Last update
Loading...
বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সরকার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা প্রদর্শন করেছে। সন্ত্রাসী সন্দেহে অনেক মানুষকে আটক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। তবে মাঝে মধ্যেই বিরোধী রাজনীতিক ও স্থানীয় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর উগ্রতা (ভায়োলেন্স) প্রদর্শন করে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার বার্ষিক সন্ত্রাস বিষয়ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিষয়ে এসব কথা বলেছে। ২০১৬ সালে ঘটে যাওয়া ঘটনার ওপর ওই রিপোর্ট প্রণয়ন করেছে ব্যুরো অব কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড কাউন্টারিং ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘২০১৬ কান্ট্রি রিপোর্টস অন টেরোরিজম’। এতে বাংলাদেশ অংশে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হামলার দায় স্বীকার করেছে আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্ট (একিইআইএস) ও আইসিস। সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের উগ্রবাদী আদর্শ ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং বাংলাদেশ থেকে তাদের অনুসারী সংগ্রহ করছে। আইসিস ও একিউআইএসের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন অনেক প্রকাশনায়, ভিডিওতে ও ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এ রিপোর্টে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রথমেই এসেছে গুলশানে হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ। এতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে ১৮টি সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করেছে আইসিস। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ১লা জুলাই হলি আর্টিজান বেকারির হামলা। এটি একটি রেস্তরাঁ, যা কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত এবং এখানে বেশির ভাগই বিদেশিরা যাতায়াত করতেন। বাংলাদেশি ৫ হামলাকারী সেখানে বন্দুক, বিস্ফোরক ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে দু’পুলিশ কর্মকর্তা ও ২০ জিম্মিকে হত্যা করে। জিম্মিদের বেশির ভাগই ছিলেন বিদেশি নাগরিক। এরমধ্যে ৯ জন ইতালির। ৭ জন জাপানের। একজন মার্কিন। একজন ভারতীয় ও দু’জন বাংলাদেশি। যেসব মানুষ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করে নিজেকে মুসলিম প্রমাণ করতে পেরেছেন হামলাকারীরা তাদের ছেড়ে দিয়েছে। এ ছাড়া বাকি যেসব হামলা হয়েছে তার বেশির ভাগই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অথবা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর। এক্ষেত্রে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোপানো হয়েছে। ২০১৬ সালে দুটি হামলার দায় স্বীকার করেছে একিউআইএস। এরমধ্যে ৬ই এপ্রিল হত্যা করা হয় বাংলাদেশি একজন অনলাইন কর্মীকে। আর ২৫শে এপ্রিল হত্যা করা হয় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের একজন স্থানীয় কর্মী ও তার বন্ধুকে। দুটি ক্ষেত্রেই হামলাকারীরা চাপাতি ব্যবহার করেছে। সারা বছর জুড়ে বাংলাদেশে ছোটখাট বেশ কিছু হামলা হয়েছে। তবে এর দায়িত্ব প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে ৭ই জুলাই শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজে হামলা। এতে দু’পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজন নিহত হন। আহত হন সাতজন। আইনপ্রয়োগ, সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে ওই রিপোর্টে বলা হয়, ২০১২ ও ২০১৩ সালে সংশোধিত ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন (এটিএ) পুরোপুরিভাবে প্রয়োগ করছে বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা। যদিও বাংলাদেশের এই আইন সন্ত্রাসীদের নিয়োগ ও তাদের সফরকে নিষিদ্ধ করা হয়নি, তবু এতে ভাষাগত কিছু বিষয় আছে, যার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ২১৭৮ (২০১৪) প্রয়োগ করতে পারে বাংলাদেশ। এটা বিদেশি সন্ত্রাসী যোদ্ধাদের হুমকি সম্বলিত বিষয়। বিদেশি সন্ত্রাসী যোদ্ধাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইনের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও বিদ্যমান আইনের অধীনে বিদেশি সন্দেহভাজন যোদ্ধাদের অথবা এমন যোদ্ধাদের সহযোগিতা দেয়ার অভিযোগে অনেককে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ। সীমান্ত, স্থলভাগ, জলভাগ ও বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আরো শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণে সহযোগী করেছে বাংলাদেশ। সীমান্ত, স্থলভাগ, জলভাত ও বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরো শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘকেও সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে মনোযোগ দিয়েছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক নিরাপত্তায়। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কার্গো শিপমেন্ট ২৮শে জুন বাতিল করে জার্মানি। এর মাধ্যমে তারা বৃটেন ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে একই দলভুক্ত হয়। ইন্টারপোলের সঙ্গে আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু তাতে নিখুঁত কোনো সন্ত্রাসী ওয়াচলিস্ট দেয়া হয়নি। যাত্রী সংক্রান্ত উন্নতমানের তথ্য ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশে। তাই বাংলাদেশের সীমান্তকে আরো সুরক্ষিত করতে স্ক্রিনিং বিষয়ক অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতামূলক কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নবগঠিত সন্ত্রাসবিরোধী ও বহুজাতিক অপরাধ বিষয়ক ইউনিট (সিটিটিসিইউ) তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে। তারা জাতীয় অনুমোদন পেয়েছে আগস্টে। ১৯-২০ শে ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ আহসানউল্লাহ বাংলা টিমের সন্দেহভাজন দু’জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এর মাধ্যমে বোমা তৈরির কারখানা আবিষ্কার ও তা ধ্বংস করে দেয়ার পথ তৈরি হয়। হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার পর বহু ঘেরাও দিতে বহু সংখ্যক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে হয়তো ধরেছে না হয় হত্যা করেছে আইনপ্রয়োগকারীরা। এর মধ্যে ২৬শে জুলাই ঢাকার কল্যাণপুরে পুলিশ হত্যা করেছে সন্দেহভাজন ৯ জঙ্গিকে। সেখান থেকে পুলিশ আইসিসের পক্ষে বিভিন্ন জিনিসপত্র, বিস্ফোরক ও অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে বলা হয়। নারায়ণগঞ্জে ২৭শে আগস্ট ঘেরাও অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে আইসিসের বাংলাদেশ প্রধান তামিম চৌধুরীকে হত্যা করে তারা। ১০ই সেপ্টেম্বর আজিমপুরে ও ৮ই অক্টোবর গাজীপুরে উল্লেখ করার মতো ঘেরাও অভিযান চালায় সিটিটিসিইউ ও র‌্যাব। আইসিসের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ধরতে এটা পরিচালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতামূলক কর্মসূচিতে অব্যাহতভাবে অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তারা সন্ত্রাসবিরোধী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এছাড়া আইন মন্ত্রণালয়ের বিচারিক দক্ষতার বিষয়েও প্রশিক্ষণ নিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা যোগাযোগ রয়েছে ইউএস স্পেশাল অপারেশন্স কমান্ড প্যাসিফিকের (এসওসিপিএসি)। বাংলাদেশি এমন বাহিনীর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ নেভি স্পেশাল ওয়ারফেয়ার অ্যান্ড ডাইভিং স্যালভেজ (এসডব্লিউএডিএস) ইউনিট, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফার্স্ট প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন ও বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ। বাংলাদেশে সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আর্থিক অ্যাকশন টাস্কফোর্সের মতো আঞ্চলিক একটি সংস্থা এশিয়া/প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি)-এর একটি সদস্য বাংলাদেশ। এগমন্ট গ্রুপ অব ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটস-এরও একটি সদস্য বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার বিরোধী ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টাকে বাস্তবায়ন করতে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউ। এপিজি’র ২০১৬ সালের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এএমএল/সিএফটি মানসম্মত আন্তর্জাতিক মান টেকনিক্যালি বজায় রাখছে বাংলাদেশ। তা সত্ত্বেও দেশে এক্ষেত্রে যেসব প্রবিধান রয়েছে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রয়োজন। ওই রিপোর্টে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের প্রধান উৎস হলো অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন গ্রুপ। তারা ক্ষুদ্র মাত্রায় ক্ষুদ্রঋণ পদ্ধতিতে কাজ করে থাকে। যখনই অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের অর্থায়নের ঝুঁকির মুখে পড়েছে তখনই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে দেশের আইনপ্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। অন্য সব এজেন্সি থেকে তথ্য পাওয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে বিএফআইইউকে। এর ফলে তারা উচ্চ মানসম্পন্ন বিশ্লেষণ করে। ভয়াবহ সন্ত্রাস মোকাবিলার বিষয়ে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, সন্ত্রাস মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যন্ত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকারের সংগঠনগুলো। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জন সচেতনতা সৃষ্টিতে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে কাজ করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি। ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে এজন্য যোগাযোগ রাখছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা নিচ্ছে পুলিশ। এতে সন্ত্রাসীদের আত্মসমর্পণের বিষয়ে ব্যাখ্যা করতে বলা হচ্ছে ইমামদের। এছাড়া পুলিশের রয়েছে কমিউটিনি পুলিশি ব্যবস্থা। আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। চিহ্নিত করা হচ্ছে নিখোঁজ ছাত্রদের। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের উগ্রবাদে ঝোঁকার চেষ্টা খর্ব করা হচ্ছে।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে গেরিলারা একে-৪৭কে উইকেট বানিয়ে ক্রিকেট খেলছে। এমন ‘সশস্ত্র’ ক্রিকেট খেলার ভিডিও ভাইরাল হয়ে ইন্টারনেটে বেশ আলোড়ন তুলেছে।
পাঁচ মিনিটের এ ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে একজন ক্যামেরাম্যানসহ ছয় গেরিলা একে-৪৭কে উইকেট হিসেবে বানিয়ে ক্রিকেট খেলছে। ভারত নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণ কাশ্মির থেকে এ ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমী গেরিলারা খেলার সময়েও তাদের অস্ত্র ত্যাগ করেননি বরং  তাদের পিঠে ঝুলছে আগ্নেয়াস্ত্র।
এ ছাড়া, খেলার তোড়ে গুলির বেল্টও খুলে রাখেন নি গেরিলারা; বরং ওটি যথারীতি কোমরে বাধা রয়েছে তাদের। ইউটিউবে একদিন আগে দেয়া ভিডিওটি এ পর্যন্ত ৮৭ হাজার বার দেখা হয়েছে।
মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি উপেক্ষা করার মতো নয়। দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে জাতিসংঘের তথ্য-অনুসন্ধানী (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং) মিশনকে তদন্ত করতে দেয়া উচিত। এমন মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিয়োজিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। এ খবর দিয়েছে পিটিআই।
খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশটির রাখাইন রাজ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ গত মাসে একটি কমিশন গঠন করে। কিন্তু মিয়ানমার ওই কমিশনের সদস্যদের মিয়ানমারে প্রবেশের জন্য ভিসা না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
নিকি হ্যালি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। নিহত হয়েছেন অনেকে। এছাড়া, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘শুধু জাতিগত পরিচয় বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কেউ নির্যাতন বা বৈষম্যের শিকার হবে এটা ঠিক নয়। মিয়ানমার সরকারের উচিত এই তথ্য-অনুসন্ধানী মিশনকে কাজ করার অনুমোদন দেয়া।’ তিনি আরো বলেন, ‘জাতিসংঘ মিয়ানমারে যা ঘটছে তা উপেক্ষা করে যেতে পারে না। সরকার যাতে এই ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনকে সমপূর্ণ সহযোগিতা করে সে জন্য আমাদের এক হয়ে কাজ করতে হবে। এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন যদি তদন্ত না করতে পারে, তাহলে নির্যাতিতদের আসল সংখ্যা জানা যাবে না।’
