Last update
Loading...
সবার আগে নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপ, স্কোয়াডে তারকার হাট, সেই সঙ্গে চোখ জুড়ানো পারফরম্যান্স- ব্রাজিলের তাই ‘হেক্সা’ জয়ের স্বপ্ন দেখাটা মোটেও বাড়াবাড়ি নয়। ২০০২ সালের পর আবারও ফুটবল উৎসবে লাতিন দেশটিকে ভাসানোর স্বপ্ন বুকে নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করছে সেলেসাওরা।
রাশিয়ার ফুটবল মহাযজ্ঞের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। শক্তি ও সাফল্যের দিক থেকে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা অনেকটা এগিয়ে থাকলেও সুইসরা প্রস্তুত তাদের কঠিন চ্যালেঞ্জ দিতে। রোস্তভে তাই উত্তেজনাকর এক ম্যাচই মঞ্চায়িত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সময় রবিবার দিবাগত রাত ১২টায়। ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে বিটিভি, মাছরাঙা, টেন টু ও টেন থ্রি চ্যানেলে।
২০১৪ বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ায় স্বপ্নটা অনেক বড় ছিল ব্রাজিলিয়ানদের। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ জিতে ১৯৫০ সালের মারাকানো ট্র্যাজেডি ভুলতে চেয়েছিল তারা। যদিও জার্মানির বিপক্ষে ৭-১ গোলের হারের লজ্জায় ডুবতে হয় তাদের। মিনেইরোর ওই সেমিফাইনালের দুঃখ ভুলতে রাশিয়ার আসরে নামতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
আর এই স্বপ্নটা তাদের নেইমারকে কেন্দ্র করে। এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরেই ‘হেক্সা’ জয়ের আশা সাম্বার দেশের মানুষের। বিশ্বকাপে নামার আগে চোট কাটিয়ে ফিরেছেন তিনি চেনা রূপে। ক্রোয়েশিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে লক্ষ্যভেদ করে জানান দিয়েছেন, তিনি প্রস্তুত ফুটবলের মহাউৎসবে নামতে।
লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইয়ে ‍দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে ব্রাজিল। কনবেমল অঞ্চল থেকে তো বটেই, সবার আগে রাশিয়ার টিকিট পায় সেলেসাও। তিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চলছে সাফল্যের গাড়ি। ২০১৬ সালে দায়িত্ব নিয়ে গোছানো এক দল নিয়েই বিশ্বকাপ মিশনে গেছেন তিনি। অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশেলে দুর্দান্ত এক স্কোয়াড গড়েছেন ৫৭ বছর বয়সী এই কোচ।
স্কোয়াডে থাকা মাত্র ছয় খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা আছে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ খেলার। তবে রাশিয়ায় যারা নতুন যোগ হয়েছেন, তারাও নিজেদের পজিশনে বিশ্বমানের। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ তাদের দুর্দান্ত। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের একাদশে মাঝমাঠে কাসেমিরো, ফিলিপে কৌতিনিয়ো ও পাউলিনিয়োকে দেখার সম্ভাবনাই বেশি। তাদের উপরে আক্রমণভাগে নেইমার ও গাব্রিয়েল জেজুসের সঙ্গে হয়তো থাকবেন উইলিয়ান। সেন্টার ব্যাকে থিয়গো সিলভা ও মিরান্দার সঙ্গে লেফট ব্যাকে তিতের প্রথম পছন্দ অধিনায়ক মার্সেলো। রাইট ব্যাকে দেখা যাবে হয়তো দানিলোকে। আর গোলবারের নিচে দায়িত্বে থাকবেন আলিসন।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটা ব্রাজিলিয়ানরা বোঝে খুব ভালো করে। সে কারণেই ১৯৩৪ সালে ইতালির বিশ্বকাপ থেকে গত আসর পর্যন্ত উদ্বোধনী ম্যাচে কখনও হারের মুখ দেখেনি পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এই প্রথম ম্যাচ থেকেই আবার অনুপ্রেরণা খুঁজতে পারে সুইজারল্যান্ড। ২০১০ সালের বিশ্বকাপটা তাদের স্মৃতির মণিকোঠায় সাজানো আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ওই আসরে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে সুইসরা হারিয়ে দিয়েছিল স্পেনকে, যারা চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ করে বিশ্বকাপ।
ব্রাজিলের আসরটা খুব একটা খারাপ কাটেনি সুইজারল্যান্ডের। শেষ ষোলোতে তারা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরেছিল অতিরিক্ত সময়ে। তাছাড়া ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়েও দারুণ সময় পার করেছে ‘লা নাতি’রা। ‘বি’ গ্রুপে পর্তুগালের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলে প্লে অফে নিশ্চিত করে রাশিয়ার টিকিট।
রোস্তভে তাই উত্তেজনাকর এক ম্যাচই অপেক্ষা করছে ফুটবল বিশ্বের জন্য। ফুটবলপ্রেমীরা তৈরি তো?
১৭ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর রবিবার (১৭ জুন) সকাল ৯টার দিকে ময়মনসিংহ সদরের গন্ধ্রপা এলাকার রাস্তার পাশের একটি খড়ের ডিবি থেকে পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী রেহেনা বেগম (৪৫)এর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে শনিবার (১৬ জুন) ঈদের দিন বিকাল ৪টার দিকে সানকিপাড়া বাইলেন এলাকার বাসার সামনের সড়ক থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ডিবি পুলিশ এ দাবি অস্বীকার করেছে। 
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম জানান, রেহেনার বিরুদ্ধে মাদক আইনে ১০টি মামলা রয়েছে এবং সে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের একজন। রেহেনাকে ‘ইয়াবা সম্রাজ্ঞী’ হিসেবেই সবাই চেনে। যদিও পরিবারের দাবি, রেহেনার বিরুদ্ধে থানায় ২টি মামলা আছে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক মামলায় ৫/৬ বছর আগে এক বছর সাজা খেটে কারাগার থেকে বের হয়ে এসেছিল সে।
স্থানীয়রা জানান, সানকিপাড়া বাইলেনের মরহুম আজিজুল হকের স্ত্রী রেহেনা বেগম। এই দম্পতির একমাত্র কন্যা আজেদা বেগম। গত দুই বছর আগে রেহেনার স্বামী আজিজুল হক ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান। রেহেনা গত ১৫ বছর ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। একাধিকবার সে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেফতার হয়েছে।শুরুতে গাঁজা ও হেরোইনের ব্যবসা করলেও ইয়াবা বাজারে আসার পর ইয়াবা ব্যবসা শুরু করে রেহানা।
প্রতিবেশী রেনুয়ারা বেগম জানান, দুই বছর আগে সানকিপাড়ার গন্ধ্রপা এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করে সেখানে বসবাস শুরু করে রেহেনা। সানকিপাড়ার পুরনো বাসায় তার মেয়ে আজেদা বেগম স্বামীকে নিয়ে থাকেন। শনিবার বিকাল ৪টার দিকে ৫/৬টি মোটর সাইকেলে এসে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে রেহেনাকে অটোরিকশা করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আর  কিছু তারা বলতে পারেন না।
এদিকে রেহেনার মেয়ে আজেদা বেগম জানান, তার মায়ের বিরুদ্ধে থানায় ২টি মামলা আছে। ওই মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন এবং আদালতে নিয়মিত হাজিরা দেন। আজেদা আরও জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক মামলায় ৫/৬ বছর আগে তার মায়ের এক বছর সাজা হয়েছিল এবং সাজা খেটে কারাগার থেকে বের হয়ে এসেছেন। এরপর থেকে তার মা  আর মাদক ব্যবসা করতো না বলেও দাবি করেন মেয়ে আজেদা বেগম।
আজেদা আরও বলেন, ‘শনিবার ঈদের দিন বিকাল ৪টার দিকে মোটর সাইকেলে করে এসে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে বাসার সামনের রাস্তা থেকে তার মাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে শনিবার রাত ৮টার দিকে ডিবি অফিসে মায়ের খোঁজ নিতে গেলে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, রেহেনা নামে কাউকে আটক করে আনা হয়নি। মায়ের কোনও হদিস না পেয়ে আমরা বাসায় ফিরে আসি।  রবিবার সকাল ৯টার সময় জানতে পারি গন্ধ্রপা এলাকায় খড়ের ডিবির পাশে মায়ের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে আছে। পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মায়ের মরদেহ শনাক্ত করি।’
এবিষয়ে জেলা গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)এর ওসি আশিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রেহেনা বেগমকে তারা তুলে আনেননি এবং এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। ওসি আরও জানান, রেহেনা বেগম পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের একজন।
ময়মনসিংহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক পরিতোষ কুমার কুন্ডু জানান, রেহেনার বিরুদ্ধে মাদক আইনে ৫/৬টি মামলা আছে। এর আগে একটি মামলায় এক বছর সাজা খেটে কারাগার থেকে বের হয়ে এসেছে রেহেনা।
জাতিসংঘে ট্রাম্প প্রশাসনের দূত নিকি হ্যালি এক বছর আগে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ধারাবাহিক ইসরায়েলবিদ্বেষী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এখান থেকে সরে না আসলে যুক্তরাষ্ট্র কমিশন ছেড়ে যাবে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার প্যানেলে যুক্তরাষ্ট্রের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ১৮ জুন (সোমবার)। তবে ঠিক কোন কোন বিষয়ে সংস্থাটির সংস্কার দরকার; তা নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দাবির যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অ্যাকটিভিস্ট ও কূটনীতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘ইসরায়েলবিদ্বেষী’ ভূমিকাকে কারণ দেখিয়ে তারা কমিশন থেকে সরে যেতে পারে।   জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৬ সালে।  প্রতিষ্ঠার পর দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী অনৈতিক দখলদারিত্ব ও নিপীড়নকে এর আলোচ্যসূচির স্থায়ী বিষয়বস্তু হিসেবে রেখেছে ওই কাউন্সিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা, কাউন্সিল তাদের অবস্থান থেকে সরে এসে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে তাদের স্থায়ী আলোচ্যসূচি থেকে বাদ দেবে।  বুশ প্রশাসনের সময় প্রতিষ্ঠা-পরবর্তী ৩ বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কাউন্সিলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেনি। তবে ওবামা শাসনামলে ২০০৯ সালে ওয়াশিংটন কাউন্সিলের সঙ্গে যুক্ত হয়।
ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরায়েল নামের রাষ্ট্র। ১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ইহুদি বসতি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ছয় ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়। পরের বছর থেকেই ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত পরবর্তী ছয় সপ্তাহকে ভূমি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ফিলিস্তিনিরা। গ্রেট রিটার্ন মার্চ নামে অনুষ্ঠিত এবারের সেই বিক্ষোভ কর্মসূচির শেষদিনের আগে (১৪ মে) জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ জোরালো হয়ে উঠলে একদিনেই ৬৫ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘ মানবাধিকার প্যানেল গত মাসের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওই হত্যাযজ্ঞের তদন্তের পক্ষে অবস্থান নেয়।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সহায়তায় গর্ভাবস্থায় ভ্রুণের ত্রুটি শনাক্ত করা যায় ভালোভাবেই। পাশ্চাত্যে এ ধরনের ত্রুটি শনাক্তের পর গর্ভপাতের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।  জন্মত্রুটিজনিত গর্ভপাতের সমালোচনা করতে গিয়ে ভ্যাটিকান পোপ ফ্রান্সিস একে নাৎসিদের জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা গেছে।
গর্ভাবস্থায় বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুর জন্মত্রুটি শনাক্ত করা হয়ে থাকে যেন গর্ভপাতের মধ্য দিয়ে ত্রুটিযুক্ত শিশুর জন্ম ঠেকানো যায়। শনিবার (১৬ জুন) কনফেডারেশন অব ইতালিয়ান ফ্যামিলি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জন্মত্রুটিজনিত গর্ভপাতের সঙ্গে নাৎসিদের শুদ্ধি অভিযানের তুলনা করেন ফ্রান্সিস। তার মতে, দুর্বলদের বিনাশের মধ্য দিয়ে নাৎসিরা যে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছিল, এটি তারই সমতুল্য। পোপ বলেন, ‘শিশুরা যেভাবে পৃথিবীতে আসে, ঈশ্বর যেভাবে তাদের পাঠান, ঈশ্বর যেভাবে তাদেরকে অনুমোদন করেন, তাদেরকে সেভাবেই আমাদের গ্রহণ করা উচিত; এমনকি তারা যদি অসুস্থ হয়, তখনও।
বর্ণবাদী ইহুদি বিদ্বেষকে প্রচারণার মূল অস্ত্র বানিয়ে হিটলার জার্মানিতে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন জাত্যাভিমান। জার্মান জনগণ সে সময় নর্ডিক জাতি হিসেবে পরিচিতিপ্রাপ্ত হয় এবং নিজেদের আর্য জাতির বিশুদ্ধ উত্তরসূরি হিসেবে ভাবতে শুরু করে। ৩০ এর দশকে নাৎসি শাসনামলে ‘সুপ্রজনন কর্মসূচি’র আওতায় ইহুদি এবং অন্যান্য সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীর কয়েক লাখ মানুষের জোরপূর্বক  প্রজনন সক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী প্রজন্মে শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু জন্ম রোধে লাখো মানুষকে হত্যাও করা হয়েছিল সে সময়। 
জন্ম পূর্ববর্তী ভ্রুণের ত্রুটি শনাক্তকরণ পরীক্ষা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ফ্রান্সিস প্রশ্ন তোলেন, ‘এক্ষেত্রে প্রথম কথা হলো শিশু হত্যার সংস্কৃতির অবসান প্রয়োজন কিনা।’ অপেক্ষাকৃত নিরুদ্বেগ জীবনের জন্য অবুঝ শিশুদের যেনতেনভাবে শেষ করে দেওয়া উচিত কিনা সেই প্রশ্নও তোলেন পোপ। বলেন, ‘আমি মর্মাহত হয়ে বলছি, গত শতাব্দীতে নাৎসিদের জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়ে গোটা বিশ্ব কলঙ্কিত হয়েছে। আজ, আমরা বিশেষ সুরক্ষার নামে একই কাজ করছি।'
ভারতের নৌবাহিনী বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে আসতে থাকা একটি জ্বলন্ত মালবাহী জাহাজকে আটকে দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির ওয়েবসাইটের বাংলা ভার্সনে জানানো হয়েছে, আকাশপথ ব্যবহার করে দুই দিন ধরে জ্বলতে থাকা জাহাজটির ওপর রশি বেয়ে নেমে আসে ভারতীয় নৌবাহিনীর কম্যান্ডোরা। নামার পর জাহাজটিকে নোঙর করতে সমর্থ হয় তারা।
কৃষ্ণাপতনম থেকে রাসায়নিক নিয়ে জাহাজটি কলকাতা বন্দরের দিকে আসছিল। বন্দরে আসার আগে সমুদ্রের যে জায়গায় জাহাজগুলি নোঙর করে থাকে, সেই স্যান্ডহেডে নোঙর করে থাকা অবস্থাতেই ১৪ই জুন মাঝরাতে জাহাজটিতে আগুন লাগে। নৌবাহিনী সূত্রে বিবিসি জানিয়েছে, এমভি কলকাতা নামের জাহাজটি বেশ দ্রুত সুন্দরবন হয়ে বাংলাদেশের দিকে ভেসে যাচ্ছিল। নোঙর করতে পারার ফলে সেটিকে ভারত-বাংলাদেশ সমুদ্র-সীমার ২২ নটিক্যাল মাইল দূরে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারতীয় নৌবাহিনীর কমোডোর সুপ্রভ কুমার দে বিবিসিকে বলেন, "এখন আর জাহাজটি সমুদ্র-সীমা বা সুন্দরবনের কোর এরিয়ার দিকে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আমরা চেয়েছিলাম যদি ইঞ্জিন কোনোভাবে চালু করে গভীর সমুদ্রের দিকে নিয়ে যাওয়া যায়।"  তিনি জানান, "কিন্তু যখন নৌ-কমান্ডো আর জাহাজটির একজন অফিসার ইঞ্জিন চালু করার চেষ্টা করেন, তখন আবারও বিস্ফোরণ হয়। আগুন ছড়াতে থাকে। সবাই অপারেশন বন্ধ করে দিয়ে চলে আসতে বাধ্য হয়।"
এমভি কলকাতা থেকে তারা কোনও বিপদসংকেত পায় নি। পাশ দিয়ে যাওয়া অন্য জাহাজ কোস্ট-গার্ডকে প্রথমে সতর্ক করে। পরের দিন প্রায় আট ঘণ্টার চেষ্টায় হেলিকপ্টার আর উদ্ধারকারী জাহাজ নিয়ে গিয়ে ২২ জন অফিসার ও নাবিকদের সবাইকে উদ্ধার করা হয়। 'মার্কোজ' নামে পরিচিত নৌবাহিনীর কম্যান্ডোরা জ্বলন্ত জাহাজ থেকে এধরনের উদ্ধার অভিযানের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। আরব সাগরে মাঝে মাঝেই পণ্যবাহী জাহাজে আগুন লাগলে এই মার্কোজদেরই পাঠানো হয়। শনিবার সকালে হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেঁধে জাহাজে নামিয়ে দেওয়া হয় কম্যান্ডোদের। নোঙর করার পরে জ্বলন্ত জাহাজের ইঞ্জিন চালু করার সময়ে আবারও বিস্ফোরণ হয়। কম্যান্ডোরা রশি বেয়ে হেলিকপ্টারে উঠে আসতে বাধ্য হন।
