Last update
Loading...
পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর স্বাক্ষর হওয়া শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে উপজাতিরা। আওয়ামী লীগ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন্ন করতে ও পার্বত্য এলাকায় নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে তারা এ উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ২রা ডিসেম্বর শান্তিচুক্তির ২০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে বিগত ২০ বছরে এর বাস্তবায়নে সরকার বেশ আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে। যদিও পার্বত্যবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়ন হয়নি চুক্তির মৌলিক অনেক বিষয়। বাস্তবে দেখা যায় চুক্তির বেশির ভাগই বাস্তবায়িত হয়েছে।
শান্তিচুক্তি বিশ্লষণ করে জানা যায়, এ পর্যন্ত শান্তিচুক্তির মোট ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টির পূর্ণ বাস্তবায়ন, ১৫টির আংশিক বাস্তবায়ন এবং ৯টি ধারার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়াও তিন পার্বত্য জেলায় হস্তান্তরযোগ্য ৩৩টি বিষয়/বিভাগের মধ্যে এ পর্যন্ত রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে ৩০টি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে ৩০টি এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে ২৮টি বিষয়ে/দপ্তর হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চুক্তির কিছু কিছু ধারা বাংলাদেশ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে অবশিষ্ট চুক্তি বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার চুক্তির যে ধারাগুলো বাস্তবায়িত হয়নি সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এরপরও আঞ্চলিক উপজাতি সংগঠনের নেতা ও কতিপয় বুদ্ধিজীবী ক্রমাগত শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করে যাচ্ছেন। সরকার শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক থাকলেও আঞ্চলিক উপজাতি রাজনৈতিক দলসমূহের বিরূপ মনোভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। পার্বত্য জেলা নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলেন, আঞ্চলিক উপজাতি সংগঠনগুলোর এ ধরনের নেতিবাচক মনোভাব থাকলে সরকারের একার পক্ষে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। চুক্তি বাস্তবায়নে সকলকে শান্তিপূর্ণ ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর এই চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ ২১ বছরের ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত এবং রক্তক্ষরণের অবসান ঘটে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অন্য কোনো তৃতীয়পক্ষের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এই শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয় যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল উদাহরণ। সংশ্লিষ্টরা জানান, শান্তিচুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এবং এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। চুক্তির সুফল হিসেবে উপজাতি শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, তাদের দলের অন্যান্য সদস্য এবং পাহাড়ের সাধারণ মানুষ বেশকিছু সুবিধা ভোগ করছে। বাংলাদেশের সমতলের জেলাগুলোর মতো পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতেও বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা গড়ে উঠেছে। সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ করে ইতিমধ্যে পাহাড়ের সব উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যন্ত পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে স্বাধীনতার আগে ১৯৭০ সালে মাত্র ৪৮ কিলোমিটার রাস্তা ছিল। কিন্তু স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সরকার পার্বত্য অঞ্চলে নির্মাণ করেছে প্রায় ১৫৩৫ কিলোমিটার রাস্তা, অসংখ্য ব্রিজ ও কালভার্ট। পার্বত্য জেলার অধিবাসীরা জানান, পার্বত্যাঞ্চলে মোতায়েনরত সেনাবাহিনীকে ছয়টি স্থায়ী সেনানিবাসে প্রত্যাবর্তন, সামাজিক উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ৩ পার্বত্য জেলায় ৪১ হাজার ৮৪৭ জনকে বয়স্ক ভাতা, ২২ হাজার ৪১০ জনকে বিধবা ভাতা, ৭ হাজার ৩১১ জনকে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা এবং ৯৮১ জন প্রতিবন্ধীকে শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় এ অঞ্চলে ১ হাজার ৪৬টি সমিতির মাধ্যমে ৫২ হাজার ১৭২ জন সদস্যের দারিদ্র্যবিমোচন তথা জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৬২৩টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আগে যেখানে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ ছিল না সেখানে নির্মিত হয়েছে ১টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১টি মেডিকেল কলেজ। হাইস্কুল ও কলেজের সংখ্যা যেখানে ছিল মাত্র ১১টি সেটা এখন ৪৭৯টি। প্রায় প্রতিটি পাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। শিক্ষার হার ২ ভাগ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৪৪ দশমিক ৬২ ভাগে পৌঁছেছে। যেখানে বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষার হার ৫৯ দশমিক ৮২ ভাগ সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা জনগোষ্ঠীর শিক্ষার হার ৭৩ ভাগ। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিদের শিক্ষার হার ২৩ ভাগ । সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ১টি থেকে ৩টি করা হয়েছে, হাসপাতালের সংখ্যা ৩টি থেকে ২৫টিতে উন্নীত হয়েছে। যেখানে কোনো খেলার মাঠ ছিলো না সেখানে ৫টি স্টেডিয়াম নির্মিত হয়েছে। কলকারখানা, ক্ষুদ্র কুটির শিল্প ১৯৩টি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৩৮২টিতে উন্নীত হয়েছে। ফলে সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় পার্বত্য চট্টগ্রামে এককালের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রভূত উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে। পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সরকার চাকরি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে উপজাতিদের জন্য ৫ ভাগ সংরক্ষিত কোটার ব্যবস্থা করেছেন, উপজাতিদের সরকারি ট্যাক্সের আওতামুক্ত রেখেছেন। এ সবই করা হয়েছে তাদের আর্থ-সামাজিক ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে। সরকারের দেয়া এসব সুবিধা ভোগ করে শিক্ষা, চাকরি এবং জীবনযাত্রার মানের ক্ষেত্রে উপজাতিদের ব্যাপক উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে। দিন দিন এ অবস্থার আরও উন্নতি হবে। শান্তিচুক্তির সুফল ভোগ করে উপজাতিদের বর্তমান জীবন যাত্রার মান, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রসরতা প্রভৃতি বিবেচনা করে এ কথা বলা যায় যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন আর বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া কোনো জনপদ নয়। শান্তিচুক্তিতে বলা হয়েছে, পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা অস্ত্র সমর্পণ করবে, সন্ত্রাস ও অপরাধের রাস্তা ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, আজও খুন, ধর্ষণ, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের স্বর্গরাজ্য পার্বত্য চট্টগ্রাম। পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা নতুন করে আরো বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সংগ্রহ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। এখনও একই ধরনের সন্ত্রাসী-কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ইউপিডিএফ, জেএসএস (সন্তু) এবং জেএসএস(সংস্কার) নামে তিন উপজাতি সশস্ত্র সংগঠন। তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত ও অনিয়মিতভাবে জোর জবরদস্তি করে চাঁদা আদায় করে যাচ্ছে। পাহাড়ের কোথায় কখন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা কার ওপর হামলে পড়বে তা নিয়ে সার্বক্ষণিক উৎকণ্ঠায় থাকতে হচ্ছে পাহাড়ি-বাঙালি শান্তিপ্রিয় মানুষগুলোকে।
যন্ত্রটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। বাংলাদেশের জন্য বলতে গেলে এটা নজিরবিহীন ঘটনাই। স্বাধীনতার পর এতো বছরে এই একটি যন্ত্রই চলেছে দিন-রাত। এই যন্ত্র থেকে নিত্য তৈরি হয়েছে নানা গুজব। গত কয়েকবছর গুজবের মেশিন অনেকটাই  নিষ্ক্রিয় ছিল। বলতে গেলে, গুজব শোনাই যেতো না।
কিন্তু গত কিছুদিনে সে দৃশ্যে পরিবর্তন এসেছে। যন্ত্রটি আবার সক্রিয় পুরোদমে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে কেন্দ্র করেই প্রথম এ মেশিন সক্রিয় হয়। গুজবে কান দিবেন না- বহু পুরনো উপদেশ। কিন্তু কিছু গুজব যে সত্য হয় তার প্রমাণ দিয়ে এরইমধ্যে ছুটিতে চলে গেছেন প্রধান বিচারপতি। তার ফেরা, না ফেরা নিয়ে এখন তৈরি হচ্ছে নানা গুজব। কোন্‌টি সত্য আর কোন্‌টি মিথ্যা তা বুঝা দায়।
ভোটের বহুআগে ভোটের রাজনীতি চালু হয়ে গেছিল। কিন্তু রোহিঙ্গা সংকট সে আলোচনা অনেকটা থামিয়ে দেয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্যস্ত সময় কাটান রাজনীতিবিদেরা। যদিও ১০ লাখের বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং নিরাপত্তার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ হবে তা এখনো খোলাসা নয়। তবে প্রায় তিন মাস পর বিরোধীনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার পর রাজনীতির ট্রেন আবার সচল হয়েছে। তার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাওয়ার দীর্ঘপথে বিপুল শোডাউন করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। গাড়িবহরে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। দোষারোপের পুরনো রাজনীতিও পুরো মাত্রায় সক্রিয়। দুই দলের দুই সেক্রেটারি আলাদা মঞ্চ থেকে প্রতিদিনই বাহাসে জড়াচ্ছেন। এই যখন অবস্থা বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিবেশী দেশের ভূমিকাও ফের বিপুল আলোচনা তৈরি করেছে। সুষমা স্বরাজ তার সফরে কী বার্তা দিয়ে গেছেন দুই দলকে এ নিয়ে রাজনীতির অন্দরমহলে নানা আলোচনা। গুরুত্ব পাচ্ছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণও। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব কমাতে ভারতের সরনাপন্ন যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, চীন-ভারত দ্বন্ধ বহু পুরনো। যদিও চীনের বড় অর্থনীতির সঙ্গে ভারতের লড়াই অনেকটাই অসম।
অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকই মনে করেন, জটিল এক রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে তার নির্বাচনী প্রস্তুতি অনেকদূর এগিয়ে নিয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে দফায় দফায় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। চালানো হয়েছে একাধিক জরিপ। বিএনপিও নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে। খালেদা জিয়ার কক্সবাজার সফরের সময় সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। বিএনপি নেত্রী সহসাই দেশের অন্য বিভাগীয় শহরগুলোতেও যেতে পারেন। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, এখন তাদের সব কর্মসূচির উদ্দেশ্য নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা এবং বিএনপি’র দাবির পক্ষে জনমত সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, গত দুই বছর আমরা আন্দোলনমুখী কোনো কর্মসূচি দেইনি। কিন্তু এখন তো সময় এসেছে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। তাঁর (খালেদা জিয়ার) এই সফরই মাত্র শুরু। এরপরেও আমরা কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করবো। সেখানে ব্যাপকভাবে সারা দেশে বিশেষ করে বিভাগীয় শহরগুলোতে তিনি সফরে যাবেন। মি. আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করবো। এ ব্যাপারে আমরা খুবই আন্তরিক। এবং আমাদের প্রস্তুতিও একইভাবে চলছে। কিন্তু নির্বাচনটা কিভাবে হবে? আমরা দেখেছি ১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে যখনই কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়, তখন নির্বাচন কমিশন কোনো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারে না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, বিএনপি’র মধ্যেও অনেকে ভাবেন যে আগামী নির্বাচনে যাওয়া ছাড়া তাদের কোনো গত্যন্তর নেই। কারণ বিএনপি এর আগে যে নির্বাচনগুলো বর্জন করেছিল- ১৯৮৬ এবং ১৯৮৮ সালে- সেটা তাদের জন্য খুবই ভালো হয়েছিল। এ কারণে তারা ১৯৯১ সালে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে ক্ষমতায় আসতে পেরেছিল। কিন্তু গত নির্বাচনটা যে তারা বর্জন করেছে এটা তাদের জন্য অনেক এক্সপেনসিভ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমি মনে করি বিএনপি যেভাবে কথা বলছে, নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে এবং সকল প্রকার সহিংসতা থেকে যেভাবে দূরে আছে, এটা ভাবা স্বাভাবিক যে, তারা ইলেকশনে অংশ নেয়ার পথে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে যদি খুবই বড় ধরনের আনসেটেলিং কিছু করা হয়, যেমন হঠাৎ করে বেগম জিয়াকে জেলে দিয়ে দিলো বা যদি বিএনপি’র বড় একটা অংশকে জেলে দিলো কিংবা যদি দেখা যায় বিএনপি’র মধ্যে একটা বড় ধরনের ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করলো বা সফল হলো, এই ধরনের বড় কোনো ঘটনা না ঘটলে আমি মনে করি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশকিছু বিষয় স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। বিএনপি-জামায়াত দূরত্ব বাড়ছে। দুই দলের সম্পর্ক ভোটের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকে কি-না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সিঙ্গাপুরে হার্টে অস্ত্রোপচার শেষে দেশে ফিরেছেন। রাজনীতিতে তিনি আর কতটা সক্রিয় থাকতে পারেন তাই হবে দেখার বিষয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও দৃষ্টি থাকবে পর্যবেক্ষকদের। আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে নির্বাচনী ট্রেনে উঠে পড়েছে। বিএনপি সে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করছে। যদিও নানা গুজব। শেষ পর্যন্ত রাজনীতি কোনদিকে যায় কে জানে!