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর জেনেভা শাখার পরিচালক জন ফিশার বলেন, ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সদস্যদের ভিসার অনুমোদন না দেয়া মানে হচ্ছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হওয়া মানুষগুলোর মুখে চড় মারা। তিনি বলেন, ‘অং সাং সু চি’র সরকার কি ওইসব ক্ষুদ্র, কলঙ্কজনক দেশগুলোর মতো হতে চায় যারা মানবাধিকার পরিষদের সিদ্ধান্ত  প্রত্যাখ্যান করে? উত্তর কোরিয়া, ইরিত্রিয়া, সিরিয়া ও বুরুন্দি হচ্ছে মানবাধিকার বিরোধী দেশ। এই দেশগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে স্বাধীন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তদন্তে  বাধা দিয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিয়ানমার সরকারও কি তাই করবে?’ জাতিসংঘের ধারণামতে, গত অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চল থেকে ৯০ হাজার মানুষ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। এদের বিপুল অংশ আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী বাংলাদেশে।
স্পেনের সাবেক রাজা হুয়ান কার্লোসের প্রেমিকা ৫০০০। তাদেরকে তিনি শয্যাসঙ্গী করেছেন। এমনকি তিনি প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার ভালোবাসা পাওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন। তার সঙ্গে প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। এসব কথা ‘হুয়ান কার্লোস: দ্য কিং অব ৫০০০ লাভারস’ শীর্ষক বইয়ে লিখেছেন সামরিক ইতিহাসবেত্তা মার্টিনেজ ইংলেস। এ খবর দিয়ে সচিত্র রিপোর্ট প্রকাশ করেছে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল। স্পেনের বর্তমান রাজা ফেলিপ। তার পিতা হুয়ান কার্লোস। মার্টিনেজ ইংলেস তার বইয়ে লিখেছেন, রাজা ফেলিপের মা রাণী সোফিয়ার সঙ্গে বিয়ের পরও তার পিতা হুয়ান কার্লোস কয়েক শ’ নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। ওই বইয়ে হুয়ান কার্লোসকে সেক্স এডিক্ট হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সাবেক এই রাজার বয়স এখন ৭৯ বছর। বলাবলি আছে, তিনি যেসব নারীকে বাগে এনেছিলেন তাদের মধ্যে প্রিন্সেস ডায়ানা অন্যতম। এখন থেকে ৫ বছর আগে স্পেনের একজন লেখক লিখেছেন, হুয়ান কার্লোস ১৫০০ নারীর সঙ্গে শয্যা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু নতুন যে বইটির কথা বলা হচ্ছে তার লেখক মার্টিনেজ ইংলেস স্পেনের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত একজন পদস্থ কর্মকর্তা। তিনি হুয়ান কার্লোসের যৌন আসক্তির বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, মাত্র ৬ মাস সময়ের মধ্যে সাবেক রাজা কার্লোসের ছিল ৬২ জন প্রেমিকা। ১৯৭৬ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সময়কে তার প্রেমময় সময় বলা হয়। এ সময়ে বিছানায় তিনি ২১৫৪ জন নারীর সঙ্গ ভোগ করেছেন। ২০০৫ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যকার সময়টাকে তার জন্য ‘শীতকালীন সময়’ বলা হয়। এ সময়ে তার বয়স ছিল ৬৭ থেকে ৭৬ বছর। এ সময়ে তার প্রেমিকার সংখ্যা আস্তে আস্তে কমে আসতে থাকে। মার্টিনেজ ইংলেস লিখেছেন, এ সময়ে তিনি ১৯১ জন বিভিন্ন প্রেমিকার সঙ্গে শয্যা গ্রহণ করেছেন। তিনি যখন স্পেনের মিলিটারি একাডেমিতে ছিলেন তখন সাবেক রাকা কার্লোসের সঙ্গে ৩৩২ জন নারীর যৌন সম্পর্ক ছিল। মার্টিনেজ ইংলেস লিখেছেন, হুয়ান কার্লোসের সুপরিচিত প্রেমিকাদের যদি একটি তালিকা করা হয় তাহলে তা হয়ে উঠবে আইসবার্গের মতো বিশাল। উল্লেখ্য, এসব তথ্য প্রকাশ হওয়ায় সাবেক এ রাজার ভাবমূর্তিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ, তিনি লজ্জা পেতে জানেন না। এ নিয়ে অনেক বছর ধরে সমালোচনা আছে। ব্যাংকিং খাতে স্পেনের অর্থনীতিতে যখন ধস নামে তখনই তার জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। তিনি নিজেকে একনায়কের মতো উপস্থাপন করতেন। তিনি শিকার করতে ভালোবাসতেন। স্কি খেলতেন। প্রমোদতরী ইয়াটে করে ঘুরতে পছন্দ করতেন এবং নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ককে ভালোবাসতেন। তিনি যে নারীভোগী তা স্পেনের মাদ্রিদের রাজ পরিবারের সবার কাছে এক ওপেন সিক্রেট। একবার তিনি সুটকেস গোছাতে থাকেন। স্ত্রী সোফিকে বলেন, তিনি টোলেডোতে শিকারে যাচ্ছেন। তার সঙ্গীরা সবাই পুরুষ। সেখানে সোফিকে নিলে তিনি বিরক্ত বোধ করতে পারেন। কিন্তু রাতের মধ্যভাগে সন্তানদের নিয়ে সেখানে গিয়ে হাজির স্ত্রী সোফি। তিনি রাজা হুয়ান কার্লোসকে সারপ্রাইজ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানে দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন তার স্বামী অন্য নারীর সঙ্গে। তিনি হলেন মন্টিয়েল। এসব কিছুর পরেও তার পুরো পরিবার তাকে এ পথ থেকে সরে আসতে উৎসাহিত করে নি। মার্টিনেজ ইংলেস লিখেছেন, কার্লোসের বয়স যখন ১৬ বছর তখন তার জীবনে প্রথম প্রেমিকা আসে। ৬৬ বছর বয়সে শেষ রক্ষিতা আসেন। তিনি হলেন জার্মানিতে জন্ম নেয়া বিচ্ছেদপ্রাপ্ত কোরিনা জু সাইন-উইটজেনস্টেইন। রক্ষিতার প্রসঙ্গ যখন আসতো তখন তিনি কোনো বাছ বিচার করতেন না। মার্টিনেজ ইংলেস বলেছেন, রাজকীয় বিছানায় কার্লোস দু’ধরনের নারীকে নিতেন। তিনি ২৪ ঘণ্টাই সরবরাহ পেতেন অভিনেত্রী, তারকা, সংগীত শিল্পীদের। এর বাইরে ছিলেন বিভিন্ন সুন্দরী। তাদের আবার বেশির ভাগই বিদেশি। এসব কাজে তিনি ব্যবহার করতেন গ্রামের বাড়ি, ব্যক্তিগত এপার্টমেন্ট ও মাদ্রিদের চারপাশের হোটেলগুলো। কার্লোসের যৌন জীবনকে লেখক মার্টিনেজ ইংলেস কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথমত ১৯৫৪ সালের গ্রীষ্ম থেকে ১৯৫৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ সময়টাকে প্রাপ্তবয়স্ক সময় বলা হতো। প্রথমেই তিনি শিকার করেন ইতালির সাবেক এক রাজার কন্যা মারিয়া গাব্রিয়েলা ডি সাবোয়া’কে। এর দু’বছর পরে তিনি স্পেনের মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার পদে যোগ দেন। সেখানে তিনি পরিচিত ছিলেন ক্যাডেট হুয়ানিতো নামে। সেখানে তিনি পেয়ে যান ৩৯৪ জন প্রেমিকা। ১৯৫৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৫৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ছিলেন স্পেশাল মিলিটারি একাডেমিতে। তখন কার্লোস একজন টগবগে যুবক। এ সময়ে তিনি ২৩২ জন নারীকে শয্যাসঙ্গী করেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় পিরিয়ডে তার শিকার প্রেমিকার সংখ্যা বাড়তে থাকে। এ সময় তার প্রেমিকা ছিল ৪০৩ জন। কিন্তু পরের ৬ বছর তা কমে যেতে থাকে। কমতে কমতে তা দাঁড়ায় ৩৩৬। কেন এমনটা হয়েছে? কারণ, তখন তিনি বিয়ে করেছেন এবং তিন সন্তানের জনক হয়েছেন। এরপরেই তিনি ক্রাউন প্রিন্স হন ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত। এ সময়ে তার প্রেমিকা ছিলেন ৪৬৮ জন। ১৯৭৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছিল তার শেষ সময়। এ সময়ে তাকে ক্ষমতা থেকে নেমে যেতে হয়। এ সময়ে তার শিকার হন ২৯৫৩ জন নারী।
অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারের সঙ্গে কথা হলে টের পাই স্যার কেমন পড়েন। শুধু যে বই বা রিপোর্ট পড়েন তা নয়, দিনে একাধিক খবরের কাগজ পড়েন। প্রতিদিনই ডেইলি স্টার-এরক্রসওয়ার্ড আর প্রথম আলোর সুডোকু মিলিয়ে ফেলেন, সকালে। কখনো বাসায়, কখনো গাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে। পড়ার এই অভ্যাস তিনি নিজেই তৈরি করেছেন। সেই মধ্য পঞ্চাশে এসএসসি পরীক্ষার পর প্রতিদিনই তিনি সদ্য চালু হওয়া পাবলিক লাইব্রেরিতে (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার) সকালে চলে যেতেন, দুপুরে বাসায় খেয়ে এসে আবার লাইব্রেরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত চলত তাঁর বইপড়া। ছোটবেলা থেকে যেকোনো বিষয়ের বই পড়তেন, কোনো বাছবিচার ছিল না। সেই সময়ে পাঠ্যবইয়ের বাইরে ‘আউট বই’ পড়ার ব্যাপারে অনেক পরিবারে আপত্তি থাকলেও স্যারের বাবা তাঁকে অনেক বই এনে দিতেন। দুনিয়ার আজব কাহিনি দিয়ে স্যারের আউট বই পড়া শুরু। ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় পড়ে ফেলেছেন ‘দস্যু মোহন’ সিরিজের এক শ বই। বুয়েটে পড়ার সময় প্রতিদিন ক্লাস থেকে চলে যেতেন ব্রিটিশ কাউন্সিলে, কোনো কোনো দিন ইউএসআইএস লাইব্রেরিতে। নিউমার্কেটে সন্ধ্যায় গিয়ে নলেজ হোমে পড়ে ফেলতেন কোনো না কোনো বই! সব সময় বই পড়ার জগতে থাকার এই অভ্যাস স্যারের এখনো রয়েছে। স্যারের আপ্তবাক্য: ‘পড়ার সময় এখনই। বিষয় নিয়ে ভাবার দরকার নেই। শুধু পড়তে থাকো।’
এ শুধু জামিলুর রেজা স্যারের গল্প নয়। মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিলগেটসের কথা ভাবুন। কেমন করে তিনি জানলেন সফটওয়্যারেরই রয়েছে ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ? উত্তর দিচ্ছেন, আমি পড়েছি। কেবল পড়েছি। এবং এখনো পড়ছি। বিল গেটস কেবল পড়েন না। তাঁর ভালো লাগার বইগুলো সম্পর্কে তাঁর পাঠক-অনুসারীকে জানিয়ে দেন। তাঁর নিজের লেখালেখির ব্লগ গেটসনোটের বড় অংশই কিন্তু বই, বই আর বই। পড়ো, পড়ো এবং পড়ো।
তো, কেবল ভবিষ্যৎ জানা, জ্ঞানের আকর কিংবা সম্পদশালী হওয়ার জন্য নয়। নির্মল আনন্দ পাওয়া বা বিনোদিত হওয়ার এমন আশ্চর্য মাধ্যম আর কীই বা আছে?
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, ব্যায়াম যেমন শরীর ভালো রাখার জন্য দরকার, তেমনি বই পড়াটা হলো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অতি দরকারি। গবেষকেরা বই পড়ার গোটা বিশেক সুফল তুলে ধরেন। এর মধ্যে কয়েকটা তো খুবই দরকারি।
বই পড়ার সময় আমাদের চোখ আর মন যে কেবল কাজ করে, তা নয়; বরং কল্পনাশক্তিরও একটি চর্চা হয়। মস্তিষ্ক থাকে সচল। ফলে বই পড়া হয়ে পড়ে মানসিক উদ্দীপনার একটি নিয়ামক। গবেষণা বলছে, মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার একটা বড় উপায় হচ্ছে বইয়ের মধ্যে ডুবে যাওয়া। ঔপন্যাসিক আদ্রে জিদ যেমন বলতেন, বই দিয়ে নিজের একটা জগৎ গড়ে তুললে দরকারমতো সেখানে ডুব দেওয়া যায়। জ্ঞান কিংবা শব্দভান্ডারের বৃদ্ধি, নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানা, এসব সুফলের কথা তো আমরা সবাই জানি। তবে বই পড়লে সবচেয়ে বেশি বাড়ে বিশ্লেষণী শক্তি। বেড়ে যায় সমস্যা সমাধানের দক্ষতা। বেড়ে যায় স্বপ্ন দেখার শক্তিও।
বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে অন্যতম আলোচিত উদ্যোক্তা টেসলা ও স্পেসএক্স কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্কের কথাই ধরা যাক। এলনের বয়স যখন নয়, তখন তিনি এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (বিশ্বকোষ) সম্পূর্ণ পড়ে ফেলেছিলেন। সে সময় তিনি বিজ্ঞান কল্পকাহিনি পড়তেন দিনে গড়ে ১০ ঘণ্টা!!! কাজে যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো এত্ত এত্ত স্বপ্ন আর সেটি পূরণের শক্তি কোথা থেকে আসে? তিনি নিজে বলেন, আমি পড়ি। যখনই সুযোগ পায় তখনই পড়ি।
যত পড়া হয় তত লেখার দক্ষতা বাড়ে, নিজেকে মেলে ধরার ক্ষমতা বিকশিত হয়। বই পড়তে হয় মনোযোগ দিয়ে, কখনো কখনো কল্পনাকে ছেড়ে দিলে ফোকাস হওয়ার এক আশ্চর্য ক্ষমতা তৈরি হয় নিজের মধ্যে।
এই যে পড়ার এক জাদুকরি সুফল, সেটি কেমন করে পাওয়া যাবে? সহজ উত্তর: পড়ো, পড়ো, পড়ো।
অনেকেই বলেন, পড়ার সময় পাই না। কাজের মধ্যে ডুবে থাকি, তাই পড়তে পারি না।
আসলে এটি একটি অজুহাত। ১৬-১৮ ঘণ্টা কাজের জগতে ডুবে থাকেন এমন মানুষেরা কিন্তু পড়তে থাকেন ফাঁক পেলে। কারণ পড়াটা হয়ে পড়েছে তাঁদের প্রাত্যহিকতার অংশ।
আপনি যদি ভালো পড়ুয়া হতে চান, তাহলে ‘পড়া’কে আপনার জীবনের অংশ করে ফেলতে হবে। ঢাকাবাসীর একটা বড় অংশ কেটে যায় রাস্তায়, যানজটে। সেই সময়টা বই পড়ায় দিয়ে দিন (বুক, ফেসবুক নয়!)। এখন অনেক বই আপনি পড়তে পারবেন আপনার স্মার্টফোনে। বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ল্যাসিক এখন পাবলিক ডোমেইনে এবং এগুলোর ই-বুক পাওয়া যায় বিনা মূল্যে। ইন্টারনেট থেকে সহজে সেগুলো সংগ্রহ করা যায়। বাসায় যখন থাকবেন, তখনো কিছু কিছু পড়তে হবে। প্রতিদিন পড়ার অভ্যাস জিইয়ে রাখার একটা ভালো বুদ্ধি হলো প্রতিদিন কমপক্ষে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি পত্রিকা পড়া।
সব সময় একটা বই হাতের কাছেই রাখতে পারেন। বিল গেটসের মতো অনেকেই একসঙ্গে দু-তিনটি বই পড়তে পারেন। অনেকেই একটার পর একটা পড়েন। নতুন করে বইয়ের প্রেমে পড়তে চাইলে অবশ্য সমান্তরালে কয়েকটা বই পড়া ভালো।
বই পড়াটাকে আপনি আপনার অভ্যাসে পরিণত করার আরেকটা উপায় হলো পড়া বই নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা। একসময় এ দেশে অনেক পাঠচক্র সচল ছিল। এখন সেটি নেই বললেই চলে। বন্ধুদের সঙ্গে কিংবা পারিবারিক আড্ডায় নতুন পড়া বই নিয়ে আলাপ করতে পারেন। যে বই পড়ছেন সেটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখাও যেতে পারে। আপনার দেখাদেখি অনেকেই আপনার সঙ্গে এই আলোচনায় যুক্ত হয়ে যাবেন।
চেষ্টা করলেই বই পড়াকে আপনি আপনার প্রাত্যহিকতার একটি অংশ করে ফেলতে পারবেন। বিভিন্ন গবেষণা বলে, বই পড়ার অভ্যাস করতে সারাক্ষণ একটা বই সঙ্গে রাখতে পারেন। প্রথম দিকে দিনে দুইটা সময় বের করে রাখেন। ১০ মিনিট হলেও ওই সময় কেবল পড়ুন। সময় নিয়ে একটা তালিকা করে ফেলতে হবে যে বইগুলো আপনি পড়তে চান। এই তালিকা কখনো ফুরাবে না। কারণ, নতুন নতুন বই এই তালিকায় যুক্ত করবেন আপনি। ছোট সন্তানদের বই পড়ে শোনান। একদম নিয়মিত। সপ্তাহে কমপক্ষে তিন দিন ওদের গল্প পড়ে শোনাবেন। ওদের মধ্যে যেমন পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে, তেমনি আপনি হয়ে উঠবেন একজন ভালো পড়ুয়া। হালকা মেজাজের, কৌতুক কিংবা মজার বইও পড়ুন। সম্ভব হলে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আজ কী পড়লেন, তার একটা সারাংশ লিখে ফেলুন নোটখাতায় কিংবা ফেসবুকের পাতায়।