কমোডোর দে বিবিসিকে জানান, "ঐ অঞ্চলে বেশ জোর হাওয়া বইছে। তাতেই জ্বলন্ত জাহাজটি সুন্দরবনের কোর এরিয়া আর বাংলাদেশের দিকে ভেসে যাচ্ছিল। শুক্রবার বিকেলে জাহাজ কোম্পানি, ভারত সরকারের বাণিজ্যতরী বিভাগ, কোস্ট গার্ড আর কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে শনিবার সকালে মার্কোজদের নামিয়ে নোঙর করাটাই হবে আমাদের প্রাথমিক টার্গেট। তারপরে চেষ্টা করা হবে জাহাজটিকে যদি গভীর সমুদ্রের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া যায়।"
সৌজন্য: বিবিসি বাংলা
কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বর্বরোচিত আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল জেল সত্যিকার অর্থে একটা ওরস্ট। খালেদা জিয়ার ঘরে বড় বড় ইঁদুর। আপনারা শুনলে হতবাক হবেন, তার ঘরে একরাতে বিড়াল বড় ইঁদুর ধরেছে। তারপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’ রবিবার (১৭ জনু) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়ার রুমে তেলাপোকা, ছারপোকা—এটা কমন ব্যাপার। আরও আছে বড় বড় বিছা। তিনি তো এসব দেখতে অভ্যস্ত নন।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুরনো কারাগারের পরিবেশ নিয়ে অনেকবার বলেছি। একটা পরিত্যক্ত, ঝরাজীর্ণ দেড় শ-দুই শ বছরের পুরনো কারাগারে তাকে রাখা হয়েছে। যেটা কোনও সভ্য সমাজে রাখা হয় না। একেবারেই নিঃসঙ্গ, তিনি ছাড়া কোনও বন্দি সেখানে নেই।’
সরকারের নীতি-নির্ধারকদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন ‘আপনারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই আচরণ কেন করছেন? এটা তো সভ্য আচরণ নয়। এটা অসভ্য বর্বরদের আচরণ। তিনি একজন রাজনৈতিক বন্দি। তার সঙ্গে রাজনৈতিক আচরণ করুন।’
নিজের কারাজীবনের অভিজ্ঞতার তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আমি প্রথম ২০১২ সালে কারাগারে যাই। আমার মনে আছে, একটি রুমে আমি ও দাদা (গয়েশ্বর চন্দ্র রায়) ছিলাম। আমাদের পাশের রুমে ছিলেন আন্দালিব পার্থ ও শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। হঠাৎ রাত্রিবেলা চিৎকার করে উঠেছেন পার্থ, ‘চাচা আমি তো আর বাঁচবো না।’ কেন কী হয়েছে—জানতে চাইলে ‘এত বড় বিছা এখানে।’ সেই পুরো রাতে আন্দালিব পার্থ চৌকির ওপর বসছিলেন। এটা বাস্তবতার কথা বলছি। আপনারা দেখবেন পুরনো ইউরোপের ছবিতে যে চিত্র দেখা যায়, এখানে সেই অবস্থা।’’
ভ্রমণ সবারই ভালো লাগে। সুযোগ পেলেই ঢাকার বাইরের দূর-দূরান্তে ছুটে যায় মানুষ। অথচ ঢাকার কাছেই রয়েছে অনেক মনোমুগ্ধকর বিনোদন স্পট। এমন বেশ কয়েকটি বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে ঢাকার কাছে দোহার ও নবাবগঞ্জে। হৃদয়ের মানুষ কায়কোবাদের দেশে।
মহাকবি কায়কোবাদের জন্মভূমি: নবাবগঞ্জের আগলা নামক স্থানে মহাকবি কায়কোবাদ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এই স্থানটিও ঘুরে দেখার মতো। বিশেষ করে যারা মহাকবি সম্পর্কে জানতে চান তারা বেশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবেন আগলায় আসলে। তার বাড়ির পাশেই মহাকবি কায়কোবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পাশেই রয়েছে পোস্ট অফিস। যেখানে তিনি পোস্ট মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ভাঙা মসজিদ: নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে নতুন বান্দুরায় অবস্থিত ভাঙা মসজিদ। প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি। তবে মূল ভবন রয়েছে মাত্র ২ শতাংশ জমির ওপর। মসজিদটিতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও নামাজের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।
মসজিদটিতে এবাদত করতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসেন। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে নবাবগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি থানার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ নামাজির সমাগম হয়।
ধারণা করা হয়, তিন গম্বুজবিশিষ্ট ‘ভাঙা মসজিদ’ সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে নির্মিত। সে হিসাবে প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো মসজিদটি নবাবগঞ্জের কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ১৬৫ ফুট সুউচ্চ একটি মিনার। মিনারটি ঢাকা দক্ষিণের সবচেয়ে বড় মিনার বলে জানা গেছে।
লোকমুখে প্রচলিত, ১৬০০ শতকে দিল্লি থেকে নদীপথে ঢাকা যাতায়াত করতেন মোগল সুবেদার ইসলাম খান চিশতি। তিনি নৌবহর নিয়ে যমুনা নদী হয়ে পাবনা ও মানিকগঞ্জ অংশে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ইছামতী নদী দিয়ে ঢাকা আসতেন। রাতযাপন ও ইবাদত করার জন্য আনুমানিক ১৬১৫ সালে নদীর পাশেই মসজিদটি নির্মাণ করেন তিনি। কালের পরিবর্তনে ইছামতী নদী ভাঙতে ভাঙতে উত্তরদিকে চলে যায়। উল্লেখ্য, ১৬১০ সালে দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীরের সুবেদার ছিলেন ইসলাম খান চিশতি।
নির্মাণের সময় মসজিদের পাশে কোনো বসতি ছিল না। পুরো এলাকা ছিল বনাঞ্চল। ১৮৮০ সালে হিন্দু জমিদাররা ওইসব বনাঞ্চল পত্তন নেন। তখন সেখানে বসতি স্থাপন করার জন্য বনাঞ্চল কাটা আরম্ভ করে হিন্দুরা। বন কাটতে গিয়ে নজরে আসে এই মসজিদটি। যার ওপরের কিছু অংশ ভাঙা ছিল। সেই থেকেই এই মসজিদের নাম হয় ‘ভাঙা মসজিদ’ বা ‘গায়েবি মসজিদ’।
হাসনাবাদ গির্জা: নবাবগঞ্জের হাসনাবাদে অনেক বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই গির্জাটি। গির্জার ভেতরের দিকটা বেশি আকর্ষণীয় এবং সামনে একটি বিশাল খোলা মাঠ রয়েছে। গির্জার পূর্ব পাশে রয়েছে দীঘি। চারপাশ সবুজ গাছগাছালি। পাখির কলতানি। এর সৌন্দর্য হাজারগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গির্জাটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে কিছু খ্রিষ্টান মিশনারি ক্যাম্প।
খেলারামদাতার বাড়ি (আন্ধার কোঠা): এটি এক সময় সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কিন্তু সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি এখন প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। এখনো মাটির উপর দুইতলা একটি জরাজীর্ণ ভবন দেখতে পাবেন। কথিত আছে এই পাঁচতলা ভবনটি এক রাতে তিনতলা পর্যন্ত মাটির নিচে চলে গিয়েছিল। ভবনটির উপরের তলায় একটি বড় চৌবাচ্চা আছে। কথিত আছে জমিদার খেলালামদা এর মা একদিন তার সন্তানের কাছে দুধ খেতে চাইলে সে তার মায়ের জন্য এই চৌবাচ্চা বানানোর নির্দেশ দেন। পরে সেই বিরাট চৌবাচ্চায় দুধ এবং কলা দিয়ে পূর্ণ করে তার মাকে সেই চৌবাচ্চায় নামিয়ে দেন। তার মা সাঁতার কেটে কেটে মনের সাধ মিটিয়ে দুধ খেয়েছিলেন। এই বাড়িটির পাশেও একটি বিরাট পুকুর আছে। কথিত আছে এই পুকুরের পাশে এসে কেউ কিছু চাইলে তার পর দিন তাই মিলে যেত। তবে এসব কাহিনীর সত্যতা কতটুকু তা নিয়ে কোনো সদুত্তর বা প্রমাণ নেই। এক সময় এই ভবনের নিচের তলাগুলোতে সিঁড়ি বেয়ে যাওয়া যেত। কিন্তু সিড়িগুলো ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় এখন এর প্রবেশমুখ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই ভবনের ভেতরে অন্ধকার এতই ঘন যে অতি উজ্জ্বল আলোও এখানে পৌঁছাতে পারে না। এর জন্যই এই ভবনকে আন্ধার কোঠা বলা হয়।
কলাকোপা আনসার ক্যাম্প: জজ বাড়ির কাছেই কলাকোপা আনসার ক্যাম্প অবস্থিত। এটিও একটি দৃষ্টিনন্দন স্থান। ছায়া সুনিবিড় সুন্দর একটি পরিবেশ। পিকনিক স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আনসারদের বসবাসের জন্য অনেক বড় একটি এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই নয়নাভিরাম ক্যাম্পটি।
জজ বাড়ি: এটি নবাবগঞ্জের কলাকোপায় অবস্থিত। একটি সুন্দর বাগান ঘেরা এবং বিশালাকৃতির এই জমিদার বাড়িটি মূলত জজ বাড়ি নামে পরিচিত। বাড়ির পাশেই রয়েছে শাণ বাঁধানো পুকুর। রয়েছে পোষা হরিণের একটি খামার। বাগানের হাজারো রকমের ফুল দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। জমিদার বাড়িটি অতি প্রাচীনকালের ঐতিহ্যবাহী নকশায় তৈরি। যা কিছুক্ষণের জন্য হলেও পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেবে। এই বাড়িটিতে প্রায়ই নাটক এবং চলচিত্রের শুটিং স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ি: এই জমিদার বাড়িটি জজ বাড়ির ঠিক পাশেই অবস্থিত। বলা যেতে পারে এটি জজ বাড়ির ওল্ড ভারসন। জজ বাড়ি বিভিন্ন সময়ে সংস্কার করা হলেও এটি রয়ে গেছে সেই আগে যেমনটি ছিল। এই জমিদার বাড়িতেও রয়েছে শত শত দৃষ্টিনন্দন ফুলের গাছ আর বাড়ির ঠিক সামনে রয়েছে বিশালাকৃতির স্বচ্ছ পানির পুকুর। রয়েছে বিশালাকৃতির পুকুর ঘাট।
বৌদ্ধ মন্দির: এই বৌদ্ধ মন্দিরটি কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ির ঠিক বাইরে। মন্দিরটির ভেতরে একটি ভাঙা মূর্তি আছে। কথিত আছে ১৯৭১ সালে পাক বাহিনী এই মূর্তিটি ভেঙে রেখে গিয়েছিল। সংস্কারের অভাবে মন্দিরটির দেয়াল খসে খসে পড়ছে।
সাত মাথার মূর্তি: নবাবগঞ্জের মাঝির কান্দা নামক স্থানে অবস্থিত এই সাত মাথার মূর্তি। একটি বিরাট বটগাছের নিচে এই মূর্তিটি নির্মাণ করা করেছে হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজন। প্রতি বছর এই মূর্তিকে ঘিরে পূজা এবং মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এ সময় বিপুলসংখ্যক লোকজনের মিলন ঘটে।
যেভাবে যেতে হবে: রাজধানী গুলিস্তান থেকে এন মল্লিক পরিবহনে নবাবগঞ্জের বান্দুরায় যেতে হবে। প্রায় বিশ মিনিট পরপর বাস ছেড়ে যায়। জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৭০-৮০ টাকা। বাস ছেড়ে দেয়ার এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে নামিয়ে দেবে আগলা মহাকবি কায়কোবাদ স্কুলের সামনে। ঘন্টা খানিক সময় কবির বাড়িতে অতিবাহিত করে অটোগাড়িতে চলে যাবেন বান্দুরায়। নতুন বান্দুরা ভাঙ্গা মসজিদে ঘুরে হাসনাবাদ গির্জায় চলে আসুন। এরপর চলে আসুন কলাকোপায় । নবাবগঞ্জ কিংবা দোহারে কোনো আবাসিক হোটেল নেই। এখানে রাতযাপনের কোনো ব্যবস্থা নেই। সুতরাং, বর্তমানে এক দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনাই এখানকার জন্য উপযুক্ত। তাছাড়া ঢাকা থেকে খুব সহজেই দিনে দিনে ঘুরে আসা সম্ভব।
ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মির ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ-কাশ্মিরে মানবাধিকার হরণের অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। ৪৯ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো ভারত ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেছে জাতিসংঘ কমিশন। সীমান্তরেখার উভয়পার্শেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের আলামত পেয়েছে তারা। জরুরি ভিত্তিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুই দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। প্রায় ৭ দশক ধরে কাশ্মিরবাসী নিপীড়নের শিকার। সেখানে চলা সহিংসতা প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।
মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জায়েদ রাদ আল হোসেন বলেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বিবাদ চলছেই। এই সহিংসতা থেকে নেই। আর এই সহিংসতায় লাখ লাখ মানুষ তাদের মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত এই দুর্দশা চলছে। হাইকমিশনারবলেন, ‘কাশ্মিরে নেওয়া যেকোনও রাজনৈতিক সমাধানের আগে এই সহিংসতা বন্ধ নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে পূর্বে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলকে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানাই যেটা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাশ্মিরের মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত করবে।’
সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি কথা উল্লেখ করে জায়েদ হোসেন বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর উচিত সর্বাত্মকভাবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া। ভবিষ্যতেও যেসকল সহিংসতা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে সেগুলোও দমন করা দরকার। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখতে হবে যেন অনেকদিন ধরে চলা আসা নিরাপত্তা বাহিনীর জোরপূর্বক বলপ্রয়োগের ঘটনা আর না ঘটে।’ গত দুই বছর ধরেই ভারত ও পাকিস্তানকে এই আহ্বান জানিয়েছে আসছে মানবাধিকার কমিশন। এরপরও সংস্থাটিকে কোনও পক্ষই প্রবেশাধিকার দেয়নি। দূরবর্তী অবস্থান থেকে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনটিতে মূলত ২০১৬ সাল থেকে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। সে বছরই পুলিশের ‍গুলিতে বিদ্রোহী নেতা বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর হাজার হাজার কাশ্মিরবাসী রাজপথে নেমে আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী প্রায়ই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকে। দেশটির সিভিল সোসাইটিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত অন্তত ১৪৫ জন বেসামরিককে হত্যা করেছে পুলিশ। আর সশস্ত্র গোষ্ঠীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে ২০ জন বেসামরিক। ২০১৬ সালে আন্দোলনরত কাশ্মিরিদের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ অস্ত্রের প্রয়োগ করা হয়। সে সময় ব্যবহৃত ছোড়ড়া গুলির প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। কর্মকর্তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই  গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১৭ জন। আহত হয়েছেন ৬ হাজার ২২১ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকা ও আইন নিশ্চিত করতে না পারাটাই জম্মু-কাশ্মিরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার এক্ট ১৯৯০ ও পাবিলক সেফটি এক্ট ১৯৭৮ এমন একটি আইনি কাঠামো তৈরি করেছে যা স্বাভাবিক আইনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকাররা এতে করে বিপাকে পড়ে যান। এফএসপিএ অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনীর কোনও সদস্যে বিচার হবে না। এজন্য ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এতে করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যা খুশি তাই করতে পারেন। গত ২৮ বছর ধরে এই আইন বহাল আছে এবং এখন পর্যন্ত একজন সদস্যেরও বিচার হয়নি। এছাড়া কাশ্মিরে বেড়ে চলেছে অপহরণ ও গুমের ঘটনা। এর সঠিক তদন্তও হয় না অনেক সময়। কাশ্মির উপত্যকা ও জম্মুতে পাওয়া গেছে গণকবরও।
যৌন নিপীড়নকারীদেরও এখানে সাজা হয় না। ২৭ বছর আগে আলোড়ন তোলা কুনান-পুসপোরা ধর্ষণের বিচারই এখনও হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, বারবার আইনের আশ্রয় নিতে চাইলেও নিপীড়নের শিকারের পরিবার সেটা পায়নি। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, জম্মু ও কাশ্মিরে ১৯৮০ সাল থেকে কার্যক্রম চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, হত্যা ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগও রয়েছে। পাকিস্তান এমন গোষ্ঠীকে সমর্থন করে না দাবি করে আসলও বিশেষজ্ঞদের ধারণা ইসলামাবাদ থেকে তাদের সামরিক সহায়তা করা হয়।
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। বলা হয় এখানে আরও কাঠামোবদ্ধভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়। আজাদ জম্মু ও কাশ্মিরে বাকস্বাধীনতা নেই। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করারও সুযোগ মেলে না কাশ্মিরবাসীর।

