Last update
Loading...
একই মুখ! অ্যাক্রেডিটেশন ফটকের বাইরে গাইডের দায়িত্ব পালন করেন যারা, তাদেরকে গত তিনবারের মতো এবারও দেখেছি। কান উৎসবের প্রাণকেন্দ্র পালে দো ফেস্টিভ্যাল ভবনের মূল ফটকে ঢোকার সময় যারা স্ক্যানার যন্ত্র দিয়ে সাংবাদিকসহ অংশগ্রহণকারী সবার ব্যাজ পরীক্ষা করেন, তাদেরও চিনতে কষ্ট হলো না। প্রেস রুমের ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আয়োজকদের প্রতিনিধি আর ভেতরের সমন্বয়করাও চেনা। সংবাদ সম্মেলন কক্ষে ঢোকার আগে স্ক্যানার যন্ত্র দিয়ে যারা ব্যাজ পরীক্ষা করেন তাদেরকেও চিনি। সংবাদ সম্মেলন চলাকালে প্রশ্নকর্তাদের সমন্বয় যিনি করেন, তার সঙ্গে গত তিন আসরের মতো এবারও প্রায় প্রতিদিনই দেখা-সাক্ষাৎ হলো। প্রশ্নকর্তাদের কাছে মাইক্রোফোন পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত যে তরুণীরা, তারাও চেনা।
বছর যায়, কিন্তু বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক এই আয়োজনের সঙ্গে যারা যে দায়িত্বে নিয়োজিত, তারা ফিরে আসেন প্রতিবার। তাই কান সৈকতে ঘুরেফিরে চোখে পড়ে একই মুখ! এজন্য এবার এমনও হয়েছে, মূল ফটকে যারা আর্চওয়ের সামনে ভবনে প্রবেশরত মানুষের ব্যাগ পরীক্ষা করেন, তারা শেষের কয়েকদিন তো ব্যাগ দেখাতে গেলেই ‘নো নিড’, ‘নো নিড’ বলতেন। তবুও আনুষ্ঠানিকতা মেনে ব্যাগ খুলতে গেলে বিব্রতবোধ করলেন তারা। একজন জানালেন, খুব বেশি প্রয়োজন না হলে আর আমার ব্যাগ খুলে জিনিসপত্র দেখানোর দরকার নেই।
এখানে যিনি যে দায়িত্বেই আছেন, আন্তরিকতার কমতি দেখিনি। একটা ঘটনা বলি। প্রেস রুমের কম্পিউটারগুলো ব্যবহারের জন্য পৃথক লগ-ইন নম্বর ও পাসওয়ার্ড দেওয়া হয় সাংবাদিকদের। তবে এখন যে কম্পিউটারে বসে কাজ করলাম, সংবাদ সম্মেলন কিংবা অন্য যে কোনও কাজ করে ফিরে সেই একই ডেস্কটপ ফাঁকা পাওয়া যায় না বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। তবে লগ-ইন নম্বর একই থাকলে যে কোনও পিসি থেকে নিজের সেভ করা ছবি বা ডকুমেন্টস পাওয়া যায়। লালগালিচায় তারকা ও নির্মাতাদের প্রতিবাদ নিয়ে একটা ফটোস্টোরি করার জন্য কিছু ছবি সেভ করে রেখেছিলাম। কিন্তু পাচ্ছিলাম না। হয়তো তড়িঘড়ি করতে গিয়ে ডিলিট হয়ে গিয়েছিল। প্রেস রুমে আইটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানানোর পর দলবল নিয়ে উঠেপড়ে লাগলেন। প্রায় আধঘণ্টা ঘাম ঝরানোর পর সেগুলো কীভাবে যেন খুঁজে এনে দিলেন তারা।
প্রেস রুমের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আশপাশে তাকিয়ে খুব একটা ভিড়ভাট্টা চোখে পড়লো না। সমাপনী দিনে কিছুটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে সব। ভবনের সামনের অংশ প্রায় ফাঁকা। আশেপাশে জনসমাগমও খুব কম। ইনভাইটেশন প্রত্যাশীরাও নেই। চারদিকে কেমন যেন নীরব শূন্যতা। স্কেটিংয়ের মাধ্যমে যেতে যেতে তিন তরুণী পত্রিকা বিলি করছে। হলিউড রিপোর্টার, গ্রাজিয়া, ভ্যারাইটিসহ চলচ্চিত্র বিষয়ক বিখ্যাত পত্রিকাগুলো প্রতিদিনই কান উৎসব নিয়ে বিশেষ সংখ্যা ছাপিয়ে বিনামূল্যে সাংবাদিকসহ সিনেমানুরাগীদের বিলিয়ে দিয়েছে।
তবে শেষ দিন হওয়ায় পালে দো ফেস্টিভ্যাল ভবনের তিনতলার ম্যাগাজিন রাখার তাকগুলো ফাঁকা। দোতলার প্রেস রুমের মতো তিন তলার সংবাদ সম্মেলন কক্ষ, ওয়াইফাই জোন আর প্রেস লকারের সামনেও সাংবাদিকদের আনাগোনা খুব কম। সম্মেলন কক্ষের বাইরে গত ১১ দিন তারকাদের অটোগ্রাফ নেওয়া ও তাদের ছবি তোলার যে ভিড় ছিল, তার ছিটেফোঁটাও নেই।
প্রেস রুমে ফিরে দেখা হলো ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক রড্রিগোর সঙ্গে। গত তিনবারও আমাদের দেখা হয়েছে। আমরা আড্ডায় পাম দ’রের ভবিষ্যদ্বাণী করলাম কিছুক্ষণ। বিকালে ফিপরেস্কি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে চীনা সাংবাদিক শুশাঙ রাঙের সঙ্গে কথা হলো। তার সঙ্গেও গত তিনবার আড্ডা হয়েছিল। এবারও পাম দ’র নিয়েই প্রেডিকশন। তাকে কেন যেন বললাম, এবার স্বর্ণ পাম এশিয়ায় আসবে! কিন্তু তিনি খুব একটা আশাবাদী হলেন না এ বিষয়ে। পালে দো ফেস্টিভ্যাল ভবনের চতুর্থ তলায় সাল দো আম্বাসেডরে ফিপরেস্কি দেওয়া হয়। এই জায়গাটা তখন ছিল লোকে লোকারণ্য। সঙ্গে শ্যাম্পেনের গ্লাস।
সাল দো অ্যাম্বাসেদরে ব্যালকনিতে দাঁড়ালে ভূমধ্যসাগরের সৌন্দর্য চলে আসে দৃষ্টির সীমানায়। সাগরের তীরে আছে হেলিপ্যাড। তার ওপরে অসংখ্য কবুতর। কানের এখানে-সেখানে অসংখ্য কবুতর চোখে পড়ে। লর্ড ব্রোগহাম স্কয়ারের সামনেও বেশকিছু কবুতরের আনাগোনা থাকে। ১৮৬৮ সালের মে মাসে কানে মৃত্যুবরণ করেন গ্রেট ব্রিটেনের এই লর্ড চ্যান্সেলর। তার সম্মানে তৈরি করা হয়েছে একটি ভাস্কর্য, এর সামনে ছোট জলবাগান। অন্য পাশে একটি পানির ফোয়ারা। এ দুটি স্থাপনার পাশেই ম্যাকডোনাল্ড’স। প্রতিদিন সেখানে খেতে গেলে কবুতরগুলো স্বাগত জানায়।
লাঞ্চ সেরে হেঁটে এগোলাম রিভিয়েরার (ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল) দিকে। কান উৎসবকে লক্ষ্য রেখে সাগরের তীর ঘেঁষে নোঙর ফেলে দাঁড়িয়ে আছে বিখ্যাত টিভি ও চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠানের প্রমোদতরীগুলো (ইয়ট)। কানের চারদিকেই সাগরপাড়, সবই দেখতে বেশ নয়নাভিরাম। চোখের সামনে ভূমধ্যসাগরের কী অবিশ্বাস্য সুন্দর! দূর পাহাড়ের গায়ে থোক থোক ঘরবাড়ি। নিচে সুনীল জলরাশি। এখানকার সৌন্দর্য দেখে আনমনা হয়ে যাবেন যে কেউ। প্রকৃতি তার ঐশ্বর্য যেন দু’হাত ভরে দিয়েছে ফরাসি সমুদ্র উপকূলকে। শহরটা এককথায় রূপবতী। আকাশছোঁয়া পাহাড় আর মায়াবী সাগরের রূপ যেন বেঁধে রাখতে চায়!
কান উৎসবের আরেক মায়াবী জায়গা টকটকে লালগালিচা। সেখানে বিশ্ব চলচ্চিত্রের তারকা-মহাতারকাদের পায়চারির ছবি বিক্রি হয় এমন একটি বুটিক শপ প্রতিবারই দেখেছি। এই দোকানের ভেতরে মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি তোলা বারণ। এখানে গত ৮ মে উৎসবের উদ্বোধনী থেকে শুরু করে প্রতিদিনের লালগালিচার ছবি সাজানো আছে তারিখ অনুযায়ী। ছোট আকারের একেকটি ছবির জন্য নেওয়া হচ্ছে ২৫ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই হাজার টাকারও বেশি)। মাঝারি আকারের প্রতিটির মূল্য ৩০ ইউরো (তিন হাজার টাকারও বেশি)। আর একটু বড় আকারের ছবি নিতে গেলে গুনতে হবে ৪০ ইউরো করে (চার হাজার টাকারও বেশি)। ইমেইল, সিডি কিংবা পেনড্রাইভে চাইলেও এখান থেকে লালগালিচায় তারকাদের পা মাড়ানোর ছবি কেনা যায়। এজন্য প্রতিটি ছবির বেলায় লাগবে ৩০ ইউরো।
উৎসবের প্রাণকেন্দ্র পালে দো ফেস্টিভ্যালে ফিরে সিঁড়ি বেয়ে নিচতলায় নেমে দেখি মার্শে দ্যু ফিল্ম আর শর্ট ফিল্ম কর্নার প্রায় নিষ্প্রাণ। সবাই ইতোমধ্যে ছেড়ে গেছেন কান। চারপাশে বিদায় বিদায় ভাব। ততোক্ষণে সমাপনী অনুষ্ঠান শুরুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। শেষ সময়টা কাটলো তুমুল ব্যস্ততায়। ইচ্ছে ছিল প্রতিটি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণার পরেই নিউজ পাঠিয়ে দেবো। বিশ্বের যে কোনও সংবাদমাধ্যমের আগে তা প্রকাশের একটা নিরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম। বাংলা ট্রিবিউনে যথাসময়ে নিউজগুলো প্রকাশের পর বিখ্যাত সংবাদ সংস্থাগুলো ঘেঁটে দেখলাম- আমরাই সবার আগে, আমরা সফল!
সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে মূল প্রতিযোগিতার বিচারক ও বিজয়ীরা বেরিয়ে এলেন গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরের বাইরে। তখন স্টিং আর শ্যাগি গাইতে শুরু করেছেন। আমজনতার মধ্যে হৈচৈ, কোলাহল আর উন্মাদনার হাওয়া বয়ে গেলো। প্রেস রুম থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সবাইকে। আগের ১১ দিন এখান থেকে ভিডিও করলে দায়িত্বরত কর্মীরা বাধা দিতেন। শেষবেলায় তারা আর বললেন না ‘নো ভিডিও।’
দক্ষিণ ফরাসি উপকূলের শহর কানে এবার থাকলাম ১৬ দিন। দিনভর ছবি দেখা, সংবাদ সম্মেলনে যাওয়া, এদিক-সেদিক ঘোরাফেরার ফাঁকে লিখে রাতে হোটেলে ফিরে আবারও বসে পড়তে হতো ল্যাপটপ নিয়ে। রাতে সব মিলিয়ে ঘুমানোর সুযোগ ছিল মাত্র চার ঘণ্টা। ভোর হলেই আবার দে ছুট! উৎসব শেষে মনে হলো শরীর জুড়ে ক্লান্তির পাহাড়।
২০ মে সকালেই চলে এলাম কানে। ট্রেনে চড়ে প্যারিস যাবো। দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে ছাড়বে ট্রেন। গার দি কানে (ট্রেন স্টেশন) পৌঁছার সময় রোজ দেখা হয়েছে মেরিলিন মনরোর সঙ্গে! রিভিয়েরা হোটেলের দেয়ালজুড়ে প্রয়াত কিংবদন্তি এই অভিনেত্রীর বিশাল ছবি দেখে মনে হবে তিনি জীবন্ত! শেষ দিনেও মনরোর চোখে চোখ পড়লো।
ট্রেন আসতে ঘণ্টাখানেক বাকি। এই ফাঁকে পালে দো ফেস্টিভ্যাল ভবনের সামনে একচক্কর দিয়ে এলাম। গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরের সামনে রেড কার্পেট নেই। আশপাশে হাতেগোনা কয়েকজন পথচারীকে চোখে পড়লো। গত ১২ দিন কান উৎসবকে ঘিরে মাতামাতি দেখে মনে হয়েছে এটাই চলচ্চিত্রের তীর্থস্থান। ৮ মে থেকে সেখানে ছিল জনারণ্য। ১৯ মে এই মহাযজ্ঞের পর্দা নামার পরদিনই সব হয়ে পড়েছে নিষ্প্রাণ। মার্শে দ্যু ফিল্ম ভবন ও বিভিন্ন দেশের প্যাভিলিয়নের অংশে এসে দেখি সব শুন্য। সাগরপাড়ের সবখানে যেন বিদায় রাগিণী।
রূপবতীদের মেলা, নজরকাড়া পোশাক আর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দুর্দান্ত কিছু নতুন ছবির সুবাদে কান অনেক বছর ধরেই চলচ্চিত্রানুরাগীদের কাছে তীর্থস্থান। সিনেমার এই বৈশ্বিক মঞ্চের অন্যতম আকর্ষণ লালগালিচা। শুধু রূপের জৌলুস নয়, বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক এই উৎসবের ৭১তম আসরের লালগালিচা হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের হাতিয়ার। রাজনৈতিক ইস্যুতে শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন তারকারা। এমন কিছু ঘটনার সাক্ষী হলো দক্ষিণ ফ্রান্সের শহর কান। চলুন ফিরে দেখি-
১. গাজা সীমান্তে ৬০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার প্রতিবাদ জানান সিরিয়ার ‘মাই ফেভারিট ফেব্রিক’ ছবির অভিনেত্রী মানাল ইসা। ‘সলো: অ্যা স্টার ওয়ার্স স্টোরি’র প্রিমিয়ারে অংশ নিতে এসে ২৬ বছর বয়সী এই ফরাসি-লেবানিজ তারকা দু’হাত উঁচু করে একটি কাগজ তুলে ধরেন। এতে লেখা ছিল ‘গাজায় হামলা বন্ধ করুন!!’ জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস খোলার প্রতিবাদ করায় বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মমভাবে গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
1 ‘মাই ফেভারিট ফেব্রিক’ ছবির অভিনেত্রী মানাল ইসা
২. ‘ব্ল্যাকক্ল্যান্সম্যান’ ছবির উদ্বোধনী প্রদর্শনীর আগে পালে দো ফেস্টিভ্যাল ভবনের সামনে লালগালিচায় দুটি আংটি পরে আসেন স্পাইক লি। এর একটিতে লেখা ছিল ‘লাভ', অন্যটিতে ‘হেট’। আংটি জোড়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ বিভাজনের মনোভাবকে নিন্দা জানান তিনি।
3
আংটি জোড়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ বিভাজনের মনোভাবকে নিন্দা
৩. লালগালিচায় স্পাইক লি'র পায়ে ছিল একজোড়া নাইকি জুতা। এর একটি সাদা, অন্যটি কালো। দুটি জুতাতেই উল্লেখ ছিল নিজের ছবির নাম ‘ব্ল্যাকক্ল্যান্সম্যান’। বর্ণবাদী মানুষদের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তার ওই জুতাজোড়া।
2.
স্পাইক লি'র পা
৪. কান উৎসবের লালগালিচায় নারীদের পায়ে উঁচু হিল থাকতেই হবে, এমন একটা অঘোষিত নিয়ম আছে। সেই ফ্যাশন নীতিকে বিদ্রূপ করেছেন ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। ‘ব্ল্যাকক্ল্যান্সম্যান’ ছবির প্রিমিয়ারের আগে উঁচু হিল খুলে খালি পায়ে কানের লালগালিচায় হেঁটেছেন ‘টোয়াইলাইট’ তারকা।
4
ফ্যাশন নীতিকে বিদ্রূপ
৫. কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় একত্রিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পে যুক্ত ৮২ জন নারী। তাদের মধ্যে ছিলেন জেন ফন্ডা, সালমা হায়েক, কেট ব্ল্যানচেট, মারিয়ন কঁতিয়া, নন্দিতা দাসের মতো তারকারা। বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে সংগ্রামরত নারীদের পক্ষে সোচ্চার কণ্ঠস্বরের ডাক দিতে সমবেত হলেন তারা।
5 (1)
সম্মিলিত প্রতিবাদ
5 (3)
সম্মিলিত প্রতিবাদে তারকারা
5 (4)
দু’হাত তুলে সম্মিলিত প্রতিবাদে
5 (2)
সম্মিলিত প্রতিবাদের পুরো চিত্র
৬. ২০২০ সালের মধ্যে লিঙ্গ সমতা আনার লক্ষ্যে হলিউডে চলছে ফিফটি/ফিফটি আন্দোলন। লালগালিচায় এর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন ইতালিয়ান অভিনেত্রী অ্যালবা রোরওয়াচার।
6
ফিফটি/ফিফটি আন্দোলন
৭. পর্তুগালের জোয়াও সালাভাজা ও ব্রাজিলের নারী নির্মাতা রেনে নাদের মেসোরার ‘দ্য ডেড অ্যান্ড দ্য আদারস’ ছবির কলাকুশলীরা লালগালিচায় দু’হাত উঁচু করে কয়েকটি লাল কাগজে তুলে ধরেন। এসবে কালো অক্ষরে লেখা ছিল বিভিন্ন বার্তা। কেউ তুলে ধরেন, ‘আদিবাসীদের জমি বুঝিয়ে দিন এখনই।’ কারও হাতের কাগজে ছিল, ‘আদিবাসীদের ওপর গণহত্যা বন্ধ করুন।’ আরেকজনের বার্তায় দেখা গেছে, ‘সীমানা নির্ধারণ হোক এখনই।’ কেউবা বলেছেন, ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জমি নির্ধারণ করুন।’ ছবিটির গল্প আদিবাসীদের ঘিরে।
7 (1)
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিবাদ
৮. কান উৎসব চলাকালে প্রকাশিত হয়েছে ‘ব্ল্যাক ইজ নট মাই জব’ নামের একটি গ্রন্থ। এটি সম্মিলিতভাবে লিখেছেন ১৬ জন কৃষ্ণাঙ্গ নারী। লালগালিচায় তারা সমবেত হয়ে বর্ণবাদ বিরোধী বার্তা ছড়িয়েছেন।
8
‘ব্ল্যাক ইজ নট মাই জব’-এর বিশেষ কাজ!
৯. ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহিকে গৃহবন্দি করে রেখেছে ইরান সরকার। ‘থ্রি ফেসেস’ ছবির প্রদর্শনীর আগে তার ছেলেমেয়ে সোলমাজ পানাহি ও পানাহ পানাহি লালগালিচায় একসঙ্গে হাজির হয়ে মনে করিয়ে দিলেন সেই বার্তা।
9
জাফর পানাহির জন্য প্রতিবাদ
১০. রুশ নির্মাতা কিরিল সেরেব্রেনিকভকে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গৃহবন্দি করে রেখেছে রাশিয়ার সরকার। তাই প্রতিবাদ জানাতে তার নতুন ছবি ‘লেটো’র প্রিমিয়ারের আগে লালগালিচায় ‘কিরিল সেরেব্রেনিকভ’ লেখা বড় কাগজ হাতে নিয়ে আসেন অভিনেত্রী ইরিনা স্তাশেনবাউম। লালগালিচায় হাঁটার পর পরিচালকের নাম লেখা বড় কাগজটি সহশিল্পীদের হাতে দিয়ে দু’হাতে ভালোবাসার চিহ্ন দেখান ইরিনা। ‘লেটো’র কলাকুশলীরা লালগালিচায় পা মাড়িয়ে সিঁড়িতে উঠে দাঁড়ালে ‘কিরিল সেরেব্রেনিকভ’ লেখা বড় কাগজটি আলোকচিত্রীদের দিকে তুলে ধরেন কান উৎসবের পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমো। আরেকজন ‘ফ্রি সেরেব্রেনিকভ’ কাগজ হাতে নিয়ে লালগালিচায় হেঁটে সংহতি প্রকাশ করেন। আর কিরিলের একটি ছবি থাকা মনোগ্রাম একহাতে প্রদর্শন করেন ‘লেটো’র অভিনেতা টিও ইও।
10 (1)
কিরিল সেরেব্রেনিকভর জন্য প্রতিবাদ
10 (5)
কিরিল সেরেব্রেনিকভর জন্য প্রতিবাদ
বাংলাদেশে ৭০ হাজারের বেশি নারী ফিস্টুলায় আক্রান্ত। প্রতিদিনই এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আর বাড়ার বহরে গতি জোগাচ্ছে ভুল অস্ত্রোপচারজনিত ফিস্টুলা। দেশে প্রতিবছর দুই থেকে তিন হাজার নতুন ফিস্টুলা রোগী যোগ হচ্ছেন। বছরে তিন শতাধিক রোগীকে অপারেশন করান চিকিৎসকরা। এনজেন্ডারহেলথ্‌ বাংলাদেশের ‘ফিস্টুলা কেয়ার প্রকল্প’র গবেষণা প্রতিবেদন মতে, প্রতি হাজার বিবাহিত নারীর বিপরীতে বাংলাদেশে ফিস্টুলা আক্রান্ত নারীর সংখ্যা ১ দশমিক ৭ জন। উপযুক্ত বয়সের আগে বিয়ে ও গর্ভধারণকারী নারীদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রসবজনিত (বাধাগ্রস্ত প্রসব) কারণে ৭৬ শতাংশ এবং অস্ত্রোপচারজনিত কারণে ২৪ শতাংশ নারী ফিস্টুলায় আক্রান্ত হচ্ছেন। আর অস্ত্রোপচারজনিত কারণে ৮০ শতাংশ (জরায়ু অপসারণের ফলে) এবং ২০ শতাংশ সিজার পরবর্তী আঘাতের কারণে ফিস্টুলায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা অপারেশনের মাধ্যমে ৮০ থেকে ৮৩ ভাগ ফিস্টুলা ঠিক করা সম্ভব বলে তারা মত দিয়েছেন। তারা বলছেন, দেশে ইতিপূর্বে জাতীয় পর্যায়ে ফিস্টুলা বিষয়ে কোনো জরিপ চালানো হয়নি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা গত ১০ বছরে দেশে ফিস্টুলা রোগী দ্বিগুণ হয়েছে।  ফিস্টুলা প্রতিরোধ না করে শুধু চিকিৎসা দিয়ে এ জটিলতা দূর করা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশে চিকিৎসকদের মধ্যে গাইনি চিকিৎসক বেশি। এদের মধ্যে ফিস্টুলা চিকিৎসক নেই বললেই চলে। এই সংখ্যা মাত্র ২৫ থেকে ৩০ জন সার্জন রয়েছেন। দেশে ৬৪ থেকে ৬৫ শতাংশ মায়েদের ডেলিভারি এখনো বাড়িতে হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, যেসব দেশে দক্ষ ব্যক্তির সহায়তা ছাড়া বাড়িতে ৫০ শতাংশের বেশি  সন্তান প্রসব হয় এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি, সেসব দেশে বছরে দুই হাজার নারী নতুন করে ফিস্টুলায় আক্রান্ত হন। এ হিসাবে বাংলাদেশে প্রতি বছর দুই হাজার ফিস্টুলা রোগী বাড়ছে। তবে নারীরা লজ্জা পান এবং গোপন রাখেন বলে ফিস্টুলার সঠিক পরিসংখ্যান জানা কঠিন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ মতে, বিশ্বে আনুমানিক ২ মিলিয়নেরও বেশি অর্থাৎ ২০ লাখ নারী ফিস্টুলা রোগে আক্রান্ত এবং প্রতিবছর আনুমানিক এক লাখেরও বেশি নারী নতুন করে এতে আক্রান্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর মাত্রা বেশি।
সূত্র জানায়, ন্যাশনাল ফিস্টুলা সেন্টার ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বছরে ২৫০ থেকে ৩০০ ফিস্টুলা রোগী সেবা নিচ্ছেন। এখানে আগে ১৬টি বেড ছিল। কিন্তু দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ার কারণে বর্তমানে বেড সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৫ উন্নীত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) সি-ব্লকে ৬টি বেড নিয়ে আলাদাভাবে ফিস্টুলা সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গত ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে এ সেন্টার থেকে রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, অসচেতনতার কারণে মূলত নারীরা ফিস্টুলা রোগে আক্রান্ত হন। বাংলাদেশ শিশু মৃত্যুর হারে সাফল্য অর্জন করলেও নিরাপদ প্রসব এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। অসতর্কতা, মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হওয়া, অদক্ষ দাইয়ের হাতে সন্তান প্রসব, সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে না যাওয়া এবং পরিবারের অবহেলার কারণে এখনো দেশের অনেক মা প্রসবকালীন সময়ে সঠিক সেবা পান না। ফলে নারীরা ফিস্টুলা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
গত ১৯ বছর ধরে ফিস্টুলা রোগে ভুগছেন আকলিমা। এখন বয়স ৪৬ বছর। প্রথম বাচ্চা সিজার করতে গিয়ে এই রোগের সৃষ্টি হয়। একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই রোগের সৃষ্টি। প্রসব ব্যথা ওঠার ৫ দিনের মাথায় ক্লিনিকে নেয়া হয় তাকে। ততক্ষণে পেটের বাচ্চাটিও মারা যায়। এরপর আর সন্তান হয়নি আকলিমার। তিনি বলেন, কোনো ছেলেমেয়ে নেই। স্বামী তাকে সহযোগিতা করছেন।
চিকিৎসকদের মতে, ফিস্টুলা একটি নিরাময়যোগ্য শারীরিক সমস্যা। দক্ষ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এ সমস্যা নিরাময় সম্ভব। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা অপারেশনের মাধ্যমে ফিস্টুলা ঠিক করা যায়। বাল্যবিয়েকে নারীজনিত ফিস্টুলার অন্যতম কারণ বলা হয়। বাল্যবিয়ে বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কম বয়সে গর্ভধারণ করলে ফিস্টুলা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই উপযুক্ত পদ্ধতি গ্রহণ করে পরিণত বয়সে সন্তান নেয়া উচিত। উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর সহায়তায় প্রসব করালে ফিস্টুলা ঝুঁকি কম থাকে। বাধাগ্রস্ত প্রসবের ক্ষেত্রে দ্রুত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিতে হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জাতীয় ফিস্টুলা সেন্টারসহ দেশের ১১টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে ফিস্টুলা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঢাকা এবং যশোরের আদ-দ্বীন হাসপাতালে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ল্যাম্বসহ ৮টি বেসরকারি হাসপাতালে এনজেন্ডারহেলথ্‌? ফিস্টুলা রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছে। ঢাকায় এই রোগীদের জন্য একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রও পরিচালিত হচ্ছে। সূত্র জানায়, নগরের ১৮/২ বকশীবাজারে প্রসবজনিত ফিস্টুলা রোগী চিকিৎসা, আরোগ্য ও পুনর্বাসন প্রকল্পের কার্যালয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইউএনএফপিএ’র সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্পের আওতায় এ পুনর্বাসন কেন্দ্রে ২৮ জন নারীর থাকার ব্যবস্থা আছে। কেন্দ্রের ভেতরেই বেকারি, সেলাই, রান্না, সবজির বাগান তৈরি, হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেয়ার ব্যবস্থা আছে। প্রশিক্ষণ পেয়ে এক সময়ে সমাজচ্যুত এই নারীরা এখন অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী।