বিশ্বাস করুন, ঠিক ঠিক তিন মাস যদি এ নিয়ম মেনে চলেন, তাহলেই আপনি হয়ে যাবেন একজন সর্বভুক পড়ুয়া। আপনার বই পড়ার জগৎ আনন্দময় হোক।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব আজ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সমর্থকদের হামলার শিকার হয়েছেন। আজ (বৃহস্পতিবার) তিনি নেপালি কবি ভানুভক্তের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শিলিগুড়ির কাছে পানিঘাটায় গেলে সেখানে নিগ্রহ ও হামলার মুখে পড়েন।
গৌতম বাবুর অভিযোগ, পানিঘাটায় ঢুকতেই মোর্চা সমর্থকরা কুকরি নিয়ে হামলা চালায় এবং তার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখায়। বিক্ষোভকারীরা ইটবৃষ্টি শুরু করলে কোনোক্রমে তিনি ব্যাঙডুবির সেনা ছাউনিতে আশ্রয় নেন। পর্যটনমন্ত্রী এলাকা ছাড়ার পর পুলিশের একটি গাড়িতেও বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর চালায়।
মোর্চা সমর্থকদের প্রবল বাধার মুখে পড়ে শেষপর্যন্ত সরকারিভাবে পালিত হওয়া কবি ভানুভক্তের জন্মজয়ন্তী পালন অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত যেতে পারেননি গৌতম দেব। মন্ত্রীর যাত্রা পথে পাথরের বড়ো বড়ো বোল্ডার ফেলে পানিঘাটার রাস্তা অবরুদ্ধ করে রাখে মোর্চা কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় প্রায় ৬০টি গাড়ির কনভয়ে ব্যাপক পুলিশ বাহিনী থাকা সত্ত্বেও অবরোধ সরিয়ে এগোতে পারেননি মন্ত্রী। অবশেষে পানিঘাটা বাজার থেকে দু’কিলোমিটার আগে ৫ নম্বর মোড়ে রাস্তার উপর চেয়ার পেতে কবির ছবিতে ফুলের মালা দিয়ে মন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠান পালন করেন।
এদিকে, মোর্চা সমর্থকরা তিস্তা বাজারে সিকিমগামী ১০টি গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া কালিম্পঙে তামাং বোর্ডের চেয়ারম্যানের বাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। দার্জিলিঙের ধত্রেয় বনবাংলো ও কালিম্পঙের তিস্তা বন বাংলোতে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়।
গতকাল বুধবার রাতে সুকনা গ্রাম পঞ্চায়েত সংলগ্ন ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর দুর্বৃত্তরা পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরফলে কার্যালয়ের বেশকিছু আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ওই ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন মোর্চা নেতা সুরেন প্রধান। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার পক্ষ থেকে দার্জিলিংয়ে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সেখানে একমাসেরও বেশি সময় ধরে গণ আন্দোলন ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
গতকালই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দার্জিলিংয়ে খুব শিগগিরি শান্তি আসবে বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু এদিন রাত থেকেই সেখানে সহিংসতা শুরু হয়েছে।
অবশেষে মুখ খুলেছেন কবি, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহার। তার ‘অপহরণ’ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন বৃটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে। বলেছেন, কিভাবে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। ফরহাদ মজহার বলেছেন, এখনও তিনি প্রচণ্ড রকম মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। সুস্থ হতে তার অনেকটা সময় লাগবে। তার ভাষায়, তবে আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা প্রকাশ করতে আমি মোটেও ভীত নই। জোরপূর্বক নিখোঁজের পর যেসব মানুষ জীবিত ফিরে আসেন তারা পরে রহস্যজনক কারণে নীরবতা অবলম্বন করেন। যখন আমি কাজে ফিরবো তখন এ ইস্যুতে কাজ শুরু করবো। জোর করে এমন গুমের সংস্কৃতি আমাদেরকে বন্ধ করতে হবে।
বুধবার হাসপাতালের বিছানা থেকে ফরহাদ মজহার এ সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকারটি নেন গার্ডিয়ানের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক করেসপন্ডেন্ট মাইকেল সাফি। গার্ডিয়ান ফরহাদ মজহারের পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের একজন সমালোচক হিসেবে। গার্ডিয়ান লিখেছে, অপহরণের পর ঢাকায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে দেয়া এটিই তার প্রথম সাক্ষাৎকার। তিনি এর আগে দেশের বা বিদেশি কোনো মিডিয়াকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো সাক্ষাৎকার দেননি। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, অপহরণকারীরা খুব কর্কশ ভাষা ব্যবহার করেছে। আমার মোবাইল ফোন নিয়ে গিয়েছিল। আমার চোখ বেঁধে ফেলেছিল। তারপর তাদের হাঁটু দিয়ে আমাকে মিনিবাসের ফ্লোরের ওপর চেপে ধরে রেখেছিল।
বুধবার ফরহাদ মজহার বলেছেন, গত সপ্তাহে সকাল প্রায় ৫টার দিকে তার বাসার কাছের রাস্তা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। তারা কারা তা তিনি নিশ্চিত নন। তার ভাষায়, ওইদিন সকালে আমার চোখে সমস্যা দেখা দেয়। তাই আমি ওষুধ কেনার জন্য বাসা থেকে বের হই। অকস্মাৎ তিনজন মানুষ আমার পাশে এসে দাঁড়ায়। তারা আমাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে একটি সাদা মিনিবাসে তুলে নেয়। তিনি বলেন, এ সময় তিনি পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করতে সক্ষম হন এবং স্ত্রীকে ফোন করেন। ফরহাদ মজহার বলেন, (আমার স্ত্রীকে দেয়া) ওই ফোনকলটি ছিল একটি শর্ট কল। আমি তাকে শুধু বলতে পেরেছি, তারা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। তারা আমাকে হত্যা করবে। বিষয়টি অপহরণকারীরা টের পাওয়ার আগে আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি সামান্য সময়।
তিনি বলেছেন, অপহরণকারীরা তার চোখ বেঁধে ফেলে এবং তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেয়। তিনি যদি তার স্ত্রীকে আবার ফোন করেন, তিনি কোথায় আছেন পুলিশ তা ট্র্যাক করতে পারবে এটা মনে করে তিনি তাদের মুক্তিপণ দেয়ার প্রস্তাব করেন। ‘এরপরই তারা আমাকে ফোনটি দিয়ে দেয়। এ নিয়ে আমি কয়েক বার আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলি’।
‘বাসটি কয়েক ঘণ্টা চলতে থাকে। এ সময়ে তারা আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করে। মাঝে মাঝেই আমার প্রতি আজেবাজে ভাষা ছুড়ে দিতে থাকে। তারা আমাকে থাপ্পড় দেয়। প্রায় ১০ বা ১২ ঘণ্টা পরে তারা আমাকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে। এ সময় তারা আমার চোখের বাঁধন খুলে দেয়। একটি নির্জন স্থানে নামিয়ে দেয় আমাকে। তখন কিছুটা অন্ধকার হয়ে এসেছে। এরপর তারা আমাকে একটি বাসের টিকিট ধরিয়ে দেয়। আমাকে বলে ওই বাসে করে খুলনা থেকে ঢাকায় ফিরে যেতে। তখন আমি কিছুটা পথ হেঁটে আসি। খুলনায় একটি মার্কেটে পৌঁছি। রাত ৯টা ১৫ মিনিটে বাসটিতে ওঠার আগে সেখান থেকে কিছু খাবার কিনি। আমাকে যখন জিম্মি রাখা হয়েছিল তখন আমি আমার স্ত্রীকে বেশ কয়েকবার ফোন করেছি। মাইক্রোবাসটি ঢাকা ছাড়ার পর আমার এসব মোবাইল কলের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ আমার অবস্থান নির্ণয় করতে পারতো। এভাবেই আমাকে পরে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আমি বিস্মিত, মাইক্রোবাসটি খুলনায় পৌঁছানোর আগে কেন পুলিশ মাইক্রোবাসটি ইন্টারসেপ্ট করতে পারলো না।
ফরহাদ মজহার আরো বলেছেন, তাকে অপহরণের জন্য প্রকৃতপক্ষে কারা দায়ী সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। তার ভাষায়, আমার অপহরণকারীরা ছিল সাদা পোশাকে (প্লেন ক্লোথ)। তারা কারা ছিল বা কোন গ্রুপের ছিল তা আমি জানি না। ফরহাদ মজহার বলেছেন, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে সোচ্চার থাকবেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন নেতাকর্মী ও বিরোধী দলীয় নেতাদের অপহরণের যে ধারা চলছে তারই সর্বশেষ শিকার তিনি।
ফরহাদ মজহারের নিখোঁজের খবর যখন রহস্যময় হয়ে ওঠে তখন পুলিশ ঘোষণা করে, তিনি ঢাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর খুলনার কাছে একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি গত এক সপ্তাহ পুলিশি প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ঢাকাভিত্তিক মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা অধিকার-এর হিসাব মতে, গত তিন বছরে বাংলাদেশে গুম হয়েছেন প্রায় ২২৩ জন মানুষ। তার মধ্যে ১৮ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাকিদের ভাগ্যে কি ঘটেছে সে বিষয়ে কেউ মুখ খোলেনি। ৩১ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এদের পরিবারসহ অন্য গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলো ২০১৪ সালের জুলাই থেকে নীরবতা বজায় রাখছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও অধিকার-এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলো এ নিয়ে কথা বলতে শঙ্কিত। কারণ, তাদের ভয় পরিবারের অন্য সদস্যরাও একই পরিণতি ভোগ করতে পারেন।
ঢাকার পুলিশ ফরহাদ মজহারের মামলাটি তদন্ত করছে। তবে কর্মকর্তারা স্থানীয় মিডিয়াকে বলেছেন, ফরহাদ মহজারের দেয়া তথ্য নিয়ে তারা সন্দিহান। একজন কর্মকর্তা বুধবার ডেইলি স্টারকে বলেছেন, তিনি যে মাইক্রোবাসে করে খুলনা গিয়েছিলেন এমন কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি।
গত সপ্তাহে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তাতে অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার গোপনে আটক করে রেখেছে কয়েকশ’ মানুষকে। এর বেশির ভাগই মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, যারা ক্ষমতাসীন সরকারের বিরোধিতা করে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, অল্প কিছু মামলার তদন্ত করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের লোকজন অবৈধ এসব আটকের জন্য দায়ী এমন অভিযোগ আমলে নেয় না পুলিশ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এ রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেছেন, তারা যাদেরকে আটক করেন তা বৈধভাবে, আইন অনুযায়ী। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রচারণা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি এএফপিকে বলেছেন, তারা বাংলাদেশে একটি নেতিবাচক প্রচারণা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে, বাস্তবতার সঙ্গে যার কোনো মিল নেই।
‘লাভগুরু’র প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন দেশের সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনি। এত দিন বিষয়টি অপ্রকাশিত থাকলেও প্রেমিকের জন্মদিনে তা প্রকাশ করলেন এই নায়িকা। দুজনে তাঁদের রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসও পরিবর্তন করেন।
একটি এফএম রেডিওতে ‘লাভগুরু’ নামের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে নিজেকে লাভগুরু হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সাংবাদিক তামিম হাসান। এক বছর ধরে চুপিচুপি প্রেম করলেও এবার নায়িকার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশ্যে চলে আসে। সিনেমায় আসার পর থেকে ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের স্থিরচিত্র পোস্ট করে পরীমনি বেশ আলোচনায় ছিলেন। আংটিবদলের ছবি এবং প্রেম-বিয়েকেন্দ্রিক অনেক খবরই প্রকাশ পেয়েছে গণমাধ্যমে। কিন্তু কোনোটির ব্যাপারেই পরীমনি মুখ খোলেননি। এবার তিনি ফেসবুকে নিজের সম্পর্কের কথা প্রকাশ করলেন।
পরীমনির শেষ জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তাঁর প্রেমের বিষয়টি আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছে অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে প্রেমিকের জন্মদিনে নিজেই সম্পর্কের কথা প্রকাশ করলেন তিনি। তবে বিয়ে, সংসারের বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলেননি এই নায়িকা। ফেসবুকের রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসে লিখলেন, ইন আ রিলেশনশিপ উইথ...। পরীমনি তাঁর রিলেশনশিপ তথ্য বদলে ফেলার পাশাপাশি ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাসও লিখেন। ‘আজ বৃষ্টি রাতের এক বছর...’ এমন স্ট্যাটাসে ধারণা করা হচ্ছে, পরীমনি ও তামিমের প্রেমের বয়স (১২ জুলাই দিবাগত রাত) এক বছর পার করেছে।
এদিকে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলে পরীমনির ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। প্রসঙ্গত, পরীমনির প্রেমিক তামিমের সঙ্গে একাধিক মডেল ও টিভি অভিনেত্রীর প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায়।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সভায় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনকে একহাত নিলেন সংগঠনটির অন্য নেতারা। তাদের অভিযোগ, এই দু’জন এককভাবে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। এ সময় সভাস্থলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এছাড়া তাদের আরও অভিযোগ, ছাত্রলীগের কোনো কোনো নেতা বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। কোনো কোনো নেতা বিবাহিত। এমনকি অতীতে ছাত্রলীগবিরোধী অবস্থানে ছিলেন- এমন নেতারাও গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। তবে ২৬ জুলাই বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সভা সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, ৪টি এজেন্ডা নিয়ে বুধবার সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়। সভা চলে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত। সভা সূত্র জানায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সিনিয়র নেতারা সংগঠন পরিচালনায় বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরেন। অধিকাংশ সময়েই জুনিয়র নেতারা অনেক সভায় চুপ থেকেছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অসন্তুষ্ট হতে পারেন এবং এতে আগামীতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন- এমন আশঙ্কা থেকেই তারা চুপ থেকেছেন বলে জানান কেন্দ্রীয় নেতারা।