প্রতিবেদনে বলা ইস্যুগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল এই দুই জায়গার সঙ্গে পাকিস্তানের সাংবিধানিক সম্পর্ক। ইতিহাসের শুরু থেকেই আজাদ কাশ্মির পাকিস্তনের নিয়নত্রণে। গিলগিত বালতিস্তানেও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানের। ফেডারেল গোয়েন্দারাও পুরো অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছেন। একটি জাতীয় এনজিওকে উদ্ধৃত করে রিপোর্টে বলা হয়, গিলগিত-বালতিস্তানে আইন ব্যবহার করে শত শত মানুষকে বন্দি করেছে। যারাই মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতে গেছে তাদেরই জেলে যেতে হয়েছে। প্রতিবেদনে ভারত ও পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
পরিস্থিতির উন্নয়নে মানবাধিকার কমিশন কিছু সুপারিশ করে। তা হলো,  ভারতের উচিত এএফএসপিএ আইনটি সংস্কার করা, ২০১৬  এর জুলাই থেকে সশস্ত্র বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত বেসামরিকদের ব্যাপারে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা, হতাহতদের পরিবারের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। প্রতিবেদনে বলা হয়, পিএসএ আইনও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনেই অনুসরণ করা উচিত। প্রশাসনের হাতে যারা আটক, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করতে হবে নয়তো মুক্তি দিতে হবে।
পাকিস্তানের কাছে মানবাধিকার কমিশন আহ্বান জানায় যেন সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অপব্যবহার না হয়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও সামাজিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার জন্য যেন এই আইন ব্যবহার করা না হয়। আজাদ কাশ্মিরের অভ্যন্তরীণ সংবিধানে বাকস্বাধীনতা নেই, করা যায় না শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন দরকার বলে জানায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। মত প্রকাশ করতে গিয়ে যদি কোনও রাজনৈতিক কর্মী কিংবা সাংবাদিক আটক হয়ে থাকে তবে তাদেরও মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানায় সংস্থাটি। তারা বলেন, আজাদ কাশ্মির ও গিলতি বালতিস্তানের সংবিধানের সংশোধনী করা প্রয়োজন। আহমেদিয়া মুসলিমদের সংবিধানের মাধ্যমেই ‘অপরাধী’ করে রাখা হয়েছে। সংশোধন প্রয়োজন সেই আইনেরও।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হতে আবেদন করা ভারতীয় নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পেতে ১৫১ বছর অপেক্ষায় থাকতে হতে পারে! যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস’ (ইউএসসিআইসি) গ্রিন কার্ডের জন্য জমা পড়া মোট আবেদনের সংখ্যা প্রকাশ করার পর ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কাটো ইন্সটিটিউট’ তাদের গবেষণায় দেখিয়েছে, বর্তমানে প্রচলিত বিধান অনুযায়ী এসব আবেদনের নিষ্পত্তি করতে হলে অস্বাভাবিক রকম দীর্ঘ সময় লাগবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করা মোট ভারতীয়র সংখ্যা ৬ লাখেরও বেশি।
১৫১ বছর অপেক্ষা করার বিষয়টি তাদের জন্য প্রযোজ্য তারা ‘উচ্চ ডিগ্রিধারী’ বিভাগে আবেদন করেছেন। ওই বিভাগ ইবি-২ নামে পরিচিত। অথচ দীর্ঘ সময় অপেক্ষার বিষয়টি তাদের জন্য প্রযোজ্য নয় যারা শুধু স্নাতক ডিগ্রিধারী। এমন কি দক্ষ পেশাজীবীদেরও অপেক্ষার প্রহর অতটা দীর্ঘ নয়। ইউএসসিআইসি জানিয়েছে ইবি-১ বিভাগে যারা আবেদন করেছেন তাদের অপেক্ষা করতে হবে ৬ বছর। ইবি অর্থ ‘এমপ্লয়মেন্ট বেজড।’ দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ওই বিভাগ প্রযোজ্য। এমন আবেদনকারীর সংখ্যা ৩৪ হাজারের বেশি। তাদের সঙ্গে রয়েছেন পরিবারের ৪৮ হাজার সদস্য। ইবি-১ বিভাগের মোট আবেদনকারী ভারতীয়র সংখ্যা ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন।
শুধু স্নাতক সম্পন্ন করার পর যারা আবেদন করেছেন তারা ইবি-৩ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। ‘কাটো ইন্সটিটিউট’ জানিয়েছে, এমন আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতি পেতে ১৭ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগতে পারে। এপ্রিলের ২০ তারিখ পর্যন্ত ৫৪ হাজারের বেশি ভারতীয় ওই বিভাগে আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের পরিবারের সদস্যদেরসহ ইবি-৩ বিভাগের মোট ভারতীয় আবেদনের সংখ্যা ১ লাখ ১৫ হাজার ২৭৩টি।
বর্তমানে যে আইন আছে তা যদি না পাল্টানো না হয় তাহলে সবচেয়ে বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে ইবি-২ বিভাগের আবেদনকারীদের। তাদের আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকবে ১৫১ বছর। ওই বিভাগের আবেদনকারীরা সবাই উচ্চ ডিগ্রিধারী। এমন আবেদনকারীর সংখ্যা ২ লাখের বেশি। তাদের পরিবারের সদস্যদের আবেদনের সংখ্যাও একই পরিমাণ। ইবি-২ বিভাগে থাকা মোট ভারতীয় আবেদনকারীর সংখ্যা ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৩৬৮ জন।
মূলত আবেদন মঞ্জুরের ক্ষেত্রে দেশভিত্তিক যে কোটা আছে তার কারণেই উচ্চ ডিগ্রিধারী ভারতীয়দের এমন দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ফাঁদে পড়তে হতে পারে। উচ্চ ডিগ্রিধারীদের জন্য দেশ প্রতি ৭ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাছাড়া এটাও নির্ধারিত যে প্রতিটি বিভাগ থেকে অন্তত ৪ হাজার ৪০টি করে আবেদন মঞ্জুর করা হবে। তবে দেশ প্রতি ৭ শতাংশ কোটার বিষয়টি তখন কার্যকর হয় যখন ওই বিভাগের জন্য বরাদ্দ করা গ্রিন কার্ড শেষ হয়ে যায়। যদি তা না হয়, তাহলে ৭ শতাংশের বেশি আবেদন মঞ্জুর হতে পারে। যে কারণে ২০১৭ সালে বরাদ্দ করা মোট গ্রিন কার্ডের ১৮ শতাংশই ভারতীয় ইবি-৩ বিভাগের আবেদনকারীরা পেয়েছেন। কিন্তু এই সুবিধা উচ্চ ডিগ্রিধারীদের জন্য প্রযোজ্য ইবি-২ বিভাগের ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না। ফলে ওই ভারতীয় আবেদনকারীদের গ্রিন কার্ড পেতে দেড় শতাব্দী পার হয়ে যেত পারে।
গত বছরে মঞ্জুর করা গ্রিন কার্ড আবেদনের হিসেব থেকে দেখা গেছে মাত্র ২ হাজার ৮৭৯ জন উচ্চ ডিগ্রিধারী ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতি পেয়েছেন। সেখানে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য প্রযোজ্য ইবি-১ বিভাগে অনুমোদন পেয়েছেন ১৩ হাজার ০৮২ জন। অন্যদিকে শুধু স্নাতক সম্পন্ন করা ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য ইবি-৩ বিভাগে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার ৬৪১ জনকে।
কান্নারত ফেরুজ খাতুন
শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কাঠমুড়া পাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে ছোট্ট ঝুপড়ির ঘরের ভেতর থেকে সশব্দে কান্নার শব্দ হচ্ছিল। এর কিছুক্ষণ পর আরেকটু পশ্চিম পাশে পাহাড়ের তীরে খোলা আকাশের নিচে ঈদের নামাজ শুরু হয়। তখন নামাজের মধ্যেও অনেকের কান্নার শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। এ নামাজে প্রায় দুই শতাধিকের বেশি রোহিঙ্গা অংশ নেন। নামাজ শেষে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ওই ঝুপড়ি ঘরের ভেতরে সশব্দে কাঁদছেন ফেরুজ খাতুন নামে এক রোহিঙ্গা নারী।
কাছে গিয়ে কান্নার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘গত বছর মিয়ানমারে ঈদের স্বামী ও সন্তানদের সাজিয়ে গুজিয়ে ঈদের নামাজের জন্য পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু আজ ওরা নেই। ৮ মাস আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনী আমার স্বামী নূর আলম ও তিন বছরের ছেলে নূর খালেদকে গুলি করে হত্যা করে। আজ এই ঈদের দিনে ওদের কথা ভীষণ মনে পড়ছে।’
ফেরুজ খাতুনের বাড়ি মিয়ানমারের কাওয়ারবিল গ্রামে।
শনিবার টেকনাফ-উখিয়ার লেদা, মৌচনি, কাঠমুড়া, বালুখালী, মধুরছড়া, কুতুপালংসহ আরও কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবিরে ঘুরে ও খবর নিয়ে জানা গেছে, খোলা আকাশে নিচে রোহিঙ্গারা ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। এসব জামাতে আনন্দের সঙ্গে অংশ নেওয়াদের সংখ্যা ছিল খুবই কম। বেশিরভাগই জামাতে গেছেন বুক ভরা কষ্ট নিয়ে। দেশ হারানো, ভিটে হারানো, বাড়ি-ব্যবসা-সম্পত্তি হারানোর কষ্টের চেয়েও বেশি তাদের স্বজন হারানোর কষ্ট। একবছর আগেও যারা ছিলেন ঈদ জামাতের সাথী, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞে এবার অনেকেই সঙ্গে নেই তাদের।  তবে ঈদ উপলক্ষে অনেক রোহিঙ্গাকে নতুন জামা পরে ঘুরে বেড়াতেও দেখা গেছে।
খোলা মাঠে রোহিঙ্গাদের ঈদ জামাত
অন্যদিকে,টেকনাফের কাঠমুড়া পাহাড়ের তীরে রোহিঙ্গা শিবিরে নামাজের শেষে প্রতিবাদ মিছিল করে রোহিঙ্গারা।
এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান বলেন, সব রোহিঙ্গা শিবিরে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ আদায় হয়েছে। কোথাও মিছিল বের হয়েছে কিনা তা জানা নেই। তবে এ বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঈদের জামাত শেষে অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান রোহিঙ্গা নেতা সৈয়দ আলম।  তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা খুব বেশি নির্যাতিত জনগোষ্ঠী।  এ জনগোষ্ঠীকে নির্বিচারে হত্যা করেছে মিয়ানমার সেনারা। যদি আমরা এ দেশে পালিয়ে না আসতাম তাহলে আমাদের নিশ্চিত মৃত্যু হতো। আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। আমরা সামনে আমার বড় ভাই দিল আলমকে গুলি করে হত্যা করছে মিয়ানমার সেনারা। অথচ আমি কিছু করতে পারেনি। এ যন্ত্রণা এখনও মনের ভেতর বয়ে চলছে। গত বছর আমরা সবাই ঈদের খুশির আনন্দ ভাগ করেছিলাম। কিন্তু আজ সেই আনন্দ দুঃখের স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও আমরা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই।’
তবে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়াসহ জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে বলেও দাবি জানান তিনি।
উখিয়া শিবিরের রোহিঙ্গা নারী ফেরুজা খাতুন (৩৫) বলেন, এবারের ঈদ কান্নার মধ্যে যাচ্ছে। কেননা ৮ মাস আগে স্বামী নূর আলম ও ছেলে তিন বছরের ছেলে নূর সাদেকে গুলি করে হত্যা করেছে মিয়ানমার সেনারা। তাদের কথা খুব বেশি মনে পড়েছে। আমার আরও পাঁচ সন্তান রয়েছে তাদেরকে মাংস ও রুটি খাওয়াতে পারিনি।কাউকে কোনও নতুন জামা কিনে দিতে পারিনি।
টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের মেম্বার মো. রশিদ আহমেদ বলেন, তার শিবিরে প্রায় তিনশ’’ ঘর রয়েছে। ঈদে অধিকাংশ ঘরে টাকার অভাবে মাংস কিনতে পারেনি। যে কিনতে পেরেছে সে তাদের পাশের ঘরের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তা ভাগ করে খাচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী মসজিদে ঈদ জামাত
২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সফটওয়্যার আমদানিতে শুল্ক কমানো ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে দেশীয় সফটওয়্যার খাতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। বাজার ধ্বংসের পাশাপাশি স্থানীয় সফটওয়্যার নির্মাতারা পথে বসে যাবে। দেশীয় সফটওয়্যার খাতের বিকাশের পরিবর্তে বিদেশি সফটওয়্যার বাজার দখল করে নেবে।
বাজেট ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী সফটওয়্যার আমদানির ওপর থেকে ২০ শতাংশ শুল্ক ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেন।
জানতে চাইলে বেসিসের (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বললেন ভিন্ন কথা। তিনি মনে করেন, এটা হয়তো ভুলে হয়েছে। তার আশা, সরকার এটা বাজেট পাসের আগেই ঠিক করে দেবে। তা না হলে দেশীয় সফটওয়্যার খাত বড় ধরনের অসুবিধার মধ্যে পড়বে। বেসিস সভাপতি বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট মহলকে আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। শিগগিরই আমরা এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করবো। আশা করছি এর একটা সুরাহা হবে।’ বিদেশি সফটওয়্যারের টোটাল আমদানি শুল্ক ও কর প্রায় ৫৯ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনাকে নিছকই তিনি ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে দেখছেন!
ডাটাবেজ, অপারেটিং সিস্টেম, ডেভেলপমেন্টস টুল, প্রোডাক্টিভিটি, অটোমেটিক ডাটা প্রসেসিং মেশিনের জন্য কমিউনিকেশন বা কোলাবরেশন সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন সফটওয়্যারে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুল্ক ও ভ্যাট মিলিয়ে ৪০ শতাংশ দেখালেও আমদানি মোট খরচ (শুল্ক, ভ্যাটসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে) প্রায় ৫৯ শতাংশ।
বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘এই প্রস্তাবনা পাস হলে দেশীয় সফটওয়্যার খাত বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। যে সফটওয়্যার দেশেই তৈরি হয়, সেগুলোর আমদানির শুল্ক যদি একেবারে কমিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে দেশি কোম্পানিগুলো একেবারে পথে বসে যাবে। বিদেশি সফটওয়্যার বাদ দিয়ে কেউ দেশি সফটওয়্যার কিনতে চাইবে না।’ তিনি মনে করেন, দেশে যেসব বিদেশি কোম্পানি সফটওয়্যার বিপণন করছে, তারা হয়তো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) প্রভাবিত করে নিজেদের স্বার্থে কাজটি করিয়েছে। এটা দেশীয় সফটওয়্যার খাতে সংকট তৈরি করবে।
সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, অপারেটিং সিস্টেম, ডাটাবেজ সফটওয়্যার দেশে আসুক, শুল্ক যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা হোক। সবসময় যেভাবে কেনা হচ্ছে, এসব সেভাবেই কেনা হবে। অন্যদিকে ইআরপি, ইআরএম বা অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার দেশেই তৈরি হচ্ছে। সরকারের উচিত এসব সফটওয়্যার তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া। তা না করে সফটওয়্যার আমদানিতে শুল্ক কমানো ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন দেদার এসব সফটওয়্যার আমদানি হবে। বিদেশপ্রীতির কারণে অনেকেই দেশি সফটওয়্যার ফেলে বেশি দামে বিদেশি সফটওয়্যার কিনতে উৎসাহী হবে। ফলে দেশীয় নির্মাতারা ক্রেতা পাবে না। বাজার হারাবে। এই বিষয়গুলো সরকারের বিবেচনা করা উচিত বলে অনেকেই মনে করেন।