দুই তরুণীর বুদ্ধিমত্তায় প্রতারক প্রেমিকের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে চুয়াডাঙ্গার এক স্কুলছাত্রী। প্রেমের টানে ও বিয়ের প্রতিশ্রুতি পেয়ে ওই কিশোরী ঢাকায় এসেছিল। পথে সহযাত্রী দুই তরুণীর সাহসী পদক্ষেপের কারণে অপহরণের কবল থেকে রক্ষা পায় মেয়েটি। প্রতারক প্রেমিক শহীদুল ইসলাম বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেছে ওই কিশোরী। ওই কিশোরীকে অপহরণের হাত থেকে রক্ষা করা দুই তরুণীর একজন চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী নাজমা আক্তার (ছদ্মনাম)।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার কাউন্টার থেকে রয়্যাল এক্সপ্রেস বাসে করে ঢাকা আসছিলেন তিনি ও তার বান্ধবী সায়মা (ছদ্মনাম)। পথে ডাকবাংলা থেকে একজন বোরখা পরা মেয়ে বাসে ওঠে তাদের বিপরীত পাশে সিটে বসে। মেয়েটির সঙ্গে আলাপচারিতার পর তারা জানতে পারে, মেয়েটি দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে স্থানীয় এক কলেজে। গরিব কৃষকের তিন মেয়ের মধ্যে সে দ্বিতীয়। তার বাবা তাকে গাড়িতে তুলে দিতেও এসেছিলেন। মেয়েটি জানায়, বিয়ে করতে সে ঢাকায় যাচ্ছে। দুই মাস আগে মোবাইল ফোনে দুঃসম্পর্কের এক ভাবির মাধ্যমে এক লোকের সঙ্গে তার প্রেম হয়। যার জন্য সে বাবার ঘর ছেড়ে কথিত প্রেমিকের ঘরে যেতে বের হয়েছে। বিষয়টি তার পরিবারের সবাই জানে। ফলে তার বাবা তাকে তার কথিত প্রেমিকের উপর ভরসা করে ঢাকায় একা একা পাঠিয়ে দেন। মেয়েটি জানায়, লোকটির নাম শহীদুল ইসলাম। দেশের স্বনামধন্য একটি টিভি চ্যানেলের একজন সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার। এ ঘটনা শুনে হতভম্ব হয়ে যান নাজমা ও সায়মা। তাদের মনে সন্দেহ হয়। মোবাইল ফোনে পরিচয় গত দুই মাস ধরে। প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে এসে তার পরিবারকেও এক প্রকার গ্রাস করে ফেলেছে। এতটাই গ্রাস করেছে যে, মেয়েটির বাবা এই কথিত সাংবাদিক এর উপর ভরসা ও বিশ্বাস করে মেয়েটিকে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। এমনকি লোকটির কোনো ছবিও মেয়ে বা তার পরিবারের কেউ দেখেনি। তারা আরও জানতে পারে, মেয়েটি এই প্রথমবার ঢাকা শহরে যাচ্ছে। শুধুমাত্র ফোনেই তাদের আলাপ হচ্ছে। সাংবাদিক পরিচয় শুনেই তাদের দুই বান্ধবীর কৌতূহল আরো বেড়ে যায়। এই মেয়ে নির্ঘাত কোনো প্রতারণার শিকার হচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তারা দু’জন সিদ্ধান্ত নেয় যে, এই মেয়েকে যে ভাবেই হোক বাঁচাতে হবে। তারা কথার ছলে সবকিছু জানার চেষ্টা করে। ততক্ষণে বাস ফেরি পার হয়ে সাভারের কাছে পৌঁছে। মেয়েটির সঙ্গে কথার ছলে তারা জানতে পারে, সাংবাদিক পরিচয় দেয়া মেয়েটির কথিত প্রেমিক শহীদুল তাকে রিসিভ করার জন্য গাবতলী মাজার রোডে আসবে। নাজমা ও সায়মা সিদ্ধান্ত নেয় তারা নিজেদের গন্তব্য টেকনিক্যাল মোড়ে না নেমে গাবতলী মাজার রোডে নামবে। ইতিমধ্যে তারা ঐ সাংবাদিকের নামে অনলাইনে সার্চ করে তার ফেসবুক আইডি পায়। তার ছবি এবং কর্মকাণ্ডের ছবি দেখে বুঝে ফেলে এই সাংবাদিক এর ইনফো সব ঠিকই আছে। কিন্তু মেয়েটি যেভাবে বর্ণনা করছে তার সঙ্গে ওই প্রতারকের তথ্য মিলছে না। তারা পরিচিত এক সাংবাদিককে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানায়। তাদের কিছু ছেলে বন্ধুকে ডেকেও আনে গাবতলীতে। বাস থেকে নেমে মেয়েটিকে বলা হয় তার প্রেমিককে ডেকে আনতে। মেয়েটিকে দাঁড় করিয়ে পেছনে দুই বান্ধবী ও তাদের বন্ধুরা লুকিয়ে থাকে। এরপর ওই প্রতারক সামনে এলে সবার চোখ ছানাবড়া। লোকটি পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের। এবং দুপুরের তীব্র গরমের মধ্যেও লাল একটি সোয়েটার গায়ে। মুখে মাস্ক এবং কানে হেডফোন। যা ইন্টারনেটে সার্চ করা সাংবাদিকের সাথে কোনভাবেই মিলে না। সবাই লোকটির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। তারপর লোকটিকে পাশের এক রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায় তারা। তার প্রাতিষ্ঠানিক আইডি কার্ডসহ বিভিন্ন রকম প্রমাণ চাওয়া হয়। কিন্তু লোকটি নিজেকে সাংবাদিক প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়। যার ফলে নাজমা ও তার বন্ধুরা নিশ্চিত হয়ে যায় মেয়েটি খুব বড় রকমের একটা প্রতারণায় পড়েছে। পরে এক সাংবাদিকের সহযোগিতায় স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করে লোকটিকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। রাতে ভিকটিম নিজেই শহীদুলের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামি শহীদুল জানিয়েছে, তার বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনায় এবং তার একাধিক স্ত্রীসহ বাচ্চা রয়েছে। সে মেয়েটির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এই কাজ করেছে এবং তাদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ আরও জানায়, মেয়েটি স্কুলছাত্রী এবং সে প্রথমে নিজেকে কলেজছাত্রী পরিচয় দিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার এসআই রবিন মণ্ডল জানান, ধারণা করা হচ্ছে শহীদুল একজন পেশাদার প্রতারক। তাদের একটি চক্র থাকতে পারে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতো তারা। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। মেয়েটিকে প্রতারকের হাত থেকে রক্ষা করতে পেরে উচ্ছ্বসিত নাজমা বলেন, এত কষ্টের মাঝেও কেন জানি অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করছে। বর্ণনা করার ভাষা নেই। সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগছিল আসার সময় মেয়েটি যখন আমাদের দুইজনের হাত দু’টি শক্ত করে চেপে ধরেছিল। নিজের অজান্তেই চোখ ছলছল করে উঠেছিল। নাজমা বলেন, বন্ধুরা একসাথে থাকলে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারার আত্মবিশ্বাস আমাদের জন্মে গেছে। জানি না যদি বাসে মেয়েটি আমাদের পাশের সিটে না বসতো তবে হয়তো আগামীকালের কোনো এক দুঃসংবাদের শিরোনাম হয়ে যেত সে।
‘বাড্ডায় অন্য একটি বাসায় ভাড়া থাকার সময় শাহীন মল্লিক নামে এক ভাড়াটিয়ার সঙ্গে আরজিনার পরিচয় হয়। আরজিনার মতো শাহিন মল্লিকও সংসারী। রয়েছে সন্তান। এর মধ্যেও আরজিনা-শাহিন দু’জন দু’জনার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। সম্পর্ক গড়ায় শারীরিক পর্যায়ে। তবে বিষয়টি আরজিনার স্বামী জামিল শেখের অজানাই ছিল।
৪ মাস আগে জামিল শেখ হঠাৎ বাসা পরিবর্তন করে। উঠেন বাড্ডার  ময়নারবাগের পাঠান ভিলার তৃতীয় তলায়। আরজিনা কৌশলে প্রেমিক শাহীনকে একটি কক্ষ সাবলেট ভাড়া দেয়। চলতে থাকে আরজিনা-শাহিনের উন্মুত্ত প্রেম। পক্ষান্তরে, স্বামী জামিলের সঙ্গে আরজিনার ঝগড়া-বিবাদ বাড়তে থাকে। পরকীয়া প্রকাশ হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পেয়ে বসে আরজিনা-শাহিনকে। এরপরই জামিল শেখকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে আরজিনা-শাহিন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বৃস্পতিবার গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জামিল শেখকে হত্যা করে শাহীন। তাকে ঘরে প্রবেশ করা থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয় আরজিনা। একপর্যায়ে মেয়ে নুসরাত ঘটনাটি দেখে ফেলায় তাকেও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।’ বাবা ও মেয়ের জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত নিহত জামিলের স্ত্রী আরজিনা বেগম পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লোমহর্ষক এমন তথ্য জানিয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল ভোরে খুলনায় অভিযান চালিয়ে আরজিনার পরকীয়া প্রেমিক শাহীন মল্লিক ও তার স্ত্রী মাসুমাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি ভ্রাম্যমাণ টিম।
বৃহস্পতিবার ভোরে বাড্ডা থানাধীন ময়নারবাগ কবরস্থান রোডের ৩০৬ নম্বর পাঠান ভিলার তৃতীয় তলায় নৃশংসভাবে খুন হন জামিল শেখ (৩৮) নামে এক গাড়ি চালক এবং মেয়ে নুসরাত জাহান (৯)। ঘটনার সময় জামিলের স্ত্রী আরজিনা বেগম তার আরেক ছেলে সন্তানকে নিয়ে বাসায় ছিলেন। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, জামিলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এবং নুসরাতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরজিনা বেগমকে আটক করে পুলিশ।
সূত্র জানায়, এ ঘটনায় নিহত জামিলের ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা নম্বর-৩। মামলায় জামিলের স্ত্রী আরজিনা ও ভাড়াটিয়া শাহীন মল্লিককে আসামি করা হয়। গতকাল সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি দল খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহীন মল্লিক ও তার স্ত্রী মাসুমাকে আটক করে।
এ বিষয়ে পুলিশের বাড্ডা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার আশরাফুল কবীর জানান, ৪ মাস আগে ময়নারবাগের পাঠান ভিলা নামে একটি ভাড়া বাড়িতে পরিবার নিয়ে উঠেন জামিল শেখ। তবে এর আগে একই এলাকায় আরেকটি বাড়িতে ভাড়া ছিলেন জামিল শেখ। সেই বাড়িতে জামিলের স্ত্রী আরজিনার সঙ্গে আরেক ভাড়াটিয়া শাহীন মল্লিকের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয় থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি জানান, একপর্যায়ে তারা পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। আরজিনা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে যে, তাদের পরকীয়ায় বাধা হতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি এবং তার প্রেমিক শাহীন মল্লিক স্বামী জামিল ও তার মেয়েকে হত্যা করেছে।
তিনি আরো জানান, পুলিশ ঘটনার পরেই জামিলের স্ত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। প্রথমে সে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য দিতে চাচ্ছিল না। গরমিল তথ্য দিচ্ছিল। অসংলগ্ন কথা বলছিল। অব্যাহত জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে আরজিনা তার দোষ স্বীকার করে। তাদের রিমান্ডে এনে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
বাড়ির মালিকের স্ত্রী নাসিমা পাঠান জানান, তাদের বাড়ির তৃতীয় তলায় জামিল ও আরজিনা দম্পতি ভাড়া নেয়। জামিল ও আরজিনার মধ্যে ঝগড়া হতো। এ নিয়ে কয়েকবার আরজিনা বাবা ও মায়ের বাড়িতে চলে গিয়েছিল। তিনি আরো জানান, জামিলের কক্ষের পাশের আরেকটি কক্ষ ফাঁকা ছিল। ওই কক্ষটিও ভাড়া নিয়েছিল জামিল দম্পতি। পরে আরজিনার পূর্ব পরিচিত এক দম্পতিকে সেই কক্ষটি সাবলেট দেয়। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এমন কথা উড়োভাবে শুনেছি। যেহেতু তাদের বিষয়টি পারিবারিক বিষয় সেহেতু এ নিয়ে আমরা কোনো কথা বলতে যাইনি।
বাড্ডা থানার পুলিশের এক এসআই মানবজমিনকে জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ নিহতের স্ত্রী আরজিনাকে সন্দেহ করছিল। কারণ, ওই হত্যাকাণ্ডের পর সিঁড়িতে বসে ছিল আরজিনা। ঘটনাটি তিনি ডাকাতি হিসাবে চালিয়ে দেবার পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু, বাইরের মূল গেট সবসময় তালা লাগানো থাকার কারণে তিনি পুলিশকে ডাকাতি বলতে পারেন নি। এ ছাড়াও খুনিরা তার এক সন্তানকে হত্যা করবে, আর আরেক সন্তানকে হত্যা করবে না- তা অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। এ ছাড়াও এত বড় ঘটনার পর আরজিনা কাউকে বিষয়টি অবগত না করে সিঁড়িতে বসে কাঁদছিলেন। অন্য ভাড়াটিয়া ইউসুফ ফজরের নামাজ পড়তে বের হলে তখন আরজিনা বিষয়টি তাকে জানান। এ ছাড়াও ঘটনার পর সাবলেটে থাকা অন্য ভাড়াটিয়া ছিল না। ঘটনার রাতে তারা বাসায় ছিলেন। খুনের পর ভাড়াটিয়ারা হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। এতে পুলিশের আরও সংশয় বাঁধে।
সূত্র জানায়, নিহত জামিল গুলশানে এক ব্যবসায়ীর গাড়ি চালানোর কারণে সকালে বের হয়ে রাতে আসতেন। আর শাহীন বিভিন্ন দোকানে সাইকেলে করে পাইকারি মাল সরবরাহ করতো। তবে দুইজনের পরকীয়ার বিষয়টি জামিল জানতো না। অন্যদিকে শাহীন মল্লিকের স্ত্রী মাসুমাও বিষয়টি জানতো না। তবে কিছুদিন আগে বিষয়টি টের পেয়ে যায়। দুপুর বেলায় মাসুমা ময়নারবাগের তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। ওই বাড়ি থেকে দ্রুত আসার ফলে শাহীন ও আরজিনাকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পেলে মাসুমা পরকীয়ার বিষয়টি টের পেয়ে যায়।
সূত্র জানায়, পরকীয়ায় আসক্ত হওয়ার কারণে আরজিনা তার স্বামীর সঙ্গে প্রায় ঝগড়া লাগাতো। গত সপ্তাহে রাগ করে তিনি বাবার বাড়ি সাভারে চলে গিয়েছিলেন। পরে তার বাবা ও মা তাকে বুঝিয়ে আবার জামিলের কাছে রেখে যায়। কিন্তু, আরজিনার পরকীয়ার আসক্তি থেকেই যায়।
অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত উ জ তে একজন রোহিঙ্গা বিদ্বেষী বদ্ধ উন্মাদ হিসেবে নিজকে মিডিয়ায় উপস্থাপন করে চলেছেন। সর্বশেষ তিনি গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়েছেন। ইয়াঙ্গুনে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচির দপ্তরের মহাপরিচালক মি. জ দাবি করেন, বাংলাদেশই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চাইছে না। তার কথায়, ‘বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে বিশ্বের বৃহত্তম উদ্বাস্তু শিবির গড়ে তুলতে আগ্রহী। উদ্বাস্তুদের বাবদ তারা ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সাহায্য পেয়েছে। তাই তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায় না।
তারা বিলম্ব করতে চাইছে। অথচ আমরা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত।’ গতকাল মিয়ানমার টাইমসে তার এই বক্তব্য ছাপা হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওয়ার বিষয়টি মিয়ানমার টাইমসে ছাপা হলেও ২রা নভেম্বরের নিউ ইয়র্ক টাইমসে তা উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু নিউ ইয়র্ক টাইমসের সংবাদদাতা হাননা বেক লিখেছেন, মি. জ তে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফিরতে দিতে চাইছে না। কারণ, তারা আন্তর্জাতিক অনুদান হারাতে চায় না।’ মিয়ানমার টাইমস বলেছে, ঢাকায় একজন বাংলাদেশি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, আমরা তাদের এই মনোভাব জেনে শঙ্কিত। কারণ, গোটা বিশ্ব জানে যে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বের জন্য কারা দায়ী?” বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এক বিবৃতিতে বলেছে, গত সপ্তাহের আলোচনায় বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নসহ যে ১০ দফা পেশ করেছেন, সে বিষয়ে মিয়ানমারের কোনো সাড়া নেই। গত শুক্রবার আসাদুজ্জামান খান মিডিয়াকে বলেছেন, একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে তারা ব্যর্থ হলেও এ বিষয়ে আগামী ৩০শে নভেম্বরে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মিয়ানমার সফরকালে তা হতে পারে। ওই মুখপাত্রটি বলেছেন, ১৯৯৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ  থেকে  তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে তারা। কিন্তু বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব জানে এটা একটা বর্মী ভাঁওতাবাজি। কারণ, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে বলা হয়েছিল, মিয়ানমার উদ্বাস্তুদের ফেরত নেবে। কিন্তু শর্ত হলো তারা যে মিয়ানমারের নাগরিক তার সপক্ষে তাদের প্রমাণ দিতে হবে। আর এটা সবারই জানা যে, রোহিঙ্গাদের বহু বছর ধরে কোনো প্রকারের নাগরিকত্বের সনদ দেয়া হয়নি। উপরন্তু যার কাছে যে কাগজপত্র অবশিষ্ট ছিল তাও তারা আনতে পারেনি। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। মানুষ প্রাণ হাতে করে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। আর এখন তারা বলছে, নাগরিকত্বের প্রমাণ ছাড়া তারা কোনো রোহিঙ্গাকে গ্রহণ করবে না। ওই মুখপাত্র আরো বলেন, আমরা এখন শঙ্কিত যে বাংলাদেশ সরকার এত বিপুল পরিমাণ সাহায্য পেয়েছে, তাই এখন তারা তাদের আর ছাড়তে চাইবে না। তারা আন্তর্জাতিক সাবসিডি বা ভর্তুকি পেয়েছে। মিয়ানমার টাইমসের শুক্রবারের রিপোর্টে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সাম্প্রতিক সফরকালে দুপক্ষের মধ্যে কমিটি গঠনে ঐকমত্য হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করাই এই কমিটির লক্ষ্য। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে উ জ তে এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রাখাইনে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর কেন গুলি চালানো হয়েছে? এর উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘মার্কিন সেনারা আক্রান্ত হলে তারা গুলি চালাতে পারে। ‘বাঙালি সন্ত্রাসীরা’ বেসামরিক নাগরিকদের সঙ্গে মিশে আছে। এখন তারা যদি আপনার ক্ষতি করতে চায়, তাহলে আপনি তাদের ওপর গুলি চালাতে পারেন।’
ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলো পেয়েছে রকেটের গতি। যেন কেউ পেছন থেকে তাড়া করছে, শিগগিরই শেষ করো। তড়িঘড়ি করে একটা রায় দিয়ে দাও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। ফলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কি-না সে ব্যাপারে দেশবাসীর ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। আমরাও শঙ্কিত।
কারণ এই মামলাসহ আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ চলার সময় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এবং শাসক দলের কোনো কোনো নেতা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। আমাকে অভিযুক্ত করে বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছেন। যেন তারা মামলার রায় কি হবে তা আগাম জানেন। খালেদা জিয়া বলেন, আমার মাঝে মধ্যে মনে হয় শেখ হাসিনার হাতে কোনো এক জাদুর কাঠি আছে। সেই জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি, অনিয়ম ও চাঁদাবাজিসহ সকল মামলা তিনি সরকারে আসার পর একে একে উঠে গেল বা খারিজ হয়ে গেল। তবে আমাদের হাতে জাদুর কাঠি থাকলেও বলতাম না মামলা প্রত্যাহার করেন। আমরা ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করতাম। ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে ৩৪২ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থন করে তৃতীয় দিনের বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এর আগে ১৯শে অক্টোবর ও ২৬শে অক্টোবর দুইদিন আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, জনগণের মৌলিক ও মানবিক অধিকার এবং বিচার বিভাগ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। দেশকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার নিরলস প্রয়াসে কখনো বিরতি দেইনি। আমি বিরোধীদলীয় নেত্রীর দায়িত্বও পালন করেছি। আত্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে আমি এসব কথা বলছি না। আমার এই অবস্থান, ভূমিকা ও অবদানের বিনিময়ে বাড়তি কোনো সুবিধা বা মর্যাদা দাবি করার কোনো অভিপ্রায়ও আমার নেই। আমি নিজেকে আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বেও মনে করি না। আমি শুধু এটুকু বলতে চাই যে, একই ধরনের মামলায় অভিযুক্ত হয়েও আরেকজন নেত্রী যে সব সুবিধা ভোগ করেছেন, আমি কখনো আদালতের কাছে তেমন সুবিধা দাবি করিনি। আমি দেশের একজন সাধারণ সিনিয়র সিটিজেনের প্রাপ্য অধিকারটুকু পেলেই খুশি। আইনসম্মতভাবে ন্যায়বিচার ছাড়া মাননীয় আদালতের কাছে আমার চাইবার আর কিছু নেই। আজ আমার প্রতি যে ধরনের আচরণ করা হচ্ছে তা আমার অবস্থান ও ভূমিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা এবং এর মাধ্যমে আমার প্রতি কোনো বৈষম্য করা হচ্ছে কিনা- সেটাও আদালতের বিবেচনার বিষয় বলে আমি মনে করি। খালেদা জিয়া বলেন, মাননীয় আদালত- আমার মাঝে মধ্যে মনে হয় শেখ হাসিনার হাতে কোনো এক জাদুর কাঠি আছে। সেই জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি, অনিয়ম ও চাঁদাবাজিসহ সকল মামলা তিনি সরকারে আসার পর একে একে উঠে গেল বা খারিজ হয়ে গেল। আমাদের আর কারো হাতে তেমন কোনো জাদুর কাঠি নেই। কাজেই একই সময়ে আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো একের পর এক সচল হয়েছে ও গতি পেয়েছে। হয়েছে নতুন নতুন আরো মামলা। দেশে কতো গুরুত্বপূর্ণ মামলা বছরের পর বছর ধরে চলছে। কতো মামলা ঝুলে আছে। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলো পেয়েছে রকেটের গতি। যেন কেউ পেছন থেকে তাড়া করছে, শিগগিরই শেষ করো। তড়িঘড়ি করে একটা রায় দিয়ে দাও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। বিএনপি চেয়ারপারসন প্রশ্ন রেখে বলেন, কেন? কোন্‌ উদ্দেশ্যে এবং কিসের জন্য এতো তাড়াহুড়ো? এই তাড়াহুড়োয় কি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে? নাকি ন্যায় বিচারের কবর রচিত হবে? আমাদের হাতে জাদুর কাঠি থাকলেও আমরা বলতাম না, মামলা প্রত্যাহার করেন। আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করতাম। এখনো আদালতের কাছে কেবল ন্যায়বিচারই প্রত্যাশা করছি। আশা করি সকল প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের প্রতি আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার করা হবে। ন্যায়বিচারের কথা জোর দিয়ে আমি বারবার বলছি, এর কারণ আছে। কারণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কি-না সে ব্যাপারে দেশবাসীর ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। আমরাও শঙ্কিত। খালেদা জিয়া বলেন, আপনি জানেন- এই মামলাসহ আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ চলার সময় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এবং শাসক দলের কোনো কোনো নেতা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। আমাকে অভিযুক্ত করে বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছেন। যেন তারা মামলার রায় কি হবে তা আগাম জানেন। অথবা তারা তাদের বক্তব্যে মাননীয় আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। তদন্ত ও বিচারাধীন বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের এহেন অপপ্রচার শুধু ন্যয়বিচারকেই প্রভাবিত করে না, বরং তা আদালত অবমাননার শামিল। এখানেই শেষ নয়, মামলার রায়ে আমার সাজা হবে এবং আমাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হবে বলেও ইতিমধ্যে কোনো কোনো মন্ত্রী প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন। কোনো কোনো মন্ত্রী এবং শাসক দলের কোনো কোনো নেতা প্রায় নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন, আমাকে রাজনীতির অঙ্গন থেকে বিদায় করে দেয়া হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্যে আমাকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সরাতে এবং নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে ক্ষমতাসীনরা একটি নীলনকশা প্রণয়ন করেছে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট, মতামত ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের উচ্চ মহলের কার্যকলাপ, তৎপরতা এবং বক্তব্য-বিবৃতি থেকে তা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। আর এসব কারণেই দেশবাসীর মনে ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে, আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলোতে ন্যায়বিচার হবে না। 
এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গতকাল সকাল সোয়া এগারটার দিকে আদালতে যান খালেদা জিয়া। পরে ১২টা ৫০ মিনিট থেকে ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন তিনি। আদালতের কার্যক্রম শেষে দুপুর দেড়টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে খালেদা জিয়ার পক্ষে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। আদালতকে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে রয়েছেন। ধার্য তারিখ পর্যন্ত তাকে জামিন দেয়া হয়েছে। এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হলেও তিনি আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে আদালতে উপস্থিত হন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনবার ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি পালিয়ে যাওয়ার লোক নন। জামিনের কোনো অপব্যবহার করেননি। তিনি বয়স্ক ও অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গিয়েছিলেন, এটি আদালতকে আমরা অবহিত করেছি। জয়নুল আবেদীন বলেন, বিদেশে তিনি (খালেদা জিয়া) পূর্ণ চিকিৎসা করতে পারেননি। চিকিৎসা সম্পন্ন না করেই আদালতের প্রতি সম্মান রেখে দেশে এসেছেন। খালেদার আইনজীবী বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) কক্সবাজার সফরে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার ঢাকায় এসেছেন। তিনি অসুস্থ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারাতেও অসুস্থ নারীদের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধার কথা বলা আছে। সবকিছু বিবেচনায় আমরা তার স্থায়ী জামিনের আবেদন করছি। এসময় আদালতের বিচারক বলেন, তিনি যে বিদেশে থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসলেন এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র আপনারা আদালতে দাখিল করেননি। দিয়েছেন কি? এ সময় খালেদার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান বলেন, লন্ডন থেকে চিকিৎসার কোনো সনদ আনা কঠিন। সেখানে এ ধরনের সনদ কেউ পায় না। আদালতকে তিনি বলেন, মামলায় দুটি আবেদন (১১ সাক্ষীকে রিকল করে জেরা ও মামলা বাতিলের আবেদন হাইকোর্টে খারিজ) আপিল বিভাগে বিচারাধীন আছে। আগামী রোববার তা শুনানি হতে পারে। সেই সময় পর্যন্ত আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য মুলতবি করার আবেদন করেন তিনি। খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিনের বিরোধিতা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, এর আগেও তাকে স্থায়ী জামিন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি এর অপব্যবহার করেছেন। উনারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবী) দুটি ইস্যুতে উচ্চ আদালতে গিয়েছেন। কিন্তু কোনো রুল আনতে পারেননি। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়া, তার ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান (লন্ডনে অবস্থানরত) সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই রমনা থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। এরা দুজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্য দুই আসামি সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামালউদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান এখনো পলাতক। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধভাবে লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ই আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। ২০১৪ সালের ১৯শে মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।
অক্টোবরের ২৫ তারিখ চীনা কম্যুনিস্ট পার্টির ১৯তম কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ পলিটব্যুরো স্থায়ী কমিটির ৭ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। যেমনটা ধারণা করা হয়েছিল, পূর্বতন পলিটব্যুরো স্থায়ী কমিটির চারজন অবসর নিয়েছেন বয়সজনিত কারণে। এরা হলেন- ঝাং দেজিয়াং, ইউ ঝেংশেং, লিউ ইউনশান ও ঝাং গাওলি। এছাড়া, অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে অবসর নিয়েছেন ওয়াং কিশান। তিনিও সম্ভবত বয়সজনিত কারণে অবসর নিয়েছেন। অর্থাৎ, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং ছাড়া সাত সদস্যবিশিষ্ট স্থায়ী কমিটির বাকি সকল সদস্যই বিদায় নিয়েছেন।
দেখে নেয়া যাক নবগঠিত স্থায়ী কমিটির সাত সদস্যের পরিচিতি, যারা অন্তত আগামী ৫ বছর চীনকে পরিচালনা করবেন।
১. শি জিনপিং: প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (৬৪) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নতুন স্থায়ী কমিটির এক নম্বর সদস্য। পাশাপাশি দেশের ক্ষমতাধর কেন্দ্রীয় সামরিক কমিটির চেয়ারম্যান। ক্ষমতাসীন কম্যুনিস্ট পার্টির প্রধান ও পিপল’স লিবারেশন আর্মির সর্বাধিনায়ক শি জিনপিং দলের ১৯তম অধিবেশনে নিজের ক্ষমতা আরো সুসংহত করেছেন। ‘নবযুগে চীনা ধাঁচের সমাজতন্ত্র নিয়ে শি জিনপিং-এর ভাবনা’ শিরোনামে তার ভাবনা দলীয় সংবিধানে সংযুক্ত করা হয়েছে। মার্ক্সবাদ, লেনিনবাদ, মাও সেতুং ভাবনা, দেং শিয়াওপিং তত্ত্ব, (জিয়াং জেমিন-এর) থিওরি অব থ্রি রিপ্রেজেন্টস ও হু জিনতাওর উন্নয়নের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি এখন শি জিনপিং-এর এই ভাবনাও দলের সংবিধানে শোভা পাবে। একে দলের জন্য অবশ্য অনুসরণীয় দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দলীয় কংগ্রেস চলাকালে প্রেসিডেন্টকে ‘মহান নেতা’, ‘মাঝি’ ও নবযুগে চীনা ধাঁচের সমাজতন্ত্রের রূপকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। শি জিনপিং-এর নেতৃত্বে কম্যুনিস্ট পার্টি চীনকে এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
২. লি কেকিয়াং: প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং (৬২) স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় নেতৃত্বস্থানীয় সদস্য হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। চীনা কম্যুনিস্ট ইয়ুথ লীগের সঙ্গে কেকিয়াং-এর সম্পর্ক বেশ জোরালো। গত ৫ বছরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার বোঝাপড়া ছিল দারুণ। প্রেসিডেন্টের ঘরোয়া ও বৈদেশিক নীতির কড়া সমর্থক তিনি। আইন ও অর্থনীতিতে উচ্চতর পড়াশোনা আছে তার। প্রাদেশিক ও জাতীয় নেতা হিসেবে অভিজ্ঞতার পাল্লাও কেকিয়াং-এর ভারি। রাষ্ট্র পরিষদের (মন্ত্রিসভা) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার অবস্থান বহাল থাকবে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে।