ন্যাশনাল ফিস্টুলা সেন্টার ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের  সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. ফেরদৌসি ইসলাম লিপি জানান, বাড়িতে বাধাগ্রস্ত প্রসব কমাতে দরকার দক্ষ ধাত্রী। তাহলে ফিস্টুলা কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রসবের সঠিক সময়ে পাটোগ্রাফ ব্যবহার করতে হবে। থাকতে হবে পূর্ব প্রস্তুতিও। মানুষের মধ্যে সচেতনতাই পারে এ রোগ থেকে মুক্তি দিতে। বিলম্বিত প্রসব রোধ করতে মায়েদের পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করতে হবে। তিনি আরো বলেন, বাধাগ্রস্ত ফিস্টুলা কিছুটা কমলেও গাইনোকোলজিক্যাল অস্ত্রোপচারে বাড়ছে ফিস্টুলা। এজন্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এ পরিস্থিতিতে ২৩শে মে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি নানা আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ব ফিস্টুলা দিবস পালন করা হবে।
এ এক দীর্ঘ যন্ত্রণাদায়ক লড়াই। বিচার চাওয়াও যেন ধর্ষিতাদের অপরাধ। পদে পদে ভোগান্তি আর হয়রানি। কখনো সইতে হয় উল্টো অপবাদ। যথাযথ মেডিক্যাল পরীক্ষা না হওয়ায় ন্যায় বিচারও নিশ্চিত করা যায় না বহুক্ষেত্রে। আদালতের পরিবেশও থাকে না নারীর প্রতি সহায়ক। ধর্ষণের শিকার হওয়াদের জীবনটাই যেন  এক নরকযন্ত্রণা।
মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে ধর্ষণের ঘটনা যতটা শুনি বা প্রচার হয় শাস্তির ঘটনা ততটা শুনি না। একজন ধর্ষিতা নারীকে থানা পুলিশ থেকে শুরু করে কোর্ট প্রতিটা স্তওে হেনস্থার শিকার হতে হয়। তাকে খারাপ মেয়ে হিসেবে দেখা হয়। থানায় মামলা করতে বা আসামি পক্ষের আইনজীবী যেভাবে প্রশ্ন করে তখন কিন্তু তার মনোজগত ভেঙে যায়। তাকে বারবার একই হয়রানির শিকার হতে হয়। যেন ধর্ষিতা হওয়াই তার অপরাধ। ফলে ভুক্তভোগী নারীরা মামলা করতে চায় না। সম্প্রতি বাংলাদেশে টু ফিঙ্গার টেস্ট পদ্ধতিটা বাতিল করা হয়েছে যেটা নিঃসন্দেহে ভালো সিদ্ধান্ত। এ ছাড়া হাইকোর্টে একটি নতুন রুল জারি হয়েছে যেটা বাস্তবায়ন হলে কোর্টে আসামির উকিল নির্যাতিতাকে আজে বাজে প্রশ্ন করে হয়রানি করতে পারবে না।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের কো-অর্ডিনেটর ডাক্তার বিলকিস বেগম বলেন, শারীরিক পরীক্ষা যথাসময়ে না হলে ধর্ষণ প্রমাণ ও বিচার পাওয়া কঠিন। আইনি লড়াইয়ের জন্য এই সার্টিফিকেটটা খুবই দরকার। এই সার্টিফিকেট না হলে কোনো বিচারই হবে না। নিপীড়নের শিকার নারীরা বেশিরভাগ সময়ই আসতে দেরি করে ফেলে। ফলে আমরা ঠিকমতো ফাইন্ডিংস পাই না। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে এসব ঘটনা ওরা ম্যানেজ করার চেষ্টা করে, গুরুত্বপূর্ণ সময়টা কিল করে ফেলে।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের কাছে এক নারী বর্ণনা করেছেন ধর্ষণের বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে কী কী ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। মাদরাসার একজন শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষিত হয়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিলেন। ওই নারী বলেন, তিনি আমার টিচার ছিল। ঘটনার পরপরই আমরা পুলিশের কাছে যাই নাই। অনেক পরে জানাজানি হইছে। আমার ফ্যামিলিও জানতো না। আমারে ভয় দেখানো হইছিল। আর আমি তখন কিছুই বুঝতাম না। জানার পরে আমার আব্বু কোর্টে মামলা করে। মেডিক্যাল রিপোর্টে আসছিল আমি প্রেগন্যান্ট হয়ে গেছিলাম। এই ঘটনা জানাজানির পরই নিরাপত্তার জন্য আমি মহিলা আইনজীবী সমিতির শেল্টারে ছিলাম। এ ভিকটিম তার নিজস্ব অভিজ্ঞতায় জানায়, সমাজে ধর্ষণের শিকার নারীকেই দোষী করার একটা প্রবণতা আছে। আমার এলাকার মানুষও সবসময় আমার বিরুদ্ধে ছিল। তারা চাইছিল আমাদের এলাকা থেকে বের করে দিতে। ধর্ষণের শিকার নারীকে বার বার ঘটনার বিবরণ দেয়া এবং নানান প্রশ্নের মুখে বিব্রত হতে হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি কোর্টে দুই বার গেছি। আমি মিথ্যা বলছি এমন প্রমাণ করার চেষ্টা হয়েছে। কোর্টের মাঝখানে এত মানুষের সামনে কথা বলতে আমার খুব আনইজি লাগছিল। এতগুলা মানুষের সামনে এত পারসোনাল বিষয়ে এতকথা বলা! তারপর এক একজন এক এক কথা বলে একেকটা মন্তব্য করে। যেমন এটা মিথ্যা হইতে পারে বা আমি খারাপ। চার বছর মামলা চলার পর ধর্ষকের যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে।’
গত বছর যে ঘটনাটি খুব বেশি সমালোচিত হয়েছে, সেটি ঢাকায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে এনে ধর্ষণের ঘটনাটি। সন্দেহভাজন ধর্ষকরা বিত্তবান পরিবারের সন্তান। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দেড় মাস পর ওই ছাত্রীরা ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে, পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতেই চাইনি। ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার ব্যারাকে নিজ কক্ষে শরীরে আগুন দেন কনস্টেবল হালিমা। ওইদিনই সন্ধ্যায় হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয় তার। আত্মহত্যা করার আগে হালিমা তার ব্যক্তিগত ডায়েরিতে লিখে রাখেন যে তার আত্মহত্যার একমাত্র কারণ তারই একজন সহকর্মী পুলিশ অফিসার। যিনি হালিমাকে ধর্ষণ করেন মার্চ মাসের ১৭ তারিখে রাত ২টায়। হালিমা আরো লেখেন, তার অভিযোগ গ্রহণ করেনি অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) । হালিমার বাবা অভিযোগ করেন, একে তো হালিমা নিজ ব্যারাকে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তারপর সহকর্মীরা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছে। এভাবেই কনস্টেবল হালিমা, হযরত আলী এবং আয়েশারা বিচার না পেয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।
ধর্ষণের শিকার মেয়েদের সারা দেশে ৮টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে কাউন্সেলিং, পুলিশি ও আইনি সহায়তা দেয়া হয়। ২০০১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠিত এসব কেন্দ্র থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চার হাজার ৩৪১টি যৌন নির্যাতনের মামলা হয়েছে। যার মধ্যে ৫৭৮টি বিচার হয়েছে এবং সাজা হয়েছে মাত্র ৬৪টির।
ধর্ষিতা নারীদের বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে নানা বাধা। সম্প্রতি ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে হাইকোর্টের বিচারক বিচারপতি জিনাত আরা বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। ‘যৌন সন্ত্রাসবিরোধী গণকনভেশনের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জিনাত আরা বলেন, ‘ভিকটিমদের মধ্যে দেখা যায়, ধর্ষণের পরপর তারা মনে করে অপবিত্র হয়ে গেছে। যে কারণে সঙ্গে সঙ্গে বার বার গোসল করতে থাকে তারা। এর জন্য অনেক ক্ষেত্রে ডিএনএ টেস্টের সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না। ‘আমাদের এখানে ডিএনএ টেস্ট সব জায়গায়তে সঠিকভাবে করাও হয় না। সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারি পরীক্ষাও করা হয় না। গেলেও অনেক সময় দেখা যায় ইনফ্লুয়েন্সিয়াল ব্যক্তিদের চাপে সঠিক রিপোর্ট অনেক ক্ষেত্রে আসে না। ধর্ষণের মামলা আদালতে যাওয়ার আগে আরো বেশ কিছু বাধা ও সমস্যার চিত্র তুলে ধরেন এই বিচারপতি।
তিনি বলেন, ‘দেখা যায় প্রথমে গ্রামের লোকজন বাধা দেয় যাতে মামলা করা না হয়। আর যদি ইনফ্লুয়েন্সিয়াল হয় তাহলে মামলা দায়েরের পূর্বে অথবা পরে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে ফেলে। তারপরও যেটা হয় নিপীড়িতার পক্ষে কোর্টে এসে সাক্ষ্য দেন না। তখন সাক্ষী না থাকায় বিচারকরা অনুমানের ওপর শাস্তি দিতে পারেন না। বিচারকালে আমাদের এসব প্রচুর সমস্যা ফেস করতে হয় বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, পরিস্থিতির বদল করতে চাইলে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার কার্যক্রম শেষ করতে হবে। ১৫ দিনের মধ্যে মামলার চার্জশিট দিতে হবে। এ ছাড়া ভিক্টিমের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের সঠিক চর্চা করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, সমাজ থেকে ধর্ষণ কমাতে হলে মানসিক পরিবর্তন দরকার। কারণ একজন নারী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর আমাদের সমাজ ওই নারী কি ধরনের কাপড় পরে, কি খায়, কার সঙ্গে চলে, তার জীবন যাপন কেমন ১৪ পুরুষ তুলে ধরে যেটা অন্য মামলার ক্ষেত্রে দেখা যায় না। একজন খুনির কথাই ধরা যাক, খুন করার পর তার জীবন বৃত্তান্ত একজন ধর্ষিতার জীবন বৃত্তান্তের মতো তুলে ধরা হয় না। তাই ধর্ষণ বন্ধে শুধুমাত্র সামাজিকভাবে বা বিভিন্ন সংগঠন পর্যায়ে নয় রাষ্ট্রিয়ভাবে এর জোরালো প্রতিবাদ দরকার।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট ব্লাস্টে কর্মরত আইনজীবী শারমিন আক্তার বলেন, সামাজিকভাবে ধর্ষণ কমাতে হলে মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। ধর্ষণের জন্য আমরা অধিকাংশ সময়ই ধর্ষিতার পোশাককে দোষ দিয়ে থাকি। বলা হয় সে ওয়েস্টার্ন পোশাক পড়েছে তাই ধর্ষিত হয়েছে। অথচ একজন বোরকা পড়া মেয়েও কিন্তু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। কাজেই পোশাকের দোষ নয় মানসিক পরিবর্তনটা এক্ষেত্রে বেশি জরুরি। একজন ধর্ষিতা আদালত পর্যন্ত অনেকগুলো ধাপের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে একসময় ধৈর্য হারিয়ে ফেলে এবং প্রত্যেক পর্যায়ে হয়রানি ও হাসির পাত্র হয়। এক্ষেত্রে বিচার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত পুলিশ, ডাক্তার, উকিল, বিচারক সবাইকে বন্ধুত্বপূর্ণ হতে হবে। যাতে করে ধর্ষিতা সাহস নিয়ে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারে।
এ ব্যাপাওে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ বলেন, ধর্ষণ কথাটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। যদিও আমাদের দেশে ধর্ষণ মামলায় পুলিশ কেইস, তদন্ত এবং মেডিকেল পরীক্ষা পদ্ধতি অনেকটা প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ একজন নারীর ধর্ষণের বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর হওয়ায় মামলা, ডাক্তারি পরীক্ষা, আদালত সবক্ষেত্রেই তাদের প্রতি আমাদের মানবিক হতে হবে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের মেডিকেল সার্টিফিকেটর ওপর নিপীড়িতার মামলার ভালো মন্দ নির্ভর করে। একই সঙ্গে আইনের প্রয়োগের চেয়ে, আইন মেনে চলার বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
২০১৬ সাল এবং ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় চার হাজার ৮শ’র বেশি ধর্ষণের মামলা হয়েছে। ২০১৬ সালে সারা দেশে ৩ হাজার ৬৪৮ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন। ২০১২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৭০০, ২০১৩ সালে ৩ হাজার ৮৯১, ২০১৪ সালে ৩ হাজার ৬৪৭ ও ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬২২। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঘটনার তুলনায় মামলা কম হয় আর মামলা হলেও নিষ্পত্তি হয় অনেক কম।
ইয়াবার কল্যাণে চট্টগ্রামে শ’শ’ কোটিপতি গজে উঠছে রাতারাতি। যাদের নামের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে পুলিশের খাতায়ও। চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তালিকায় দামি গাড়ি এবং একাধিক ফ্ল্যাটধারী এমন অনেকেরই খোঁজ মিলছে। ইয়াবা যাদের ভাগ্য খুলে দিয়েছে। আর তাদের হাতে ধ্বংস হচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে বেড়ে উঠা কিশোর-তরুণরা। কোটিপতি ব্যবসায়ীরাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পার্ট টাইম জব হিসেবে অনেক ছাত্র, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যম কর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থেকে শুরু করে নানা পেশার মানুষদের আয়েশি জীবনের টোপ দিয়ে কাছে টেনে নিচ্ছে। যাদের বেশির ভাগই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, লোহাগাড়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, পটিয়া ও সাতকানিয়ার। এছাড়া রয়েছে কুমিল্লা ও বরিশাল জেলার লোক। যারা সড়ক, সমুদ্র ও আকাশপথ দিয়ে নিয়মিত ইয়াবা পাচারে জড়িত।
