলো ব্যবহার করে কোনো কিছু করেছি। ব্যক্তিগত জীবনে আমি স্বচ্ছ থাকতে চাই। আমি যেটা বিশ্বাস করি সে বিশ্বাসের কথা বলতে থাকবো। এবং এটা করার জন্য সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। এই পর্যন্ত বেশ কয়েকবার লাইভে এসেছি, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের রিভিউ দিয়েছি যেন সবার কাছে পৌঁছাতে পারি।
সংগঠন গড়ার চেষ্টা করছি। যদিও একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে সংগঠন গড়া যায় সহজে। সে রকম পরিবেশ নেই। একটা ভয়ের সংস্কৃতি বিরাজ করছে দেশজুড়ে। তবে প্রধানত এখন সংগঠনের কাজটাই করছি। নাগরিক ঐক্য সাধারণত একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। প্রথমদিকে এটাকে পলিটিক্যাল পার্টি হিসেবে দাঁড় করানোর ইচ্ছা ছিল না। তবে আমি দীর্ঘ সময় থেকে যেহেতু রাজনীতি করছি, আমার সঙ্গে যারা কাজ করছেন তারাও রাজনীতিই করছেন। এখন জেল থেকে বের হওয়ার পর সবারই এরকম একটা চাপ যে, এটাকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আনার চেষ্টা করা হোক। সেই দিকটায় একটু কাজ করার চেষ্টা করছি।    
আমি জেলে থাকতে যা লিখেছি সেটা দিয়ে তিনটা বা চারটা বই করা যাবে। প্রথমদিকে প্রকাশকরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করলেও এখন কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি আমার পাণ্ডুলিপিগুলো রেডি করার চেষ্টা করছি। আমার জীবনের প্রথম উপন্যাস ‘বিপ্রতিক’ ১৯৮৮ সালে ছাপা হয়। একটু নতুন আঙ্গিকে ছাপাবো সেটা। আর একটা বড় গল্প আমার জেল জীবনের উপরে লেখা, ‘আমার কারাগার জীবন’। এছাড়া আরো কিছু লেখা আছে সেগুলো আমি ধীরে ধীরে গুছাচ্ছি। যেহেতু আমার জীবনের একটা বড় সময় কেটেছে ছাত্র রাজনীতির উপর সেটা নিয়ে আমি একটি বই লিখেছি; সেটারই আরেকটি খণ্ড নিয়ে কাজ করছি। জেলে যাওয়ার পর প্রকাশকরা ভয় পেয়ে যাওয়ায় আমার বই বাজারে ছাড়েননি। তবে এখন আবার কিছু বই আসছে। রাজনীতির কথা বলতে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। জেল থেকে বের হয়েছি চার মাস হলো। এই সময়ের মধ্যে আমার মনে হয়েছে আমি মানুষের কাছ থেকে অনেক বেশি ভালোবাসা, সমর্থন পেয়েছি। এই দিক চিন্তা করে আমি ভালো আছি। আমি মনে করি যতক্ষণ কাজ করতে পারবো কোনো অভিযোগ ছাড়া কাজ করে যাবো।
দীর্ঘ কারাভোগের পর মুক্তি মেলা মাহমুদুর রহমান আবারো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। অল্প কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। কয়েকটি কর্মসূচি পণ্ড হয়েছে পুলিশের বাধায়। তার সম্পাদিত পত্রিকা আমার দেশ এখনো বন্ধ রয়েছে। মাহমুদুর রহমানের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি নানা রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। চিকিৎসার জন্য বৃটেনে যাওয়ার চেষ্টা করলেও দেশটি তাকে ভিসা দেয়নি। সম্প্রতি এক লেখায় মাহমুদুর রহমান লিখেছেন, কাশিমপুর জেলে প্রায় এক বছর ধরে বাংলাদেশে ইসলামের আগমন এবং বিস্তার নিয়ে ইংরেজিতে এক দীর্ঘ, ইতিহাসভিত্তিক বইয়ের খসড়া শেষ করেছিলাম। গত এক মাস নানা অসুস্থতার মধ্যে সেই খসড়াটা নিয়েই কাজ করে চলেছি। আগামী তিন মাসের মধ্যে বইটির কাজ শেষ করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মাহমুদুর রহমান।
প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তার নিজের শরীরটাও ভালো নেই। মৌচাকে ঢিল-এর সহকারী সম্পাদক সজিব ওনাসিস জানান, স্ত্রী তালেয়া রেহমান অসুস্থ থাকায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে লন্ডনে গিয়েছেন শফিক রেহমান। এদিকে শফিক রেহমান নিজেও শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অসুস্থ থাকায় নতুন কোনো কাজে হাত দিতে পারেননি শফিক রেহমান।

রাঙ্গাবালীর তরমুজ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে

উপযোগী মাটি, সঠিক পরিচর্যা আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর পটুয়াখালী জেলার কয়েকটি উপজেলায় তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। বিশেষ করে রাঙ্গাবালী উপজেলাতে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তরমুজ চাষিরা ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে বাজারজাত করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিদিন পটুয়াখালীর চরাঞ্চল রাঙ্গাবালীসহ একাধিক উপজেলা থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তরমুজ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে এখনও ক্ষেত থেকে পুরোদমে তরমুজ সংগ্রহ শুরু করেননি কৃষকরা। রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবিশস্য মৌসুমে অন্যান্য রবিশস্যের পাশাপাশি রাঙ্গাবালী উপজেলায় এ বছর ১১২০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন তরমুজ চাষীরা। এরমধ্য রাঙ্গাবালী উপজেলা সদর, বড়বাইশদিয়া, ছোটবাইশদিয়া, চরমোন্তাজ, চালিতাবুনিয়া, কাছিয়বুনিয়া, কাউখালীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও তরমুজের আবাদ করা হয়েছে। তবে মার্চের প্রথম দিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে তরমুজ চাষীরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তা না হলে এ বছর তরমুজ ফলনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেত বলে দাবী করেন কৃষকরা। তবে বিপর্যয়ের ফলে চাষিরা এবছর দাম ভালো পাচ্ছেন বলে জানান আড়ৎ মালিকরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন ঢাকাগামী লঞ্চ, ট্রলার, এবং ট্রাক যোগে রাঙ্গাবালী উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্ট থেকে ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঝিনাইদাহ, সিলেট, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তরমুজ সরবরাহ করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পাড় করে তরমুজ চাষীরা ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে স্থানীয় আড়তদার এবং সৃজনশীল ব্যবসায়ীরা। রাঙ্গাবালী উপজেলার কাউখালী গ্রামের রাহেলা বেগম জানান, তিনি এ বছর ২ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন। এতে তার ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৪০ হাজার টাকা। তিনি তিন ধাপে এপর্যন্ত আড়াই লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভাল হয়েছে। তবে মার্চ মাসের বৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তা না হলে আরো ৫০ হাজার টাকার সমপরিমাণ তরমুজ তার ক্ষেত থেকে উৎপাদন করা সম্ভব হতো।
কিন্তু এবছর দাম ভাল পাচ্ছেন বলে জানা তিনি। রাঙ্গাবালী উপজেলা যুগীর হাওলা গ্রামের তরমুজ চাষী আবু হানিফ জানান, এবছর তিনি ৬০ হাজার টাকা ব্যায়ে ৪ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে বৃষ্টিতে ১ একর জমির তরমুজ বৃষ্টিতে বিনষ্ট হয়ে যায়। তিনি এ পর্যন্ত ৩ ধাপে সাড়ে তিন লাখ টাকার তরমুজ সরবরাহ করেছেন। সে ক্ষেত্রে তার এ বছর তরমুজ চাষ থেকে তিন লাখ টাকা লাভ হয়েছে। তবে তিনি জানান, কৃষি দফতর যদি তাদের নানা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতেন তাহলে ফলন আরো ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। উপজেলার গাব্বুনিয়া গ্রামের দুদা মুন্সি জানান, তার ছোট ভাই ইমাম মুন্সি এবং তিনি মিলে ৯ একর জমিতে তরমুজের চাষ করেছন। এতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তারা দুই ভাই এ পর্যন্ত স্থানীয় আড়তদারের কাছে ৪ ধাপে অন্তত ১২ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। চালিতা বুনিয়ার নাসির সিকদার জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর তার ক্ষেতে ফলন ভালো হয়েছে। এবছর আমি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করে ৪ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করে এ পর্যন্ত ২ ধাপে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকারও বেশি তরমুজ বিক্রি করেছি। তাতে আমার সব পুশিয়ে অন্তত ৫ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। বৃষ্টিতে ক্ষতি না হলে তিনি তার ক্ষেত থেকে ১০ লাখ টাকার তরমুজ উৎপাদন করতে পারতেন বলে জানান। পটুয়াখালী জেলা শহরের আরত মালিক মো: খায়রুল হাসান জানান ভিন্ন কথা। তিনি জানান, এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু মার্চ মাসের দিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তরমুজ চাষিরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এ বছর কৃষকরা দাম ভালো পাচ্ছেন।

নলছিটিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

ঝালকাঠির নলছিটিতে এক গৃহবধূকে হত্যার পর লাশ হাসপাতালে রেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নলছিটি উপজেলার বহরমপুর গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বজনরা জানান, গৃহবধূ মারুফা আক্তার (১৯) প্রেমহার গ্রামের মৃত মানিক হাওলাদারের মেয়ে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। চার বছর আগে বহরমপুর গ্রমের সুলতান হাওলাদারের ছেলে সুমনের হাওলাদারের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সৌদি আরব চলে যায় সুমন।
এরপর বিভিন্ন সময় শ্বশুর বাড়ির লোকজন ওই গৃহবধূকে নির্যাতন করে আসছিল। সোমবার সন্ধ্যায় মারুফাকে শ্বাসরোধে হত্যার পরে হাসপাতালে নিয়ে আসে তার শাশুড়ি, ননদ ও জা। কর্তব্যরত চিকিৎসক মারুফাকে মৃত ঘোষণা করলে লাশ হাসপাতালে রেখেই তারা পালিয়ে যায়। ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুদ্দোজা জোবায়ের জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি ময়না তদন্তের পর জানা যাবে। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালে লাশ রেখে নিহতের স্বজনরা পালিয়ে গেছেন বলেও তিনি জানান। মারুফাকে শ্বাসরোধে হত্যা পরে লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা। নলছিটি থানার ওসি এ কে এম সুলতান মাহামুদ জানান, লাশের ময়না তদন্ত করা হবে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

কাশ্মিরে ভূমিকম্প

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির ও এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.০। সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা একথা জানিয়েছেন। শ্রীনগরে আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪১মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল জম্মু ও কাশ্মিরের ৩৩.৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৭৬.৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূমিকম্পটি পুরো কাশ্মির জুড়ে অনুভূত হয় এবং এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রাজধানীর হাজার ফ্ল্যাটে মাদকের আড্ডা by রুদ্র মিজান