৩. লি ঝাংশু: কম্যুনিস্ট পার্টির সাধারণ কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে তিনি ২০১২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ৬৭ বছর বয়সী ঝাংশু যখন স্থায়ী কমিটিতে জায়গা করে নেন, তখন তাকে দেখা হচ্ছিল প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র হিসেবে। হেবেই অঞ্চলের বাসিন্দা ঝাংশু আশির দশকে পার্শ্ববর্তী কাউন্টির দলীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শি জিনপিং-এর সঙ্গে কাজ করেন। প্রেসিডেন্টের নিজ প্রদেশ শাংক্ষি প্রদেশে ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পদে দায়িত্বরত ছিলেন তিনি। ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত হেইলোংজিয়াং-এর গভর্নর ও পরের দুই বছর গুইঝো প্রদেশের দলীয় সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওর আমলে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ কার্যালয়ের পরিচালকের পদ থেকে লিং জিহুয়াকে ২০১২ সালে সরে যেতে হয়। তখন সেখানে নির্বাহী উপ-পরিচালক হিসেবে লি ঝাংশুকে বেইজিং-এ নিয়ে আসে দল। এক মাস পরেই তিনি পরিচালকের দায়িত্ব পান।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে তিনি নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। দেশের অভ্যন্তরে সকল পরিদর্শন সফর ও বিদেশ সফরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছিলেন তিনি। এমনকি প্রেসিডেন্টের পক্ষেও তিনি একাধিক বিদেশ সফর করেন। ২০১৮ সালের মার্চে দলীয় বিভিন্ন পদে রদবদল হবে। তখন তিনি ন্যাশনাল পিপল’স কংগ্রেস স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান পদে ঝাং দেইজাং-এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন।
৪. ওয়াং ইয়াংঃ উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ওয়াং ইয়াং দায়িত্ব পালন করছেন ২০১৩ সালের মার্চ থেকে। ২০০৭ সালের অক্টোবর থেকে তিনি পলিটব্যুরোর সদস্য। ৬২ বছর বয়সী ইয়াং এবার অবশেষে স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। ২০১২ সাল থেকেই তার স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ওয়াং চীনা রাজনীতিতে উপরে উঠেছেন নিজের যোগ্যতা দিয়ে। আনহুই প্রদেশের টংলিং শহরের মেয়র হিসেবে ১৯৮৮ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে ওয়াং বিভিন্ন খাতে সাহসী সংস্কার নিয়ে আসেন। তাকে একজন সংস্কারবাদী হিসেবে দেখা হয় দলে। প্রাদেশিক ও জাতীয় নেতা হিসেবে তার অভিজ্ঞতার পাল্লা ব্যাপক। আনহুই প্রদেশের ভাইস গভর্নর, চোংকিং ও গুয়াংডং প্রদেশের দলীয় সম্পাদক ছিলেন তিনি। রাষ্ট্র পরিষদে (মন্ত্রিসভা) উপ-মহাসচিব ছিলেন একসময়। এখন আছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। আগামী বছরের মার্চে তিনি চাইনিজ পিপল’স পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে ইয়ু ঝেংশেং-এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন।
৫. ওয়াং হানিং: কেন্দ্রীয় পলিসি রিসার্চ কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে তিনি ২০০২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সাল থেকে পলিটব্যুরোর সদস্য। এবারই তিনি স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। শিক্ষাবিদ থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ওয়াং হানিং-এর বয়স ৬২। আশির দশকের পর থেকে দলের আদর্শিক উন্নয়নে তার ব্যাপক অবদান রয়েছে। ‘নব কর্তৃত্ববাদ’ নামে একটি বইয়ের লেখক তিনি। চীনের মতো দেশে কেন্দ্রীভূত রাজনীতির যৌক্তিকতা তিনি সেখানে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি তিন দলীয় সম্পাদক তথা প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন, হু জিনতাও ও শি জিনপিং-এর অধীনে কাজ করেছেন। নব্বইয়ের দশকের শেষ থেকে তিনি প্রেসিডেন্টদের বৈদেশিক সফরে সঙ্গী ছিলেন। কেন্দ্রীয় পার্টি স্কুলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি লিউ ইউনশানের জায়গায় আসতে পারেন। এছাড়া থাকবেন পদাধিকারবলে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সচিবালয়ের দায়িত্বে। মূলত, সরকারি প্রচার ও কর্মী সংক্রান্ত ইস্যুই তার দায়িত্বে থাকবে। বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট লি ইয়ুয়ানচাও-এর স্থলে ২০১৮ সালের মার্চে সম্ভাব্য যে ৫ জনের একজন দায়িত্ব পাবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে, তার মধ্যে তিনি একজন।
৬. ঝাও লেজি: কেন্দ্রীয় সংগঠন বিভাগের পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্বে আছেন ২০১২ সাল থেকে। ৬০ বছর বয়সী লেজিও স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য। তার পিতা-মাতা শাংক্ষি প্রদেশের বাসিন্দা হলেও লেজির জন্ম ও বেড়ে ওঠা কিংঘাই প্রদেশে। ১৯৭৫ সালে ১৮ বছর বয়সে দলে যোগদান করেন তিনি। দুই বছর পর তিনি পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন নিয়ে পড়াশুনা করেন। তিনি তখন ছিলেন একাধারে শ্রমিক, কিষাণ, সৈন্য ও ছাত্র। পরে সফলতার সিঁড়িতে তরতর করে উপরের দিকে উঠতে থাকেন তিনি। ১৯৯৯ সালে তিনি হয়ে যান চীনের নবীনতম গভর্নর। অর্থাৎ ৪২ বছর বয়সে তিনি ছিলেন কিংঘাই প্রদেশের গভর্নর। ৪ বছর পর একই প্রদেশের দলীয় সম্পাদক হন তিনি। তিনি ছিলেন তখন চীনের সবচেয়ে কমবয়সী দলীয় প্রাদেশিক সম্পাদক।
দলের কোন অংশের প্রতি তার আনুগত্য তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। তবে তিনি বিশ্বস্ততার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করেছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় সংগঠন বিভাগের নির্বাহী উপ-পরিচালক ও নিজের সহপাঠী চেন শির সঙ্গে কাজ করেছেন। গত পাঁচ বছর ধরে তাদের কাজ ছিল সংগঠনের বিভিন্ন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রেসিডেন্টের অনুগতদের বসানো। কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা পরিদর্শন কমিশনের প্রধান হিসেবে তিনি ওয়াং কিশানের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এছাড়া আগামী বছরের মার্চে তিনি একটি নতুন জাতীয় সুপারভাইজরি কমিশনেরও প্রধান হতে পারেন তিনি।
৭. হ্যান ঝেং: ২০১২ সাল থেকে তিনি সাংহাই প্রদেশের দলীয় সম্পাদক। ৬৩ বছর বয়সী হ্যান ১৯ তম স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য। ১৯৮৯ সালের পর থেকে এ নিয়ে সাংহাই-এর সাত জন দলীয় সম্পাদক দলের স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেলেন। ঝেনজিয়াং প্রদেশ তার পূর্বপুরুষের আবাসস্থল। তবে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সাংহাই-এ। আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত প্রশিক্ষণ নেই তার। দলের সাংহাই শাখায় তার পদোন্নতি ছিল মূলত দলের যুব শাখার মাধ্যমে। তিনি সরাসরি অনেক প্রাদেশিক দলীয় সম্পাদকের অধীনে কাজ করেছেন। ১৯৪৯ সালের পর সাংহাই-এর ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি সাংহাই শহরের মেয়র হিসেবে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। চীনের বাণিজ্যিক কেন্দ্রস্থল সাংহাই শহরের মেয়র থাকাকালে তিনি প্রায়ই তৎকালীন দলীয় প্রধানদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন। সাংহাই এ ব্যাপক প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকায় আগামী মার্চের রদবদলে হ্যানকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, কম্যুনিস্ট পার্টি যদি ‘৬৮-এর নিয়ম’ অনুসরণ করে (অর্থাৎ ৬৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী নেতাদের স্থায়ী কমিটি থেকে অবসর নিতে হবে। ৬৭ বা তার চেয়ে কম বয়সীরা থাকতে পারে), তাহলে ২০২২ সালে আগামী দলীয় কংগ্রেসে শি জিনপিং, লি ঝাংশু ও হ্যান ঝেংকে অবসর নিতে হবে। সেক্ষেত্রে লি কেকিয়াং, ওয়াং ইয়াং, ঝাও লেজি ও ওয়াং হানিং আরো ৫ বছর মেয়াদে স্থায়ী কমিটিতে থেকে যেতে পারেন। কিন্তু এ-ও মনে রাখা প্রয়োজন, দলীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শি জিনপিং এই নিয়মের ব্যতিক্রমও থাকতে পারেন। যদিও সাধারণ নিয়ম হলো দলীয় সাধারণ সম্পাদক দুই মেয়াদের বেশি থাকবেন না। তাই গুঞ্জন আছে চীনে যে শি জিনপিং নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তৃতীয় মেয়াদেও দলের সেক্রেটারি তথা দেশের প্রেসিডেন্ট পদে থেকে যাবেন। বর্তমান স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্যই ২০তম দলীয় কংগ্রেসে শি জিনপিং-এর উত্তরাধিকারী হওয়ার মতো অল্প বয়সী নন। অর্থাৎ, বর্তমান কমিটিতে প্রেসিডেন্টের কোনো সম্ভাব্য উত্তরসূরি নেই। অন্তত তিন জনের নাম সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও, তাদের কাউকেই স্থায়ী কমিটিতে আনেননি শি জিনপিং।
(অধ্যাপক বো ঝিইয়ু চীনের অভিজাত রাজনীতির বিষয়ে বিশ্বের একজন নেতৃত্বস্থানীয় বিশেষজ্ঞ। তিনি বো ঝিইয়ু চায়না ইন্সটিটিউট নামে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট। এই প্রতিষ্ঠান বহু রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বহুজাতিক কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহীদের পরামর্শ সেবা দিয়ে থাকে। তার সাম্প্রতিক বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক’ ও ‘শি জিনপিং-এর অধীনে চীনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি।’ দ্য ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত তার এই নিবন্ধটি অনুবাদ করেছেন মাহমুদ ফেরদৌস।)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা প্যারিসের ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে সোমবার এই স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউনেস্কোর সদর দপ্তর বাংলাদেশের স্থপতি  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণটি মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকা সংরক্ষণ করে থাকে। মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারের অন্তর্ভুক্ত প্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকা বিশ্ব প্রেক্ষাপটে গুরুত্ববহ।
ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা এবং বিশ্ববাসী যাতে ঐতিহ্য সম্পর্কে সহজে জানতে পারে তা নিশ্চিত করা। ইউনেস্কো জানায়, মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ডের ইন্টারন্যাশনাল এডভাইজারি কমিটি গত ২৪ থেকে ২৭শে অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিবার্ষিক বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণটি বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান ও সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ৪২৭টি দলিল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারের অন্তর্ভুক্ত প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে সংগ্রহে থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গতকাল বলেন, বিশ্ববাসী এখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে পারবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা ও মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেন। এই ভাষণের পর সমগ্র বাঙালি জাতি সক্রিয়ভাবে মুক্তির সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। মুক্তিবাহিনীতে যোগদানকারী অগণিত মুক্তিযোদ্ধার জন্য এটি ছিল অনুপ্রেরণার এক সীমাহীন উৎস। আজও দেশব্যাপী বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে বাজানো বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এদেশের মানুষের হৃদয়-মনকে আন্দোলিত করে। এই ভাষণ এদেশের জনগণকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তা অনুপ্রাণিত করবে। এদিকে ইউনেস্কোর এ ঘোষণায় সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই ঐতিহাসিক ভাষণ সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করেছিল। জাতির পিতার ভাষণে সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির দীর্ঘদিনের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে মুক্তিকামী বাঙালির সমস্ত আশা, আকাঙ্ক্ষা প্রতিধ্বনিত হয়েছিল।
প্রমাণিত হলো ৭ই মার্চের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ
ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ছিল প্রত্যাশিত। আমরা বিশ্বাস করতাম, একদিন না একদিন এই ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে। আজ ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি আমাদের সেই বিশ্বাসকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো ৭ই মার্চের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ১৮ মিনিটের ভাষণ ছিল অলিখিত, ভিত্তি ছিল বিশ্বাস। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ একটি নিরস্ত্র জাতিকে স্বাধীনতার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি সারাজীবন যা বিশ্বাস করতেন, সেই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই ওই ভাষণ দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ডে’র স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। গতকাল সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন।
মিয়ানমারের রাখাইনে পূর্বে রোহিঙ্গা মুসলিমদের দখলে থাকা জমি বিভাজন (রি-জোন) ও পুনর্বণ্টনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকারি কর্মকর্তারা। তাদের এই পদক্ষেপ সরকারের রোহিঙ্গা পুনর্বাসন পরিকল্পনার পথে বাধা। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মিয়ানমার সরকারের ভেতর রোহিঙ্গা পুনর্বাসন পরিকল্পনার পুরোপুরি সমর্থন নেই।
গত বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত রাখাইনে প্রায় ৩০০ গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে কমপক্ষে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। রাখাইনকে পুনরায় সাজাতে এর মানচিত্রে কিছু পরিবর্তন আনা হবে।
রাখাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মাওং সুয়ি নিক্কেই এশিয়ান রিভিউকে এ বিষয়ে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সরকারি বিভাগগুলো রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিমদের পরিত্যক্ত জমি বনায়ন, কৃষি ও নতুন গ্রাম গড়ার জন্যে ব্যবহার করবে। রাখাইন ও অন্যান্য অঞ্চলে শিবির তৈরি করবে সরকার। তবে, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সেখানে ফেরত যেতে দেয়া হবে না। সরকারি সমীক্ষণকারীরা রাখাইনের উত্তরাঞ্চলের মানচিত্র নতুন করে আঁকছে। সুয়ি জানান, এ প্রক্রিয়া শেষ হতে আরো কয়েক মাস লাগবে। তিনি বলেন, আমাদের জিএডি জমি সম্বন্ধীয় তথ্য সংগ্রহ করবে। এটা একটা জাতীয় পরিকল্পনা। এ প্রক্রিয়া অনুসারে, এই ভূখণ্ডকে গ্রাম, ধান ক্ষেত, বন ইত্যাদি ভাগে ভাগ করা হবে। আমরা আপাতত নতুন মানচিত্র তৈরির জন্য জরিপ চালিয়ে যাচ্ছি। এই জরিপ, জমিগুলোর ব্যবহার মালিকানার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে। তিনি জানান, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন এসব জমিতে করা হতে পারে। তাদের হয়তো এখানে চাষ করতেও দেয়া হতে পারে। তবে তাদের এসব জমির মালিকানা ফিরিয়ে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, এসব তাদের জমি নয়। তারা এই জমির আসল মালিক নন। আসল মালিক হচ্ছে এই দেশ। আমাদের পূর্বপুরুষরা। আমরা কখনোই এসব জমি বিলিয়ে দেবো না। রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা হবে। কিন্তু অবশ্যই তা কিভাবে করা হবে সেসব আমাদের জাতীয় নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। সুয়ির মন্তব্য ও মিয়ানমারের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান জ্যেষ্ঠ জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের মন্তব্যের মধ্যে ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে। তাদের উভয়ের মন্তব্য অনুসারে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে থাকার অধিকার নেই। কিন্তু অন্যদিকে বেসামরিক সরকার তাদেরকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাদের নিজের জমি ও বাড়ি ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সরকারের দুই পক্ষের এই দুই ধরনের মনোভাব ও পরিকল্পনা প্রকট আকারে বিভ্রান্তিকর।