বেসিসের সাবেক সভাপতি শামীম আহসান বলেন, ‘বাংলাদেশে যেসব বিদেশি সফটওয়্যার কোম্পানি ব্যবসা করছে সেসব প্রতিষ্ঠান কর অব্যাহতি পাচ্ছে। বরং এসব কোম্পানিকে করপোরেট করের আওতায় আনা উচিত। তা না করে তাদের সুবিধা দিতে শুল্ক কমানো হয়েছে এবং ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব সময় বলে এসেছি, অপারেটিং সিস্টেম, ডাটাবেজ সফটওয়্যার যেগুলো দেশে তৈরি হয় না, সেগুলোর আমদানি শুল্ক ‘মিনিমাম’ করা উচিত। তাহলে দেশে লাইসেন্সড সফটওয়্যারের ব্যবহার বাড়বে। আর ইআরপি, ইআরএম ও অ্যাকাউন্টিংয়ের মতো যেসব সফটওয়্যার দেশে তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর আমদানি শুল্ক ম্যাক্সিমাম করা উচিত। তাহলে দেশীয় সফটওয়্যার খাত বিকশিত হবে। কিন্তু তা না করে বরং উল্টোটা করা হয়েছে—যা দেশীয় সফটওয়্যার খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।’
বেসিসের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ জানান, দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশে হুমকি বাড়িয়ে বিদেশি সফটওয়্যার আমদানি কর ৫৮ থেকে মাত্র ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, বিদেশি কোম্পানির হয়ে এমন সফল লবিং নিশ্চয়ই আমাদের মধ্য থেকেই কেউ কেউ করেছেন। বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর কর মাটিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাবে আমাদের স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দেশীয় সফটওয়্যার খাতের উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
ধর্ম খাতে গত অর্থবছরের চেয়ে দ্বিগুণ বরাদ্দ বাড়লেও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাগ্যে কোনও পরিবর্তন আসছে না। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ১১৬৮ কোটি টাকা হলেও তার বেশিরভাগই ব্যয় হবে অবকাঠামো নির্মাণে। গত বছর একনেকে অনুমোদিত ৫৬০টি মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণেই বাজেটের বেশিরভাগ টাকা বরাদ্দ ছিল। সারাদেশের এসব মসজিদ ও অন্য অবকাঠামো নির্মাণে খরচ হবে ৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা। এরমধ্যে ৮ হাজার ১৭০ কোটি টাকাই দেবে সৌদি সরকার। এত এত মসজিদ নির্মাণ হলেও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতার জন্য তেমন কোনও বরাদ্দ নেই।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণে অনুদান এখনও ছাড় দেয়নি সৌদি আরব সরকার। আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ দেশটির একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এলে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একেকটি মসজিদের জন্য কমবেশি ১৫ কোটি খরচ হবে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ধর্ম খাতে ১১৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরে ছিল ৯৭৫ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বাজেট বক্তব্যে বলেছেন, ‘ধর্ম ও ধর্মীয় মূল্যবোধের যথাযথ পরিপালন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে ও প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন, মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আনিছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ট্রাস্টের অধীনে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। যে পরিমাণ বাড়ানো দরকার, সে পরিমাণ বাড়ানো হয়নি। মূলত প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থ বরাদ্দ বেশি হওয়ার কারণ— গত অর্থবছরের (২০১৭-১৮) বাজেটের তুলনায় এবার বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং তা মূলত বিভিন্ন প্রজেক্টের কারণে। এটা ইসলামিক ফাউন্ডেশন ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রেও বাড়বে।’
আনিছুর রহমান আরও বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ বেশি হওয়ার আরেকটি কারণ মডেল মসজিদ নির্মাণ। এই মসজিদগুলো নির্মাণে প্রথমে সৌদি সরকারের টাকা দেওয়ার কথা ছিল। তারা নিজেরাই এটা বলেছিল। কিন্তু এখনও তাদের অনুদান এসে পৌঁছেনি। এ কারণে আমরা নিজেদের বাজেট থেকেই শুরু করেছি। গত দুই মাস হলো প্রধানমন্ত্রী এটা উদ্বোধন করেছেন। পরে এটা অ্যাডজাস্ট করে নেওয়া হবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘এ বছরের মধ্যে ১০০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ শেষ হবে। বাকিগুলো পরবর্তী বছরে শুরু হবে। এটাই টার্গেট। এ কারণেই এবারের বাজেটে বরাদ্দ বেড়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের।’
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, বাজেটে উত্তরোত্তর বরাদ্দ বাড়লেও এতে করে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জীবনে গুণগত কোনও পরিবর্তন আসছে না। বরং প্রস্তাবিত বাজেটে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কল্যাণ ট্রাস্টে বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করা হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় তা করেনি।
সরকারিভাবে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন না দেওয়া হলেও তাদের জন্য ট্রাস্ট রয়েছে। এছাড়া, তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে ২০০১ সালের ১ জুলাই সংসদে আইন পাস করা হয়। এরপর হঠন করা হয় ‘ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট’। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কল্যাণে সরকার একটি ট্রাস্ট ফান্ডও গঠন করেছে। ফান্ডের লভ্যাংশ থেকে গত বছর পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে ২১৭০ জনকে ৩৫,১৭,৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে।
সোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইমামরা হচ্ছেন জাতির শিক্ষক। তাদের জীবন-মান উন্নয়নে অবশ্যই সরকারের অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার।’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানিয়েছে, সারাদেশে চারটি মসজিদ সরকারি বেতন-ভাতা ও সুবিধা ভোগ করে। এগুলো হচ্ছে, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ, আন্দরকিল্লা মসজিদ ও রাজশাহীর হেতেম খাঁ মসজিদ। এছাড়া বঙ্গভবন জামে মসজিদ, গণভবন জামে মসজিদ ও সচিবালয়ের মসজিদটিও কিছু সরকারি সুবিধা পায়। সরকারি মসজিদগুলোয় সুবিধা নিশ্চিত হলেও সারাদেশের মসজিদগুলোয় সরকারি নীতিমালাটি উপেক্ষিত। পালনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় কোনও মসজিদেই এ নিয়ম মানা হয় না।
জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আনিছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইমাম-মুয়াজ্জিন ট্রাস্টের অধীনে কয়েক কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। তাদের জন্য আসলে যেভাবে করা দরকার, সেভাবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সাড়া পাচ্ছি না। আমি নিজেও বলেছি, ইমাম-মুয়াজ্জিনরা অত্যন্ত নিগৃহীত। তাদের তো এখনও বেতন দেওয়া হয় না। কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে তাদের অনুদান হিসেবে তাদের সহায়তা করা হয়।’
গত ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টে ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে মুঞ্জুরি দিয়েছে সরকার। ইমাম-মুয়াজ্জিনরা বার্ধক্যজনিত কারণে অক্ষম, আর্থিক অনটনে পড়লে অফেরতযোগ্যভাবে তাদের সহায়তা দেওয়া হয়।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হিলিয়াম গ্যাসের সরবরাহ সীমিত করার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। তেল আবিবের দাবি, ফিলিস্তিনিদের ‘ঘুড়ি সন্ত্রাস’ বন্ধের স্বার্থেই এই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে তারা। হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করে নিজেদের আওতাধীন ভূখণ্ড থেকে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলে জ্বলন্ত ঘুড়ি পাঠিয়ে দেয়। একে ঘুড়ি সন্ত্রাস আখ্যা দিয়ে ইসরায়েল দাবি করে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দাবানল সৃষ্টি ও বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতির জন্য দায়ী। হিলিয়াম গ্যাস সরবরাহ সীমিত করার পেছনে ইসরায়েল ঘুড়ি সন্ত্রাস বন্ধের যুক্তি দিলেও এর কারণে গাজা উপত্যকার চিকিৎসা ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
টাইমস অব ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডলইস্ট মনিটরের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার (১২ জুন) ইসরায়েলের সরকারি কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত সমন্বয়কারী (সিওজিএটি) মেজর জেনারেল কামিল আবু রোকন গাজায় হিলিয়াম গ্যাস সরবরাহ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেছেন।
ইসরায়েলি সেনাদের ভারী মারণাস্ত্রের বিপরীতে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিরা ঘুড়িকে তাদের লড়াইয়ের অস্ত্র বানিয়েছে। ইসরায়েল অভিযোগ করে আসছে, সাম্প্রতিক গ্রেট রিটার্ন মার্চের সময় গাজা থেকে উড়ে আসা জ্বলন্ত ঘুড়ি থেকে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে দাবানল দেখা দিয়েছে। ঘুড়ির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৪ লাখ মার্কিন ডলার দাবি করেছে দেশটি। মঙ্গলবার ইসরায়েলের সরকারি কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত সমন্বয়কারী (সিওজিএটি) মেজর জেনারেল কামিল আবু রোকন দাবি করেন, গাজার বিক্ষোভকারীরা বেলুনে হিলিয়াম গ্যাস ভরে সেগুলো সীমান্তের ওপারে পাঠাচ্ছে এবং এর ফলে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরে যাচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকলে গাজায় কোনও হিলিয়াম গ্যাস প্রবেশ করবে না বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
নতুন কড়াকড়ির আওতায় গাজায় ঠিক কী পরিমাণ হিলিয়াম গ্যাস সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হবে তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি রোকন। তবে এই গ্যাসের ওপর গাজাবাসীর চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেকাংশে নির্ভরশীল। ইসরায়েলের অবরোধের কারণে প্রাত্যহিক বিদ্যুৎ সরবরাহে সীমাবদ্ধতা থাকায় এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অভাবে আগে থেকে বিপর্যয়পূর্ণ অবস্থায় আছে গাজার হাসপাতালগুলো। জ্বালানি না থাকায় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে গাজা উপত্যকার সাতটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জেনারেটরগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া গত ৩০ মার্চ থেকে ফিলিস্তিনিদের গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। এসব আহতকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। আর এর মধ্যে যদি হিলিয়াম গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় তবে গাজার হাসপাতালগুলো প্রচণ্ড রকমের বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে পারে। কারণ, এমআরআই মেশিনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামাদি চালাতে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৩০ মার্চ ভূমি দিবসের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১২০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ১৪ মে। ফিলিস্তিনিদের ‘গ্রেট রিটার্স মার্চ’র বিক্ষোভ কমর্সূচি চলমান থাকা অবস্থায় এদিন ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা তাদের বিক্ষোভ জোরালো করলে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালায়। এই কর্মসূচি শুরুর পর থেকে ঘুড়ি পাঠানো বাড়িয়েছে ফিলিস্তিনিরা।
ফিলিস্তিন থেকে যাওয়া জ্বলন্ত ঘুড়ির কারণে যাদের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সন্ত্রাসের ভুক্তভোগী হিসেবে অভিহিত করেছে ইসরায়েল। সম্প্রতি ইসরায়েলের জননিরাপত্তা মন্ত্রী গিলাদ এরদান বলেন, ‘ঘুড়ি সন্ত্রাস’ খুবই মারাত্মক। যারা এসব পাঠায় তাদের জীবন নিয়ে ভয়ে থাকা উচিত। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিরোধমূলক গুপ্তহত্যা চালানো উচিত। এসব ঘুড়ির প্রেরক ও হামাস নেতাদের অবশ্যই এই প্রতিরোধমূলক হত্যার লক্ষ্য করতে হবে।’
অন্যান্য ইসরায়েলি রাজনীতিকরাও এই বিতর্কে হাওয়া দিয়ে যাচ্ছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদোর লিবারম্যানও এরদানের কথার পুরনাবৃত্তি করেন। আই টোয়েন্টিফোর নিউজের খবরে লিবারম্যানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘এটা অবশ্যই পরিষ্কার হওয়া উচিত যে আমরা ঘুড়ি হামলা, সীমান্ত বেষ্টনীর কাছে দাঙ্গা, বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা বা ইসরায়েলি এলাকার সার্বভৌমত্বের কোনও ক্ষতি মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নই’।
ঈদে হতাশায় রোহিঙ্গারা
‘আমার স্বামী নেই। রাখাইনে আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে সেনাবাহিনী। আমি চার সন্তান নিয়ে ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করছি। ঈদে কোনও সন্তানদের কাপড়-চোপড় তো দূরের কথা, খাওয়ার মতো সেমাইও দিতে পারিনি।’ কথাগুলো বলছিলেন উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মরিয়ম বেগম।
কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ঈদ উদযাপনের তেমন কোনও আমেজ নেই বললেই চলে। বেশিরভাগ রোহিঙ্গাদের কাছে ঈদ নিয়ে রয়েছে নানা হতাশা। ঈদের নতুন কাপড়, সেমাইসহ অন্যান্য উপকরণ কিনতে না পেরে তারা এ হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তবে প্রশাসনিকভাবে রোহিঙ্গাদের ঈদের নানা উপরকরণ ও ঈদের নামাজ আদায়ের সার্বিক প্রস্তুতি কথা জানিয়েছেন।
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গাদের মধ্যে অবস্থা সম্পন্ন অনেকেই ক্যাম্প নিকটবর্তী বাজার থেকে ঈদের কেনাকাটা করেছেন। তবে বেশিরভাগ রোহিঙ্গারাই রয়েছে হতাশায়।
উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আয়ুব মাঝি বলেন, ‘এবারের ঈদে কোনও এনজিও এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা কোনও ধরনের সাহায্য করেনি। এতে করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনেকেই হতাশায় রয়েছে। আমার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লকে ২ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা রয়েছে। এদের অধিকাংশ তাদের সন্তানদের জন্য কোনও কাপড় ও সেমাই কিনে দিতে পারেনি।’
একই ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মৌলভী আব্দুর রহমান বলেন, ‘রাখাইনে ঈদ তো দূরের কথা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ারও সময় দেয়নি সেনাবাহিনী। সবসময় মনের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক কাজ করতো। কিন্তু বাংলাদেশের শিবিরে একটু কষ্ট হলেও সেই ভীতি নেই। এ কারণে আমরা অনেক সুখি আছি।’
উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ছবুরা খাতুন বলেন, ‘রাখাইনে থাকতে আমার স্বামী অন্যের বাড়িতে শ্রমিকের কাজ করে আয় রোযগাড় করতো। কিন্তু এখানে ক্যাম্প থেকে কোথাও যেতে না পারায় কোনও কাজকর্ম করতে পারছে না। এ কারণে এবারের ঈদ অন্যান্যবারের চেয়ে অনেক আলাদা।’
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘জেলা প্রশাসন সবসময় রোহিঙ্গাদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে। উখিয়া ও টেকনাফে যে সমস্ত ক্যাম্প রয়েছে সব ক্যাম্পে ‘ডব্লিউএফপি’ ‘ইউএনসিআর’ ‘আরআরসি’ সহ বিভিন্ন সংস্থা ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছে। একই সঙ্গেসপ্তাহিক ও মাসিক রেশমও বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও রোহিঙ্গারা যাতে অন্যদের মতো ঈদের নামাজ আদায় করতে পারে সেজন্য মসজিদে মসজিদে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
পাহাড় ধসের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন পরিবেশবাদীরা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য,মানুষ তার কৃতকর্মের কারণেই আজ পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে। পাহাড়ের স্বাভাবিক গড়ন নষ্ট করার কারণেই মূলত মানুষ এখন মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারাচ্ছে।
গত বছর রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ১১২ জন। সেই ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আজ (১২ জুন) একই জেলায় আবারও পাহাড় ধসে প্রাণ গেল ১১ জনের। শুধু রাঙামাটি নয়,এভাবে প্রতিবছর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসে প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। দিন দিন মৃত্যুর এই মিছিল বাড়ছেই।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাহাড়ের বেশিরভাগ মাটি বালু নির্ভর। ওই মাটি যখন অতিরিক্ত পানি শোষণ করে নেয়, তখন তার গড়ন নড়বড়ে হয়ে যায়। শক্ত গড়ন নষ্ট হয়ে মাটি সরে যায়। তখন মাটি ধসে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বালু নির্ভর হলেও পাহাড়গুলো যদি তাদের নিজস্ব গড়নে থাকে, তখন সেগুলো ধসে পড়ার আশংকা কম থাকে। পাহাড় তার নিজস্ব গড়নে থাকলে বৃষ্টির পানি দ্রুত গড়িয়ে নিচে চলে যায়। কিন্তু যখন মানুষ পাহাড় কেটে বা অন্য কোনোভাবে পাহাড়ের গড়ন নষ্ট করে, তখন পাহাড়ের মাটি অধিকমাত্রায় পানি শোষণ করার সুযোগ পায়। এ কারণেই কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হলে পাহাড় ধসে পড়ে।’
ড. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘শুধু বসবাস করার জন্য পাহাড় কাটা হচ্ছে অথবা মাটির গড়ন নষ্ট করা হচ্ছে তা নয়। পাহাড়ে চাষাবাদ করতে গিয়েও এর মাটির গড়ন নষ্ট করা হচ্ছে। যে কারণে এখন অনেক জনবসতিহীন পাহাড়ও ধসে পড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘থাকার জন্য হোক আর চাষাবাদের জন্য হোক কোনোভাবেই পাহাড়ের মাটির গড়ন নষ্ট করা উচিত নয়। পাহাড়ের গড়ন নষ্ট করলে পাহাড় ধসে পড়বেই।’
গোলাম কিবরিয়ার মতো একই মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মতো পাহাড়কেও সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে যদি আইন প্রণয়ন করা যায় এবং আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়, তবে পাহাড় ধসে প্রাণহানি রোধ করা যাবে; অন্যাথায় এটি রোধ করা সম্ভব নয়।’
ড. মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘মাইকিং করে, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে পাহাড়ে বসতিরোধ করা সম্ভব নয়। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কিছু লোক একটি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে পাহাড়গুলো দখল করে। পরে সেখানে ঘর তুলে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে তা ভাড়া দিয়ে দেয়। পাহাড়ে বসতিরোধ করতে হলে ওইসব লোককে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ভূমিদুস্যরা প্রথমে গ্রামীণ জনপদ থেকে আসা ভাসমান মানুষকে পাহাড়ের পাদদেশে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। এরপর পাহাড় কেটে জায়গাটা সম্প্রসারিত করে। তারপর সেখানে ঘর তুলে ভাড়া দিতে থাকে এবং একপর্যায়ে নিজেকে ওই জায়গার মালিক দাবি করে।’
মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ পাহাড় এই প্রক্রিয়ায় দখল হয়ে গেছে। পাহাড় বিলীন হয়ে সেসব এলাকায় এখন বড় বড় অট্টালিকা গড়ে উঠেছে।’
ড. মাকসুদুর রহমানের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল পাওয়া গেছে। নগরীর মতিঝরনা, টাংকির পাহাড়, খুলশী পাহাড়, মিয়ার পাহাড়, একেখান পাহাড়, বাটালী হিল, আকবরশাহ –এসব পাহাড়ে দিন দিন জনবসতি বাড়ছে। পাঁচ বছর আগে যে পাহাড়ে একশ’ পরিবার থাকতো, এখন সেসব পাহাড়ে কয়েক শত পরিবার বসবাস করছে। পাহাড় ধসে প্রাণহানির পরও সেখানে নতুন নতুন বসতি গড়ে উঠছে।
অন্যদিকে, পাহাড়ে বসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড় ধসে মৃত্যুর মিছিলও বাড়ছে। গত ১০ বছরে চট্টগ্রাম বিভাগে চার শতাধিক মানুষ পাহাড় ধসে মারা গেছেন। যদিও এ বিষয়ে বিভাগীয় কার্যালয়ে সুর্নিদিষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পত্র-পত্রিকার খবর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১০ বছর চট্টগ্রাম বিভাগে ৪১৩ জন পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছেন।
২০০৭ সালের ১১ জুন মধ্যরাত থেকে প্রবল বর্ষণের পর একযোগে নগরীর কুসমবাগ, কাইচ্যাঘোনা, সেনানিবাসের লেডিস ক্লাব সংলগ্ন লেবুবাগান, বায়েজিদ বোস্তামী, লালখান বাজারের মতিঝরনা পাহাড়সহ সাতটি পৃথক স্থানে পাহাড় ধসে নিহত হন ১২৭ জন।
২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট নগরীল লালখান বাজার মতিঝরনা এলাকায় পাহাড় ধসে মারা যায় চার পরিবারের ১২ জন। এরপর ২০১১ সালের ১ জুলাই টাইগার পাস এলাকার বাটালি হিলের ঢালে পাহাড় ও প্রতিরক্ষা দেওয়াল ধসে মারা যায় একই পরিবারের পাঁচ জনসহ মোট ১৭ জন।
২০১২ সালের ২৬ জুন নগরীর আকবর শাহ, উত্তর পাহাড়তলীর বিশ্বকলোনি, মক্কীঘোণা ও বাঁশখালীতে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে মারা যায় ২৩ জন। একই বছরের ২৬ এবং ২৭ জুন কক্সবাজার, বান্দরবান ও সিলেটে পাহাড় ধসে মারা যান আরও ৬১ জন।
২০১৫ সালের ২৬ এবং ২৭ জুন ধস আর পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে মারা যান ১৯ জন। ২০১৭ সালের ২০ মে আনোয়ারায় পাহাড় কাটার সময় মাটি চাপায় নিহত হন এক শ্রমিক। একই বছরের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ১১০ জন, চট্টগ্রামে ২৩ জন, বান্দরবানে ছয় জন, কক্সবাজারে দুই জন ও খাগড়াছড়িতে একজনের প্রাণহানি ঘটে। সর্বশেষ আজ (১২ জুন) রাঙামাটির নানিয়ারচরে পাহাড় ধসে মারা যান ১১ জন।
পরিবেশবাদী সংগঠন পিপলস ভয়েসের সভাপতি শরিফ চৌহান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে পাহাড় ধসে মৃত্যুরোধ করা যাচ্ছে না। বর্ষা এলে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। কিন্তু বর্ষা চলে গেলে আর তাদের কোনও খোঁজ খবর থাকে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ে কতজন লোক বসবাস করছে,  সেই তালিকা পর্যন্ত প্রশাসনের কাছে নেই। বর্ষা এলে জরিপ শুরু হয় প্রশাসনের। জরিপ শেষ হওয়ার আগেই আবার পেরিয়ে যায় বর্ষা। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বছরে দুয়েকটি বৈঠক করে। বৈঠকে পাহাড়ে বসতিরোধে তারা বিভিন্ন সুপারিশ দেয়। কিন্তু এসব সুপারিশ কার্যকর হয় না।
এ সম্পর্কে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করি। অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতঘরগুলো উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু তারপরও পাহাড়ে বসতিরোধ করা যাচ্ছে না। আর যতদিন পাহাড়ে বসতিরোধ করা যাবে না ততদিন পাহাড় ধসে প্রাণহানি রোধ করা যাবে না।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্পেশাল কোনও আইন না থাকায় যারা পাহাড় বসতি স্থাপন করে তাদের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত মামলা দায়ের করি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অধীনে এনে এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে পাহাড়ে বসতি অনেক কমে যেতো।’
এসময় পাহাড় ধসে হতাহতের তালিকার বিষয়ে সন্তোষজনক কোনও উত্তর দিতে পারেননি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার। তবে তিনি বলেন,‘এ ধরনের সুনির্দিষ্ট কোনও তালিকা আমাদের কাছে নেই। যখন পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে, তখন আমরা নিহতদের তালিকা প্রস্তুত করি, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই তালিকা আমাদের কাছেও থাকে। তবে সেটি রিপোর্ট আকারে সংরক্ষণ করে রাখা হয় না।’
এসময় তিনি পাহাড় ধসে নিহতদের তালিকার জন্য অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুরুল আলম নোমানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ১০ বছরে পাহাড় ধসে নিহতদের কোনও পরিসংখ্যান তালিকাবদ্ধভাবে নেই। বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তথ্য ঘেঁটে নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।’
এক-এগারো ঘটনাটিকে একটি সামরিক অভ্যুত্থান হিসেবেও দেখেন কেউ কেউ। এখানে সশস্র বাহিনী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব সরাসরি না নিয়ে সামনে একটা অসামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে রেখে পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছে। কয়েক বছর ধরেই এই হস্তক্ষেপের জমি তৈরি হচ্ছিল। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার স্থূল প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিবিশেষের একগুয়েমি, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং ধর্মীয় চরমপন্থার উত্থান এ পরিবর্তনের পটভূমি তৈরি করে দিয়েছিল। এ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া যায় ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে টমাসের কাছ থেকে। তিনি ২০০৩ সালের ২৭শে মে থেকে ২০০৫ সালের ২রা জুলাই পর্যন্ত ঢাকায় রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
লেখক, গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ ‘১/১১’ শীর্ষক এক লেখায় এসব কথা লিখেছেন। প্রথম আলো’র ঈদ সংখ্যায় লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে আরো লেখা হয়েছে, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০০৪ হ্যারি কে টমাস ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দপ্তরে একটি তারবার্তার মাধ্যমে জানান যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সেনাপ্রধান ও আওয়াম লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী নূরউদ্দীন খান ক্ষমতাসীন চারদলীয় জোট সরকারের অবসান ঘটিয়ে দুই প্রধান দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যমতের সরকারকে ক্ষমতায় বসাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছেন।
সম্প্রতি এক নৈশভোজের সময় তিনি (নূরউদ্দীন) রাষ্ট্রদূতকে বলেন, তিনি ‘উপর্যুপরি গণবিক্ষোভের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে’ চান। নূরউদ্দীনকে রাষ্ট্রদূত জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা চায়, সরকার বদলের জন্য যেকোনো অসাংবিধানিক পদ্ধতি বা সামরিক অভ্যুত্থান সমর্থন করে না। নূরউদ্দীনের অভিযোগ ছিল, প্রধানমন্ত্রীর ভাই মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দারের সতীর্থদের মধ্যে থেকে সাতজন জেনারেলকে অনুগত মনে করে সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে। খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের
আমলে (১৯৯১-৯৬) সামরিক বাহিনীতে দলীয়করণ শুরু হয়। শেখ হাসিনার সরকার (১৯৯৬-২০০১) এই ধারা অব্যাহত রাখে। নূরউদ্দীন প্রস্তাব করেন যে, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট আবু তৈয়ব মোহাম্মদ জহিরুল আলম (জেনারেল জহির নামে ডাকা হয়) দেশের দায়িত্ব নিক। জহির উভয় দল থেকে যোগ্য মন্ত্রী নিয়ে দুই-তিন বছরের জন্য একটি সরকার গঠন করবেন; দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নত করা, একটি নতুন সংবিধান তৈরি করা, দুর্নীতি দূর করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করা হবে তার লক্ষ্য; এরপর তিনি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আয়োজন করবেন।
বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার জন্য নিজেকেও কিছুটা দায়ী করে নূরউদ্দীন রাষ্ট্রদূতকে বলেন, জেনারেল এরশাদের পতনের সময় তার বন্ধু ও সাবেক সহকর্মী পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসলাম বেগ গোপনে দূত পাঠিয়ে তাকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন। নূরউদ্দীন তাতে রাজি না হয়ে আসলামকে অনুরোধ করেছিলেন বিএনপিকে সমর্থন করতে। তখন পাকিস্তান তাদের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইকে ব্যবহার করে বিএনপিকে অর্থের যোগান দিয়েছিল আর ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ টাকা দিয়েছিল আওয়ামী লীগকে। এ ধরনের অর্থায়ন এখনো চলছে। নূরউদ্দীন বলেন, শেখ হাসিনার কাজকর্মে নয়াদিল্লি অসন্তুষ্ট ছিল এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় উভয় দলকেই তারা টাকা দিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত এই তারবার্তায় আরও বলেন, গত ১৩ই সেপ্টেম্বর বিএনপির সংসদ সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান তাকে বলেছিলেন যে, সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থান ঘটানোর আগে সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি সংকেতের অপেক্ষায় থাকবে; ১৯৯৬ সালে সম্ভবত দুটি অভ্যুত্থান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল ইতিবাচক। তবে মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরী রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, সামরিক বাহিনী এমন কিছু করবে না যার ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
বইয়ের এ তথ্যের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, হ্যারি কে টমাস তারবার্তায় এসব কথা বলেছেন। ১/১১ নিয়ে আমার বই যখন প্রকাশিত হবে তখন সূত্রের ব্যাপারে বিস্তারিত লেখা হবে।