সাধারণ সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, সভায় সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সায়েম খান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চলি না। বিবাহিতদের কমিটিতে রাখা যাবে না, সেটাও নেত্রী শেখ হাসিনাকে বলে দিতে হয়। যেহেতু গঠনতন্ত্র আছে, তা সম্পূর্ণভাবে ফলো করতে হবে। আর ফলো করা না হলে বলতে হবে- গঠনতন্ত্র অবৈধ। কারণ ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই যখন কাউন্সিল হয় তখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হিসেবে আমি দুই বছর রাজনীতি করার স্বপ্ন দেখেছি। দুই বছরকে ধরেই আমি সবকিছু সাজিয়েছি। আগামী ২৬ তারিখের (জুলাই) পর কমিটি যদি অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকে, তাহলে আমাদের কোনো রূপরেখা থাকবে না। আমাদের নির্দিষ্ট করে দেয়া হোক।’
সভায় তিনি (সায়েম খান) আরও বলেন, ‘সম্মেলনের কথা এলে নির্বাচনের প্রশ্ন কেন বারবার? আর যদি আগামী নির্বাচন এই ছাত্রলীগ করে- সেটাও নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। যেহেতু জননেত্রী শেখ হাসিনার কথা আসছে তাহলে সেটা তার সামনেই স্পষ্ট হবে। তিনি যেই বার্তা দিয়েছেন তা সংবাদ সম্মেলন করে জানাতে হবে।
যদি জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমাদের দেখা করার সুযোগ না থাকে, তাহলে আমরা খোলা চিঠি লিখতে পারি। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে শুধু ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ফায়দা লোটা যাবে না।’
এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘দুই বছর ছাত্রলীগের মেয়াদের মেনে নিয়েছি। দুই বছর পরে ছাত্রলীগের নামে টাকা ওঠে। অর্থবিত্ত যা আসে ছাত্রলীগের নামে আসে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারি যারা হয়, তাদের কাছে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের ভাগ্যের আমানত থাকে। সেই আমানতের খেসারত ২৬ তারিখের পরে হতে দেব না। ছাত্রলীগের নামে যত টাকা আসে, তার ভাগ করতে হবে। ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারি যারা হয়, তাদের কেউ আগে এমন কোনো মহীয়ান লোক ছিল না যে, তাদেরকে মানুষ এমনিতে টাকা দিয়ে দেবে। মানুষ ছাত্রলীগ সভাপতি সেক্রেটারিকে দেয়। সংগঠন পরিচালনার জন্য দেয়। সংগঠনের পেছনে ব্যয় করতে হবে।’
এ সময় তিনি ছাত্রলীগ সভাপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি ৫৫ হাজার টাকা বাসা ভাড়া দেন কীভাবে? তখন সোহাগ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টাকা দেন।’ তখন সায়েম খান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টাকা দিলে সেই টাকার ভাগ তো আমারও আছে। তাহলে আমার ভাগও দিতে হবে। আমিতো বাসায় থাকতে পারি না।’ তখন সোহাগ পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সংগঠন কীভাবে চলে?’ তখন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ হয়ে অনেকেই সায়েমের কাছে জানতে চান, ‘টাকার হিসেব দেন।’ তখন সায়েম খান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল টাওয়ারের ভাগ বাটোয়ারা হইছে না?’ তখন সোহাগ বলেন, ‘কোন রাসেল টাওয়ার?’ সায়েম খান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসেল টাওয়ার।’ তখন সোহাগ বলেন, ‘আমিতো ভাগ পাই নাই।’ সায়েম খান বলেন, ‘আমিতো শুনছি।’ এ সময় সাধারণ সম্পাদক জাকির বলেন, ‘আপনি প্রমাণ দেন।’ জবাবে সায়েম খান বলেন, ‘আপনারা যদি ভাগ না পান তাহলে আমি কালকে গিয়ে ধরি, দেখবেন প্রমাণ বের হয়ে যাবে।’ এ সময় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ নিয়ে বেশ কয়েকজন জুনিয়র নেতা সভাস্থলে হট্টগোল তৈরি করেন। এ সময় সোহাগ বলেন, ‘আপনি যা তা বলতে পারেন না।’ সায়েম খান জবাবে বলেন, ‘যা তা বলি নাই। আমাকে জবাব দেন বাসা ভাড়া দেন কীভাবে?’ এ সময় জাকির বলেন, ‘আপনি আমাদের ফ্যামিলি স্ট্যাটাস জানেন? তখন তাকে বলা হয়, ‘আপনি সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগেতো হলেই থাকতেন।’ উত্তরে জাকির বলেন, ‘যা তা বলবেন না।’ সায়েম খান বলেন, ‘যা তা বলি নাই।’ এ সময় জাকির বলেন, ‘শুধু জনপ্রিয়তার জন্য কথা বললেই হয় না।’ সায়েম খান বলেন, ‘আমি জনপ্রিয়তার জন্য কিছু বলি নাই।’ তখন সোহাগ ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘আমার বাসা ভাড়া কোথা থেকে আসে, সেই হিসাব আপনাকে দেব?’ সায়েম বলেন, ‘অবশ্যই দেবেন।’ এ সময় সোহাগ দুই তিনবার বলেন, ‘আমার বাপ টাকা দেয়।’ এ সময় সোহাগের পক্ষ থেকে অনেকেই বলেন, ‘শুধু বাসা ভাড়া নিয়ে এভাবে কথা বলছেন কেন?’ তখন সায়েম বলেন, ‘এটা একটা উদাহরণ মাত্র। তাদের লাইফস্টাইলের একটা ধারণা দিলাম।’
এ সময় সাধারণ সম্পাদক জাকির বলেন, ‘কোথা থেকে টাকা আসে বলেন?’ সায়েম বলেন, ‘অনেক জায়গা থেকে টাকা আসে। ছাত্রলীগের নামে অনেকেই টাকা দেয়।’ জাকির বলেন, ‘কে কে টাকা দেয়?’ এ সময় সভাস্থলে ব্যাপক হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরে জাকির বলেন, ‘মাসে দুই লাখ ত্রিশ হাজার টাকা আমাদের নেত্রী দেয়।’ তখন সায়েম খান বলেন, ‘এই টাকার হিসাব এতদিন দেন নাই কেন? আমি এই টাকার এক টাকাও তো পাই না।’ তখন সোহাগ ক্ষিপ্ত হয়ে আবার বলেন, ‘আমার বাপের টাকা দিয়ে বাসা ভাড়া দেই।’
এরপর জাকির বলেন, ‘আমাদের কি আপনারা নেতা বানাইছেন? আমরা সারা দেশের নেতাকর্মীদের ভোটে নির্বাচিত হইছি। আমরা যদি ব্যর্থ হই, এখান থেকে আমরা বিদায় নেব। আমরা দায়িত্ব পালন করতে চাই না। আপনি যেহেতু জয়েন্ট সেক্রেটারি আমার পোস্ট আপনাকে দিতে চাই। আপনি আমাদের পার্সোনাল বিষয় নিয়ে কথা বলেন!’ সায়েম বলেন, ‘পার্সোনাল কেন? সংগঠনের জন্য যা টাকা আসে তার ভাগ চাইছি।’ তখন সোহাগকে উদ্দেশ করে সায়েম খান বলেন, ‘এভাবে করলে আমাকে বহিষ্কার করে দেন। কোনো সমস্যা নাই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারির কেবল ভবিষ্যৎ আছে, আর নেতাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই?’
এ সময় সভাস্থলজুড়ে ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। একপক্ষ আরেক পক্ষের দিকে তেড়ে যায়। সভাস্থলজুড়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এ সময় সোহাগ-জাকিরের সমর্থকদের পক্ষ থেকে দাবি তোলেন- বক্তব্য প্রত্যাহার করে সায়েম খানকে বক্তব্য দিতে হবে। এ সময় জাকির বলেন, ‘ঈদ পারপাসে কে কে টাকা দিয়েছে, তার তালিকা আমরা চাই।’ তখন সায়েম খান বলেন, ‘তমার মালিক (তমা কন্সট্রাকশন) টাকা দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিল্ডিং যারা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের টাকা দেয়।’ তখন সোহাগ বলেন, ‘আমরা তো সেই টাকা পাই নাই।’ তখন সায়েম বলেন, ‘তাহলে ছাত্রলীগের নামে কারা টাকা নেয়?’
তখন সোহাগ বলেন, ‘চব্বিশ ভোটে কিন্তু আমি নির্বাচিত সভাপতি। অতএব কথা বললে ওইভাবে বলবেন। আপনি কিন্তু নির্বাচিত না।’ তখন সায়েম খান বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনার অনুমোদিত।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগের ফান্ড সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। আমি যদি সংগঠনবিরোধী কিছু করে থাকি আমাকে বহিষ্কার করা হোক।’
এ সময় আবার হট্টগোল সৃষ্টি হয়। সায়েম খানকে কটূক্তি করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের একান্ত অনুসারীরা নানা কটূক্তি করেন। এ সময় সিনিয়র কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, তাকে কিছু বলতে হলে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বলবে। এভাবে জুনিয়রদের অপমানজনক ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলাটা শিষ্টাচারবহির্ভূত। এভাবেই অনানুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য শেষ করেন সায়েম খান।
বৈঠক সূত্র জানায়, সভায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিবাহিতদের প্রমাণ সাপেক্ষে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সহসভাপতি মেহেদী হাসান রনি বলেন, যারা অপকর্ম করে তার দায় কেন সংগঠনকে নিতে হয়? দল কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না? এ সময় সহসভাপতি আদিত্য নন্দী ছাত্রলীগ সভাপতিকে টিপ্পনি দিয়ে তার নামের শেষে ‘দ্য গ্রেট’ যুক্ত করে বক্তব্য দেন। সহসভাপতি মাকসুদ রানা মিঠু বলেন, ‘নেত্রীর সঙ্গে একটা ছবি তোলারও সুযোগ কেন দেয়া হয়নি? কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কথা বললে তিনি তো ফিরিয়ে দেবার কথা নয়।’ ঢাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লার বিরুদ্ধে মাদারীপুর ছাত্রলীগ কিভাবে মিথ্যাচার করে- এ বিষয়েও জানতে চান তিনি। এ সময় তিনি ছাত্রলীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের ছাত্রদল ও শিবির সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে সমালোচনা করেন। সিনিয়র নেতারা কথা বলার সময় যারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ নিয়ে হট্টগোল তৈরি করে তাদের অতীত রেকর্ড নিয়েও কথা বলেন তিনি।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য : উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ যুগান্তরকে বলেন, ‘সাধারণ সভায় টাকা-পয়সা নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। এখানে সবাই মন খুলে কথা বলেছে। তারা এই সভাকে স্বাগত জানিয়েছে। বিবাহিত ও সরকারি চাকরিজীবীরা পদে থাকতে পারবে না- এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমাদের পাঁচটি এজেন্ডা ছিল। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বৈঠক শুরু হয়। বিকাল পাঁচটার দিকে শেষ হয়। আমরা সেখানে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছি। তবে আর্থিক বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। এরপরও যদি কেউ এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারে, তাহলে মাথা পেত নেব। কিন্তু অযথা যাতে কেউ অভিযোগ না করে।’
১১ জুলাই ২০১৭ সকাল সাড়ে এগারটা। রামপুরা থানায় ফোন আসল ১৯৯/এ, উলন রোডস্থ ৪ তলার বাসার নীচ তলায় পরপর ৫/৬ টি গুলির ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য রামপুরা থানার ওসি, তদন্ত ও টহল টিমসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। জানতে পারেন, উক্ত বাসার মালিক হাজী এসএম আব্দুর রহমান (৮৫) তাহার লাইসেন্সকৃত রিভালবার থেকে ৫/৬ রাউন্ড ফায়ার করেছেন। তার পরিচয় তিনি এয়ার ফোর্সের অবসর প্রাপ্ত সদস্য।
ফায়ার করা একটি গুলি বাসার নীচ তলার পশ্চিম পাশে তারই ভাড়াটিয়া দ্বীপ দিপ্তি লন্ড্রী এন্ড সেলুনের মালিক নারায়ণ চন্দ্র দাস (৪৭) এর ডান কাঁধের পিছনের চামড়ায় লেগে সামান্য জখম করে।
তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশ, তার স্ত্রী ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজনসহ তাকে বিভিন্ন কৌশলে বাইরে  আসার জন্য অনুরোধ করলে তিনি দরজা বরাবর আরও ১ রাউন্ড গুলি করেন। যা দরজা ভেদ করে তার স্ত্রীর গলার পাশ দিয়ে লেগে সামান্য জখম হয়।এরপর পুলিশসহ অন্যান্যরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে। পরবর্তী সময়ে ডিএমপি’র মতিঝিল বিভাগের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে এসে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন।
আত্মীয়রা বলেন, তার তিন কন্যার মধ্যে রত্না ও ছবি আমেরিকাতে এবং রুবি ইংলান্ডে বসবাস করে। ২ ছেলের মধ্যে ১ জন শাহীন বাংলাদেশে লাইট ফ্রিজের ব্যবসা করে এবং মাসুদ অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী।
তার স্ত্রী বাসার ৩য় তলায় থাকেন এবং তিনি অনুমান ১ মাস যাবৎ একাকী নিচ তলার একটি কক্ষে থাকেন। সম্প্রতি তার আচরণে পরিবর্তন হয়েছে। সে তার স্ত্রী সন্তানকে সহ্য করতে পারছিলেন না। সে যা ইচ্ছা তাই করত। গত কিছু দিন পূর্বে সে বাসায় উকিল ডেকে উক্ত বাড়িটি তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু তার স্ত্রী দলিলে সই না করায় সে তাহার স্ত্রীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে যায়।
খবর নিয়ে আরো জানা গেল, তিনি দোকানদার নারায়ণ এর কাছ থেকে প্রতিদিন এক হাজার টাকা নিয়ে নিজের ইচ্ছা মত খাওয়া দাওয়া করত। ডায়াবেটিক রোগ থাকা সত্ত্বেও তার খাওয়ার কোন লিমিট ছিলনা। ঘটনার দিন সকাল বেলা সে নারায়ন এর কাছে ফোন করে এক হাজার টাকা চায়। নারায়ণ জানায় যে, দোকান খোলার পর টাকা দিবে। চাহিবা মাত্র টাকা না পেয়ে সে নিজের কক্ষের মধ্যে ঢুকে তার লাইসেন্স করা রিভলবার দিয়ে রুমের ভিতরেই এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে।
তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশ উদ্ধার অভিযান থেকে বিরত থাকে এবং তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। এভাবেই কেটে গেল একটা দিন।অতঃপর পরের দিন ১২ জুলাই, ১৭ বুধবার দুপুর সাড়ে বারোটায় তিনি হাতে ধারালো দা নিয়ে দরজায় কোপাতে শুরু করেন এবং চিৎকার করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি কিছুটা ক্লান্ত হয়ে ধারালো দা হাতে চেয়ারে বসে থাকলে পুলিশ রুমের পশ্চিম পাশের ফ্লাইউড আচমকা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে তাকে জাপটে ধরে তার হাত থেকে দা কেড়ে নেয় এবং তার সাথে থাকা রিভলবার টি হেফাজতে নেয়।
তার রিভলবার টি চেক করে দেখা যায় যে, রিভলবারে থাকা সবকয়টি  গুলিই ফায়ার করা হয়ে গিয়েছে। তার সাথে থাকা ব্যাগের ভিতর ৩৩ টি রিভলবারের গুলির খোসা পাওয়া যায়। উক্ত মোঃ আব্দুর রহমান কে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আহতদেরও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে রামপুরা থানা পুলিশ।
আঁচমকা ৮৫ বছরের বৃদ্ধের এমন কর্মকান্ডের ব্যাখ্যা মেলেনি এখন পর্যন্ত।
সুত্রঃ ডিএমপি নিউজ
দক্ষিণ কোরিয়ার আলোচিত গায়ক সাইয়ের ‘গ্যাংনাম স্টাইল’ গানটি গত পাঁচ  বছর ধরে ইউটিউবের শীর্ষ স্থানে ছিল। তবে এখন আর তা নেই। ‘গ্যাংনাম স্টাইল’কে টপকে আমেরিকার র‌্যাপ সিঙ্গার ওইজ খলিফা এবং চার্লি পুথের গাওয়া ‘সি ইউ অ্যাগেইন’ গানটি এখন ইউটিউবের শীর্ষ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। ইউটিউবে ‘গ্যাংনাম স্টাইল’ গানটি এ পর্যন্ত দেখা হয়েছে ২৮৯৫,৮৭,৪৬১২ বার। অপরদিকে ‘সি ইউ অ্যাগেইন’ গানটি দেখা হয়েছে ২৯০১,২৫,৮৮২৭ বার। ‘সি ইউ অ্যাগেইন’ গানটি ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস-৭ মুভিতে গাওয়া হয়েছিল। গানটি ছবিটির অভিনেতা পল ওয়াকারকে উৎসর্গ করে তৈরি করা হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, বন্যা-কবলিত দেশের ১৩ জেলার ৪৫ উপজেলায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৪ হাজার টন চাল, ১ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক বরাদ্দ ও নয়টি আইটেম-সমৃদ্ধ ১৮ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ত্রাণসামগ্রীর অভাব নেই জানিয়ে তিনি ‘বন্যা নিয়ে রাজনীতি’ না করে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন।
আজ বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বন্যা পরিস্থিতি ও সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। এসময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, গত মার্চ মাসে আগাম বন্যায় ফসলহানির কারণে এর বাইরে সিলেট অঞ্চলের জেলাসমূহে প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার পরিবারকে ভিজিএফ দেয়া হয়েছে যা চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য ও আর্থিক বরাদ্দ দেয়া হবে। একজন লোকও যাতে খাবারের কারণে কষ্ট না পায়, সেজন্য সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে জেলা প্রশাসনকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সিলেট, মৌলভীবাজার, কক্সবাজার, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। উত্তরের পানি মধ্যাঞ্চলে নেমে আসলে আরও নতুন জেলা প্লাবিত হতে পারে।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, উজানের দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও ভুটানে এবার বন্যা হয়েছে। ভাটির দেশ হিসেবে উজানের প্রভাব আমাদের ওপর পড়বে। এর আলোকে আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি ও মানুষের জন্য সহনশীল অবস্থায় রাখতে সক্ষম হয়েছি। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি জেলার বন্যা পরিস্থিতি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত বন্যা ও ত্রাণ কার্যক্রমের খোঁজখবর নিচ্ছেন। মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
মায়া বলেন, পানিবাহিত রোগ থেকে দুর্গত মানুষদের রক্ষা করতে হবে। কোন বেড়িবাঁধ যাতে নতুন করে ভাঙ্গা না যায় তার জন্য আন্তরিক চেষ্টা করতে হবে। পশুখাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বন্যা প্লাবিত এলাকার টিউবওয়েলগুলো উঁচু করে দিয়ে, পানি বিশুদ্ধকরণ টেবলেট দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি মেডিক্যাল টিমগুলোকে প্রতিদিন বন্যাকবলিত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করে সেবাকার্য চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান। মন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন প্রত্যেক জেলার ক্ষয়ক্ষতি, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম, আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষের পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ১১ জুলাই পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতির ৯০টি পর্যবেক্ষণ পয়েন্টের মধ্যে ১২টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ৫৫টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বন্যা নিয়ে রাজনীতি না করে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে আহ্বান জানাব- আসুন আমরা বন্যা প্লাবিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের মানবিক কর্তব্য পালন করি। শুক্রবার থেকে তিনি উত্তরাঞ্চলের প্রত্যেকটি বন্যা প্লাবিত জেলা সফর করে ত্রাণ বিতরণ করবেন। সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকা সফর করে বন্যাপ্লাবিত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের অনুরোধ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মায়া বলেন, সিলেট ও মৌলভীবাজারে ৩২টি আশ্রয়কেন্দ্রে এক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলেও আশ্রয়কেন্দ্র খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার বন্যা হবে ধরে নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি ছিল। প্রত্যেক জেলায় প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে। এবার ৯৮ হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট তৈরি করে রেখেছি। কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠলে যেন তাৎক্ষণিকভাবে খাবারের চিন্তা করতে না হয়।
সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত রোগে ৯ ত্রিপুরা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় অসুস্থ আরো ৩৬ শিশুকে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার থেকে বুধবার উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বারআউলিয়া পাহাড়ে অবস্থিত ত্রিপুরা পল্লীতে এঘটনা ঘটে। শিশুদের মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সরেজমিনে গেলে ত্রিপুরা গোষ্ঠীর লোকজন জানান, বুধবার সকাল ১১টার সময় চার শিশুর মৃত্যু হয়। তারা হলো হৃদয় (৮) পিতা কুম্বু, রূপালী (৩) পিতা সুমন, শিমল (২) পিতা বিমল, কসম রায় (২) পিতা শ্যাম চন্দ। অপরদিকে মঙ্গলবার প্রকাটি (৬) পিতা শান্ত কুমার ও তাকি (২) পিতা পদ্ম কুমারের মৃত্যু হয়। এছাড়া গত সোমবার তিন শিশু রুমা প্রতি (৯) পিতা পক্ষি চরন, একই পরিবারের কানা (২) ও জানিয়া (৪) পিতা সুজনের মৃত্যু হয়। তারা জানান, তিন দিনে ৯ শিশুর মৃত্যু হওয়া ছাড়াও ৩৬ শিশু হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ত্রিপার নিরাবালা জানান, গত সপ্তাহে শিশুদের জ্বর দেখা দেয়। এরপর জ্বরের সাথে কাশিও শুরু হয়। এই সপ্তাহের শুরুতে শিশুদের পুরো শরীরে ছোট ছোট বিচির মতো উঠতে থাকে। ডাক্তারের কাছে নিলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে পেট ফুলে শরীর টান টান হয়ে মুত্যুর কোলে এক একটি শিশু ঢুলে পড়ে।
৯ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা নুরুল করিম রাশেদ জানান, এটি একটি অজ্ঞাত ভাইরাসজনিত রোগ। তাদের শরীরের রক্ত পরীক্ষা করে ভাইরাস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত ৩৬ জনকে উদ্ধার করে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে গুরুতর অসুস্থ ২ জনকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, বুধবার ত্রিপুরা পল্লী থেকে অজ্ঞাত ভাইরাসে আক্রান্ত ৩৬ শিশুকে উদ্ধার মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি ঘরে তল্লাশী চালানো হচ্ছে আর কেউ আক্রান্ত আছে কিনা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লোকজন মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকার পুলিশ বলছে, কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারের অপহরণের বিষয়টি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে, কারণ অপহরণের পর আদালতে ফরহাদ মজহার যে জবানবন্দি দিয়েছেন তাদের তদন্তে সেই তথ্যের সঙ্গে তারা মিল খুঁজে পাচ্ছেন না।
অন্য দিকে মি মজহারের পরিবার বলছে, অপহরণের তদন্ত না করে পুরো বিষয়টি যেন ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা চলছে। সবমিলিয়ে পুরো বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে একপ্রকার ধোঁয়াশা।
যদিও পুলিশ জানিয়েছে, খুব তাড়াতাড়ি সব কিছুই পরিষ্কার করা হবে।
গত ৩রা জুলাই রাতে যশোর থেকে ফরহাদ মজহারকে পুলিশ উদ্ধার করে আনার পর তিনি ঢাকার আদালতে একটি জবানবন্দি দিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সেই জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন ভোরে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তোলা হয় এবং চোখ বেঁধে রাখা হয়। এরপর একটি ফেরিতে পার হচ্ছেন বলেও বুঝতে পারেন।
সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। এর মধ্যে কয়েক দফায় মুক্তিপণ চেয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে তার মোবাইল ফোন থেকে ফোনও করা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মি. মজহার।
ওই ঘটনার নয়দিন পর ঢাকার পুলিশ কমিশনার মোঃ. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, জবানবন্দিতে তিনি যেসব তথ্য উল্লেখ করেছেন, তাদের তদন্তে তার সঙ্গে অনেক কিছুই মিলছে না।
বুধবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এই অপহরণ নিয়ে অত্যন্ত রহস্য তৈরি হয়েছে।
"ফরহাদ মজহার সাহেব আদালতে ১৬৪ ধারায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটির তদন্ত করতে গিয়ে আমরা যে সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছি, কললিস্ট পেয়েছি, বস্তুগত সাক্ষ্যপ্রমাণ পেয়েছি, তার সঙ্গে ওনার বক্তব্যের কোন মিল নেই।"
তিনি আরও বলছেন, "তারপরেও বলবো, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার জন্য আমাদের আরো দুই একদিন সময় লাগবে। কারণ আমরা ইতিমধ্যে যেসব তথ্য সংগ্রহ করেছি, সেই তথ্যের বিচার বিশ্লেষণ চলছে। দুই একদিন পরেই পুলিশ মহাপরিদর্শক এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।"
খুলনায় ঢাকাগামী বাসে ওঠার আগে তিনি শহরের একটি রেস্তোঁরায় খেয়েছেন আর নিজেই টিকেট কেটেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন।
বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, মি. মজহার এ সময় একজন নারীকে মোবাইলের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও ওই নারী আদালতে একটি জবানবন্দীতে জানিয়েছেন।
আর সর্বশেষ খুলনা শহরের নিউ মার্কেটের একটি সিসি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে, ফরহাদ মজহারের মতো দেখতে একজন ব্যক্তি বিকাল পাঁচটার দিকে নিউমার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
কিন্তু সেখানে পোশাকআশাকে মিল মনে হলেও, চেহারা একেবারেই অস্পষ্ট। আর এই ভিডিওটির সত্যতাও যাচাই করে দেখা সম্ভব হয়নি।
তবে এটি সত্যি হলে, তাকে সাতটা পর্যন্ত আটকে রাখার তথ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
খুলনার সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী বলছিলেন, এই ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ কিছু তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন।
পুলিশ বলছে, তারা যেসব তথ্যপ্রমাণ পাচ্ছেন, তা এখন বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। পুরোপুরি যাচাইয়ের পর, দুই একদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
কিন্তু এসব জটিলতায় তদন্ত নিয়েই আস্থাহীনতায় ভুগছেন মি. মজহারের পরিবার।
মি. মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার বলছেন, "অপহরণ হওয়ার যেসব লক্ষণ যেমন, তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, মেরে ফেলবে, টাকার কথা বলা, এসব সারাদিন আমি যত ফোন পেয়েছি, মেসেজ পেয়েছি, সবই সাথে সাথে পুলিশকে জানিয়েছি। কারণ তারা আমার ওখানেই বসে ছিলেন।"
"ফোনটাও তারা ট্র্যাক করছিলেন। ফোনে যেহেতু তার কণ্ঠ আছে, তার মানে তিনিও সেখানে ছিলেন। তাহলে তখনি তো তাদের তাকে (ফরহাদ মজহার) পাওয়া উচিত ছিল। এখন তারা কী তদন্ত করছেন, কাদের জবানবন্দি নিচ্ছেন, তাদেরকে কি অবস্থায় কথা বলানো হচ্ছে, তা তো আমরা জানি না!"
তিনি প্রশ্ন তোলেন, "ওখানেই তো তারা তাকে ধরতে পারতো। তাহলেও তো বোঝা যেত এটা অপহরণ কি না?"