সেপ্টেম্বরে মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক মন্ত্রী উইন মেয়াত আয়ে বলেন, মিয়ানমারের আইনানুসারে, কোনো পুড়ে যাওয়া জমি সরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে চলে যায়। পরবর্তীতে অক্টোবরে নিক্কেই এশিয়ান রিভিউকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা চাইলে তাদের নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন। মধ্য-অক্টোবরে দেশটির কার্যত নেত্রী, স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচি বলেন, তিনি রাখাইনের পুনর্নির্মাণ ও রোহিঙ্গাদের ফিরে আসার বিষয়টি দেখাশোনার জন্য একটি মিশ্র সংগঠন গঠন করেছেন। অন্যদিকে, সরকারি কর্মকর্তারা বিশেষ করে সামরিক জান্তা-চালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রাখাইনে আদর্শ গ্রাম (মডেল ভিলেজ) নির্মাণের কথা বলছেন। ত্রাণ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই আদর্শ গ্রাম হতে পারে সম্ভাব্য স্থায়ী শিবির। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের পলায়ন থামাতে ও মিয়ানমারে তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করা নিয়ে ২৪শে অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে ওই চুক্তিতে তাদের বসতি স্থাপন ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। রাখাইন রাজ্যের উন্নয়ন বিষয়ক কর্মকাণ্ডে পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োজিত এক জাতিসংঘ কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, এটি আমাদের ভীতিকে আরো বাড়িয়েই দিচ্ছে। হয়তো গুটিকয়েক রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। তাদের হয়তো নামমাত্র ‘পটেমকিনে’ (ভুয়া গ্রাম) থাকার ব্যবস্থা করা হবে। আর এতেই শেষ।
রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলছে। এর পেছনে বেশকিছু কারণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। সমপ্রতি রাখাইনের আঞ্চলিক সরকার রোহিঙ্গাদের ফেলে যাওয়া জমি, গৃহপালিত পশু ও চাষ করা ফসলাদি সম্পর্কে যে ঘোষণা দিয়েছে সেটি ওইসব প্রভাবকের একটি। আঞ্চলিক সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, তারা রোহিঙ্গাদের ফেলে যাওয়া গবাদিপশু বিক্রি করে দেবে; তাদের বুনে যাওয়া ধান ও অন্যান্য ফসল কেটে সরকারি গুদামে মজুদ করবে ও স্থানীয়দের মধ্যে (যাদের বেশিরভাগই বৌদ্ধ) বিলিয়ে দেবে। এসবের চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রাখাইনের পুনর্নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা প্রদান করা নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয়। একটি দাতা দেশের এক কূটনীতিক বলেন, তাদের উন্নয়নে সহায়তা করাটা অনেকটা জাতি নিধনের জন্য পুরস্কার দেয়ার মতো হয়ে যায়। বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্র সরকার রাখাইনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও শরণার্থীদের ফেরত যাওয়া নিয়ে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
রাখাইনে সামরিক বাহিনীর নির্যাতন চালানোর প্রতিবেদন ও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পলায়ন বিশ্বের শীর্ষ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ও দাতা দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের গভীর বিভাজনের সৃষ্টি করেছে। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে মিয়ানয়ারকে দেয়া ত্রাণ সহায়তা ও ঋণের বিষয়। উদাহরণ হিসেবে বিশ্ব ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডকে ধরা যায়। মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারকে সহায়তা প্রদান প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ২০ কোটি ডলারের এক বাজেট আগস্টে চূড়ান্ত করে বিশ্ব ব্যাংক। পাশাপাশি রাখাইনে জরুরি সহায়তা প্রোগ্রামের জন্যও একটি প্রস্তাব রাখা হয়। তবে বর্তমানে ওই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে উল্লিখিত উভয় প্রোগ্রামের প্রস্তাবই বাতিল করে দেয়া নিয়ে বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে। অং সান সুচি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর ও কার্যত নেত্রীর দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও দাতা প্রতিষ্ঠান ও দেশগুলো মিয়ানমারের আধা-গণতান্ত্রিক সিস্টেমে সামরিক জান্তাদের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। দাতা সংস্থাগুলোর কাছে এখন মুখ্য চিন্তার বিষয় হচ্ছে, তাদের সহায়তা সামরিক জান্তাদের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হবে কি না! এছাড়া রাখাইনে পাঠানো কোনো সহায়তা সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কাও রয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বিভিন্ন পশ্চিমা ও মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো যে আহ্বান জানাচ্ছে তা এই বিতর্ক আরো উস্কে দিচ্ছে। এইরকম কোনো নিষেধাজ্ঞা রাখাইনে সহায়তা প্রদানের বিষয়টি শুধু জটিলই করে তুলবে না, পাশাপাশি মিয়ানমারে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও কঠিন করে তুলবে। কেননা, মাত্র এক বছর আগেই দেশটির সামরিক জান্তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক আইন সংস্থা ফিলসবুরি শ পিটম্যানের সঙ্গে কাজ করা বাণিজ্য বিষয়ক অ্যাটর্নি ও নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞ এরন হুটম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার দেখাচ্ছে যে মিয়ানমারের ব্যবহারের জন্য তাদের ঝুলিতে শাস্তি ও পুরস্কার উভয়ই আছে। কিন্তু তারা মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করা ছাড়া সেখানকার সামরিক নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার ও রোহিঙ্গাদের সাহায্য করার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা কি ব্যবস্থা নিবেন তার একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সম্ভবত তারা সামরিক নেতাদের ওপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন। যেমন, ভিসা সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা। এতে করে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটবে। কিন্তু একই সঙ্গে এটি মানবিক সহায়তার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণলায়ের কর্মকর্তাদের দেখা যাচ্ছে, তারা সরকারের পরিকল্পিত ব্যবস্থাগুলো নিয়ে কথা বলছেন। তাদের এসব কথা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, একই সঙ্গে জনগণকে মানবিক সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত করা ও এটাও পরীক্ষা করে দেখা যে, এসব নিষেধাজ্ঞার হুমকি সামরিক বাহিনীর আচরণে কোনো পরিবর্তন আনে কিনা।
রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন থামাতে ও তাদের নিরাপদভাবে ফিরিয়ে আনতে মিয়ানমারকে চাপ দেয়ার জন্য এবং এই সংকটের সমাধান করতে আরো জোর প্রচেষ্টা চালানোর জন্য এ সপ্তাহে বৃটেন ও ফ্রান্স জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে চীন এখনো নীরব ভূমিকা পালন করছে। তাই সন্দেহ থেকে যায়, নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও, চীন তার সমর্থন করবে কি-না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, কানাডা ও অন্যান্য প্রভাবশালী দেশগুলোকে সামরিক বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চাপ দিবে। জাতিসংঘের ব্ল্যাকলিস্টকে টেনে হুটম্যান বলেন, যদি বহুপাক্ষিক না-ও হয় তাহলে আমরা সম্ভবত একপাক্ষিক ইউএস এসডিএন-এর প্রয়োগ দেখবো। উল্লেখ্য, ব্ল্যাকলিস্ট কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্বত্বার ওপর অবরোধ আরোপ করে আসছে। ওই তালিকায় যোগ হওয়া ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা নিষিদ্ধ।
(নিক্কেই এশিয়ান রিভিউয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুবাদ।)
নিজের নির্বাচনী প্রচার শিবিরের সাবেক চেয়ারম্যান পল ম্যানাপোর্ট যখন সোমবার এফবিআই অফিসে আত্মসমর্পণ করতে ঢুকলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তখন হামলে পড়লেন টুইটারে। পুরো ঘটনার গুরুত্ব উড়িয়ে দিয়ে তিনি লিখলেন, ‘(রাশিয়ার) সঙ্গে কোনো যোগসূত্র নেই।’ ট্রাম্পের এই ছোট টুইট যখন তার ৪ কোটি ১০ লাখ অনুসারীর কাছে পৌঁছালো, তখন বের হলো আরেক বিস্ফোরক খবর। জানা গেল, তারই এক তরুণ পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা কয়েক মাস ধরে চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ানদের  সংযোগ করিয়ে দিতে। এই রাশিয়ানরা ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের ব্যাপারে সংবেদনশীল তথ্য দেয়ার প্রস্তাবের পরই এই চেষ্টা চালায় ওই তরুণ উপদেষ্টা। মার্কিন শীর্ষ সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণীর শুরুটা ছিল এমনই।
এতে আরো বলা হয়, স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলারের আনা প্রথম অভিযোগসমূহে নির্দিষ্ট করে ট্রাম্পের কথা বলা হয়নি।
কিন্তু সামগ্রিকভাবে দেখলে, এটি প্রেসিডেন্টের ওপর এক চরম রাজনৈতিক আঘাত। মাসকয়েক ধরে তিনি বলে আসছেন, মুয়েলারের তদন্ত প্রকৃতপক্ষে ডেমোক্রেট আর গণমাধ্যমের উদ্ভাবিত এক ‘বানোয়াট তথ্যে’র ভিত্তিতে রচিত ‘প্রতিহিংসা চরিতার্থ’ করা বৈ কিছু নয়। কিন্তু মুয়েলার প্রমাণ করলেন, পুরো অভিযোগের সারবত্তা রয়েছে।
পল ম্যানাপোর্টের বিরুদ্ধে গঠিত অভিযোগের নথিপত্র থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, প্রেসিডেন্টের প্রাক্তন এই প্রধান সহযোগী গত বছরও কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার স্বার্থপন্থি গোষ্ঠীর এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। অপরদিকে ট্রাম্পের তরুণ পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা জর্জ পাপাডোপৌলোসের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ট্রাম্প শিবির থেকে অন্তত দুই জন হিলারি ক্লিনটন সম্পর্কে স্পর্শকাতর তথ্য পেতে মস্কোর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এর আগে প্রেসিডেন্টের পুত্র ট্রাম্প জুনিয়রও এক রাশিয়ান আইনজীবীর সঙ্গে এই একই উদ্দেশে বৈঠক করেছিলেন।
মুয়েলারের এই পদক্ষেপের কারণে প্রেসিডেন্টের জন্য তদন্ত নতুন এক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সপ্তাহে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ, কর-হ্রাসের আইন প্রণয়ন ও শিগগির শুরু হতে যাওয়া ১২ দিনব্যাপী এশিয়া সফরের ওপর মনোনিবেশ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরিস্থিতি এত গুরুতর যে, সেসব ইস্যুতে তিনি তেমন সময়ই দিতে পারবেন না।
কুখ্যাত ইরান-কন্ট্রা অস্ত্রপাচার কেলেঙ্কারি তদন্তে স্বতন্ত্র সহযোগী আইনি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জন কিউ. ব্যারেট এ নিয়ে বলেছেন, ‘দিনটি নিশ্চিতভাবেই বেশ ঘটনাবহুল। অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে গেছে।’
এদিকে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে সোমবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত গুরুগম্ভীর। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর এই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্টের প্রাক্তন নির্বাচনী প্রচার প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও প্রেসিডেন্টের সহযোগীরা স্বস্তিতে ছিলেন। কারণ, ম্যানাপোর্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হতে পারে, এমনটা তাদের অনুমেয়ই ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও প্রস্তুত ছিলেন। টুইটে লিখেন, যেসব অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো পল ম্যানাপোর্ট তার প্রচার শিবিরের দায়িত্ব নেয়ার আগেই ঘটেছে। কিন্তু তাদের এই সাময়িক স্বস্তি দুশ্চিন্তায় রূপ নিতে সময় নেয়নি।
কারণ, এরপরই পাপাডোপৌলোসের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার খবর হোয়াইট হাউসকে রীতিমতো স্তব্ধ করে দেয়। এরপর থেকে ট্রাম্প সারা দিন আর কিছুই প্রকাশ্যে বলেননি, যেটি তার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বেশ বেমানান। এরপর তার উপদেষ্টারাই পরিস্থিতি সামলানোর কাজে নেমে পড়েন। তারা যুক্তি দেখান যে, ম্যানাপোর্ট যা করেছেন, তার সঙ্গে ট্রাম্প শিবিরের কোনো সংশ্রব ছিল না। পাপাডোপৌলোসের ব্যাপারে তারা বলেন, তিনি অত বড় কোনো পদে ছিলেন না। তিনি ছিলেন স্রেফ একজন স্বেচ্ছাসেবী। ট্রাম্প সহযোগীদের আরো যুক্তি হলো, পাপাডোপৌলোস যেসব বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করেছেন, তা সফল হয়নি। তাছাড়া তিনি এফবিআই’র কাছে মিথ্যে সাক্ষী দেয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। প্রচার শিবিরের সঙ্গে যার কোনো সম্পর্ক নেই।
হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্স বলেন, ‘আজকে যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তদন্ত দলের পক্ষ থেকে, তার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের, তার নির্বাচনী শিবির বা কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা প্রথম দিন থেকে দেখেছি যে, ট্রাম্প ও রাশিয়ার যোগসূত্রের কোনো প্রমাণ নেই। আজকে অভিযোগ গঠনের যে খবর বেরিয়েছে তাতেও কিছুই প্রমাণ হয়নি।’
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী জ্যা সেকুলো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বা তার আইনি দল এসব নিয়ে চিন্তিত নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত, যেমনটা আমি শুরু থেকে ছিলাম। রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের কোনো অযাচিত যোগাযোগ ছিল না। বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার কোনো চেষ্টা হয়নি। আমি বা কেউই এ নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নই।’
কিন্তু অন্য আইনজীবী ও সাবেক কৌঁসুলিরা বলছেন, পাপাডোপৌলোসের স্বীকারোক্তি ও ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বৈঠকের কারণে এসব অগ্রাহ্যতার কোনো মূল্য নেই। জন কিউ. ব্যারেট বলেন, ‘পাপাডোপৌলোস যা করেছেন সেটাই তো যোগাযোগ। ট্রাম্প জুনিয়র হিলারির ব্যাপারে তথ্য পেতে রাশিয়ান আইনজীবীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন, সেটাই তো যোগাযোগ।’
স্পেশাল কাউন্সেল মুয়েলার এই অভিযোগ গঠন করায় প্রেসিডেন্টের পক্ষে এই তদন্ত উড়িয়ে দিয়ে ডেমোক্রেটদের দায়ী করা কঠিন হয়ে পড়লো। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হোয়াইট হাউসের আইনি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রবার্ট এফ. বর বলেন, ‘এ সপ্তাহান্তে মুয়েলারের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করে টুইটারে ঝড় তুলেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এখন তার সেসব বলার মতো মুখ নেই। মুয়েলার যেসব অভিযোগ গঠন করেছেন, তা ‘রাজনীতিরও ঊর্ধ্বে।’