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি বন্দর) মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ইয়াবা পাচারকারীদের তালিকা তৈরি করতে গিয়ে চট্টগ্রামে শ’শ’ কোটিপতির সন্ধান মিলেছে। এ নিয়ে গঠিত তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে সে মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে সামপ্রতিক যে তথ্য আছে সেটা হচ্ছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এখন পরিবহন খাতে বিনিয়োগ করছেন। পণ্য পরিবহন তাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। পণ্যের আড়ালে ইয়াবা পাচারই হচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কারণে প্রথাগত পরিবহন ব্যবসায়ী যারা আছেন তারাও বিপাকে পড়ছেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা বলেন, ইয়াবা ব্যবসা চলছে এখন মুঠোফোনে। টেকনাফের বিশেষ একজনকে জানাতে হয় কী পরিমাণ ইয়াবা লাগবে, পাঠাবেই বা কোথায়। নির্দিষ্ট পরিমাণ ইয়াবা চলে যায় সেই ঠিকানায়। লেনদেন হয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। টেকনাফ থেকে ইয়াবা তাই চট্টগ্রাম হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে।
তিনি বলেন, ২০০৬ সাল থেকেই মিয়ানমার থেকে টেকনাফ হয়ে ইয়াবার চালান আসতে থাকে এ দেশে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে কয়েক বছর আগেও টেকনাফে পেশা হিসেবে যারা জেলে, রিকশাচালক, বেকার যুবক, পিঠা বিক্রেতা, কৃষক বা ক্ষুদ্র লবণচাষি ছিলেন, তাদের প্রায় অধিকাংশই এখন সচ্ছল, কেউ কেউ কোটিপতি, গাড়ি হাঁকিয়ে চলেন। গ্রামের রাস্তার দু’পাশে সব সুরম্য বাড়িঘর। এরমধ্যে অন্যতম টেকনাফের নাজিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এজাহার মিয়ার ছেলে নূরুল হক ওরফে ভুট্টো। একটি রিকশা কেনার সামর্থ্য ছিল না নূরুল হকের। বসতবাড়ি বলতে ছিল গোলপাতার একটি ঘর। সেই নূরুল হক এখন নাজিরপাড়ার দুটি বাড়ির মালিক। চট্টগ্রাম ও খুলনায় তার ফ্ল্যাট আছে। আছে তিনটি গাড়িও। জমিজমাও কিনেছেন অনেক। নাজিরপাড়ায় রাস্তার পাশে এখন একটি মার্কেটও নির্মাণ করছেন।
নূরুল হক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে। নূরুল হক একাই শুধু নন, সঙ্গে আছেন তার পিতা এজাহার মিয়া, ভাই নুর মোহাম্মদ ওরফে মংগ্রী, ভগ্নিপতি নূরুল আলম, ভাগিনা জালাল উদ্দিন, বেলাল, আবছার উদ্দিন, হেলাল, হোছেন কামাল ও নুরুল আমিন ওরফে খোকন। তারা সবাই ইয়াবা মামলার আসামি। চলতি বছরের ৮ই এপ্রিল চকরিয়ার নূরুল হুদা নামে এক যুবক ধরা পড়ে পুলিশের হাতে। সাত বছর আগে যে ছিল বাসের হেলপার। আর এখন চট্টগ্রাম শহরের অভিজাত এলাকার যে ফ্ল্যাটে তার পরিবার থাকে, সেটির ভাড়া ৩৫ হাজার টাকা। আয়ের উৎস একটাই, ইয়াবা। মাত্র পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। গাড়ি আছে দুটি। বিউটি পার্লার খুলে দিয়েছেন স্ত্রীকে। রয়েছে মুঠোফোনের দোকান। জমি কিনেছেন কক্সবাজার শহরে, ফ্ল্যাট কিনেছেন চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম শহরের ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িসহ হুদাকে গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সেদিন হুদার গাড়িতে ১০ হাজার ইয়াবা ছিল। হুদা এখন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। এর আগে বিভিন্ন সময়ে দুবার তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। কিছুদিন পরই জামিনে বেরিয়ে যান তিনি। তার অর্থবিত্তের বিষয়টি এতদিন অজানা ছিল।
আনোয়ারা গহিরাকেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেটের প্রধান মোজাহের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর এলাকার চান মিয়ার ছেলে। মুখোশের আড়ালে তিনি ইয়াবা পাচারের কাজ করতেন। র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ইয়াবা সিন্ডিকেটের প্রধান মো. মোজাহারের নগরীতে আছে ছয়তলা বাড়ি। এর দ্বিতীয় তলায় তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন। ইয়াবা ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান নয়-দশ বছর আগেও ছিলেন বেকার। টেকনাফ মৌলভীপাড়ার চোরাচালানের ঘাট নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর ইয়াবা পাচার শুরু করেন। এখন দুটি মাইক্রোবাস ও চারটি ভারতীয় বিভিন্ন মডেলের দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের মালিক। একটি আলিশান বাড়িও বানিয়েছেন। তার ছোট ভাই আবদুর রহমান ও কামাল হোসেন ইয়াবা ব্যবসায় সক্রিয়। গ্রীনলাইন পরিবহনের এসি বাসে কক্সবাজার থেকে ঢাকা যাওয়ার সময় নতুন ব্রিজ এলাকায় তল্লাশির সময় মহিলা ক্রিকেটার মুক্তা ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন ৩০শে এপ্রিল সকালে। তিনি প্রায়ই কক্সবাজার যাওয়া-আসা করতেন। মুক্তা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্সের ছাত্রী ছিলেন। মাদকাসক্ত হওয়ার পর অনিয়মিত হয়ে পড়ায় তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়। তিনি ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ, মহিলা ক্রিকেট লীগে নিয়মিত অংশ নেন। মহিলা ক্রিকেট আনসার টিমের
তিনি একজন নিয়মিত ক্রিকেটার বলে জানান বাকরিয়া থানার ওসি প্রণব চৌধুরী। ওসি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেছেন, কক্সবাজারে গিয়ে প্রায়ই তিনি নাহিদ নামে এক লোকের কাছ থেকে ইয়াবা নিয়ে ঢাকায় রিপন নামে আরেকজনকে সরবরাহ করতেন। ৪ঠা মে শুক্রবার চট্টগ্রামের হালিশহরের শ্যামলী হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্লাটে ধরা পড়ে ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান। নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে এই অভিযানে ১৩ লাখ ইয়াবাসহ মো. আশরাফ (৩৪) ও হাসান (২৪) নামে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরমধ্যে আশরাফ ছিলেন সৌদি আরব প্রবাসী। তাদের বাড়ি বান্দরবান পার্বত্য জেলায়।
অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. কামরুজ্জামান বলেন, আশরাফ প্রবাস জীবনে তেমন উন্নতি করতে না পারলেও দেশে এসে মাত্র এক দুই বছরে ইয়াবা পাচার করে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন। শ্যামলী হাউজিং সোসাইটির ওই ফ্লাট ছাড়াও নাসিরাবাদে একটি ফ্লাট ও বাকলিয়ায় একটি প্লটের মালিক তিনি। রয়েছে দুটি গাড়িও।
গত বছর ৩১শে আগস্ট সিদ্দিকুল ইসলাম নামে এক ইয়াবা ব্যসায়ীর খোঁজ মিলে। যার কৌশলের কাছে বারবার পরাস্ত হতে হয়েছিল পুলিশের কৌশল। তবে শেষরক্ষা হয়নি তার। ইয়াবা পাচারে সিদ্দিকুল ইসলাম গড়ে তুলেছেন পারিবারিক সিন্ডিকেট।
সূত্র জানায়, ইয়াবার চালান টেকনাফ থেকে ঢাকায় আনা এবং ঘাটে ঘাটে পৌঁছে দিতে চারটি জিপ ব্যবহার করেন সিদ্দিকুল ইসলাম। একটি জিপে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চালান আনা হয়। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনতে ব্যবহার করেন দুটি জিপ। আর ঢাকায় ঘাটে ঘাটে ইয়াবার চালান পৌঁছে দিতে বাকি জিপটি ব্যবহার করা হয়। ইয়াবাবাহী জিপ পুলিশ রাস্তায় আটকালে অনেক সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের গাড়ি বলে পরিচয় দিয়েও রক্ষা পান তারা। গাড়ি চালানোর জন্য রয়েছে বেতনভুক্ত চারজন দক্ষ চালক। প্রতি চালানেই তাদের আবার দেয়া হয় ঝুঁকি ভাতা।
সিদ্দিকের তিন ছেলের দু’জনই ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। স্ত্রী রশিদা খাতুনও গ্রেপ্তার হয়েছেন দু’দফা। টেকনাফ থেকে ঢাকায় ইয়াবার চালান নিয়ে আসেন সিদ্দিকের দুই ছেলে রবিউল ইসলাম ও ফরিদুল ইসলাম। একেক সপ্তাহে একেক ছেলে এই দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তার আগে নেয়া হয় অভিনব এক কৌশল। চালান আনতে যাওয়ার আগে রবিউল কিংবা ফরিদুল নিজের মোবাইল নম্বরটি কয়েকদিন আগেই বন্ধ করে দেন। তখন ব্যবহার করেন নতুন সিম ও ফোন সেট। পাশাপাশি ঢাকার কোনো একটি থানায় সিদ্দিক বা তার স্ত্রীর পক্ষ থেকে নিখোঁজ জিডি করা হয়। যেন চালানসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও আদালতে দেখাতে পারেন, যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনি তিনদিন বা চারদিন আগেই নিখোঁজ হয়েছেন। এমন তথ্যই বের হয়ে এসেছে তাদের গ্রেপ্তারের পর। আর এ পদ্ধতিতে আদালত থেকে সহজেই জামিন পেয়ে যান তারা। এরমধ্যে ছেলে রবিউল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। যদিও ঠিকমতো ক্লাস করেন না, বাবার ইয়াবা ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত তিনি। নিয়ন্ত্রণ করেন ইয়াবা সিন্ডিকেট।
টেকনাফের নাজিরপাড়ার নুরুল আলম ভালো ফুটবল খেলতেন। আর্জেন্টাইন ফুটবলারের নাম অনুসারে লোকে তাকে ডাকতেন ডি মারিয়া বলে। সাত-আট বছর আগেও নুরুল আলম রিকশা চালাতেন। এখন ইয়াবার কারবার করেন। তার ভাই ফরিদুল আলমের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন হয়েছে দেড় কোটি টাকা। তাকে নারায়ণগঞ্জের দুটি ইয়াবার মামলায় আটক করা হলে তিনি জামিনে ছাড়া পান। গত বছর ১৮ই সেপ্টেম্বর ১০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আতিকুল ইসলাম তারেক তার ভগ্নিপতির হাত ধরে মাদক কারবারে জড়িয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারেক (২০) চট্টগ্রামের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির এলএলবি সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি টেকনাফে। তার বাবা টেকনাফের মহেশখালীয়া পাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী। গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. কামরুজ্জামান বলেন, তারেকের এক বোনের স্বামী টেকনাফের মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা ফজর আলী। ফজর আলী ও তার ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী পুলিশের তালিকাভুক্ত ইয়াবা বিক্রেতা। মাস খানেক আগে চট্টগ্রামে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে ফজর।
কামরুজ্জামান বলেন, তারেক একাই একটি ফ্ল্যাট নিয়ে চট্টগ্রামের আতুরার ডিপো এলাকায় থাকেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ায় সচ্ছল পরিবারের ইয়াবা আসক্ত ছেলেদের সঙ্গে তার উঠাবসা সহজ ছিল। ইয়াবা কেনাবেচা করে ধনাঢ্য ব্যবসায়ীতে পরিণত হওয়া ব্যক্তিরা পরিবহন ব্যবসায় বিনিয়োগ করছে বলে তথ্য দিয়েছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান কিনে নিজেরা পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়ে সেই গাড়িতে কৌশলে বিশেষ চেম্বার বানিয়ে পাচার করছে ইয়াবা। নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (বর্তমানে কোতোয়ালি থানায় বদলিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, সংঘবদ্ধ ইয়াবা পাচারকারী চক্র তাদের কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। ২১টি ট্রাক কিংবা কাভার্ড ভ্যান কিনে তারা নিজেদের পরিবহন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। সেই পরিবহনে তারা সাধারণত পচনশীল দ্রব্য যেমন মাছ পরিবহন করছে। মূলত পণ্য পরিবহনের মতো করে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবা চলে যাচ্ছে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িতদের একটা তালিকা জমা দেয়া আছে। এক সংসদ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাসহ প্রায় সব পেশার লোকের নাম ওই তালিকায় উল্লেখ আছে; কিন্তু সব শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িত থাকায় প্রশাসন এখন এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
একসময় শ্রীমঙ্গলকে বলা হতো নির্জন প্রকৃৃতির আঁধার। ছিল সারি সারি সবুজ পাহাড়-টিলা। প্রকৃতির সবুজ সৌন্দর্যের দ্যুতি ছড়িয়েছে গোটা দেশে। আর এসব পাহাড়-টিলার সর্বাঙ্গ জুড়ে ছিল জীব-বৈচিত্র্যের সমাহার। কিন্ত গেল কয় বছরে রিসোর্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা, ঘরবাড়ি এবং চা আর ফল বাগান সৃজনের নামে ছেঁটে ন্যাড়া করে ফেলা হয়েছে এখানকার বেশিরভাগ পাহাড়-টিলা। বর্ষায় প্রবল বৃষ্টিপাতে ক্রমশ ক্ষয়ে ছোট হয়ে আসছে অবয়ব। এতে এখানকার নানা প্রজতির উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারি প্রশাসনে পাহাড়ের এই বোবা কান্না শোনার যেন কেউ নেই।
বহুতল ভবন, রিসোর্ট, লজ, গেস্ট হাউস, বাসাবাড়ি, ফল বাগান থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক নানা স্থাপনা নির্মাণে কাটা হচ্ছে সুউচ্চ টিলা-পাহাড়। পরিবেশবিদদের দাবি গত ৩০ বছরের ব্যবধানে মোট ভূমির ৩০ ভাগ পাহাড়ই কেটে ফেলা হয়েছে। কোনো ধরনের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অনেকে আবার পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছেন। নির্বিচারে পাহাড় কাটায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত শতাধিক পরিবার এই মুহূর্তে পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কার মধ্যে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করছেন। প্রায় ৭ বছর আগে শহরতলির ডলুবাড়ী এলাকায় পাঁচতারকা হোটেল গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গল্ফ নির্মিত হওয়ার পর পর্যটন এলাকা হিসেবে শ্রীমঙ্গলের পরিচিতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সঙ্গে সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উদ্যেক্তারা পাহাড়ের জমি কিনতে হামলে পড়েন। একের পর এক রিসোর্ট-মোটেল নির্মাণে নির্বিচারে শুরু হয় পাহাড় কাটা। সবুজ পাহাড় ঘেরা প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে রিসোর্ট গড়ে তোলার মানসিকতার ইচ্ছেমতো কাটাছেঁড়া হচ্ছে পাহাড়-টিলা। উপজেলার মোহাজিরাবাদ এলাকায় সুউচ্চ পাহাড় কেটে নির্মিত হয় বিলাসবহুল ‘নভেম ইকো রিসোর্ট’। সেময় স্থানীয় প্রশাসন পাহাড় কাটায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অপরাধে অভিযুক্ত করা হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। অভিযোগ রয়েছে ২০১৫ সালে স্থানীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠানটিকে শুধু জরিমানা আদায় করে পাহাড় কাটার দায় থেকে অব্যাহতি দেন। যদিও পরিবেশ অধিদপ্তর নভেম ইকো রিসোর্টকে পরিবেশছাড়পত্র দিতে এখন পর্যন্ত অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। একই ভাবে পাহাড় ধ্বংস করে রিসোর্ট-মোটেল গেস্ট হাউস গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে, হেরিটেজ গেস্ট হাউস, এসকেডি রিসোর্ট, হিমাচল গেস্ট হাউস, লেমন গার্ডেন অ্যান্ড রিসোর্ট, জঙ্গলবাড়ি কটেজ, শান্তিবাড়ি ইকো কটেজের বিরুদ্ধে। বর্তমানে এক ডজনেরও বেশি নির্মাণাধীন রিসোর্ট রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে পাহাড় ধ্বংস বা পাহাড়ের আকার পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে। রিসোর্ট তৈরি ছাড়াও পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে নানা স্থাপনা ও বাণিজ্যিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া উপজেলার পাহাড়ি জনপথ বিষামনী, মহাজিরাবাদ, রাধারনগর, মির্জাপুর, হোসনাবাদ এলাকাগুলোতে বেশিরভাগ প্রভাবশালী লোকে বাড়ি তৈরি ও মাটি বিক্রির উদ্দ্যেশে পাহাড় কেটে উজাড় করেছে। পাহাড় কাটার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ী আজম জে চৌধুরীর মালিকানধীন ফিনলে চা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ২০১৫ সালের ৩ ও ৪ঠা অক্টোবর ভাড়াউড়া মৌজার বিশাল আয়তনের একটি পাহাড় ভারি যন্ত্রপাতি দিয়ে কেটে সৌন্দর্যহানিসহ গোটা এলাকার পরিবেশ নষ্ট করে।
সরজমিন রাধানগর এলাক ঘুরে দেখা যেছে, অনেক স্থান ঘেরাও দিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণযজ্ঞ চলছে। কোনটা রিসোর্ট কোনটা লজ আবার কোনটা গেস্ট হাউজ। এখানকার এস কেডি নামে নির্মাণাধীন বহুতল রিসোর্ট নির্মাণে প্রাকৃতিক ছড়ার (ছোট খাল) গতিপথ পরিবর্তন করার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় এক টাইলস মিস্ত্রি আলী আকবর বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলের মোট জমির ৮০ ভাগই তো পাহাড়। এখানে গড়ে উঠা সব রিসোর্টের ৯৯ ভাগই তৈরি হচ্ছে পাহাড় কেটে’। উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের পশ্চিম মোহাজিরাবাদ এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়রা পাহাড়ি খাস জমি লিজ বন্দোবস্ত নিয়ে লেবু-আসারসের বাগান সৃজনে জমি তৈরিতে পাহাড় ছেঁটে ফেলছে। এখানে উঁচু একটি পাহাড় নির্দয়ভাবে কেটে স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। মোহাজিরাবাদ এলাকায় বেশ কয়েকটি পরিবার পাহাড়ের নিচে ঘরবাড়ি তৈরি করেছেন। সুউচ্চ কাটা পাহাড়ের গাঁ ঘেঁষে বাড়িঘর তৈরি করে ১০-১২টি পরিবার বিপজ্জনক অবস্থায় বসবাস করছেন। এসব পরিবারের এক সদস্য ফারুক মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধ্বসে আশঙ্কায় আমরা পরিবার নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি’। বয়োজ্যেষ্ঠ ছানু মিয়া বললেন, ‘গত বছর বর্ষা মওসুমে ইউএনও অফিস থেকে মাইকিং করে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু বাড়িঘর ছেড়ে পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো?’। এমনিভাবে উপজেলার বিষামণি, রাধানগর, দিলবরনগর, ডলুছড়া এলাকায় এরকম প্রায় শতাধিক পরিবার পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কার মধ্যে বসবাস করছেন।
স্থানীয় পাহাড় রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির সিলেট বিভাগীয় চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পাহাড়ের বোবা কান্না কে শোনে? চোখের সামনেই তো পাহাড় কেটে আমাদের সবুজ প্রকৃতি ধ্বংস করা হচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করছি। অফিসে-দপ্তরে চিঠি দিচ্ছি, কিন্তু পাহাড় রক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবশে অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় সহকারী পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, ‘এখানে জনসচেতনার অভাব রয়েছে। পাহাড় কাটার ঘটনায় আমরা সব সময় সক্রিয় আছি। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও আদালতে মামলা, ঢাকাস্থ এনফোর্সমেন্ট শাখার মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অধিদপ্তরের জনবলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, চাইলে সবসময় সব কিছু করা যায় না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজ সচেতন হলে পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংস করা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভবপর হবে’। জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সিলেট বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম বলেন, নগরায়নের ফলে গত ৩ দশকের ব্যবধানে এ অঞ্চলের ৩০ ভাগ এবং বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে ৫০ ভাগ পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে। বাগান সৃজনে পাহাড়ী জমির রূপ পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া লাউয়াছড়াসহ আশপাশের পাহাড়ের গাছপালা ও মাটি কেটে উজার হচ্ছে। এর সঙ্গে বৃষ্টিপাত প্রবণ শ্রীমঙ্গলে প্রবল বৃষ্টিতেও মারাত্মক ভূমি ক্ষয় হচ্ছে। এতে করে ছড়া বেয়ে নেমে যাওয়া পাহাড়ি ঢলে হাওর-বিল ভরাট হচ্ছে।
প্রাকৃতিক প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশ আজ বিপর্যস্ত। সরকার পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রেখেছে। কিন্তু সেই আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় পাহাড় খেকোরা ইচ্ছেমতো পাহাড় কেটে সাবাড় করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত ৮মে ট্রাম্পের এ ঘোষণায় পরমাণু সমঝোতার ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন তার কারণ হিসেবে তিনি দাবি করেছেন, এ সমঝোতা নাকি আমেরিকার স্বার্থ বিরোধী। অথচ ইরান যে পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেছে সে বিষয়ে ট্রাম্প তার বক্তব্যে কিছুই উল্লেখ করেননি। এ থেকে বোঝা যায় ওয়াশিংটন ভালো করেই জানে ইরান তার প্রতিশ্রুতি পালন করেছে এবং দেশটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার কোনো অজুহাত আমেরিকার হাতে নেই। কার্ণেগির গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একজন গবেষক রিচার্ড সোকোলেস্কু বলেছেন, "মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বহুজাতিক পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তৎপরতা বন্ধের লক্ষ্যে যে পন্থা অবলম্বন করেছেন তা থেকে তার অদূরদর্শিতাই ফুটে উঠেছে।" ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে আমেরিকা এটি বাস্তবায়নের পথে নানা বাধা সৃষ্টি করেছে এবং এমনকি বহু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা থেকেও দেশটি বিরত ছিল কিংবা চুক্তির নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা ফের বলবত করেছে এবং আরো নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে কাণ্ডজ্ঞানহীন ও বড় ধরণের ভুল বলে অভিহিত করেছেন। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএও ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে অনেক বড় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেছে।
দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে কঠিন ও শ্বাসরুদ্ধকর আলোচনার পর ২০১৫ সালের জুলাইয়ে ভিয়েনায় ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা সই হয় এবং পরের বছর জানুয়ারি থেকে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব রয়েছে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র ওপর। এ সংস্থা পরমাণু বাস্তবায়ন শুরুর পর মোট ১০বার স্বীকার করেছে ইরান তার প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেছে। আইএইএ'র প্রধান ইউকিয়া আমানোও বহুবার বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা অনেক বড় একটি সাফল্য এবং ইরানের পরমাণু তৎপরতার ওপর আইএইএ'র পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ইরান পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করছে কিনা তার ওপর আন্তর্জাতিক কঠোর নজরদারি থাকার কারণে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির আর কোনো অজুহাত পায়নি আমেরিকা। এ কারণে ক্ষুব্ধ ও হতাশ মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তৎপরতা এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মতো অপ্রাসঙ্গিক বিষয়কে অজুহাত করে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। অথচ সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, "আমিরা নিশ্চিত যে ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেছে।"  
পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর আইএইএ এই সংস্থার নির্বাহী বোর্ড ও নিরাপত্তা পরিষদে চারটি প্রতিবেদন জমা দেয়। তাতে বলা হয় ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরের দিন অর্থাৎ ৯মে আইএইএ আবারো জানিয়েছে ইরান তার ওয়াদা ভঙ্গ করেনি। আইএইএ'র প্রধান ইউকিয়া আমানো বলেছেন, "ইরানের পরমাণু সংক্রান্ত প্রতিটি কার্যক্রমের ওপর তার সংস্থা নজর রেখেছে অথচ আমেরিকা ইরানের পরমাণু কার্যক্রমের ওপর আইএইএ'র নজরদারিকে যথেষ্ট নয় বলে দাবি করেছে।" তিনি আরো বলেছেন, "ইরান প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা কমিয়ে আনার পাশাপাশি আরাক হেভিওয়াটার প্রকল্পের কাঠামোয় পরিবর্তন এনেছে এবং সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ অন্য দেশে স্থানান্তর করেছে।"
ছয় জাতিগোষ্ঠীর অন্যতম শরীক হিসেবে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে আমেরিকা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া সত্বেও তারা তা মানেনি। বাস্তবায়ন শুরুর পর গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে আমেরিকা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, নানা গড়িমসি ও নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে এই চুক্তিকে বানচাল করার চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। এ প্রসঙ্গে, মার্কিন কংগ্রেসে 'ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা আইন' নবায়ন, ইরান সফরকারী বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় ভিসা না দেয়া, নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা প্রভৃতির কথা উল্লেখ করা যায়। এ ছাড়া, আমেরিকা অন্য দেশের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্য সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত করারও চেষ্টা করেছে যাতে পরমাণু সমঝোতার ফলে কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা ইরান পেতে না পারে। আমেরিকা ইরানের কাছে যাত্রীবাহী বিমান বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ছাড়াও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন অর্থবিভাগের নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্যান্য দেশ ইরানের সঙ্গে কোনো লেনদেন করতে পারছে না এবং তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব আচরণ পরমাণু সমঝোতার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