তিনি বলছেন, এখন সেই একটি ঘটনার তদন্ত না করে অন্য দিকের যেসব তথ্য নিয়ে ঘাটাঘাটি করা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে এখানে যে একটি অপহরণের অংশ আছে বা অপহরণ হয়েছে, সেই জিনিসটাকে তারা আর দেখছে না।
''বরং মনে হচ্ছে, এই অপহরণের ঘটনাটিকে অন্য দিকে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।'' তিনি বলছিলেন।
ফলে, ফরহাদ মজহার এবং পুলিশের এই ভিন্ন বক্তব্যের কারণে পুরো বিষয়টি নিয়েই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্নের।
তবে পুলিশের কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পুলিশ মহাপরিদর্শক সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছেন, সেখানেই ফরহাদ মজহারের অপহরণের পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।
সূত্রঃ বিবিসি
এক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করতে পারেন না অনেক তারকা, সেখানে এমা ওয়াটসন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন! ১১ বছর বয়সে প্রথম পা রাখেন চলচ্চিত্রজগতে। হ্যারি পটার সিনেমায় হারমাইওনি গ্রেনজার গ্র্যাঙ্গার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য দারুণ তারকাখ্যাতি তৈরি হয় তাঁর। পর্দায় হ্যারির বন্ধু হিসেবে হগওয়ার্টস স্কুল অব উইচক্র্যাফট অ্যান্ড উইজার্ডির শিক্ষার্থী হলেও এমা চলচ্চিত্রের শত ব্যস্ততার পাশাপাশি পড়াশোনার গণ্ডি পার করেছেন। শুধু তা-ই নয়, পড়াশোনার জন্য সিনেমা থেকে এক বছর বিদায়ও নিয়েছিলেন এই তারকা। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে ব্যাচেলর ডিগ্রি লাভ করেন এই তারকা। শুধু তা-ই নয়, দুই বছরের জন্য অক্সফোর্ডের ওরচেস্টার কলেজেও পড়েছেন এমা। পড়াশোনাকে আরও রঙিন করতে যোগব্যায়াম ও মেডিটেশনের ওপর তাঁর এক বছরের সার্টিফিকেট কোর্সও করা আছে।
পাকিস্তানের রাজনীতির ঘূর্ণি হাওয়ায় এখন সবার চোখ প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ভাই, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের দিকে। পানামাগেট কেলেঙ্কারিতে দৃশ্যত সুপ্রিম কোর্ট গঠিত জয়েন্ট ইনভেস্টিতেশন টিম (জেআইটি) নওয়াজ শরীফ ও তার সন্তানদের দোষী সাব্যস্ত করেছে। ফলে তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব ধরে রাখতে পারবেন কিনা তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি তাকে সুপ্রিম কোর্ট অযোগ্য ঘোষণা করে তাহলে তিনি পদ হারাবেন। তখন কে ধরবেন রাজনীতির হাল, কে হবেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী? এমন প্রশ্নে এখন চায়ের কাপে ঝড়। তবে দল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছেন, এক্ষেত্রে কা-ারি হতে পারেন শাহবাজ শরীফ। নওয়াজ শরীফকে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে তিনিই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে তার পাঞ্জাব প্রদেশে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব কে পালন করবেন সেটাও আরেকটা বড় প্রশ্ন। পাকিস্তানের অনলাইন ডন লিখেছে, জেআইটি তাদের রিপোর্ট জমা দেয়ার পর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে দলের নীতিনির্ধারণী মহলের। তাতে উপস্থিত ছিলেন শাহবাজ শরীফ। দৃশ্যত এখন পর্যন্ত জেআইটির রিপোর্টে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয় নি। ফলে বিরোধী দল ও মিডিয়ার আক্রমণ থেকে তিনি রক্ষা পেয়েছেন। ফলে পানামাগেট কেলেঙ্কারিতে যদি আদালত বিরূপ রায় দেন তাহলে শরীফ পরিবার ও তার সন্তানদের জন্য তিনি হবেন ‘অল ইমপর্টেন্ট প্লেয়ার’। এমনটাই তাকে এখন নতুন করে বলা হচ্ছে। নওয়াজ শরীফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ এর (পিএমএলএন) একজন নেতা বলেছেন, এ কারণে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছেন শাহবাজ শরীফ। এই সঙ্কটের সময়ে তিনি তার ভাইয়ের পাশে রয়েছেন। পাশাপাশি যাদেরকে খুব বেশি প্রয়োজন তাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রাখছেন। ওই সূত্রটি আরো বলেছেন, দলের ভিতরে এখন অনেক কথা বলাবলি হচ্ছে। বলা হচ্ছে, যদি নওয়াজ শরীফকে অযোগ্য ঘোষণা করে আদালত তাহলে তার পদে আসতে পারেন শাহবাজ শরীফ। তবে এমন প্রশ্নও আলোচনা হচ্ছে, তিনি যদি কেন্দ্রীয় সরকারে চলে আসেন তাহলে পিএমএলএনের ঘাঁটি পাঞ্জাবের দায়িত্ব কে নেবেন। প্রকৃতপক্ষে শাহবাজ শরীফ কখনো পাঞ্জাবকে হাতছাড়া হতে দেবেন না, যদিও তাকে কেন্দ্রে বড় পদ দেয়া হয়। অবশ্যই তিনি পাঞ্জাবকে নিরাপদ ও আয়ত্তে রাখার জন্য অনেক কিছু করতে পারেন। এক্ষেত্রে ছেলে হামজা শাহবাজকে ব্যবহার করতে পারেন। ওই সূত্রটি আরো বলেন, এখন বড় প্রশ্ন হলো, শাহবাজ শরীফকে কি অন্ধের মতো বিশ্বাস করেন পিএমএলএনের নেতারা। নওয়াজ শরীফের অনুপস্থিতিতে তারা কি তাকে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে অনুমতি দেবে। নাকি দল থেকে অন্য কাউকে বেছে নেয়া হবে। নাকি অন্য কোনো অপশন বেছে নেয়া হবে। পানামা পেপারসে অফসোর কোম্পানিতে বিনিয়োগের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর থেকেই নওয়াজ শরীফ ও তার সন্তানদের পক্ষ নেয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করছেন শাহবাজ শরীফ। জেআইটি যখন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে রাজধানী ইসলামাবাদে জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই ভবনে তখন তার সঙ্গে ছিলেন শাহবাজ ও হামজা শরীফ। কিন্তু নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়ম, ছেলে হাসান ও হোসেন শরীফকে যখন একই ভবনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সেখানে শাহবাজ বা হামজা কেউই উপস্থিত ছিলেন না। পিএমএলএনের ওই নেতা বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে জেআইটির রিপোর্টে প্রধানমন্ত্রী ও তার সন্তানদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে এখন এই সময়ে তার সামনে এসে দাঁড়াবেন না শাহবাজ ও হামজা শরীফ। তবে সুপ্রিম কোর্টে জেআইটি তাদের রিপোর্ট জমা দেয়ার পর শাহবাজ শরীফ নীরব রয়েছেন বলে যে কথা বলা হচ্ছে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন পাঞ্জাব সরকারের মুখপাত্র মালিক আহমাদ খান। তিনি বলেছেন, প্রকাশ্যে ভাইয়ের পক্ষ নিচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এমন খবর সত্য নয়। শরীফ পরিবার এ মামলায় লড়াই করছে এবং বিজয়ী হবে।
এবার খোলামেলা পোশাক পড়ে অনলাইন দুনিয়ায় ঝড় তুললেন এষা দেওল। কারণ তিনি এখন সন্তানসম্ভাবা। কয়েকদিন আগেই নিজের বেবি বাম্পের ছবি পোস্ট করেছিলেন তিনি। আর এবার নাকি এমন খোলামেলা পোশাকে ছবি পোস্ট করলেন! বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও সত্যি। সম্প্রতি একেবারেই একটি নামেমাত্র শর্টস পড়ে ছবি পোস্ট করেছেন এষা তার ইন্সটাগ্রামে। এ ছবিতে নিজের লম্বা পায়ের মাধ্যমেই যেন আবেদন ছড়াতে চেয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে ইন্সটাগ্রামে ছবিটি প্রকাশের পর এটি ভাইরাল হয়ে গেছে। এষাকে নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। কারণ সন্তান সম্ভাবা অবস্থায় এ নায়িকার এমন ছবি প্রত্যাশা করেননি কেউ। আর তাইতো বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক কমেন্ট পড়ছে এ ছবির বিপরীতে। এদিকে ছবির ক্যাপশনে এষা লিখেছেন, ‘কি গরম! মনে হচ্ছে গ্রীষ্মকাল। বৃষ্টি তোমরা মুম্বই থেকে কত দূরে আছ?
বলিউডে তার শুরুটা হয়েছিল ভাট ক্যাম্পের হাত ধরে। ‘জান্নাত টু’-এর সে সফর খুব একটা সুখকর হয়নি। এরপর আর বক্স অফিসেও সেভাবে সফলতা পাননি। ব্যতিক্রম ছিল কেবল ‘রুস্তম’। অক্ষয়ের এ ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করলেও বেশ নজর কেড়েছিলেন এষা গুপ্তা। ‘রুস্তম’-এর হাত ধরেই বি-টাউনের মাটিতে ফের জমি পেতে মরিয়া এষা। এবার আরও বোল্ড মেজাজে নিজেকে মেলে ধরতে চলেছেন বলিউড সুন্দরী। এরই প্রমাণ মিলল নায়িকার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে। যেখানে কালো রঙা অন্তর্বাস পরেই পোল ডান্সে মজেছেন  ৩১ বছরের এ অভিনেত্রী। নিচে আবার মজা করে লিখেছেন, বাঁদরের ধর্ম কতটা ভালোভাবে পালন করছেন তিনি। কেবল পোল ডান্সেই ক্ষান্ত হননি অভিনেত্রী। ইনস্টাগ্রামে আরও একটি সিজলিং ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। যাতে সাদা ও কালো অন্তর্বাস পরে পোজ দিয়েছেন নায়িকা। কেন এই ভিডিওটি তিনি পোস্ট করেছেন? সে উত্তরও ধোঁয়াশায় রেখেছেন অভিনেত্রী। শুধু ক্যাপশনে লিখেছেন ‘কামিং সুন’। সর্বশেষ এষা অভিনীত ‘কমান্ডো টু’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। কিন্তু এষার তুরুপের তাস এখন পরিচালক মিলন লুথারিয়ার ‘বাদশাহো’। যেখানে এষার পাশে থাকছে অজয় দেবগণ, ইমরান হাশমির মতো নাম। ছবির ট্রেইলারে ইলিয়ানা ডি’ক্রুজ ও সানি লিওনকে  সেন্স্যুয়াস আবতারের দেখা গেলেও এষা ধরা দিয়েছেন অ্যাকশন মুডে। তাই  বোধহয় নিজের লাস্যময়ী রূপ সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন নায়িকা। এমনই অভিমত সিনেপ্রেমীদের একাংশের।
পানামা কেলেঙ্কারির তদন্তে গঠিত যৌথ তদন্তকারী দলের রিপোর্টে পুরোমাত্রায় বিপাকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং তার পরিবার। বিশেষ করে শরিফের উত্তরসূরি হিসেবে দলে চিহ্নিত কন্যা মারিয়ম। শরিফ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের করার সুপারিশ করেছে যৌথ তদন্তকারী দল। এর জের ধরে নওয়াজ শরিফকে পদত্যাগও করতে হতে পারে বলে অনেকে মনে করছে। তিনি পদে থেকে গেলে সুপ্রিম কোর্ট তাকে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারে। ফলে মারাত্মক সঙ্কটে পড়তে পারে পাকিস্তান।
যৌথ তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো অর্ডিন্যান্স, ১৯৯৯ মোতাবেক শরিফ, তার দুই পুত্র হাসান ও হুসেন এবং কন্যা মারিয়মের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের করা যায়। আর কন্যা মারিয়মের বিরুদ্ধে তদন্তে ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য পেশ করার অতিরিক্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, মারিয়ম তদন্তকারী দলকে ভুয়া ও ভুল তথ্য দিয়েছেন। এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। এই অভিযোগ নিশ্চিতভাবেই মারিয়মের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে ফেলে দেবে। যদিও মারিয়ম মঙ্গলবার ওই রিপোর্ট নস্যাৎ করে জানিয়ে দিয়েছেন, জেআইটি রিপোর্টকে খারিজ করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টে প্রতিটি স্ববিরোধের শুধু মোকাবিলাই করা হবে না, তাকে ধ্বংস করে দেয়া হবে। জনগণের একটি পয়সাও এর সঙ্গে জড়িয়ে নেই।
রিপোর্ট পেশের পর মঙ্গলবার দলের ঘনিষ্ঠদের নিয়ে আলোচনায় বসেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। সুপ্রিম কোর্টে লড়াইয়ের কৌশল নিয়েই নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা হয়। ১৭ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি শুরু হবে। সেই মামলায় শরিফ পরিবার বিশেষ করে মারিয়মকে কীভাবে অভিযোগের হাত থেকে বাঁচানো যায়, তা নিয়ে জোরদার আলোচনা হয়েছে। সূত্রের, শরিফের দল তার পরিবারের পাশেই রয়েছে। এদিনের বৈঠকেও শরিফের নেতৃত্বে আস্থা দেখানো হয়েছে।
তবে যৌথ তদন্তকারী দলের রিপোর্ট সামনে আসার পরেই শরিফের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। গতকালই তেহরিক-ই-ইনসাফ নেতা ইমরান খান বলেছিলেন শরিফকে ইস্তফা দিতেই হবে। এদিনও দলের প্রবীণ নেতা শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেছেন, ক্ষমতায় থাকার কোনো কারণ শরিফের নেই। তার অবিলম্বে ইস্তফা দেওয়া উচিত। পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা সৈয়দ খুরশিদ শাহ বলেছেন, শরিফের বদলে অন্য কোনো ব্যক্তিকে নেতৃত্বে নিয়ে আসা উচিত পাক মুসলিম লিগ (নওয়াজ)-এর। শরিফের দল অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, ওই রিপোর্টকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে। রিপোর্টের স্ববিরোধ ও ভুলভ্রান্তি শীর্ষ আদালতে তুলে ধরা হবে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলছেন, মুসলিমরা মুসলিমদের হত্যা করুক এটা তার দেশ কখনোই চায় না।
কাতার সংকট প্রসঙ্গে বিবিসি'র হার্ডটক অনুষ্ঠানে প্রশ্নের উত্তরে মি: এরদোয়ান বলেছেন, মুসলমানদের মধ্যে পারষ্পরিক সংঘাত দেখতে-দেখতে তারা ক্লান্ত-বিরক্ত হয়ে পড়েছেন।
মি: এরদোয়ান বলেন, " ইয়েমেনে যা হচ্ছে সেটা আমরা দেখতে চাই না... ফিলিস্তিন এবং লিবিয়াতে যা ঘটছে সেটা আমরা দেখতে চাই না। সিরিয়াতে কী ঘটছে সেটা সবাই জানে। ইরাকে কী হচ্ছে সেটা সবার কাছে পরিষ্কার। এসব ঘটনার মূল্য দিতে হচ্ছে তুরস্ককে। আমরা এসব চাই না।"
সেজন্যই তুরস্ক কাতারের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কাতারের উপর অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য সৌদি আরবের নেতৃত্বে দেশগুলো যেসব শর্ত দিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কাতার থেকে তুরস্কের সেনা ঘাটি প্রত্যাহার করা।
কিন্তু সেটি না করে তুরস্ক কাতারে আরো সৈন্য পাঠিয়েছে।
কাতারকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা চলছে সেটি আরো দ্বন্দ্বে রূপ নিতে পারে কী-না?
এমন প্রশ্নে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকাকে দায়ী করেন।
মি: এরদোয়ান বলেন, "দেখুন, আপনি আমাকে এ প্রশ্ন করছেন। আপনি এ প্রশ্ন আমেরিকাকে কেন করছেন না? আপনি এ প্রশ্ন ফ্রান্সকে কেন করছেন না? আপনি এ প্রশ্ন ইংল্যান্ডকে কেন করছেন না?"