১/১১ শীর্ষক নিবন্ধে মহিউদ্দিন আহমদ আরো লিখেছেন, নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যখন মুখোমুখি অবস্থানে এবং চারদিকে কেবলই অনিশ্চয়তার অন্ধকার আর সহিংসতার আশঙ্কা, তখন রাজনীতিতে লেখা হচ্ছিল ভিন্ন এক চিত্রনাট্য। মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটিনেস এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী ৬ই জানুয়ারি ২০০৭ শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে বলেন যে, এ ধরনের প্রস্তাবে তাদের সায় নেই এবং অচলাবস্থা কাটাতে দুই নেত্রী সাহসী পদক্ষেপ নিলে এ ধরনের জল্পনাকল্পনার অবসান হবে।
বাণিজ্য নয় নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে বগুড়ার পল্লী দই। দুটির উদ্ভাবক পল্লী উন্নয়ন একাডেমি-আরডিএ। শুরুটা নিজেদের ব্যবসায়িক চিন্তা থেকে না হলেও, বর্তমানে চাহিদা বাড়ায় মোটা অঙ্কের ব্যবসাও হচ্ছে এখন। সেই সঙ্গে দিন দিন বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিও হচ্ছে। পল্লী দই বগুড়ার স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এখন রাজধানী ঢাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির গবেষণায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে উৎপাদিত পল্লী দই ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পরিমিত মিষ্টি, সুস্বাদু ও দামেও বাজারের অন্যান্য দইয়ের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় পল্লী দইয়ের প্রতি অনেকেই আকৃষ্ট হচ্ছেন।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের জন্য ইতোমধ্যেই একটি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। লালমনিরহাট থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত বিভিন্ন চরে ১ লাখ ৩৩ হাজার পরিবারকে ১ লাখ ৩৩ হাজার গরু বিনামূল্যে দেয় আরডিএ। যা এখন ১০ লাখ গরুর বেশি হয়েছে। এসব গরু প্রতিদিন এখন দুধ দিচ্ছে। চরের এসব মানুষ তাদের গরুর দুধ বিক্রির সঠিক বাজার ও মূল্য বেশিরভাগ সময় পান না। ফলে তারা অনেক সময় দুধ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। খামারিদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে দুধ প্রক্রিয়াজাত করে দই উৎপাদনে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। যাতে তারা নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে দুধ থেকে দই উৎপাদন করতে পারেন। এতে তারা সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
এ ছাড়া গবেষণা করে ইনকিউবিটরে দই জমানোর পদ্ধতি আবিস্কার করা হয়েছে। ফলে দই প্রস্তুত করতে হাতের কোন প্রকার স্পর্শ লাগে না এবং বাইরের কোন প্রকার ময়লা আবর্জনা দইকে স্পর্শ করতে পারে না। ফলে এ পদ্ধতিতে আমরা স্বাস্থ্যসম্মত দই পেতে পারি। ইতোমধ্যে বেশকিছু উদ্যোক্তা একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়ে স্বাস্থ্য সম্মত দই উৎপন্ন করতে ইনকিউবিটর তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বগুড়া শহরের লাবানন দইঘর ইনকিউবিটর তৈরি করছেন। আর খুব শীঘ্রই তিনি ইনকিউবিটরে জমানো স্বাস্থ্যসম্মত দই তারা বাজারজাত করবেন। এ ছাড়া ঢাকায় দই এর চাহিদা বেশি থাকায় সেখানে কয়েকজন উদ্যোক্তা দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। খুব শীঘ্র ঢাকায় দ্বিতীয় পল্লী দই এর ইউনিট স্থাপনের কাজ শুরু হবে।
রাজধানীর বনশ্রীর বিডি গার্ডেনার্স লিমিটেড ও ইস্কাটনের ফ্যান্টাসিয়া নামের দু’টি প্রতিষ্ঠান ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পল্লী দই ইতোমধ্যেই সরবরাহ শুরু করেছে। বর্তমানে তার মাধ্যমে প্রায় ৭ থেকে ৮টি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পল্লী দই সরবরাহ নিয়ে থাকে। বাজারের অন্যান্য দই থেকে পল্লী দই এর একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো স্বাভাবিক মিষ্টি ও দামে সস্তা। বাজারে ৮০০ গ্রাম ওজনের সড়ার দইয়ের দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা হলেও পল্লী দইয়ের দাম ১৩০ টাকা। তাছাড়া ইনকিউবিটরে জমানো এবং গ্যাসের চুলায় তৈরি করার কারণে এ দই ছাই বা ময়লা এবং মাছি বসার সুযোগ না থাকায় এটি স্বাস্থ্যসম্মত।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বগুড়ার কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ইউনিটের (ফার্ম টেকনোলজি) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরডিএ’র সহকারী পরিচালক আব্দুল আলিম বলেন, কৃষকদের খামারে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সময়োপযোগী প্রক্রিয়াজাতকরণ, সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকল্পে পরচালিত একটি ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি। দই ছাড়াও এ ইউনিট থেকে প্রায় ৪০ প্রকার কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। যাতে কৃষক ও উদ্যোক্তাগণ নিজেরাই এসব প্রক্রিয়াজাত করে উদ্যোক্তা হতে পারেন। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য ও বাজার এর নিশ্চয়তা পেতে পারেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন উদ্যোক্তা নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে পরামর্শ নিয়ে থাকে। ফুড প্রসেসিংয়ের উপর ৩০ জন করে ইতোমধ্যেই ১৫টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক এম এ মতিন বলেন, বাণিজ্য নয় নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে বগুড়ার পল্লী দই। এছাড়া কৃষকদের পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতেই আরডিএ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ইউনিট স্থাপন করেছে। ফলে এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছে। এ ছাড়া কৃষকদের থেকে সংগৃহীত দুধ থেকে পল্লী ঘোল, বরফি, মিষ্টি তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যা খুব শিগগিরই বাস্তবায়ন করে বাজারজাত করা হবে।
যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এখন ফেসবুক। মনের কথা, অভিব্যক্তি নিমিষেই পৌঁছে যায় শত শত বন্ধুর কাছে। এ ফেসবুকই একদিকে যেমন বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট করছে, তেমনি একে ব্যবহার করে কেউ কেউ স্বার্থ হাসিল করছে। প্রতারণার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করছে ফেসবুককে। প্রায়ই শোনা যায় ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম। এক সময় বন্ধুরূপী প্রতারকের খপ্পরে পড়ে অনেককে হারাতে হয়েছে ইজ্জত। শুধু তাই নয়, ইজ্জত খুইয়েই শেষ হয়নি, প্রাণ পর্যন্ত দিতে হয়েছে অনেককে। আবার ফেসবুককে ব্যবহার করে বহু পরিবারকে করা হয়েছে ছন্নছাড়া। বিজ্ঞানের আবিষ্কারকে ব্যবহার করে প্রেমিকার সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকির কথা শোনা যায় হরহামেশায়। আবার ফেক আইডি খুলে সম্মানি লোকের সম্মানহানি করা হচ্ছে অবলীলায়। ইদানীং অনলাইন কেনা-কাটার নামেও হচ্ছে প্রতারণা। প্রতিদিনের ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা জানাজানিও হচ্ছে। তারপরও মানুষ প্রতারকের খপ্পড়ে পড়ছেন। আটকে যাচ্ছেন প্রতারণার জালে।
ফেসবুকের সহায়তায় গড়ে উঠেছে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। গত পহেলা বৈশাখে পোশাক মেলা ডট কম থেকে জামার অর্ডার করেছিলেন গৃহিণী হ্যাপি জাহান। তিনি বলেন, অনলাইনে যে থ্রি-পিসের অর্ডার করেছিলাম আর যে পণ্য হাতে পেয়েছি তার সঙ্গে রং ছাড়া আর কোনো কিছুরই মিল নেই। অর্ডার করেছিলাম ২ হাজার ৫০০ টাকার জামা। হাতে পেয়েছি যে জামা তার মূল্য ৫ থেকে ৮০০ টাকা।
একই ধরনের অভিযোগ করেন আদিত্য সাহা। তিনি বলেন, অনলাইনে অর্ডার করেছিলাম স্পোর্টস সু। জুতার মূল্য দোকানে ছিল ৪ হাজার ৫০০ টাকা। তাদের অনলাইনে ছাড় চলছিল। ছাড়ে তার মূল্য দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮০০ টাকা। প্রথমত যে জুতা অর্ডার করেছিলাম সে জুতা পাইনি। দ্বিতীয়ত সু দেবার পাঁচদিনের মাথায় সোল খুলে যায়। কথা ছিল সমস্যা হলে বদলে দেবে। বদলে দেয়া তো দূরের কথা, পরে আর ঠিক মতো কথা পর্যন্ত বলেনি। তথ্যানুযায়ী মাসিক সক্রিয়তার হিসেবে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিশ্বজুড়ে ১৮৬ কোটি ছাড়িয়েছে। ২০১৭ সালের ফেসবুকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখ। এক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী বলেন, আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে ১০টি। যার মধ্যে ৬টিতে আমি সক্রিয়, ২টি ছেলে ৪টি মেয়ের নামে। এসব অ্যাকাউন্ট দিয়ে বন্ধু বানিয়ে মজা করি। এমনি এক অ্যাকাউন্ট দিয়ে স্যারের সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক চালিয়েছি চার মাস।
কারমাইকেল কলেজ রংপুরের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফুল হক মাহির বলেন, ফেসবুকে পরিচয় হয় পাবনা অ্যাওয়ার্ড কলেজের এক ছাত্রীর সঙ্গে। দীর্ঘ দিন কথা হয়। জড়িয়ে যাই প্রেমের সম্পর্কে। ভিডিও কলে কথা পর্যন্ত হয়েছে আমাদের। এভাবে চলতে থাকে। মাঝে মধ্যে আমার কাছে টাকা ধার নিতো সে। টাকার পরিমাণটা ছিল অনেক কম ২ শত থেকে ৫ শত টাকা। আবার অনেক সময় টাকা ফেরতও দিত। এভাবে বছরখানিক যাবার পর, সিদ্ধান্ত নেই আমরা বিয়ে করে ফেলবো। সে আমাকে মাস খানেক বাহিরে থাকার মতো টাকা আনতে বলে। আমি ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাই তাদের কলেজে। কিন্তু না বিয়ে তো দূরের কথা আমাকে জিম্মি করে সব টাকা এবং নিজের পরিশ্রমে কেনা মোবাইল ফোনটাও খোয়াই। আর কোনো দিন খোলা পাইনি তার নম্বর কিংবা ফেসবুক আইডি।
আবার আইডি হ্যাক করে বিকাশে টাকা চাওয়া, তথ্য চুরি করা, অন্যের লেখা কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দেবার ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।
সম্প্রতি ‘সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন’র এক গবেষণায় উঠে আসে, দেশে সাইবার অপরাধের শিকার ৫১.১৩ শতাংশ নারী এবং ৪৮.৮৭ শতাংশ পুরুষ। গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাঝে ফেক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হন ১৪.২৯ শতাংশ নারী, ১২.৭৮ শতাংশ পুরুষ। ছবি বিকৃতের শিকার হন ১২.০৩ শতাংশ নারী, ৩.৭৬ শতাংশ পুরুষ। অনলাইনে হুমকির শিকার ৯.৭৭ শতাংশ নারী এবং এত পুরুষের সংখ্যা ৩.৭৬ শতাংশ। জরিপে অংশগ্রহণকারী ১৩৩ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে ২১ শতাংশের মধ্যে ৭ শতাংশ ভুক্তভোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে শরণাপন্ন হয়ে সুফল পেয়েছেন। ২৩ শতাংশ ব্যক্তি আইনি ব্যবস্থা নিয়ে হয়রানির মুখে পড়েছেন। আত্মমর্যাদা ধরে রাখতে চেপে যান ১৭ শতাংশ ব্যক্তি। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী জানান ছবি বিকৃতির কথা। তার আইডি হ্যাক করে তার ছবির মুখের অবয়ব রেখে নিচে অশ্লীল অংশ জুড়ে দেয়া হয়। ক্যাপশনে তার নম্বর দিয়ে আপত্তিকর  আহ্বান জানানো হয়। পরে তিনি বড় বোনের ফোন থেকে ঢুকে দেখেন এবং পরিচিতজনদের মাধ্যমে রিপোর্ট করিয়ে ব্লক করে দেন। তিনি বলেন, এমনি অবস্থা হয়েছিল না পারতাম কাউকে বুঝাতে না পারতাম ফোন রিসিভ করতে। পরে নম্বর পরিবর্তন করে ফেলি। কিন্তু তাতেও কাজ হয় না। নতুন নম্বরেও ফোন আসা শুরু হয়। পরে বুঝতে পারি এটা পরিচিত কারো কাজ। এভাবে অনেক দিন মেবাইল বিহীন থাকার পর এই সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাহায্য না নেয়ার কারণ হিসেবে বলেন, বিষয়টি থেকে আমি মুক্তি চাইছিলাম আর কোনো ঝামেলার মধ্যে পড়তে চাচ্ছিলাম না।  এশিয়া প্যাসেফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিগমা রেজা জ্যোতি। তার নামে এত পরিমাণ ফেইক আইডি ছিল যে রিপোর্ট করে ব্লক করতে করতে বিরক্ত। আইডি ব্লক করা গেলেও একটা পেইজ কিছুতেই ব্লক করতে পারছেন না। তিনি বলেন, পেইজে আজেবাজে কিছু পোস্ট দেয়া হয় না। কিন্তু কখন কি পোস্ট দিয়ে ফেলে এই নিয়ে সার্বক্ষণিক দুশ্চিন্তায় থাকি। তিনি বলেন, ধানমন্ডি থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাকে ফিরিয়ে দেয় জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার কারণে।   সিলেট আম্বরখানা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র অতনু, ফেসবুকে সে তার এক শিক্ষিকার নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে শিক্ষিকার বানানো পর্ণো ছবি আপলোড করে দেয়। অশ্লীল স্ট্যাটাস দিয়ে অতনু তার শিক্ষিকার মোবাইল ফোন নম্বরও দিয়ে দেয়। সেখানে লিখা হয়, ‘প্লিজ কল মি’। এ নিয়ে তোলপাড় হয় সর্বত্র। ৩৫তম বিসিএস উত্তীর্ণ প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন সহকারী সচিবের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে পর্নো ছবি ফেসবুক আপলোড করে মোবাইল ফোন নম্বর দেয়া হয়। নানান প্রতারণা মূলক মিথ্যা স্ট্যাটাস দেয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও এবং ছবি ছড়ানো এবং ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করায় মুন্সীগঞ্জে মেহেদি হাসান অপি (২৮) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও আইসিটি আইনে ৫৭ ধারায় মামলা হয়। বিয়ের আগে পাঁচ বছর ওই তরুণীর সঙ্গে মেহেদির সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক থাকাকালে মেহেদি ওই তরুণীর অশ্লীল ভিডিও ও ছবি ধারণ করে রাখে। ৬ বছর আগে ওই তরুণীর  সৌদি প্রবাসী এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায়। তাদের পাঁচ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। মেয়েটির বিয়ের পর থেকে মেহেদি ওই অশ্লীল ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ওই তরুণীকে প্রায়ই ধর্ষণ করতো। কিছুদিন পর মেহেদি সেইসব ভিডিও ফেসবুকে বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশের রয়েছে সাইবার ক্রাইম ইউনিট। তারা অভিযোগ গ্রহণের পর সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আবার ফেসবুকে রয়েছে ‘সাইবার ক্রাইম ডিভিশন’ ফেসবুক পেজ। এই পেজের মাধ্যমেও অভিযোগ করা যাবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার কিবরিয়া রহমান বলেন, অন্যায়ের শিকার হলে আমাদের কাছে আসুন। আমাদের ইউনিট তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে সক্ষম। ‘সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন’র গবেষণায় উঠে আসে, দেশে সংঘটিত সাইবার অপরাধের শিকার মেয়েদের ৭৩.৭১ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর। ১৮ বছরের কম ১০.৫২ শতাংশ মেয়ে এবং ৩০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে ১২.৭৭ শতাংশ, ৪৫ বছরের বেশি ৩ শতাংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাশেদা রওনক খান বলেন, সাইবার ক্রাইম বন্ধে আমাদের সকলের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে হবে।

রাশিয়া ২১তম ফুটবল বিশ্বকাপের ভেন্যু সমুহ...


লুঝনিকি স্টেডিয়াম

অবস্থান : মস্কো
নির্মাণ: ১৯৫৫
বিশ্বকাপের জন্য সংস্কার : ২০১৩-২০১৭
সংস্কার ব্যায় : ৩৫০ মিলিয়ন ইউরো
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৮০ হাজার
মাঠের আয়তন : ১১৪.৮ x ৭৪.৪ গজ

স্পার্টাক স্টেডিয়াম

অবস্থান : তুশিনো, মস্কো
নির্মাণ: ২০১০
উদ্বোধন : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
নির্মাণ ব্যায় : ৪৩০ মিলিয়ন ডলার
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৪৫৩৬০
মাঠের আয়তন : ১০৫ x ৬৮ মিটার

কালিনিনগ্রাদ স্টেডিয়াম

অবস্থান : কালিনিনগ্রাদ, রাশিয়া
নির্মাণ: ২০১৬
উদ্বোধন : ২১ মে, ২০১৮
সংস্কার ব্যায় : ৭২০ মিলিয়ন ডলার
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৩৫২১২

সামারা এরেনা

অবস্থান : সামারা
নির্মাণ: ২০১৪ বিশ্বকাপ উপলক্ষে
নির্মাণ: ২০১৮
সংস্কার ব্যায় : ৩২০ মিলিয়ন ডলার
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৪৪৯১৮

সেন্ট পিটার্সবার্গ

অবস্থান : ক্রিস্তোভস্কি দ্বীপ, সেন্ট পিটার্সবার্গ
ধারণক্ষমতা : ৬৭ হাজার
নির্মাণকাল : ২০০৫ সাল থেকে শুরু
উদ্বোধন : ২০১৭ সালে
নির্মাণ ব্যায় : ১ বিলিয়ন ডলার
ম্যাঠের আয়তন : ১০৫×৬৮ মিটার

রোস্তভ এরেনা

অবস্থান : ক্রিস্তোভস্কি দ্বীপ, সেন্ট পিটার্সবার্গ
ধারণক্ষমতা : ৬৭ হাজার
নির্মাণকাল : ২০০৫ সাল থেকে শুরু
উদ্বোধন : ২০১৭ সালে
নির্মাণ ব্যায় : ১ বিলিয়ন ডলার
ম্যাঠের আয়তন : ১০৫×৬৮ মিটার

মোর্দোভিয়া এরেনা

অবস্থান : সারানস্ক, মোর্দোভিয়া
ধারণক্ষমতা : ৪৪৪২
নির্মাণ : ২০১০ সালে
উদ্বোধন : ২০১৮ সালে
নির্মাণ ব্যায় : ৩০০ মিলিয়ন ডলার

কাজান এরেনা

অবস্থান : কাজান, তাতারস্তান
ধারণক্ষমতা : ৪৫৩৭৯
নির্মাণ : ২০১০ সালে
উদ্বোধন : ২০১৩ সালে
নির্মাণ ব্যায় : ৪৫০ মিলিয়ন ডলার
মাঠের আয়তন : ১০৫/৬৮ মিটার

একাতেরিনবার্গ এরেনা

অবস্থান : একাতেরিনবার্গ
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৩৫৬৯৬
নির্মাণ : ১৯৫৭
সংস্কার : ২০১৪-২০১৭
মাঠের আয়তন : ১০৫/৬৮ মিটার

ভোলগোগ্রাদ এরেনা

অবস্থান : ভোলগোগ্রাদ
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৪৫৫৬৮ জন
নির্মাণ : ২০১৫
সালে উদ্বোধন : ২০১৮ সালে
নির্মাণ ব্যায় : ৪৩০ মিলিয়ন ডলার

ফিশ্ট স্টেডিয়াম

অবস্থান : সোচি, ক্রান্সোদার,
দর্শক ধারণ ক্ষমতা : ৪১ হাজার
নির্মাণ: ২০১৩
সংস্কার : ২০১৮
নির্মাণ ব্যায় : ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার
আয়তন : ১০৫×৬৮ মিটার

নিঝনি নভগোরদ

অবস্থান : নিঝনি নভগোরদ
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৪৫ হাজার
নির্মাণ : ২০১৫
উদ্বোধন : ২০১৮
নির্মাণ ব্যায় : ১৭.৯ মিলিয়ন রুবল
খাগড়াছড়িতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে আম্রপালি
আর কয়েকদিন পরেই বাজারে আসবে পাহাড়ের সুস্বাদু আম আম্রপালি। গত বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে আম্রপালি ফলন বিপর্যয় হয়েছিল। এবছর আবহাওয়া অনকূলে থাকায় খাগড়াছড়িতে আম্রপালি চাষে বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশিরভাগ কৃষকের আম্রপালি আম গুটিতেই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ২ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করে কৃষকেরা মাত্র ১৪ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন আম পায়। যেখানে ২০১৬ সালে ২ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে আমের ফলন ছিল ২৭ হাজার ৩৪২ মেট্রিক টন, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৬০৯ হেক্টর জমিতে আমের ফলন ছিল ২০ হাজার ৮৬ মেট্রিক টন।
চলতি বছর আমের ফলন আরও বেড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে, চলতি বছর আবাদি জমির পরিমাণ ৩০০০ হেক্টর। তারা আশা করছে এই পরিমাণ জমিতে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম্রপালি উৎপাদন হবে শুধু খাগড়াছড়ি জেলাতে। কেজি প্রতি গড়ে ১০০ টাকা করে ধরলেও যার আর্থিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা হবে।
জেলা শহরের তেতুলতলা এলাকার আম্রপালি চাষি অনিমেষ চাকমা রিংকু জানান, তিনি প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে আম্রপালি চাষ করেছেন। এবছর আবহাওয়া ভাল থাকায় ও রোগ-বালাইয়ের বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পরামর্শে তারা সব সময় নির্দেশনা মেনে কাজ করায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সব মিলিয়ে ৭০ থেকে ৮০ মেট্রিক টন আম পাবেন তিনি। যা গত বছরের চেয়ে তিনগুণ বেশি। তিনি আগামী ১০ জুন থেকে আম্রপালি বিক্রি শুরু করবেন বলে জানান।
গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া এলাকার কৃষক মো. শাহাজ উদ্দিন জানান, সব মিলিয়ে প্রায় ৫ হেক্টরের আম্রপালি বাগান আছে তার। তিনি চলতি বছর ৭ থেকে ১০ মেট্রিক টন আম পাবার আশা করছেন, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
তিনি আরও জানান, আম্রপালি আম সুস্বাদু হওয়ায় ঢাকাসহ সারাদেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু খাগড়াছড়ি থেকে আম জেলার বাইরে যেতে তাদেরকে বিভিন্ন গ্রুপকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়।
দিঘীনালা উপজেলার মধ্য আশ্রম এলাকার কৃষক তুষার বসু জানান, তার ১০-১২ হেক্টর জমিতে বাগান আছে। এখানে বিভিন্ন ফলদ গাছের পাশাপাশি আম্রপালিও আছে। আম্রপালি এবার কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। তার বাগানের আম্রপালি কিনতে ইতোমধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন পার্টি এসেছে।
পুরো বাগানের আম ঠিক কত টাকায় বিক্রি করতে পারবেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, আম সাধারণত তিন ক্যাটাগরিতে বিক্রি হয়। ভালো মানের আমগুলো কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, এর থেকে একটু নিম্নমানের আম ৭০ থেকে ৮০ টাকায় এবং তৃতীয় ধাপের আমগুলো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করা যায়। সারা বছরের খরচ বাদ দিলে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা থাকবে।
খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সফর উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ থেকে আম্রপালি বিক্রি শুরু হবে। এবার প্রথম থেকেই ধারণা ছিল ফলন ভালো হবে। পাহাড়ের মাটি এবং আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করেই এই প্রজাতির আম প্রচলন করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। চলতি বছর আগাম বৃষ্টি পাওয়ায় ষোলোকলা পূর্ণ হয়েছে কৃষকদের।
সারাবিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় যখন ঈদের আনন্দ করছে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ঈদের রং যেন ততটা রঙিন নয়। শনিবার ভারতজুড়ে পালন করা হচ্ছে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ‍উৎসব ঈদুল ফিতর। অথচ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মিরেই নেই ঈদের চিরাচরিত আমেজ। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে ঈদের দিনেও। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাংবাদিক সুজাত বুখারির মৃত্যুজনিত শোক। সবমিলে কাশ্মিরবাসীর ঈদ যেন তাদের জাতিগত আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবির লড়াই।
কাশ্মিরের স্বাধীনতার দাবিতে লড়াইরত সমস্ত মানুষকেই বিচ্ছিন্নতাবাদী কিংবা সন্ত্রাসী হিসেবেই দেখে ভারত রাষ্ট্র। যদিও কাশ্মিরে পাকিস্তানপন্থীদের তৎপরতা থাকলেও সেখানে সরাসরি কাশ্মিরের স্বাধীনতার দাবিতে লড়াইকারীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে ভারতের দাবি, কাশ্মিরে যারা লড়াই করছেন তারা আসলে জঙ্গি। বিচ্ছিন্নতাবাদী। কাশ্মির প্রশ্নে সমগ্র ভারতীয় স্টাবলিশমেন্টের দৃষ্টিভঙ্গিতেই সেখানকার সমস্যাকে ‘বিচ্ছিন্নতা আর জঙ্গিবাদের’ সমস্যা আকারে দেখা হয়ে থাকে। বিপরীতে কাশ্মিরিদের কাছে সেখানকার লড়াই আদতে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণের লড়াই। কাশ্মিরের স্বাধীনতার প্রশ্নে সরব খোদ ভারতীয় বুদ্ধিজীবীরাও। ভূবনখ্যাত বুদ্ধিজীবী অরুন্ধতি রায় স্পষ্ট করে বলেন, সেখানে আসলে ভারতীয় বাহিনীর আগ্রাসন চলছে। অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে কাশ্মিরবাসীকে। কাশ্মির সমস্যার একমাত্র সমাধান স্বাধীনতা।
বৃহস্পতিবার ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের শ্রীনগরে বুখারীকে তার কার্যালয়ের বাইরে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এখনও কেউ এই হত্যার দায় স্বীকার না করলেও পুলিশের ধারণা, জঙ্গিরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় শ্রীনগরে নিজের অফিসের বাইরেই গুলিবিদ্ধ হন ‘রাইজিং কাশ্মির’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সুজাত আর তার দেহরক্ষী। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা সুজাত ও তার এক দেহরক্ষীকে  মৃত ঘোষণা করেন। খবরে বলা হয়, লাল চকের প্রেসক্লাবের বাইরে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সুজাত। আচমকা বন্দুকধারীরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সুজাত বুখারির মৃত্যুর পর থেকেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এর পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজের পরই কাশ্মিরে সংহিসতার ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিক্ষুব্ধ জনতা। পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে পাথড় ছুঁড়তে থাকে। পুলিশও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। শনিবার ঈদের নামাজের পর আবারও একই ঘটনা ঘটে।পাথর ও টিয়ারশেল ছোঁড়া হয় ‍দুই পক্ষ থেকে। কাশ্মিরের দক্ষিণাঞ্চলের শোপিয়ান শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৭ তরুণ। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের দমনে ছররা গুলি ব্যবহার করেছেন তারা।
বুখারি খুন হওয়ার পর সেখানকার সংবাদমাধ্যমগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শোক ও একাত্মতা প্রকাশ করছেন কাশ্মিরবাসী। এই হত্যাকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মন্ত্রীরা। নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধী দলসহ অন্যান্য নেতারাও। টুইটারেও চলছে সমালোচনার ঝড়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায় একদল কাশ্মিরবাসীর। তারা পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে থাকে। পুলিশও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। তবে সেদিন হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষ বড় আকার ধারণ করে ঈদের দিন সকালে। ঈদের নামাজের পর পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে বিক্ষুব্ধ জনতা। টিয়ারশেল ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। শোপিয়ান শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৭ তরুণ। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের দমনে ছররা গুলি ব্যবহার করেছেন তারা। ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট কমপ্লেক্সে মোতায়েন করা হয়েছে সিআরপিএফ পুলিশ।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে অবশ্য ১১৫ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি বলেন, বড় অপরাধ না করা বন্দিদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে করে তারা পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারবে।
বাংলাদেশে উৎসবে মেহেদীর রঙে হাত সাজানো খুব জনপ্রিয় একটি রীতি। ধর্মীয় যেকোন উৎসব থেকে শুরু করে বিয়ে-জন্মদিন সহ নানা অনুষ্ঠানে মেহেদীর রঙে হাত না রাঙ্গালে অনেকের কাছেই উৎসবের পরিপূর্ণতা পায় না। মেহেদি গাছের গাঢ় সবুজ রঙের পাতা থেকে যে মিষ্টি গন্ধের টকটকে লাল নির্যাস বের হয়, সেটা সবার মন কেড়ে নেয়। মেহেদি পাতা বেটে, শুকিয়ে, গুড়া করে বা পেস্ট করে শরীরের বিভিন্ন স্থান রাঙানোর ইতিহাস বহু পুরনো। আর উৎসবে বিশেষ করে ঈদ হলে তো কথাই নেই। বিয়েতে বর কনের হাতে মেহেদি থাকা চাই ই চাই। মেহেদির দেয়ার কারণে কখনো কোন অ্যালার্জি বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার নজির না থাকায় যুগে যুগে এর জনপ্রিয়তা একবিন্দু কমেনি, বরং বেড়েছে।
নিশাত ইয়াসমিন তার একমাত্র ছোট মেয়েকে নিয়ে মেহেদির রঙে হাত সাজাতে এসেছেন রাজধানীর এক বিউটি পার্লারে। তিনি জানান মেহেদি না দিলে তার ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণতা পায় না। "ঈদের সময় আমরা সবাই চাই সুন্দর হয়ে সাজতে। আর মেহেদি আমাদের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেই মেহেদিটা পরি। এতে ঈদের আনন্দটাও বেড়ে যায়।"
শরীরে এই মেহেদি দেয়ার ইতিহাস অনেক আগের। তবে ঠিক কবে কোথায় মেহেদির আবিষ্কার হয়েছিলো তার সঠিক কোন দিনক্ষণের ব্যাপারে কোন তথ্য মেলেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক তৌহিদুল হক জানিয়েছেন, "লিখিত কোন দলিল না থাকলেও ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদ (স.) এর মেহেদি ব্যবহারের তথ্য মুসলমানদের এই মেহেদি ব্যবহারের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে।"
পরে ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল সাম্রাজ্য এই মেহেদি দেয়ার প্রথাকে আরও প্রসারিত করে। তৌহিদুল হক বলেন, "মেহেদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে হযরত মোহাম্মদ (স.) এর একটি উক্তি রয়েছে। এই বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করে এই ভারতীয় উপমহাদেশে এক সময় মেহেদির ব্যবহার শুধুমাত্র মুসলিম জনগোষ্ঠী বা মুসলিম সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে মুঘল সাম্রাজ্যের জনগণ এটাকে প্রসারিত করে।"
রাজধানীর বিভিন্ন বিউটি পার্লারগুলোতে রয়েছে মেহেদি দেয়ার জন্য বিশেষায়িত বিউটিশিয়ান। যারা শুধুমাত্র মেহেদি দেয়ার কাজ করেন। বিবিসি প্রতিবেদন কথা বলেছেন তাদের একজনের সঙ্গে। তিনি জানান, শুধু ঈদ না, সারা বছর জুড়ে নানা ধর্মের মানুষ আসে মেহেদি দিয়ে হাত রাঙাতে। এজন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ নিতে হয় তাদের।
"গ্রাহকরা সুন্দর সূক্ষ্ম ডিজাইন চায়। অনেকে মোবাইলে ডিজাইন ডাউনলোড করে আনে। হাত ছাড়াও পায়েও অনেকে ডিজাইন করেন। কেউ কেউ মেহেদি দিয়ে ট্যাটুও করেন। কারো পছন্দ এক লাইনের ডিজাইন। আবার অনেকে পুরো হাত ভরে মেহেদি দেন। একেকজনের পছন্দ একেক রকম। আমরা ৫ ঘণ্টা ৬ ঘণ্টা বসে টানা মেহেদি দিতেই থাকি। ঈদে তো মেহেদি দেয়া হয়ই। তবে বিয়েতে এটা থাকতেই হয়। বউয়ের হাত মেহেদী রাঙ্গানো না হলে বিয়েটা পূর্ণ হয়না। বউ বউ লাগেনা।"
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে মেহেদির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এবং আফ্রিকায় যেসব দেশের ভাষা অ্যারাবিক সেসব দেশেও ব্যবহৃত হয় এই মেহেদি।
অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলছিলেন। বিশ্বের নানা দেশের মেহেদি ব্যবহার হচ্ছে কিন্তু এর কারণ বা উদ্দেশ্য স্থানভেদে ভিন্ন। তিনি জানান,
"শুরুতে মেহেদির প্রচলন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের জায়গা থেকে শুরু হলেও পরে এই প্রথাটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় পেয়েছে। তবে এখন মানুষ এখন এটাকে সার্বজনীন রূপে গ্রহণ করেছে। তবে একেক দেশে একের ধরণের কারণ আর উদ্দেশ্যে মেহেদি ব্যবহার হয়।"
ইতিহাসের বইগুলোয়, মিসরের ফারাও সাম্রাজ্যে মমির হাতে ও পায়ের নখে মেহেদির মতো রঙ দেখা যায়। তবে সেটা মেহেদি দিয়ে রাঙানো কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আবার বর্তমান যুগে বিভিন্ন ধর্মের বিয়ের উৎসবে মেহেদি সন্ধ্যা নামে আলাদা একটি দিনের আয়োজন করা হয় যেখানে বর কনে থেকে শুরু করে পুরো পরিবার আনন্দে মেতে ওঠে শুধুমাত্র মেহেদির রঙে নিজেকে রাঙিয়ে তুলতে। আবার অনেকে চামড়ার বিভিন্ন রোগের জন্য হার্বাল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করছে এই মেহেদি।
আগের তিন বিশ্বকাপে মাত্র ৩ গোল। বিশ্বকাপে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর এমন পারফরম্যান্স ভক্তদের মন ভরাতে পারেনি যেন! কিন্তু চতুর্থ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই যেন ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকে। সেই সঙ্গে ঢুকে পড়লেন ‘গ্রেট শো অন আর্থের’ হ্যাটট্রিকের রেকর্ডে। শুধুকি তাই ৩ গোলে এগিয়ে থাকা স্পেনকে ম্যাচের শেষ মুহুর্তে হতাশ করেন যাদুকরি এক ফ্রি কিকে। এর আগে বিশ্বকাপের পাঁচ বারের দেখাতে শুধু একবারই ড্র করেছিল পর্তুগাল। বাকি চার বার দেখেছিল হারের মুখ। এবার অবশ্য জয়ের সুযোগ এসেছিল কিন্তু একা রোনালদো কিভাবে জেতাবেন নিজ দলকে! তবে, বিশ্বকাপসুলভ টান টান উত্তেজনাকর খেলার জন্য মুখিয়ে থাকা ফুটবল ভক্তদের দারুণ এক ৯০ মিনিট উপহার দিল ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ী স্পেন ও রোনালদোর পূর্তগাল। হ্যা, স্পেনের বিপক্ষে মাঠে খেলেছে রোনালদোর পর্তুগালই। কারন, তিনি ছাড়া পূর্তগালকে জেতানোর যে কেউ ছিলনা। মাঠের অপর প্রান্তে দিয়েগো কস্তা স্প্যানিশ শিবিরকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছিলেন প্রায়। কিন্তু শেষমেষ রোনালদো কারিশমায় ‘বি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে স্পেনের ভাগ্যে জুটেছে ড্র’র হতাশা।
শুরুতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দুই গোলের জবাবে দুই গোল করলেন দিয়েগো কস্তাও। এরপর স্পেনকে ম্যাচে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন ফার্নান্দো নাচো। কিন্তু শেষে আবার রোনালদো জাদু। দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে সমতা ফেরান পর্তুগিজ অধিনায়ক। রাশিয়া বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপে আইবেরিয়ান উপদ্বীপের দুই দেশের রোমাঞ্চকর লড়াইটি শেষ হয়েছে ৩-৩ গোলের সমতায়। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে স্পট কিকে বল জালে পাঠান রোনালদো। ডি-বক্সের ঠিক ভেতরে রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ নাচো ফার্নান্দেস রোনালদোকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ডান দিক দিয়ে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। দেশের পক্ষে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চার বিশ্বকাপে গোল করলেন পর্তুগাল অধিনায়ক। ২০১৬ থেকে ২০১৮ নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে এ গোল ছিল নিজেকেই ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রথম বার্তা। অন্যদিকে স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচের আগে ৩৪০ মিনিটে খেলে একটি গোলও করতে পারেননি রোনালদো।
এরপর শুরু হয় স্পেনের নায়ক দিয়াগো কস্তার পাল্লাপাল্টি লড়াই। ২৪ তম মিনিটে ফিরতি আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান দিয়েগো কস্তা। বল পেয়ে এগিয়ে যান ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া স্পেনের এই ফরোয়ার্ড। পায়ের কারিকুরিতে দুই ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে ঠান্ডা মাথায় দারুণ শটে বল জালে পাঠান কস্তা। ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েছিলেন রেফারি। বল রিসিভ করার আগে পেপেকে ফেলে দিয়েছিলেন কস্তা। তবে সেটি ফাউল না হওয়ায় গোল বাতিল হয়নি। ২৭তম মিনিটে দলকে প্রায় এগিয়েই নিচ্ছিলেন ইসকো। তার শট ফেরানোর কোনো সুযোগই ছিল না গোলরক্ষক পাত্রিসিওর। কিন্তু বল ক্রসবারের নিচের দিকে লেগে গোললাইনে পড়ে মাঠে ফিরে। ৪৪তম মিনিটে পর্তুগালকে আবার এগিয়ে নিলেন রোনালদো। পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের এই গোল যেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক দাভিদ দে হেয়ার উপহার। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নিচু শট তার গ্লাভস ফস্কে জালে জড়ায়। পিছিয়ে পড়া স্পেনকে ৫৪তম মিনিটে আবার সমতায় ফেরান কস্তা। তার এই গোলে অবশ্য বড় অবদান আছে বুসকেতসের। দাভিদ সিলভার ক্রসে বাইলাইন থেকে হেডে বার্সেলোনা মিডফিল্ডার খুঁজে নেন কস্তাকে। গোলের অমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেননি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ মিডফিল্ডার। ম্যাচের শুরুতেই রোনালদোকে ডি-বক্সে ফাউল করে যেন খলনায়ক হয়ে গেছিলেন নাচো। সেই ভুল ৫৮তম মিনিটে শোধ করে দলকে এগিয়ে নেন এই ডিফেন্ডার। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার কোনাকুনি শট পোস্টের ভেতর দিকে লেগে জড়ায় জালে।
কিন্তু বাকি ছিল রোনালদোর জাদু। ৮৭তম মিনিটে চমৎকার এক ফ্রি-কিক গোলে দলকে সমতায় ফেরান রোনালদো। ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল ক্রসবার ঘেঁষে পৌঁছায় জালে। ফেরানোর চেষ্টাই করতে পারেননি ডি গিয়া। বিশ্বকাপে রোনালদোর এটাই প্রথম হ্যাটট্রিক। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে স্পেনের বিপেক্ষে কোনো খেলোয়াড়েরও এটা প্রথম হ্যাটট্রিক। তবে বিশ্বকাপের হ্যাটট্রিকের ইতিহাসে এটি ৫১ তম।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত সীমান্ত নীতি বাস্তবায়নে বাইবেলকে হাতিয়ার করছে হোয়াইট হাউস। এই সীমান্ত নীতি অনুযায়ী, অবৈধভাবে প্রবেশকারী বাবা-মায়ের কাছ থেকে তাদের সন্তানদের আলাদা করে হেফাজতে রাখবে কর্তৃপক্ষ। আর এর স্বপক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে বাইবেলকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স। অথচ খোদ যিশুই শরণার্থী ছিলেন। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সারাহ স্যান্ডার্সের ওই সাফাইয়ের সমালোচনা করছেন অনেকে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিএনএন-এর এক প্রশ্নের উত্তরে সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, আমি এটা বলতে পারি যে, এই আইন বা নীতির প্রয়োগ বাইবেলের সঙ্গে খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্স ও দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টমাস হোম্যান জানান, অবৈধভাবে প্রবেশকারী বাবা-মায়ের কাছ থেকে সন্তানদের আলাদা করার নীতিটি নতুন নয়। যেসব প্রক্রিয়া এরই মধ্যে চালু রয়েছে সরকার সেগুলোকে আরেকটু বিস্তৃত করছে।
হোম্যান বলেন, দুটি পরিস্থিতিতে আমরা সব সময় পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করেছি। প্রথমত যখন আমরা সন্তানের বাবা-মা হিসেবে তাদের চিহ্নিত করতে পারি না এবং মনে করা হয় শিশুটিকে পাচার করা হচ্ছে।
অনেক সময় পাচারকারীরা শিশুদের ভুয়া বাবা-মা সাজিয়ে পাচারের চেষ্টা করে জানিয়ে হোম্যান বলেন, দ্বিতীয় যে ক্ষেত্রে আমরা পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করি সেটা হচ্ছে বিচারের সময়। এই দেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। এদেশে প্রবেশে সঠিক উপায় রয়েছে। একই ভাবে ভুল পন্থাও রয়েছে।
গত এপ্রিলে অ্যাটর্নি জেনারেলও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বিচার করা যদি আমাদের দায়িত্ব হয় তাহলে কিছু সময়ের জন্য সন্তানদের আলাদা রাখতেই হবে।