Last update
Loading...
টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার নিজেদের ওয়েবসাইটে  এ বছরের তালিকা প্রকাশ করে বিখ্যাত এই মার্কিন ম্যাগাজিন। এতে  প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা রয়েছেন লিডার্স ক্যাটাগরিতে। প্রতিবারের মতো এবার ক্রমানুসারে তালিকা দেয়া হয়নি। পাঁচটি ক্যাটাগরিতে প্রভাবশালীদের নাম বিন্যাস করা হয়েছে। এগুলো হলো- পাইওনিয়ার্স, আর্টিস্টস, লিডার্স, আইকনস ও টাইটানস।
তার মধ্যে লিডার্স ক্যাটাগরিতে স্থান পাওয়া ২৭ জনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ২১তম স্থানে রয়েছে। এই ক্যাটাগরিতে অন্যদের মধ্যে রয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, বৃটেনের প্রিন্স হ্যারি ও তার হবু স্ত্রী অভিনেত্রী মেগান মার্কেল, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, লন্ডনের মেয়র সাদিক খান, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন টরুডো, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, মার্কিন স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলার, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন।
টাইম ম্যাগাজিনের এ তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লিখেছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি। তিনি লিখেছেন, ‘৯০ এর দশকে সর্বপ্রথম শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তখন তিনি বাংলাদেশে সামরিক শাসন বন্ধের দাবিতে জোরদার প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। সর্বশেষ আমাদের দেখা হয় ২০০৮ সালে, যখন তিনি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন আরেক সামরিক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এর পরের বছর নির্বাচনে ভূমিধ্বস বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া তার পিতার লেগ্যাসি বহনকারী হাসিনা কখনই লড়াইকে ভয় পাননি। কাজেই, গত আগস্টে যখন হাজার হাজার জাতিগত রোহিঙ্গা শরণার্থী মিয়ানমার আর্মির নৃশংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে প্রবেশ করা শুরু করলো, তখন তিনি এই মানবিক চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করলেন। দরিদ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অতীতে শরণার্থীদের বিরাট ঢলকে স্বাগত জানায়নি। কিন্তু তিনি জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার হওয়া বিপর্যস্ত ভুক্তভোগীদের ফিরিয়ে দিতে পারেননি। এজন্য তিনি প্রশংসার দাবিদার, কিন্তু তিনি মানবাধিকার নিয়ে বাজেভাবে হোঁচট খাচ্ছেন। তার সরকারের শাসনের অধীনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বলপূর্বক গুমের ঘটনা ঘটেছে। এ সরকার সমালোচনা বা ভিন্নমত বরদাশত করে না। ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, সেই শেখ হাসিনাকে এই কর্তৃত্বপরায়ণতার দিকে যাওয়ার প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। মিয়ানমার ও অন্যদের জন্য তাকে উদাহরণ হওয়া প্রয়োজন; এটা দেখানো প্রয়োজন যে, গণতন্ত্র ভিন্নমত ও বৈচিত্র্যকে আপন করে নেয়।’
টাইম ম্যাগাজিনের এবারের তালিকায় প্রভাবশালী প্রত্যেকের প্রোফাইলেই তাদের সম্পর্কে লিখেছেন বিখ্যাত ও প্রভাবশালী অন্যরা। ইতিহাসের অন্যতম সেরা টেনিস তারকা রজার ফেদেরারকে নিয়ে লিখেছেন মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে লিখেছেন টেড ক্রুজ। মেগান মার্কেলকে নিয়ে লিখেছেন প্রিয়াংকা চোপড়া। ভারতীয় তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলিকে নিয়ে লিখেছেন ক্রিকেটের কিংবদন্তী শচীন টেন্ডুলকার। হিউ জ্যাকম্যানকে নিয়ে লিখেছেন অ্যানা হ্যাথওয়ে।
প্রভাবশালীদের মধ্যে ‘পাইওনিয়ার্স’ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন, অলিম্পিকে সর্বকনিষ্ঠ স্বর্ণজয়ী নারী ক্লোয়ি কিম, জনপ্রিয় কমেডি উপস্থাপক ট্রেভর নোয়াহ, চীনের কোয়ান্টাম পদার্থবিদ প্যান জিয়ানওয়েই প্রমুখ। ‘আর্টিস্টস’ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন খ্যাতনামা অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান, জনপ্রিয় এক্স-ম্যান চরিত্র ওলভারিনখ্যাত হিউ জ্যাকম্যান, ওয়ান্ডার ওম্যান চরিত্রে বিশ্ব মাতানো গ্যাল গ্যাডট, বলিউড তারকা দিপীকা পাড়ুকোন প্রমুখ। ‘আইকনস’ ক্যাটাগরিতে অন্যদের মধ্যে আছেন খ্যাতনামা অভিনেত্রী, সংগীতশিল্পী জেনিফার লোপেজ, রিহানা ও ব্ল্যাক প্যান্থার চরিত্রে বক্স অফিস মাতানো চ্যাডউইক বোসম্যান। আর সর্বশেষ ক্যাটাগরি ‘টাইটানস’-এ অন্যদের মধ্যে আছেন রজার ফেদেরার, অপরাহ উইনফ্রে, জেফ বেজস ও বিরাট কোহলি।
ছাত্রলীগ হোক আওয়ামী লীগ হোক, আমাদের যে কোনো সংগঠনে অপরাধ করে অপকর্ম করে কেউ পার পেয়ে যেতে পারে না। কোন অপরাধের শাস্তি হয়নি বলুন? আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির ‘দেশরত্ম-জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ছাত্রলীগ নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। ওবায়দুল কাদের জানান, ছাত্রলীগকে নিয়ে নতুন করে ভাবছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন মডেলে ছাত্রলীগকে বিকশিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ছাত্রলীগের কনফারেন্স (সম্মেলন) আছে নেক্সট মাসে। সেই কনফারেন্সে আমরা স্টাকচারালি লিডারশিপে এবং ছাত্রলীগকে নতুন মডেলে বিকাশ করার একটা নির্দেশনা আমাদের নেত্রীর আছে। আমরা সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। একটু ধৈর্য ধরুন, একটু অপেক্ষা করুন। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কিছু এমবারাসিং (বিব্রবতকর) ব্যাপার ঘটে। এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। ছাত্রলীগ হোক আওয়ামী লীগ হোক, আমাদের যে কোনও সংগঠনে, অপরাধ করে অপকর্ম করে কেউ পার পেয়ে যেতে পারে না। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, একজন দণ্ডিত আসামি বিদেশে পলাতক আছে, তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তো অবশ্যই আদালতের একটা নির্দেশনা আছে, সরকারেরও একটা দায়িত্ব থাকতে পারে। এখানে কোনও সমীকরণের বিষয় নেই। তিনি আরও বলেন, বিষয়টা হচ্ছে, তারেক রহমানের সাহস আছে কি না?
রাজনীতি যখন করেন তখন বিদেশে বসে দেশের রাজনীতিক অঙ্গনে শব্দ বোমা ফাটাচ্ছেন কেন? আসুন রাজপথে মোকাবিলা করুন। কত সাহস আছে, রাজনীতি যখন করেন তখন জেলে যাওয়ার সাহস নেই। সে রাজনীতি কোনোদিনও সফলকাম হবে না। এটা তো কাপুরুষের রাজনীতি। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য প্রয়োজন বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই দায়িত্বটা তো ফখরুল সাহেব নিজেও নিতে পারেন? সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন। তারা নিজেরাই তো ঠিক নেই। কখনো বলে সহায়ক সরকার, কখনো বলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কেও তাদের একেক জনের একেক ডেফিনেশন, কোনটা গ্রহণ করবেন? তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, নির্বাচনের আর পাঁচ-ছয় মাস পরেই শিডিউল হবে। এখন আমাদের সামনে, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গণতন্ত্র-নির্বাচনকে পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশ যেভাবে দেখছে আপনারা কেন সেখান থকে সরে যাচ্ছেন। আপনারা ক্ষমতায় থাকলে কি বলতেন? তার বাইরে যেতে চাইলে-চিৎকার করতে পারেন। আন্দোলন করে আদায় করবেন, এই কথাতো শুনছি নয় বছর ধরে। নয় মিনিটের জন্য রাস্তায় নামতে পারেননি, দাঁড়াতে পারেননি। সক্ষমতা দেখাতে পারেননি। ফখরুল সাহেব এক সময় বাম রাজনীতি করতেন উল্লেখ করে বলেন, আপনি যে গণঅভ্যুত্থানের কথা প্রতিদিন বলছেন, বারবার বলছেন। মওদুদ সাহেবও বলছেন। অভ্যুত্থান যখন হয় তখন মওদুদ সাহেব দেশে থাকেন না, কখনো ছিলেন না। আর বাম রাজনীতি যারা করেন তারা ভালো করেই জানেন, আন্দোলনের সাবজেক্টটিভ প্রিপারেশন লাগে, অবজেক্টটিভ কনডিশন লাগে। বামপন্থিরা এটা ভালো করে চর্চা করেন।
সাবজেক্টটিভ প্রিপারেশন কি আপনাদের আছে। সবচেয়ে বড় কথা, দেশে কি আন্দোলনের কোনও অবজেক্টটিভ কনডিশন আছে? দেশের মানুষ খুশি। তা না হলে খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের পর লাখ লাখ মানুষের ঢল নামার যে স্বপ্ন আপনারা দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন তো অচিরেই কর্পূরের মতো উড়ে গেল। সেই স্বপ্ন কি বাস্তব ও সত্যি হয়েছে। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আপনি জোর করে আন্দোলন করবেন। মানুষ ছাড়া আন্দোলন হবে। জনগণ ছাড়া আন্দোলন হবে। নিজের দলের ৫শ’ সদস্যদের জাম্বু জেট কমিটিকেও তো রাস্তায় নামাতে পারেননি-এ পর্যন্ত। গণ-অভ্যুত্থানের বস্তুগত পরিস্থিতিও নেই। সুসংগঠনগত প্রস্তুতিও নেই। জনগণ আসবে না। খালেদা জিয়াকে কারাগারে আমরা দেইনি। দণ্ড দিয়েছে আদালত। মুক্তি দিতে পারে আদালত। আইনি লড়াই করুন। রাজপথে এসে লাভ নেই। নয় বছরেও পারেননি। আর ছয় মাসে কি করবেন? এখন আপনাদের সামনে বিকল্প একটা, খালেদা জিয়াকে যদি ভালোবাসেন, আইনি লড়াই করুন। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তার দণ্ড মওকুফ করাতে পারেন বা উচ্চ আদালতে খালাস করাতে পারেন। এটা আপনাদের আইনি লড়াইয়ে প্রমাণ হবে। প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এইচটি ইমামের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিক উজ জামান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য সচিব হাছান মাহমুদ প্রমুখ। সেমিনার পরিচালনা করেন উপ-কমিটির সদস্য এবং আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
একের পর এক বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির। তবে, এসব বিতর্ক সৃষ্টি করেন তিনি নিজেই। কোচিং  সেন্টারের মালিককে মারধরের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে পদ থেকে অব্যাহতি নেয়ার ঘোষণা দেন নিজের ফেসবুক ওয়ালে। এ নিয়েও বিতর্কে উঠেন রনি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে তার পদ থেকে অব্যাহতি নেয়ার ঘোষণাটি। অব্যাহতি চেয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বরাবরে আবেদন করা কপিটিও (স্ক্রিনশট) এসব গণমাধ্যমগুলো প্রকাশ করেছে।
আবার কোনো কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে কেন্দ্র থেকে তাকে বহিষ্কারের খবর। সেখানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যের বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে, বহিষ্কারাদেশের কোনো কপি প্রকাশ পায়নি।
আবার কয়েকটি গণমাধ্যমে সাইফুর রহমান সোহাগ মুঠোফোন রিসিভ না করায় বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আবার সাইফুর রহমান সোহাগ রনির বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য না দেয়ার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রচার করেছেন অনেক নেতাকর্মী। এ ব্যাপারে কোনো বিভ্রান্তি না ছাড়ানোর অনুরোধ, এমনকি স্থুল হুমকিও দেয়া হয়েছে।
ফলে, নুরুল আজিম রনির পদত্যাগ বা বহিষ্কার নিয়ে গতকাল দিনভর চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। রনির অব্যাহতির আবেদনপত্র প্রচার পেলেও কেন্দ্র থেকে বহিষ্কারাদেশের পত্র প্রকাশ না পাওয়ায় এবং একেক গণমাধ্যমে একেক খবর প্রচার হওয়ায় এ নিয়ে এখনো রয়ে গেছে ধোঁয়াশা ও বিতর্ক।
চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি কোচিং সেন্টারের মালিককে পেটানোর ঘটনায় নুরুল আজিম রনির বিরুদ্ধে মামলার পর পেটানোর ভিডিওটি বৃহস্পতিবার ভাইরাল হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠলেও গতকাল ফেসবুকে ভাসছে রনির পদত্যাগ না বহিষ্কার এ প্রশ্ন নিয়ে কৌতূহলী নেতাকর্মীদের স্ট্যাটাস।
আর এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একাধিকবার ফোন করা হলেও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ মুঠোফোন রিসিভ করেননি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সমপাদক জাকির হোসেনও বিষয়টি সমপর্কে অবগত নন বলে জানান।
তবে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা বলেন, বিষয়টি মীমাংসিত। রনি নিজেই যেখানে পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে অব্যাহতির জন্য আবেদন করেছেন তখন তিনি পদ ছাড়ার মানসিকতা নিয়েই করেছেন। তিনি আর পদে নেই, ব্যস। এখানে বহিষ্কারের প্রশ্ন অমূলক। 
নুরুল আজিম রনি বৃহস্পতিবার নিজেই তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন- পিতা মুজিবুরের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সমপাদক পদ থেকে আমি সজ্ঞানে অব্যাহতি নিলাম। একান্ত ব্যক্তিগত কারণে আমি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
এমতাবস্থায় সংগঠনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সমপাদক জাকারিয়া দস্তগীর সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সমপাদকের দায়িত্ব পালন করবেন। এ সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রতি আবেদন করছি। প্রাণের ছাত্রলীগ ভালো থেকো, স্বকীয়তা নিয়ে লড়াই করার সৎ সাহস রেখো। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
নুরুল আজিম রনি ফেসবুক ওয়ালের স্ট্যাটাসে একান্ত ব্যক্তিগত কারণে পদ থেকে অব্যাহতি নেয়ার কথা বললেও বিষয়টি মোটেও তা নয়। এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নগরীর ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়াকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়ে উঠে। বয়ে যায় বিতর্কের ঝড়। আর তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মুখে পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বরাবরে অব্যাহতির জন্য আবেদন করেন তিনি। যা নিজের ফেসবুক ওয়ালে সেঁটে দেন তিনি নিজেই। আর এই স্ট্যাটাস নতুন করে আবারো বিতর্কের সৃষ্টি করে।
এর আগে অতিরিক্ত ফি ফেরতের জন্য চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ ড. জাহিদ খানকে মারধর করে বিতর্কের মুখে পড়েন রনি। এই ঘটনায়ও নগরীর চকবাজার থানায় একটি মামলা করেছেন অধ্যক্ষ ড. জাহিদ খান। এর আগেও নানা কর্মকাণ্ডে একের পর এক বিতর্কে জড়ান রনি। যার পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে চরম অস্থিরতা চলছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগে।
প্রসঙ্গত, দ্বিধাবিভক্ত ছাত্রলীগে নুরুল আজিম রনি নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার প্রতিপক্ষ বর্তমান সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির সমর্থিত।
গত কয়েক দশক ধরে এই দুই নেতার বলয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ হয়ে আসছে চট্টগ্রামে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নগর ও ওয়ার্ড কমিটির প্রতিপর্যায়ে এই দুই নেতায় বিভক্ত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার মধ্যরাতে বেনজির এক দৃশ্যের সাক্ষী হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অন্য কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে কি-না নিশ্চিত হয়ে বলা যায় না। যথারীতি দৃশ্যপটে কবি সুফিয়া কামাল হল। ১০ই এপ্রিল মধ্যরাত থেকেই আলোচনায় রয়েছে যে হলটি। ওই রাতে ছাত্রলীগের হলনেত্রী এশার হাতে নির্যাতনের শিকার হন কয়েক শিক্ষার্থী। পরে তাদের প্রতিবাদও যায় সীমা ছাড়িয়ে। লাঞ্ছনার শিকার হন এশা। তার ভাগ্যবিপর্যয় ঘটে। ছাত্রলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার। সবারই জানা, এ সবই ছিল সাময়িক। তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়েছে। যারা তার বিরোধী ছিলেন তাদের জীবন এখন রীতিমতো নরক। ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও খড়গহস্ত।
এসবের মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে সুুফিয়া কামাল হলে ঘটে নানা নাটকীয়তা। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। ফেসবুকে কে কী স্ট্যাটাস দিয়েছে তা পরীক্ষা করে দেখেন তারা। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী হল ত্যাগে বাধ্য হন। স্থানীয় অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়া হয় তাদের। সংখ্যাটি ঠিক কত এ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। হলের প্রভোস্ট সাবিতা রেজওয়ানা ছাত্রীদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারিও দেন। এই নিয়ে যখন চারদিকে তোলপাড় তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান গতকাল বলেছেন, ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে ‘সরকারবিরোধী বক্তব্য ও অপতথ্য ছড়ানোর কারণে’ তিন ছাত্রীকে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তার ভাষায়, দোষী তিন ছাত্রীকে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিয়ে প্রশাসন সঠিক কাজই করেছে। এটা না হলেই বরং তিনি হল কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করতেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতা হয়তো সবসময়ই যুক্তিকে তাচ্ছিল্য করে। কোনো শিক্ষার্থী বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে অপরাধ করতেই পারেন। তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া যায়। হল থেকে বহিষ্কারের এখতিয়ারও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের রয়েছে। কিন্তু মধ্যরাতেই কেন ছাত্রীদের তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দিতে হবে। দিনের আলোতে এ কাজ করলে কী সমস্যা ছিল তা অনেকেই বুঝতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্ধকারকেই কেন ভালোবাসলো তা বুঝা দায়। মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের হল থেকে বহিষ্কারের কারণে তাদের কী ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে তাতো এরই মধ্যে খবরে বেরিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে হানাহানির ঘটনা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। অতীতে এ ধরনের ঘটনায় বহুবারই বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকাল বন্ধ হয়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে হল। এসব ক্ষেত্রে সবসময়ই দেখা যেত রাত যতই হোক কিছু সময় দিয়ে ছেলেদের হল খালি করার নির্দেশ দেয়া হতো। কিন্তু মেয়েদের হল রাতে খালি করার নির্দেশ দেয়া হতো না। সকাল হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা হতো। মাননীয় ভিসি এবং প্রভোস্ট মহোদয় হয়তো সে দিকটিও খেয়াল করেননি। একজন ছাত্রীর পিতাকে নিয়ে ভিসি যে মন্তব্য করেছেন তা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও বিস্ময়কর। কোন সংবেদনশীল মানুষ এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না।
এশাকে লাঞ্ছনার ঘটনায় অনেকেই ব্যথিত হয়েছেন। এবং সেটা বেশ যৌক্তিকও। যেকোনো নাগরিকের বেলায়ই এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটলে তার মাত্রা আরো বেড়ে যায়। ইতিহাস সৃষ্টিকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে অবশ্য বছরের পর বছর নানা অনাচার চলে আসছে। ছাত্র নেতারাই হলের রাজা। বাকি সবাই প্রজা। শারীরিক-মানসিক নানামুখী নির্যাতনের শিকার হতে হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের। শিক্ষকরা দর্শক মাত্র। এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক শিক্ষকের ভাষায়, হলগুলো যেন মিনি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প।
বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয়, জ্ঞানদায়িনী মা। আর সে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হচ্ছেন ভিসি এবং শিক্ষকরা। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীরা যদি অবিচারের শিকার হোন, তবে তাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না। ন্যায়ের বাণী যেন আজ নিভৃতে কাঁদে।
মধুপুরের একসময়ের স্রোতস্বিনী বংশাই নদ দখলের কবলে পড়ে সঙ্কুচিত হয়ে ছোট নালায় পরিণত হয়েছে। অবৈধভাবে দখল করে বাসা-বাড়ি নির্মাণ করার ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে নদটি। শুধু দখল নয় পার্শ্ববর্তীদের নিক্ষিপ্ত বর্জ্যে পানি দূষিত ও আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদীর দুই তীর দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। গোলাবাড়ী ব্রিজ থেকে শুরু করে দামপাড়া গ্রামের বাঁকে বংশাইয়ের দুই পাড় দখলের দৃশ্য কারো চোখ এড়ায় না। বিশেষ করে কাইতকাই, হাসপাতাল গেটের সামনে, মধুপুর বাসস্ট্যান্ড ব্রিজ থেকে হাটখোলা, বোয়ালী গ্রামের সীমানা এলাকা, দামাপাড়া পর্যন্ত বংশাইয়ের প্রস্থ উদ্বেগজনক। জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র জামালপুরের সীমানা পেরিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে মিশেছে এই বংশাই নদ। ঢাকার সাভার-ধামরাইয়ে বংশাই নামেই এ নদের পরিচিতি। এক সময় বংশাইয়ের জলে বনের পশু-পাখি তৃষ্ণা মেটাতো। দুই/তিন দশক আগে এ নদ দিয়ে চলতো পাল তোলা নৌকা। এসব এখন শুধুই ইতিহাস। এ বিষয়ে একটি সেমিনারে জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফি উদ্দিন মনি জানান, বংশাইয়ের সীমারেখা সবাই জানে। তবু চোখের সামনে নদটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। কারো কিছু বলার নেই। বংশাই নদটি উদ্ধারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প না থাকায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টাঙ্গাইল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ জানান, নদ-নদী দখল রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের করণীয় কিছু নেই। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের এখতিয়ারভুক্ত। টিআইবি’র সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) মধুপুর শাখার সভাপতি ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনি জানান, বংশাই নদ হলো মধুপুরের ফুসফুস। নিজেদের স্বার্থে এ নদটি টিকিয়ে রাখতে হবে। মধুপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদ পারভেজ জানান, শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পথচারীদের হাঁটার জন্য বংশাইয়ের দুই তীর দিয়ে সড়ক নির্মাণ করতে পারলে মেয়র হিসেবে একটি স্বপ্নের সফল পরিণতি হবে।
পরিবেশ উন্নয়ন সংগঠন ‘বেলা’র টাঙ্গাইলের সিনিয়র গবেষক সোমনাথ লাহেড়ী সাংবাদিকদের জানান, মধুপুরের বংশাই একটি ঐতিহ্যবাহী নদ। ভরাটের কারণে জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। আইন ও উচ্চ আদালতের ২০১১ সালের এক আদেশ মতে নদী জলমহাল দখল বেআইনি। ফৌজদারি ধারায় শাস্তিযোগ্য। তিনি বংশাই দখল রোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।  সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুল হক জানান, বংশাই নদ অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করার প্রক্রিয়া চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, ইতিমধ্যে উপজেলা ভূমি অফিসকে নদটির দুই পাড়ের দখল চিহ্নিত করে দখলদারদের তালিকা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দখল এলাকা ও দখলদারদের বিষয়ে পরে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণার সুযোগ দিলে ভোটের মাঠের পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তে সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো বৈষম্যের শিকার হবে। এতে করে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হবে। সিটি করপোরেশনের ভোটে প্রচার-প্রচারণার সুযোগ দিতে আচরণবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ স্থানীয় নির্বাচনে এমপিরা প্রচারণার সুযোগ চেয়ে প্রস্তাব দেয়ার পরে এক সপ্তাহের মাথায় গত বৃহস্পতিবার কমিশন সভায় আচরণবিধি সংশোধনের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের নেতৃত্বে আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটিকে এ বিষয়টি পর্যালোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন দিতে বলেছে কমিশন। এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমপিরা প্রচারের সুযোগ পেলে তার প্রভাব হবে ভয়াবহ। যেসব দলের এমপি নেই তারা বৈষম্যের শিকার হবেন। এটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্তরায় হবে। তিনি বলেন, এমপিরা নিজ এলাকায় প্রচণ্ড প্রভাব-প্রতিপত্তিশালী। তারা প্রচারের সুযোগ পেলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের লেশমাত্র থাকবে না। ২০০৯ সালে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন কমিশন এমপিদের নির্বাচনী প্রচারের বাইরে রাখার বিষয়টি বিধিমালায় যুক্ত করে। পরে ২০১৫ সালে দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারের সুযোগ দেয়া না দেয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে তৎকালীন কাজী রকিবউদ্দীন কমিশন। প্রাথমিকভাবে মন্ত্রী-এমপিদের নাম উল্লেখ না করে সরকারি সুবিধাভোগীদের প্রচারের (সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বাদ দিয়ে) সুযোগ করে দিয়ে খসড়া  তৈরি করে। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মধ্যে সরকারি সুবিধাভোগীদের সফর ও প্রচারণায় অংশ নেয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মন্ত্রী-এমপিদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আচরণবিধি করা হয়। এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর কুমিল্লা সিটি ভোট সামনে রেখেও আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশন বেশি নিরপেক্ষতা দেখাতে গিয়ে সরকারি দলের প্রতি বেশি নিষ্ঠুর আচরণ করছে। এবারে গাজীপুর ও খুলনার সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে মন্ত্রী-এমপির ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণারোপ না করার দাবি জানায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। চার সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছিলেন, সামনে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন রয়েছে। মন্ত্রী-এমপিদের চলাফেরার ওপরে যাতে নিয়ন্ত্রণ না করা হয়। যাতে স্বাভাবিক কাজে বাধা না দেয় তা দেখতে বলেছি। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আচরণবিধি নিয়ে বাস্তবে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা দেখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আচরণবিধি যাতে আবার এমন হয়ে না দাঁড়ায় যে, নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করে। নির্বিঘ্নে নির্বাচন করার জন্য যেটুকু দরকার সেটুকুই যেন তারা রাখেন। তিনি বলেন, মন্ত্রীদের গতিবিধি এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় যারা এমপি আছেন, তারা এখন (নির্বাচনের সময়) এলাকায় যেতে পারবেন না। এক্ষেত্রে অসুবিধা হয়, তারা তো ওইসব নগরে বাস করেন। যেমন গাজীপুর-খুলনার অধিবাসী অনেক এমপি আছেন। কমিশন বৈঠকে আইন সংশোধন নিয়ে আলোচনার পর ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, এই সিদ্ধান্ত ক্ষমতাসীনদের চাপে নয়। যে কোনো রাজনৈতিক দল ইসির অংশীজন। পরামর্শ ও আলাপ-আলোচনা করে তাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো ইসি বিবেচনা করে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, এটা ঠিক হবে না। এটা আগে নিষিদ্ধ ছিল। বিশেষ করে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বিএনপির তো মন্ত্রী-এমপি নেই। সুতরাং ব্যাপারটা একতরফা হয়ে যাবে। এতে করে প্রার্থীদের মধ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না।
অস্তিত্ব সংকটে রংপুর অঞ্চলের অর্ধশতাধিক নদ-নদী। যদিও নদীমাতৃক এ দেশের নদীগুলো কালের বিবর্তনে মরা খালে পরিণত হয়েছে। পানির অভাবে নাব্য হারিয়ে রংপুর অঞ্চলের নদীগুলো এখন মৃতপ্রায়। সীমান্তবর্তী দেশ ভারত উজানে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করায় এ অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু অর্ধশতাব্দী আগেও এসব নদীতে ছিল উত্তাল যৌবনে পানির প্রবাহ ও ঘ্রাণের স্পন্দন। এখন সেই যৌবনে ভাটা পড়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে নদীর অস্তিত্ব। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরের প্রাচীনতম জনপদ রংপুর অঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও জেলায় রয়েছে ধরলা, দুধ কুমার, করতোয়া, জলঢাকা, নীলকুমার, সতী ঘাঘট, বাঙ্গালী, মানাস, কুমলাই, ধুম, বুড়িঘোড়া, সোনাভারী, জিঞ্জিরাম, সাপমরা, রায় ঢাকা, ফুল কুমার, নলেয়া, হলহলিয়া, কাটাখালী, যমুনেশ্বরী, চিতনী, মরা করতোয়া, ইছামতি, ঘাঘট, আলাই, তিস্তা, কুমারীসহ প্রায় ৫০ নদী এখন মৃতপ্রায়। এসব নদীর অধিকাংশেরই এখন নাব্য নেই। বর্তমান সময়ে কোনো কোনো নদীতে হাঁটুজলও শুকিয়ে গেছে। এক সময় এসব নদীর বুকে পাল তোলা নৌকায় পারাপার হলেও এখন পায়ে হেঁটে চলছে মানুষ। সর্বকালের সর্বনিম্ন পানি প্রবাহ এখন তিস্তায়। এক তরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নেয়ার ফলে বাংলাদেশের ১১২ মাইল দীর্ঘ এই নদী শুকিয়ে এখন মৃতপ্রায়। সামান্য বর্ষার ছোঁবলে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করা করতোয়া নদীও এখন পানি শূন্যতায় ধুঁকে ধুঁকে মরছে। কোথাও নেই আগের সেই প্রবাহ। নেই ডিঙ্গি নৌকা। রংপুরের পীরগাছা উপজেলার উপর দিয়ে এক সময় প্রবাহিত আলাইকুড়ি নদী এখন পরিণত হয়েছে মরা খালে। কালের আবর্তনে মরে যাচ্ছে রংপুরের গঙ্গাচড়ার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘাঘট নদী। পানিশূন্য হয়ে পড়ায় নদীটির বুকে আবাদ হচ্ছে বিভিন্ন ফসল। আর কয়েটি বছর পর স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে যাবে এই নদী। যার বুকজুড়ে লোকজন জবরদখল করে আবাদ করছে।
নদীটি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত মৎসজীবী। অভিজ্ঞ লোকজনের ধারণা নদীটি খনন করা হলেও মৎস্য চাষসহ আবাদি জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা যাবে। এতে কৃষকরা উপকৃত হবে। জানা যায়, নীফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার কুড়িপাড়া গ্রামে তিস্তার শাখা নদী হিসেবে ঘাঘট নদীর উৎপত্তি। ঘাঘট নদী গঙ্গাচড়া উপজেলার পশ্চিম সীমানা দিয়ে নোহালী, আলমবিদিতর ও বেতগাড়ি ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে রংপুর সদর হয়ে পীরগাছা উপজেলায় প্রবেশ করেছে। এরপর আলাইকুড়ি নদীর সঙ্গে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্ল্যাপুর হয়ে যমুনায় মিলিত হয়েছে। নদীটির আঁকাবাঁকা পথে ১২০ কিলোমিটার শুকিয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন বলছেন, এক সময় এ নদীটির ওপর দিয়ে পাল তোলা নৌকা চলতো। দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আসতো ব্যবসা করার জন্য। নদী পথে বিভিন্ন প্রকার পণ্য সরবরাহ করতো লোকজন।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা প্রায় ২২০ বর্গ কি.মি. এলাকায় ১টি পৌর ৯টি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রায় ২৫টি নদ-নদী, খাল-বিল প্রবাহিত ছিল। যার বেশির ভাগই শুকিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদ-নদী, খাল-বিলগুলোর নাম পর্যন্ত ভুলতে বসেছে নতুন প্রজন্ম। অথচ এক সময় এই নদ-নদী, খাল-বিল ছিল কৃষি, ব্যবসা আর প্রাকৃতিক সম্পদের আধার। যার উপর নির্ভর করতো এলাকার মানুষের জীবন জীবিকা। একদিকে অপরিকল্পিত বাঁধ, কালভার্ট আর নানা প্রকল্প অন্যদিকে খননের অভাবে এসব নদ-নদী, খাল-বল ভরাট হয়ে শুকিয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে পড়েছে নৌ চলাচল ও নদী কেন্দ্রিক হাট বাজার। এক সময়ের জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদ করছে কৃষক। তাতেও সেচ সংকটে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। আবার বর্ষা মৌসুমে অল্প বৃষ্টি বা উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহে জলমগ্ন হয়ে পড়ে হাওর বেষ্টিত ইউনিয়নগুলো। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট ও ঘনঘন প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। দুর্ভোগ বাড়ছে খেটে খাওয়া কৃষক, শ্রমিক ও হতদরদ্রি সাধারণ মানুষের। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের খরস্রোতা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, আড়িয়াল খাঁ, সূতী, ঘোড়াউত্রা, কুড়িখাই, দিনমনি ও মাগুড়া নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে বোরো আবাদ করছে কৃষক। তাছাড়া আচমিতা, জালালপুর, লোহাজুরী, বনগ্রাম, মুমুরদিয়া ও করগাঁও এর মধ্যদিয়ে প্রবাহিত পুরুষ বধিয়া বিল, কুরয়ানি বিল, বাগাদাইর বিল, চাতলিয়া বিল, রোয়া বিল, ঝাওয়া বিল, কইরানী বিল, রুপসা বিল,  দেওভাঙ্গা বিল,  ডেকিয়া বিল, শিমুল কান্দি বিল, গাজীগিলা বিল, হাসা বিল, ভরা বিল, রাহি বিল, গোদাইর বিল, সিদ্ধি বিল, দুরবা বিল, কুটির বিল, চামিলি বিল, তপাই খাল, হিদলছড়ি খাল, নন্দার খাল,  দৌলাবাইদ খাল, কাঠালিয়া খাল ও বাউনখালি খাল শুকিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ হাজার একর জামিতে সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। পানির অভাবে যেমন জলজ সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে তেমনি বিনষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। এ ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে চলে যাচ্ছে। নলকূপ বা পাম্পে পানি উত্তোলন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। নদী ও খাল-বিলগুলো দিনদিন প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে।
কটিয়াদী উপজেলার পৌর এলাকা, জালালপুর, লোহাজুরী ও মসূয়া ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী মনোহরদী, বেলাব উপজেলার সীমানাকে বিভক্ত করে বয়ে গেছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র। যা ভৈরবে মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলিত ছিল। প্রমত্ত ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী আড়িয়াল খাঁর একটি অংশ পৌর এলাকার থানার সামনে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুনারায় বেলাব হয়ে ভৈরবের মেঘনা নদীতে মিলিত ছিল। কিন্তু স্থানে স্থানে অপরিকল্পিত বাঁধ, কালভার্ট আর ব্রিজ নির্মাণের কারণে এই নদ-নদীর বেশিরভাগ অংশ এখন বদ্ধ জলাশয়। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই নদ-নদী এখন প্রভাবশালীদের দখলে। এই নদীর পাড় ঘেঁষে গড়া উঠা বাজারগুলো এখন ধংসের দ্বারপ্রান্তে।
এই খাল-বিল, নদ-নদীগুলো খননের দাবি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের। কিন্তু এই দাবির প্রেক্ষিতে সরকারের বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখে পড়ার মতো কোনো পদক্ষেপ আজ পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি। অবশ্য বিআইডব্লিউটিসি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র টোক বাজার থেকে খনন কাজ শুরু করেছে। এতে কিছুটা আশার আলো দেখা  দিয়েছে। অত্র এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি নদী খনন চলমান প্রকল্পটি কোনোভাবেই যেন বন্ধ হয়ে না যায়। অপরাপর নদী ও খাল বিলগুলো খননের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশা করে এলাকার মানুষ।
নতুন করে উত্তাপ বাড়ছে মাংস ও সবজির দরে। সপ্তাহের ব্যবধানে মাংসের পাশাপাশি বেশির ভাগ সবজির দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে মুরগির মাংসের দাম। অন্যদিকে কাঁচাবাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় বেশির ভাগ সবজির দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। তবে বাজারে নতুন আসা কাকরোলের দাম সবচেয়ে বেশি। প্রতি কেজি কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে পিয়াজের। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরবরাহের ঘাটতি থাকায় সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে।
ক্রেতাদের আশঙ্কা হাতেগোনা কয়েকটি পণ্যই নাগালে রয়েছে। আর বাকি সব নাগালের বাইরে। এ ছাড়া সামনে রমজান মাস শুরু হবে। তখন কি হবে পণ্যের দামে? গতকাল রাজধানীর নিউমার্কেট, কারওয়ান বাজার, হাতিরপুলসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়।
বাজারে ১৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পাকিস্তানি লাল মুরগি। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। এছাড়া গত সপ্তাহের সাথে মিল রেখে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, ১লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ছিল। সেই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সামনে রমজান মাস আসছে। এ কারণেও মুরগির দাম বাড়তে পারে বলে জানান বিক্রেতারা। সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের চেয়ে ৫ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে বিভিন্ন সবজির দাম। গত সপ্তাহে ১৫ টাকায় বিক্রি হওয়ার টমেটো বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা দরে। এছাড়া গত সপ্তাহে পটল বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকায়। কিন্তু সপ্তাহের ব্যবধানে সেই পটল বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে যে বেগুন বিক্রি হয়েছে প্রকারভেদে ৫০-৫৫ টাকা, তা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, শিম ৩০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, ক্ষিরা ৮০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, আলু ২০ টাকা, প্রতি পিস বাঁধাকপি ৩০ টাকা, প্রতি পিস ফুলকপি ৩৫ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এক আঁটি লাল শাক ১৫ থেকে ২০ টাকা ও ধনিয়াপাতা ১০০ টাকা কেজি, কাচ কলা হালি ৩০ টাকা, লাউ প্রতিপিস ৫০ টাকা, কচুর ছড়া ৩০ টাকা, লেবু হালি ৪০ টাকা। এভাবে প্রতিটি সবজিতেই বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। এছাড়া ঢেড়শ’ ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা এবং চিচিংগা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বাজারে নুতন আসা সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কাকরোল। প্রতিকেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা।
বাজারের ব্যবসায়ী রবিউল বলেন, কাকরোল বিক্রি করছি ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে। নতুন আসার কারণেই দাম এমন বাড়তি। কিছুদিন পরেই এ সবজিটি আবার ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করব। এদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে ডিম। ডিমের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনে ২ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দোকানে হালি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। ডিম ব্যবসায়ী অকিল বলেন, ডিমের দাম দুই-তিন সপ্তাহ ধরে বাড়ছে।
মসলার বাজারে কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, আদা ১০০ থেকে ১১০ টাকা, রসুন মানভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং দেশি পিয়াজ ৪০ টাকায় বেচাকেনা হতে দেখা যায়। অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানিকৃত বড় পিয়াজ ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চিনি ৬০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১০০ টাকা ও আমদানি করা মসুর ডাল ৭০ টাকা কেজি করে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা আরিফ হোসেন বলেন, দাম বাড়াতে দোকানদারদের কোনো কারণের প্রয়োজন হয় না। মন চাইলেই তারা বাড়িয়ে দেন। এটা কারসাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। ক্রেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, হাতেগোনা কয়েকটি পণ্যই ক্রেতাদের নাগালে। আর বাকি সব নাগালের বাইরে। অনেক ক্রেতা রমজান মাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, আর মাস দেড়েক পর রমজান শুরু হবে। এখনই যদি চিনি ৬০ টাকা, রসুন ১০০ টাকা ও আদা ১০০ টাকা হয়, তাহলে রমজান মাসে এসব পণ্যের দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।
চালের বাজারে মোটা স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৩ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়। এছাড়া পাইজাম ৪৫ টাকা, মিনিকেট মানভেদে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, বিরি ২৮ বিক্রি হচ্ছে টাকা এবং পোলাও চাল ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বাজারে।
অন্যদিকে মাছ দাম বৈশাখ উপলক্ষ্যে বেশ খানিকটা বেড়ে চলতি সপ্তাহে সামন্য কমেছে। প্রতি কেজি কাতল মাছ ২২০ টাকা, পাঙাস ১২০ টাকা, রুই ২৩০-২৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৩০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা ও চিংড়ি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
উত্তেজক ওষুধ খাইয়ে স্ত্রীকে যৌনকর্মে নিয়োজিত করায় চান মিয়া (৪২) নামে এক কবিরাজকে কুপিয়ে হত্যা করেছে জাকির হোসেন। পরে জাকির দা হাতে থানায় আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরতলীর সতাল পাক্কার মাথায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত চাঁন মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের আমাটি শিবপুর এলাকার মৃত আব্দুল মোতালিবের ছেলে। পেশায় কাঠমিস্ত্রী চান মিয়া এলাকায় কবিরাজ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে জাকির হোসেন একই এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
এলাকাবাসী জানায়, কাঠমিস্ত্রি ও কবিরাজ চান মিয়া তার কাছে যাওয়া রোগীনীদের যৌন উত্তেজক ওষুধ খাইয়ে এলাকার কিছু লম্পট যুবকদের যৌন লালসা চরিতার্থ করার সুযোগ করে দিতো। একই এলাকার জাকির হোসেনের স্ত্রীকেও একই কাজে ব্যবহার করার জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পার্শ্ববর্তী সতাল পাক্কার মাথা এলাকায় জাকির হোসেন দা দিয়ে কুপিয়ে চান মিয়াকে মারাত্মক আহত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর জাকির নিজেই দা নিয়ে থানায় গেলে তাকে আটক করা হয় বলে যশোদল ইউপি চেয়াম্যান ইমতিয়াজ সুলতান রাজন জানিয়েছেন। নিহত চান মিয়ার লাশের ময়না তদন্ত শুক্রবার কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আছমা বাদী হয়ে জাকির হোসেনকে আসামি করে মামলা করেছে। তবে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, আছমা ছাড়াও নিহতের জহুরা নামে আগের এক স্ত্রী রয়েছে। ওসি আছমাকে থানায় নিয়ে তার স্বাক্ষর রেখে মামলা রেকর্ড করেছেন। পরে নিহতের বড় স্ত্রী জহুরা ও ছোট স্ত্রী আছমা মিলিতভাবে থানায় গিয়ে ঘাতক জাকির হোসেন এবং তার ভাই ও বাবাকে আসামি করে মামলা দিতে চাইলেও ওসি তাদের এজাহার রাখেননি। তবে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবু শামা মো. ইকবাল হায়াত জানান, চার বছর আগে জাকির বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তার স্ত্রী অন্য পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রাখতো। কবিরাজ চাঁন মিয়া ঔষধ দিয়ে জাকিরের স্ত্রীকে অন্যদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ করে দিতো। এই কারণে কবিরাজ চাঁন মিয়ার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল জাকির। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিপ্লব নামে এক সহযোগীকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কবিরাজ চাঁন মিয়ার ওপর দা নিয়ে হামলে পড়ে জাকির। ঘটনার পর পরই ঘাতক জাকিরকে ধরতে তারা একটি পুলিশের বিশেষ টিম গঠন করেন। বিশেষ এই টিমের অভিযানে ঘটনার কিছু পরেই রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা ঘাতক জাকিরকে আটক করতে সক্ষম হন। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা-টিও উদ্ধার করা হয় বলে ওসি আবু শামা মো. ইকবাল হায়াত জানান। এছাড়া মামলার ব্যাপারে ওসিকে প্রশ্ন করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ছোট স্ত্রী নিজে থেকেই এক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন।
সকাল থেকে সন্ধ্যা জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা এক জীবন সংগ্রাম। দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের জন্য সবার দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করেন ছালেহা বেওয়া (৭০)। পায়ে হেঁটে পথ চলেন মাইলের পর মাইল। তবুও ক্লান্তিহীন তিনি। পাশে দাঁড়ানোর যারা ছিল তারা মারা গেছে। আশ্রয় হয়েছে দিনমজুর মেয়েজামাইর বাড়িতে। শরীরে বহন করছেন বিশাল আকৃতির ঘ্যাগ (গলগণ্ড)। আর যেন চলতে পারছেন না। ক্লান্ত এ জীবন সায়াহ্নে শুধুই আক্ষেপ রাতে ঘুমাবার ঘর নেই, নেই কবরের জায়গা। তবুও ভাগ্যে জোটেনি বিধবা কিংবা বয়স্কভাতার কার্ড। জানিনা বয়স আর কত হলে বয়স্কভাতার কার্ড।
জেলার উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউপির পাতিলাপুরী (নারীর খামার) গ্রামের হত দরিদ্র মোক্তার আলীর স্ত্রী ছালেহা বেওয়া (৭০)। স্বামীও ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন। ১০ বছর আগে স্বামী মারা গেলে একমাত্র  পুত্রসন্তান আমিনুর রহমান দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। ২ বছর পর একমাত্র ছেলেও মারা যান। বৃদ্ধ বয়সে ছালেহার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। কোথায় যাবেন, কি খাবেন? এ অবস্থায় ঠাঁই হয় হয় দরিদ্র মেয়ে মের্শেদা বেগমের দিনমজুর জামাইয়ের সংসারে। তাদেরও সংসারে চলে টানাপড়েন। বাধ্য হয়ে ছালেহাকে নামতে হয় ভিক্ষাবৃত্তিতে। ছালেহা জানান, এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পাননি বিধবা ও বয়স্কভাতার কার্ড। বলেন, ‘৩-৪ হাজার ট্যাকাও দিবের পাং না কাডো হয় না। ভাতে জোটে না চিকিৎসা করোং কি দিয়া’। এভাবেই চলছে ছালেহার জীবন সংগ্রাম। কিন্তু কেউ কী এগিয়ে আসবেন তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে। মিলবে কী বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড। এ বিষয়ে থেতরাই ইউপি চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী সরকার বলেন, আমি ওই ওয়ার্ডের মেম্বারকে বলেছি, ভাতা দেয়ার জন্য।
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, কার্ডপ্রাপ্তির বিষয়টি দ্রুত নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে। কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. এস এম আমিনুল ইসলাম অপারেশনের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।
মাদক কেনাবেচায় জড়িত পুলিশের কতিপয় সদস্য। ইতিমধ্যে কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত মার্চ মাসে পুলিশের সদর দপ্তরে অপরাধ সভায় ডিএমপি তেজগাঁও জোনের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার মাদকের বিরুদ্ধে শক্তভাবে অবস্থান নেয়ার জন্য পুলিশের আইজির প্রতি আহ্বান জানান। পুলিশ সদরদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের তিন মাসে মাদকের কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ২৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিসিপ্লিন অ্যান্ড প্রফেশনালার্স স্টান্ডার্ড (ডিঅ্যান্ডপিএস) সূত্রে জানা গেছে চলতি বছরের ২২শে ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় মালখানা থেকে মাদক সরানোর অভিযোগ ওঠে মালখানার দায়িত্বে থাকা এসআই আহসান হাবিব এবং থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) তপন বকশীর বিরুদ্ধে। পরে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ৭ই মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার টিআলী মোড় থেকে দুটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশের একটি দল। পরে তারা মাত্র ৪০ কেজি গাঁজা থানায় জমা দিয়ে বাকি গাঁজা থানার পাশের একটি ঝোপে লুকিয়ে রাখে। বিষয়টি জেলার ডিবি পুলিশের একটি দল জানতে পারলে সেই ঝোপ থেকে গাঁজাগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কসবা থানার এসআই শ্যামল মজুমদার, মনির হোসেন, এএসআই ফারুক, সালাউদ্দিন ও কনস্টেবল শাহজাহান ও কাশেম নামে ছয় সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
গত গত ৮ই মার্চ নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই সোহরাওয়ার্দী রুবেলের বাসা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল প্রায় ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে। নারায়ণগঞ্জে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তার বাসায় অভিযান চালায়। এ ছাড়াও বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে তাদের কাছে যেসব মাদক পাওয়া যেত সেইসব মাদক থানায় জমা দিত না এএসআই রুবেল।
গত ১৫ই মার্চ বরিশালের উজিরপুরের শিকারপুর গ্রামে শামীম নামে এক যুবককে বিপুল পরিমাণের ইয়াবা ট্যাবলেটসহ   গ্রেপ্তার করেন এএসআই আমিনুল। ওই ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো অন্যস্থানে বিক্রয় করে দেন আমিনুল এবং ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে শামীমকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় আমিনুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ডিএন্ডপিএস সূত্রে জানা গেছে, মাদকের কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে কুমিল্লায় দুই জন, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার ছয় জন, নারায়ণগঞ্জে দুই জন, বরিশালে এক জন, চট্টগ্রামে এক জন ও কক্সবাজারে এক জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিসহ ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
 জানা গেছে, পুলিশের বিরুদ্ধে নানামুখী অভিযোগের মধ্যে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে মাঠপর্যায় থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানামুখী শাস্তির ব্যবস্থা করলেও এই অপরাধপ্রবণতা থামানো যাচ্ছে না।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩১শে জানুয়ারি মাদক দমনে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কীভাবে মাদক দমন করা যাবে তা উল্লেখ ছাড়াও মাদকের কারবারে পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে জানানো হয়েছে। ওই নির্দেশনায় প্রত্যেক জেলার এসপির কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ টিমকে মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে বলা হয়েছে। যাতে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে না হয়ে পড়ে।
কেন পুলিশ মাদকে জড়াচ্ছে বিষয়টি জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান জানান, পুলিশ মাদকে জড়াচ্ছে এটা একটা অপরাধ। এটা নতুন কিছু নয়। পুলিশের মধ্যে এই অপরাধ প্রবণতা আগেও ছিল। এখনও আছে। তিনি বলেন, পুলিশের বিভিন্ন বিষয় দেশের গণমাধ্যমগুলোতে আসার কারণে এই অপরাধ সম্বন্ধে জানা যাচ্ছে। এই অপরাধ থেকে বের হয়ে আসতে হলে পুলিশের মধ্যে স্বচ্ছতা আনতে হবে। মাদকের সঙ্গে যত বড়ই পুলিশের কর্মকর্তা জড়িত থাকুক না কেন তার বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন) বিভাগের এআইজি সহেলী ফেরদৌস মানবজমিনকে জানান, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে পুলিশ। যেসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসা মাত্রই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
মেক্সিকো থেকে টেক্সাসের লারেদো অঞ্চল দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে যাওয়া বাংলাদেশীদের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার পথে। স্থানীয় কর্মকর্তারা বুধবার এ কথা জানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে রক্ষণশীল পত্রিকা ওয়াশিংটন টাইমস। পত্রিকাটি লিখেছে, ‘সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি রয়েছে এমন দেশ থেকে এটি হলো সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগজনক অভিবাসী স্রোত।’ এই পত্রিকা সহ আরেক রক্ষণশীল পত্রিকা ওয়াশিংটন এক্সামিনার সরকারী কর্মকর্তাদেরকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, এশিয়া থেকে আমেরিকায় ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য অবৈধ অভিবাসীরা আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী সংগঠনগুলোকে সর্বোচ্চ ২৭ হাজার ডলার বা প্রায় ২২ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করে থাকেন।
বুধবার আমেরিকার বর্ডার প্যাট্রলের লারেডো সেক্টর ৪ বাংলাদেশীকে আটক করেছে। এই অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসে এ নিয়ে ১৮৮ জন বাংলাদেশী আটক হয়েছেন। অথচ, ২০১৭ সালে পুরো বছরে আটক হন ১৮১ জন। ২০১৬ সালে ঢোকার চেষ্টা করেন মাত্র ১ জন বাংলাদেশী।
ওয়াশিংটন টাইমস লিখেছে, বাংলাদেশে ইসলামিস্ট সন্ত্রাসী চক্রের উপস্থিতির কারণে এই অভিবাসন স্রোত উদ্বেগজনক।
লারেডো সেক্টর উপ প্রধান প্যাট্রল এজেন্ট স্কট গুড বলেন, ‘নিশ্চিতভাবে এই কাজ আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনগুলোর।’ অপরদিকে সহকারী প্রধান প্যাট্রল এজেন্ট গ্যাব্রিয়েল অ্যাকোস্তা ওয়াশিংটন এক্সামিনারকে বলেন, বাংলাদেশীরা একা এই অবৈধ পথে আসছেন, তা নয়। তারা আসছেন মাদক চক্রের মাধ্যমে, যারা এশিয়া থেকে মনুষ্যবাহী যান যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘তারা দক্ষিণ আমেরিকায় প্রথমে মানুষদের নিয়ে যায়। সেখান থেকে বিভিন্ন পরিবহণের মাধ্যমে মধ্য আমেরিকা থেকে মেক্সিকোতে মানুষদের নিয়ে যায়। এটা আসলে একটা পাচারকারী সংগঠনের কাজ। বাংলাদেশীরা আসলে জানেই না যুক্তরাষ্ট্রের কোন জায়গায় তারা ঢুকতে চায়।’
ইহুদিবাদী সেনাদের গুলিতে শহীদ ফিলিস্তিনি
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের সেনাদের গুলিতে অন্তত চার ফিলিস্তিনি শহীদ ও ৪০ জন আহত হয়েছেন। ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ করতে গিয়ে এসব ফিলিস্তিনি শহীদ হলেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কিদরা এক বিবৃতিতে জানান, নাবিল আবু আকেল, আহমাদ রাশাদ আল-আসামনা, মুহাম্মাদ ইব্রাহিম আইয়ুব ও সা’দ আবুসে নামের যে চার ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন তাদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। এর মাঝে মুহাম্মাদ ইব্রাহিম আইয়ুবের বয়স ১৫ বছর। ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ
আশরাফ কিদরা জানান, ইসরাইলি সেনাদের গুলি ও টিয়ারগ্যাসের শেলে আহত হয়েছেন ৪০ জন।
গত ৩০ মার্চ থেকে গাজা সীমান্তে ইসরাইল-বিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৪ জন ফিলিস্তিনি শহীদ ও কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের জাতীয় ভূমি দিবস উপলক্ষে গাজাবাসী ওইদিন থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে এবং আগামী ১৫ মে চলমান বিক্ষোভ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ১৫ মে ফিলিস্তিনের নাকাব দিবস পালন করা হবে। ইসরাইলি সেনাদের মোকাবেলায় ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ
৭০ বছর আগে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে অবৈধ ইহুদিবাদী ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনিরা নাকাবা দিবসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। ১৯৪৮ সালের ওই দিনে অন্তত সাত লাখ ৬০ হাজার ফিলিস্তিনিকে উদ্বাস্তু করে ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে এসব উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনিকে নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরতে দেয় নি ইসরাইল
উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে’র সঙ্গে দেয়া এক যৌথ সম্মেলনে কিমের সঙ্গে তার পরিকল্পিত বৈঠক নিয়ে এমন কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি আরো জানান, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য দেশটির ওপর সর্বোচ্চ চাপ অব্যাহত রাখা হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রিসোর্ট মার-ই-লাগোতে অবস্থান করছেন শিনজো আবে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, বুধবার এক টুইটে ট্রা¤প নিশ্চিত করেন যে, কিম এর সঙ্গে দেখা করতে এক গোপন সফরে উত্তর কোরিয়া গিয়েছিলেন সিআইএ পরিচালক মাইক পম্পেও। তিনি বলেন, কিম এর সঙ্গে বেশ ভালো স¤পর্ক স্থাপন করে এসেছেন পম্পেও। তিনি আরো বলেন, উভয়ের মধ্যকার বৈঠকটি বেশ সুষ্ঠুভাবে স¤পন্ন হয়েছে। এটা ছিল, ২০০০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। জুন মাসের মধ্যে কিম এর সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। তবে এখনো, বৈঠকটির জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যৌথ সম্মেলনে বলেন, তিনি যদি মনে করেন যে কিমের সঙ্গে তার বৈঠক সফল হবে না তাহলে তিনি সেখানে যাবেন না। আর যদি বৈঠক হয় কিন্তু ফলপ্রসূ না হয় তাহলে তিনি বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসবেন। তিনি যোগ করেন, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক শক্তিচ্যুত না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চাপ অব্যাহত রাখবো। আমি যেমনটা আগেও বলেছি, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পর একটি পূর্ণ ও প্রমাণসাধ্য ও অপরিবর্তনীয় উপায়ে তাদের একটি আলোকিত পথ প্রাপ্য রয়েছে। এটা তাদের জন্য অসাধারণ হবে, এটা বিশ্বের জন্য অসাধারণ হবে। এ ছাড়া, আরো কিছু ইস্যুতে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প ও আবে। তারা উভয়ে অবাধ, ন্যায্য ও পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে। উল্লেখ্য, অন্য মিত্রদেশের ক্ষেত্রে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম এর ওপর শুল্ক আরোপ না করলেও জাপানকে ছাড় দেননি ট্রাম্প।
ফেরিওয়ালা মো: রমজান আলী তার অসুস্থ স্ত্রী মোছা: নূরজাহানকে (৪০) একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে স্বজনদের জানান, নূরজাহান অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগে আক্রান্ত। জরুরী অপারেশন করতে হবে। স্বজনরা কালবিলম্ব না করে ওই সময় তাকে ভর্তি করে। ভর্তির পরপরই নূরজাহানকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অস্ত্রপচার করেন। অপারেশন টেবিলে নূরজাহানকে রেখে দীর্ঘ আড়াই ঘন্টা অস্ত্রপচারের পর চিকিৎসক তার স্বজনদের জানান তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস নেই। টিবি হয়েছে। এদিকে অপারেশনের পর যন্ত্রনায় ছটফট করলেও নূরজাহানকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না বলে স্বজনরা অভিযোগ করেন। এ ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ডা. আজহারুল ইসলাম হাসপাতালে এ ঘটনাটি ঘটে। ফেরিওয়ালা মোঃ রমজান আলীর বাড়ি ভূয়াপুর উপজেলার নিকরাইল গ্রামে।
জানা যায়, নাগরপুর-দৌলতপুর সড়কে ফালগুনী সিনেমা হলের পাশে ২০১৭ সালের ৭ই জুলাই ডা. আজহারুল ইসলাম হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করে। অনুমোদনহীন এ হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে নিরীহ রোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন ডা. আজহারুল ইসলামের হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন নূরজাহান। তিনি জানান, পেটে প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসা নিতে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোঃ জসিমউদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। সাক্ষাত শেষে ওই চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করান। নূরজাহানের স্বামী রমজান আলী জানান, অপারেশনের জন্য ছয় হাজার টাকা চুক্তির পর দুপুর ২ টার দিকে আপারেশন টেবিলে নেয়া হয় নূরজাহানকে। প্রায় আড়াই ঘন্টাব্যাপী অপারেশনের পর সাড়ে চারটার দিকে তাদের জানানো হয় নূরজাহানের অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়নি। একই সঙ্গে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন নুরজাহানের স্বামী রমজান আলী। রমজান আলী কান্নাজড়িত কন্ঠে তার স্ত্রী নূরজাহানের সুচিকিৎসার দাবি করেন।
ডা. আজহারুল ইসলাম হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোঃ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে তার চেম্বারে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা নিরীক্ষায় অ্যাপেন্ডিসাইটিস দেখা গেছে কিন্তু অস্ত্রপচারের সময় তা পাওয়া যায়নি। এটা ভুল চিকিৎসা নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
ওই হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. হুমায়ূন কবির জানান, ল্যাবরেটরি টেষ্টের পর রিপোর্ট তৈরির দায়িত্ব আমার আর রোগ শনাক্তের দায়িত্ব চিকিৎসকের।
আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান এ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আইনের ৯ নম্বর ধারা বলে কাজ করতে পারছে না, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বলতা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নিজস্ব সাহস-শক্তি নিয়ে আগাতে পারছে না। তাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করা উচিত। সম্প্রতি দেশের সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৩ সালের সংশোধনী আইন নিয়ে আতিউর রহমান বলেন, এই আইন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্ট্যাটাসটা অনেক উপরে নিয়ে গেছে। সংশোধিত ৯ নম্বর  ধারা অনুযায়ী, সরকার বাংলাদেশ ব্যাংককে সময় সময় নির্দেশ দিতে পারবে না। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সরকার সময় সময় নির্দেশ দিতে পারতো। তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করতে পারে। সেটা নেবেন কি  নেবেন না তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব ব্যাপার। এই বেসিক কনসেপ্ট-এ গোলমাল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমার সময় আমি ওটা অনুসরণের চেষ্টা করেছি। নীতির প্রশ্নে আমি অটল থেকেছি।
তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী মাঝে মাঝে লিখতেন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হলো যে, এই এই করতে হবে। আমি ওর মধ্যে লিখতাম- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশোধনী আইন ৯ নম্বর ধারা বলে, এমন নির্দেশনার কোনো সুযোগ নেই। তবে সরকার যদি সত্যি মনে করে, কোন কোন জায়গায় তাদের সহযোগিতা করা দরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক পূর্ণ সহযোগিতা করতে রাজি আছে। এবং আমি করেছিও তাই।
যেমন কৃষি ঋণ প্রদানে জোর দেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা করেছে। কারণ এতে করে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ে। খাদ্যের দাম কমে। ফলে জিনিসপত্রের দাম স্থিতিশীল থাকে। এবং এটা হয়েও ছিল। এতে করে কার লাভ? সরকারের লাভ হয়েছে। দেশ উপকৃত হয়েছে। আমার সময় ৭ বছর মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীল ছিল।
আতিউর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩টি ধর্ম থাকে। সুদ হার নিয়ন্ত্রণ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা। এই ৩টি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সুদ হার কমতে থাকে। আস্তে আস্তে মূল্যস্ফীতি কমে। আর মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকে। এই ৩টি এক সঙ্গে কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এটা খুবই কঠিন কাজ। তবে আমার সময় এটা সম্ভব হয়েছিল। দেখা গেছে, ৭ বছর এই ৩টি বিষয় স্থিতিশীল ছিল। বর্তমানে এই ৩টি জিনিসে গোলমাল হয়ে গেছে।
৯ নম্বর ধারা বলে যেটা ভালো মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটা করতে পারছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এটা দুর্বলতাই বলবো। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নিজস্ব সাহস শক্তি নিয়ে আগাতে পারছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করা উচিত। তাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। এতে কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না। ক্ষমতা যেটা আছে সেটা যেন পরিপালনের সুযোগ পায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্দেশ্যে সাবেক এই গভর্নর বলেন, যেসব ব্যাংক আইন ভঙ্গ করবে তাকে আইন পরিপালনের ব্যবস্থা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেউ না মানলে তার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অযথা সার্কুলার জারি করে পুঁজিবাজারে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির কোনো মানে হয় না। কারণ ব্যাংক ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকলে পুঁজিবাজার শান্ত থাকে। ২০১০ সালের পর পুঁজিবাজার একটা স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল বলে তিনি মনে করেন। বলা হয়ে থাকে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট। এটা কোথা থেকে এলো এই তারল্য সংকট। আমার সময় এমন কোনো খবর ছিল না।
তিনি বলেন, ব্যাংক মেলা ছিল। এখন নেই। মোবাইল ব্যাংকিং বিপ্লব হয়েছে। অথচ এটা নিয়ে অনেকেই বিরোধিতা করছে। কিন্তু বাস্তবতা এখন ভিন্ন। সব মিলিয়ে সার্বিক অর্থনীতি আগামীতে চ্যালেঞ্জে পড়বে। এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। জিনিসপত্রের দাম বাড়া শুরু করেছে। মুদ্রার বিনিময় হার বাড়বে। ইতিমধ্যেই বাড়া শুরু করেছে। সুদ হার বাড়বে। ইতিমধ্যেই দুই অঙ্কে চলে এসেছে সুদ হার। এর জন্য ক্ষুদ্র ও কৃষি ঋণে জোর দিতে হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে। জিনিসপত্রের দাম কমে আসবে। দেশ উপকৃত হবে।
পঞ্চান্ন জনের দল। তন্তর-ভাটামাথা, ধরখার গ্রামের প্রভাবশালী সবাইকে এ দলভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিজনে টাকা দিয়ে ২০/২৫ লাখ টাকার ফান্ড করেছেন। এই ফান্ড ব্যবহার হচ্ছে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পূর্বপাশে ভাটামাথা বাজার লাগোয়া সরকারি ও ব্যক্তির জায়গা দখলে।  সেখানে মার্কেট করার পরিকল্পনা তাদের। ভাটামাথা গ্রামের হাশিমপুরের মো: নূর মিয়া, ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও বাছির আহমেদ নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই দখলের। আর আড়াল থেকে সহায়তা দিচ্ছেন আখাউড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ভাটামাথা গ্রামের মুরাদ হোসেন ভূইয়া। এ নিয়ে ভাটামাথা গ্রামে বিরাজ করছে উত্তেজনা। আদালত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে খেয়াল রাখার কথা বললেও আখাউড়া থানার ওসি নির্বিকার। সড়ক বিভাগ তাদের জায়গা দখলের বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় মামলা করতে গেলেও থানার ওসি মোশাররফ হোসেন তরফদার মামলাটি ফিরিয়ে দেন। ওই ইউনিয়নের ধরখার এলাকায় থাকা ফাঁড়ির পুলিশও নিরব। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন- যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধতে পারে এ ঘটনায়। গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে মাটি ভরাট কাজ।
সরজমিন দেখা গেছে, মহাসড়কের পাশে সড়ক বিভাগের ১০ শতক এবং পার্শ্ববর্তী ব্যক্তি মালিকানাধীন সাড়ে ১৫ শতক জায়গা মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে।  নিজের ট্রাক্টরে করে মাটি সরবরাহ করছেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ ইয়াকুব রহমান খোকন। খোকন জানান- জায়গাটিতে গরুর বাজার করা হবে। খাসের এই জায়গা রোডসের সঙ্গে কথা বলেই ভরাট করা হচ্ছে। তিনি শুধু মাটি সরবরাহ করছেন। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বাছির মিয়া অবশ্য জানান, বাজারে আসা-যাওয়ার জন্যে তারা একটি রাস্তা করছেন। একটি রাস্তার জন্যে অনুমান একশ’ ফুট প্রস্থে কেন মাটি ফেলা হচ্ছে- এ প্রশ্নে তার উত্তর কিছু মাটি ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। তবে সড়ক বিভাগের লিখিত অনুমতি না থাকার কথাও স্বীকার করেন বাছির। সড়ক বিভাগের পরের জায়গাটির মালিক মো: এনামুল কবির, আবদুস সালামসহ ৩০ জন। তাদের মালিকানাধীন জায়গাও মাটি ভরাট করে দখল করা হচ্ছে। আর তা অসহায় হয়ে দেখছেন জায়গার মালিকরা। ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। জায়গার মালিক মুক্তিযোদ্ধা নারায়ণ সেন, মিন্টু চন্দ্র পাল ও আবদুল মতিন মিয়া বলেন, এনিয়ে কথা বলায় আমাদের হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। থানায় গিয়ে ওসিকে তারা নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে এসেছেন। ভাটামাথা বাজার কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম জানান- ১৯৮২ সালে তন্তর মৌজার সাবেক ৪৫১ দাগের এ জায়গাটি ক্রয় করেন তারা। এরপর সেখান থেকে মাটি কেটে পার্শ্ববর্তী বাজারে মাটি ভরাট করে  দোকানভিটি করেন। পরে জলাশয় হওয়া ওই জায়গায় মাছ চাষ করতে থাকেন। এ ভাবে ৩৫ বছর ধরে তাদের ভোগদখলে থাকা জায়গাটি দখল করতে গত নভেম্বরে তৎপর হয় ভাটামাথা গ্রামের নূর মিয়া, মো. হাফিজুল ইসলাম, মো. আবদু মিয়া, মো. বাবুল মিয়া ও মো. ইয়াছিন মিয়া। তারা ড্রেজার দিয়ে মাটি ভরাট করার চেষ্টা চালায়। এরপরই ২০১৭ সালের ২৮শে নভেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে মামলা করেন জায়গার মালিকদের একজন মো. এনামুল কবির। আদালত আখাউড়া থানার ওসিকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়। ২৪শে ডিসেম্বর ধরখার ফাঁড়ির এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন সরজমিন তদন্ত করে আদালতে একটি প্রতিবেদন দেন। যাতে জায়গাটি এনামুল কবির গংয়ের দখলে রয়েছে এবং মো. নূর মিয়া গং তাদের মালিকানার স্বপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে বলা হয়। পাশাপাশি ধরখার ইউনিয়ন ভূমি অফিসও এ বিষয়ে সরজমিন তদন্ত করে এ বছরের ১১ই জানুয়ারি আদালতে একটি প্রতিবেদন দেয়। যাতে মো: বাবরু মিয়া, মো. আবরু মিয়া ও মো. আবদু মিয়ার কাছ থেকে সাড়ে ১৫ শতক ভূমি ক্রয় করে রেজিস্ট্রি দলিলমূলে আবু তাহের, আবদুস সালামসহ ৩০ জন মালিক হন বলে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে নূর মিয়া গং জায়গার অন্য ওয়ারিশদের কাছ থেকে বায়নাপত্র দলিল সূত্রে সোয়া ৬ শতক জায়গার মালিকানা দাবি করলেও তারা এ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে ভূমি অফিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তারপরও সড়ক বিভাগের জায়গার পাশাপাশি আবদুস সালামদের জায়গা মাটি ভরাট করে দখলে মত্ত নূর মিয়া ও তার লোকজন। ভাটামাথা বাজার কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন- দেশে কোনো আইন-কানুন আছে বলে মনে হয় না। তা না হলে আমাদের ৩৫ বছর আগে কেনা জায়গা এভাবে দখল করে। এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এটা আমার গ্রামের দরবার। আমি এটা মিটমাট করার চেষ্টা করছি। কিন্তু এক পক্ষ না আসায় তা সম্ভব হয়নি। তবে এর সঙ্গে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও  জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু এহতেশাম রাশেদ বলেন একজন আমাকে ফোন করে বলেছিলো তারা গ্রামে যাওয়ার রাস্তা করছে। তখন আমি বলেছি এখানে কোন মার্কেট, বাজার বা স্থাপনা হলে আমি ছাড়ব না। তিনি আরো বলেন- আমরা এ ব্যাপারে আখাউড়া থানায় মামলা দিয়েছিলাম। কিন্তু থানা মামলা নেয়নি। আখাউড়া থানার ওসি মোশাররফ হোসেন তরফদার বলেন-আইনশৃঙ্খলা যে খারাপ সেটা আমরা কয়েকদিন ধরেই দেখছি। আমরা কন্ট্রোলে রাখার চেষ্টা করছি।
‘হাই, শুভ সকাল, কেমন আছেন। আশা করি ভালো। আর যাদের মন খারাপ কিংবা একাকিত্বে ভুগছেন তাদের একটু আনন্দ দিতে আমি আমার টিম নিয়ে হাজির হয়েছি। আমার আজকের টিমে রয়েছে বেশ কিছু অসাধারণ সুন্দরী, স্মার্ট, ভদ্র, শিক্ষিত মেয়ে ও ভাবি বয়সের...। যাদের দেখে আপনি হবেন মুগ্ধ। আপনাকে কিছু সময়ের মধ্যে সুখের সাগরে ভাসাবে।... কল দিয়ে চলে আসুন গুলশানে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, কোলাহলমুক্ত পরিবেশ।’
সূত্রে জানা গেছে, এভাবেই অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে এসকর্ট সার্ভিস দেয়া হয়। এই এসকর্ট প্রোভাইডারদের মধ্যে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রয়েছে। আরো ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, এসকর্টদের মধ্যে রয়েছে, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যাললের ছাত্রী, ব্যাংকার, মডেল, প্রেজেন্টার, ডিজে। রাজধানীর গুলশান, বনানী, উত্তরা, বারিধারা এলাকায় বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাসায় অবাধে চলতো এসকর্ট সার্ভিস। নয় জন এসকর্ট প্রোভাইটারকে গ্রেপ্তারের পর জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুধু দেশে না, বিদেশেও এসকর্ট সার্ভিস দিতো এই চক্র। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়াতে যৌনকাজের জন্য পাঠানো হতো নারীদের। চক্রটি প্রাপ্ত বয়স্কদের পাশাপাশি কম বয়সী মেয়েদের যৌনকর্মে ব্যবহার করতো। এই চক্রের হোতাদের অন্যতম মাহতাব রফিক। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের এই ব্যবসায়ী দেশেব্যাপী গড়ে তুলেছে অনলাইনভিত্তিক এসকর্ট সার্ভিস।
ইন্টারন্যাশনাল সেক্স গাইডে ঢাকার যেসব তথ্য রয়েছে সেখানে পাওয়া গেছে, এই চক্রের রিকন খানের নাম। সেইসঙ্গে এসকর্ট সার্ভিস এজেন্সির ঠিকানা। তথ্যটি জানার পর তদন্ত শুরু করে সাইবার ক্রাইম ইউনিট। এই সূত্র ধরেই অনলাইনে খদ্দের সেজে রিকন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। জানানো হয়, প্রয়োজন কম বয়সী মেয়ে। রিকন খান জানায়, তাদের কাছে ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সের বেশ কয়েকজন মেয়ে রয়েছে। গত ১৫ই এপ্রিল রাতে পার্টিতে এনজয় করা যাবে তাদের সঙ্গে। নিকেতনের একটি বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে পার্টি। এ উপলক্ষে বিক্রি করা হয় টিকিট। প্রতিটি টিকিটের মূল্য আট হাজার টাকা। রাতভর অনুষ্ঠানে থাকবে ডিজে পার্টি, নুড ড্যান্স ও র‌্যাফেল ড্র। র‌্যাফেল ড্র’তে বিজয়ী পাবেন এক রাতের জন্য একজন নারী মডেল। দুটি টিকিট সংগ্রহ করে পুলিশ। এর মধ্যেই রেকি করা হয় নিকেতনের ওই গেস্ট হাউজ। কিন্তু ওই দিন পার্টিটি হয়নি। তারপরও থেমে থাকেনি পুলিশ। সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে শুরু হয় অভিযান। খদ্দের হিসেবে যোগাযোগ করা হয় ‘পাশা ভাই’ নামে এই চক্রের এসকর্ট প্রোভাইটারের সঙ্গে। তার কথামতো গুলশানের ১১৩ নম্বর সড়কে গেলে সাক্ষাত হয় তার সঙ্গে। সেখানেই গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। তারপর তার দেয়া তথ্যমতে নিকেতন, উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক দিনে গ্রেপ্তার করা হয় নয় জনকে। গতকাল ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসকর্ট প্রোভাইটারদের হোতা মাহতাব রফিক চট্টগ্রামে লালাপাড়ার বাসিন্দা। লন্ডনের কিংস্টোন ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল বিভাগে লেখাপড়া করেছে সে। ক্রিসমাস নামে চট্টগ্রামে তার একটি পোশাক কারখানা রয়েছে। এসকর্ট সার্ভিসের সাইটগুলোর এডমিন হচ্ছে মাহতাব রফিক। এই চক্রের প্রত্যেকের ছদ্ম নামে ফেসবুকে রয়েছে বিভিন্ন আইডি, পেইজ। এগুলো থেকে মূলত এসকর্ট সার্ভিসের প্রচারণা চালানো হতো। তারা এসকর্ট এজেন্সির নামে বিশেষ অ্যাপস তৈরি করেছিল। বিশ্বস্ত খদ্দের ও নিজেদের মধ্যে এই অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হতো।
তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের বায়োটাডা পাওয়া গেছে। এসব মেয়েরা এসকর্ট হিসেবে সার্ভিস দিতে তাদের কাছে ছবিসহ বায়োডাটা জমা দিতো। এই ছবিগুলো মুখ ঢেকে প্রকাশ করা হতো অনলাইনে। স্বল্প বসনা এসব ছবিতে সহজেই আকৃষ্ট হন খদ্দেররা। এসকর্ট সার্ভিসের জন্য ইউটিওব চ্যানেল ও ফেসবুকে নানা ধরনের বিজ্ঞাপন দিতো এই চক্র। যেখানে হাই প্রোফাইল এসকর্ট, মিডিল ক্লাস ও রিজিনেবল এসকর্ট, স্পা সার্ভিসের কথা উল্লেখ রয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, বিভিন্ন পর্যায়ের পরিচিত মুখ যেমন এসকর্ট হিসেবে সার্ভিস দিয়ে থাকে তেমনি তাদের এজেন্সির সেবা নিয়ে থাকেন দেশের অনেক পরিচিত মুখ। মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের তথ্য দিয়েছে চক্রটি। যারা এই এসকর্ট সার্ভিসের সঙ্গে জড়িত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা ছদ্মনাম ব্যবহার করে।
এ বিষয়ে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উপ-কমিশনার আলিমুজ্জামান বলেন, একাধিক অভিযোগে  ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। দেশে-বিদেশে এই চক্রটি এসকর্ট সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছিল। তারা নানাভাবে অল্প বয়সী মেয়েদের বিপথগামী করছিল।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে- চট্টগ্রামের মাহতাব রফিক, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মাহবুব, জামালপুরের আসিফ হাসান তুষার, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোস্তাফা মোশাররফ, চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের কাদের নেওয়াজ, চুয়াডাংগার আলমডাঙ্গার রেজয়ানুল হায়দার, বাগেরহাটের সৈয়দ বিপ্লব হাসান, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার নুরুন নাহার নুরী, রাজশাহী নয়ন নূর রহমান, সিরাজগঞ্জের আবদুল হাকিম, ঢাকা মোহাম্মদপুরের মোর্শেদুল আলম, নওগাঁর মাহফুজুল আলম প্রমুখ।
চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার এলাকায় বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষকে মারধর নিয়ে সমালোচনার রেশ না কাটতেই এবার এক কোচিং সেন্টারের মালিককে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সমপাদক নুরুল আজিম রনির বিরুদ্ধে। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকার ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের মালিক মোহাম্মদ রাশেদ মিয়া নগরীর পাঁচলাইশ থানায় এই বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনি ও তার বন্ধু নোমানের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত সাত-আটজনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে, এ মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনার মুখে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন রনি।
ওদিকে, লিখিত অভিযোগে রাশেদ জানান, গত প্রায় আট বছর যাবৎ তিনি ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের জিইসি মোড় শাখার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনি ও তার অনুসারীরা তার প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করতো এবং চাঁদা নিতো। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি রনি ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের অফিসে এসে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় রাশেদ এতগুলো টাকা কোথা থেকে দেবে বলতেই নুরুল আজিম রনি তাকে মারধর শুরু করেন।
ইউনিএইড কোচিং সেন্টার অফিসের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়াকে আঙ্গুল তুলে শাসাতে ও পরে টেবিল চাপড়াতে দেখা যায় নগর ছাত্রলীগ সাধারণ সমপাদক নুরুল আজিম রনিকে। এর একপর্যায়ে রাশেদের গালে থাপ্পড় মারতে দেখা যায় রনিকে। পরে চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করে বারবার রাশেদের গালে থাপ্পড় মারতে থাকেন রনি। এর মধ্যে মাঝে মধ্যে চলতে থাকে তার শাসন। এভাবে প্রায় আড়াই মিনিট চলার পর রুম ছেড়ে বেরিয়ে যান রনি। কয়েক মুহূর্ত পর আবারো ফিরে এসে তর্কে জড়ান রনি। পরে দীর্ঘ সময় কারো সঙ্গে ফোনালাপে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। পুরো ঘটনায় রাশেদকে করজোড়ে চেয়ারে বসে থাকতে দেখা গেছে।
ঘটনার শেষ এখানেই নয়, মারধরের এ ঘটনার প্রায় দুইমাস পর আবারো রনির নির্মমভাবে মারধরের শিকার হন রাশেদ মিয়া। গত ১৩ই এপ্রিল সুগন্ধার বাসা থেকে মুরাদপুর যাওয়ার পথে মোহাম্মদপুর মাজার এলাকায় আবারো রনি ও তার সঙ্গীদের আক্রমণের শিকার হন রাশেদ।
সেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে এজাহারে তিনি লিখেছেন, আসামিগণ আমাকে একা পেয়ে টানাহেঁচড়া করে মুরাদপুর বুড়িপুকুর পাড় এলাকায় নিয়ে যায়। এসময় তারা আগের মতোই ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি বলি, এতগুলো টাকা আমি কেমনে দেব? সঙ্গে সঙ্গে ক্ষিপ্ত হয়ে নুরুল আজিম রনি অফিসে থাকা হকিস্টিক দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করলে আমি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি আমার বাম কানে লাগে। মারাত্মকভাবে জখমপ্রাপ্ত হয়ে আমার বামকানের শ্রবণশক্তি এখন পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
এরপর ২ নম্বর আসামি হকিস্টিক দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। এসময় রনি আমাকে ২০ লাখ টাকা না পেলে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ পর্যায়ে অনেক বুঝিয়ে বাসা থেকে ৪০ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলি। এসময় ১ নম্বর আসামি বাকি টাকা না দেয়া পর্যন্ত আমার এবং আমার স্ত্রীর পাসপোর্ট জমা দিতে বলে। পরে রনির এক সহযোগী আমাকে সুগন্ধার বাসায় নিয়ে আসে। এসময় বাসায় ৩৫ হাজার টাকা পাই এবং সঙ্গে সঙ্গে তা হামলাকারীদের হাতে তুলে দেই। সেই সঙ্গে রনির কথা মেনে আমার এবং আমার স্ত্রীর পাসপোর্টও দেই। পরে তারা আমাকে মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রাম কলেজের গেটে ফেলে দিয়ে চলে যায়।
একাধিক সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময় রনি ইউনিএইড কোচিং সেন্টারে তার মালিকানা আছে বলে দাবি করতেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ার পরেও এ কোচিং সেন্টারকে রনি নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়াকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে নুরুল আজিম রনি বলেন, রাশেদ মিয়া আমার পার্টনার। কোচিং সেন্টারে আমার শেয়ার আছে। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি ব্যবসায়িক হিসাব দিচ্ছিলেন না। আমার কাছ থেকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছিলেন না। এসব বিষয়ে তার সঙ্গে আমার দূরত্ব হয়। তার কাছ থেকে কোনোরকম চাঁদা দাবি করা হয়নি।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, একটি কোচিং সেন্টারের মালিককে মারধরের বিষয়ে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে কিছু ছবি এবং একটি ভিডিও ফুটেজ আমরা পেয়েছি। যাচাই-বাছাই করে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।