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশ কোন দ্বন্দ্বের অংশ হতে চায় না।
তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য আলোচনার উপর গুরুত্ব দিতে চায়।
সেজন্য একটি সমাধানে পৌঁছতে তুরস্ক দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছতে চায়।
ভিন্ন আরেকটি প্রশ্নের জবাবে মি: এরদোয়ান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত নাও করে তাহলে তাদের কোন সমস্যা নেই। কারণ দেশ হিসেবে তুরস্ক নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম।
মি: এরদোয়ান অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তির জন্য আলোচনার নামে সময় নষ্ট হয়েছে।
মি: এরদোয়ান বলেন," আমরা আমাদের বিশ্বের প্রতি অনুগত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি আমাদের পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয় যে তারা তুরস্ককে সেখানে অন্তর্ভুক্ত করবে না , তাহলে আমরা ভিন্ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করবো।"
ইউরোপীয় ইউনিয়ন তুরস্কের জন্য অপরিহার্য নয় বলে মন্তব্য করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।
তুরস্কের অধিকাংশ মানুষ এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত হতে চায় না বলে তিনি মনে করেন।
কারণ তুরস্কের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দৃষ্টিভঙ্গি আন্তরিক নয় বলেও মি: এরদোয়ান উল্লেখ করেন।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা
বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বৃটিশ জাহেদ চৌধুরী (২৪) সমকামী বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। দু’বছরের জানাশোনার পর তিনি বিয়ে করলেন বৃটিশ নাগরিক সিন রোগানকে (১৯)। এর মধ্য দিয়ে বৃটেনে প্রথম কোনো মুসলিম প্রকাশ্যে সমকামী সম্পর্কের স্বীকৃতি দিলেন। জীবনসঙ্গীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করলেন। জাহেদকে সিন রোগান কথা দিয়েছেন তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবেন। ওয়ালসাল রেজিস্ট্রি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এ সময় দু’জনের পরনেই ছিল বাংলাদেশী প্রচলিত রীতির বিয়ের পোশাক। বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন। এর মধ্যে ছিলেন জাহেদ চৌধুরীর মা, বোন, বড়ভাই, কাজিন। অন্যদিকে সিন রোগানের পরিবার থেকে উপস্থিত ছিলেন তার মা, দুই বোন, বড়ভাই। এ ছাড়া আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তাদের একান্ত ঘনিষ্ঠ দু’চারজনকে। বিয়ের পর এ দম্পতি হানিমুন করতে স্পেন চাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। উল্লেখ্য, জাহেদ চৌধুরীর সমকামী সম্পর্কের খবর তার পরিবার জানতে পেরে তাকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিল হজ করতে। সে হজ করে এসেছে। কিন্তু তার যৌন জীবনের আকাঙ্খা রয়েই গেছে। এ কারণে পরিবারের সদস্যরা তার ওপর ছিলেন বিরক্ত। জাহেদ নিজেকে অসহায় বোধ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বীতশ্রদ্ধ জাহেদ আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। আত্মহত্যার আগে তিনি ডারলাসটনে একটি বেঞ্চের ওপর বসে কাঁদছিলেন। এমন সময় সেখানে আগমন ঘটে সিন রোগানের। জাহেদকে কাঁদতে দেখে তিনি তাকে সান্তনা দেন। আস্তে আস্তে তাদের মধ্যে ভাব জমে ওঠে। জাহেদের বেদনার কথা বুঝতে পারেন সিন রোগান। এরপরই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা আরো বাড়তে থাকে। এ সবই দু’বছর আগের কথা। তাদের সম্পর্কের কথা জানাজানি হলে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। একবার দু’বার নয়, অনেকবার তাদেরকে এমন হুমকি দেয়া হয়েছে। তাই তারা কোনো আড়ম্বরতা ছাড়াই ওয়ালসাল রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে বিয়ে করে নিলেন। জাহেদ চৌধুরী বর। সিন রোগান কনে। বিয়ের সময় তারা মুসলিম রীতি অনুসরণ করেন। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়েছে, জাহেদ চৌধুরীর পিতামাতা বাংলাদেশী। বাসায় রয়েছে তার আরো তিন ভাইবোন। কিন্তু তাদের ছেড়ে তিনি এখন ‘স্ত্রী’ সিন রোগানকে নিয়ে সুখী হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিভাবে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে সে বিষয়ে জাহেদ চৌধুরী বলেছেন, ডারলাসটনে দু’বছর আগে একটি বেঞ্চের ওপর বসে আমি কাঁদছিলাম। এমন সময় আমার কাছে এসে দাঁড়ালো সিন রোগান। সে আমার কাছে জানতে চাইলো আমি ঠিক আছি কিনা। আমি তাকে সব বলার পর সে আমাকে আশা দিল। আমাকে বাঁচার মন্ত্রে উদ্দীপ্ত করলো। আমার সব বেদনা বুঝে নিল সে। আমি এর আগে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলাম। কখনো ফুটবল পছন্দ করতাম না। টিভিতে ফ্যাশন শো দেখতে পছন্দ করতাম। আমার মনে হতো আমি কোনো একটি বৃত্তে আটকা পড়ছি। স্কুলেও সেই একই অবস্থা। সবাই আমার থেকে দূরে থাকে। সবাই আমাকে নিয়ে নোংরা নোংরা কথা বলে। আমার ভাষা নিয়ে তিরস্কার করে। ডেইলি মেইল লিখেছে, তার যৌন আচরণ পাল্টাতে এক সময় তাকে একজন মেয়ে বন্ধু দেয়া হয়। তার সামাজিক পরিম-ল পাল্টে দেয়া হয়। তাকে মেডিকেশন দেয়া হয়। এমন কি তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয় ওমরাহ করতে। তাকে পাঠানো হয় পিতৃপুরুষের দেশ বাংলাদেশে। জাহেদ চৌধুরীর মতে, এর কিছুতেই তার স্বভাবের পরিবর্তন হয় নি। উল্টো রাস্তায় সমগোত্রের লোকজন তাকে অপমাণ করতো। তার বাসার সামনে ফেলে যেতো ময়লা আবর্জনা। ১৫ বছর ধরে স্থানীয় মসজিদে প্রবেশ করতে দেয়া হয় নি তাকে। অন্য মুসলিম বালকরা তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করতো। এমন সব অবস্থায় জাহেদ চৌধুরী আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জাহেদ চৌধুরী বলেছে, মুসলিম বালকরা আমার ওপর ভীষণভাবে হামলা চালাতো। আমাকে মসজিদ থেকে বলা হতো অমুসলিমরা ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। তাই আমি আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় সিন রোগানের সঙ্গে সাক্ষাত আমার। এক সপ্তাহের মধ্যে হাউজিং এসোসিয়েশন আমাদেরকে থাকার জন্য একটি বাড়ি দিয়েছে। তারপর থেকে আমরা দু’জনে একসঙ্গে সেখানেই অবস্থান করছি। আমি গত জুনে সিনের জন্মদিনে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব করি। জাহেদ চৌধুরী বলেছেন, তার মা সব সময়ই তাকে সমর্থন দিয়েছেন। তার ভাষায়, মা না হলে আমি আজ এখানে থাকতাম না। আমাদের দু’পরিবার এখানে একত্রিত হয়েছি। এটা আমার কাছে ভীষণ সুখকর। জাহেদ চৌধুরী বলেন, আমরা বিয়ের দিন বাংলাদেশী বিয়ের পোশাক পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি সিনকে বলেছি, বাংলাদেশে মুসলিমরা যে পোশাকে বিয়ে করেন আমরাও সেই একই পোশাক পরবো। এতে রাজি হয়ে যায় সিন। এ ছাড়া সিন রোগান ইসলাম গ্রহণ করার কথা বিবেচনা করছেন। আমি তাকে বলেছি, সে কি আমার সঙ্গে থাকবে কিনা। সে বলেছে, প্রার্থনার জন্য সে যেকোনো জায়গায় যেতে চায়।
বাংলাদেশী সন্দেহে আটক ২০৮ জন মুসলিম বালককে নিয়ে হুলস্থুল কা- ব্যাঙ্গালোর ক্যান্টনমেন্ট রেল স্টেশনে। এ জন্য তাদেরকে রেলওয়ে পুলিশ সেখানে আটকে রাখে ৫ ঘণ্টা। এ সময় দেখা দেয় ভীষণ বিশৃংখলা ও সহিংসতা। প্রকৃতপক্ষে ওই বালকগুলো বাংলাদেশী নয়। তাদের বেশির ভাগই বিহারের। এর মধ্যে রয়েছে কয়েকজন প্রাপ্ত বয়স্ক। তারা স্থানীয় সময় ১১টা ৪০ মিনিটে গুয়াহাটি এক্সেপ্রেস থেকে নামার পর আটক করা হয়। বলা হয়, তারা বাংলাদেশী। বাংলাদেশ থেকে পাচার করে তাদেরকে নেয়া হচ্ছে কেরালায়। এমন গুজবে তাদেরকে আটকে রাখা হয় বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এতে বলা হয়, পরে দেখা যায় ওই বালকদের বয়স ৯ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। তারা মাদ্রাসা ছাত্র। বার্ষিক ছুটি শেষে তারা কর্নাটকের বিভিন্ন মাদ্রাসায় ফিরে যাচ্ছিল। এ নিয়ে ব্যাঙ্গালোর রেলস্টেশনের এক নম্বর প্লাটফরমে সারাদিনই উচ্চ মাত্রার নাটকীয়তা চলতে থাকে। এতে জড়িয়ে পড়ে আরএসএস নেতাকর্মীরা, মুসলিমদের বিভিন্ন সংগঠন, এনজিওগুলোর প্রতিনিধিরা ও শিশু পাচার বিরোধী গ্রুপগুলোর সদস্যরা। এক পর্যায়ে পাচার বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর লাঠি নিয়ে চড়াও হয় কেউ কেউ। ফলে সৃষ্টি হয় এক বিশৃংখল অবস্থা। তবে তুমাকুরার আমলাপুর মাদ্রাসার শিক্ষক মোহাম্মদ হারুন বলেছেন, এসব ছাত্রের বাড়ি বিহারের বিভিন্ন গ্রামে। তারা পবিত্র রমজানের ৬ সপ্তাহের ছুটি শেষে মাদ্রাসায় ফিরছে। তারা বিহারের কৃষাণগঞ্জ থেকে ট্রেনে উঠেছে। কিন্তু ব্যাঙ্গালুরু ভিত্তিক একজন পাচার বিরোধী কর্মীর ফোনকলে শুরু হয় উত্তেজনা। ওই ব্যক্তি জিআরপিতে ফোন দেন। বিশাখাপত্তম রেল স্টেশনে সোমবার স্থানীয় সময় ৩টায় পৌঁছতেই এ ঘটনা ঘটে। সেখানে বেশ কিছু ছেলে নেমে যায়। এ সময় তাদেরকে যেতে দিতে পুলিশের কাছে অনুরোধ জানান শিক্ষকরা। তারা রাজি হন। কিন্তু টিটিই তাদের পরিচয় পত্র দেখতে চান। একই ঘটনা ঘটে বিজয়াওয়াদা স্টেশনে। ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে টিভি চ্যানেল ও পুলিশরা এসব ছেলেকে নিয়ে নেয়। মুভমেন্ট ফর জাস্টিস নামের এনজিওর কর্মী আর কলিমুল্লাহ বলেন, দক্ষিণ ভারতে শিক্ষার মান ভাল। তাই বিহার, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গের ছেলেদের সেখানে পাঠানো হয়। এসব পরিবারের বেশির ভাগই গরিব। এমন পরিবারের সন্তানদের সেখানে বিনামূল্যে খাবার দেয়া হয়। আইনজীবী ডি আনাস বলেন, পুলিশের কাছে অভিযোগের কোনো কপি না থাকলেও তারা একটি ফোনকলের ওপর ভিত্তি করে ছেলেগুলোকে আটক করেছে। এ সময় স্থানীয় একটি ট্রাস্প থেকে তাদেরকে খাবার ও পানি দেয়া হয়েছে। ওদিকে এম ধানুশ ও অন্য দু’জন স্বেচ্ছাসেবক এসব ছেলেকে বাংলাদেশ থেকে পাচার করা হচ্ছে বলে জিআরপি থানায় অভিযোগ করে। ধানুশ কবলেন, আমরা যখন এই অভিযোগ জমা দিচ্ছি তখন ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনের বিপরীতে আমাদের তিনজন সদস্যের ওপর ১৫-১৬ জনে আক্রমণ করেছে।
ইয়েমেনে কলেরা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও) জুনের শেষের দিকে জানায় আগস্টের শেষের দিকে কলেরায় আক্রান্ত  রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ অতিক্রম করতে পারে। ডব্লিউএইচও’র অনুমানের চেয়েও দ্রুতগতিতে অর্থাৎ প্রায় এক মাস আগে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ অতিক্রম করেছে। আন্তর্জাতিক ত্রাণসংস্থা রেডক্রসের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা। খবরে বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ দ্য রেডক্রস (আইসিআরসি) এক টুইটার পোস্টে বলেছে, ‘আজকে, তিন লাখের বেশি মানুষ কলেরায় আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ আইসিআরসি’র মুখপাত্র ইয়োলান্ডা জ্যাকমেত বলেন, ‘কলেরায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৭০০ মানুষেরও বেশি।’ দশদিনে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২০০ মানুষ। আইসিআরসি’র আঞ্চলিক পরিচালক রবার্ট মার্দিনি বলেন, ‘প্রতিদিন রাজধানী সানা ও অন্যান্য অঞ্চল মিলে প্রায় ৭ হাজার মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হওয়ার খবর আসছে।’  ডব্লিউএইচও বলেছে, জুলাইয়ের ৭ তারিখের মধ্যে কলেরা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯৭ হাজার ৪৩৮ জন ও এ রোগে আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭০৬ জন। সংস্থাটি আরো বলেছে, সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে দু’বছর চলা যুদ্ধ ইয়েমেনকে কলেরা ছড়ানোর যথোপযুক্ত অঞ্চলে পরিণত করেছে। সাধারণত কলেরা নিরাময়যোগ্য হলেও ইয়েমেনের পরিস্থিতিতে তা কঠিন হয়ে উঠছে। যুদ্ধে দেশটির বেশিরভাগ স্বাস্থ্য অবকাঠামোই ভেঙে গেছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকটও।
এ কী ভয়ানক চেহারা আনুশকা শর্মার! সাধারণ মানুষতো দূরে থাক বলিউডেরও অনেকে এ চেহারায় তাকে চিনতে পারছেন না। ছবির গল্প এবং চরিত্রের প্রয়োজনে ওজন কমানো-বাড়ানোটা অনেকটা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন অনেক বলিউড তারকা। কিন্তু আনুশকা শর্মার যা চেহারা হয়েছে, তাতে শুধু সেই জায়গাতেই আটকে থাকছে না বিষয়টি। অনেকেরই প্রশ্ন-আনুশকা কি তাহলে অসুস্থ? আসলে তা নয়। এ অভিনেত্রী সদ্য শেষ করেছেন ‘পরি’ ছবির প্রথম ধাপের শুটিং। সঙ্গে সহ-অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। এ  ছবিতে আনুশকা নাকি এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন, যে চরিত্র ভারতীয় সিনেমায় বিরল। সেজন্যেই শুধু চেহারায় নয়, মনস্তত্ত্বেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে তাকে। শুটিংয়ের সময় তিনি একবারে অন্য জগতে চলে যেতেন যেন। পোস্টারটি দেখলে বোঝা যায়, কেন এমন কথা বলা হচ্ছে। সেই মনস্তত্ত্বেরই প্রতিফলন পড়ছে তার চোখেমুখে। আর তাই ভয়ানক লাগছে তার চেহারা!