কিন্তু পুরো ঘটনার মাত্রা এত বেশি যে ট্রাম্প হয়তো তদন্ত থামিয়ে দিতে উদ্ধত হতে পারেন। যেমন, তিনি হয়তো মুয়েলারকে বরখাস্ত কিংবা ম্যানাপোর্ট সহ অভিযুক্ত অন্যদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করতে পারেন। রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্টরা সোমবার আওয়াজ তোলেন, মুয়েলারকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেয়া উচিত। কারণ, ম্যানাপোর্টের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তা ট্রাম্প শিবিরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত নয়। অর্থাৎ, এসব মুয়েলারের কর্তৃত্ববহির্ভূত।
প্রেসিডেন্টের খণ্ডকালীন উপদেষ্টা রজার স্টোন জুনিয়র রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ডেইলি কলারকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের উচিত হবে না মুয়েলারকে বরখাস্ত করা। কিন্তু তিনি তার উদ্দেশ্য অন্যভাবেও হাসিল করতে পারেন। যেমন- হিলারি ক্লিনটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন ছিলেন, তখন রাশিয়ান এক কোম্পানিকে আমেরিকার ইউরেনিয়াম খাতে জড়িত হতে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে তদন্ত করার নির্দেশ দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট।’ মুয়েলার ছিলেন তখন এফবিআই’র পরিচালক। এই তদন্ত শুরু হলে মুয়েলারকে নিয়েও টানাহেঁচড়া শুরু হবে। তখন ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের দ্বন্দ্বের অভিযোগ তুলে মুয়েলারকে রাশিয়া তদন্ত থেকে পদত্যাগ করতে বলা হবে। রজার স্টোন বলেন, এটিই ট্রাম্পের ‘টিকে থাকার একমাত্র সুযোগ।’
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র হাকাবি স্যান্ডার্স ও ট্রাম্পের আইনজীবী সেকুলো এমন ইঙ্গিত উড়িয়ে দিচ্ছেন যে, ট্রাম্প হয়তো মুয়েলারকে বরখাস্ত করার চেষ্টা করতে পারেন। স্যান্ডার্স বলেছেন, ‘স্পেশাল কাউন্সেল ইস্যুতে কোনো পরিবর্তন আনার উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা আমাদের নেই।’ ম্যানাপোর্ট বা তদন্তে অভিযুক্ত অন্যদেরকে ট্রাম্প ক্ষমা করে দিতে পারেন, এমন সম্ভাবনাও তারা দেখছেন না বলে জানান। তবে অতীতে প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ‘তদন্তের সীমা’ অতিক্রম করলে তিনি মুয়েলারকে বরখাস্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তিনি প্রকাশ্যে এ-ও বলেছেন যে, নিজের আত্মীয়-স্বজন, সহযোগী এমনকি নিজেকেও ক্ষমা করার ‘সম্পূর্ণ এখতিয়ার’ তার রয়েছে।
এদিকে ডেমোক্রেটরা সোমবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ট্রাম্পের উচিত হবে না মুয়েলারের তদন্ত বাধাগ্রস্ত করা। সিনেটে ডেমোক্রেট দলীয় সর্বোচ্চ নেতা চাক শুমার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট কোনো অবস্থাতেই স্পেশাল কাউন্সেলের তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। যদি তিনি করেন, কংগ্রেসকে অবশ্যই দলমতের ঊর্ধ্বে দ্রুততা ও স্পষ্টতার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে যাতে তদন্ত অব্যাহত থাকে।’ ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেট সিনেটর ডিয়েন ফেইন্সটেইন বলেছেন, অভিযোগ গঠন থেকে প্রমাণ হয় মুয়েলার তার কাজ ঠিকভাবেই করছেন।
এছাড়া মুয়েলার অনেকটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাকে খাটো করে দেখা যাবে না। যেমন- এক নথিতে তার দল পাপাডোপৌলোসকে বর্ণনা করেছে ‘সক্রিয় সহযোগী’ হিসেবে। এটি ট্রাম্প শিবিরের অনেকেরই মাথাব্যথার কারণ হতে যথেষ্ট। কারণ, পাপাডোপৌলোস তিন মাস ধরে কৌঁসুলিদের সঙ্গে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তার বিবৃতি থেকে দেখা যাচ্ছে, রাশিয়ান কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার আগে তিনি প্রচার শিবিরের অনেক উপদেষ্টার সঙ্গে আগে পরামর্শ করে নিয়েছিলেন।
সাবেক কৌঁসুলিরা বলছেন, ম্যানাপোর্ট ও তার দীর্ঘদিনের সহযোগী ও ট্রাম্পের উপদেষ্টা রিক গেটসের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ এত গুরুতর যে, এটি হয়ে থাকতে পারে তাদের একজনকে বা উভয়কেই তদন্ত দলের সঙ্গে সহযোগিতা করতে রাজি করানোর চেষ্টা। হোয়াইট হাউসের এক আইনজীবী গত সপ্তাহে বলেছিলেন যে, ম্যানাপোর্ট যদি তদন্ত দলের সঙ্গে কথা না বলেন, তাহলে প্রেসিডেন্টের কোনো ভয় নেই। কিন্তু মুয়েলার ও তার কৌঁসুলি দল দৃশ্যত ম্যানাপোর্টের মুখ থেকে কথা বের করার চেষ্টাই করছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে শপথ নিয়ে মিথ্যা বলার অভিযোগ তদন্ত চলাকালে ডেপুটি স্বতন্ত্র আইনি উপদেষ্টা ছিলেন সলোমন উইসেনবার্গ। ওই তদন্ত শেষে বিল ক্লিনটনকে প্রতিনিধি পরিষদ অভিশংসিতও করেছিল। উইসেনবার্গ এই ইস্যুতে বলেন, ‘তারা প্রকাণ্ড এক কাজ করে দেখিয়েছে। তারা খুব দ্রুততা, নিষ্ঠুরতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে কাজ করেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘মুয়েলারের দল আসলে বার্তা দিচ্ছে যে, আমরা এখানে থাকতে এসেছি, আমাদের সঙ্গে ঝামেলা করার চেষ্টা করো না।’
নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের একজন পাইলটসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের দাবি তারা সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের বাসভবনে বিমান নিয়ে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তারা মিরপুরের দারুসসালাম এলাকায় গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর একটি বাড়িতে অভিযানে নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর সহযোগী এবং জেএমবি সদস্য। সোমবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের দারুসসালাম এলাকা থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফার্স্ট অফিসার সাব্বির এমাম সাব্বির, তার মা সুলতানা পারভীন, মো. আরিফুর রহমান আসিফ ও মো. আলম নামের ৪ জনকে আটক করা হয়। গতকাল বিকালে রাজধানীর কাওরানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইং প্রধান মুফতি মাহমুদ খান এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, সাব্বির এমাম সাব্বিরের মতো একজন দুর্ধর্ষ ব্যক্তি বাংলাদেশ বিমানের মতো সংবেদনশীল স্থানে চাকরিরত ছিলেন। এ ধরনের একজন উগ্রবাদী জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব ভবিষ্যতের আরো একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে দেশকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।
র‌্যাবের দাবি, সাব্বির ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি হতে বিমান চালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রিজেন্ট এয়ারওয়েজে চাকরি করেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি স্পেন থেকে বিমান চালনায় বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ২০১৪ সাল থেকে অদ্যাবধি সাব্বির বাংলাদেশ বিমানের পাইলট হিসেবে চাকরিরত ছিলেন। মুফতি মাহমুদ খান বলেন, সাব্বির বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং-৭৩৭ পরিচালনা করে থাকেন। সবশেষ তিনি গত সোমবার (৩০শে অক্টোবর) ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা (১৯:৫০-২৩:০০) ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। সাব্বির তুরস্ক থেকেও বিমান চালনার উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইং প্রধান বলেন, সাব্বির দুবাই, কাতার, মাসকাট, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ছাড়াও আরো অনেক দেশে বাংলাদেশ বিমানের পাইলট হিসেবে কাজ করেছেন। মুফতি মাহমুদ খান বলেন, নিহত জঙ্গি আবদুল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল সাব্বিরের। এ ছাড়া সাব্বির জঙ্গি সারোয়ার জাহানের কাছ থেকে বয়াত গ্রহণ করেন। গুলশান হামলার আগে ও পরে নিহত জঙ্গি আবদুল্লাহ, সাব্বির ও সারোয়ার জাহান একত্রে নাশকতার পরিকল্পনা করেন। সবশেষ পরিকল্পনা হিসেবে সাব্বির বিমান চালিয়ে সরকারের শীর্ষপর্যায়ের ব্যক্তির বাসভবনে আঘাত করা অথবা বিমানযাত্রীদের জিম্মি করে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করে। এমনকি সাব্বির জঙ্গি নেতা আবদুল্লাহকে এমন কথাও দিয়েছিল যে, চাকরির ভাতা বাবদ সে ১০ লাখ টাকা পাবে- তা সংগঠনে দান করে দেবে। র‌্যাব জানায়, গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর থেকে ৮ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিরপুর দারুসসালাম এলাকায় কমলপ্রভা নামের বাড়ির পঞ্চম তলায় জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে নিজেদের বোমার বিস্ফোরণে জেএমবির সদস্য মীর আকরামুল করিম আবদুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই ছেলে এবং তার দুই সহযোগী নিহত হয়। এ ঘটনার পরও আব্দুল্লাহর অন্যান্য সহযোগী সক্রিয় ছিল। বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে র‌্যাবের গোয়েন্দা দল ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৬শে অক্টোবর র‌্যাব-৪ এর অভিযানে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লাহ থেকে আব্দুল্লাহর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেএমবি সদস্য মো. বিল্লাল হোসেন (২৩) কে গ্রেপ্তার করে। পরে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরবর্তী সময়ে র‌্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতায় আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটিত হয়। সামগ্রিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে র‌্যাব-৪ এর এক দল সোমবার রাত ২টা থেকে গতকাল সকাল ১১টা পর্যন্ত মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিমানের পাইলটসহ ৪ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, বিমানের পাইলট সাব্বির গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিমান চালিয়ে রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির বাসভবনে হামলা পরিকল্পনা বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করেছে। এও স্বীকার করেছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সে এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান রেকি করেছে। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যানবাহন নিয়ে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা উদ্বুদ্ধ হয়ে থাকতে পারে। নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহ ও সাব্বির তাদের সহযোগীদের দেশে গাড়ি হামলা চালানোর জন্য এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। আর বিমান হামলার বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই র‌্যাব স্পর্শকাতর এই তথ্যটি প্রকাশ করছে।
মিয়ানমারের অবস্থানগত কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এ পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার বলছে, প্রতিদিন তারা আনুমানিক ৩০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিতে পারে। তবে, তাতে শর্ত রয়েছে। সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে না তারা। মিয়ানমারে বসবাস থাকার প্রমাণ উপস্থাপন করাটা অন্যতম পূর্বশর্ত।
প্রতিদিন ৩০০ জন করে ফেরত নিলে, বাংলাদেশে বর্তমানে অবস্থানরত আনুমানিক দশ লাখ রোহিঙ্গার ফেরত যেতে সময় লাগবে ৯ বছরের কিছু বেশি সময়।
আর, সেই হিসাবে গেল দু’মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৬ লাখ রোহিঙ্গার ফিরতে লাগবে প্রায় সাড়ে ৫ বছর। তবে, মিয়ানমার যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সবাইকে ফেরত নেবে না সেটা তাদের জটিল অবস্থানে একপ্রকার স্পষ্ট। সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যেও একই ইঙ্গিত মিলেছে। 
দেশটির শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ মিন্ট কাইং বলেছেন, তারা শনাক্ত করে, মিয়ানমারে যাদের বসবাস ছিল এবং এমন প্রমাণ যারা দেখাতে পারবে শুধু তাদের ফেরত নেয়া হবে। এক্ষেত্রে ১৯৯৩ সালে সম্পাদিত চুক্তির অংশবিশেষ সংশোধনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। জবাবে মিয়ানমার বলছে, চারটি মূলনীতিতে কোনো পরিবর্তন করা হবে না। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্য ইরাবতীর খবরে এসব কথা বলা হয়েছে। খবরে আরো বলা হয়, প্রতিদিন ৩০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে পারে মিয়ানমার। তাও দুটি চেকপোস্ট দিয়ে নেয়া হবে। প্রতিটি চেকপোস্ট দিয়ে দিনে ১৫০ জন করে রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়া হতে পারে। তবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ১৯৯৩ সালে সম্পাদিত শরণার্থী প্রত্যাবর্তনবিষয়ক চুক্তির প্রধান চারটি মূলনীতি অবলম্বন করা হবে এক্ষেত্রে তাতে শনাক্ত করা হবে রোহিঙ্গাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য। এর পরই তারা মিয়ানমারে ওই চেকপোস্ট দিয়ে প্রবেশের অনুমতি পেতে পারে।
মি. কাইং বলেছেন, যেহেতু আমাদের তাদের (রোহিঙ্গা) বিষয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করতে হবে, তাদের তথ্যের বিষয়ে নিরেটভাবে যাচাই করা হবে, তাই আমরা দিনে একটি চেকপোস্ট দিয়ে মাত্র ১৫০ জন শরণার্থীকে ফেরত নিতে পারবো।
যদি তার কথাই সরকারের মূল পরিকল্পনা হয় তাহলে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দীর্ঘ সময় লাগবে। যদি তারা এবার আসা ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে এভাবে ফেরত নেয় তাহলে তাতে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৫ বছর। কিন্তু টানা ২০০০ দিনের (সাড়ে পাচ বছর) প্রতিদিনই মিয়ানমার তাদের ফেরত নেবে কিনা তা স্থির নয়। কারণ, সরকারি ছুটি আছে। থাকতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ফলে ফেরত নেয়ার কার্যক্রম বিঘ্নিত হতে পারে। সময় লাগতে পারে অনেক বেশি। তাছাড়া বাংলাদেশে আসা সব রোহিঙ্গাকে তারা ফেরত নেবে এমন বার্তা জোরালো ভাবে আসেনি মিয়ানমারের তরফে। ইউ মিন্ট কাইং সে আভাসই দিয়েছেন। তারা চারটি মূলনীতির অধীনে ‘শরণার্থী’দের যাচাই করে দেখবেন- এরপর তাদের মিয়ানমারে ঢোকার অনুমতি দেয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে।