লন্ডনে হামলার শিকার হয়েছেন ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। বুধবার স্থানীয় সময় বিকালে ওয়েস্টমিনস্টারের দ্বিতীয় কুইন এলিজাবেথ কনফারেন্স সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে বিক্ষোভ করা বিএনপি নেতাকর্মীরা  জয়ের ওপর চড়াও হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে খবর প্রকাশ। এ ছাড়া হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। লন্ডন বিএনপি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছে, তাদের দলের নেতাকর্মীরাই প্রতিমন্ত্রীকে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদে সরিয়ে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে তিনটা থেকে দ্বিতীয় কুইন এলিজাবেথ কনফারেন্স সেন্টারে সরকারপ্রধানদের বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কনফারেন্স সেন্টারের বাইরে বিক্ষোভ করছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা। পাশেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন যুক্তরাজ্য শাখা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় বিএনপির বিক্ষোভের পাশ দিয়ে হেঁটে সম্মেলন স্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির বিক্ষোভ থেকে তার উদ্দেশে কটু মন্তব্য করা হয়। একপর্যায়ে উপমন্ত্রীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন কয়েকজন। এ সময় আরিফ খান দৌড়ে পাশের বারক্লেস ব্যাংকের সামনে আশ্রয় খোঁজেন। হামলাকারীরাও তার পিছু নেন। পরে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তাকে রক্ষা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বারক্লেস ব্যাংকের সামনে উপমন্ত্রীকে ঘিরে রেখে হামলা থেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন বিএনপির কিছু নেতাকর্মী। তাঁরা হামলাকারীদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে হামলাকারীরা উপমন্ত্রীর উদ্দেশে কটু মন্তব্য করেন। একজন দূর থেকে তার দিকে পানি ছুড়ে মারেন। এর মধ্যে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক হামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা বিক্ষোভ করার সময় আওয়ামী লীগের লোকজন আমাদের কাছে আসেন না। তিনি (আরিফ খান জয়) কেন আসলেন, আমরা বুঝলাম না। এমএ মালেক দাবি করেন, তারা উপমন্ত্রীকে রক্ষা না করলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতো। এ ঘটনায় মারুফ ও বাপ্পি নামে দুজনকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানান তিনি। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেন, বিদেশের মাটিতে বিএনপি যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তার নিন্দা জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তারা আবারও প্রমাণ করল, প্রচলিত রাজনীতির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা কেবলই সন্ত্রাসী সংগঠন। এই সমস্ত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের গণমানুষের কোনো সম্পর্ক নেই। উল্লেখ্য, কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তার এই সফরের বিরুদ্ধে প্রতিদিন বিক্ষোভ করছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা।
জার্মানিতে ‘অবৈধ’ হয়ে পড়া ১ হাজার বাংলাদেশিকে দেশে ফিরতে হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশটির উদ্যোগে দু’টি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৬৭ জনকে ঢাকায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ দু’বছরের আলোচনায় জার্মানিসহ ইউরোপের দেশে দেশে থাকা অবৈধ বা অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরানোর বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে চুক্তি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস-এসওপি) সই হয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধরা দেশে ফিরছেন। গত সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইড লাইনে সই হওয়া এসওপি মতে, স্বেচ্ছায় ফিরতে আগ্রহীদের দেশগুলোর নিজস্ব খরচে ঢাকায় পৌঁছানো হচ্ছে। এসওপি মতে জার্মানিও দু’টি ভাড়া করা বিমানে দু’দফায় মোট ৬৭ জনকে ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। একই সঙ্গে আইওএম এর মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ায় দেশটি সহায়তা করছে বলে জানান সরকারের প্রতিনিধিরা। তারা এ-ও বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১ লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন, যারা দেশগুলোতে বৈধ হওয়ার জন্য দফায় দফায় চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় তারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাদের সবাইকে দেশে ফিরতে হবে। বাংলাদেশ সরকার চাপে পড়ে কিংবা নিজে থেকেই হোক এখন অবৈধ অভিবাসনকে নিরুৎসাহিত করছে জানিয়ে সরকারের এক প্রতিনিধি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরাতে চায় সরকার। আর এতে বৈধ অভিবাসনের পথ উন্মুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, জার্মানি থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে অন্তত ৩ বছর আগে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দেশটির সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৬ সালের এক ঘোষণায় জার্মান সরকার এক লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে উদ্যোগী হয়। সেই সময়ে জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থমাস ডি মেইজার বলেন, ২০১৫-তে জার্মানিতে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসীর আগমন ঘটেছে। সেই বিবেচনায় তারা এ কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু যে পরিমাণ অবৈধ অভিবাসী জার্মানিতে রয়েছেন তার তুলনায় মাত্র ১ লাখকে বিতাড়ন, এটি মোটেও যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। জার্মান সরকারের ‘কঠোর এ অবস্থানের’ ব্যাখ্যা করে ঢাকার এক কর্মকর্তা দাবি করেন- অবৈধদের ফেরানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বরাবরই ইতিবাচক। আর এ কারণে জার্মান সরকারের ঢাকার প্রতি ততটা কঠিন হয়নি। তারা বাংলাদেশ দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করে পর্যায়ক্রমে অবৈধ বাংলাদেশিদের দেশে ফেরাতে রাজি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানে জার্মান সরকার সন্তুষ্ট এবং দেশটিতে বাংলাদেশিদের বৈধ অভিবাসনের পথ সহজ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ওই কর্মকর্তা জানান, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে জার্মান সরকারের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বৈঠকে দেশটিতে ৫০০ বাংলাদেশি থাকার কথা বলা হলেও সামপ্রতিক সময়ে বলা হচ্ছে সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। প্রায় ১০০০ জনের বৈধতা পাওয়ার আইনি লড়াইয়ের শেষ ধাপ অতিক্রান্ত হয়েছে জানিয়ে জার্মান সরকার বাংলাদেশকে আড়াইশ’ জনের একটি তালিকা দিয়েছে। এরমধ্যে থেকে ২০০ জনের ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে। তাদের যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত নোট পাওয়ার পর বার্লিনের বাংলাদেশ দূতাবাস ১৮০ জনের ট্রাভেল পাস ইস্যু করেছেন। ওই তালিকার ৩৬ জন গত ডিসেম্বরে ফিরেছেন। আর দ্বিতীয় দফায় ৩১ জনকে গত ১১ই এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ৬৯ জনকে ফেরানোর কথা থাকলেও ৩৮ জন ফের আইনি লড়াইয়ের সূযোগ চাওয়ায় তাদের সেটি নিশ্চিত করতে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, ইউরোপ থেকে ‘অবৈধ’ বাংলাদেশিদের ফেরানোর বিষয়ে গেল বছরে এতটাই চাপে ছিল ঢাকা ইইউ রীতিমতো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে এ সংক্রান্ত আইনি কাঠামো ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস বা এসওপি’র সইয়ে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। ইউরোপের ২৮ রাষ্ট্রের জোট ইইউ’র তরফে সেই সময় বলা হয়েছিল ইউরোপের দেশগুলোতে থাকা আনডকুমেন্টেড বা অবৈধ অভিবাসীদের অবশ্যই ফিরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করা হবে। ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, ইইউ’র চাপে নয়, বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থেই বিশ্বের কোথাও আন-ডকুমেন্টেড বা বৈধ ডকুমেন্টবিহীন কোনো বাংলাদেশি থাকুক- এটা চায় না। এদের বৈধকরণের প্রচেষ্টা নতুবা যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নাগরিকত্ব যাছাই করে ফেরত নিয়ে আসার বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে সম্মত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন বৈঠক সামনে রেখে নিজের স্ত্রী রি সল জুকে ‘ফার্স্টলেডির’ মর্যাদা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। দেশটির রাষ্ট্র     নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রি সল জু’কে ‘সম্মানিত ফার্স্টলেডি’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ায় গত ৪০ বছর সময়ে এই প্রথম ‘ফার্স্টলেডি’ উপাধি দেয়া হলো। এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি।
খবরে বলা হয়, প্রশাসনিক কার্যক্রমে রি সল জু’কে বিভিন্ন সময়ে কিম জং উনের পাশে দেখা গেছে। তবে গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া সফররত চীনা সেনাদের একটি অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো যুগলভাবে উপস্থিত হন কিম জং-রি সল দম্পতি। ওই অনুষ্ঠানের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদে রি সল জুকে ফার্স্টলেডি সম্বোধন করা হয়। এতে তাকে এমন বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয় যা শুধু সে দেশের নেতার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
চীনা সেনাদের ওই অনুষ্ঠানে কিম জং উনের সঙ্গে মৃদু গোলাপি রংয়ের স্কার্টের ওপর কোট পরে হাজির হন রি সল জু।  এসময় তাদের সঙ্গে কিমের ছোট বোন ইয়ো জং সহ উত্তর কোরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রি সল মূলত একজন সংগীত তারকা। তার সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা বলছেন, তার বয়স ২৯ বছর। খুবই সাধারণ পরিবারের সন্তান। তার বাবা শিক্ষক, মা ডাক্তার। কিম জং-রি সল দম্পতির ৩টি সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে কমপক্ষে একজন মেয়ে। কিমের স্ত্রী হিসেবে এতদিন প্রকাশ্যে তার ভূমিকা ছিল খুই সামান্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রি সলকে ফার্স্টলেডির মর্যাদা দিয়ে কিম উত্তর কোরিয়াকে একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে সে বিষয়টিই বুঝাতে চান কিম। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ফার্স্টলেডি কিম জং সুক ও মার্কিন ফার্স্টলেডি মেলানিয়ার মতোই উত্তর কোরিয়ার ফার্স্টলেডি হিসেবে রি সল জুকে বিশ্বের সামনে পরিচিত করতে চাইছেন।
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ও ছাত্রলীগ নেত্রীর ‘নির্যাতনের’ প্রতিবাদ করে এখন আতঙ্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের সাধারণ ছাত্রীরা। ইতিমধ্যে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ২৬ জনকে। ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত জাহান এশাকে হেনস্তার ঘটনায় ২৬ শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে জানিয়ে  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে তাদের শোকজ করা হবে। অন্যদিক যার নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় এখন তোপের মুখে পড়েছে সাধারণ ছাত্রীরা সেই ইফফাত জাহান এশাকে পুনরায় পদে বহাল করেছে ছাত্রলীগ। এখন চলছে হলে ওঠানোর তোড়জোড়।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের আন্দোলনে অংশ নেয়া সাধারণ ছাত্রীদের গত ৮ই এপ্রিল থেকেই মারধর, জুনিয়রদের সামনে সিনিয়রদের কান ধরে উঠবোস করানোসহ নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ই এপ্রিল দিবাগত রাতে কবি সুফিয়া কামাল হলের কয়েকজন সাধারণ ছাত্রীকে নিজ কক্ষে মারধর করেন এশা। এক পর্যায়ে এক ছাত্রীর চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পেরে এশার কক্ষের সামনে গিয়ে জড়ো হয় হলটির পলিটিক্যাল ও সাধারণ ছাত্রীরা। ছাত্রী নির্যাতনের দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার ওইদিন সম্মিলিত প্রতিবাদ করেন তারা।
এদিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গেলে ঘটে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। হেনস্তা করা হয় এশাকে। যেখানে মাত্রা ছাড়িয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা। অন্যদিকে এশার কক্ষে সাধারণ ছাত্রীকে মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করতে গিয়ে জানালায় লাথি দিয়ে পা কেটেছেন শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোর্শেদা খানম। গুজব রটে যায় রগ কেটেছেন এশা। যদিও পরবর্তীতে রগ কাটা নয়, জানালায় পা কেটেছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন মোর্শেদা নিজেই। হলটির একাধিক সাধারণ ছাত্রীর সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, এশার সঙ্গে পরবর্তীতে যা হয়েছে সেটি নিন্দনীয়। তাই বলে- হলে এশার দীর্ঘদিনের অপকর্মের বৈধতা দেয়ার সুযোগ নেই। ওইদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক ছাত্রী (যিনি ছাত্রলীগেরও পদধারী নেত্রী- এখন বহিষ্কৃত) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এশা হল সভাপতি হওয়ার ৬ মাস পর থেকেই হলটিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন। বিভিন্ন সময় তুচ্ছ কারণে ছাত্রীদের গায়ে হাত তুলেছেন। কারণে-অকারণে সিটে ওঠানো নামানোর কাজও করেন এশা।’ তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারাই অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের নানাভাবে জবাবদিহিতা নিতেন এশা। তিনি প্রথম থেকেই এ যৌক্তিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। আর এটি তীব্রতর হয় ৮ই এপ্রিল থেকে। নিজ কক্ষে কোটা সংস্কার আন্দোলনে যাওয়া ছাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের গালিগালাজের একটি অডিও রেকর্ড ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। সেটি নিশ্চয় আপনারা শুনেছেন। এখনো আমাদের নিয়মিত হুমকি দেয়া হচ্ছে বিভিন্নভাবে। শুনেছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।’ ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত কলা অনুষদের এক ছাত্রী বলেন, ‘ছাত্রলীগ তদন্ত কমিটি করে নাকি আমাদের বহিষ্কার করেছে, অথচ তদন্ত কমিটির কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তাহলে কিসের ভিত্তিতে এটি করেছে সেটি স্পষ্ট। এশা তার ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরেই আমাদের বহিষ্কার করিয়েছে। এখন শুনছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ২৬ জনকে চিহ্নিত করেছে, সেখানেও হয়তো আমাদের নামই থাকবে।’ হলটির তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী বলেন, ‘এশা হলে ফিরলে সাধারণ ছাত্রীদের ওপর আগের থেকে কয়েকগুণ চড়াও হবে। আমাদের নানা ধরনের হুমকিও দেয়া হচ্ছে। এখন নতুন আতঙ্ক শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ২৬ জন চিহ্নিত করা। যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।’ বহিষ্কৃত এক সহ-সভাপতি বলেন, ‘এমনি সংগঠনের পদ হারিয়েছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এক পেশে আচরণ করছে। তারা এশার আগের কর্মকে প্রকারান্তরে বৈধতা দিচ্ছে। আর আমাদের সবাইকে দোষী চিহ্নিত করছে। ভয়ে আছি কখন আবার ছাত্রত্ব বাতিল হয়।’
এদিকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হওয়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্রী শারমিন মনিরা হল ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়েও বলির পাঁঠা হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি গত ৯ই এপ্রিল রাতে হল ত্যাগ করি এবং চিকিৎসার জন্য ভারতে আছি। অবাক হলাম ছাত্রলীগ হল সভাপতিকে হেনস্তার ঘটনায় আমাকে বহিষ্কার করেছে। দেশের সবচেয়ে বড় ছাত্রসংগঠনের থেকে এ ধরনের আচরণে আমি খুবই হতাশ।’ সংগঠন থেকে বহিষ্কার হওয়ায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক খালেদা হোসাইন মুন দীর্ঘদিন ধরে হলে থাকেন না। অথচ তাকেও একই ঘটনায় স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এর প্রতিবাদ ও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছেন মুন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হলের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু সেই তদন্ত কমিটি আমার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। আমার কোনো বক্তব্যও নেয়নি। ফলে আমি দোষী না, নির্দোষ বা আমি কি দোষ করেছি তা নিয়ে অন্ধকারে রয়েছি। ঘটনায় প্রকৃত যারা দোষী আমি তাদের শাস্তি দাবি করছি। কিন্তু যে ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই সেখানে একটি অসম্পন্ন তদন্তে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে গঠনতন্ত্র বহির্ভূতভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
গতকাল হলের একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ওই ঘটনার পর থেকে অনেকে হল ছেড়েছেন। এখনো হলে ফেরেননি। সবার মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করছে। একদিকে ছাত্রলীগ নেত্রীদের, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এশার কর্মকে বৈধতা দিয়ে ২৬ জনকে চিহ্নিত করা। গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি থেকে ২৬ জনকে চিহ্নিত করা হয়, যারা এশাকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত বলে জানা গেছে। এছাড়াও এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। গতকালের শৃঙ্খলা কমিটির একটি সূত্র জানায়, হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের পক্ষে ছিলেন না বলে চিহ্নিত ২৬ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া থেকে বিরত থাকে শৃঙ্খলা কমিটি। এছাড়াও গত ১২ তারিখ হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমান হলের সাধারণ ছাত্রীদের নিয়ে এক সাধারণ সভার আয়োজন করে। যেখানে শিক্ষার্থীরা এশার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। সেই সাধারণ সভায় সুফিয়া কামাল হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ম্যাম আমরা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক হল চাই’। সেখানে কেন সিট বাণিজ্য থাকবে? কেন পলিটিক্যাল ফ্লোর এবং নন পলিটিক্যাল ফ্লোর থাকবে। আমরা এখানে সিটের আশায় উঠেছি, রাজনীতি করার জন্য উঠিনি। একজন পদত্যাগ করেছে। আরো একজন হলে আছে। তারা আমাদের সমস্যা করবে। আমাদের দায়ভার কে নিবে।’

প্রস্তাবিত ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) ছয়টি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সংগঠন এডিটরস কাউন্সিল। সম্পাদকদের আপত্তিগুলো ‘অনেকাংশই যৌক্তিক’ বলে মত দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। গতকাল আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে এডিটরস কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম আলাদাভাবে এসব তথ্য জানান। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের কিছু ধারার বিষয়ে এডিটরস কাউন্সিল আপত্তি জানিয়েছে। সেগুলো তারা আমাদের সামনে পেশ করেছে। আমাদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আলোচনা শেষে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, যে আপত্তিগুলো তুলে ধরা হলো সেগুলো অনেকাংশেই যৌক্তিক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এডিটরস কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল ও দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১, ২৫, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারায় নিজেদের আপত্তির কথা তুলে ধরেন। বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ২১, ২৫, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারায় আমাদের আপত্তি। আমরা এ ধারাগুলোকে মনে করেছি বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি। বাংলাদেশে যে স্বাধীন সাংবাদিকতা, সেটা নিয়ে আমরা খুবই গর্ববোধ করি। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে গভীরভাবে ব্যাহত করবে। এ বিষয়গুলো আমরা মন্ত্রীদের বুঝিয়েছি এবং তারা বিষয়গুলো সানন্দে গ্রহণ করেছেন। মাহফুজ আনাম বলেন, আমরা আশা করি, যে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনটি প্রণয়ন হবে, সেটা সত্যিকার অর্থে সাইবার ক্রাইমকেই প্রতিহত করবে। সাংবাদিকতার কোনো স্বাধীনতা খর্ব করবে না। আমরা এটা বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে একটা সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রয়োজন। কেননা, এখন যে ধরনের সাইবার ক্রাইম হচ্ছে, সোস্যাল মিডিয়া, অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন মিডিয়া- এগুলো আমাদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। তাই আইনটি হোক, তবে যেন সেটা সুষ্ঠু হয়; আসলেই সেটা যেন তার পারপাস সার্ভ করতে পারে। গতকাল আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকার পক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মাদ শহিদুল হক উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় এডিটরস কাউন্সিলের পক্ষে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, নিউজটুডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, নয়াদিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, নিউএজের সম্পাদক নূরুল কবীর, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক এএইচএম মোয়াজ্জেম হোসেন, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন এবং বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি এখন আইসিটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে রয়েছে। আগামী ২২শে এপ্রিল আইনটি নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় এডিটরস কাউন্সিলের প্রতিনিধিকে রাখার জন্য প্রস্তাব করা হবে। ২২শে এপ্রিলের পর যেকোনো সময়, একটা নির্ধারিত তারিখে আপত্তি বা উদ্বেগগুলো এডিটরস কাউন্সিল লিখিতভাবে স্থায়ী কমিটিকে জানাবে। তিনি বলেন, সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল অ্যাক্ট করা হয়েছিল। বাকস্বাধীনতা বা স্বাধীন সাংবাদিকতা বন্ধ করার জন্য নয়। সেই ক্ষেত্রে যদি এ আইনের মধ্যে ত্রুটি থেকে থাকে বা ?দুর্বলতা থাকে সেগুলো যেন অপসারণ করা যায় সেই আলোকে এডিটরস কাউন্সিলের সঙ্গে এ আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দুই পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করতে পারি, তাদের (এডিটরস কাউন্সিল) যে উদ্বেগ সেগুলো দূর করতে পারবো। এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটা আইন করতে চাই, যেটা শুধু গ্রহণযোগ্য নয়, যুগোপযোগী হবে। সেই ক্ষেত্রে টেলিভিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসার জন্যও সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রস্তাব দেব। আইসিটি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করে সেই ধারার বিষয়বস্তুগুলো ঘুরেফিরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাখা হয়েছে- এমন অভিযোগ ছিল সর্বমহলে। গত জানুয়ারিতে প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হওয়ার পর এটি নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আপত্তি ওঠা কিছু ধারা বাদ দেয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু গত ৯ই এপ্রিল জাতীয় সংসদে আইনটি উত্থাপনের পর দেখা যায়, তেমন কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এমনকি ‘ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তি’ বিষয়ক ৩২ ধারার মতো আরো কঠিন একটি ধারা জুড়ে দেয়া হয়েছে। সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি বিলটিতে আপত্তি জানায়। পরে সেটি চার সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।
সিটি করপোরেশনের ভোটে প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছেন মন্ত্রী এমপিরা।   নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধি সংশোধনের ফের উদ্যোগ নিয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ স্থানীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রচারণার সুযোগ চেয়ে প্রস্তাব দেয়ার পরে এক সপ্তাহের মাথায় গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশন সভায় আচরণবিধি সংশোধনের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানায়। কমিশনের আইন ও বিধি সংস্কার কমিটিকে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ইসির একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে বৈঠক শেষে বিষয়টি অস্বীকার করে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ইসি সচিব বলেন, এমপিরা অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আওতায় আছেন। এটা যদি ইউপি পৌরসভায় প্রযোজ্য হলেও সিটি করপোরেশন এলাকা বিরাট এলাকায় যদি নির্বাচন হয় যারা অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাদের বাইরে থাকতে হয়। এ বিষয়টি বিবেচনা করেই সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আলোচনাটা হয়েছে। এমপিরা কোনো অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কি না বা সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কি না- এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনাররা একটা কমিটি গঠন করেছেন কবিতা খানমের নেতৃত্বে আইন ও বিধিমালা সংস্কারে যে কমিটি আছে ওই কমিটি উনারা ইস্যুটি পর্যালোচনা করে একটা রিপোর্ট দেবেন। এরপরে বিষয়টি উনারা কমিশনে উত্থাপন করবেন। বিএনপিও কিছু প্রস্তাব দিয়েছিল। এগুলো নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না বা কমিশন সভা করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এটা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এটা নিয়ে আলোচনা হয়নি। যেহেতু আচরণবিধি সংশোধনের বিষয় আছে। কী কী সংশোধন আসতে পারে কমিটি একটি প্রস্তাব দেবে। এজন্য কমিটিকে কোনো সময় বেঁধে দেয়া হয়নি। দ্রুত সম্ভব প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। তফশিল ঘোষণার পর এই উদ্যোগ কেন? সচিব বলেন, আচরণবিধি মাঝেমধ্যে আপডেট করা লাগে। আগে দলীয় প্রতীকে হতো না, এখন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে। তখন এক ধরনের প্রেক্ষাপট, এখন আরেক ধরনের প্রেক্ষাপট। স্বাভাবিকভাবে এমপিরা এলাকায় যেতে পারেন না। এটা আপডেট করার জন্য আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের চাপে এই উদ্যোগ কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, চাপে না। যেকোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের স্টেক হোল্ডার। তাদের নিয়ে কাজ করতে হয়। তাদের নিয়ে পরামর্শ করে আলাপ-আলোচনা করে তাদের সুবিধা অসুবিধাগুলো আমরা বিবেচনা করি। আবেদন-নিবেদন করলে ইসি বিষয়গুলো বিবেচনা করে। অন্য এমপি আসতে পারবে কি না- এগুলো বিবেচনা করে কমিটি প্রতিবেদন দেবে। আইন মন্ত্রণালয়ে যেতে হয়।  বিষয়টি কমিশন ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে সচিব জানান। এই নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে কি না তা নিয়ে আলোচনা হয়নি। এটা প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে কার্যকর হতেও পারে, নাও হতে পারে। গাজীপুরের এসপির বিষয়ে বিএনপির দাবির বিষয়ে সচিব বলেন, বিএনপির অভিযোগ ঢালাও। যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না দেয়া হলে একজন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। এর আগে ২০১৫ সালে দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারের সুযোগ দেয়া না দেয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে তৎকালীন কাজী রকিবউদ্দীন কমিশন। প্রাথমিকভাবে মন্ত্রী-এমপিদের নাম উল্লেখ না করে সরকারি সুবিধাভোগীদের প্রচারের (সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বাদ দিয়ে) সুযোগ করে দিয়ে খসড়া তৈরি করে। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মধ্যে সরকারি সুবিধাভোগীদের সফর ও প্রচারণায় অংশ নেয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মন্ত্রী-এমপিদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আচরণবিধি করা হয়। এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এবার গাজীপুর ও খুলনার সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে মন্ত্রী-এমপির ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণারোপ না করার দাবি জানায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। চার সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছিলেন, সামনে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন রয়েছে। মন্ত্রী-এমপিদের চলাফেরার ওপরে যাতে নিয়ন্ত্রণ না করা হয়। যাতে স্বাভাবিক কাজে বাধা না দেয়, তা দেখতে বলেছি।