রাজধানীর বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাসায়ও বিক্রি হচ্ছে মাদক। কোন কোন বাসায় আয়োজন করা হয় বিভিন্ন পার্টির। নাচ-গান কোনো কিছুর কমতি নেই। সেখানে বসেই চলছে ইয়াবা-মাদক সেবন। বিক্রি হচ্ছে বাসা থেকেই। পৌঁছে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ক্রেতাদের বাড়িতে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় বিভিন্ন ফ্ল্যাটে প্রায় রাতেই বসছে মাদকের পার্টি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যানুসারে এরকম সহস্রাধিক ফ্ল্যাট বাসা রয়েছে রাজধানীতে।
এরকম একটি বাড়ি রাজধানীর বংশাল থানার গোলকপাল লেনে। ৪৯/১ নম্বর বাড়ির তিন তলায় নির্বিঘ্নে মাদক কেনা-বেচা হতো। চলতো মাদকের আড্ডা। মাদক বিক্রির জন্য তার ছিল বেশ কয়েক কর্মী। ফোনে যোগাযোগ করে ক্রেতারা মাদক কিনতে যেতো। কেউ কেউ সেখানে বসেই সেবন করতো। প্রায়ই সুন্দরী তরুণীদের উপস্থিতিতে আড্ডা জমতো বাড়িতে। ঘনবসতি এলাকায় দিনের পর দিন এভাবেই চলছিলো আড্ডা, মাদকবাণিজ্য। এটি মাদক ব্যবসায়ী সেলিমের আস্তানা। নিরাপত্তার জন্য ওই বাড়ির গলিতে দাঁড়িয়ে থাকতো তার নিরাপত্তাকর্মীরা। শুধু তাই না, গোলকপালের সরু গলি থেকে বাড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ছিল ১৪টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। তিন তলার একটি কক্ষে ছিল ৩২ ইঞ্চি টেলিভিশন। ওই কক্ষে বসেই সিসি টিভি পর্যবেক্ষণ করতো সেলিম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যকে দেখলেই পালিয়ে যেতো। কিন্তু গত ১২ই ফেব্রুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে আর শেষ রক্ষা হয়নি মাদক সম্রাট সেলিমের। ওইদিন অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (উত্তর) মোহাম্মদ খোরশিদ আলম ও সহকারী পরিচালক (দক্ষিণ) মোহাম্মদ সামছুল আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সহকারী পরিচালক সামছুল আলম জানান, ক্রেতার বেশে গেলেও বিষয়টি টের পেয়ে যায় সেলিম। সিসি টিভিতে গতিবিধি লক্ষ্য করে পালানোর চেষ্টা করে। তৃতীয় তলা থেকে লাফ দিয়ে পাশের একটি টিনের চালে পড়ে। তাৎক্ষণিক তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জানান, এর আগেও র‌্যাব অভিযান চালিয়েছিল সেলিমকে গ্রেপ্তার করতে। কিন্তু সিসি টিভিতে র‌্যাবের উপস্থিতি দেখেই পালিয়ে যায় সে। সামছুল আলম বলেন, সেলিমের মতো মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেই এখন রাস্তা-ঘাট ছেড়ে ব্যবসার জন্য ফ্ল্যাট বেছে নিয়েছে। তারা এক-একজন একাধিক ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে মাদকের আখড়া গড়ে তুলেছে। রাজধানীর এরকম শত শত ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যখনই তথ্য পাচ্ছে অভিযান চালাচ্ছে।
এরকম আরেক মাদক ব্যবসায়ীর নাম শিলামণি। রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার আইজি গেট, বংশাল, নবাবপুর রোড ও কেরানিগঞ্জে বিভিন্ন ফ্ল্যাট ভাড়া করে মাদক ব্যবসা চালায় এই নারী। পুরান ঢাকার এক সময়ের ডাকাত মাসুদের অন্যতম সহযোগী শিলামণি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ধামরাইয়ে সোনালী ব্যাংকে ডাকাতির সময় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাসুদ নিহত হয়। এ সময় তার সহযোগী শিলামণিসহ পাঁচ জনকে আটক করা হয়। মাসুদের হাত ধরেই অন্ধকারে পা রাখে শিলা। ওই সময়ে মাসুদের মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতো। মাসুদ নিহত হওয়ার পর নিজে কারাগার থেকে বের হয়ে শুরু করে মাদক বাণিজ্য। সূত্রমতে, বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া করে রাতের আঁধারে আসর জমিয়ে তোলে এসব বাসায়। মদের সঙ্গে মনোরঞ্জনের জন্য  থাকে এক শ্রেণির সুন্দরী। রাতভর পার্টি হয় তার বাসায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জেনে যাওয়ার পর পরই গেণ্ডারিয়ার বাসাটি পরিবর্তন করে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সামছুল আলম বলেন, শিলামণি আমাদের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট বাসা নিয়ে মাদক ব্যবসা করে। শিলা অত্যন্ত চালাক নারী। যে কারণে তাকে গ্রেপ্তার করতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ওয়ারীর ৫০/১ উত্তরমৈশুণ্ডীর ৭ তলা ভবনের ৬ তলার ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন থেকে মাদক ব্যবসা করছিল একটি চক্র। গত ৪ঠা এপ্রিল এতে অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ১০,২০০ পিস ইয়াবা ও পাঁচ গ্রাম হেরোইনসহ আমির হোসেন রোকন নামে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয় ওই ফ্ল্যাট থেকে। রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকা উত্তরা। উত্তরার ছয় নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর সড়কের ৪১ নম্বর বাড়ি। এখানে দ্বিতীয় তলায় একটি কোচিৎ সেন্টার। আসা-যাওয়া করেন শিক্ষার্থীরা। নিচ তলায় আনোয়ার হোসেনের অফিস। আশপাশের লোকজন তাকে গার্মেন্ট ব্যবসায়ী হিসেবেই চিনেন। অবাধে ওই ভবনে তরুণ-তরুণীরা যাতায়াত করেন। কোচিং সেন্টার থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ জাগে না কারও। ফ্ল্যাটে জমতো জম্পেশ আড্ডা। সেখানে বসেই মাদকের আড্ডায় মশগুল হতেন সেবনকারীরা। তাদের বেশিরভাগই তরুণ-তরুণী। সেই আড্ডায় অংশ নেয়া এক তরুণী জানান, ছেলে-বন্ধুর সঙ্গে সেখানে যেতেন তিনি। ফ্ল্যাটটি যথেষ্ট নিরাপদ হওয়ায় অনেকেই আড্ডা দিতেন সেখানে। মূলত ওই আড্ডায় সেবন করা হতো ইয়াবা ও ফেন্সিডিল। এভাবেই দিনের পর দিন গার্মেন্ট ব্যবসার আড়ালে চলছিল মাদক বাণিজ্য। উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এই বাণিজ্য করে যাচ্ছিল আনোয়ার। তবে ওই ফ্ল্যাটে অচেনা কেউ যেতে পারতেন না। অচেনাদের জন্য উত্তরা পশ্চিম থানায় ছিল আরেকটি ফ্ল্যাট। তবে সেখানে মূল হোতারা থাকতো না। বিষয়টি নজরে পড়ে র‌্যাবের। শুরু হয় অনুসন্ধান। পাইকারি ক্রেতা সেজে গ্রেপ্তার করা হয় আনেয়ারের সহযোগী শরিফুল ইসলামকে। গ্রেপ্তারের পর গত ১লা মার্চ রাতে উত্তরার ছয় নম্বর সেক্টরের ওই বাসায় নিয়ে যায় র‌্যাব সদস্যদের। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মাদক সম্রাট আনোয়ার হোসেনকে। জব্দ করা হয় ৭৮০ বোতল ফেন্সিডিল। ওই বাসা থেকে ফেন্সিডিলের খালি বোতল, অব্যবহৃত কর্ক এবং হেয়ার ড্রায়ার জব্দ করা হয়। র‌্যাব জানায়, আনোয়ার এবং তার সহযোগী শরিফুল বিভিন্ন কৌশলে জয়পুরহাট সীমান্ত থেকে ফেন্সিডিল ঢাকায় নিয়ে আসে। তারা বিশেষ কৌশলে পুরানো ফেন্সিডিলের বোতল সংগ্রহ করে অব্যবহৃত ছিলযুক্ত ছিপি লাগিয়ে ভেজাল ফেন্সিডিল উৎপন্ন করে বিক্রি করতো। মাদক সম্রাট আনোয়ার হোসেনের বাড়ি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানার রতনপুরে। তার সহযোগী শরিফুলের বাড়ি দিনাজপুর নবাবগঞ্জের মালিপাড়া গ্রামে।
একইভাবে উত্তরা, গুলশান, বনানীতে অভিজাত পার্টি বসে ফজলুল করিমের ফ্ল্যাটে। রাতভর হয় মদের পার্টি। ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ। তবে ঘন ঘন বাসা পরিবর্তন করার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মদের পার্টি হয় বিভিন্ন রিসোর্টেও। এরমধ্যে একটি তুরাগ রিক্রিয়েশন রিসোর্ট। রাজধানীর রূপনগরের বেড়িবাঁধ এলাকা পেরিয়ে বিরুলয়া ব্রিজ সংলগ্ন এই রিসোর্ট। প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে আয়োজন করা হয় ডিজে পার্টির। সুন্দরী চির্য়াসগার্লদের টানে ও অবাধে মাদক সেবনের জন্য তরুণ-তরুণীরা জড়ো হন পার্টিতে। নিচের ফ্লোরে রাতব্যাপী চলে নাচ-গান ও মাদব সেবন। দ্বিতীয় তলার বিভিন্ন কক্ষে রাত্রিযাপন করেন তরুণ-তরুণীরা। এরকম পার্টি প্রতি রাতেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হচ্ছে। পার্টির নামে চলছে অবাধে মাদকসেবন। আয়োজক ও চিয়ার্সগার্লদের মাধ্যমে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ করা হয় এসব পার্টিতে। একইভাবে গুলিস্তানের হোটেল স্বাগতমে নির্বিঘ্নে হচ্ছে মাদক বাণিজ্য। কক্ষে বসেই মাদক সেবন করা হয় ওই হোটেলে। একাধিকবার ওই হোটেলে অভিযানও করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, রাজধানীর অনেক বাসাবাড়িতে মাদক ব্যবসা হচ্ছে। র‌্যাব প্রায়ই মাদক জব্দ করছে। মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করছে। বাসা-রিসোর্টসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক বাণিজ্য প্রতিরোধে র‌্যাব সক্রিয় রয়েছে বলে জানান তিনি। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে ১০৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। জব্দ করা হয়েছে ১৩,৪৭,৬৩৮ পিস ইয়াবাহর বিপুল মাদকদ্রব্য। জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের বেশিরভাগই পরিবহনকালে ও বিভিন্ন বাসায় বা ফ্ল্যাটে মজুদ করে বিক্রির সময় জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটা বড় অংশ ঢাকা থেকে জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