এই চারটি মূলনীতিতে বলা হয়েছে- এক. যারা ফিরে যাবেন মিয়ানমারে তাদের মিয়ানমারের অধিবাসী এটা প্রমাণ করতে হবে। দুই. স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হতে হবে অবশ্যই স্বেচ্ছায়। তিন. আশ্রয় শিবিরে যেসব শিশু জন্মগ্রহণ করেছে তাদের পিতামাতাদের অবশ্যই মিয়ানমারে বসবাস করা অধিবাসী হতে হবে। চার. যেসব শরণার্থী তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে তাদের এ বিষয়ে বাংলাদেশি আদালত থেকে নিশ্চিতকরণ করাতে হবে। মি. কাইং বলেছেন, ‘শরণার্থী’ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় বাড়তি কিছু পদক্ষেপ যুক্ত হতে পারে। তার মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসের ঝুঁকি। যদি দেখা যায়, চেকপোস্ট দিয়ে প্রত্যাবর্তনকারীদের সঙ্গে কোনো ‘সন্ত্রাসী’ প্রবেশ করছে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, ‘শরণার্থী’ প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য সমঝোতামূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসনবিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিমন হেনশ-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সরকারি কর্মকর্তা ও মানবাধিকার বিষয়ক এজেন্সিগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। এতে বাংলাদেশে ব্যাপকহারে রোহিঙ্গা প্রবেশের বিষয় ও তাদের অবস্থার উন্নয়নের বিষয় থাকবে। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনস চালুর পরিপ্রেক্ষিতে কমপক্ষে ৬ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এ ঘটনাকে জাতি নিধন বলে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছেন, নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা সাধারণ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে। তারা পুড়িয়ে দিচ্ছে বাড়ির পর বাড়ি। গ্রামের পর গ্রাম। গণধর্ষণ করছে রোহিঙ্গা নারী, শিশু, কিশোরী, যুবতীদের। ২৫শে আগস্ট পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা)। এতে কমপক্ষে ১১ পুলিশ, সেনা সদস্য নিহত হন। এরপর সেনাবাহিনী ক্লিয়ারেন্স অপারেশনস শুরু করে। এ বিষয়ে কাইং বলেছেন, ‘শরণার্থীদের’ সংখ্যার বিষয়ে আমাদের একমত হতেই হবে এমন কথা নেই। তারা (হতে পারে জাতিসংঘ বা অন্য কেউ) ‘শরণার্থীর’ সংখ্যা যা-ই বলুক না কেন আমরা তা মানবো না। তাদের যদি আবাসিক প্রমাণ না থাকে তাহলে আমরা তাদের গ্রহণ করবো না। মিয়ানমার সরকারের এমন সব বক্তব্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। যদি কাইংয়ের কথামতো অগ্রসর হয় সরকার তাহলে এটা ধরে নেয়া যায়, তারা সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে না। বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা নিয়ে তাই প্রশ্নের সৃষ্টি করা হয়েছে।
মাত্র ৫০ রিঙিতের বিনিময়ে দুই মেয়েকে বাংলাদেশী তিন পুরুষের হাতে যৌনকর্মী হিসেবে তুলে দিলেন এক মা। ওই মাকে ‘মনস্টার মাম’ বা দানবীয় মা হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। বাংলাদেশী তিন নাগরিকের মনোরঞ্জনের জন্য তিনি ওই দুই মেয়েকে এক রাতের জন্য তুলে দিয়েছিলেন। ওই দুটি মেয়ে সৎবোন। তাদের একজনের বয়স আট বছর। আরেকজনের ১০ বছর।
বলা হচ্ছে, বাংলাদেশী ওই পুরুষদের মনোরঞ্জনে বাধ্য করা হয় তাদেরকে। ৩৯ বছর বয়সী ওই মা একজন বেকার। তার চতুর্থ ও পঞ্চম বিয়ের সূত্রে জন্ম হয় ওই দুই কন্যার। তাদেরকে নিয়ে তিনি মালয়েশিয়ার সিনাইয়ের তামান বিনটাংয়ে দ্বি-তল একটি বালিজ্যিক ভবনের ছয়টি রুমের একটিতে বসবাস করেন। তবে মেয়েদের যৌনব্যবসায় বাধ্য করতে তিনি বেছে নেন লারকিন পারদানায় একটি হোটেল। তার অবস্থান থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। সেখানে কয়েক বছর ধরে বসবাস করছেন মালার নামে একজন। তিনি বলেছেন, এই পেশায় নামানো মেয়ে দুটির পড়াশোনা চলছিল ধূর গতিতে। তারা খুব কম কথা বলতো। ঠিক মতো স্কুলে যেতো না। তবে তাদেরকে এমন পেশায় নামানো হয়েছে এ বিষয়ে তার কোনো ধারণা ছিল না। নিয়মিত তার বাসায় আসা-যাওয়া করতেন বাংলাদেশী এক পুরুষ। মালার বলেছেন, আমাদের ধারণা ছিল ওই বাংলাদেশী হয়তো তার স্বামী। তারা একসঙ্গে থাকতেন মাঝে মাঝেই। অভিযুক্ত মা একটি কারখানায় কাজ করতেন। কিন্তু কয়েক মাস আগে তার চাকরি চলে যায়। স্থানীয় পুলিশ প্রধান মোহাম্মদ খলিল কাদের এ অভিযোগ তদন্ত করছেন। তিনি বলেছেন, গত কয়েক মাস ধরে প্রতি শ্রকিবার মেয়েদেরকে ওই হোটেলে নিয়ে যেতেন ওই মা। তাদেরকে দিয়ে অর্থের বিনিময়ে দেহ ব্যবসা করাতেন। ২৫ শে অক্টোবর তামান বিনতাং এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন মামলাটি তদন্তাধীন। শেষ হতে সময় লাগবে এক মাসের মতো। তবে যে বাংলাদেশীদের কাছে ওই দুই মেয়েকে তুলে দেয়া হয়েছে তাদের নাম জানা যায় নি।
দেশদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তার আশঙ্কায় পালিয়ে বেলজিয়ামে আশ্রয় নিয়েছেন কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়া নেতা কার্লেস পুইগডেমন্ট। সোমবারে তিনি সেন্ট জুলিয়া ডি রামিস গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আত্মগোপন করে বেলজিয়ামে পালিয়ে যান। এ খবর প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। স্পেনের গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, তার সঙ্গে আঞ্চলিক মন্ত্রীসভার আরো পাঁচ মন্ত্রী দেশ ত্যাগ করেছেন। প্রথমে তারা গাড়িতে করে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের শহর মার্সেলিতে যান। সেখান থেকে বিমানযোগে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস যাত্রা করেন।
পুইগডেমন্ট বেলজিয়ামে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করবেন বলে জানানো হয়েছে। সোমবার কাতালোনিয়া ত্যাগ করার পূর্ব পর্যন্ত- কি করবেন পুইগডেমন্ট তা নিয়ে একটি ঘোর অনিশ্চয়তার মাঝে ছিলো স্পেনের মানুষ। আত্মগোপনের একটি রক্ষণাত্মক পদক্ষেপ নিয়ে সকল জল্পনার অবসান ঘটালেন তিনি। বেলজিয়াম প্রথমদিকে পুইগডেমন্টের উপস্থিতির কথা জানে না- বলে বিবৃতি দিলেও পরে বেলজিয়ামের একজন আইনজ্ঞ জানান, পুইগডেমন্ট বেলজিয়ামেই আশ্রয় নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুইগডেমন্ট আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি অনুরোধ করেছেন, তার বেলজিয়ামে অবস্থানকালে যাতে আমি তার আইনগত ব্যাপার দেখাশুনা করি। পল বেকার্ট নামের ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ওই আইনজীবী আরো বলেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ের মামলা মোকাদ্দমা নিয়ে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। তিনি ও পুইগডেমন্ট ভবিষ্যতের করণীয় আলোচনা করছেন। একমাত্র বেলজিয়ামের সরকারই কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার সময় দেশটিকে সমর্থন করেছিলো। স্পেন-কাতালান সংঘাতের সময় দেশটি ইঙ্গিতও দিয়েছিলো যে, প্রয়োজনে তারা পুইগডেমন্টকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে পারে। তবে পদচ্যুত এই নেতাকে আশ্রয় দেয়ার ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটলের আশঙ্কা রয়েছে। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মাইকেল অবশ্য পুইগডেমন্টকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। কিন্তু দেশটির অভিবাসন মন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন ভিটিএম নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এটা স্পষ্ট বুঝা যায় যে, কাতালানের সঙ্গে অবিচার করা হচ্ছে। সেখানকার পদচ্যুত প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইগডেমন্ট ও অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক মামলা দেয়া হয়েছে। সেখানে তাদের ন্যায়বিচার পাবার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। এই অবস্থায় মানবিকতার সঙ্গে আমাদের উচিত পরিস্থিতি বিবেচনা করা। যদিও এমনটি করতে গেলে স্পেনের সঙ্গে আমাদের সস্পর্কের অবনতি হবার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয়ের কনজারভেটিভ পপুলার পার্টি বলেছে, পুইগডেমন্টকে গ্রেপ্তার করা তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো না। তারা শুধু নিশ্চিত করতে চেয়েছে, পদচ্যুত নেতারা যাতে সরকারি কাজকর্মে অংশ না নিতে পারেন। পুইগডেমন্টের পালিয়ে যাওয়াকে ন্যাক্কারজনক বলে উল্লেখ করেছেন কাতালানের স্বাধীনতা বিরোধীরা। এই অবস্থায় কাতালানের স্বাধীনতাকামীরা একটি হতাশাজনক অবস্থায় পতিত হলেন। তারা কি এখন রণে ভঙ্গ দেবেন নাকি আইনি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষে লড়ে যাবেন- এ কঠিন সিদ্ধান্তটা তাদেরকেই নিতে হবে। তবে, পুইগডেমন্ট বেলজিয়ামে বসে অভিবাসী সরকার পরিচালনা করার কথা ভাবছেন- এমন একটি সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। বাস্তবে এ ধরনের কোন নজির না থাকায় এ সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
রেশম খান ২১ বছর বয়সী উদীয়মান মডেল। বসবাস বৃটেনে। জুনে তার চাচাতো ভাই জামেল মুখতারের সঙ্গে পশ্চিম লন্ডনে বেড়াতে বের হলে তাদের  ওপর অ্যাসিড হামলা চালানো হয়। এতে রেশমার মুখমণ্ডল এবং শরীরের কিছু অংশ ঝলসে যায়। টমলিন নামের এক ব্যক্তিকে এ ঘটনায় আটক করে পুলিশ। বেকটন শহরে হাঁটার সময় রেশম ও তার চাচাতো ভাইয়ের উপর অ্যাসিড ছুড়ে মারে টমলিন।
কি কারণে এই হামলা চালানো হয়েছে তা স্পষ্ট না হলেও, ধরে নেয়া হয় জাতিবিদ্বেষ, ধর্মবিদ্বেষ থেকে এটা করা হয়েছে। সাধারণত মুখমণ্ডলে অ্যাসিড হামলার মতো ভয়াবহতার শিকার নারীরা নিজেদের গুটিয়ে নেন। তারা নিজেদের পুড়ে যাওয়া মুখ নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগেন। লোকসম্মুখে আসতে চান না। এখানেই ব্যতিক্রম ম্যানচেস্টারের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনার ছাত্রী রেশম। অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়া রেশম খান আর দশজন অ্যাসিডদগ্ধ নারীর মতো নিজেকে গুটিয়ে নেন নি। তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয়। মানুষকে তার চিকিৎসা এবং সেরে ওঠার অগ্রগতি সমপর্কে জানাতে থাকেন। সমপ্রতি নিজের জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি সেলফি দেন তিনি। এতে তিনি লেখেন, নিজেকে লুকিয়ে রাখার দিন শেষ। অ্যাসিডে পুড়ে যাওয়ার ভয়াবহতার তোয়াক্কা না করে সাহসিকতার সঙ্গে গণমাধ্যমে নিজের ছবি দেবার ফলে প্রশংসায় ভাসছেন রেশম। তার সাহসিকতার প্রশংসায় গণমাধ্যম এখন পঞ্চমুখ। টুইটারে দেয়া তার এক ছবির নিচে একজন লিখেছেন, তুমি কতটা আকর্ষণীয় এবং সাহসী! তোমার ওপর ভয়াবহ হামলার পরেও যে সাহস তুমি দেখিয়েছো, তা বিরল। আরেকজন লিখেছেন, এভাবেই সব বাধা ভেঙ্গেচুরে এগিয়ে যাও। তুমি অসাধারণ! আমরা তোমাকে নিয়ে গর্বিত। অ্যাসিড আক্রমণের ভয়াবহতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নিজের ব্লগে রেশম লেখেন, এই ঘটনার পর আমি আতঙ্কে মুষড়ে পড়ি। তবে আমি ভাগ্যবান বোধ করি যে, এতে আমার মুখাবয়বের কোনো বিকৃতি ঘটেনি। তিনি আরও লিখেছেন, এসিড হামলার শিকার নারীদের মধ্যে আমিই সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান। কারণ, পরিবার পরিজন ছাড়াও- জনসাধারণ এবং গণমাধ্যমের যে অকাতর ভালোবাসা আমি পেয়েছি, তাতে আমি অভিভূত। হীনম্মন্যতার অন্ধকার চাদর ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা রেশমদের কল্যাণেই বদলে যাচ্ছে সময় এবং দিন দিন আরও আত্মবিশ্বাসী হতে শিখছেন নারীরা।
যৌন উত্তেজক ওষুধে ঝুঁকছে যুবকরা। আর এতে কাবু হচ্ছে তারা। গোপনে  চলছে আমদানি ও বিপণন নিষিদ্ধ এসব উত্তেজক ওষুধের বাণিজ্য। বিভিন্ন চোরাপথে দেশের বাজারে আসছে এসব ওষুধ। বিক্রেতারা এসব ওষুধকে ‘পাওয়ার’ বলে অভিহিত করছেন। এসব পাওয়ারের মধ্যে ‘ইয়াবা’ নিয়ে দেশে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলেও অন্যান্য ওষুধ নিয়ে নেই তৎপরতা।
এসব ওষুধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছু অভিযান চালালেও মূল হোতারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ‘যৌন উত্তেজক’ বলে প্রচার করা অনুমোদনহীন দেশীয় ওষুধের বাজারও বাড়ছে। তবে স্বাস্থ্য ও মাদকবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ওষুধ এক ধরনের মাদক। আসক্তি বাড়ানো ওষুধগুলো শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিভিন্ন ফার্মেসির বিক্রেতারা জানান, বাজারে ভারতের ইন্টাগ্রা’ ৫০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। আমেরিকার ভায়াগ্রার প্রতি ট্যাবলেটের মূল্য ৭৫০ টাকা। ভারতের সেনেগ্রা ও কামাগ্রা প্রতি ট্যাবলেট ৫০ থেকে ৭০ টাকা। সেনেগ্রা, টেনেগ্রা, ফরজেস্ট, ক্যাবেটরা, টার্গেট ও ইডেগ্রা বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা। অধিকাংশ ওষুধের গায়ে মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ লেখা থাকে না। আমেরিকার টাইটানিক এক বোতলের দাম চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। খুচরা ট্যাবলেট ৪০০ টাকা। টাইটানিকে ইয়াবার মতো উত্তেজনার পাশাপাশি নেশা হয়। তাই ইয়াবার ক্রেতারা কেউ কেউ টাইটানিক সেবন করছেন। কম দামে পাওয়া যাচ্ছে চীনের জিয়ংবার। একটি ট্যাবলেটের দাম ৭০ টাকা।  জিনসিন পাস ৯০০ টাকার দরে বিক্রি হয়। পাওয়া যাচ্ছে দেশে তৈরি উত্তেজক ওষুধও।  অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঢাকা ও সারা দেশের খুচরা ওষুধ বিক্রেতারা রাজধানীর মিটফোর্ড ও চানখাঁরপুল থেকে দেশি-বিদেশি উত্তেজক ওষুধ কিনে এলাকায় চড়া দামে বিক্রি করছেন। খুচরা বিক্রেতারা এসব ওষুধকে পাওয়ার বলে ডাকেন। অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে তারা পাওয়ারও নিয়ে নেন প্রয়োজনমতো। শাহবাগ, ধানমন্ডি, শেরে বাংলানগরসহ সবখানেই পাওয়ার খুচরা বিক্রি হচ্ছে। মিটফোর্ডের কয়েকজন ওষুধ বিক্রেতা জানান, সরদার মার্কেটকে বলা হয় ইন্ডিয়ান মার্কেট। এ মার্কেটের নিচতলার দোকানগুলোতেই পাওয়ার ওষুধ বেশি বিকিকিনি হয়। এ ছাড়া হাবিব মার্কেটসহ সব মার্কেটে এখন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি হয়। রাজধানীর অভিজাত এলাকার ওষুধের দোকানেই বিক্রি বেশি। উচ্চবিত্ত শ্রেণির যুবক-যুবতীরা এসব ওষুধ খাচ্ছে। কিছু উত্তেজক ওষুধ খেলে চেহারার লাবণ্য অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এ কারণে শখ করে খায় অনেকে। উত্তেজনার পাশাপাশি নেশার কারণে ইয়াবা বেশি প্রচলিত হয়ে ওঠে। এ ছাড়া আইসপিল, ভায়াগ্রা, সানাগ্রা, ইন্টাগ্রাসহ বিভিন্ন ওষুধে আসক্ত হয়ে পড়েছে যুবসমাজ। এক শ্রেণির অপচিকৎসায় এ ধরনের ওষুধের মাধ্যমে যৌন দুর্বলতা দূর করার চেষ্টা চালানো হয়। ওই সব কথিত চিকিৎসক এ ধরনের ওষুধ-বাণিজ্যের সিন্ডিকেটেও জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত দু’বছর আগে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিন লাগেজ আমদানি-নিষিদ্ধ ওষুধ আটক করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। তবে লাগেজ বহনকারী সন্দেহভাজন পাকিস্তানি নাগরিক পালিয়ে যায়। ২০০৮ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর সকালে কার্গো ভিলেজে পড়ে থাকা পাঁচটি বড় কার্টন কাস্টমস কর্মকর্তারা গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে খুলে দেখেন কয়েক হাজার পিস উত্তেজক ওষুধ। জানা গেছে, কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফ এবং উত্তরাঞ্চলের ভারতের সীমান্ত হয়ে ইয়াবার সঙ্গে উত্তেজক ওষুধের চালান আসে দেশে।
উত্তেজক ওষুধে আসক্ত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথমে কৌতূহলেই খাওয়া শুরু করেন তারা। ভালো লাগা থেকে এখন আসক্তি ও নেশা। কেউ কেউ বিশেষ শারীরিক ক্ষমতা বাড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করেন। পরে ওষুধ না খেলে তারা স্বস্তি পান না। তবে স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলেন, উপযুক্ত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ধরনের উত্তেজক ওষুধ সেবন করা ঠিক নয়। এতে শরীরের স্বাভাবিক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ জানান, পুরুষ-মহিলাদের মধ্যে ২ থেকে ৫ শতাংশের দুর্বলতা থাকতে পারে। ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশের মানসিক সমস্যা। সে জন্য বিভ্রান্ত হয়ে উত্তেজক ওষুধ খায় অনেকে। এসব ওষুধ হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘদিন ব্যবহারে দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি কমে যায়। এতে লিভার ও নার্ভ ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
মিটফোর্ডের ওষুধ ব্যবসায়ীরা জানান, ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অভিযানের অভাবেই এসব ওষুধ বিক্রি হয়। তাই অনেকে দোকানে নিষিদ্ধ উত্তেজক ওষুধ রাখেন। বিদেশি আমদানি-নিষিদ্ধ ওষুধের আদলে এখন দেশি কোম্পানি উত্তেজক ওষুধ বানিয়ে বাজারে ছাড়ছে। ওষুধ প্রশাসন ওই সব ওষুধের অনুমোদনও দিয়ে থাকে। ওষুধ প্রশাসন কর্মকর্তারা বলেন, উত্তেজক ওষুধ হিসেবে যেসব ওষুধ বাজারে বিক্রি হয় তা ভেজাল এবং অনুমোদনহীন। অসাধু ব্যবসায়ীরা নিজেরা তৈরি করে বিদেশি সিল লাগিয়ে দিচ্ছেন। ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ক্ষতিকর সব উপাদান আছে।
র‌্যাব হেড কোয়ার্টারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম এই বিষয়ে বলেন, বাজারে নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক ওষুধের শতকরা ৮০ ভাগই ভারত থেকে আসে। যৌন উত্তেজক সেনেগ্রা ওষুধই বেশি বিক্রি হয় বলে তাদের অভিযানে উঠে এসেছে। এছাড়া দেশি হরবাল ওষুধ জিংসন যৌন উত্তেজক হিসেবে সেবন করছে কেউ কেউ। যদিও এটি কম মাত্রায় অনুমোদন নিয়ে উচ্চমাত্রার শক্তি বর্ধন করে বিক্রি করছে কিছু কোম্পানি। তিনি জানান, দু-তিন মাস আগে যাত্রাবাড়ী এলাকায় জিংসন যৌন উত্তেজক ওষুধ উৎপাদনকারী তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে র‌্যাব’র অভিযানের কারণে আগের চেয়ে পরিস্থিতি একটু কমে এসেছে বলে এই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, র‌্যাব গত প্রায় এক বছরে অভিযান চালিয়ে যৌন উত্তেজক ওষুধ রাখার দায়ে ৪০ থেকে ৬০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সাবেক এক নেতা বলেন, ‘কিছু ব্যবসায়ী প্রকাশ্যেই উত্তেজক ওষুধ বিক্রি করেন। কেউ কেউ অকারণে ব্যবহার করছে এই ওষুধ। আগে আমেরিকা ও ইউরোপ থেকে আসলেও এখন ভারত থেকেই বেশি আসছে যৌন উত্তেজক ওষুধ। নীতিমালা নেই। ক্রেতা-বিক্রেতার সচেতন হওয়া উচিত। ঢালাওভাবে বিক্রি করা উচিত নয়। এই ওষুধ ব্যবহারে কঠিন হওয়া উচিত বলে এই নেতা মনে করেন। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করা যাবে না।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)’র মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, কোনো ওষুধই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়। ইদানীং দেশে যুব সমাজের মধ্যে যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবনের মাত্রা বেড়ে গেছে। এতে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। হতে পারে জটিল রোগও। তাই এই ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার মন্তব্য একটি কাজ দিয়েছে। আর তা হলো নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও উন্নত করেছে। রাজনৈতিক পরিবেশটা একটু হলেও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। ষোড়শ সংশোধনীর বিতর্কের রেশ না মিলিয়ে যেতেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ শশব্যস্ত হলো। কিন্তু একটি সাধারণ নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই। এখন সবারই  নজর থাকার কথা নির্বাচন কমিশনের দিকে।
উপরন্তু দেশের তাবৎ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হলো, অথচ নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে অত বেশি হৈচৈ নেই। মাতামাতি নেই। সবটাই যেন কেমন পানসে চলছিল। তাই সিইসি হয়তো ভেবে চিন্তেই বলেছেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক। তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক দিক থেকে দেখলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে আহত করে। কারণ আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানকে কোনোভাবেই বরদাশত করতে পারছে না। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি বা তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন যদিও জিয়ার চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মকভাবে করেছেন জেনারেল এরশাদ। জেনারেল এরশাদ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রানিংমেট হিসেবে দাঁড় করিয়ে প্রকৃতপক্ষে তাদের জাতীয় রাজনীতির মূল স্রোতধারার অন্যতম কুশলীব হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করেছিলেন। এই অভিযোগ জিয়ার বিরুদ্ধে নেই। কারো কারো মতে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি জানতেন। কিন্তু তা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেননি। ওটাও মূলত বিশ্বাসযোগ্য সন্দেহ। সন্দেহাতীত কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। তবে মিজানুর রহমান চৌধুরীর জবানবন্দি মতে, জিয়া ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্য গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। অবশ্য সেটা অনেকের মতে, সেখানে বিশ্বস্ততা ছিল না। ছিল চক্রান্তের অংশ।
তবে এই বিতর্কের বাইরে অনেকের মতে, যদি তদন্ত কমিশন বা একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডং কমিশন হয় যে, আরো কে কে জানতেন, অথচ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেননি, তাহলে হয়তো সন্দেহের তালিকায় এমন কেউ আসতে পারেন, যারা পরে আওয়ামী লীগের ভালো অবস্থানে বা আস্থার একটা জায়গা করে নিতে পেরেছেন। এর সবটিই মূলত সন্দেহ। একজন চৌকস আমলা হিসেবে এই ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বা হিসাব-নিকাশ সম্পর্কে সিইসি একেবারে কিছুই জানবেন না, সেটা হিসাবের কথা নয়।  
এখন প্রশ্ন হলো সিইসির কৌশলটা কী? একটি হিসাব খুব সহজ: তিনি মনেপ্রাণে আশা করেন বিএনপিও সামনের নির্বাচনে অংশ নেবে। কিন্তু তিনি এমন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার স্বপ্ন দেখেন বা সামর্থ্য রাখেন কি না, যেখানে বিএনপি বা বিরোধী দল একটু বেশি ভালো করে ফেলল, কিন্তু তিনি তাতে উতলা হলেন না। নিরপেক্ষ সাংবিধানিক সংস্থার প্রধান হিসেবে তিনি সেটা মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবেন, সেই রকম একটি ধারণা তিনি দিতে চান কি না। আওয়ামী লীগের নেতারা যেদিন সংলাপে গেলেন সেদিন ভিন্ন এক পরিস্থিতি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, সংলাপের পরিবেশ দেখে তারা রীতিমতো লজ্জা পেয়েছেন। অভিযোগ আনার সুযোগই পাননি তারা।
সতর্ক বিশ্লেষকরা একমত যে, সিইসির কৌশল হবে বিএনপিকে নির্বাচনে আনা। সেটা তিনি নিরপেক্ষ সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে আশা করবেন। কিন্তু সেটা আওয়ামী লীগকে স্বস্তি দিতে পারে। অবশ্য এখানে একটি দ্বন্দ্ব বা ধোঁয়াশা একটা বিষয় আছে। সেটা হলো কেয়াটেকার সরকার হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ক্ষমতায় থাকবেন। তারই নিয়োগ দেয়া রিটার্নিং অফিসারগণ নির্বাচন চালাবেন। ভোট গ্রহণ ও গণনা করবেন। কিন্তু তদুপরি আওয়ামী লীগ কি বিএনপির অংশগ্রহণ চাইছে? এর উত্তর পেতে কেউ হয়তো বলবেন জোতিষীর বাড়ি যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। কারণ, আওয়ামী লীগ বিএনপিকে নিয়ে নির্বাচন করতে চায়, সেটা এখনও যথেষ্ট পরিষ্কার তা হলফ করে বলা যাবে না। কারণ, অনেকের ধারণা, সহায়ক সরকার হোক বা না হোক বিএনপি ৩০০ আসনে শক্তিশালী প্রার্থীর মনোনয়ন দেওয়াটাই একটি বিরাট ঘটনা হতে পারে। খোদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ইতিমধ্যে ইঙ্গি করেছেন যে, বিএনপি নির্বাচনে এলে অনেক ডাকসাইটে প্রার্থীর ঘাম ঝরতে পারে!
সুতরাং একটি তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে  সিইসির রাজনৈতিক উক্তির কোনো তাৎপর্য নেই তা মানা সহজ নয়। সিইসি বারংবার বলেছেন, তিনি ভেবেচিন্তে একটি তথ্য হিসেবে বলেছেন। তার যদি: তিনি বলেছেন, জিয়া গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন বলেননি। কারণ তার আগে বহুদলীয় গণতন্ত্র ছিল। অবশ্য সমালোচকরা বলবেন, এই তথ্য আওয়ামী লীগ যুক্তিসঙ্গত মনে করে না। তাদের  জোরোলো যুক্তি: বহুদল বিলোপ করে একদলীয় বাকশাল কায়েম ঠিক কি বেঠিক? সেটা তর্কসাপেক্ষ হলেও সেটা বন্দুকের নলে আসেনি। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা করেছেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্যদিয়ে দেশের গণতন্ত্রও হত্যা করা হয়। আর এই হত্যাকাণ্ডে জিয়া জড়িত ছিলেন। শুরু হয়েছিল সামরিক শাসন। তাই জিয়া তো পর্দার আড়ালের কুশলীব। তিনি কি করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবতর্কের মর্যাদা পবেন?
বিএনপি জিয়ার সম্পৃক্তার অংশটুকু বাদ দিয়ে তার পক্ষে যুক্তি হলো: জিয়া নিজে সামরিক শাসন জারি করেননি। তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে বা ধারাবাহিকতার কারণে ক্ষমতা পেয়েছেন। সেনা প্রধান হিসেবে তার ওপর ক্ষমতা বর্তেছে।
বাকশালের আওতায় যে আওয়ামী লীগ একটি সংগঠন হিসেবে হারিয়ে গিয়েছিল, সেই রাজনৈতিক সত্তা জিয়ার আমলেই জাগ্রত হয়েছে। সিইসি নুরুল হুদা বলেন, জিয়াউর রহমানের সময়ে গণতন্ত্র আবার ফিরে এসেছে। সেই ভিত্তিতে ১৯৭৯ সালে বহুদলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগও সেই নির্বাচনে অংশ  নিয়েছিল।
তবে এখন পর্যবেক্ষরা বলছেন, সব কথা সবসময় বলা হয় না। সিইসি কোনো কারণে নিরীহভাবে একটি তথ্য হিসেবে বললেও এর একটা রাজনৈতিক আবেদন আছে। বিএনপি যেদিন সংলাপে গেল ঠিক সেদিনটিতেই তাকে এই জলবৎতরলং কথাটি আওড়াতে হলো!
এটাও দেখার বিষয় যে, কাদের সিদ্দিকী খুব সবিতা করতে পারেননি। তিনি ভেবেছিলেন, তিনি একটি ঝড়ো বিতর্কের নেতৃত্ব দেবেন। কিন্তু সেটা ঘটেনি, অবশ্য সময় এখনই সরে গেছে তা-ও বলার উপায় কম।     
অবশ্য বহু বিশ্লেষক মনে করেন বা ভাবতে পছন্দ করেন যে, বিএনপির নির্বাচনে আসাটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। আগামী ১১ বা ১২ মাসের আগে বা পরে যখনই নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে, তখনই তাদের নির্বাচনী মাঠে দেখা যাবে। এছাড়া এ বিষয়ে ভিন্নমত খুবই কম যে,  বিএনপির নির্বাচনে আসাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চান। সুতরাং রাষ্ট্রের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির দিক রয়েছে। তবে সেটা খোদ ক্ষমতাসীন দলের তরফে সরাসরি কোনো ভূমিকা রাখাটা বেশি স্পর্শকাতরতা লাভ করতে পারে। সেদিক থেকে এই অপ্রিয় কাজটি সিইসি করে দেওয়ায় আওয়ামী লীগের তাতে খুব ক্ষতির কারণ মনে করার সুযোগ সীমিত। তারা বলেন, সিইসি যদি বিএনপিকে নির্বাচনে আনার কাজটি সুচারু রূপে সম্পন্ন করতে পারেন, তাহলে ক্ষমতাসীন দলের ঝুঁকি বাড়ে না কমে। অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করারও লোকের অভাব হবে না।       
বাংলাদেশের রাজনীতির সুবিধা হলো এখানে দুয়ে দুয়ে চার মেলানো হয়। যারা এটা করেন তারা কিন্তু জানেন যে, দুয়ে দুয়ে চার এখানে কালেভদ্রে হয়, কিংবা কষ্মিনকালেও হয় না। তবে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা নিরুত্তাপ রাজনীতিতে বলা চলে একটি আকস্মিক বোমা বা পটকা ফুটিয়েছেন। চাঞ্চল্য যদি বেশি হয়, তাহলে এটা হবে বোমা, কিন্তু কম চাঞ্চল্য হলে এটা হবে পটকা বা নির্বাচনী উৎসবের আতশবাজি।
তবে এটা এমন একটি সময় যখন দেশের আরেকটি সাংবিধানিক স্তম্ভের প্রধান ‘অসুস্থতাজনিত ছুটিতে’ বিদেশে রয়েছেন।
আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি জয়নাল হাজারী মনে করেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে ভোট থেকে দূরে রাখার জন্যই ফেনীতে তার গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। হাজারী তার সম্পাদিত ‘হাজারিকা প্রতিদিন’-এ লেখা কলামে এ মত দেন। বহুল আলোচিত এই সাবেক এমপি আরো লিখেছেন, যখন যেখানে যে ঘটনাই ঘটুক তার একটা কারণ থাকে। অকারণে কোনো কিছু স্বাভাবিকভাবে ঘটে না। শনিবার খালেদা জিয়া  রোহিঙ্গাদের দেখতে ঢাকা  থেকে কক্সবাজার রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে তার গাড়িবহরে হামলা হয়েছে এতে  বেশকিছু সাংবাদিক মারাত্মক আহত হয়েছেন।
এই হামলায় মূলত সাংবাদিকদের কেন টার্গেট করা হলো- এটা পরিষ্কার নয়। তিনি ফেনী সার্কিট হাউজে বিশ্রাম নেবেন এবং সেখানে দুপুরের খাবার খাবেন- এমনটাই প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। খালেদার আগমনে জেলার নেতাকর্মীরা  সেখানে ব্যাপকভাবে জড়ো হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল কিন্তু অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে সার্কিট হাউজে কাউকে আসতে  দেয়া হয়নি এবং বাধা দিতে গিয়ে বিএনপির বেশকিছু  নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। খালেদা জিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থা সরজমিন  দেখবেন- এটাই ছিল তার উদ্দেশ্য। এটি একটি মহৎ উদ্দেশ্য। জননেত্রী শেখ হাসিনাও তাদের দেখে এসেছেন। তাহলে এই শুভ কাজে কেউ বাধা দিতে পারে কিনা- এটি অবশ্যই একটি বড় প্রশ্ন? যতই ওবায়দুল কাদের বলুক, ওনারা ছবি তুলতে যাচ্ছিলেন এবং এটা অভ্যন্তরীণ  কোন্দল। এইসব কথা সচেতন জনগণকে খাওয়ানো যাবে না। সুষমা স্বরাজ এসে যখন পরিষ্কার বলে গেলেন আমরা সকলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চাই, ঠিক সেই মুহূর্তে এই ধরনের উস্কানিমূলক তৎপরতা গণতন্ত্রের ওপর হামলা- এটা কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং একটি নয়, একাধিক জায়গায় হামলা হয়েছে। এই ঘটনা খালেদাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবার জন্য একটি অজুহাত হিসেবে কাজ করবে।  কেউ কেউ বলছেন, ঘটনা  যেখানে যাই ঘটুক খালেদাকে  ভোট করতেই হবে। বিষয়টি  বোধ হয় পুরোপুরি ঠিক  সেরকম নয়।
খালেদার ওপর হামলাটি কেন? একদিকে খালেদাকে ভোটে আসতে বলবেন অন্যদিকে তাকে পেটাতে থাকবেন সেটি  তো হতে পারে না। আসলে আসল কথা একটাই- ভোট করে যারা কোনো দিনই জিততে পারবে না- ওই সমস্ত  লোকগুলো খালেদা জিয়া  ভোটে আসুক তারা মোটেই চায় না। সেই কারণে অবশ্যই বলা যায় ফেনীর ঘটনাটি খালেদা জিয়াকে ভোট থেকে দূরে রাখার একটি অপতৎপরতা। বর্তমান সরকারের তৎপরতা থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় সরকার সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে  ভোট করতে চায়। ফলে শেখ হাসিনা মোটেই ফেনীর ঘটনাকে সুদৃষ্টিতে দেখবেন না। ফেনীর বর্তমান এমপিরা  কেহই ভোটে এমপি হয়নি এবং তারা জানে ভোট হলে তারা এমপি হবে না। সেই কারণেই কেন্দ্রের ইঙ্গিত ছাড়াই খালেদার ওপর তারা হামলা করেছে। বারবার একই গোষ্ঠী বিনা ভোটে এমপি হবে- এমনটি ফেনীবাসী কেবল চেয়ে  চেয়ে দেখবেন- এমনটি হতে পারে না।
ওদিকে, হাজারিকা প্রতিদিনের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেনীতে  খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা হবার পর তিনি চট্টগ্রাম পৌঁছেই সার্কিট হাউজ থেকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে  টেলিফোনে কথা বলেন। তার আগে তিনি তার সফর সঙ্গী আহত দুই সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির ওপর বিস্তারিত খবরা-খবর নেন।