আমেরিকার পক্ষ থেকে পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের আরো কিছু দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন, বেআইনিভাবে তারা পরমাণু সমঝোতা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছিল। এর অন্যথায় পরমাণু সমঝোতা প্রত্যয়ন করবে না বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ দেশটির অন্যান্য কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে পরমাণু সমঝোতার বিরুদ্ধে বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন যা ছিল পরমাণু সমঝোতার নীতিমালার লঙ্ঘন। এ ছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েও আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে যাতে পরমাণু সমঝোতার কোনো ধরণের সুফল ইরান পেতে না পারে। ইউরোপ পরমাণু সমঝোতাকে যৌক্তিক অভিহিত করলেও আমেরিকা এ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়ায় এখন এ চুক্তির ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি বলেছেন, "এটি দ্বিপক্ষীয় কোনো চুক্তি নয় যে একতরফাভাবে এ থেকে বেরিয়ে যাওয়া যাবে।" তিনি বলেন, "এ সমঝোতার প্রতি জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন রয়েছে।"
আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় চীন, রাশিয়া ও ইউরোপের তিনটি দেশ একদিকে এবং আমেরিকা একা একদিকে রয়েছে। ইউরোপীয়রা পরমাণু সমঝোতাকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর নজরদারির জন্য ভালো সুযোগ বলে মনে করে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি শুধু পরমাণু সমঝোতার ওপর নজরদারি করলেই চলবে না ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তৎপরতার বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে হবে এবং তেহরানকে আমেরিকার দাবি মানতে হবে। কিন্তু ইরানের কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো আপোষ করা হবে না।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে প্রকাশ্যে আসছেন না। রিয়াদে রাজপ্রাসাদের বাইরে গোলাগুলির ঘটনার পর থেকেই লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন। সৌদি আরবের অন্যতম মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র রিয়াদ সফরেও প্রকাশ্যে আসেননি যুবরাজ। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার মৃত্যুর শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এই শঙ্কা উড়িয়ে দিতে যুবরাজের কার্যালয় থেকে তার সর্বশেষ কর্মকাণ্ডের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এখনও তাকে স্বশরীরে দেখা যায়নি।
গত মাসে রিয়াদের বাদশাহ সালমানের বাসভবন  আল খোজামা রাজপ্রাসাদের বাইরে গোলাগুলির খবর সামনে আসে। তখন থেকেই প্রকাশ্যে দেখা যায়নি সৌদি আরবের বর্তমান যুবরাজ ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমানকে।  তার এই রহস্যজনক অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব প্রকাশ পায়। সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রথম এই গুজব প্রকাশ পায়। পরে ওই খবরকে উদ্ধৃত করে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমেও এই খবর প্রকাশ করা হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি রাজপ্রাসাদের বাইরে গোলাগুলির ঘটনায় একটি খেলনা ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। ওই সময়ে এক ঊর্ধ্বতন সৌদি কর্মকর্তা ঘটনা সম্পর্কে বলেন, এটা ছিল দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত খেলনা বিমান। সংরক্ষিত আকাশ সীমায় প্রবেশ করায় তাৎক্ষনিকভাবে তা ভূপাতিত করা হয়। তবে সৌদি আরবের একটিভিস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হচ্ছে ওই ঘটনায় ড্রোনের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। তাদের দাবি ওই ঘটনা ছিল যানবাহনে বহন করা ভারী মেশিনগান থেকে এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণের।
সৌদি আরবের ক্ষমতার বাইরে থাকা বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর সমর্থিত সূত্রগুলো বলছে, এপ্রিলের গুলির ঘটনায় ভয় পেয়েছেন যুবরাজ। তার আশঙ্কা সাবেক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারেন। আর সেকারণেই রাজ পরিবারের সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেশ ত্যাগে বাধা দিচ্ছেন তিনি।
ওই ঘটনার পর তিন সপ্তাহ পার হলেও সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় ওয়েবসাইট যুবরাজের নতুন কোনও ছবি প্রকাশ করেনি। গত ১৫ মে প্রকাশিত সসৌদি আরবের মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের ছবিতেও তাকে দেখা যায়নি। তাকে নিয়ে যেসব খবর প্রখাম করা হচ্ছে তা সবই এপ্রিলের ২৪ তারিখের আগের।
প্রকাশ্যে যুবরাজের অনুপস্থিতির সুযোগে ইরান ও রাশিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব প্রকাশ পায়। ওইসব গুজবে দাবি করা হয় ২১ এপ্রিলের গোলাগুলির ঘটনায় যুবরাজের শরীরে দুটি গুলির আঘাত পেয়েছিলেন। ইরানের সংবাদপত্র খাইয়ান একটি আরব রাষ্ট্রের কাছে পাঠানো গোপন গোয়েন্দা রিপোর্টের  ঊদ্ধৃতি দিয়ে জানায় গুলির আঘাতে নিহত হয়েছেন যুবরাজ। এপ্রিলের শেষ দিকে সৌদি আরবের অন্যতম মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এর রিয়াদ সফরের সময়েও যুবরাজকে ক্যামেরার সামনে দেখা যায়নি।
ওই সফর নিয়ে সৌদি আরবের প্রকাশিত খবরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যুবরাজের নৈশভোজের কথা বলেও বাদশাহ সালমান বিন আব্দুলাজিজ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়েরের সঙ্গে পম্পেও’র বৈঠকের ছবি প্রকাশ করা হয়।
গত ২১ এপ্রিলের ঘটনার পর এক সপ্তাহ পর বাদশাহ সালমানের সঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বিশালাকারের বিনোদন অবকাশ কেন্দ্র কিদিয়ার উদ্বোধন করেছেন বলে সম্প্রতি জানিয়েছে সৌদি যুবরাজের কার্যালয়। ওই অবকাশ কেন্দ্রে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে ছয় পতাকার থিম পার্কটিতে ওয়াটার পার্ক, মোটর স্পোর্টস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং অবকাশ কাটানোর জন্য বাড়ি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ১৮ মে সৌদি যুবরাজের কার্যালয়ের পরিচালক বদর আল আসকার একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। ওই ছবিতে সৌদি যুবরাজকে আবু ধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, বাহরাইনের বাদশাহ বিন ইসা এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকে এক সঙ্গে দেখা যায়। টুইটারে আসকার লেখেন, ‘মিশরের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে কয়েক দিন আগে দুই ভাইয়ের বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠক।’ তবে এই বৈঠক কবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সে বিষয়ে কোনও তথ্য দেননি তিনি।
মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় মাস, সংযমের মাস রোজার মাসেও থেমে নেই গাজীপুরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের অবৈধ যৌন ব্যবসা। নগরের চান্দনা চৌরাস্তা, তেলিপাড়া, কোনাবাড়ি, টঙ্গী, হোতাপাড়া, মাওনা চৌরাস্তা, এমনকি ভাওয়ালের বনে গড়ে প্রায় অর্ধশত আবাসিক হোটেলে চলছে জমজমাট এ ব্যবসা। এমনকি একটি আবাসিক হোটেলের ড্রামের ভেতর থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি হোটেলও ঈদ সামনে রেখে রোজার আগেই আবার চালু করা হয়েছে। অবাধ যৌন ব্যবসার পাশাপাশি অনেক স্থানেই লেনদেন হয় মাদকদ্রব্য। এলাকাবাসীর অনুরোধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দ্বিতীয় রোজার দিনে এ ধরনের চারটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে যৌনকর্মীসহ খদ্দের ও সংশ্লিষ্টদের আটক করা হয়েছে। হোটেলগুলোকে সিলগালা করা হয়েছে। আবার অনেককে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাৎক্ষণিক জেলও দেয়া হয়েছে। যৌন ব্যবসায় জড়িত, এসব হোটেলে এর আগেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে খদ্দেরসহ যৌনকর্মীদের আটক করে সাজাও দেয়া হয়েছে। হোটেলগুলোকে সিলগালা করে দেয়ার কিছুদিন পর রহস্যজনক কারণে আবারো সেগুলো জমজমাট হয়ে ওঠেছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের এনডিসি বিএম কুদরত-এ-খুদা জানান, জেলার সাধারণ মানুষ, স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের নির্দেশে গত শনিবার দ্বিতীয় রোজার দিনে জেলার চান্দনা চৌরাস্তা, তেলিপাড়া ও রাজেন্দ্রপুর এলাকার রোজ ভ্যালি, বন্ধু বোর্ডিং, বৈশাখী এবং বিলাস নামের চারটি আবাসিক হোটেলে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন এনডিসি বিএম কুদরত-এ-খুদা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আহমেদ। তিনি  আরো জানান, এসব হোটেলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অবাধ যৌনাচার বিপণনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযানে আটককৃতদের অশ্লীল ও আপত্তিকর অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকায় বেশ কয়েকজনকে আটক এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এসব নামমাত্র আবাসিক হোটেলগুলো মাদকের অবাধ বিস্তার, চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন সামাজিক অস্থিরতার অন্যতম উৎস হিসেবে পরিচিত। ব্যাটালিয়ন আনসার, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সর্বস্তরের জনতা এই অভিযানে সক্রিয় সহায়তা প্রদান করেন এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখারও জোর দাবি জানান।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষায় এবং অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধের ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের আহ্বান এবং রোজার আগেই বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের মিছিল-মিটিং-এর পরও অবৈধ এ যৌন ব্যবসায়ী চক্র কোনোভাবে থেমে থাকেনি। বরং ঈদ সামনে রেখে তাদের হোটেল নামের মিনি পতিতালয়গুলোকে আরো সাজিয়ে-গুছিয়ে তোলা হচ্ছে।
ইরানের ওপর আবারও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল করায় বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে তেহরানের চলমান যৌথ প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে আসার পর তাদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সঙ্গে থাকা ভারতের থাকা ১৩০০ কোটি ডলারের চুক্তির প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা বাণিজ্য সম্পর্কে প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎখাতেও ইরানের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত চুক্তিতেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে।
২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৬ জাতিগোষ্ঠীর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।  গত ৮ মে ইরানের বিরুদ্ধে সমঝোতা ক্ষুণ্নের অভিযোগ তুলে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জয়েন্ট কমপ্রিহেন্সিভ প্লান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের এই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে চুক্তি কার্যকর রাখতে প্রতি তিন মাস পরপর দেশটির প্রেসিডেন্টের সম্মতি দরকার। ১২ মে পরবর্তী তিন মাসের জন্য এই চুক্তিতে ট্রাম্প স্বাক্ষর না করায় যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে সমঝোতা ভেস্তে গেছে।
এরপর সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জানিয়েছেন ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ওয়াশিংটনে এক ভাষণে তিনি বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার পর নিজেদের অর্থনীতি বাঁচিয়ে রাখতে হিমশিম খাবে ইরান।
২০১৬ সালে পরমাণু চুক্তির পর ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বেশ কয়েকটি চুক্তি করে ইরান। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় আটকে থাকা ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে সক্ষম হয় তারা। সে অনুযায়ী হয়তো ইরান-বাংলাদেশ চুক্তি কিংবা ইরান-ভারত চুক্তি বৈশ্বিকভাবে ততটা তাৎপর্যপূর্ণ নয়। তবে তার মানে এই নয় যে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই দ্রুত অর্থনৈতিক বর্ধনশীল দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে তারা লাভবান হয়। বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে ভারতের সঙ্গে ইরানের চুক্তির অংক ১৩০০ কোটি ডলার। ইরান বছরে ভারতে ৮০০ কোটি ডলারের জ্বালানি তেল রফতানি করে। আর ভারত রফতানি করে এর এক তৃতীয়াংশ। ফলে আদতে লাভ হয় ইরানের। ভারতের রফতানির বেশিরভাগ অংশ জুড়েই থাকে কৃষিপণ্য, বিশেষ করে বাসমতি চাল। তাই বছরে ৬০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য যেকোনও অর্থনীতির জন্যই ইতিবাচক। মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় এখন ইরানে বিনিয়োগ করা ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আকার সে অনুযায়ী ছোট। তবে এখানেও ইরানের লাভই অনেক বেশি। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশেও।
২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ৩৮.৯ মিলিয়ন ডলার থেকে রফতানি বাড়িয়ে ৭৫ মিলিয়ন ডলারে নিয়ে আসে। আমদানিও বৃদ্ধি পায়। এখন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ২৫০ মিলিয়ন ডলার। ইরান তাই স্বাভাবিকভাবেই চাইবে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে। দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সহায়তা করেছে ইরান। এই চুক্তিতে আদতে লাভ হয়েছে বাংলাদেশেরই। আর বাংলাদেশ থেকে বিশাল পরিমাণে পাট ও পাটজাত দ্রব্য কিনতে আগ্রহী ইরান।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ভারত বেশ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। কূটনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত তারা। দেশটির পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র বলেন, তারা বিষয়টির ওপর গভীরভাবে নজর রাখছে।
এছাড়া ছাবাহার বন্দরকে কেন্দ্র করে ভারত, আফগানিস্তান ও ইরানের ত্রিপাক্ষিক চুক্তির কারণেও এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে ভারতের ওপর। এই প্রকল্প স্থগিত হয়ে গেলে লাভবান হবে পাকিস্তান ও চীন। তাদের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্প এগিয়ে যাবে। ফলে বাড়বে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তুষ্টি।
ইরানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় ১২টি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সম্প্রতি ভারতে ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ভারতে সফরের সময় আরও ৯টি চুক্তি চূড়ান্ত করে।
২০১৬ সালে নিষেধাজ্ঞা ‍উঠে যাওয়ার পর ইরানের কাছ থেকে আরও তেল আমদানি করে ভারত। নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এড়াতে ইরান ও ভারত হয়তো রিয়াল ও রুপির বদলে মার্কিন ডলার ব্যবসায়িক মুদ্রা করতে পারে। এছাড়া গম, চাল ও ওষুধ নিয়েও হতে পারে বাণিজ্য।
জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে। ফলে ইরান বাণিজ্যের জন্য ইউরোও ব্যবহার করতে পারে। এতে করে লাভবান হবে চীন ও রাশিয়া। ব্রিকস ও এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুরোও লাভবান হবে। মার্কিন ডলারের প্রভাব কমিয়ে ইউয়ান, রুবল ও রুপির প্রভাব বাড়বে বৈশ্বিকভাবে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন একটা বিষয় উপলব্ধি করতে পারছে, তা হলো কোনও দেশের ওপর দীর্ঘসময় ধরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি রাখলে সেটা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। রাশিয়া ও ইরান দুই দেশই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকলেও সেটা সামাল দেওয়াও সম্ভব তাদের।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে সামরিক জোটই এখন চীনের নেতৃত্বে এশীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে আফ্রিকা ও এশিয়ার সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে পরিস্থিতির পরিবর্তন আসতে পারে।
ইউএসএআইডি প্রধান মার্ক গ্রিন
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইউএসএআইডি’র প্রধান মার্ক গ্রিন বলেছেন, মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক উত্তরণে রাখাইনের মানবিক সংকট একটি বাধা এবং অবশ্যই এই সংকটের সমাধান করতে হবে। মিয়ানমারে পাঁচদিনের সফর শেষে সোমবার তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
মার্ক গ্রিন বলেন, খাদ্য, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরিতে সবসময়ই মিয়ানমারের পাশে থাকবে ইউএসএআইডি। আমরা খোলাখুলিভাবে বলতে চাই যে, বর্তমান পরিস্থিতি আসলে আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্তরায়। কিন্তু আমরা তাদের বন্ধু। তাদের জনগণের ওপর আমাদের আস্থা আছে। তাদের উন্নয়নে আমরা পাশে থাকবো।’
গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। জাতিগত নিধন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। মিয়ানমার শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের বাঙালি মুসলিম আখ্যা দিয়ে নাগরিকত্ব অস্বীকার করে আসছে। তবে এবারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো হওয়ার এক পর্যায়ে প্রত্যাবাসন চুক্তিতে বাধ্য হয় মিয়ানমার। তবে সেই  চুক্তির পর বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও ধোঁয়াশা কাটছে না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮ হাজার রোহিঙ্গার নাম প্রস্তাব করা হলেও মাত্র ৬০০ জনকে ফেরত নিতে চেয়েছে মিয়ানমার। তাদের পক্ষ থেকে প্রথম রোহিঙ্গা পরিবার ফেরত নেওয়ার দাবি করা হলেও ওই দাবি সাজানো বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, এমনকি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।
সম্প্রতি মিয়ানমার সফরে যান যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সংস্থা (ইউএসএআইডি)’র প্রধান মার্ক গ্রিন। মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যও সফর করেছেন তিনি। পরিদর্শন করেছেন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের একটি শিবির। সফরে তিনি রাষ্ট্রীয় পরামর্শক অং সান সু চির সঙ্গেও দেখা করেছেন। সেসময় তিনি মিয়ানমারের জনগণের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিক করার জন্য সু চিকে আহ্বান জানান।
মিয়ানমার, জাতিসংঘের শরণার্থী কমিশন ও জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার অগ্রগতিও দেখেন তিনি। গত শনিবার ইয়াঙ্গুনের সিভিল সোসাইটি সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন গ্রিন। বিষয়গুলো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে জানানোরও আশ্বাস দেন তিনি। রাখাইনের সংকটকে অবশ্যই আমলে নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
গ্রিন বলেন, ‘এমন কিছু সবসময়ই সামনে আসবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে। বন্ধু হিসেবে আমরা এই সমস্যা সমাধান করতে চাই।’
মিয়ানমারের গণতন্ত্র একদমই নতুন হওয়াতে এখন তাদের চ্যালেঞ্জিং সময় বলেও উল্লেখ করেন ইউএসএআইডি প্রধান। তিনি বলেন, একটি নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়ে যায় না। এটা প্রথম ধাপ হতে পারে। এখন আমরা আরও বড় চ্যালেঞ্জ দেখতে পাচ্ছি।
আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য মিয়ানমারকে নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি। গ্রিন বলেন, রাখাইনের এই সংকট শানের উত্তরাঞ্চল ও কাচিনেও বিদ্যমান। এটা থেকেই বোঝা যায় যে, এখনও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়নি।
বেশ ভালো মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিলেন বলিউড-হলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তারপরও তার চোখ সিক্ত হলো। রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে সোমবারের বিকালটা ভাগ করে নিলেন; এরপর ইন্সট্রাগ্রামের ওয়ালে লিখলেন প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা। সেখানে থাকল ভালোবাসা ও মমতার আবেগ। ছিল বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বানও।
শুরুটা করলেন এভাবে, ‌‘আমি এখন কক্সবাজার। পৃথিবীর অন্যতম বড় শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে এসেছি। ২০১৭ সালের শেষ দিকে তাদের (রোহিঙ্গা) জীবনে অবর্ণনীয় ঘটনা ঘটে যায়। পৃথিবী দেখেছিল আদিবাসী নিধনের নিষ্ঠুর অভিযান। যেটা করা হয়েছিল মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। ৭ লক্ষ রোহিঙ্গা বর্ডার ক্রস করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। যাদের ৬০ ভাগই শিশু।'
এরপর শিশুদের জন্য লেখেন, ‌‘অনেক মাস পেরিয়ে গেলেও তারা এখনও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে আছে। তারা জানে না, কখন তাদের পরবর্তী সময়ের খাবার আসবে! হয়তো ভাবছে, তারা কিছুটা হলেও মানিয়ে নিয়েছে। তখনই প্রকৃতি হামলা করছে। বৃষ্টিতে সব শেষ করে দিচ্ছে। পুরো প্রজন্মটির আসলে কোনও ভবিষ্যত দেখা যাচ্ছে না। আমি তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম, সেখানে শুধু শূন্যতাই দেখেছি। তারা চরম মানবিক সংকটে আছে। তাদের আসলে বিশ্ববাসীর কাছ থেকে সাহায্য দরকার। দয়া করে এ কাজটি সবাই করুন। এটা্ তাদের সত্যিই খুব দরকার।’
ক্যাম্পে ইউনিসেফের বিশেষ অফিসে প্রিয়াঙ্কা। ছবি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
ক্যাম্পে ইউনিসেফের বিশেষ অফিসে প্রিয়াঙ্কা। ছবি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
বলিউড-হলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এখন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। আজ (২১ মে) বিকালে তিনি টেকনাফের শামলাপুর যান। সেখানে শিশুদের সঙ্গে বেশ কিছুটা সময় কাটান। তাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কখনও তাকে বেশ আবেগিও হতে দেখা গেছে। কথা শুনতে শুনতেই চোখের পানি মুছেছেন। কখনও ঘটনা বর্ণনা করতে শিশুরাও কেঁদেছে।
খ্যাতনামা এ শিল্পী সকাল ৮টায় ঢাকায় পা রাখেন। তিন ঘণ্টার বিরতির পর তিনি ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে কক্সবাজারে যান। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) -এর শুভেচ্ছাদূত প্রিয়াঙ্কার এই সফরের কারণ হলো, রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য কাজ করা। সফরের উদ্যোগটি নিয়েছেও এই প্রতিষ্ঠানটি।
কক্সবাজারে প্রিয়াঙ্কা চার দিন অবস্থান করবেন। ২২ মে উখিয়ার বালুখালী ও জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আর সফরের শেষ দিন ২৩ মে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।
পরিদর্শনের সময় প্রিয়াঙ্কা
পরিদর্শনের সময় প্রিয়াঙ্কা
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তমাল মনসুর নিউ ইয়র্কের আফতাব টাওয়ারের ১২টি এপার্টমেন্ট ও ৪টি পার্কিং স্পটের মালিক । এ নিয়ে ভবনের নিচতলায় অবস্থিত মসজিদ মিশন সেন্টার নামক একটি মসজিদের বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করেছেন তিনি। বাংলাদেশের বিখ্যাত নির্মাতা জহিরুল ইসলামের ভাই আজহারুল ইসলাম ২০১১ সালে নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যামাইকাতে আফতাব টাওয়ার নির্মাণ করেন। এই ভবনে ২৪টি এপার্টমেন্ট ও বেইসমেন্ট রয়েছে। এর অর্ধেক অর্থাৎ ১২টি এপার্টমেন্টের মালিক হচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমের ছেলে তমাল মনসুর।
একই ভবনের নিচে অবস্থিত মসজিদ মিশনের কর্মকর্তা মাওলানা হাফেজ রফিকুল ইসলামের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল মসজিদের জন্য বেইসমেন্ট। তবে, মসজিদে মুসল্লি সমাগমের কারণে পানি সমস্যাসহ বিভিন্ন ইস্যু তুলে তিনি মামলা ঠুকেছেন ম্যানেজমেন্ট ও মসজিদের বিরুদ্ধে।
সূত্রমতে, জ্যামাইকাতে তমাল মনসুরের আরো দুটি বড় বড় প্রোপার্টি রয়েছে। যেখানে এখন নির্মাণ কাজ চলছে। উল্লিখিত দুই প্রোপার্টিতে এপার্টমেন্ট নির্মাণের কাজ চলছে। এখানে কোনো বাংলাদেশি নির্মাণ কোম্পানিকে কাজ দেয়া হয়নি। গায়ানিজ একজন কন্ট্রাক্টর এই ভবনগুলোতে এপার্টমেন্ট তৈরির কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
নিউ ইয়র্কে সম্পত্তি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তমাল মনসুরের সঙ্গে রোববার (২০ মে) ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আমার সম্পদ আছে কি নেই এটা অন্য কারো বিষয় হতে পারে না। একটি মহল আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
জ্যামাইকার আফতাব টাওয়ারে তার কোনো এপার্টমেন্ট আছে কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে এটাকে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার উপর হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন।
উল্লিখিত বিষয়ে নিউ ইয়র্ক সুপ্রিম কোর্টে দায়েরকৃত মামলার ইনডেক্স নং ৭০৬৯৪৮/২০১৮। মামলার তারিখ মে ৩, ২০১৮। আর এই মামলার বাদী হচ্ছেন লেমবডা প্রোপ্রার্টিজ ইনক নামক একটি প্রতিষ্ঠান। তমাল মনসুর এফিডেভিটের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানকে মামলাটি পরিচালনা করার অনুমতি দিয়েছেন। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছে আফতাব স্কাইভিউ কনডোমোনিয়াম, বোর্ড অব ম্যানেজারর্স অব আফতাব কনডোমোনিয়াম, হাফেজ রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ টি আলী, আব্দুল মালেক, মির্জা রেজওয়ান ও মসজিদ মিশন সেন্টার ইনক।
মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে বাদী আফতাব টাওয়ারের ১২টি বাণিজ্যিক এপার্টমেন্টের মালিক। যার মধ্যে আছে এপার্টমেন্ট ২এ থেকে ৪ডি এবং ৪টি পার্কিং স্পেস। যার মধ্যে আছে পিএস১, পিএস২, পিএস৩ এবং পিএস৪। উল্লেখ্য, আফতাব স্কাইভিউতে ২৪টি এপার্টমেন্ট, দুটি কমিউনিটি সেন্টার ও ১৩টি পার্কিং স্পট রয়েছে।
মামলার আর্জিতে কনডোমোনিয়াম বোর্ড গঠনের বিভিন্ন নিয়মাবলী উল্লেখ করে এর বেইসমেন্টের দুটি কমিউনিটি সেন্টারের স্পেস মসজিদ মিশন মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আর্জিতে বলা হয়, মুসল্লিদের সংখ্যাধিক্যের কারণে সিটির অকুপেন্সি সার্টিফিকেট আইন বার বার ভঙ্গ করেছে কথিত মসজিদটি। এভাবে ৮৬ জনের জায়গায় সেখানে শত শত মুসল্লির সমাবেশ ঘটে নামাজের সময়। এর ফলে মুসল্লিদের ওজু করার কারণে প্রচুর পানি খরচ হচ্ছে। এরফলে কনডোমোনিয়ামের জন্য বরাদ্দকৃত পানির চাইতে অনেক বেশি পানি ব্যবহৃত হচ্ছে মৃসল্লিদের ওজুর কারণে।
এ বিষয়ে অফতাব টাওয়ার ম্যানেজমেন্টদের পানির প্রতিকার বিষয়ে বার বার দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোনো লাভ হয়নি। এর ফলে সিটির সংশ্লিষ্ট বিভাগ এই ভবনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভায়োলেশন মামলা করেছে। যার কোনো প্রতিকার ম্যানেজমেন্ট বোর্ড না করার কারণে দরপতন ঘটেছে মামলার বাদী তমাল মনসুরের এপার্টমেন্ট সমূহের। ফলে বাদী তার ভাড়ার আয় ছাড়াও প্রোপার্টির সঠিক বাজার মূল্য পাচ্ছেন না। এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য নতুন ম্যানেজমেন্ট বোর্ড গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া সার্টিফিকেট অব অকুপেন্সি মেনে চলতে হবে মসজিদটিকে। এ ছাড়াও আরো অনেক অনিয়মের বিষয় আছে ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে।
আইন ভঙ্গ, উন্নাসিকতা, অবেহলা ও উপেক্ষার কারণে বাণিজ্যিক এই ভবনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ একটি দুরুহ বিষয়। তারপরও বলা যায় উল্লিখিত কারণসমূহের জন্য বাদী তমাল মনসুরের ১২টি এপার্টমেন্ট বাজার দরের চেয়ে কমপক্ষে সাড়ে তিন লাখ ডলারের দরপতনের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া ৪টি পার্কিং স্পটের দাম কমেছে কমপক্ষে ৪০ হাজার ডলার এবং এক লাখ ২০ হাজার ডলারের ক্ষতি হয়েছে ইমেজ নষ্টের কারণে। মামলায় এসবের প্রতিকার কামনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কনডোমোনিয়াম বোর্ড ম্যানেজমেন্টের অন্যতম কর্মকর্তা এবং মসজিদ মিশনের প্রধান মওলানা হাফেজ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তমাল মনসুর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে। এই হিসেবে বাংলাদেশিদের একটি মসজিদের বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান নেবেন এটা আমরা চিন্তাই করতে পারিনি। তিনি আমাদের বিভিন্নভাবে ব্যবহার করেছেন। এখন এই মামলার অন্যতম কারণ হচ্ছে তার সম্পদের খবর যাতে কোনোভাবেই কেউ ফাঁস করতে না পারে এজন্য তিনি আমাদের ভয় দেখাচ্ছেন। আমরাও আইনের মাধ্যমেই এর জবাব দেবো।
হাফেজ রফিকুল ইসলাম বলেন, তমাল মনসুরের ১২টি নয়, আরো অনেক প্রোপ্রার্টি আছে। বাংলাদেশের একজন মন্ত্রীর ছেলে এতো সম্পদের মালিক কিভাবে হলেন তা যে কেউ প্রশ্ন করতে পারে।
বাংলা পত্রিকার সঙ্গে আলাপকালে তমাল মনসুর বার বার বলেন, আপনারা যা বলছেন তা সঠিক নয়। কোনটি সঠিক নয় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা যে আইনজীবী মামলা করেছেন তার কাছে প্রশ্ন করুন।
তিনি বলেন, আমার সম্পত্তির বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের আই আর এস জানে। আমি বিগত ১৫ বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ সিটিজেন। অন্য কোনো লোককে কোনো কথা বলতে আমি বাধ্য নই।
একজন মন্ত্রীর ছেলে হিসেবে বিশাল সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখানে আমার পারিবারিক বিষয়টিকে কেন আনা হচ্ছে। বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারা কেন এমন প্রশ্ন তুলছে এটা তাদেরই জিজ্ঞেস করুন। নিজের ১২টি এপার্টমেন্ট আছে কি না জানতে চাইতে তিনি এ বিষয়ে হ্যাঁ বা না সরাসরি উত্তর না দিয়ে এটা তার ব্যক্তিগত বিষয় বলে মন্তব্য করেন।
উল্লিখিত এপার্টমেন্ট সমূহের দাম জানতে চাইলে একজন রিয়েল এস্টেট ব্রোকার বাংলা পত্রিকাকে বলেন, এখানে এখন প্রতিটি এপার্টমেন্টের দাম হচ্ছে কমপক্ষে চার লাখ ডলার। এই হিসেবে ১২টি এপার্টমেন্টের দাম ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার। এর বাইরে পার্কিং লটের দাম না হয় বাদই দিলাম।
অপরদিকে মসজিদ মিশন সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলার ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লিদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে গত ১৬ই মে বুধবার তারাবির নামাজের সময় মামলার বিষয়টি মসজিদ কর্তৃপক্ষ মুসল্লিদের দৃষ্টিগোচরে আনলে উপস্থিত মুসল্লিরা আইনগত প্রক্রিয়ায় ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন। এ ছাড়াও গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময়ও এ ঘটনার ব্যাপারে মুসল্লিারা তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছেন। ওই চুক্তি অনুযায়ী, ইরান নিজের পারমাণবিক প্রকল্প সীমিত করার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পায়। ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, বৃটেন, রাশিয়ার পাশাপাশি জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই চুক্তিতে উপনীত হয়। চুক্তি থেকে আমেরিকার প্রস্থানের সিদ্ধান্ত একে দুর্বল করে দিয়েছে। এমনও হতে পারে যে চুক্তি অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। আমেরিকা চুক্তি থেকে প্রস্থান করায় ইরানের ওপর দেশটির অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপিত হবে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকান কোম্পানিগুলোর লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে তো বটেই। পাশাপাশি ইউরোপিয়ান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কপালেও চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। লন্ডনভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্টের এক বিশ্লেষণীতে এসব বলা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, সর্বপ্রথম ২০০৫ সালে ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পকে টার্গেট করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবিশেষের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। দুই বছর পর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে শেষ অবধি ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনা ও পারমাণবিক চুক্তি সইয়ে রাজি করানোর মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা প্রমাণ হয়েছে বলা যেতে পারে। ২০১৬ সালে চুক্তির মাধ্যমে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে ইরানের সমর্থন দেয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় অনেক ইউরোপিয়ান ও কিছু আমেরিকান কোম্পানি ইরানে বাণিজ্য শুরু করে। তবে এসব কোম্পানি ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্ক ছিল। কারণ, ইরানের সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শাখা ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের সঙ্গে লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল। আর এই বিশেষ বাহিনী ইরানের অর্থনীতির বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে পশ্চিমের সঙ্গে ব্যবসা শুরু হলেও ইরানে দীর্ঘমেয়াদি বড় বিনিয়োগ তেমন একটা করেনি পশ্চিমারা।
আমেরিকার আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলোর উদ্বেগের কারণ হলো, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু আমেরিকান কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যখন কোনো অবরোধ আরোপ করে, তখন এই অবরোধ মেনে চলা ইউরোপের কোম্পানি ও নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক। তবে আমেরিকান নিষেধাজ্ঞা একটু ভিন্ন। আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার প্রাথমিক স্তর আমেরিকান নাগরিক ও কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য। এক্ষেত্রে কোনো আমেরিকান কোম্পানি ও নাগরিক যে দেশের ওপর অবরোধ আরোপিত হয়েছে সেই দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারে না। পাশাপাশি ওই দেশের নাগরিকদের বা বিশেষ কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। এসব নিষেধাজ্ঞায় প্রায়ই দ্বিতীয় একটি স্তর থাকে। এই স্তরের আওতায় পড়ে অ-আমেরিকান ব্যক্তিবিশেষ বা কোম্পানি। এই দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞার মানে হলো, কোনো অ-আমেরিকান কোম্পানি যদি লেনদেনের জন্য ডলার ব্যবহার করে থাকে, বা আমেরিকায় ওই কোম্পানির যদি কোনো অঙ্গপ্রতিষ্ঠান থেকে থাকে, বা ওই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে যদি আমেরিকানরা থাকেন, তাহলে ওই কোম্পানিকেও আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে হবে।
ইরানের ক্ষেত্রে আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় এই দুইটি স্তরই রয়েছে। ইউরোপিয়ান যেসব কোম্পানির ইরানে কার্যক্রম রয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগেরই আমেরিকায়ও কার্যক্রম রয়েছে। ফলে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা তাদের ওপরও প্রযোজ্য। এ কারণে বেশকিছু ইউরোপিয়ান কোম্পানি এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পেতে আমেরিকায় আবেদন করবে। যেমন, ইরানে একটি বিশাল গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে জড়িত ফরাসি কোম্পানি টোটালও নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পাওয়ার আবেদন করছে।
কিছু কোম্পানি আবার ডলারের বদলে ইরানের সঙ্গে ইউরোতে লেনদেন করার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পাবে। তবে বেশিরভাগ কোম্পানির সামনেই একটাই পথ খোলা থাকবে: হয় আমেরিকায় ব্যবসা চালাও, নয়তো ইরানে চালাও, যেকোনো একটা। স্বাভাবিকভাবেই বেশিরভাগ ইউরোপিয়ান কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ আমেরিকায় বেশি। তাই তারা আমেরিকাকেই বেছে নিতে চাইবে। কিন্তু কোনো কোম্পানি যদি ইরানকেই বেছে নেয়, সেক্ষেত্রেও ব্যাংকিং লেনদেনে সমস্যা পোহাতে হবে। কারণ, বৈধ হলেও অনেক লেনদেন ছাড় দিতে পশ্চিমা ব্যাংকগুলো অস্বস্তিতে থাকবে।
আমেরিকার অবরোধের বিপরীতে কিছু করার সুযোগ ইউরোপের কম। একটি উপায় হলো, ২২ বছর পুরনো একটি প্রবিধান পুনরুজ্জীবিত করা। ওই প্রবিধান চালু হলে, ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলোর জন্য আমেরিকার দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলাকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে। সেক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলোর সামনে দুইটি পথ খোলা থাকবে। এক. এই প্রবিধান অগ্রাহ্য করে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা। দুই. এই প্রবিধান মেনে চলার মাধ্যমে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইউরোপজুড়ে এই প্রবিধান প্রয়োগ করার জন্য প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রকে নিজ নিজ দেশে একটি আইন পাস করাতে হবে। কিন্তু খুব কম দেশই ওই আইন পাস করেছে। ফলে আদৌ এই প্রবিধান প্রয়োগ করা যাবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
আবার এই প্রবিধান মেনে না চলে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মেনে চললে কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নজির ইউরোপে তেমন একটা নেই। শুধু অস্ট্রিয়া একবার ২০০৭ সালে একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে এই প্রবিধান মেনে না চলায় ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু তা নিয়ে আদালতে আর লড়াই হয়নি।