কোরীয় উত্তেজনা : ডিএমজেডের কাছে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট

মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সোমবার দুই কোরিয়াকে বিভক্তকারী অসামরিকীকরণ অঞ্চলের (ডিএমজেড) কাছে পৌঁছেছেন। উত্তর কোরিয়ার নতুন করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি সেখানে গেলেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট হেলিকপ্টার যোগে ডিএমজেডের মাত্র কয়েকশ’ মিটার দক্ষিণে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসঙ্ঘ কমান্ড কেন্দ্র ক্যাম্প বনিফাসে যান। সেখান থেকে তিনি অস্ত্র বিরতি পালন করা পানমুনজম গ্রামে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি বিশ্বের সুরক্ষিত সীমান্তগুলোর অন্যতম।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা অনেক বেড়ে গেছে। উত্তর কোরিয়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ যাবৎকালের সবচেয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেয়ার পর তাদের মধ্যে এ উত্তেজনা বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ও অনভিজ্ঞ প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন আন্ত:মহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়া তৈরি করুক তা তিনি মেনে নেবেন না। হোয়াইট হাউজের বৈদেশিক নীতি বিষয়ক এক শীর্ষ উপদেষ্টা রোববার বলেন, উত্তর কোরীয় সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক চাপ বেশি প্রত্যাশিত হলেও মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি থাকবে।

বিএনপি একটা ইস্যু তৈরির দল : ওবায়দুল কাদের

বিএনপিকে একটি ইস্যু তৈরির দল হিসেবে অভিহিত করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি হচ্ছে একটা ইস্যু তৈরির দল, এখন তাদের হাতে ভারতবিরোধী ইস্যু। আসলে তিস্তা চুক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে যাতে না হয়, এর জন্য যত রকমের চেষ্টা আছে তা বিএনপি করে যাচ্ছে। কথায় বলে, ‘যাকে দেখতে নারী তার চলন বাঁকা’। তাদের উদ্দেশ্য তিস্তা চুক্তি শেখ হাসিনার আমলে যাতে না হয়, এটাই তাদের লক্ষ্য।
সোমবার সকালে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিস্তা চুক্তি নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চের শপথ ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে দেশকে মুক্ত করা, বিজয়ী হওয়া, স্বাধীনতা অর্জন করা। আমরা পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছি। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার অনেক বছর পর ২০১৭ সালের এই দিনে আমাদের শপথ হবে, পচাত্তর পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যারা ভুলন্ঠিত করেছে, অসম্প্রদায়িক চেতনাকে ভুলন্ঠিত করে সাম্প্রদায়িক ডালপালা বিস্তৃতি করে বিষবৃক্ষ তৈরি করেছে, তাদের মূল উৎপাটন করা। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মোজাফফর হোসেন পল্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, ডা. দীপু মনি, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ

‘রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া’ সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট দায়ের করেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরুপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি- (ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’ আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

যেভাবে মাদকের অন্ধকার রাজ্যে তরুণীরা by রুদ্র মিজান



সুদর্শনা। দেখতেও সুন্দরী। মা-বাবার আদরের মেয়ে। কোনো কিছুর কমতি নেই। ঢাকায় নিজেদের বাড়ি, গাড়ি। ভালো প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করতেন তিনি। একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেন। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হয়ে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিবেন। এরকম স্বপ্ন   নিয়েই এগুচ্ছিলেন। কিন্তু তার আগেই একটি ঝড় আসে। হতাশায় আচ্ছন্ন হন। হাঁটতে থাকেন অন্ধগলিতে। নিজের অজান্তেই মাদকের কাছে সমর্পণ করেন নিজেকে। সিগারেট থেকে গাঁজা তারপর ইয়াবা। সবার অজান্তেই তিলে তিলে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছিলেন মেধাবী তরুণী। শুধু সুদর্শনা নন। মাদকাসক্ত কয়েক তরুণীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে মাদকে আক্রান্ত হওয়ার করুণ গল্প। হতাশা থেকে মুক্তি পেতে, কৌতূহলে, নিজেকে স্লিম করার প্রলোভনে তারা মাদক গ্রহণ করেছেন। তারপর মাদক গ্রাস করেছে তাদের সুন্দর জীবন। একপর্যায়ে মাদকের টাকার জন্য নিজের শরীর বিক্রি করেছেন অনেকে। চুরি, ছিনতাইসহ করেছেন নানা অপকর্ম। পরিবারের অশান্তির মূল কারণ হয়েছেন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর মেয়ে সুদর্শনা। লেখাপড়া করতেন ধানমন্ডির চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজে। সহপাঠীদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিতেন। বন্ধুদের মধ্যে ইফাত নিয়মিত গাঁজা সেবন করতেন। তা জানতেন তিনি। জানতে চাইতেন কেন গাঁজা সেবন করে। সেবনের পক্ষে নানা যুক্তি দেখাতেন ইফাত। কৌতূহলের বশেই একদিন ইফাতের সঙ্গে থাকা গাঁজা ভরা সিগারেটে টান দেন। কয়েক বার। সুদর্শনা বলেন, ‘স্লো মোশনে টানছিলাম। ভালো লাগছিল। ওই সময়ে লোহার বেঞ্চে লেগে আমার পা কেটে যায়। কিন্তু টেরই পাইনি। এক বন্ধু বলার পর দেখলাম, রক্ত ঝরছে।’ তারপর ব্যান্ডেজ করে বাসায় গিয়ে ঘুমান। ঘুম থেকে জেগে ব্যথা অনুভব করেন। ঘটনাটি ২০১১ সালের। তখনও তিনি আক্রান্ত হননি। ওই সময়ে আসিফ নামে এক তরুণের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আসিফ ধূমপায়ী ছিলেন। তিনি সুদর্শনাকেও সিগারেট টানতে দিতেন। তবে ছেলেদের সঙ্গে সুদর্শনার আড্ডা, বন্ধুতা মেনে নিতে পারতেন না আসিফ। এ নিয়ে দু’জনের বাকবিতণ্ডা হতো প্রায়ই। এসবকে কেন্দ্র করেই ঝড় আসে ২০১৪ সালে। সম্পর্ক ভেঙে যায় তাদের। তার কিছুদিন আগে সুদর্শনার মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে। সবকিছু মিলিয়ে হতাশাগ্রস্ত এই তরুণী। শান্তি, স্বস্তি খোঁজেন। ইফাতের মাধ্যমে কচুক্ষেত এলাকা থেকে নিয়মিত গাঁজা সংগ্রহ করেন। তা সেবন করেন নিজ বাসাতেই। রুমের দরজা বন্ধ করে সিগারেটে গাঁজা ভরে তা সেবন করতেন। গন্ধ না ছড়ানোর জন্য পারফিউম দিতেন। গাঁজাতে আগ্রহ কমতো মাঝে মাঝে। এ সময় জানেন ইয়াবা সম্পর্কে। হাত বাড়ান ইয়াবার দিকে। ইউটিউবে দেখে শিখে নেন কিভাবে সেবন করতে হবে ইয়াবা। অতঃপর ইফাতের দেয়া তথ্যানুসারেই গুলশান-২ এলাকার এক বিক্রেতার কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করেন। বাসায় বসেই সেবন করেন ইয়াবা। বুঁদ হয়ে যান নেশায়। হারিয়ে যান অন্য দুনিয়ায়। কোনো কষ্টের অনুভূতি জাগে না। পরদিন একটা অভাব অনুভব করেন। অতঃপর আবার ইয়াবা সেবন করেন। এভাবেই চলতে থাকে। ইয়াবা ছাড়া আর চলে না। ইয়াবা সেবন না করলে মেজাজ রুক্ষ হয়ে থাকতো। অল্পতেই রেগে যেতেন। চিৎকার, ভাঙচুর করতেন। মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। কথা বলার এক পর্যায়ে চোখের কোণে অশ্রু জমাট হয় সুর্দশনার। বলেন, ‘২০১৬ সালের আগস্টে আমি আম্মুর গায়ে হাত তুলেছি। তারপরই আম্মু আমাকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেন। এখানে ভর্তি হওয়ার পর মনে হয়েছে আমিতো এমন কোনো অপরাধ করিনি। কেন আমাকে চিকিৎসা করাতে হবে। ধীরে ধীরে আমি বুঝতে পারি। এতদিন অন্ধকারে ছিলাম। এখন বেশ ভালো আছি।’
রাজধানীর একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মোহনা। লম্বা, শ্যামলা, সুন্দরী। তার চোখে-মুখে অনেক মায়া। মায়াবী এই মোহনা  সহজেই নজর কাড়তেন যুবকদের। প্রেমের প্রস্তাব পেতেন অহরহ। বিলাসী জীবনের প্রতি ঝোঁক ছিল মধ্যবিত্ত পরিবারের এই তরুণীর। পরিবারের অমতেই ভালোবেসে ঘর ছাড়ে মুকুল নামক যুবকের সঙ্গে। ঘটনাটি ২০১০ সালের। মোহনা জানান, মুকুল ভালো চাকরি করেন জানতেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চালক। যৌথজীবন যাপনে অভাব লেগেই থাকতো। অর্থের জন্য তারকা হোটেলের বিভিন্ন পার্টিতে নাচ করেন মোহনা। কিন্তু মোহনার শরীরের ওজন বাড়ছিল। মোটা দেখাচ্ছিল। মোহনার ভাষায়, ‘মোটা মেয়েদের পার্টিতে কদর কম। তাই স্লিম হওয়ার জন্য সহকর্মী চিয়ার্সগার্লদের পরামর্শ নিয়ে ইয়াবা সেবন শুরু করি।’ তারপর থেকে স্লিম থাকার জন্যই নিয়মিত ইয়াবা সেবন করেন। ওই সময়ে তার প্রেমিক মুকুলের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায়। কারণ হিসেবে জানান, তার উপার্জনের পুরো টাকা নিয়ে যেতেন মুকুল। ততদিনে অনেক বন্ধু জুটেছে মোহনার। নিয়মিত পার্টিতে অংশ নেন। বাসা নেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। ততদিনে ইয়াবা সেবন করে স্লিমও হয়েছেন। কিন্তু বিলাসী জীবনযাপনের জন্য আরো অর্থ দরকার। বেশি অর্থ উপার্জনের জন্য পার্টিতে যৌনসঙ্গী হন অনেকের। ছুটে যান দেশের বিভিন্ন স্থানে। দীর্ঘসময় পুরুষকে আনন্দ দিতে এবং নিজেকে স্লিম রাখতে ইয়াবা সেবন করেন প্রতিদিন। একদিন সেবন না করলে কিছুই ভালো লাগে না। পার্টি, সঙ্গী সব অসহ্য লাগে। ইয়াবা ছাড়া চলে না। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে যান এই তরুণী। দীর্ঘ ৭ বছর পর গত ৮ই মার্চ ফোনে মা-বাবাকে জানান তিনি গুরুতর অসুস্থ। বলেন, ‘আমি অনেক অপরাধ করেছি মা। আমি বোধ হয় আর বাঁচবো না। আমাকে তোমরা বাঁচাও।’ বাসার ঠিকানা জেনে মা-বাবা ছুটে যান। বিলাস বহুল ফ্ল্যাটে ঢুকতেই বুঝতে বাকি নেই তাদের আদরের মেয়েটি অন্ধকারের বাসিন্দা। অ্যালকোহলের বোতলে সাজানো ফ্রিজ খুলে তারই প্রমাণ পান। অতঃপর এই তরুণী এখন একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অর্পা। একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী। বাসা মগবাজারে। অর্থের অভাব না থাকলেও ভালোবাসার অভাব ছিল তার। অর্পার বয়স তখন দুই বছর। বাবাকে ছেড়ে মা ঘর বাঁধে অন্যের সঙ্গে। তাকে বড় হতে হয় সৎ মায়ের কাছে। অনাদর-অবহেলার মধ্যে ভরসা ছিলেন দাদি। তবে শাসন-বারণ তেমন না থাকায় চলাফেরা ছিল বেপরোয়া। সময়ে-অসময়ে ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন। আড্ডায় সিগারেট থাকতোই। নানা দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারতেন না। তাই স্ল্লিপিং পিল সেবন করতেন অর্পা। আড্ডাতে গিয়েই এক তরুণকে বয়ফ্রেন্ড হিসেবে বেছে নেন তিনি। তার বয়ফ্রেন্ড সেবন করতেন ইয়াবা। পারিবারিক যন্ত্রণা ভুলে থাকতে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে তিনিও হাত বাড়ান মরণনেশার দিকে। এভাবে কিছুদিন। তারপর নানা মিথ্যা বলে দাদির কাছ থেকে টাকা নিয়ে ক্রয় করতেন ইয়াবা। লেখাপাড়া বাদ দিয়েই মাদকে ডুবে যান অর্পা। দাদি টাকা না দিলে চুরি করতে বাধ্য হন। বাসার দামি জিনিস বিক্রি করে ইয়াবার টাকা সংগ্রহ করেন। ইয়াবা বিক্রি করলে ফ্রি ইয়াবা সেবন করতে দেয় মাদক ব্যবসায়ীরা। সেবনের জন্য ইয়াবা বিক্রি করা শুরু করেন অর্পা। বিষয়টি জানার পর গত ২৭শে মার্চ দাদি ও ফুফু তাকে নিয়ে যান চিকিৎসকের কাছে।
টাঙ্গাইলের মেয়ে রুবি। অল্প বয়সেই বিয়ে দেয়া হয় তাকে। পরপর দুটি সংসার ভাঙ্গার পর দিশাহারা মেয়েটি অর্থ উপার্জনের জন্য বেছে নেন মাদক পরিবহনের কাজ। টাঙ্গাইল থেকে ট্রেনে দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট এলাকায় মাদক পরিবহন করতেন তিনি। পরিবহন করতে গিয়ে আসক্ত হন। তখন মাদকের নেশায় যৌনকর্মী হতেও বাধ্য হন। মাত্র কয়েক বছরেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে যান এই নারী। শেষ পর্যন্ত স্বজনরা জোর করেই তাকে ভর্তি করিয়ে দেন রাজধানীর একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে। আশুলিয়ার নবম শ্রেণির ছাত্রী রোকেয়া। বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে মিশে নিজের অজান্তেই আক্রান্ত হন মাদকে। কয়েক মাস পরেই বেপরোয়া আচরণ করতে থাকেন। ঘরের টাকা, দামি জিনিস বিক্রি করে দেন। এমনকি প্রতিবেশী, আত্মীয়দের দামি মোবাইলসেটও চুরি করতে বাধ্য হন। এই কিশোরীর মতো অনেক মেয়েরা এভাবেই অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। মাদকে আক্রান্ত হচ্ছে তারা। সরকারি হিসেবে দেশের ৬০ লাখ মানুষ মরণ নেশায় আক্রান্ত। কিন্তু বাস্তবে এই সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৬,০০,০০০ হচ্ছে নারী। মাদকাসক্ত নারীদের বেশিরভাগ উচ্চবিত্ত পরিবারের। আক্রান্ত নারীদের ৪০ শতাংশ হচ্ছেন শিক্ষার্থী। ২০১৪ সালে দেশে নারী মদ পানকারীর সংখ্যা ছিল ৪,১০,০০০। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৯০,০০০ জনে। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা গিয়ে ঠেকে ৫,৬০,০০০। বর্তমানে দেশে নারী মদ পানকারীর সংখ্যা ৬,০০,০০০।
দীর্ঘদিন যাবত নারী মাদকাসক্তদের শিক্ষাব্রতী হিসেবে কাজ করছেন সেলিনা আক্তার শেফা। নারীদের মাদকাসক্তির বিষয়ে বর্তমানে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র বারাকা’র এডুকেটর শেফা বলেন, ‘কৌতূহলে, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে, পারিবারিক হতাশার কারণে মাদকাসক্ত হচ্ছে মেয়েরা। মাদক বলতে মূলত ইয়াবা ও গাঁজায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ মেয়েরা স্ল্লিম হওয়ার জন্য ইয়াবা সেবন করছে। পরবর্তীতে আক্রান্ত হয়ে নিজের জীবন ধ্বংস করছে। এমনকি পরিবারকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

সরজমিন ওসমানী উদ্যান: রাতে যৌনকর্মী দিনে ভবঘুরের উৎপাত by আবদুল আলীম



রাত ৮টায় গেট বন্ধ হওয়ার নিয়ম ওসমানী উদ্যানের। সময় মতো বন্ধও হয়েছে। তবে ভেতরে বহু মানুষের আনাগোনা। একের পর এক মানুষ ঢুকছে। কেউ যাচ্ছে ভাসমান যৌনকর্মীর কাছে, আবার কেউ যাচ্ছে গাঁজার আসরে। বুধবার রাতে সিটি করপোরেশনের এক কর্মচারীর সহযোগিতায় ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, একদল হিজড়া অভ্যর্থনায় দাঁড়িয়ে। পশ্চিম পাশের লেকের রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যেতেই শুরু হয়ে যায় টানাটানি। কিছুদূর এগিয়ে সচিবালয়ের কোলঘেঁষা নিরাপত্তা বেষ্টনীর কাছে পৌঁছলে দেখা যায়, আধো জোছনায় পায়ে হাঁটার রাস্তার ওপরই চলছে যৌনকর্মীদের কার্যক্রম। একশ্রেণির মানুষ পার্কে প্রবেশ করে যৌনকর্মীদের সঙ্গে ফূর্তি করছে। নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যারাকের পাশে দেখা যায় জটলা। সেখানে ১০-১২ জন দলবেঁধে গাঁজা খাওয়ায় মত্ত। নিরাপত্তা কর্মীদের ব্যারাকের সামনেই গাঁজার আড্ডা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিরাপত্তাকর্মীদের মাসোহারা দিয়েই তারা নিয়মিত এখানে বসে গাঁজা সেবন করে। অনেক সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরাই আসরে গাঁজা সরবরাহ করে। আবার হিজড়া বা যৌনকর্মীরাও গার্ডদের নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দিয়ে পার্কের ভেতরে কার্যক্রম চালায়। পার্কের সকল গেট বন্ধ থাকলেও নগর ভবনের মূল ফটকের সামনেই পার্কের নিরাপত্তা বেষ্টনীর লোহার সিক ভেঙে বেশ কয়েকটি দরজা বানিয়েছে সুবিধাবাদীরা। সেখান দিয়েই ভেতরে যাওয়া আসা করে এসব মানুষ। রাতের চিত্র অসামাজিকতায় ভরা হলেও দিনের চিত্রও কম না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ওসমানী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য ভবঘুরের দল জটলা পাকিয়ে বসে আছে পার্কজুড়ে। পাশ দিয়েই যাওয়া যায় না গাঁজার উৎকট গন্ধে। প্রকাশ্যে চলে ইয়াবা হেরোইনসহ নেশা দ্রব্য সেবন। পার্কের বিভিন্ন অংশে প্রকাশ্যে দেখা যায় পাগল বেশধারী বেশ কিছু নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রেতা। শুধু নেশাখোরই না, দিনের বেলায় রাজধানীর বিভিন্ন ধরনের ভবঘুরেও দখলে রাখে ওসমানী উদ্যান। চুরি ছিনতাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষের আশ্রয়স্থল ওসমানী উদ্যান। ভাসমান হকার তো আছেই। গাছের ফাঁকে ফাঁকে খালি জায়গা পেয়ে তাতে ক্রিকেট খেলায় মেতে রয়েছে বহিরাগত ছেলেরা। মাঠজুড়ে আছে চিপস, বিস্কুট ও চানাচুরের প্যাকেটসহ অসংখ্য ময়লা-আবর্জনা। ডাস্টবিন ভরে উঠেছে ময়লা-আবর্জনায়। তবে পরিষ্কার করার কেউ নেই। দিনের পর দিন ডাস্টবিন ভরে থাকলেও পরিষ্কার করে না পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। রাজধানীবাসীর নির্মল পরিবেশে হাঁটাচলা ও পথিকের ক্লান্তি দূর করার জায়গা হিসেবে পার্কটি তৈরি করা হলেও সাধারণ মানুষের বসার কোনো পরিবেশই নেই সেখানে। এছাড়া পার্কের পূর্ব প্রান্তের লেকটি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করছেন একজন প্রভাবশালী। লেকের পাড়ে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করে পকেটে ভরছেন সবজি বিক্রির টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের কার্যালয় নগরভবনের সামনে হলেও পার্কটি দেখার মতো কোনো অভিভাবক নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকলেও টহল দেন না কোনোদিন। যে যার ইচ্ছামতো ব্যবহার করছে পার্কটি। নিরাপত্তা কর্মীরা এসব বহিরাগত ও অপ্রত্যাশিতদের হাত থেকে পার্ক রক্ষা করার বদলে নিজেই তোলা উঠিয়ে সুযোগ করে দিচ্ছেন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর। তবে এক নিরাপত্তা কর্মী জানান, আমরা প্রায় প্রতিদিনই যৌনকর্মীদের পিটিয়ে বের করে দিই। একদিক দিয়ে পিটাই অন্যদিক দিয়ে আবার প্রবেশ করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওসমানী উদ্যানের নিরাপত্তা ও সার্বিক বিষয় দেখাশোনায় কর্মরতদের সমন্বয় করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর অঞ্চলের ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু নাসের কোচির ওপর। যোগাযোগ করা হলে তিনি মানবজমিনকে বলেন, পার্কের অবস্থা আগে আরো খারাপ ছিল। আমি প্রায়ই অভিযান চালাই সেখানে। নিরাপত্তা কর্মীদের কঠোর নির্দেশ দেয়া আছে কোনো ধরনের আপত্তিকর কাজ যেন কেউ না করতে পারে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রকল্প পরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা সব পার্কের উন্নয়নের জন্য বড় একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। সব পার্ক ব্যবহার উপযোগী করা হবে। এতে পার্কের নিরাপত্তা বেষ্টনীর উন্নয়ন, ভেতরের রাস্তা, বসার জায়গা, সবুজায়ন, সুপেয় পানি ও উন্নত মানের টয়লেটসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন করা হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে পার্কের ভেতরে কোনো ভবঘুরে বা অপ্রত্যাশিত লোকজন পাওয়া যাবে না।

পরিবহন খাতে শৃংখলা না ফেরা পর্যন্ত অভিযান: ওবায়দুল

পরিবহন খাতের শৃংখলা ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রোববার সকাল ৯টার দিকে তেজগাঁও সাত রাস্তার মোড়ে বিআরটিএ'র অভিযান পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, সিটিং সার্ভিস বন্ধে রাজধানীতে বিআরটিএ'র অভিযান শুরু হয়েছে। এছাড়া যানবাহনের বাম্পার অপসারণ করা হচ্ছে। যাত্রী হয়রানি ও তাদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, পরিবহন খাতে সকল প্রকার শৃংখলা না ফেরা পর্যন্ত বিআরটিএ' র অভিযান চলবে। এদিকে, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমান বলেন, রাজধানীতে সিটিং সার্ভিসের কোনো অনুমোদন নেই। অননুমোদিত যানবাহনের বিরুদ্ধে তারা অভিযান শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, শুধু সিটিং সার্ভিস বন্ধ নয়, যাত্রী হয়রানি রোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন থেকে যানবাহনের বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধে বিআরটিএ সপ্তাহে তিনদিন অভিযান পরিচালনা করবে। আজ রাজধানীর পাঁচটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান বিআরটিএ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, রাজধানীর আসাদগেট, বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ডে সড়কের পশ্চিম পাশে, রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে, আগারগাঁওয়ে (আইডিবি ভবন), যাত্রাবাড়ী চাইপাই রেস্টুরেন্টের সামনে বিআরটিএ’র অভিযান চলবে। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে। সিটিং সার্ভিস বন্ধ, বাম্পার অপসারণ ও বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সপ্তাহে তিনদিন তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন বিআরটিএ'র এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

সোয়া দুইশ’ বছর পর স্বীকৃতি পেলো কওমি সনদ: কমিটির চেয়ারম্যান আল্লামা শফি by নূর মোহাম্মদ



প্রায় সোয়া দুইশ’ বছর পর স্বীকৃতি পেলো কওমি মাদরাসা। বৃহস্পতিবার কওমি মাদরাসা দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রি ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রির সমান মর্যাদা পাবে। এতে বলা হয়, দাওরায়ে হাদিস বিষয়ে পরীক্ষা গ্রহণকারী দেশের কওমি  বোর্ডগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সনদ বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সারা দেশের কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে নেয়া হবে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মতো পরীক্ষার উত্তরপত্রও একসঙ্গে মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশ করা হবে। কওমি মাদরাসা দাওরায়ে হাদিসের সনদের মান বাস্তবায়ন কমিটি এই কাজ পরিচালনা করবে। এদিকে প্রায় সোয়া দুইশ’ বছর পর কওমি মাদরাসা সনদের সরকারি স্বীকৃতির ঘোষণায় দেশের আলেম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। তারা এই প্রজ্ঞাপনের দ্রুত বাস্তবায়ন চান।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই সমমান দেয়ার লক্ষ্যে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি (পদাধিকার বলে) ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। কমিটিতে সরকারের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এ কমিটি সনদবিষয়ক যাবতীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বলে বিবেচিত হবে। কমিটির নিবন্ধিত মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিসের সনদ মাস্টার্সের সমমান বলে বিবেচিত হবে। এ কমিটির অধীনে ও তত্ত্বাবধানে দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা হবে। কমিটি সিলেবাস প্রণয়ন, পরীক্ষা পদ্ধতি, পরীক্ষার সময় নির্ধারণ, অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল ও সনদ তৈরিসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক বা একাধিক উপ-কমিটি গঠন করতে পারবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়গুলো অবহিত করবে কমিটি। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ কমিটি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকবে। এর আগে ১১ই এপ্রিল রাতে গণভবনে কওমি মাদরাসার আলেম-ওলামাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই স্বীকৃতির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারও আগে ২৮শে মার্চ কওমিপন্থি শীর্ষ আলেম এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় ও দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিসমূহকে ভিত্তি ধরে দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবি এর সমমান দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
১৭ সদস্যের এই কমিটির চেয়ারম্যান হলেন দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া (বেফাক) সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী। কো-চেয়ারম্যান বেদাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আশরাফ আলী। এছাড়া কমিটিতে বেফাক থেকে ৫ জন, গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গার বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার ২জন। ইত্তেহাদুল মাদারিসিল কওমিয়া চট্টগ্রামের ২ জন। সিলেটের আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তা’লীম থেকে ২ জন, তানজিমুল মাদারিসিল কওমিয়া উত্তরবঙ্গের ২জন, জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ থেকে ২ জন। এসব বোর্ডের সভাপতি ও মহাসচিবরা সদস্য হিসেবে পদাধিকার বলে থাকবেন। তবে বোর্ড চাইলে তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদেরও দিতে পারবে। এছাড়া চেয়ারম্যান সর্বোচ্চ ১৫ জন সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবেন। তবে এ সংখ্যা ১৫ জনের বেশি হবে না।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, দাওরায়ে হাদিসের ডিগ্রির মান বাস্তবায়নে নিয়োজিত কমিটি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকবেন না। এই কমিটির তিনটি কার্যপরিধি ঠিক করে দেয়া হয়েছে। এই কমিটি যেসব মাদরাসাকে নিবন্ধন দেবে কেবল তারাই দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রির সমমান পাবে। বর্তমানে সারা দেশে দাওরায় হাদিসের অন্তত ৬টি শিক্ষা বোর্ড আছে। ওই বোর্ডগুলো আলাদাভাবে পরীক্ষা নিয়ে দাওরায় হাদিস ডিগ্রির সনদ দিয়ে থাকে।
এর আগে ২০১২ সালের ১৫ই এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে কওমি সনদের স্বীকৃতি দিতে উদ্যোগ নেয় সরকার। কওমি মাদরাসা শিক্ষা আইন-২০১৩ অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকেও ওঠে। তখন স্বীকৃতির বিরোধিতা করে হেফাজতে ইসলাম। এরপর তা মন্ত্রিসভা থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তার আগে ২০০৬ সালের ২৯শে আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অনুমতি নিয়ে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যার নম্বর শাখা-১৬/বিবিধ-১১(৯)/২০০৩(অংশ)-৮৮৭। এতে বলা হয় কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরায়ে হাদিসকে এমএ (ইসলামিক স্টাডিজ/সাহিত্য) সমমান হিসেবে ঘোষণা করা হলো। কিন্তু তার বাস্তবায়ন করে যেতে পারেনি তৎকালীন সরকার।  
কওমি মাদরাসা শিক্ষাসনদ স্বীকৃতি বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ বলেন, বেফাকের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা একটি পক্ষের কারণে এতো দিন এটার স্বীকৃতি বা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সরকার এর স্বীকৃতি দিয়েছে, এখন দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিক আহমেদ বলেন, ১৪’শ বছর আগের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। যা বর্তমান সময়ের থেকে আলাদা। এজন্য কওমি মাদরাসার কারিকুলামের আধুনিকায়নও দরকার। দাওরায়ে হাদিস সনদের যে মান সে মান অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। যাতে তারা যে কোনো জায়গায় নিজেদের প্রমাণ করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষার্থীরা যেমন যোগ্যতা অর্জন করবে তারা যদি সে রকম করতে পারে তাহলে কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব।
কওমি সনদের স্বীকৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াসেল বলেন, সনদের স্বীকৃতি আমাদের দীর্ঘদিনের একটা দাবি ছিল। দাবি আদায়ে অনেক কর্মসূচি ও আন্দোলন করেছি। দেশের ওলামা কেরামদের প্রত্যাশা ছিল। খতিব ওবায়দুল হক সাহেব দাবি পূরণে অনেক চেষ্টা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার মধ্য দিয়ে আমাদের দাবি পূরণের পদ সুগম হয়েছে।
ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অব দাওরায়ের পরিচালক ও বিশিষ্ট আলেম মো. শরীফ মোহাম্মদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ ভারত, পাকিস্তানে কওমি শিক্ষার স্বীকৃতি আছে। বাংলাদেশে এটা এত দিন ছিল না। গত বিএনপি সরকারের ক্ষমতার শেষদিকে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর একটি গেজেটও প্রকাশ করে ছিলেন। কিন্তু পুরোপুরি আনুষ্ঠানিকতা তিনি শেষ করেন নি। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সনদের স্বীকৃতি দেয়ার উদ্যোগ নেয়। সব পক্ষের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলেমদের বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে দূরত্ব কমেছে। তিনি আরো বলেন, সনদের স্বীকৃতি ঘোষণার সঙ্গে আলেমদের জন্য একটা অপেক্ষাও কাজ করছে। মূল বিষয়টি বাস্তবায়নে কত দিন দেরি হয় তা নিয়ে পর্যবেক্ষণও কাজ করছে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমা শিক্ষা ও কালচারের আগ্রাসন থেকে মুসলিমদের রক্ষায় ১৮৬৬ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিই সর্বপ্রথম কওমি মাদরাসা। সে ধারাবাহিকতায় ১৯০১ সালে বাংলাদেশের প্রথম কওমি মাদরাসা দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী সারা দেশে ১৩ হাজার ৯০২টি কওমি মাদরাসা আছে। সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। তবে বর্তমানে কওমি মাদরাসার সংখ্যা ১৮ হাজারের মতো এবং ২০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করে। তবে সনদের স্বীকৃতি না থাকায় কেউ সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পায়নি।

কাশ্মীরি যুবককে 'মানবঢাল' বানালো ভারতীয় সেনারা



জীপের সামনে বাম্পারে টায়ার বসিয়ে তার ওপর রশি দিয়ে এক তরুণকে বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।
এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে তুমুল প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে দেশজুড়ে।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বুদগাম জেলায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় বেশ কয়েকজন নিহতও হয়েছে।
জেলার বিরওয়া নামক এলাকায় ভোট হয়ে গেছে রবিবার, কিছু এলাকায় ভোট পুনগণনা হয়েছে বৃহস্পতিবার।
তবে এ ভোটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে।
প্রতিবাদ হচ্ছিলো ব্যাপকভাবে।
নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি দেখলেই ইট পাথর নিক্ষেপ করছিলো বিক্ষোভকারীরা।
সে বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে বাঁচতে ওই ব্যক্তিকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে নিরাপত্তা বাহিনী- এমন একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে তারা ভিডিওর বিষয়বস্তু পরীক্ষা করে দেখছে।
কাশ্মীর উপত্যকায় সামরিক কনভয়ের একটি গাড়ীতে ওই তরুণকে বেধে নেয়ার সময় একজন সৈন্যকে বলতে শোনা গেছে 'যে পাথর মারবে তার একই পরিণতি হবে'।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে গাড়ির লাইসেন্স নাম্বার ৩৩৯ লেখা রয়েছে।
ভিডিও পোস্ট করেছে জম্মু ও কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্সের মুখপাত্র জুনায়েদ আজিম মাত্তু, পোস্ট দিয়েছেন টুইটারেও।
তবে কোথায় কিভাবে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে তা জানা যায়নি।
তা সত্ত্বেও আর্মির একটি জীপের সামনে এভাবে একজন তরুণকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহারের ১১ সেকেন্ডের ওই ভিডিও আলোড়ন তুলেছে সর্বত্রই।
কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি পুলিশকে বিষয়টির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা

ঢাকায় মাদকের ৩০০ ডিলার by রুদ্র মিজান



পাপিয়া। খয়েরি ডানার ছোট্ট সুন্দর পাখির নামেই নাম মেয়েটির। দেখতে সুন্দরী। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। পাপিয়ার নাম শুনলে কেঁপে উঠেন মোহাম্মদপুর, আদাবর এলাকার লোকজন। পুরো নাম ফারহানা আক্তার পাপিয়া। অস্ত্র ও মাদক জগতের পরিচিত মুখ তিনি। একের পর এক মামলার আসামি হয়েছেন। কারাভোগ করেছেন। জুটেছে মাদকসম্রাজ্ঞি তকমাও। শুধু পাপিয়া নন, রাজধানীজুড়ে এরকম সহস্রাধিক মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন। এর মধ্যে দুর্ধর্ষ তিন শ’ জনের তালিকা রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে। তাদের প্রত্যেকের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযোগ, মামলা, গ্রেপ্তার কোনো কিছুতেই থেমে থাকে না তারা। বরং অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। পর্দার আড়ালে রয়েছেন তাদের আশীর্বাদদাতারা। যারা থাকেন সব অভিযোগ ও মামলার বাইরে। কিন্তু মাদক বিক্রির  টাকার একটি বড় অংশ পান তারা। মাদকের ‘ডিলারদের’ রয়েছে হাজার-হাজার খুচরা বিক্রেতা। খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে যায় মাদক। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (উত্তর) মোহাম্মদ খোরশিদ আলম বলেন, প্রতি ডিলারের গড়ে অর্ধশত মাঠ পর্যায়ের বিক্রেতা রয়েছে। পুরুষের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য মাদক ব্যবসায়ীদের একটি অংশ নারী। সূত্রমতে, পাপিয়ার মতো মাদকের শত নারী ডিলার রয়েছে রাজধানীজুড়ে। দেশব্যাপী বিস্তৃত পাপিয়ার নেটওয়ার্ক। চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা আমদানি করে আনা হয় ঢাকায়। চট্টগ্রামের হোসাইন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী তা পৌঁছে দেয় পাপিয়ার ভাসুর রাহীর কাছে। পরবর্তীতে পাপিয়া ও তার স্বামী জয়নাল আবেদিন বাচ্চু ওরফে পাচু ওরফে জয় দু’জনে তা ছড়িয়ে দেয় মাঠ পর্যায়ে। মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, আদাবর, শ্যামলী ও মিরপুর এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্কের অন্যতম হোতা পাপিয়া। ঢাকা থেকে পাপিয়া চক্রের মাধ্যমে মাদক ছড়িয়ে দেয় সারা দেশে। সর্বশেষ গত বছরের ৪ঠা ডিসেম্বর আদাবরের শেখেরটেকের শ্যামলী হাউজিং সোসাইটির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় পাপিয়াকে। এ সময় তার বাসা থেকে একটি পিস্তল ও লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ইয়াবা জব্দ করা হয়।
দীর্ঘদিন থেকে পাপিয়ার বাসা থেকেই ইয়াবা বিক্রি করা হতো। মাদক ব্যবসার স্বার্থে মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লায় বাসা থাকলেও বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিতো পাপিয়া-বাচ্চু দম্পতি। ইয়াবা বিক্রির জন্য তাদের রয়েছে অন্তত অর্ধশত কর্মীবাহিনী। মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লার জয়েন্ট কোয়ার্টারের ৭/৪/এ নম্বর বাড়িটি তাদের হলেও মাদক ব্যবসার স্বার্থে বসবাস করে আদাবরের ছয় নম্বর সড়কের ১০৯ নম্বর জাপানি বাড়িতে। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। এ বিষয়ে ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, পাপিয়ার মাদকের নেটওয়ার্ক রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত। মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায় সম্পৃক্ত রয়েছে এই চক্র। গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লার আবু হানিফের মেয়ে পাপিয়া যখন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তখনই তার প্রতি নজর পড়ে এলাকার তরুণ মাদক ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিন বাচ্চুর। ওই সময়েই বাচ্চুর প্রেমে পড়ে পাপিয়া। একপর্যায়ে বিয়ে করে তারা। দরিদ্র পরিবারের সন্তান বাচ্চু ছোটবেলা থেকেই ছিঁচকে চুরিতে অভ্যস্ত ছিল। এক পর্যায়ে নিজের ভাইদের নিয়েই এলাকার মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই পরিবারের সবার পেশাই এখন মাদক ব্যবসা।
মাদকের সম্রাটের নাম ইসতিয়াক। মাদক ব্যবসা করে এখন জিরো থেকে হিরো। মিরপুর, দারুসসালাম, শ্যামলী, আদাবর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি পর্যন্ত বিস্তৃত তার মাদকের জাল। তার শত শত লোকজন প্রতিদিন বিক্রি করছে মাদক। ইসতিয়াকের চেহারা দেখেননি কিন্তু তার নামে জানেন অনেকে। মাঝে-মধ্যে বিলাস বহুল গাড়িতে করে মাদকের পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে আসা-যাওয়া করে। ইসতিয়াক থাকে সাভার এলাকায়। ৩৫ বছর বয়সী ইসতিয়াকের জন্ম মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে। ছোটবেলা থেকেই চুরি-ডাকাতিতে অভ্যস্ত। এক পর্যায়ে আরশাদ নামে আরেক মাদক ব্যবসায়ীর গাঁজা বিক্রি করতো ইসতিয়াক। মাত্র ছয় বছর আগের কথা। নিজেই শুরু করে ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও গাঁজা বিক্রি। পাইকারি ও খুচরা। মাঠে কাজ করে তার শত শত কর্মী। বদলে যায় ইসতিয়াকের চেহারা। বিলাস বহুল গাড়ি, একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লটের মালিক এখন ইসতিয়াক। সূত্রমতে, হেমায়েতপুরে রয়েছে তার ১০০ কাঠা জমি। শুধু তাই না ইসতিয়াকের রয়েছে পার্সনাল সেক্রেটারি। তার নাম আদনান তানভির। তানভির নিজেকে কখনও মানবাধিকারকর্মী ও কখনও সরকারি দলের নেতা পরিচয় দিতো। এখন সে ইসতিয়াকের বাণিজ্যের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেলেও নিরাপত্তার স্বার্থে তানভীর থাকে হেমায়েতপুরে। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে নানা অভিযোগ। ইসতিয়াক একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে বর্তমানে প্রভাবশালী এক নেতার ছত্রছায়ায় নিজেকে নিরাপদে রেখেই ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে এলাকাবাসী জানান। ইসতিয়াক, মিরপুরের মাদক ব্যবসায়ী কাল্লু ও মোহাম্মদপুরের ইকবাল মিলে রয়েছে একটি সিন্ডিকেট। ইকবাল ছিল বিহারিদের সংগঠন ইউএসপিওয়াইআরএম’র সিনিয়র সহ-সভাপতি। মাদকের অভিযোগ থাকায় তাকে বহিষ্কার করে ওই সংগঠন। পরে যোগ দেয় বিহারিদের সনাতন সংগঠন এসপিজিআরসিতে। মাদক সংশ্লিষ্টতার কারণে সেখান থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়।
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, বারিধারার মাদক সম্রাট ফজলুল করিম। একাধিক গাড়ি, বাড়ির মালিক। নিজে ব্যবহার করে এলিয়ন গাড়ি। ২০১৬ সালের মার্চে তার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তার স্ত্রী ও ভাইয়ের স্ত্রী মাদক সরবরাহ করে বিভিন্ন বাসা ও পাঁচ তারকা অভিাজত হোটেলের পার্টিতে। পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানার বেওয়ারি গ্রামের মোবাশ্বের আলীর পুত্র ফজলুল করিম। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শামছুল আলম বলেন, ইসতিয়াক ও ফজলুল করিম ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মাদকের আরেক সম্রাজ্ঞী পারভিন আক্তার। পঁয়ত্রিশ ঊর্ধ্ব সুন্দরী। অবাধে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ব্যবসা করছে সে। রাজধানী ও বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার মাদকের হাট। এ মরণনেশার ব্যবসায় পারভিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত তার বান্ধবী সাহেনা আক্তার রাশি। পারভিন-রাশি মিলে সদর-ঘাট কেরানীগঞ্জে গড়ে তুলেছে বিশাল চক্র। কেরানিগঞ্জের কালিগঞ্জ বড় মসজিদ রোডের ইউনুস বেপারী লেনের বাসিন্দা পারভিনকে এক নামেই চিনে এলাকার সবাই। পারভিনের প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না কেউ। পুলিশকে মারধর করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পারভিনের সঙ্গে মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত রয়েছে তার পুরো পরিবার। নিউ ইস্কাটনের গাউস নগরে যুবলীগের নাম ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা করছে মিঠু, কলাবাগানের কাঁঠালবাগানের জেন্ডার গলিতে বিপ্লব। মাত্র এক বছরে প্রাইভেট কারের চালক থেকে এখন যুবলীগ নেতা। এই পরিচয় ব্যবহার করে অবাধে করে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। গেণ্ডারিয়ার মাদক ব্যবসা করছে ছাত্রলীগ নামধারী রিয়াদ, যাত্রাবাড়ীতে সায়েম। তাদের ক্রেতা মূলত এলাকার শিক্ষিত তরুণরা। সায়দাবাদের মাদক সম্রাজ্ঞী সুফি। মাদারীপুরের মেয়ে মুক্তার হোসেনের স্ত্রী সুফি দীর্ঘদিন থেকে সায়দাবাদের ওয়াসা রোডে গড়ে তুলেছে মাদকের আস্তানা। মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আমদানি করে সুফি চক্র। বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আনে ফেন্সিডিল। একাধিক মামলা থাকলেও মাদক ব্যবসা থেকে দূরে নেই সুফি। স্বামীর হাত ধরে মাদকরাজ্যে পা রাখলেও তার নিজের পরিচিতিই বেশি। ঢাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাটের মালিক এখন এই নারী। আরেক সম্রাজ্ঞীর নাম পারুল ওরফে পারভিন। কুমিল্লা সদরের খেতাশা গ্রামের আলমগীরের স্ত্রী পারভিন। যাত্রাবাড়ীর বিবিরবাগিচায় থেকে নিয়ন্ত্রণ করে ওই এলাকার মাদক ব্যবসা। মাদক বহন করার জন্য তার রয়েছে ১০-১২ জন তরুণী। তারা ভ্রমণের নামে প্রায়ই কক্সবাজার ও টেকনাফে আসা-যাওয়া করে। কৌশলে অন্তর্বাস ও জুতার সোর্ট বা হিলের ভেতরে এবং মোবাইলফোনের ভেতরে এবং কখনও কখনও নিজের ব্যাগে ইয়াবা বহন করে। কাজলা ২/২৯ নম্বর বাসাসহ একাধিক ভাড়া বাসা রয়েছে এই চক্রের। পারভিনের স্বামী শামীম এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত। মাদক ও মানব পাচারের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ৯৬২৮টি মামলা হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে হয়েছে ১০৪৮টি মামলা। বিপুল মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। প্রায়ই অভিযান হচ্ছে। মাদক বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দারা তৎপর রয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আরো রয়েছে মোহাম্মদপুরের পঁচিশ ওরফে চোয়া সেলিম, রানী, মুন্না, আসাদ, মাহবুব, চুলা, সেলিম, সাহাবুদ্দিন, মাহিনা আক্তার সাথী, নার্গিস, সায়রা, রেশমা, কুলসুম, জিপু, নাসির, কালু, জাহিদ, সনু, টেলু আরমান, শামীম, সদরঘাট-কেরানীগঞ্জ এলাকার পারভীন, পাপন, সৈয়দ আলী, আল-আমিন, ইয়ামিন, সায়দাবাদ এলাকার ময়না, যাত্রাবাড়ীর হাবিব, সেলিম রেজা, দেলোয়ার হোসেন, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ গোলাপবাগের সাইফুল ইসলাম, আহাদুল ইসলাম, শ্যামপুরের পোস্তগোলা রাজাবাড়ির হাছিনা বেগম, ইসলামবাগের ছাফি, গেণ্ডারিয়ার শিলামণি, ডেমরার নাসির, বংশালের সেলিম, ওয়ারির আমীর হোসেন, আলশাহরিয়ার রোকন, পূর্ব রামপুরার এনএস সড়কের মর্জিনা বেগম, কাওসার আহমেদ, কুতুব উদ্দিন রণি, মিরপুর-১১ এর বি ব্লকের কাল্লু, উত্তরার আশকোনার জ্যোতি, জাবেদ, মনোয়ারা, বিল্লার হোসেন, কাওরানবাজারের মিনা, শাহিদা, পারভিন, কুটি, রবিউল, শুক্কুর, নিশি, খিলগাঁওয়ের আজিজ, গুলশান নিকেতনের অঞ্জনা, উত্তরার বাসিন্দা এক সময়ের চলচ্চিত্রের নায়িকা নদী, লালবাগের মনোয়ারা, আনন্দবাজার বস্তির বানু নিমতলী বস্তির সাবিনা, পারুল, মহাখালীর ইভা ও রওশন আরা, বনানীর আইরিন, কড়াইল বস্তির রিনা, বিউটি, গুলশানের মৌ, বারিধারার নাদিয়া, উত্তরার গুলবাহার, মুক্তি সহ আরও অনেকের নাম।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (গোয়েন্দা ও অপারেশনস) ডিআইজি সৈয়দ তৌফিক উদ্দীন আহমেদ বলেন, ঢাকায়  মাদকের অন্তত ৩০০ ডিলার পর্যায়ের ব্যবসায়ী রয়েছে। তাদের আমরা নজরদারি করছি। অনেককে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করেছি। মাদক প্রতিরোধ করতে কঠোর আইন-প্রয়োগের পাশাপাশি সবাইকে সচেতনভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে: মির্জা ফখরুল

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায় বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে নেত্রকোনা শহরের ছোট বাজার এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মাত্র চার মিনিটের বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে চাই।
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আমরা বিপুল ভোটে জয়ী হব। বর্তমান সরকার এখন জনগণের সমর্থন হারিয়ে জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’ তিনি বলেন, সরকার সারা দেশে বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। নেত্রকোনার মতো সারা দেশে বেগম খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও সরকারের জুলুম-নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি মির্জা ফখরুল ইসলাম। জেলা বিএনপির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হকের সঞ্চালনায় ওই অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স, জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুল মান্নান তালুকদার, মাহফুজুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মনিরুজ্জামান দুদু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার, যুগ্ম সম্পাদক সালাউদ্দিন খান প্রমুখ। পরে মির্জা ফখরুল মোহনগঞ্জের গাগলাজুর ও খালিয়াজুরী উপজেলায় সম্প্রতি পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কৃষকদের অবস্থা পরিদর্শনে যান।

ঢাকায় সিটিং সার্ভিস বন্ধে কাল থেকে অভিযান

ঢাকার বাস-মিনিবাসে আজ শনিবার থেকে সিটিং সার্ভিস প্রথা বাতিল করেছে পরিবহন মালিকদের সংগঠন ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি। মিরপুর থেকে কেরানীগঞ্জ পথে চলা দিশারী পরিবহনে লোকাল যাত্রী তুলতে দেখা গেছে। আবার জিরানী-মতিঝিল, সাভার-যাত্রাবাড়ী পথে চলা লাব্বাইক পরিবহন সিটিং সার্ভিস হিসেবেই চলছে।  পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা বলছেন, নববর্ষ ও সাপ্তাহিক ছুটির বিষয় থাকায় এমনিতেই আজ রাজধানীতে বাস-মিনিবাসের চলাচল কিছুটা কম। তবে কাল রোববার থেকে সিটিং, স্পেশাল ও গেটলক নাম নিয়ে বাস-মিনিবাসের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। ৪ এপ্রিল ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি সংবাদ সম্মেলন করে সিটিং সার্ভিস প্রথা বাতিল করার ঘোষণা দেয়। যানবাহন থেকে অবৈধ হুক অ্যাঙ্গেল খুলে ফেলা, সিটিং সার্ভিস বন্ধসহ পরিবহন খাতের সমস্যা সমাধানে করণীয় ঠিক করতে পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও মালিক-শ্রমিক নেতারা বৈঠকে বসছেন। বিকেল চারটায় এলেনবাড়ীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে। মালিক-শ্রমিক সূত্রগুলো জানায়, বিআরটিএর নিজস্ব চারজন নির্বাহী হাকিম রয়েছেন। তাঁরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে থাকেন। কাল থেকে এসব আদালতে যাতে সিটিং সার্ভিস বন্ধে তৎপরতা চালানো হয়, সে অনুরোধ জানানো হবে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে। সিটিং সার্ভিস বন্ধে মালিক সমিতি পাঁচটি পরিদর্শন দল (ভিজিল্যান্স টিম) গঠন করেছে। কাল থেকে নগরের পাঁচটি স্থানে তারা সড়কে অবস্থান করবে। স্থানগুলো হচ্ছে আসাদগেট, আগারগাঁও (আইডিবি ভবনের সামনে), শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে, রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনে ও যাত্রাবাড়ীর চাংপাই রেস্তোরাঁর সামনে। ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, আজ থেকেই অনেক মালিক সিটিং সার্ভিস বাতিল করে নরমাল চালাচ্ছেন। এরপরও বিআরটিএতে বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। তাদের ভিজিল্যান্স টিম নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে অবস্থান নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবে। সড়ক পরিবহন সমিতি ৪ এপ্রিল আরও যেসব সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৫ এপ্রিলের পর যাত্রীদের কাছ থেকে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। ভাড়ার তালিকা বাসের ভেতর দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখতে হবে। ছাদের ওপরে ক্যারিয়ার, সাইট অ্যাঙ্গেল ও ভেতরের অতিরিক্ত আসন খুলে ফেলতে হবে। প্রতিটি বাস ও মিনিবাসে নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা আসন সংরক্ষণ করতে হবে। এক মাসের মধ্যে রংচটা, রংবিহীন, জরাজীর্ণ বাস মেরামত করে রাস্তায় নামাতে হবে। মোটরযান আইন অনুসারে, সিটিং সার্ভিস বলে কিছু নেই।
চালকের আসনসহ মিনিবাসে ৩১টি আসন থাকবে। এর বেশি আসন হলে তা বাস। আর বিআরটিএ পরিবহন খাতের ২০টি বিষয়ে ব্যয়ের খাত বিশ্লেষণ করে বাস-মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণ করে। সর্বশেষ ব্যয় বিশ্লেষণে প্রতিটি বাস-মিনিবাসের ৮০ শতাংশ আসন পূর্ণ হয়ে চলাচল করবে। কিন্তু রাজধানীতে প্রায় সারা দিনই দাঁড়িয়ে যাত্রী যাতায়াত করে। যাত্রীরা সকাল ও বিকেলে অফিসযাত্রা ও ছুটির সময় দরজাতেও ঝুলে যাতায়াত করে। মতিঝিল থেকে নবীনগর পথে চলে ওয়েলকাম ও স্বজন পরিবহন। সিটিং সার্ভিস নাম দিয়ে চলা এই দুটি কোম্পানির মিনিবাসে উঠলেই সর্বনিম্ন ১০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। অথচ মিনিবাসের জন্য ৫ টাকা এবং বড় বাসের ৭ টাকা সর্বনিম্ন ভাড়া ঠিক করে দিয়েছে সরকার। এ দুটি পরিবহনে চড়ে ফার্মগেট থেকে আসাদগেট বা শ্যামলী গেলে ১৫ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। বিআরটিএর ভাড়ার তালিকা অনুসারে ফার্মগেট থেকে কলেজগেট পর্যন্ত দূরত্ব ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার। অর্থাৎ এই দূরত্ব মিনিবাসে ৫ টাকায় এবং বড় বাসে ৭ টাকায় যাতায়াতের সুযোগ আছে। ঢাকায় মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারিত আছে কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা ৬০ পয়সা আর বড় বাসে ১ টাকা ৭০ পয়সা। সর্বনিম্ন দূরত্বের বেশি যাতায়াতের ক্ষেত্রে সরকার-নির্ধারিত কিলোমিটারপ্রতি ভাড়ার হার কার্যকর হওয়ার কথা। অন্যদিকে, লোকাল সার্ভিস নামের বাসগুলোতে সারা দিনই আসনের অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হয়। অনেক সময় ভেতরে, দরজাতেও দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায় না। অথচ ৮০ শতাংশ আসন পূর্ণ হয়ে চলবে—এমন শর্তে সরকার ভাড়া নির্ধারণ করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএর একজন কর্মকর্তা বলেন, আসনের অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়টি ধরলে যাত্রীভাড়া কিলোমিটারপ্রতি অনেক কমে আসবে। অর্থাৎ, সিটিং সার্ভিসের নামে বাড়তি ভাড়া আদায় করাও বেআইনি। লোকাল বাসে বেশি যাত্রী বহন করলে ভাড়া কমানো উচিত। জানতে চাইলে বিআরটিএর পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) নাজমুল আহসান মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাস সিটিং যাবে, নাকি ভরে চলবে, সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। তবে সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি বেশি নিলে আমরা মেনে নেব না। আমাদের নির্বাহী হাকিমেরা জেল-জরিমানা করবেন। আর মালিক সমিতি চাইলে তাদেরও আমরা সহায়তা দেব। আর হুক-অ্যাঙ্গেল খুলে ফেলার জন্য সারা দেশেই কাল থেকে অভিযান চলবে।’

শ্রীমঙ্গলে পানিতে নিখোঁজ কিশোরীর লাশ ৫ ঘন্টা পর উদ্ধার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি পাহাড়ি ছড়ার পানিতে গোসল করতে গিয়ে ডুবে যাওয়ার ৫ ঘন্টা পর কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট চা বাগান এলাকায়। জানা যায়, কালিঘাট চা বাগানের রবি তাঁতির মেয়ে ও স্থানীয় রানার উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী মামনি তাঁতি (১৫) বাগানের দীপা নামের অন্য একটি মেয়েকে নিয়ে পহেলা বৈশাখের দিন শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে কালিঘাট ব্রিজের কাছে ছড়ার মধ্যে গোসল করতে যায়। গোসল করাবস্থায় হঠাৎ করে মামনি তাঁতি পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখে সাথে থাকা দীপা মামনিকে টেনে তুলার চেষ্টা করলে সেও পানির নিচের দিকে তলিয়ে যেতে থাকে। এ সময় তার চিৎকার শুনে বাগানের এক শ্রমিক এসে দিপাকে টেনে উপরে তুলে।
কিন্তু মামনি তাঁতিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থেকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালায়, দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তারা মামনি তাঁতিকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে সিলেট থেকে ডুবরীর দল ঘটনাস্থলে এসে অভিযান শুরু করে এবং সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তার লাশ ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার করে। বিকেলে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, যে ছড়াতে তারা গোসল করতে নেমেছিল সেখানে মাত্র হাঁটুসমান পানি, কিন্তু ছড়ার উপরে যে ব্রিজটি রয়েছে সেই ব্রিজের নিচেই পানির গভীরতাটা কিছুটা বেশি। আর সেখানেই মামনি তাঁতি নেমেছিল। কিন্তু সাঁতার না জানার কারণে সে ডুবে যায়।

গণভোটে জয়ী হলে তুর্কি প্রেসিডেন্ট যেসব ক্ষমতা পাবেন

রোববার তুরস্কে সংবিধান পরিবর্তন নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে৷ এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে৷ সবশেষ জরিপে ‘হ্যাঁ’ ভোট ‘না’-এর চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছে৷ সংবিধানে মোট ১৮টি সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে৷ ফলে প্রায় ৭০টি আইনে পরিবর্তন আসতে পারে৷ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, ‘হ্যাঁ' ভোট ‘না'-এর চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছে৷ তবে ‘না' ভোটের পক্ষে যাঁরা প্রচারণা চালাচ্ছেন তাঁদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ তাদের কাজে বাধা দিচ্ছে৷
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব হচ্ছে :
* প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিলুপ্ত করে দেয়া হবে৷ প্রেসিডেন্ট মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট (নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার উল্লেখ নেই) নিয়োগ দেবেন৷
* পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়া ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করতে পারবেন প্রেসিডেন্ট৷
* মন্ত্রিসভার অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন৷
* বাজেটের খসড়া প্রণয়ন করবেন প্রেসিডেন্ট, যা এখন করে থাকে পার্লামেন্ট৷
* সাংবিধানিক আদালত প্রেসিডেন্টের বিচার করতে পারবে৷ ঐ আদালতের ১২ জন সদস্য নিয়োগ দেবেন প্রেসিডেন্ট৷ বাকি তিনজনকে নিয়োগ দেবে পার্লামেন্ট৷
* পাঁচ বছর করে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন প্রেসিডেন্ট৷ তবে দ্বিতীয় মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে যদি পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সেই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট৷
* ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে সংশোধনীগুলো বাস্তবায়ন শুরু হবে৷ সেই সময় একই দিনে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে৷ প্রায় ৯৪ বছর আগে কামাল আতাতুর্ক যেসব মতাদর্শের ভিত্তিতে আধুনিক তুরস্ক গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগানের আমলে সেই পরিস্থিতি অনেকখানি বদলে গেছে বলে মনে করেন ‘না'-এর পক্ষে প্রচারণা চালানো কর্মীরা৷ তারা বলছেন, পশ্চিমা মূল্যবোধ, গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা থেকে তুরস্ককে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এরগোদান৷ তবে এরদোগানের সমর্থকরা গণভোটে ‘হ্যাঁ' ভোট দিয়ে তাকে পুরস্কৃত করতে চান৷ কারণ, তারা মনে করেন, এরদোগান তুর্কিদের জীবনে ইসলামি মূল্যবোধ ফিরিয়ে এনেছেন৷ ধর্মভীরু শ্রমিক শ্রেণির ভোটারদের কাছেও এরদোগান বেশ জনপ্রিয়৷ এছাড়া তার আমলে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে হাসপাতাল, স্কুল – এ সব অবকাঠামো গড়ে উঠেছে বলে জানান ‘হ্যাঁ' সমর্থকরা৷
সূত্র : ডয়েচে ভেলে

যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়ার কড়া বার্তা

উত্তর কোরিয়ার বর্তমান নেতা কিম জং উনের দাদা ও দেশটির প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল-সুংয়ের ১০৫তম জন্মদিনে বিশেষ সামরিক প্রদর্শনী করেছে। শনিবার পিয়ংইয়ংয়ে আয়োজিত এই সামরিক কুচকাওয়াজ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিপরীতে কড়া বার্তা দেয়া হয়েছে। কিম জং উনের উপস্থিতিতে কুচকাওয়াজে বিপুলসংখ্যক সেনা সদস্যের পাশাপাশি অত্যাধুনিক সব সমরাস্ত্র, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। তবে কুচকাওয়াজের সেরা আকর্ষণ ছিল পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম প্রদর্শনী। এর মধ্য দিয়ে দেশটি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আরও সমৃদ্ধ করবে এবং যেকোনো সময় ব্যবহারে সক্ষম বলেই বার্তা দেয়া হয়। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের কয়েকটি পরীক্ষার পর দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয় যুক্তরাষ্ট্রে। এর মধ্যেই উত্তর কোরিয়াকে শায়েস্তা করতে কোরীয় উপদ্বীপে রণতরী মোতায়েন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
আর এর জবাবে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী এ কুচকাওয়াজ করে শনিবার নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করল। সামরিক এ কুচকাওয়াজ থেকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের আচরণকে 'সামরিক হিস্টিরিয়া' রোগ বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি এর যোগ্য জবাব দেয়ার জন্য উত্তর কোরিয়া প্রস্তুত বলেও ঘোষণা দেয়া হয়। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএকে দেশটির সেনা বাহিনীর জেনারেল স্টাফের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, 'উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কঠোরতার যোগ্য জবাব দেবে দেশটির জনগণ ও সামরিক বাহিনী।' তিনি আরও বলেন, 'মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো অ্যাকশানে গেলে তার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।' মার্কিনিদের আচরণের নির্দয় প্রতিশোধ নেয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন এ মুখপাত্র।

আফগানিস্তানে সর্ববৃহৎ মার্কিন বোমায় নিহত বেড়ে ৯২

আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। খবর এএফপি ও বিবিসির। মার্কিন সেনাবাহিনী বিমান থেকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরমাণু বোমার বাইরে সবচেয়ে বড় বোমাটি (এমওএবি) নিক্ষেপ করা হয়। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী নানগড়হর প্রদেশে আইএসের টানেল কমপ্লেক্সে ৯ হাজার ৮শ’ কেজির এ বোমাটি ফেলা হয়। প্রাথমিকভাবে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বোমার আঘাতে ওই এলাকায় আইএসের ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে গেছে। ৩৬ জন নিহত হলেও এতে কোনো বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়নি। তবে শনিবার নানগড়হর প্রদেশের আচিন জেলার গভর্নর ইসমাইল শিনওয়ারি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, মার্কিন ওই বোমায় ৯২ জন দায়েশ (আইএস সদস্য) নিহত হয়েছে। তবে নানগড়হর প্রদেশের মুখপাত্র আতাউল্লাহ খোয়ানী এই সংখ্যা ৯০ বলে জানান। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বোমাটি মোমান্দ ভ্যালির একটি গ্রাম এলাকায় পড়েছে। ওই এলাকায় আইএসের আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক আছে।
বোমা হামলায় তাদের বিপুল পরিমাণ অস্ত্রও ধ্বংস হয়েছে। 'মাদার অফ অল বোম্বস' নামে পরিচিত জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডিন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বোম্ব (এমওএবি) ২০০৩ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে এর আগে কোনো যুদ্ধে এটি ব্যবহার করা হয়নি। আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘এটি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয় বরং এর মাধ্যমে নতুন এবং বিপজ্জনক একটি অস্ত্র পরীক্ষার জন্য আফগানিস্তানকে খুবই অমানবিক এবং নির্মমভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।’ নানগড়হর প্রদেশের আচিন জেলার গভর্নর ইসমাইল শিনওয়ারি বলেন, আফগান বিশেষ বাহিনী আমেরিকার বিমান বাহিনীর সহায়তায় ওই এলাকায় ১৩ দিন আগে আইএসবিরোধী অভিযান শুরু করেছে। তিনি বলেন, আইএসের ঘাঁটিগুলোতে নিয়মিতই বোমা ফেলা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতের ওই বোমা হামলা ছিল খুবই শক্তিশালী।