পাকিস্তানজুড়ে আবার টান টান উত্তেজনা। কী হবে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ভাগ্যে! তিনি কি ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন, নাকি তাকে অযোগ্য ঘোষণা করবে সুপ্রিম কোর্ট! অযোগ্য ঘোষণা করলে তিনি আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। তখন পাকিস্তানের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে! এসব প্রশ্নের ফয়সালা হয়ে যাওয়ার কথা আগামী সোমবার। ওইদিন সুপ্রিম কোর্টের ৫ বিচারকের বেঞ্চ এ বিষয়ে রায় দেয়ার কথা। সুপ্রিম কোর্ট গঠিত জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিমের (জেআইটি) অনুসন্ধানী রিপোর্ট জমা দেয়ার পর এসব আলোচনা এখন পাকিস্তানের আনাচে-কানাচে। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও তার পরিবারের সদস্যদের জ্ঞাত আয়ের উৎস ও প্রকৃত সম্পদের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য খুঁজে পেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত পানামাগেট কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম (জেআইটি)। ফলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ভাগ্য এখন সুপ্রিম কোর্টের হাতে ঝুলছে। জেআইটি-এর রিপোর্ট পর্যালোচনা করছেন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ। এ বেঞ্চটি রিপোর্ট পর্যালোচনা করবে আগামী সোমবার। এদিনেই চূড়ান্ত রায় দেয়ার কথা রয়েছে। কী রায় দেবেন বিচারকরা! তা নিয়ে পাকিস্তানজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনা। যদি বিচারকরা নওয়াজ শরীফকে অযোগ্য ঘোষণা করেন তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ হারাবেন। সে অবস্থায় পাকিস্তান কোন দিকে মোড় নেবে তা বলা কঠিন। ওদিকে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে জরুরি আলোচনায় বসেন নওয়াজ শরীফ নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ এর (পিএমএলএন) শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা আইনগত ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন। অনানুষ্ঠানিক এ বৈঠকে জেআইটির রিপোর্ট নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় রিপোর্ট সম্পর্কে অবহিত করা হয় প্রধানমন্ত্রী নওয়াজকে। এর আগে সোমবার রাতে নওয়াজ শরীফ তার আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টে তাদের জবাব কী হবে তা প্রস্তুত করতে।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ও নওয়াজ শরীফের ভাই শাহবাজ শরীফ, রেলওয়ে বিষয়ক মন্ত্রী খাজা সাদ রফিক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার, পরিকল্পনা ও উন্নয়নমন্ত্রী আহসান ইকবাল, পানি ও জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী খাকান আব্বাসী। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার জাফরুল্লাহ ও অন্যান্য সদস্যরা। পিএমএলএনের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, জেআইটির রিপোর্টের বিরুদ্ধে তারা আদালতে লড়াই করবে। অনলাইন ডন বলছে, সোমবার রাতে জেআইটি তাদের অনুসন্ধান রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, ১৯৯৯ সালের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো (এনএবি) অর্ডিন্যান্সের ৯ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, তার দুই ছেলে হাসান নওয়াজ ও হোসেন নওয়াজ, মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ। জেআইটি তার রিপোর্টের উপসংহারে বলেছে, ১, ৬, ৭ ও ৮ নম্বর বিবাদী পক্ষের ঘোষিত আয়ের উৎস ও সম্পদের মধ্যে বিস্তর ফারাক পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে বিবাদী পক্ষ ১ বলতে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে বোঝানো হয়েছে। ৬ নম্বর দিয়ে মরিয়ম নওয়াজকে বোঝানো হয়েছে। ৭ ও ৮ নম্বর দিয়ে যথাক্রমে হোসেন ও হাসান নওয়াজকে বোঝানো হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। উল্লেখ্য, পানামাগেট কেলেঙ্কারি নিয়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন গত ২০শে এপ্রিল। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ পারিবারিক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বলে আদালতে আর্জি জানানো হয়। ওই দিন পাকিস্তানের রাজনীতিতে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নওয়াজ শরীফ প্রধানমন্ত্রিত্ব হারাতে পারেন। রাজধানী ইসলামাবাদে নামানো হয়েছিল অতিরিক্ত পুলিশ, নিরাপত্তা রক্ষাকারী। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেদিন জেআইটি গঠনের নির্দেশ দেন। বলেন, এ বিষয়ে জেআইটির মাধ্যমে আরো তদন্ত করতে হবে। সেই জেআইটি এখন তাদের রিপোর্ট সম্পন্ন করেছে। তারা বলছে, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাবে গরমিল আছে। ফলে নওয়াজ শরীফের ভাগ্য কোন দিকে যায় তা দেখা এখন সময়ের ব্যাপার। ওদিকে এরই মধ্যে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন ইমরান খান নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) ও বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। এ ইস্যুতে মঙ্গলবার বৈঠক করছিলেন পিটিআইয়ের শাহ মাহমুদ কুরেশি ও পিপিপির খুরশিদ শাহ প্রমুখ। সুপ্রিম কোর্টে জেআইটির রিপোর্ট জমা দেয়ার পর তারা জাতীয় পরিষদে চাপ সৃষ্টি করবেন, যাতে নওয়াজ শরীফ পদত্যাগ করেন। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের যে বেঞ্চ জেআইটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল তাতে বিচারক ছিলেন মোট ৫ জন। ওই রায় দেয়ার সময় তারা বিভক্ত ছিলেন। এর মধ্যে বিচারপতি শেখ আজমত সাঈদ, বিচারপতি ইজাজুল আহসান, বিচারপতি ইজাজ আফজাল তাদের রায়ে বলেন, নওয়াজ শরীফ পরিবারকে আর একটি সুযোগ দেয়া যেতে পারে, যাতে তারা তাদের সম্পদের হিসাব দিতে পারেন। অন্যদিকে ভিন্নমত প্রকাশ করেন বিচারপতি আসিফ সাঈদ খোসা ও বিচারপতি গুলজার আহমেদ। তারা বলেন, নওয়াজ শরীফ যেহেতু আর সৎ ও সত্যবাদী নন তাই তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত। কিন্তু বিচারকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গঠিত হয় জেআইটি। তারা তাদের রিপোর্টে বলেছে, সৌদি আরব ভিত্তিক কোম্পানি হিল মেটালস এস্টাবলিশমেন্ট, যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি ফ্লাগশিফ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক কোম্পানি ক্যাপিটাল এফজেডই থেকে ঋণ ও উপহার হিসেবে অনিয়মের মাধ্যমে প্রচুর অর্থ এসেছে ১ নম্বর বিবাদী, ৭ নম্বর বিবাদীর কাছে। পাকিস্তানি ভিত্তিক কোম্পানিগুলো থেকে একইভাবে অর্থ এসেছে ১ নম্বর বিবাদী ও তার পরিবারের কাছে। তদন্তে এ বিষয়টি হাইলাইট করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে অফসোর কোম্পানিগুলোর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এমন অনেক অফসোর কোম্পানির সঙ্গে বৃটেনে তাদের ব্যবসার যোগসূত্র আছে- এটা ধরা পড়েছে তদন্তে। জেআইটি তার রিপোর্টে আরো বলেছে, এসব কোম্পানি মূলত ব্যবহার করা হতো অর্থ বৃটেনভিত্তিক কোম্পানিতে স্থানান্তরের জন্য। এভাবে তারা অর্থ স্থানান্তর করেছেন যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের কোম্পানিগুলোয়। তদন্তে আরো দেখা গেছে, ১ নম্বর ও ৭ নম্বর বিবাদী ঋণ অথবা উপহার হিসেবে ওইসব কোম্পানি থেকে পাকিস্তানে অর্থ পেয়েছেন। কী কারণে তা হয়েছে সে বিষয়ে তারা সদুত্তর দিতে পারেননি। জেআইটি যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তা ১০টি খণ্ডের। এতে বলা হয়েছে, নওয়াজ শরীফের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে বলা হয়েছে লোকসানি খাত। তাহলে সেখান থেকে কীভাবে অর্থ আসে, তারা সম্পদশালী হন। নওয়াজ শরীফের স্ত্রী কুলসুম নওয়াজ সম্পর্কেও ওই রিপোর্টে আলোকপাত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তিনিও পারিবারিক ব্যবসার অংশ। ১৯৮৪-৮৫ থেকে তিনি আয়কর বিবরণী জমা দিয়ে যাচ্ছেন। এ সময়কালে ১৯৯১-৯২ থেকে ১৯৯২-৯৩ এক বছরের মধ্যে তার সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭.৫ গুণ। ১৯৯১-৯২ সালে তার সম্পদ ছিল ১৬ লাখ ৪০ হাজার রুপি। কিন্তু ১৯৯২-৯৩ সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার রুপি। অথচ এ সময়ে মাত্র ২ লাখ ৭৯ হাজার ৪০০ রুপি আয় দেখানো হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ছেলে হোসেন নওয়াজের সম্পদ ১৯৯০-এর দশকে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার ১৯৯৭-৯৮ সালে কোনো আয়ের সূত্র উল্লেখই করা হয়নি। এসব কারণে জেআইটি বিশ্বাস করছে, তাদের নামে যে সম্পদ জমা হয়েছে তা অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত। এক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পদ বাড়াতে হোসেন নওয়াজকে ‘প্রক্সি’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অপর ছেলে হাসান নওয়াজের সম্পদেরও একই অবস্থা। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে তার কোনো আয়ের উৎস দেখানো হয়নি। অথচ দ্রুত তার সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা সেই সময়, যখন নওয়াজ শরীফ ক্ষমতায় ছিলেন। এই রিপোর্টে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইসহাক দারের সম্পদ সম্পর্কেও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি ১৯৮১-৮২ এবং ২০০১-০২ সালে আয়কর রিটার্ন জমা দেননি। এর উদ্দেশ্য হলো আয়কর ফাঁকি দেয়া। জেআইটি পরিষ্কারভাবে বলেছে, ইসহাক দার অসৎ উপায়ে সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে বরাক হোল্ডিংসে ৫৫ লাখ বৃটিশ পাউন্ড বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু এই অর্থের উৎস কী তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে তার ছেলে তাকে মাত্র ৪৯ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ইসহাক দার দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করেছেন ৬ কোটি ৯২ লাখ ৭০ হাজার রুপি। এর বেশির ভাগই গেছে তার নিজের প্রতিষ্ঠানে। এর মাধ্যমে ওই অর্থ নিজের কাছে রেখেছেন তিনি। এর বাইরেও পাকিস্তানে অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানে অর্থ পাচার শুরু হয়। তবে এফআইএ এবং এনএবি’র তদন্ত অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের আগস্টে প্রথম অর্থ পাচার শুরু হয়। এসব লেনদেনে দেখা যায়, প্রথম দুটি অ্যাকাউন্টে জমা দেয়া হয়েছে ২২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এ দুটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের (এনবিপি) প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ ও মুখতার হোসেনের নামে। এ দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ স্থানান্তর হয় মুসা গণি ও তালাত মাসুদ কাজী নামের দুজন গ্রাহকের কাছে। সবকিছু মিলে পাকিস্তানের রাজনীতিতে ফের এক অনিশ্চয়তা ফিরে এসেছে। নওয়াজ শরীফ পরিবারের সম্পদের তদন্ত করতে গিয়ে জেআইটি যে রিপোর্ট দিয়েছে সোমবার তার প্রভাব পড়েছে মঙ্গলবার দেশটির শেয়ার বাজারে। সেখানে সূচকের পতন হয়েছে ২০০০ পয়েন্ট। লেনদেন শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই কেএসই-১০০ সূচকের পতন হয় ১৩০০ পয়েন্টের বেশি। দুপুর নাগাদ এর আরো পতন হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার এখতিয়ার সংসদ সদস্যদের নেই। এ নিয়ে মন্তব্য করে সংসদ সদস্যরা নিজেরাই আইন ভঙ্গ করেছেন। এমপিদের ক্ষমতা সংবিধান দ্বারা সীমাবদ্ধ। তাদের ক্ষমতা কখনোই সার্বভৌম নয়। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৫৩, ৬৩ ও ১৩৩ ধারা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট এবং বিচার বিভাগ নিয়ে মন্তব্য করা যায় না। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিও একটি আইন। কিন্তু সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে এমপিরা এই আইন ভঙ্গ করেছেন। বিচার বিভাগ নিয়ে এভাবে তারা কোনো মন্তব্য করতে পারেন না। তিনি বলেন, বিচারক ও নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ নিয়ে এখনো কোনো আইন হয়নি। কোনো এমপি অপরাধ করলে সংসদের সুনাম যদি ক্ষুণ্ন হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যারা সংসদের মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া উচিত। লেখক, গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আমরা সবসময়ই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলছি। কিন্তু এখন এই রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার বিচার বিভাগের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ নিয়ে সমালোচনা ও কথাবার্তা হচ্ছে। এখন যা দরকার সেটি হলো এর সম্মান ও মর্যাদা যাতে ক্ষুণ্ন না হয়। সৈয়দ আবুল মকসুদ আরো বলেন, কোনো দেশের বিচার ব্যবস্থা সেই দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক অবস্থার বাইরে নয়। বিচার ব্যবস্থা দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থার বাইরে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। তবে, সেটাই সবচেয়ে ভালো বিচার ব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তিটি সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তির সঙ্গে ন্যায়বিচার পায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, বিচার বিভাগে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন উচ্চ আদালতের স্বাধীনতা। দেশের মানুষের মানবাধিকার যদি ক্ষুণ্ন হয়, তা দেখার দায়িত্ব উচ্চ আদালতের। এখন উচ্চ আদালতের যদি স্বাধীনতা না থাকে তাহলে আর কিছুই থাকে না। তাই সবার আগে উচ্চ আদালতের স্বাধীনতা প্রয়োজন। আপিল বিভাগের রায়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যদি সংসদ মনে করে থাকে সংবিধানের সংশোধনী আনবে, তাহলে সংশোধনী আনুক। আপনারা যদি আন্তরিক হোন তাহলে সংবিধানের আরেকটি সংশোধনী আনুন যে বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে ড. আসিফ নজরুল বলেন, সরকারের স্থিতিশীলতার জন্য হয়তো সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রয়োজন। কিন্তু আস্থা-অনাস্থা আর বাজেট প্রণয়ন ছাড়া ৭০ অনুচ্ছেদ-এর আর কোনো  প্রয়োজন নেই-এমন একটি আইন আপনারা করুন।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ষোড়শ  সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের আলোচনার এখতিয়ার সংসদ সদস্যদের নেই। এ নিয়ে সংসদে যে আলোচনা হয়েছে তা করতে গিয়ে সাংসদেরা নিজেরাই নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সাংসদেরা সেদিন কি আলোচনা করেছিলেন তা ইউটিউব থেকে ডাউনলোড করে সংসদ সদস্যদের দেখার জন্য অনুরোধ জানিয়ে তিনি  বলেন, তাহলেই তারা উপলব্ধি করবেন যে তারা আসলে কি বলেছিলেন।
তিনি বলেন, সাংসদেরা কেন বলেন যে, তারা সার্বভৌম? সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের ক্ষমতা সংবিধান দ্বারা সীমাবদ্ধ। তাদের সার্বভৌম হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। বিচার বিভাগকেও জবাবদিহিতা  নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে ড. শাহদীন মালিক বলেন, বিচার বিভাগ  স্বাধীন। তবে, আমরা আরো স্বাধীন চাই। কিন্তু বিচার বিভাগেও গলদ রয়েছে। সবচেয়ে বড় গলদ আমার মনে হয় রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে এই অঙ্গতে (বিচার বিভাগ) সর্বময় প্রশাসনিক ক্ষমতা একমাত্র প্রধান বিচারপতির ওপর। ড. শাহদীন মালিক বলেন, আমরা সরকারের যতই সমালোচনা করি সিদ্ধান্তটা মন্ত্রিসভায় হয়। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো ভূমিকা থাকে। কিন্তু সিদ্ধান্তটা হয় সম্মিলিত। যত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হয় ওখানে সম্মিলিত প্রক্রিয়ায় হয়। কিন্তু বিচার বিভাগের সব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রধান বিচারপতি একলা নেন। এটি সাংঘাতিক দুর্বল অবস্থা। এটিকে অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে।  তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সি আর আবরার, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, জোতির্ময় বড়ুয়া প্রমুখ।
এদিকে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর প্রধান বিচারপতি ও বিচার বিভাগকে নিয়ে জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের আলোচনার প্রেক্ষিতে গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন। সাংসদেরা আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান সমিতির নেতৃবৃন্দ। সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদিন বলেন, সংবিধানের অভিভাবক হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সংসদে সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি ও সিনিয়র আইনজীবীদের কটাক্ষ করে যে আপত্তিকর বক্তব্য রাখা হয়েছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে এমপিরা সংবিধানেরই অবমাননা করেছেন। বিচার বিভাগের মর্যাদাকে খাটো করেছেন। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় না পড়ে যে কটূক্তি তারা করেছেন তাতে অনেকেই সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ পড়লে যে কোনো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য ষোড়শ সংশোধনীর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতেন না। এদিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষিতে সমিতির আওয়ামীপন্থি অংশ একই স্থানে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. অজি উল্লাহ। ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সংসদের আলোচনাকে প্রাণবন্ত ও গঠনমূলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানের যে কোনো সংশোধনীর রায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক।