Last update
Loading...
কিছু ছোটখাটো ব্যতিক্রম বাদে, পৃথিবীর সকল ভাষায় চা-কে বোঝানোর জন্য দু’টি শব্দ (বা কাছাকাছি ধাঁচের শব্দ) ব্যবহার করা হয়। একটি হলো ইংরেজিতে যেটা পরিচিত, অর্থাৎ ‘টি’ দিয়ে। যেমন, স্প্যানিশ ভাষায় চাকে বলা হয় ‘টে’ আর আফ্রিকান্সে বলা হয় ‘টী’। আরেকটি শব্দ হলো ‘চা’। যেমন, বাংলাতে বলা হয় ‘চা’ আর হিন্দিতে ‘চায়ে’।
‘টি’ ও ‘চা’ দু’টিই কিন্তু চীনা শব্দ। এই শব্দ দু’টি পৃথিবীতে কীভাবে ছড়িয়েছে তার দিকে খেয়াল করলে বোঝা সম্ভব যে, ‘বিশ্বায়ন’ শব্দটি কেউ ব্যবহারের আগে পৃথিবীতে বিশ্বায়ন কীভাবে ঘটেছিল।
‘চা’ শব্দটি মূলত ছড়িয়েছে প্রাচীন সিল্ক রোডের ভূমি পথে।
অপরদিকে ‘টি’ শব্দটি ছড়িয়েছে সমুদ্র বা পানি পথে। চাকে ‘টি’ হিসেবে পরিচিত করার পেছনে ওলন্দাজ (ডাচ) বণিকদের বড় ভূমিকা ছিল। তারাই সুদূর চীন থেকে চা নিয়ে যান ইউরোপে।
‘চা’ শব্দটি চীনা ভাষার বহু সংস্করণেই ব্যবহৃত হয়। চীন থেকে চা যখন সড়ক পথে মধ্য এশিয়ায় ঢুকে পড়ে, তখন একে ‘চা’ই বলা হতো। ফার্সি ভাষায় এটি হয়ে যায় ‘চায়’। এটি নিশ্চিতভাবেই সিল্ক বাণিজ্য পথের বদৌলতে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিল্ক রোডে ২০০০ বছর আগেও চা নিয়ে বাণিজ্য হতো।
ধীরে ধীরে পারস্য ছাড়িয়ে ‘চা’ শব্দটি পৌঁছে যায় অন্যত্র। হিন্দির মতো উর্দু আর রাশিয়ান ভাষায়ও এটি হয়ে উঠে ‘চায়ে,’ আরবিতে হয়ে যায় ‘সায়ে’। এমনকি সাব-সাহারান আফ্রিকান দেশগুলোতে চা ছড়িয়ে পড়ে। সাহিলি ভাষায় একে ‘চাই’ বলা হতে থাকে। জাপান ও কোরিয়ান ভাষায়ও চাকে সেই ‘চা’-ই বলা হয়। তবে পারস্য হয়ে অন্যত্র ‘চা’ শব্দটি ছড়িয়ে পড়ারও অনেক আগে থেকেই কোরিয়া ও জাপানে ‘চা’ শব্দটি ব্যবহৃত হতো।
এতক্ষণ তো ‘চা’র উপাখ্যান বলা হলো। কিন্তু চাকে ‘টি’ বলা হয় কেন? চীনা ভাষায় চা-কে একই বর্ণ দিয়েই লেখা হয়। কিন্তু এই ভাষার কিছু সংস্করণে ওই বর্ণকে বা অক্ষরকে উচ্চারণ করা হয় ভিন্নভাবে। এই কারণে একই শব্দকে বেশিরভাগ সংস্করণে ‘চা’ হিসেবে উচ্চারণ করা হলেও, কিছু সংস্করণে ‘টে’ বলা হতো। বর্তমান যুগের মান্দারিন (চীনা) ভাষায় একে ‘চা’ বলা হয়। তবে ভাষাটির ‘মিন নান’ সংস্করণে, যেটি চীনের উপকূলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের মানুষ ব্যবহার করে, সেখানে চা-কে বলা হয় ‘টে’।
স্বাভাবিকভাবেই, সাগর তীরবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য সমুদ্রপথে হতো। আর উপকূলীয় অঞ্চলের চীনা ভাষায় ‘টে’ শব্দটি ব্যবহার হওয়ায়, সমুদ্রপথের বণিকরা চাকে ‘টে’ হিসেবেই বর্ণনা করা শুরু করলেন। গোলন্দাজ বণিকরা তখন সমুদ্রপথেই চীনের সঙ্গে বাণিজ্য করতেন। ফলে, তাদের বদৌলতে ওই উপকূলীয় শব্দটি অর্থাৎ ‘টি’ পরিচিত হয়ে উঠে ইউরোপে। এটি সপ্তদশ শতকের কথা। ওয়ার্ল্ড আটলাস অব ল্যাঙ্গুয়েজ স্ট্রাকচার বইয়ে এটির বিস্তারিত বর্ণনা আছে।
এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য তখন গোলন্দাজরাই করতো। পূর্ব এশিয়ায় গোলন্দাজদের প্রধান বন্দর ছিল ফুজিয়ান ও তাইওয়ান। এই দুই উপকূলীয় প্রদেশের চীনারা চাকে ‘টে’ হিসেবে উচ্চারণ করতো। আর তাই গোলন্দাজরা যখন ব্যপক হারে চা নিয়ে গেল ইউরোপে, তখন ফরাসি ভাষায় এটি হয়ে উঠে ‘টেঁ’, জার্মান ভাষায় ‘টী’ আর ইংরেজিতে ‘টি’।
আবার এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বেশি ব্যবসা ওলন্দাজরা করলেও সবার আগে ব্যবসাটা শুরু করে কিন্তু পর্তুগিজরা। তাইওয়ান যখন ইউরোপের উপনিবেশ ছিল তখন দেশটির নাম ছিল ফরমোসা। এই নাম কিন্তু পর্তুগিজদের দেওয়া। পর্তুগিজ বণিকরা আবার ওলন্দাজদের মতো ফুজিয়ান দিয়ে বাণিজ্য করতো না। তারা ব্যবহার করতো ম্যাকাও। আর ম্যাকাওয়ে চা-কে ‘চাঁ’ বলা হতো। তাই ইউরোপে শুধু পর্তুগিজ ভাষাতেই চাকে ‘চা’ বলা হয়।
অর্থাৎ, যেসব অঞ্চলে চা সমুদ্রপথে পৌঁছালো, সেসব দেশে একে বলা হয় ‘টে’। শুধু পর্তুগিজ ব্যতিক্রম। আর যেসব দেশে সড়ক পথে বা সিল্ক রোডে ছড়িয়েছে চা, সেখানে একে ‘চা’-ই বলা হয়।
পৃথিবীতে খুল অল্প ভাষাই আছে যেখানে চা-কে ‘চা’ অথবা ‘টি’ বা এদের কাছাকাছি কিছু বলা হয় না। এসব ভাষাগুলো এমন সব অঞ্চলের ভাষা যেখানে চা প্রাকৃতিকভাবেই জন্মাতো। এ কারণে স্থানীয়রা নিজেরাই এই উদ্ভিদের নিজেদের মতো করে নাম দিয়েছিল। যেমন, বার্মিজ ভাষায় চা পাতাকে বলা হয় ‘লাকফাক’।
(কোয়ার্টজ অবলম্বনে)
২০১৭ সালের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে প্রকাশিত ডেইলি কলারের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ড. ইউনূস পরিচালিত গ্রামীণ ব্যাংকে  নানা আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় ২০১২ সালের গোড়ার দিকে তদন্ত শুরু করে বাংলাদেশ সরকারের একটি কমিশন। ওই তদন্ত বন্ধ করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে জয়ের ওপর চাপ দেয়া হয়। সজীব ওয়াজেদ জয় ২০১৩ সালেই বলেছিলেন, ১৭ বছর ধরে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকালে কখনো তার কোনো সমস্যা হয়নি। তবে ড. ইউনূসের ব্যাপারে তদন্তের ঘটনায় মার্কিন কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগে তদন্ত শুরুর হুমকি দেন। ‘তারা দফায় দফায় আমাকে বলেছেন, ইউনূসের অনেক প্রভাবশালী বন্ধু আছে। আর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লিনটনের সঙ্গে তার সমপর্কের বিষয়টিও গোপন কোনো ব্যাপার নয়’, বলেছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়।
মে মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সারকা এক প্রতিবেদনে দাবি করে, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অপসারণ না করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চাপ দিয়েছিলেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। উইকিলিকস-এর ফাঁস করা নথিতেও একই অভিযোগ পাওয়া যায়।
এসব অভিযোগ ওঠার পর শীর্ষস্থানীয় একজন মার্কিন সিনেটর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে বলা হয়, হিলারি ক্লিনটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত তুলে নিতে বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিয়েছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রের সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়েছে বাংলা ট্রিবিউনের। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তার নথি পর্যালোচনা সমপন্ন করেছে। এর ভিত্তিতে কংগ্রেশনাল কমিটিকে জানানো হয়েছে যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত তুলে নিতে পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিয়েছিল-এমন অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি পাওয়া যায়নি। এ ধরনের যোগাযোগ বা কর্মকাণ্ডের কোনো নথি নেই।
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও তার কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের অফিসিয়াল চ্যানেল ব্যবহার করে ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ এবং ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের দাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন-এমন অভিযোগের ব্যাপারে তথ্য চেয়েছিলেন সিনেটর গ্রাসলে। সিনেটর গ্রাসলেকেও একইভাবে ‘প্রমাণ না পাওয়া’র কথা জানানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছরের জুনে পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে তিনি এ সমপর্কিত তথ্য চান।
নিজের লেখা চিঠিতে অভিযোগকারী এই সিনেটর বলেন, সাংবাদিকরা এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কর বিভাগের এক নিরীক্ষায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদকে হুমকি দিয়েছিল। তাকে বলা হয়েছিল, ‘তিনি যদি তার মাকে এই তদন্ত বন্ধ করানোর ব্যাপারে উদ্যোগী না হন তাহলে তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ এনে তদন্ত শুরু করা হবে।’
সিনেটর গ্রাসলে বলেন, ‘২০১৭ সালের ১১ই মে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চিত করেছেন যে, ২০১১ সালের মার্চে হিলারির অফিস থেকে ফোন করে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পুনর্বহাল করতে বলেন। এটা ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে অনুদানের কারণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে।’
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের কাছে এ ধরনের বেশকিছু প্রশ্ন তোলেন সিনেটর গ্রাসলে। তিনি জানতে চান, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের তদন্তের ব্যাপারে সজীব ওয়াজেদকে কর ফাঁকির অভিযোগসহ ফল বা পরিণতি বরণের কথা বলেছিলেন কিনা? বিষয়টি ইন্সপেক্টর জেনারেল বা বিচার বিভাগের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছিল কিনা? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে কেন নয়?’ সিনেটর গ্রাসলে বলেন, সজীব ওয়াজেদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার দফায় দফায় কথাবার্তা হয়েছে।
এই সিনেটর বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ বলেছেন প্রতিটি বৈঠকেই অনিবার্যভাবে ইউনূসের তদন্তের বিষয়টি উঠে আসতো। এই তদন্ত বন্ধে তাকে চাপ দেয়া হতো।’ মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অবশ্য তাদের এই তদন্তের ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর আগে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিক ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তারা এ তাগিদ দেন। ব্রিফিংয়ে পূর্ব-পশ্চিম, দূর ও কাছের বিভিন্ন সব রাষ্ট্র ও সংস্থার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা প্রায় অভিন্ন সুরেই বলেছেন, মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা তাদের নিজ ভূমে ফিরে যাক, এটাই দেখতে চায় বিশ্ব। কিন্তু তাদের ফেরানোর আগে অবশ্যই রাখাইনকে রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য নিরাপদ করতে হবে। তাদের প্রত্যাবাসনটি হতে হবে টেকসই। আর এটি করতে হলে অবশ্যই আগ্রহী রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে ফেরত পাঠাতে হবে।
কোনো অবস্থাতেই জোর করা যাবে না। নির্যাতিতদের ফের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ঠেলে দেয়া ঠিক হবে না মন্তব্য করে পশ্চিমা দূতরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, তারা নিজেরাও অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। অনেকেই ফিরতে আগ্রহী, কিন্তু তারা কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফিরতে চায় না। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট সই হওয়ার প্রেক্ষাপটে ঢাকায় থাকা জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রধানদের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাতে গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুই পর্বে কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও সচিব শহীদুল হকসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মূলত রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে আরো ঘনিষ্ঠভাবে পাশে পেতে  এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। শুরুতে পশ্চিমা দেশ, জোট ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি ছাড়াও ভারত, চীন, জাপান, কেরিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের মিশন প্রধানদের ব্রিফ করেন মন্ত্রী। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় তাদের প্রশ্ন এবং উদ্বেগের কথাগুলো সরকারের বিবেচনায় উপস্থাপন করেন। মন্ত্রী তাদের জিজ্ঞাসার জবাব এবং উদ্বেগ নিরসনে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন। পরে ওআইসি জোটের সদস্যদের ব্রিফ করেন মন্ত্রী। সেখানে প্যালেস্টাইনের দূত দৈনিক ৩০০ জনকে ফেরত পাঠানোর চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ সংখ্যা না বাড়ালে প্রত্যাবাসন শেষ হতে এক থেকে দেড় যুগ লেগে যাবে! মন্ত্রী অবশ্য তার জবাবে প্রত্যাবাসন শুরুর ওপর জোর দেন। বলেন, আগে শুরু হোক। বাকিটা পরে দেখা যাবে। ব্রিফিং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রোহিঙ্গাদের ফেরাতে উৎসাহিত করতে জোর দেন কূটনীতিকরা। তারা বলেছেন, বাস্তুচ্যুতরা যেন রাখাইনে ফিরতে নিরাপদ বোধ করে, আস্থা ও ভরসা পায়- এমন পরিবেশ মিয়ানমারকেই নিশ্চিত করতে হবে। ব্রিফিংয়ে অংশ নেয়া দূত ও উন্নয়ন সংস্থার প্রায় সব প্রতিনিধিই তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন। ব্রিফিং শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, এ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে যুক্ত করা হবে। তাদের সঙ্গে এ নিয়ে একটি চুক্তি সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সহায়তা নেবে। তবে তারা জাতিসংঘকে নয়, রেডক্রসকে যুক্ত করতে নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া নিরাপদ ও টেকসই করতে রাখাইন রাজ্যে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বলেন, এ জন্য সেখানে  টেকসই উন্নয়ন দরকার।  রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া প্রক্রিয়ায় নিজেদের সমর্থন বজায় রাখার নিশ্চয়তাও দেন ভারতীয় দূত। বৃটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেকও বলেন, তাদের ফিরে যাওয়ার বিষয়টি অবশ্যই টেকসই হতে হবে। আর এ জন্য তা ‘নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানের’ সঙ্গে তাদের ফেরাতে হবে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেন। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাংলাদেশকে মার্কিন সমর্থনের বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের সহায়তা নেবে সরকার: এদিকে ব্রিফিং শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের সহায়তা নেবে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে এ নিয়ে শিগগিরই চুক্তি করবে সরকার। মন্ত্রী বলেন, চুক্তির একটি খসড়া নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি। চুক্তি সই হলে তারা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে।’ কূটনৈতিক সূত্র বলছে, জাতিসংঘের পরামর্শেই শেষ পর্যন্ত ইউএনএইচসিআরকে প্রত্যাবসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ফেরানোর আগে তাদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি ফরম রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি চূড়ান্ত হয়েছে। একটি পরিবারকে একটি ইউনিট হিসেবে গণ্য করা হবে। এ নিয়ে ফের তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে বলেও জানান মন্ত্রী। তবে ২৩শে নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সই হওয়া দ্বিপক্ষীয় অ্যারেঞ্জমেন্টের দুই মাসের মধ্যে অর্থাৎ ২৩শে জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আগামীকাল সেই ডেটলাইন মতে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা জানিয়েছে মিয়ানমার। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। কাজও অনেক দূর এগিয়েছে। তবে কবে রোহিঙ্গারা যাওয়া শুরু করবে এ নিয়ে আমি কোনো দিনক্ষণ বলা ঠিক হবে না। আমরা কাজ করছি। দেখা যাক কি হয়। এ নিয়ে যা কাজ হয়েছে আমি আমাদের বিদেশি কূটনীতিকদের সবই বলেছি। মন্ত্রী আরো বলেন, যেসব  রোহিঙ্গার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে  দেয়া হয়েছে, সেসব ঘরবাড়ি  তৈরি করতে সহায়তা দিচ্ছে ভারত, চীন ও জাপান। মিয়ানমারের সঙ্গে তারা কাজ করতে সম্মত হয়েছে। আমরা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার জন্য প্রস্তাব করেছি। আমরা চাই, মিয়ানমারের প্রতিবেশী পাঁচটি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা রাখাইন রাজ্য সফর করুন। তারা আগেও সফর করেছেন। প্রত্যাবাসন শুরু হলে আমিও সেখানে যাবো। উল্লেখ্য, গত ২৫শে আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। আর গত বছরের অক্টোবর  থেকে জুলাই পর্যন্ত মিয়ানমার  থেকে পালিয়ে আসে প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা। এর আগে  থেকে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিল।
ঘুমের সঙ্গে আমাদের শরীরের ভালো-মন্দের যে একটা সম্পর্ক রয়েছে সে বিষয়ে তো সবারই জানা আছে। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হলে যে বাড়তে পারে দুশ্চিন্তা, সে বিষয়ে কি জানা আছে? সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে এমনটা দাবি করা হয়েছে যে মস্তিষ্ক ঠিক মতো আরাম না পেলে ব্রেনের অন্দরে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বাড়তে শুরু করে। যে কারণে একদিকে যেমন খারাপ চিন্তা ঘাড়ে ছেপে বসে, তেমনি স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি লেভেলও বাড়তে শুরু করে। ফলে জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিসহ। বিংহেমটন ইউনিভার্সিটির দুই গবেষক এই বিষকর গবেষণাটি চালানোর সময় লক্ষ করেছিলেন যে যারা প্রতিদিন কম করে ৮ ঘন্টা ঘুমোন, তাদের নেগেটিভ চিন্তাকে পাশ কাটিয়ে জীবনের রাস্তায় এগিয়ে যেতে কোনো সমস্যাই হয় না। কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণ আরাম পাওয়ার কারণে ব্রেন পাওয়ার এতটা বেড়ে যায় যে দুশ্চিন্তা ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। কিন্তু একেবারে উল্টো ঘটনা ঘটে ঠিক মতো না ঘুমলে। সেক্ষেত্রে খারাপ চিন্তাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া একেবারেই সম্ভব হয় না। ফলে স্ট্রেস লেভেল ক্রমশ বাড়তে থাকে। আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে স্ট্রেস হলো এমন একটি বিষ, যা ধীরে ধীরে শরীর এবং মনকে একেবারে ঝাঁঝরা করে দেয়। ফলে মানসিক অবসাদের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। একাধিক গবেষণায় একথা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে গেছে যে বর্তমান সময় যে যে মারণ রোগের প্রকোপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তার বেশিরভাগের সঙ্গেই স্ট্রেস এবং মানসিক অবসাদের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই বন্ধু সুস্থভাবে বাঁচতে ৮ ঘন্টার কম সময় ঘুমবেন না যেন! এখন প্রশ্ন হলো নানা কারণে যাদের ঠিক মতো ঘুম আসতে চায় না বা ৮ ঘন্টার আগেই ঘুম ভেঙে যায়, তাদের সুস্থ থাকার উপায় কী? বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে কিছু খাবার রয়েছে যা নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে অনিদ্রার মতো সমস্যা দূর হতে একেবারেই সময় লাগে না। তাই যাদের ঠিক মতো ঘুম হয় না, তাদের বাকি প্রবন্ধে চোখ রাখতেই হবে! সাধারণত যে যে খাবারগুলোকে রোজের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করলে সহজেই ঘুমের কোটা পূরণ করা সম্ভব, সেগুলো হলো...
১. আখরোট : এই প্রকৃতিক উপাদানটির অন্দরে রয়েছে "ট্রাইপটোফেন" নামক একটি অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা সেরাটোনিন এবং মোলাটোনিনের মতো স্লিপ হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঠিক মতো ঘুম না হওয়ার মতো সমস্যা কমে যেতে সময়ই লাগে। তাই তো যারা রাতের প্যাঁচা, তাদের রোজের ডেয়েটে আখরোটের অন্তর্ভুক্তি মাস্ট!
২. বাদাম : ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ এই খাবরটি নিয়মিত এক মুঠো করে খাওয়া শুরু করলে অনিদ্রার মতো সমস্যা দূর হতে সময়ই লাগে না। আসলে এই খনিজটি শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখাতে শুরু করে যে নিমেষে ঘুম এসে যায়। জার্নাল অব অর্থোমলিকিউলার মেডিসিন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্র অনুসারে শরীরে এই খনিজটির ঘাটতি দেখা দিলে একদিকে যেমন হাড়ের স্বাস্থ্যের অবনটি ঘটতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ঠিক মতো ঘুমও আসতে চায় না। তাই শরীরে কোনো সময় যাতে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।
৩. পনির : শুনতে অবাক লাগলেও একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে ডিনারে নিয়মিত পনির বা যেকোনো ধরনের দুগ্ধজাত খাবার, যেমন দই, দুধ বা চিজ খাওয়া শুরু করলে দারুণ ঘুম হয়। আসলে প্রায় প্রতিটি ডেয়ারি প্রডাক্টেই প্রচুর মাত্রায় উপস্থিত থাকে ট্রাইপটোফেন, যা মেলাটোনিন হরমেনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দিয়ে অনিদ্রার মতো সমস্যা দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৪. লেটুস শাক : স্বাদের কারণে বঙ্গ খাদ্যরসিকদের মধ্যে এই শাকটির বেশ কদর রয়েছে। তা আপনি খান তো লেটুস শাক? সেকি খান না! আরে ভাই এই ভুল কাজটি আর যেন করবেন না। পরিবর্তে আজ থেকেই সপ্তাহে ৩-৪ দিন লেটুস শাক খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন ঠিক মতো ঘুম না হওয়ার সমস্যা কমতে সময়ই লাগবে না। আসলে এই শকটিতে রয়েছে ল্যাকটুকেরিয়াম নামক একটি উপাদান, যা নিমেষে ঘুম আসতে সাহায্য করে। তাই এবার থেকে শুতে যাওয়ার আগে ৩-৪ টে লেটুস পতা একটা কাপ পানিতে ফেলে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। সময় হয়ে গেলে আঁচটা বন্ধ করে পানিটা পান করেই শুয়ে পরুন। এমনটা নিয়মিত করতে থাকলে দারুণ উপকার পাবেন।
৫. মাছ : সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র অনুসারে নিয়মিত মাছ খাওয়া শুরু করলে শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন বি৬-এর ঘাটতি দূর হয়। এই দুই পুষ্টিকর উপাদান, মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৬. চেরির জুস : স্ট্রেস এবং অন্যান্য নানা কারণে রাতের ঘুম উড়েছে? এদিকে এমন পরস্থিতিতে কি করবেন তাও ভেবে উঠতে পারছেন না? কোনো চিন্তা নেই বন্ধু! আজ থেকেই শুতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস করে চেরির জুস খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন ঘুম আসতে সময়ই লাগবে না। আসলে চিরির অন্দরেও রয়েছে এমন অনেক উপকারি উপাদান যা মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। তাই তো ইনসমনিয়ায় ভুগতে থাকা রোগীদের নিয়মিত চেরির রস খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে লেখা বই ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি : ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ প্রকাশের পরই তোলপাড় শুরু হয়েছে মার্কিন মুল্লুকে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক মাইকেল উলফের বইটির প্রকাশনা ঠেকাতে আইনি পদক্ষেপও নিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে তাতে কাজ হয়নি। বরং নির্ধারিত তারিখের আগেই গত ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে বইটি। প্রকাশের প্রথম দিনেই শেষ হয়ে যায় সব কপি। অগ্রিম অর্ডার দেয়া হয় ১০ লাখ কপির। বইটির চুম্বক অংশ নয়া দিগন্তের পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো। ভাষান্তর করেছেন আহমেদ বায়েজীদ
[পর্ব-৬]

হোয়াইট হাউজজুড়েই বারবার এই প্রশ্ন উঠতে থাকে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ট্রাম্প তার অনিয়ন্ত্রিত ও উল্টোপাল্টা বক্তব্য সংবলিত টুইটার পোস্টগুলো চালু রাখবেন কি না। সবার কাছেই উত্তর ছিল- তিনি তা আগের মতোই রাখবেন। সরকার পরিচালনায় তিনি মৌলিক একটি বিষয় নিজ উদ্যোগে প্রবর্তন করেন। তা হলো, নিয়মিতভাবে, অনিয়ন্ত্রিত বিদ্বেষ ও ক্রোধের বিস্ফোরণ ঘটানো (যার শিকার হতেন তার আশপাশের ও মিডিয়ার লোকেরা)। প্রেসিডেন্টের প্রথম কাজগুলোর একটি ছিল সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) সাথে বৈঠক। শপথ গ্রহণের পরদিন ২১ জানুয়ারি, শনিবার এই বৈঠকটির আয়োজন করেন জ্যারেড কুশনার। প্রথম সরকারি পরিদর্শনে এদিন ভার্জিনিয়ার ল্যাংলিতে সিআইএ হেডকোয়র্টারে যান ট্রাম্প। স্টিভ ব্যাননের আশা ছিল, ট্রাম্প হয়তো সেখানে কিছু রাজনৈতিক চাল চালবেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেয়া প্রথম বক্তৃতাটি তাই সতর্কতার সাথে প্রস্তুত করা হলেও ট্রাম্প সিআইএর বিরুদ্ধে তার বিখ্যাত সব স্তবক ঢেলে দিলেন। মার্কিন গোয়েন্দা জগতের বিতর্ক, বিভিন্ন সময় গোপন তথ্য ফাঁস- সব কিছুই টেনে আনলেন। প্রায় ৩০০ সিআইএ কর্মকর্তা আর হোয়াইট হাউজ স্টাফদের সামনে ছিল সেই বক্তৃতা।
এই বক্তৃতাকে আমরা সহজেই এক মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘সবচেয়ে অদ্ভুত বক্তৃতা’ বলতে পারি। ট্রাম্প বললেন, ‘ওয়েস্ট পয়েন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অ্যাকাডেমি সম্পর্কে অনেক কিছু জানি। শিক্ষা বা শিক্ষাবিদদের ওপর আমার অগাধ বিশ্বাস। প্রায়ই বলি যে, আমার একজন চাচা ছিলেন ৩৫ বছর ধরে এমআইটির বিখ্যাত প্রফেসর। শিক্ষা বিষয়ে তার অনেক অবদান, তিনি একজন জিনিয়াস। তার প্রসঙ্গ এলে আমাকে প্রশ্ন করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পও কি অত্যন্ত মেধাবী? (আমি বলি) আস্থা রাখুন, আমিও স্মার্ট।’ ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেল মাইক পম্পেও, শিগগিরই যাকে সিআইএর ডিরেক্টর নিয়োগ করা হবে। আরো অনেকের মতো তিনিও হতবুদ্ধি হয়ে গেলেন। ট্রাম্প বলে চলেন, ‘আপনারা জানেন আমি যখন যুবক ছিলাম; অবশ্য নিজেকে এখনো আমি যুবকই মনে করি; মনে হয় ৩০, ৩৫ কিংবা ৩৯ বছরের। কেউ যদি প্রশ্ন করে, আপনি কি যুবক? বলি, আমার মনে হয় তাই। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে আমি প্রতিদিন ৪, ৫ এমনকি ৭ জায়গায় গিয়েছি। ২৫ থেকে ৩০ হাজার লোকের সামনে বক্তৃতা করেছি। নিজেকে যুবকের মতোই মনে হয়েছে। আমার মনে হয়, আমরা সবাই যুবক।’ ‘আমি যখন যুবক ছিলাম, এই দেশে আমরা সব কিছুতে জিততাম; কিন্তু অনেক বছর ধরে আমরা বাণিজ্যে জিততে পারছি না, যুদ্ধে জিততে পারছি না। একটি সময় যুক্তরাষ্ট্র কখনোই যুদ্ধে হারত না বলে শুনেছি। কিন্তু এখন আমরা কোথাও জিততে পারছি না। আপনারা পুরনো সেই নিয়মটা জানেন যে, বিজয়ীরাই যুদ্ধক্ষেত্রের সব সম্পদের মালিক হবে। মনে করে দেখুন, আমি সব সময় বলি, তেল দখলে রাখা উচিত।’ এক সিআইএ কর্মী বোকার মতো প্রশ্ন করলেন, ‘কাদের তেল দখলে রাখা উচিত?’ ট্রাম্পের জবাব, ‘আমি ইরাকের বিষয়ে আগ্রহী ছিলাম না। ইরাক যুদ্ধের পক্ষে ছিলাম না। আপনাদের বলতে চাই, আমরা সেখানে গেলাম এবং ভুল পন্থায় বের হয়ে এলাম। সবসময়ই আমি বলেছি, তেলটা নিজেদের দখলে রাখুন। এখন সেটা বলছি অর্থনৈতিক কারণে; কিন্তু আপনারা যদি বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেন তাহলে বুঝতে পারবেন, আমরা তেল সম্পদ দখলে রাখতে পারলে আইএসের মোকাবেলা করতে হতো না। কারণ আইএসের অর্থের প্রধান উৎস তেল। তাহলে কেন আমরা তেল দখলে রাখলাম না? তবে হয়তো আমরা আবার সুযোগ পাবো। কিন্তু আসল বিষয় সেটাই যে, ওই সময়ই আমাদের তেল সম্পদ দখলে রাখা উচিত ছিল।’ এই বলে প্রেসিডেন্ট কিছুটা থামলেন। আত্মবিশ্বাস ও সন্তুষ্টি নিয়ে মুচকি হাসলেন। এরপর আবার বললেন, ‘সব কিছুর আগে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। কারণ আপনারা জানেন যে, সংবাদমাধ্যমের সাথে আমার যুদ্ধ চলছে। তারা বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ মানুষদের কাতারে আছে। তারা প্রচার করছে যে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে আমার বিরোধ আছে। তাদের এ ধারণা ভুল প্রমাণিত করতে, তারা যা ভাবে তা মিথ্যা প্রমাণ করতে আমি প্রথমে আপনাদের কাছে এসেছি। উপস্থিত লোকদের সংখ্যার বিষয়ে আমাকে ধারণা দেয়া হয়েছিল।
গতকাল যে বক্তৃতা দিয়েছি সবাই কি তা পছন্দ করেছে? আপনারা হয়তো করতে বাধ্য; কিন্তু আমাদের বিশাল একটি সাধারণ জনগোষ্ঠী আছে। আপনারা দেখেছেন তাদের ভিড় (তারা স্বেচ্ছায় এসেছে)। আজ সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে টিভিতে চোখ রাখলাম। তারা একটি খালি মাঠের দৃশ্য দেখিয়েছে; কিন্তু আমি তো সেই মাঠের দিকে তাকিয়েছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, ১০ থেকে ১৫ লাখ লোক ছিল সেখানে। টিভিতে এমন একটি মাঠ দেখিয়েছে যেখানে আসলে কেউ ছিল না। এরপর বলল, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজন ভালো হয়নি, লোক টানতে পারেননি। আমি বলছি, তখন বৃষ্টি ‘আসি আসি’ করছিল; কিন্তু বিধাতা দেখলেন এবং বললেন, তোমার আয়োজনে আমি বৃষ্টি দেবো না। এরপর বক্তৃতা শুরু করলাম। প্রথম বাক্যটি বলার সময় আমার গায়েও কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি পড়ল। আমি বললাম, খুবই বাজে অবস্থা। তবে আমরা এর মধ্যেই অনুষ্ঠান চালিয়ে যাবো। সত্য কথা হলো দ্রুতই বৃষ্টি থেমে গেল। ‘না, বৃষ্টি থামেনি।’ ট্রাম্পের সফরসঙ্গী এক নারী কর্মকর্তা মুখ ফসকে বলে ফেললেন কথাটি। ভয় পেয়ে তাকালেন যে, ট্রাম্প শুনে ফেলেছেন কি না! কিন্তু ট্রাম্প বলেই চলছেন, ‘এরপর ঝকঝকে রোদ উঠল। (বক্তৃতা শেষ করে) আমি চলে এলাম। আমরা চলে আসার পর বৃষ্টি নামল। আরেকটি চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছে। ওভাল অফিসে ডক্টর মার্টিন লুথার কিংয়ের একটি ভাস্কর্য ছিল, যেটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে আমি স্থান পেয়েছি ১৪ থেকে ১৫ বার। আমার বিশ্বাস টাইম ম্যাগাজিনের ইতিহাসে এটি একটি রেকর্ড। এক বছরে ১৫ বার! আমার মনে হচ্ছে এই রেকর্ড ভাঙা সম্ভব নয়, মাইক পম্পেও, আপনার কি মনে হয় ভাঙা সম্ভব?’ ‘না’ আতঙ্কিত কণ্ঠে জবাব দিলেন পম্পেও। ‘আপনারা জানেন, সেই টাইম ম্যাগাজিন বলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাস্কর্যটি সরিয়েছে। জেকে... এমন নামের একজন টাইম ম্যাগাজিনে লিখেছে, আমি সেটি সরিয়েছি। আমি কখনোই এ কাজ করিনি। মার্টিন লুথার কিংকে আমি খুবই সম্মান করি। কিন্তু অসৎ মিডিয়ার কাজ এটি। আমি সততা পছন্দ করি, সেটি জানিয়ে দিতে চাই। বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিং পছন্দ করি। শেষবারের মতো তাদের বলছি, আমি আপনাদের পছন্দ করি। আপনাদের যতটা সম্মান করি, আর কাউকে নয়। আপনারা ভালোভাবে কাজ করলে আমরা আবারো সবকিছুতে জিততে শুরু করব।’
গত ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ মন্ত্রিসভার প্রস্তাব অপরিবর্তিত রেখেই জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধনী) আইন ২০১৮’। ওই দিন ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো: ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাতের অধিবেশনে এই সংশোধনী পাস হয়। সংশোধনীটি পাস হওয়ার আগে তুমুল হট্টগোলের মধ্য দিয়ে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা। তারা সংসদে কঠোর ভাষায় এই সংশোধনীর সমালোচনা করেন। তারা এই সংশোধনীকে ব্যাংক খাত ধ্বংসের একটি ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেন। সংসদে এই বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি সংসদে পাস হয়।
বিলটি পাসের আগে এর ওপর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মো: ফখরুল ইমাম, নুরুল ইসলাম ওমর, নুরুল ইসলাম মিলন, বেগম রওশন আরা মান্নান ও স্বতন্ত্র সদস্য ডা: রুস্তুম আলী ফরাজীর আনা জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। বিলের ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব উত্থাপনের পর অর্থমন্ত্রী সে প্রস্তাব গ্রহণে আপত্তি জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিলটির ওপর আলোচনার জন্য আরো সময় চান। কিন্তু স্পিকারের আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার সময় দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিল পাসের এই প্রক্রিয়ায় সময় দেয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। এ নিয়ে বিরোধীদলীয় সদস্যরা হট্টগোল শুরু করেন। তখন স্পিকার সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে কথা বলার জন্য বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। কিন্তু সে আহ্বানে বিরোধীদলীয় সদস্যরা সাড়া না দিয়ে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন। বিরোধীদলীয় চিপ হুইপের নেতৃত্বে তারা ওয়াক আউট করে চলে যাওয়ার পর, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিলটি পাস হয়। আলোচ্য এই সংশোধিত আইনের মাধ্যমে ব্যাংক কোম্পানির পরিচালকের মেয়াদ ও এক পরিবারে পরিচালক পদেও সংখ্যাসংক্রান্ত বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই সংশোধনীর বিধান অনুযায়ী, এখন থেকে একটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই সাথে একই পরিবারের সর্বোচ্চ চারজন পরিচালক হিসেবে থাকার সুযোগ পাবেন। সেই সাথে একই ব্যক্তি একটানা ৯ বছর অর্থাৎ তিন মেয়াদে পরিচালক হিসেবে থাকতে পারবেন। এই ৯ বছর পরিচালক পদে থাকার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে তিনি আবার পরিচালক হতে পারবেন না।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মূল ব্যাংক কোম্পানি আইন পাস হয় ১৯৯১ সালে। এর পরবর্তী সময়ে এই আইনের বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকদের মেয়াদ সম্পর্কিত ধারাটি ছয়বার সংশোধন করা হলো। সর্বশেষ আলোচ্য সংশোধনীর আগের সংশোধনীটি করা হয় ২০১৩ সালে। সে সংশোধনীর মতে, একই পরিবার থেকে একটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সর্বোচ্চ দু’জন পরিচালক থাকার বিধান ছিল। তা ছাড়া কোনো পরিচালক একটানা দুই মেয়াদ তথা ছয় বছরের বেশি সময় পরিচালক পদে বহাল থাকতে পারতেন না। ২০১৩ সালের সে সংশোধনীটিও আনে আওয়ামী লীগ সরকারই। এখন তা আবার সংশোধন করল এই আওয়ামী সরকারই। কার স্বার্থে এই সংশোধন করা হলো সে প্রশ্নটি এখন ব্যাংকপাড়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তেমনি তা আলোচিত হচ্ছে সচেতন আমানতকারীদের মধ্যেও। প্রসঙ্গত উল্লেখ, যেকোনো বেসরকারি ব্যাংকে সাধারণত ৯০ শতাংশ অর্থের মালিক সাধারণ মানুষ তথা আমানতকারীর। বাকি ১০ শতাংশের মালিক ব্যাংক মালিকেরা। সরকার এই ১০ শতাংশের মালিকের স্বার্থ রক্ষা করতেই এবার আবারো ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে বাড়িয়ে তুলল পরিচালকদের সুযোগ-সুবিধা। এই আইনের ফলে বর্তমানে যারা বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালক আছেন, তাদের ৯ বছরের মেয়াদের গণনা এখন থেকে নতুন করে শুরু হবে। দেখা গেছে, প্রতিবার এ ধরনের সংশোধনীর সময় এই মেয়াদের গণনা নতুন করে শুরু করা হয়। তা ছাড়া অর্থমন্ত্রী পরিবারের সংজ্ঞাও আরো সম্প্রসারিত করেছেন। তিনি বলেছেন, কোনো পরিবারের কেউ আলাদা ব্যবসায় করলে এবং নিজেই করদাতা হলে তাকে পরিবারের ওপর নির্ভরশীল বলা যাবে না।
এর অর্থ তাকে আলাদা পরিবার হিসেবে গণ্য করা হবে। বিলটি সংসদে উত্থাপন করে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, এই সংশোধনীর ফলে ব্যাংক খাতে গতিশীলতা আসবে এবং নতুন ব্যাংকগুলো যথাযথভাবে পরিচালনায় তা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা তার এই অভিমতের সাথে একমত নন। বরং তারা বলছেন, এই সংশোধনী ব্যাংকে পরিবারতন্ত্র কায়েমের পথকেই আরো সুপ্রশস্ত করবে। আইন করে এভাবে ব্যাংকে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার তীব্র সমালোচনা করেছেন আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ব্যাংক আইনের এ সংশোধন সুশাসনের পরিপন্থী, আমানতকারীর স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে, ব্যাংক খাতের পরিণতি আরো খারাপ হবে। আমানতকারীরা বলছেন, এই সংশোধন জনবিরোধী। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ব্যাংক খাত এমনিতেই নানা সমস্যায় জর্জরিত। এর মধ্যে এক পরিবার থেকে চারজন পরিচালক এবং টানা ৯ বছর পরিচালক পদে থাকার সুযোগ দিতে আইনের এই সংশোধন অনাকাক্সিক্ষত। এটি ব্যাংক খাতের সুশাসনের পরিপন্থী। এর ফলে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়বে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বাধা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন বলেছেন, ব্যাংক ও অন্যান্য কোম্পানি এক নয়। অন্যান্য কোম্পানিতে উদ্যোক্তারা নিজেদের টাকায় ব্যবসায় পরিচালিত হয়। আর ব্যাংকের টাকার বেশির ভাগই আমানতকারীদের। ফলে কোনো ব্যাংকে পুরোপুরি পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলে, দীর্ঘ সময় কেউ ব্যাংকের পরিচালক থাকলে আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে তিনি ব্যাংক কোম্পানি আইন এভাবে সংশোধন না করতে পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, যেহেতু এখন আইন পাস হয়েই গেছে সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আরো কঠোর হতে হবে। একজন পরিচালক বা ব্যবস্থাপক অন্যায় করলে তাকে শুধু বিদায় করলেই হবে না, তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যাংক আইনের এই সংশোধনের উদ্যোগ নেয়ার পর থেকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। তার মতে, এই সংশোধনীর পক্ষে ছিলেন ব্যাংকের মুষ্টিমেয় কয়েকজন পরিচালক।
শেয়ার মালিক, গ্রাহক কিংবা ব্যাংক কর্মীদের কারো সমর্থন এতে ছিল না। দেশব্যাপী বিভিন্ন মহলের প্রতিবাদ সত্ত্বেও এ আইন পাস করার কী প্রয়োজন ছিল, তা বোধগম্য নয়। এ আইন পাসের ফলে ব্যাংক খাতের পরিণতি আরো খারাপ হবে বলে তিনি মনে করেন। তার এই বক্তব্যের সারকথা দাঁড়ায়- ব্যাংক মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করতেই ব্যাংক আইন সংশোধনের এ ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। সার্বিক ব্যাংক খাতের স্বার্থ কিংবা আমানতকারীদের স্বার্থকে সামনে রেখে তা করা হয়নি। তিনি আরো বলেন, ‘একই পরিবারে দুইজন পরিচালক থাকার সময় বেসরকারি ব্যাংক ‘ন্যাশনাল ব্যাংক’ একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ছিল। যখনই ওই পরিবার থেকে পরিচালক হলেন পাঁচজন, তখন থেকেই ব্যাংকটির পতনের শুরু হলো। আসলে আমরা যদি নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে এই বিষয়টিকে দেখি, তবে বলতেই হবে- এই সংশোধনী কিছু ব্যক্তি বা পরিবারবিশেষের স্বার্থকেই ঊর্ধ্বে তুলে ধরা হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকের কোনো উপকার বয়ে আনবে না। তা ছাড়া নিশ্চিতভাবে তা ব্যাংক খাতের পেশাজীবীদের নিজস্ব পরিসরকে আরো সঙ্কুচিত করে ফেলবে। এর ফলে ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে। পরিবারতান্ত্রিক প্রবণতা ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রমে স্বেচ্ছাচারিতা আরো বাড়িয়ে তুলবে। এই সংশোধনী প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলছেন, এর ফলে কোনো ব্যাংকে পারিবারিক প্রাধান্য বাড়াবে না। কিন্তু গত বছরের নভেম্বরে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপ ব্যাংক খাতকে কব্জায় নেয়ার চেষ্টা করছে। এই উদ্যোগকে তিনি ‘ন্যাস্টি স্টেপস’ বলে অভিহিত করেছিলেনন। তিনি বলেছিলেন, এই গ্রুপ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ গ্রুপের সংশ্লিষ্ট লোকজনের মাধ্যমে কমপক্ষে পাঁচটি ব্যাংকের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এমনটি ঘটেছিল তখন, যখন এক পরিবার থেকে কোনো বেসরকারি ব্যাংকে দুইয়ের বেশি পরিচালক থাকার কোনো বিধান ছিল না, একজন পরিচালক একটানা ছয় বছরের বেশি পরিচালক পদে থাকার কোনো সুযোগ ছিল না। এখন এক পরিবার থেকে চারজন পরিচালক থাকা ও একটানা একজন পরিচালক ৯ বছর এ পদে থাকার নয়া সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়ে অর্থমন্ত্রী এস আলম গ্রুপের মতো আরো কোনো গ্রুপের জন্য ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করার ‘ন্যাস্টি স্টেপস’ আরো বাড়িয়ে দেয়ার নয়া পথ করে দিলেন কি না, তা তাকে ভেবে দেখতে হবে। আসলে ব্যাংক মালিকেরা সবসময় সুযোগের সন্ধানে থাকেন, কী করে ব্যাংকগুলোতে পরিবারের প্রভাব-প্রতিপত্তি আরো বাড়িয়ে তোলা যায়, কী করে ব্যাংকগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিরঙ্কুশ করা যায়, ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিবারতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দেয়া যায়। আলোচ্য সংশোধনীর পেছনে কলকাঠিটি প্রধানত নেড়েছেন ব্যাংক মালিকেরাই। অন্য কোনো মহল থেকে এই সংশোধনীর জন্য সরকারের কাছে দাবি করেনি কিংবা সরকারকে এ ধরনের পরামর্শ দেয়নি। ব্যাংক মালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস’ (বিএবি) গত বছরের মার্চে ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পেশ করে। তাতে এ ধরনের সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছিল। আর এই প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। জানা যায়, ব্যাংক খাতের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ ধরনের সংশোধনীর বিপক্ষে মত দেয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতামত উপেক্ষা করে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা থেকে সংশোধনের প্রস্তাব পাস হয়। তা ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, কমিটির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক গত বছরের ২৯ অক্টোবর কমিটির বৈঠকে বলেছিলেন- এক পরিবার থেকে চারজন একটানা ৯ বছর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, এ সুযোগ সৃষ্টির বিষয়গুলো পুনর্বিবেচিত হওয়া দরকার। কমিটির অন্য সদস্যরাও কমিটির সভাপতির বক্তব্য সমর্থন করেছিলেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন বলেছিলেন, এই বিলটি পাস হলে ব্যাংক খাত আরো পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে উঠবে। অন্য আরেক সদস্য বেগম আখতার জাহানের অভিমত ছিল, বিলটি পাস হলে ব্যাংক খাত পরিবারকেন্দ্রিক হবে, মানুষের আস্থা হারাবে এবং এ খাতে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু সংসদীয় কমিটির সদস্যদের এসব মতামতের প্রতি কোনো গুরুত্ব না দিয়েই গত বছরের ২১ নভেম্বর কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই বিলটি পাসের সুপারিশ করে দেয় সংসদীয় কমিটি। কী অবাক করা বৈপরীত্য। বিলটি পাসের দিনে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের মূল সুরটি ছিল ব্যাংক খাতে পরিবারতন্ত্র তথা পারিবারিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এই প্রয়াসের বিরুদ্ধেই। তাদের উদ্বেগের ক্ষেত্রটি ছিল এখানেই। সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য ডা: রুস্তম আলী ফরাজী এই বিলের বিরোধিতা করে বলেন, ব্যাংকগুলোতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়ার পরিকল্পনা চলছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এর বিরুদ্ধে ছিলেন। পাকিস্তানের ২২ পরিবারের হাত থেকে অর্থ উদ্ধারে তিনি লড়াই করেছিলেন। কিন্তু সেই চেতনার বিরুদ্ধে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থে এই আইনটি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। অপর দিকে, সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম সংসদে দাবি করেন, এর মাধ্যমে একটি পরিবারকেই একটি ব্যাংকের মালিক করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিলটি পাস না করে প্রত্যাহার করা হলে আমরা খুশি হবো। সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম ওমর বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেন। তা ছাড়া অপর সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মিলন দাবি করেন, বিশেষ মহলের চাপে এ ধরনের আইন পাসের মাধ্যমে ব্যাংক খাত ধ্বংসের চক্রান্ত চলছে। তিনি সংসদে এই চক্রান্ত বন্ধের দাবি তোলেন। তবে অর্থমন্ত্রীর দাবি, তাদের আশঙ্কা অমূলক। সম্প্রতি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ তথা সিপিডি সদ্য সমাপ্ত ২০১৭ সালটিকে বাংলাদেশের জন্য ‘ব্যাংক খাতের কেলেঙ্কারি বছর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং সংস্থাটি বলেছে, এই বছরটিতে ব্যাংকের কুঋণ ও সঞ্চিতির ঘাটতি বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে অপরিশোধিত ঋণ। একে ব্যাংকগুলোতে গুটিকয়েক লোকের প্রাধান্য সৃষ্টি হয়েছে। আর জনগণের করের টাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেয়া নতুন ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে কার্যকর না হয়ে বরং জটিলতার সৃষ্টি করছে।
জড়িয়ে পড়ছে টাকা পাচারের সাথেও। এসব অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষেধকের ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার উল্টো ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে সেখানে পরিবারতন্ত্র কায়েমের পথ করে দিয়েছে। সিপিডির এই মূল্যায়ন যে অহেতুক নয়, তার প্রতিফলন আমরা দেখতে পেয়েছি গত বৃহস্পতিবারের জাতীয় সংসদ অধিবেশনে। ওই দিন ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনিয়ম ও ত্রুটিমুক্তভাবে পরিচালিত করার জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হোক’ শীর্ষক এক সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সরকার ও বিরোধীদলীয় এমপিরা এ খাতের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং অর্থমন্ত্রীকে আত্মপক্ষসমর্থন করে বলতে হয়েছে- ব্যাংক খাতের সব ব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত ছিল না। উল্লিখিত সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের পক্ষ সমর্থন করে সরকারি দলের এমপি আলম সংসদে বলেন, ‘ব্যাংক খাত ও আর্থিক খাত নিয়ে সব সময় কোনো না কোনো বিতর্কে আমাদের বিব্রত, বাকরুদ্ধ ও হতাশ হতে হয়। যারা আইন প্রয়োগের দায়িত্বে আছেন, তাদের ব্যর্থতার কারণে ব্যাংক খাত সঙ্কটে পড়েছে। এতে আওয়ামী লীগকেও বিব্রত হতে হচ্ছে। ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলার কারণে দেশের আর্থিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। ব্যাংকের পরিচালকেরা এর সাথে জড়িত, এটি সাদা চোখেই স্পষ্ট হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’ শেষ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর অনুরোধে ইসরাফিল আলম এই সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন। জানি না, সদ্য শুরু হওয়া ২০১৮ সালটিকে বছর শেষে কী নামে সিপিডিকে অভিহিত করতে হয়। তবে শুরুতেই, আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু দেখা যাচ্ছে না। কারণ, ২০১৭ সালের ব্যাংক খাতের সম্পর্কে সিপিডির মূল্যায়নকে পত্রপাঠ নাকচ করে দিয়েছেন সিপিডির বিরুদ্ধে সমালোচনার তীর ছুড়ে। তা ছাড়া, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করার বিষয়টি থেকে আন্দাজ অনুমান করা যায়, সরকার সাধারণ আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষা ও ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে মোটেও আগ্রহী নয়।
ব্যাংকিং ও শিক্ষাখাতে দুর্নীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ড. ইফতেখারুজ্জামান। হতাশও তিনি। এ দুটি খাত দেশের চালিকাশক্তি। আর এ খাতে দুর্নীতি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা তার। মানবজমিন-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি সকল দুর্নীতিকেই ক্ষতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বলেন, ব্যাংকখাতে চলা দুর্নীতি অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতিতে ধস নামবে। আর শিক্ষাখাতের দুর্নীতি দেশকে পঙ্গু করে দেয়। ড. ইফতেখারুজ্জামান দুর্নীতি রোধে ব্যাপক সংস্কারের কথা বলেছেন। এজন্য নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়ে তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা দেয়ার কথাও বলেন। টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক পরিচালনা পর্ষদেরও সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে দেশের নানা খাতের দুর্নীতি নিয়ে কাজ করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ সংস্থাটি দেশের বিভিন্ন খাতে জরিপ চালায়। পরে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করে। মানবজমিন-এর পক্ষ থেকে তার মুখোমুখি হলে তিনি দুর্নীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। বিভিন্ন সময় সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার কথাও বলেন তিনি। দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের অগ্রগতি হয়েছে। আমরা একসময় সর্বনিম্নে ছিলাম। বর্তমানে আমরা বৈশ্বয়িক তালিকায় নিচের দিক থেকে পঞ্চদশ অবস্থানে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায় আমরা শুধুমাত্র আফগানিস্তান থেকে ভালো অবস্থানে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সার্বিক বিবেচনায় আশাবাদী হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, এই সূচক যেহেতু আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতে হয়, তাই বলা যায় আমরা ভালো করার চেয়ে অন্যান্য কিছু দেশ খারাপ করেছে বেশি। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর সহনীয় মাত্রায় ঘুষ গ্রহণের বক্তব্যকে তিনি মনে করেন এটি ঘুষকে বৈধতা দেয়ার শামিল। ড. ইফতেখার বলেন, শিক্ষাখাতে দুর্নীতি অন্যসব খাতের তুলনায় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদি। প্রশ্নপত্র ফাঁস, টেক্সটবুক জালিয়াতি কিংবা অন্যায়ভাবে চাকরি দেয়ার মাধ্যমে দেশকে মেধাহীন করে তোলা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, মন্ত্রীর এমন বক্তব্য অপারগতার দৃষ্টান্ত। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে এসব দুর্নীতির সঙ্গে সরকারদলীয় কেউ জড়িত কিনা? দুর্নীতিবাজদের মন্ত্রী সুরক্ষা দিতে চাইছেন কিনা? ড. ইফতেখার বলেন, মন্ত্রীর উচিত ছিল দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিত করে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। তিনি বলেন, প্রায় সব ব্যাংকই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। লুটপাটের সঙ্গে জড়িত। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই অর্থনীতি ধসে পড়বে। সাইবার অপরাধ সম্পর্কে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে দিন দিন অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। আর এ অপরাধ রোধ করতে হবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই। টিআইবি এক্ষেত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কারণ আধুনিক হাতিয়ার ব্যবহারে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে মৌলিক অধিকার বাক-স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে। ৫৭ ধারার অপব্যবহারের মাধ্যমে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাই আমরা সরকারকে পরামর্শ দিয়েছি সুনির্দিষ্ট বিধিমালা তৈরি এবং নিশ্চিত করার। তিনি বলেন, বিধিমালা তৈরিতে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিতে পারে সরকার। প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় দুর্নীতি দমন কমিশনের কতিপয় কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে। এ বিষয়টি নিয়ে বলবেন? এ প্রশ্নে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটা এলার্মিং। যাদের হাতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তারাই যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে যান তাহলে স্বাভাবিকভাবেই অপরাধ বাড়বে। যার ফলে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সৃষ্টি হবে। তবে আশার কথা হচ্ছে-সম্প্রতি দুদক দুর্নীতি প্রতিরোধে সোচ্চার। তারা চেষ্টা করছে দৃষ্টান্ত স্থাপনের। এটাকে সবার সমর্থন জানাতে হবে। তিনি বলেন, সর্বপ্রথম সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছে যায়। সেখানে স্বজনপ্রীতি কিংবা অর্থের বিনিময়ে সেবা প্রদানের মাধ্যমে দুর্নীতিকে এক প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়। টিআইবি’র কার্যক্রম দুর্নীতির চিত্র পরিবর্তনে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পেরেছে? এ প্রশ্নে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, চাহিদা সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান হলো টিআইবি। আমরা জনগণকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে উৎসাহ দেই। দুদক, বিচার বিভাগ, জাতীয় সংসদ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসনসহ যাদের ওপর দুর্নীতি দমনের দায়িত্ব তাদের যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টি করা টিআইবি’র কাজ। পাশাপাশি পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আমরা গবেষণা ও বিভিন্ন পরামর্শের মাধ্যমে আইনি সংস্কারের প্রস্তাব বা সরকারের সঙ্গে কাজ করি। আমাদের কাজের ফলে বেশকিছু আইনি সংস্কার আনা সম্ভব হয়েছে। আমাদের এডভোকেসিতে দুদকের সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের পরামর্শের ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশে পরিণত হয়েছে। তথ্য অধিকার আইন, তথ্য সুরক্ষা আইন সংসদে পাস হয়েছে। গতবছর থেকে বাংলাদেশ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে ৯ই ডিসেম্বর দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালনের। ড. ইফতেখার বলেন, আমি বলছি না, এর মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল হয়ে যাবে। তবে এটা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। আরেক প্রশ্নের জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, টিআইবি’র কাজ এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা সম্ভব। তিনি বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা যতবেশি বিকাশ লাভ করবে ততবেশি দুর্নীতি বা অপরাধ নির্মূলে সাহায্য করবে। সেই বিবেচনায় আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। যেমন সেরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের পুরস্কৃতরা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ফেলোশিপ প্রদান ইত্যাদি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মূলকথা হলো-অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং দুর্নীতি দমনের আন্দোলন একই সূত্রে গাথা। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার যে স্বপ্ন ছিল, সেই স্বপ্ন এখনো আমার অটুট রয়েছে। স্বাধীনতার স্বপ্নে দুর্নীতি নামক কোনো শব্দ ছিল না। আমার স্বপ্ন এমন একটা দেশ হবে- যেখানে মেধা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশ গঠন হবে। দুর্নীতি নামক কোনো শব্দ থাকবে না। সুশাসন প্রতিষ্ঠা পাবে। সকল মানুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের পাশাপাশি দুই সিটির বর্ধিত ৩৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু হাইকোর্ট এসব পদের নির্বাচনের তফসিলের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। এসব পদের নির্বাচন নিয়ে মহানগরীর দুই অংশে প্রার্থীদের ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। ঢাকায় নির্বাচনী একটি আবহ সৃষ্টি হয়েছিল। তা এখন থেমে যাবে।  সে যা-ই হোক, নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ায় বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা নির্বাচন পেছানোর ক্ষেত্রে দায়ী করেছেন নির্বাচন কমিশনকে।
তাদের অভিমত হচ্ছে, ইসি ত্রুটি রেখেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে বলেই এমন পরিস্থিতি হয়েছে। এই নির্বাচন স্থগিতের যে আদেশ হাইকোর্ট থেকে এসেছে, নির্বাচন স্থগিত হওয়া নিয়ে সরকারি দলের অন্যতম প্রধান নেতা ও দলের সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন স্থগিতের আদেশ এসেছে। তার পেছনে সরকারের কোনো হাত নেই। পক্ষান্তরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সম্পর্কে বলেছেন, নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে সরকার সুযোগ নিয়েছে। সিটির নির্বাচনে যারা প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তারা সাজঘরে বসে নিজেদের তৈরি করতে শুরু করেছিলেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকার এই ভোট নিয়ে রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশনের ব্যস্ততা লক্ষ করা গিয়েছিল। জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিতব্য এই ভোটের গতিপ্রকৃতি দেখার জন্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল সোৎসাহভরে অপেক্ষা করছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারির ভোটের আগে নির্বাচনী ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে বেশ কিছু স্তর পার হতে হতো। ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সবারই মনোনয়নপত্র দাখিলের কথা ছিল। মনোনয়নপত্র বাছাই হতো ২১ ও ২২ জানুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখ ছিল ২৯ জানুয়ারি। এরপর প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হতো। উত্তর সিটি করপোরেশনের মোট ভোটার ২৯ লাখ ৪৮ হাজার ৫১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ও নারী ভোটার যথাক্রমে ১৫ লাখ ২২ হাজার ৭২৬ জন ও ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৮৪ জন। দক্ষিণের নতুন ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৭৭ হাজার ৫১০ জন। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে, ১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটির সৃষ্টি। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন মি. স্কিনার।
তিনি পদাধিকার বলে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটির প্রথম চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ১৮৮৫ সালে সর্বপ্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান হন আনন্দ চন্দ্র রায়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিই চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৭ সালের পৌরসভা অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পর থেকেই চেয়ারম্যানের সাথেই ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হওয়ার পদ্ধতি চালু হয়। ওই অধ্যাদেশ বলে ১৯৭৮ সালে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটিকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করা হয়। এ সময় ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র হন ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত। ২০১১ সালে ১৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন সংশোধনী বিল ২০১১ পাসের মাধ্যমে ঢাকা সিটি করপোরেশন বিলুপ্ত করা হয়। এর ফলে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে বিভক্ত করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নামে স্বতন্ত্র দুটি করপোরেশন গঠন করা হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকাগুলো হচ্ছে- মিরপুর, মোহম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর, পল্লবী, আদাবর, কাফরুল, ঢাকা সেনানিবাস, তেজগাঁও, গুলশান, রামপুরা, বনানী, খিলক্ষেত, ভাটারা, তুরাগ, উত্তরা, উত্তরখান ও দক্ষিণখান। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পল্টন, সবুজবাগ, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, বংশাল, ওয়ারী, রমনা, গেন্ডারিয়া, লালবাগ, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, শাহবাগ, নিউমার্কেট, খিলগাঁও, কামরাঙ্গীরচরসহ অন্যান্য থানাধীন আচ্ছাদন নিয়ে গঠিত। এ বছরটি সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কাটবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন রাজধানীতে বলেই এর গুরুত্ব অনেক বেশি। তা ছাড়া দলীয় ভিত্তিতে এই নির্বাচন হবে।
সে জন্য রাজনৈতিক অঙ্গনে একে ঘিরে উৎসাহ আগ্রহ ব্যাপক। দেশের প্রধান দুই দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ডি-ফেক্টো বিরোধী দল বিএনপির ভেতরেই মুখ্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তাই সবাই একে মর্যাদার লড়াই হিসেবে গ্রহণ করেছিল। দলীয়ভাবে মেয়রপ্রার্থীরা মনোনয়ন পেয়েছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে উভয় দলের নেতাকর্মীরা প্রচারণায় মাঠে নামার কথা। উত্তর সিটি করপোরেশনের এটি ছিল উপ-নির্বাচন, মেয়র পদে মেয়াদপূর্ণ নয়। তথাপি এসব নির্বাচনে গুরুত্ব পাবে না। রাজধানীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা সাঈদ খোকন। উত্তরেও মেয়র ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মরহুম আনিসুল হক। তার মৃত্যুতেই এখন উপ-নির্বাচন হওয়ার কথা। এ বছর জাতীয় নির্বাচনের আগে আসন্ন এই উপ-নির্বাচন সব মহলের কাছে যেমন গুরুত্ব বহন করছে, তেমনি নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু করার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের বিরাট চ্যালেঞ্জ। স্মরণ করা যেতে পারে, এর আগে কমিল্লা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন ভালোভাবে হয়েছে। এর ফলে নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই আশাবাদ যাতে বজায় থাকে এবং উত্তরোত্তর তা বেড়ে যায়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন যাতে ত্রুটিমুক্ত হয় তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া উচিত। জাতীয় নির্বাচনের আগে যেহেতু একটি মর্যাদার এবং প্রভাব বিস্তারকারী এই নির্বাচন। তাই প্রধান দুই দলের স্নায়ুচাপসহ বিজয় অর্জনের জন্য তারা মরিয়া হয়ে উঠতে পারে। এই বিষয়টি আমলে নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক হতে হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে, এ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণার আগেই নির্বাচন প্রচার কাজ শুরু করেছেন। এসব নির্বাচন বিধির পরিপন্থী। এখন যদি এসব বিষয় তদারকিতে আনা না হয় তবে এসব সীমা ছাড়িয়ে এবং নির্বাচনের আগেই বিধি ভঙ্গের অপরাধ করা বাড়তে থাকবে। সে অবস্থা যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য এখন থেকে কমিশনের কঠোর হওয়া বাঞ্ছনীয়। ঢাকা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শহর এবং পৃথিবীর অন্যতম এক জনবহুল শহর। এদিকে এক খবরে প্রকাশ, গোটা পৃথিবীতে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাড়ছে শহরের জনসংখ্যা। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ জনবহুল শহর হবে ঢাকা।
জনসংখ্যা বেড়ে চলার মডেলগুলোর ওপর ভিত্তি করে কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল সিটিস ইনস্টিটিউটের করা নতুন এক তালিকায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। এই ঢাকা শহরে অধিবাসীদের সেবা দিয়ে থাকে দুটি সিটি করপোরেশনের দু’জন মেয়র। দুই মেয়রের দায়িত্ব পৃথিবীর অন্য বড় শহরগুলোর চেয়ে কোনো অংশে কম নয় বরং বেশি। আর অন্য সিটি করপোরেশনগুলোর চেয়ে এই নগীর সমস্যা হাজার গুণ। বিশ্বে অবাসযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় রয়েছে ঢাকা। আরো খারাপ খবর হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে হতাশাগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা সপ্তম। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জিপজেটের করা এক তালিকায় এমন চিত্র উঠে এসেছে। যেসব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা করা হয় তা হলো- মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, ট্রাফিক জ্যাম, লিঙ্গগত সমতা, বেকারত্ব, নাগরিকদের আর্থিক অবস্থা, একটি শহর কী পরিমাণ সূর্যালোক পায় ইত্যাদি। ১৫০টি শহরের ওপর করা বৈশ্বিক এ তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৪৪। হতাশার ক্রমান্বয়ে ঊর্ধ্বক্রম অনুসারে শহরগুলোর তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। অন্য দিকে, ১৫০তম অবস্থানে থাকা ইরাকের রাজধানী বাগদাদ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হতাশাগ্রস্ত শহর। এ ছাড়া ঢাকাবাসীর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের পয়েন্টেও ভালো নয়। বলা হয়েছে, এ শহরে প্রচণ্ড ঘনবসতি। রয়েছে ভয়াবহ যানজট। ঢাকা শহরের বহু সমস্যা রয়েছে। তাই নগরের মেয়রের পদটি অত্যন্ত কঠিন। যারা এই শহরের নগর পিতা হওয়ার জন্য নির্বাচনে দাঁড়াতে চান, তাদের সাহসকে শুধু সাহস বললেই চলবে না বলতে হবে দুঃসাহস। যে যা-ই হোক, এই শহরের মেয়র পদের নির্বাচন ভবিষ্যতে হবে। এই শহরের করপোরেশন কর্তৃপক্ষের বহু সমস্যার কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সমস্যায় ভুগতে ভুগতে ঢাকাবাসী ত্যক্ত বিরক্ত। সমস্যাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব নয়। এখনে তির্যক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ঢাকা মহানগরীতে নাগরিকদের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে দ্বৈত ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন ঢাকা শহরে সুপেয় পানি সরবরাহ করে ঢাকা ওয়াসা। সরবরাহ করা পানি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অথচ এ ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের বলার বা করার কিছুই নেই। অথচ যথেষ্ট পানির অভাবে নগরবাসীর প্রয়োজন সম্পন্ন করতে পারে না। পর্যাপ্ত পানি পাওয়ার যে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন, তা ওয়াসা নেয় না।
ঢাকা মহানগর নদী দিয়ে বেষ্টিত, কিন্তু দূষণের কারণে সে পানি ব্যবহারের অযোগ্য। নদী দূষণমুক্তের উদ্যোগ সিটি করপোরেশন নিচ্ছে না। ভূউপরিস্থ পানি ব্যবহার না করে ওয়াসা ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছে। এতে ঢাকার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের এ ব্যাপারে উদ্যোগ আয়োজন নেই। ঢাকা শহর দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। এই অপরিকল্পিত বিস্তার রোখা সম্ভব হচ্ছে না। নগরীর এই অপরিকল্পিত বিস্তার নিত্যনতুন সমস্যা সৃষ্টি করছে। এ বিষয়টি দেখার দায়িত্ব রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। অথচ এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটির এতে কোনো মাথাব্যথা নেই। ভয়াবহ যানজটে নাকাল মহানগরবাসী। যে পথ দিয়ে নগরে যানবাহন চলছে তা সিটি করপোরেশনের আওতায়। কিন্তু যানবাহন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করপোরেশনের হাতে নয়, পুলিশের হাতে। দুই পক্ষের কোনো সমন্বয় নেই। এই সমস্যা ভয়াবহ হলেও তা নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারি কোনো প্রচেষ্টা নেই। রাজধানীর জনসংখ্যা কোটির অনেক উপরে। এ বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য এখনকার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিকভাবেই খারাপ। এখানে সিটি করপোরেশনের কিছু করণীয় নেই। এর দায় সরকারি বাহিনী পুলিশের। কিন্তু এই অবনতির কারণে ভুগছে নগরবাসী। বিশেষ করে সম্প্রতি যে হারে এই মহানগরীতে গুম, হত্যা, নারী নির্যাতন ঘটছে তাতে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কোনো নগরীতে এমন অবস্থা বিরাজ করলে সে শহরের নাগরিকদের মনে স্বস্তি থাকার কথা নয়। বিভিন্ন সংবাদপত্র ২০১৭ সালের গুম নারী নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সব চেয়ে অবাক হওয়ার বিষয়, এসব গুমের কোনো হদিস পুলিশ করতে পারছে না। আরো বিস্ময়ের বিষয় হলো, গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ কিছুকাল পরে ফিরে আসছেন। কিন্তু এ সময় তারা কোথায় কিভাবে ছিলেন ও কী কারণে তারা গুম হয়েছিলেন তার কোনো জবাব পাওয়া যাচ্ছে না।
এমন বিষয়গুলো শুধু ভীতিজনক নয় রহস্যময়ও বটে। সরকারি দলের অঙ্গ ছাত্র সংগঠনের অন্ত এবং আন্তদল হাঙ্গামাও রাজধানীর পরিবেশ বিঘ্নিত করছে। ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন হাল এবং এর ফলে নাগরিক জীবনে যে বিরূপ প্রভাব ফেলে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনা উৎকণ্ঠা রয়েছে। সম্প্রতি নগরীতে নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি করেছে উগ্রবাদীদের তৎপরতা। এ নগরেই এসব ঘটছে কিন্তু সিটি করপোরেশনের এখানে কিছু করণীয় নেই। গত বর্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে কিছু বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় রাজধানীর রাজপথ সয়লাব হয়ে গিয়েছিল। পথে জলাবদ্ধতার কারণে লোক ও যানবাহন চলাচলে মরাত্মক সঙ্কট দেখা দেয়। এমনকি কোনো কোনো পথের ধারে বিভিন্ন ভবনের নিচের তলায় পানি প্রবেশ করে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। শহরের পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেই জলাবদ্ধতার সমস্যাটা বেশি। কিন্তু এই জলাবদ্ধতা দূর করার কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যায় না। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনের যেকোনো অংশের মেয়র হওয়াটা দুঃসাহসিক ব্যাপার। এই মহানগরী মূলত হাজার সমস্যার একটি ভাগাড়। আর্থিক সীমাবদ্ধতা, দ্বৈত শাসন, সরকারের সহায়তার অভাব এসব কারণে এই নগরীকে জনগণের বসবাসের উপযোগী করে তোলা এক কষ্টকর ব্যাপার এবং অনেকটা যেন অসাধ্য সাধন। সমস্যা অগণিত কিন্তু তার সমাধান করাটা এককভাবে দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। সরকারের পক্ষ থেকে এ কথা বারবার বলা হচ্ছে, দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। কিন্তু ঢাকা শহরের সড়কগুলোর যে হাল তাতে মনে করার কোনো কারণে নেই যে, আমরা সেই সুন্দর মসৃণ মহাসড়কে আছি।
সংস্কার ও উন্নয়ন মাথা থেকে শুরু করে সর্বত্র ছড়িয়ে যায়। কিন্তু সেই বিচারে বিশৃঙ্খল নোংরা ঢাকার উল্লেখ করার মতো কয়েকটি ফ্লাই ওভার ছাড়া ভিন্ন কিছু চোখে পড়ে না। সারা বছর নানা মওসুমে ঢাকাবাসী যে মওসুমি ভোগান্তি ও কষ্ট সহ্য করে তা সমাধানের কোনো জাদুর কাঠি কারো কাছে নেই। সমস্যার স্তূপ কিন্তু সুরাহার কোনো ভরসা নেই এই বিরাট শহরের মানুষের। তাই দেশের এক কোটির ওপর মানুষ যদি হতাশায় ভোগে তবে কোনো আশারবাণী শোনাতে পারবেন কি কোনো মেয়র? যে কোনো নগরীই এগিয়ে যায় একটি পরিকল্পনার আলোকে। কিন্তু ঢাকা মহানগরীর জন্য সম্প্রতি তৈরি কোনো পরিকল্পনা আছে সে খবর কারো জানা নেই। এভাবে কোনো কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ছাড়া কোনো শহরের সমস্যা সুরাহা হওয়ার নয়। সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় কিন্তু ভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করবে। তিন মাসের জন্য নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়া অর্থ হচ্ছে আগামী জুন-জুলাইয়ের আগে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হচ্ছে না। তখন কিন্তু জাতীয় সংসদের নির্বাচনের বিষয় নিয়ে গোটা দেশ ব্যস্ত হয়ে পড়বে। নির্বাচন কমিশনের জন্য সিটি করপোরেশনের ভোটের পর আবার জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া কষ্টকর হবে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচনের পরই করপোরেশনের এই ভোট পিছিয়ে যেতে পারে।
মানব শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশই পানি দিয়ে তৈরি। তাই তো দেহকে সচল রাখতে পানির গুরুত্বকে কখনো অস্বীকার করা যায় না। সেই দিনে কম করে ৮ গ্লাস পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তাদের মতে এই পরিমাণ পানি পান না করলে শরীরের অন্দরে পানির ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। অবশ্য আরেক দল চিকিৎসক এ বিষয়ে একেবারে ভিন্ন মত পোষণ করেন। তাদের মতে এইভাবে পানি খাওয়ার পরিমাণকে নির্দিষ্ট সংখ্যায় বেঁধে দেয়া একেবারেই উচিত নয়। বরং যখনই পানির পিপাসা পাবে, তখনই পানি খান। এমনটা করলে শরীর নিয়ে আর কোনো চিন্তা থাকবে না। কিন্তু পানি যেন হয় হালকা গরম। তাহলে একদিকে যেমন ডিইহাইড্রেশনের আশঙ্কা কমবে, তেমনি শরীরের আরো অনেক উপকারও হবে। যেমন...
১. ওজন হ্রাস পাবে : অতিরিক্ত ওজনের কারণে চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে আজ থেকেই গরম পানি খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন ফল পাবেন একেবারে হাতে নাতে। আসলে গরম পানি পান করলে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার সুযোগই থাকে না। শুধু তাই নয়, গরম পানি অ্যাডিপোস টিস্যু বা ফ্যাটেদের ভেঙে ফেলেও ওজন হ্রাসে সাহায্য করে।
২. কনস্টিপেশনের প্রকোপ কমায় : গরম পানি পানের অভ্যাস করলে ইনটেস্টাইনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে ইনটেস্টাইনে জমে থাকা ময়লা শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় লেগে পরে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা কমতে সময় লাগে না।
৩. শরীরের বয়স কমে : গরম পানি স্কিন সেলের ক্ষত সারিয়ে ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। সেই সঙ্গে ত্বক টান টান হয়ে ওঠে এবং বলিরেখাও হ্রাস পায়। ফলে বয়সের কোনো ছাপই ত্বকের উপর পরতে পারে না। প্রসঙ্গত, শরীরে টক্সিনের মাত্রা যত কমে, তত শরীর এবং ত্বকের বয়সও হ্রাস পায়। আর গরম পানি যে এ কাজটা ভালোভাবেই করে তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না!
৪.ব্রণের প্রকোপ কমে : শরীরের অন্দরে ময়লা যত কম জমবে, তত ব্রণের বাড়বাড়ন্তও হ্রাস পাবে।। আর গরম পানি যে টক্সিনের বিরোধী, তা নিশ্চয় আর জানতে বাকি নেই! তাই ব্রণের প্রকোপ কমাতে সকাল বিকাল গরম পানি পান শুরু করুন। দেখবেন অল্প দিনেই ব্রণ এবং পিম্পলের মতো ত্বকের রোগ একেবারে সেরে যাবে।
৫. ঠান্ডা লাগা এবং গলা ব্যথার প্রকোপ কমায় : এই ধরনের শারীরিক সমস্যার চিকিৎসায় গরম পানির কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। গরম পানি এক্ষেত্রে রেসপিরেটারি ট্রাক্টকে পরিষ্কার করে ঠান্ডা লাগা এবং গলার অস্বস্তি কমাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে বন্ধ নাকও পুনরায় সচল হয়ে যায়।
৬. স্ট্রেস কমায় : গরম পানি পানের পর পরই সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে স্ট্রেস লেভেলও কমতে থাকে, নিয়ন্ত্রণে এসে যায় অ্যাংজাইটিও।
৭. শরীরকে বিষমুক্ত করে : যখন আমাদের রক্তে ক্ষতিকর টক্সিনের মাত্রা বাড়তে থাকে তখন কিডনিকে ওভার টাইম করে শরীর থেকে সেই টক্সিক উপাদনদের বার করে দিতে হয়। না হলেও হাজারো রোগ হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রেও গরম পানি নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। গরম পানি খাওয়া মাত্র শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে ঘাম হতে শুরু হয়। আর ঘামের মাধ্য়মে টক্সিনগুলি বেরিয়ে যেতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, গরম পানিতে যদি অল্প করে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন তাহলে এক্ষেত্রে আরো উপকার পাওয়া যায়।
৮. চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় : চুলের গড়ায় থাকা নার্ভদের সচলতা বৃদ্ধি করতে গরম পানি বিশেষভাবে সাহায্য করে। ফলে গরম পানি খাওয়া মাত্র স্কাল্পে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। ফলে অক্সিজেন সমৃদ্ধি রক্ত চুলের গোড়ায় পৌঁছে গিয়ে চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
৯. নার্ভাস সিস্টেম আরও কর্মক্ষম হয়ে ওঠে : গরম পানি খাওয়া মাত্র সারা শরীরে এমনকি মস্তিষ্কেও রক্তচলাচল বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নার্ভের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ব্রেন পাওয়ার বেড়ে যায়।
১০. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে : একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে খাবার খাওয়ার পর ঠান্ডা পানি খেলে পাকস্থলীর ভিতরের দেয়ালে ফ্যাটের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে পাকস্থলীর কর্মক্ষমতা কমে যায়। সেই সঙ্গে ইন্টেস্টিনাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। তাই তো খাবার পর পর ঠান্ডা পানির পরিবর্তে হালকা গরম পানি খাওয়া পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। আসলে ঠান্ডা পানির কারণে সাধারণত যে যে সমস্যাগুলো হয়ে থাকে সেগুলো গরম পানি খেলে একেবারেই হয় না। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতারও উন্নতি ঘটে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার কোনো সুযোগই পায় না।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতি আর নিজের ট্যুইটার পোস্ট দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অচলাবস্থা কাটাতে ডেমোক্র্যাট সেনেটরদের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার আগে অভিবাসন প্রশ্নে কোনো আলোচনা করবে না রিপাবলিকানরা। তবে ইতিমধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়ে ১৮ জন সিনেটরের একটি দল রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিনসের কাছে গেছেন। অভিবাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার মধ্য দিয়ে অচলাবস্থা নিরসনের প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। কলিনস তাদের কোনও আশার কথা শোনাতে পারেননি। হাউস স্পিকার পল রায়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রাম্প। বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছেন সিনেটর মিচ ম্যাককনেলের সঙ্গেও। তার উদ্দেশ্য ছিল কীভাবে এই সংকটের সমাধান করা যায়। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব সারা স্যান্ডার্স বলেছেন, শাটডাউন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনো আলোচনায় অংশ নেবেন না ট্রাম্প। ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাজেট বাড়ানো সংক্রান্ত একটি বিলে সেনেটররা একমত হতে না পারায় শনিবার স্থগিত হয়ে যায় আমেরিকার সরকারি কাজকর্ম।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ থেকে দেখা গেছে, বাজেট নিয়ে সিনেটরদের ভাগ হয়ে যাওয়ার মূল কারণ অভিবাসন-নীতিতে আমেরিকা সরকারের প্রস্তাবিত পরিবর্তন। আমেরিকায় অবৈধ তরুণ অভিবাসীদের সামাজিক সুরক্ষায় ওবামা ঘোষিত ‘ড্রিমার কর্মসূচি’ পরিচালনায় বরাদ্দ অর্থ নিয়ে দুই ভাগে ভাগ হয় সিনেট। ওই কর্মসূচির আওতায় যে সাত লক্ষ তরুণ-তরুণী সাময়িকভাবে আমেরিকায় থাকার অনুমতি পেয়েছে, তাদের ব্যাপারে কোনো স্থায়ী সমাধানকে সমঝোতার শর্ত হিসেবে তুলে ধরে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রতিনিধিরা পুরো বিষয়টিকে সাময়িক সমাধান হিসেবে দেখতেই আগ্রহী। এ নিয়ে রিপাবলিকানদের সঙ্গে মতবিরোধ হওয়ায় শেষপর্যন্ত বাজেটের সমঝোতা প্রস্তাব পাশের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৬০ ভোটও মেলেনি। হোয়াইট হাউসের সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অচলাবস্থা নিরসনের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে অভিবাসী ইস্যুতে সমঝোতা করতে নারাজ ট্রাম্প।’ নিজের ট্যুইটার পোস্টেও ’আমেরিকা ফাস্ট’ লিখে অভিবাসীদের বিষয়ে কঠোর মনোভাবের আভাস দিয়েছেন তিনি। আরো এক ট্যুইটার পোস্টে লিখেছেন, ডেমোক্র্যাটদের অভিবাসী প্রীতির কাছে তাদের সেনাবাহিনী অপহৃত হয়ে আছে। ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর জো মানচিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লমবার্গকে বলেন, রিপবালিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও ডেমোক্র্যাট ডিক ডারবিনের অভিবাসন প্রস্তাবই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল। মানচিন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি দু’পক্ষের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান বের করতে চাই। আর অভিবাসন ইস্যু অবশ্যই থাকবে।’
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণে অর্থায়নে দীর্ঘ দিনের জটিলতার অবসান হয়েছে। প্রতিশ্রুত ঋণের টাকার প্রথম কিস্তি গত ডিসেম্বরে ছেড়েছে চীনের এক্সিম ব্যাংক। ফলে টানেল নির্মাণ কাজে গতি সঞ্চার হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এশিয়া উইংয়ের যুগ্ম-সচিব ড. একেএম মতিউর রহমান। এ বিষয়ে ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আযম যুগান্তরকে বলেন, কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে অর্থায়নের জটিলতা চলছিল অনেক দিন ধরেই। ঋণ চুক্তির পর অর্থছাড় হচ্ছিল না। কিন্তু ইআরডির সফল নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে গত নভেম্বরে এ প্রকল্পের জন্য ব্যবস্থাপনা ফি পাঠানো হয়। তারপর ৭ ডিসেম্বর ১৩ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার (১ হাজার ১০৮ কোটি টাকা) ছাড় করেছে চায়না এক্সিম ব্যাংক। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এখন আর কোনো সমস্যা থাকবে না বলে আশা করছি। এখন প্রকল্পের কাজে গতি সঞ্চার হবে। সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ঢাকা সফরে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী, চীনের এক্সিম ব্যাংক ২০ বছর মেয়াদি ঋণ দেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শি জিন পিং একই সঙ্গে টানেলের নির্মাণ কাজের উদ্বোধনও করেন। কিন্তু এরপরই নানা জটিলতায় আটকে যায় ঋণের অর্থছাড়।
ফলে টানেল নির্মাণের মূল কাজে স্থবিরতা তৈরি হয়। শুরু হয় নানা দেন-দরবার। ব্যাপক আলাপ-আলোচনার পর গত নভেম্বরের শেষ দিকে চীনের এক্সিম ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয় ব্যবস্থাপনা ফি। এক্ষেত্রে ঋণের শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে ১৪ লাখ ২ হাজার ৩৯০ মার্কিন ডলার (প্রতি ডলার ৮০ টাকা হিসাবে প্রায় ১১ কোটি ২১ লাখ ৯১ হাজার ২০০ টাকা) পরিশোধ করা হয়। এরপরই অর্থছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু করে চীন। ব্যবস্থাপনা ফি’র বিষয়ে ইআরডির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, চীন দুভাবে ঋণ দিয়ে থাকে- সহজ শর্তে এবং কিছুটা কঠিন শর্তে। জি-টু-জি (সরকার-টু-সরকার) ভিত্তিতে যে ঋণ দেয়া হয়, ধরে নেয়া হয় সে ঋণে কোনো লাভ করা হয় না। কিন্তু বায়ার্স ক্রেডিটে যে ঋণ দেয়া হয় সেখানে কিছুটা লাভ করে। যে ঋণে লাভ করা হয় না তার একটি পরিচালন ব্যয় রয়েছে। এছাড়া বায়ার্স ক্রেডিটে যে ঋণ দেয়া হয় তারও একটি পরিচালন ব্যয় রয়েছে। এজন্য সুদের হার যাই থাক ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য চীনা এক্সিম ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ফি নিয়ে থাকে। এটি অর্থছাড়ের আগেই পরিশোধ করতে হয়। তা না হলে অর্থছাড় করা হয় না। সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ টানেল নির্মাণ প্রকল্প ২০১৫ সালের নভেম্বরে অনুমোদন পায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ২০১১ সালে নিয়োগ করা হয় পরামর্শক। যৌথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করে চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি) ও হংকংয়ের ওভিই অরুপ অ্যান্ড পার্টনারস। নকশাও প্রণয়ন করা হয় একই সঙ্গে।
জি-টু-জি ভিত্তিতে চীনের অর্থায়নে টানেলটি নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে সিসিসিসি। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) অনুযায়ী, সম্ভাব্যতা যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারির কাজ পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে জি-টু-জি ঋণের আওতায় হওয়ায় সিসিসিসিকে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। ২০১৫ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সই হয়। মোট নির্মাণ ব্যয়ের মধ্যে ৭০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা চীন জি-টু-জির আওতায় ঋণ হিসাবে দেয়ার কথা। বাকি টাকা সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। নকশা অনুযায়ী, টানেলের শহর প্রান্ত থাকবে পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি পয়েন্টে। অপর প্রান্ত থাকবে নদীর পশ্চিম তীরে আনোয়ারার চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার (সিইউএফএল) এলাকায়। পূর্ব প্রান্তে ৫ কিলোমিটার এবং পশ্চিমে এক কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৫৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং চীনা ঋণের ১ হাজার ৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে যখন উন্নয়নশীল (ডেভেলপিং) দেশে প্রবেশ করবে, তখন বাংলাদেশকে বিশ্ব বাণিজ্যে ভয়াবহ প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। যা সরাসরি রফতানি বাণিজ্যে আঘাত হানতে পারে বলে শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, এলডিসি উত্তরণের সীমা শেষ হওয়ামাত্র উন্নত দেশগুলোর চলমান সুবিধা বাংলাদেশের জন্য স্থগিত হয়ে যাবে। তখন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ছাড়কৃত শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা থাকবে না। একই কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি সুবিধাও উঠে যাবে। ফলে এলডিসির দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশকে রফতানির ক্ষেত্রে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আঙ্কটাড) সাম্প্রতিক এক জরিপে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, রফতানি আয় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ফলে মোট রফতানি আয় থেকে দেড় বিলিয়ন থেকে ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হারাতে হবে বাংলাদেশকে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (এক ডলারে ৮২ টাকা হিসাবে) দাঁড়াবে ১৮ হাজার ৪০ কোটি টাকা। জাতিসংঘের এ সংস্থাটি ২০১৬-১৭ অর্থবছরকে ভিত্তি ধরে এ হিসাব করেছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যাওয়া প্রায় সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়ের হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারণ এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা ছাড়াই বাংলাদেশ থেকে পণ্য রফতানি করা হয়। অন্যদিকে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় প্রবেশের পর অতিরিক্ত হারে শুল্ক দেয়ার কারণে বাংলাদেশ রফতানি হারাতে পারে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০১৫-১৬ অর্থবছরের ২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়ের হিসাব পর্যালোচনা করে এ পূর্বাভাস দিয়েছে সিপিডি। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, যখন এটি কার্যকর হবে তখন রফতানি আয় কমে যাওয়ার যে তথ্য এখন ফোরকাস্ট করা হচ্ছে তা এ সীমার মধ্যে থাকবে না। কেননা এর নেতিবাচক বহুমাত্রিক প্রভাব যোগ করলে সার্বিকভাবে রফতানি আয় কমে যাওয়ার পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে। এছাড়া সক্ষমতা অর্জনের বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে যা বলা হচ্ছে, সেটি তো ব্যবসায়ীদের ফেস করতে হবে। যেখানে সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা বা বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে এখনও পদে পদে আমলাতান্ত্রিক নানা জটিলতা ও হয়রানি ফেস করতে হয় সেখানে উদ্যোক্তারা চাইলেই রাতারাতি সক্ষমতা বাড়াতে পারবে না। সেজন্য প্রয়োজন হবে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা ও সমর্থন। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করবে জাতিসংঘের ইকোনমিক ও সোশ্যাল কাউন্সিল। উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে যে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়, তা বাংলাদেশ ইতিমধ্যে অর্জন করেছে। শর্তগুলো হচ্ছে- ১. মাথাপিছু আয় ১২৪২ মার্কিন ডলার; বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১৬১০ মার্কিন ডলার। ২. মানবসম্পদের উন্নয়ন অর্থাৎ দেশের ৬৬ ভাগ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ সেটি ৭০ ভাগে উন্নীত করেছে। ৩. অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর না হওয়ার মাত্রা ৩০ ভাগের নিচে থাকতে হবে। বাংলাদেশ এ মুহূর্তে তা ২৬ ভাগ অর্জন করেছে। বিশ্বের ইকোনমিক ও সোশ্যাল কাউন্সিল এ তিনটি বিষয় বিবেচনা করে কোনো দেশকে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার ঘোষণা দেয়। আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় এ কাউন্সিলের মূল্যায়ন কমিটির সভায় বাংলাদেশের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ২০২১ সালের মধ্যে এ তিনটি শর্ত পূরণের সময়সীমা দেয়া হয় বাংলাদেশকে। কিন্তু শর্তগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ করায় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ ঘোষণা তিন বছর আগেই আসছে।
গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা : ২০২১ সালে বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার পর বিধান অনুযায়ী, পরবর্তী তিন বছর অর্থাৎ ২০২৪ সাল পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা নিতে পারবে বাংলাদেশ। এরপর নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক সুবিধাসহ অন্যান্য বিশেষ সুবিধা ছাড়ের প্রক্রিয়া কঠোর হতে শুরু করবে। এরপরও পরবর্তী তিন বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত ক্রমহ্রাস মানহারে কিছু সুবিধা মিলবে। সব মিলিয়ে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় প্রবেশের পরও বাংলাদেশের হাতে থাকবে প্রায় ১০টি বছর। এ সময়ের মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ একাধিকবার যুগান্তরকে বলেছেন, এলডিসি থেকে বাংলাদেশ বের হয়ে গেলে রফতানি বাণিজ্যের ওপর একটা চাপ তৈরি হবে, এটা সত্যি। কিন্তু সেই চাপ মোকাবেলার সক্ষমতা উদ্যোক্তাদের তৈরি হয়েছে। আগামীতে এ সক্ষমতা আরও বাড়বে। এ নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশ উচ্চশুল্ক দিয়েই পণ্য রফতানি করছে। তারা আমাদের জিএসপি দেয় না। বাংলাদেশের রফতানি আয়ের সিংহভাগ আসে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ থেকে। এলডিসি থেকে বের হলে ইইউতে জিএসপি থাকবে না, তখন বিকল্প হিসেবে আমরা তাদের সঙ্গে জিএসপি প্লাসে যাব। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমরা ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টে (এফটিএ) যাব। আঞ্চলিক জোটগুলোয় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও জোরালো হবে।
অর্থনীতিবিদদের মন্তব্য : বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ডব্লিউটিওর সুযোগ-সুবিধা হারানোর পর ঋণের ঝুঁকি বাড়বে। অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধ করতে হবে বিধায় রফতানি আয় কমবে। আঙ্কটাড ও সিপিডি যে হিসাব দেখিয়েছে, সেটি কোনো একটি বছরের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে করেছে। এভাবে প্রতি বছর রফতানির পরিমাণ বাড়লে অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধের হারও বাড়তে থাকবে। এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ সুখবর হলেও রফতানি বাণিজ্যের জন্য এটা বড় শঙ্কারও কারণ। তবে তিনি আশা করছেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হলেও এর গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা পাবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। এরপরও পরবর্তী তিন বছর অর্থাৎ ২০২৭ সাল পর্যন্ত ক্রমহ্রাসমান হারে পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ হাতে প্রায় ১০ বছর সময় পাচ্ছে বাংলাদেশ। এ সময়ে উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে হবে। শ্রমিকের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা- দুটোই বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। পণ্যের বৈচিত্র্য ও গুণগত মান বৃদ্ধিরও সুযোগ থাকবে। ফলে সম্ভাব্য বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হচ্ছে রফতানি খাত। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এ খাতের প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের ধাক্কা আসবে। কারণ তখন শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা থাকবে না। পাশাপাশি বিদেশি ঋণের উচ্চ সুদ দিতে হবে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে এগুলো আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি দাবি করেন, এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। তিনিও মনে করেন, ভবিষ্যতে উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়বে, এটি আমরা বলতেই পারি। ফলে তাদের উৎপাদন ও রফতানি উভয়ই বাড়বে। এক প্রশ্নের জবাবে ড. মনসুর বলেন, এ ক্ষেত্রে আমরা ভিয়েতনামকে অনুসরণ করতে পারি। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে তারা (ভিয়েতনাম) বিশ্বের ৮০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে। বাংলাদেশকেও সে পথে যেতে হবে। পাশাপাশি জিএসপির পরিবর্তে জিএসপি প্লাসসহ আরও বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য : এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে রফতানি খাতে ধাক্কা কিভাবে মোকাবেলা করা হবে- জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আপাতদৃষ্টিতে এটি উদ্যোক্তাদের মধ্যে শঙ্কা হিসেবে উঁকি দিলেও কার্যত তার নেতিবাচক প্রভাব খুব একটা আমাদের রফতানিতে পড়বে না। কারণ প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ বেশ লম্বা সময় পাবে। এ সময়ে নিশ্চয়ই আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানার আধুনিকায়ন এবং সম্প্রসারণ হবে। উদ্যোক্তা, ব্যবস্থাপনা পর্যায় এবং শ্রমিকের দক্ষতা ও সক্ষমতা আরও বাড়বে। মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে। এর ফলে কারখানার অসন্তোষ দূর হবে এবং উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাকের উৎপাদনেও অনেক বৈচিত্র্য আসবে। পাশাপাশি অন্যান্য রফতানি পণ্যেরও বহুমুখীকরণ হবে। এতে আমাদের বাজার বাড়বে ও বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা তৈরি হবে। ফলে আমরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারব। আমরা তো মনে করি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে আমাদের রফতানির পরিমাণ আরও বাড়বে এবং আয়ও বাড়বে। রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হলে উন্নয়নশীল দেশে যাত্রার সার্থকতা কী- এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ রফতানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী যুগান্তরকে বলেন, সার্থকতা হচ্ছে তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে নিজেদের যোগ্যতা ও অর্জন দিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়বে। তাছাড়া আমরা চাইলেই যেমন স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বের হতে পারব না, তেমনি উন্নয়নশীল দেশেও নিজেদের ইচ্ছামতো পৌঁছাতে পারব না। এর জন্য বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ যেসব মানদণ্ডে এই স্বীকৃতি দিয়ে থাকে, তা অর্জন করতে হবে। এর কোনো একটির দুর্বলতা বা ঘাটতি থাকলে উত্তরণের সুযোগ নেই। বাংলাদেশের জন্য সুসংবাদ হচ্ছে- সংস্থাগুলোর বিবেচ্য বিষয়ের সব কটিতেই উত্তীর্ণ হতে পেরেছি আমরা। ফলে চলতি বছর মার্চে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সভায় তারা যদি বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ঘোষণা দেয়, তাহলে আমরা চাইলেও আর এলডিসিতে থাকতে পারব না। তিনি দাবি করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন একের পর এক উন্নত দেশে পরিণত হচ্ছে, সেখানে আমাদের সুযোগ থাকলে কেন আমরা পেছনে পড়ে থাকব?
রফতানি পণ্য : বিশ্ববাজারে বর্তমানে দেশে রফতানিযোগ্য পণ্যের সংখ্যা ৭৪৪টি। বিশ্বের ১৯৮টি দেশে এসব পণ্য রফতানি হচ্ছে। এর মধ্যে এককভাবে তৈরি পোশাক খাতই রফতানি অবদান রাখছে ৮১ শতাংশ। এ ছাড়া কৃষিপণ্য ও অ্যাগ্রো প্রসেস পণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য ও জুতা, ইলেকট্রুনিক পণ্য, মূল্য সংযোজিত হিমায়িত মৎস্য, রাবার, রেশমসামগ্রী, সিরামিক পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য (অটো পার্টস ও বাইসাইকেল), ওষুধ, ফার্নিচার, জাহাজ, প্লাস্টিক পণ্য, আসবাবপত্র, টেরিটাওয়েল, লাগেজ, গরু-মহিষের হাড়, নারকেলের ছোবড়া, আইটি পণ্য, কুঁচে, পাঁপড়, প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, অমসৃণ হীরা ও জুয়েলারি, পেপার ও পেপার পণ্য, হস্ত ও কারুপণ্য, লুঙ্গি, তাঁত শিল্পজাত পণ্য ইত্যাদি।
রফতানির পরিসংখ্যান : চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বা ৩ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। যা গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের রফতানি আয়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে পণ্য খাতে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার বা ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু তৈরি পোশাক খাত থেকেই প্রায় ২ হাজার ৮১৫ কোটি ডলার বা ২ লাখ ২৫ হাজার ২০০ কোটি টাকার রফতানি আয় আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাকি ৭৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকার রফতানি আসবে অন্যান্য পণ্য থেকে। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো রফতানি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া সেবা খাত থেকে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩১৫ কোটি ডলার বা ২৮ হাজার কোটি টাকা। সেবা খাতের মধ্যে টুরিজম, ইঞ্জিনিয়ারিং ও আইসিটি খাতকে রফতানি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন বু্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৪৮৩ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। যা এর আগের ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রফতানি আয়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রফতানি আয় ছিল ৩ হাজার ৪২৫ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার।
শ্রমিকদের বকেয়া মজুরির দাবিতে রোববার পাঁচ ঘণ্টা কাজ বন্ধ রাখার পর বেনাপোল স্থলবন্দরে হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের (একাংশ) ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। বন্দরের পরিচালক ও শ্রমিকদের মধ্যে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনার পর শ্রমিকরা বেলা ২টা থেকে কাজে যোগ দেন।
এর আগ সকাল ১০টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দরে লোড-আনলোড বন্ধ রাখেন শ্রমিকরা। বেনাপোল বন্দরের হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক রাশেদ আলী জানান, বন্দরে ম্যানুয়াল সাইটে পণ্য লোড-আনলোডে শ্রমিকদের মজুরি টনপ্রতি সাড়ে ১৭ টাকা। গত তিন মাস ধরে তারা কোনো মজুরি পাচ্ছেন না। বকেয়া মজুরি না পাওয়ায় তারা সকালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
সৌদি আরব কর্তৃক ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে ইসরাইল। ইসরাইল সরকার ইতিমধ্যে এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিয়েথ আহরেনথের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে মিডলইস্ট মনিটর। তবে সম্প্রতি এ পরিকল্পনার কথা প্রকাশ হলেও প্রায় তিন বছর আগে এটি চূড়ান্ত করে ইসরাইল।
দেশটির ২০১৯ সালের বার্ষিক বাজেটে এ জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হবে। রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। ইসরাইলের পরিকল্পনায় এ রেললাইন দেশটির বিশান শহর থেকে জর্ডান ও ইরাকের মধ্য দিয়ে সৌদি আরবে পৌঁছবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এ রেললাইন নির্মাণ করা হলে আপাতত যাত্রী ও পণ্যবহন করা হবে। খবর বলা হয়েছে, ইসরাইলের যোগাযোগমন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এ রেল সংযোগকে 'পিস লাইন' বা শান্তির সংযোগ বলে উল্লেখ করেছেন। এ সময় তিনি নতুন রেললাইনের মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সংযোগ স্থাপন হবে বলে মন্তব্য করেন। রেললাইন স্থাপনের জন্য ইসরাইলে রেল বিভাগ একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে বলেও তিনি জানান।
ছুটির পুরোটা দিন নিজের মতো করে বিশ্রাম নেবেন- এমনটা সাধারণত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য হয়ে ওঠে না। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দায়িত্বও তার কাঁধে। তাই নানা অনুষ্ঠান ও দলীয় কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় তাকে। এত কাজের মধ্যে নিজের বা পরিবারের জন্য সময় বের করাটা বেশ কঠিন। পছন্দের রান্না করার সময় পাওয়া তো আরও কঠিন।
তবে সেই কঠিন কাজও করেছেন তিনি। ছুটির দিনে একটু সময় পেয়ে শনিবার গণভবনের রান্নাঘরে ঢুকে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রান্না করেন পরিবারের সদস্যদের জন্য পছন্দের খাবার। প্রধানমন্ত্রী রান্না করছেন- এমনই দুটি ছবি ফেসবুকে দিয়েছেন তার উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম। রোববার দুপুরে পোস্ট করা ওই ছবি ভাইরাল হয়। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময় পেলেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। নিজের হাতে পরিবারের সদস্যদের জন্য পছন্দের রান্না করেন। শনিবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন। নানা কাজের মধ্যে কিছুটা সময় পেয়ে তিনি ঢুকে পড়েন রান্নাঘরে। উল্লেখ্য, এর আগে গণভবনে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর রান্না করার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।
কথা সত্য। ঢাকায় বারুদের গন্ধ নেই। রাজনীতিও শান্ত। তবে ভেতরে ভেতরে তীব্র চাপানউতোর। বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি মামলাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এই পরিস্থিতি। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি আগামী দিনের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট হতে চলেছে।
এ মামলা ঘিরে সরকার ও বিরোধী শিবিরে জোর প্রস্তুতি চলছে। বিএনপিতে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। শনিবার রাতেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ নিয়ে দীর্ঘসময় কথা বলেছেন নিজের আইনজীবীদের সঙ্গে। দলের নেতারাও এ মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছেন। রায় কী হবে এবং রায়ের পর পরিস্থিতি কোন্‌দিকে গড়াবে সেটাই বিএনপি নেতাদের উদ্বেগের প্রধান কারণ।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি এখন একেবারেই চূড়ান্ত পর্যায়ে। যেকোনো দিন এ মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে। তবে রায় কবে হবে তা হলফ করে বলা কঠিন। মামলার রায় পরবর্তী পরিস্থিতির ব্যাপারে গভীর নজর রাখছে সরকারপক্ষও। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দল ও প্রশাসনকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিমের সফরের সময়ও তৃণমূল পর্যায়কে এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেয়া হবে। অতীতে বিরোধী দলের আন্দোলন প্রশাসন কঠোর হস্তে দমন করেছে। এক্ষেত্রে সংগঠনকে তেমন কোনো প্রয়োজন হয়নি সরকারের। আগামীতেও প্রশাসন দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা চলবে। তবে রায় বিরুদ্ধে গেলেও খালেদা জিয়ার সামনে আপিলের সুযোগ থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগে যেতে পারবেন তিনি। বাংলাদেশে সাধারণত দুর্নীতির মামলায় নিম্ন আদালতে কারো সাজা হলেও তিনি নির্বাচনের অযোগ্য হন না। নির্বাচনে যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয় আসে চূড়ান্ত রায়ের পর। কিন্তু এক্ষেত্রে আইন সংশোধনের মাধ্যমে নিম্ন আদালতে সাজার পরই নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান করার চিন্তা সরকারের একটি অংশের মধ্যে রয়েছে। তবে এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। 
এই যখন অবস্থা তখন ট্রাস্ট মামলায় বিচারের গতি-প্রকৃতি ও নতুন করে ১৪টি মামলা বিশেষ আদালতে স্থানান্তর নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। বিএনপি নেতারা বলছেন, মামলার রায় ও আগামী দিনে দলের নেতৃত্ব নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন নয়। খালেদা জিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি নিয়েই তাদের সব উদ্বেগ। দলটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা অভিযোগ করে বলছেন, বছরের পর বছর ধরে মামলার জট তৈরি হয়েছে নিম্ন আদালতে। সেদিকে সরকারের তেমন নজর না থাকলেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের মামলাগুলোয়। বিশেষ আদালতের মাধ্যমে ট্রাস্ট মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে প্রতি সপ্তাহের একাধিক দিন। তার প্রতিটি হাজিরার দিন নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে নেতাকর্মীদের। দায়ের করা হচ্ছে নতুন নতুন মামলা। সম্প্রতি নতুন করে খালেদা জিয়ার ১৪টি মামলা স্থানান্তর করা হয়েছে বিশেষ আদালতে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতা ও সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা মামলার রায় নিয়ে আগাম বক্তব্য দিচ্ছেন। বিষয়গুলো স্বাভাবিক হিসেবে নিতে পারছেন না বিএনপির নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে নানা গুঞ্জন। সবখানে এখন একই প্রশ্ন- ট্রাস্ট মামলার রায় খালেদা জিয়ার বিপক্ষে গেলে কি করবে বিএনপি? আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিইবা হবে তাদের কৌশল? নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ব্যাটনই থাকবে কার হাতে? এমন পরিস্থিতিতে শনিবার রাতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খালেদা জিয়া। সে বৈঠকে ডাক পেয়েছিলেন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অন্য দুই আসামি কাজী সলিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিনের আইনজীবী আহসান উল্লাহ। ১৮ই জানুয়ারি আদালতে যুক্তিতর্ক করতে গিয়ে খালেদা জিয়ার মনোযোগ কেড়েছেন তিনি। অন্যদিকে ট্রাস্ট মামলার রায় নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বিএনপি। শুক্রবার কক্সবাজারের চকরিয়ায় ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির নেতা ও এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গার দেয়া একটি বক্তব্যের (১৫ দিনের মধ্যে খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হবে) সমালোচনা করে গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি টুইট করেছেন খালেদা জিয়া। মামলার রায় নিয়ে রাঙ্গার এ বক্তব্যকে ‘আদালত অবমাননা’ আখ্যায়িত করে টুইটে তিনি লিখেছেন, “শুক্রবার, জানুয়ারি ১৯, পত্রিকায় এসেছে, বিনাভোটের এক প্রতিমন্ত্রী বলেছে, ‘১৫ দিনের মধ্যে খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হবে।’ বিচারাধীন মামলার রায় ঘোষণা আদালত অবমাননা নয় কি? বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় মাননীয় প্রধান বিচারপতি কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন, জনগণ সেইদিকে সতর্ক নজর রাখছে।”
বিএনপি নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা বলছেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। দুইবার বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন সংসদে। ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনের লড়াইয়ে হারের নজির নেই তার জীবনে। দেশের শীর্ষ দুই রাজনৈতিক দলের একটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিরোধী জোটের শীর্ষ নেত্রী। সবসময় আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এসেছেন তিনি। দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মানসিকতা যে তার নেই এটাও প্রমাণ করেছেন বারবার। সর্বোপরি খালেদা জিয়া একজন ৭৩ বছর বয়স্ক নারী। তারপরও কোন সৌজন্য আচরণ পাচ্ছেন না তিনি।
বিএনপি নেতা ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অভিযোগ, আদালত প্রাঙ্গণে মানসম্মত দূরে থাক, মহিলাদের জন্য সাধারণ মানের কোনো ‘ওয়াশ রুমের’ ব্যবস্থা নেই। কিন্তু ৭৩ বছর বয়স্ক দেশের একজন বিশিষ্ট নারী খালেদা জিয়াকে সপ্তাহে তিনদিন (১৬, ১৭ ও ১৮ই জানুয়ারি) একটি অস্থায়ী আদালতে পূর্ণ কার্যদিবস হাজির থাকতে হচ্ছে। মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনও আদালতে কেটেছে খালেদা জিয়ার। পুত্র কোকোর মৃত্যুবার্ষিকীর দিনও তাকে থাকতে হবে আদালতে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে রায় কি হবে তারা জানে। বিচারাধীন একটি বিষয়ে এমন মন্তব্যকে আমি আদালত অবমাননা বলে মনে করি। বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার ধরন ও আওয়ামী লীগ নেতা এবং সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যে এটা পরিষ্কার যে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার যে প্রতিশোধের রাজনীতি তা বাস্তবায়নের একটি প্রক্রিয়া চলছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী মাসেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। একই মামলার দ্বিতীয় আসামি বিএনপির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। একই আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট-সংক্রান্ত দুর্নীতির আরেকটি মামলার বিচারকাজও দ্রুত এগোচ্ছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের ওপর নির্ভর করবে রাজনীতির গতি-প্রকৃতি ও আগামী জাতীয় নির্বাচনের ধরন। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৌশল নির্ধারণ করছে বিএনপিও। আগামী নির্বাচন ঘিরে দিল্লির সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন খালেদা জিয়া।
ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেতে উঠছে ঢাকার রাজনীতি। গদি ধরে রাখতে এক দিকে যেমন কৌশল রচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তেমনই এ বারের ভোটে যোগ দিয়ে ক্ষমতা দখলে মরিয়া বিএনপি ও জামাতে ইসলামি জোটের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাস ধরে দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন খালেদা। এ জন্য আরএসএস তথা সংঘ পরিবারের মাধ্যমে মোদী সরকারের কাছে বার্তা পৌঁছনোর চেষ্টা করছে বিএনপি-জামাত জোট। সেই বার্তাটি হল, শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগের প্রতি কূটনৈতিক পক্ষপাত বহাল না-রেখে তাঁদের সঙ্গেও একটা বোঝাপড়ার দিকে এগোক সাউথ ব্লক। নয়াদিল্লিকে এটা বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে, বিএনপি তাদের কর্মসূচিতে সর্বদা বাণিজ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে নানা ধরনের ছাড়া দেবে তারা।
পাশাপাশি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু অধিকারের বিষয়টি নিয়েও এ বারে যে তারা তৎপর হতে চায়, সে কথাও দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।সূত্রের খবর, এ বিষয়ে নাগপুরে আরএসএস-এর একটি অংশের সঙ্গে বিএনপি-র কয়েক জন প্রতিনিধি সম্প্রতি দেখা করে এসেছেন। তা ছাড়া গত বছরের শেষে খালেদা জিয়া যখন লন্ডনে যান, সেখানেও সঙ্ঘের প্রবাসী কিছু নেতার সঙ্গে কথা হয় তাঁর।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বা বাংলাদেশ হাইকমিশন— প্রকাশ্যে অবশ্য কোনও পক্ষই এই ধরনের বৈঠকের কথা স্বীকার করছে না। বিএনপি-ও সঙ্গত কারণেই এ নিয়ে চুপ। কিন্তু আরএসএস সূত্র জানাচ্ছে, দিল্লির সঙ্গে তারা একটা বোঝাপড়ায় আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতৃত্ব। খালেদা জিয়ার দল মোদী সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করছে, হাসিনা সরকারের সময়ই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সব চেয়ে বেশি অত্যাচার হয়েছে এবং এখনও হয়ে চলেছে। মন্ত্রিসভায় অথবা জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নামমাত্র। বিএনপি ঘরোয়া ভাবে এ কথাও আরএসএস-কে জানিয়েছে যে তারা অন্তত ৫০ জন সংখ্যালঘু প্রার্থীকে আগামী ভোটে প্রার্থী করতে ইচ্ছুক। ক্ষমতায় এলে মন্ত্রিসভায় হিন্দু প্রতিনিধিত্বও এখনকার থেকে বেশ খানিকটা বেশি থাকবে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক অবশ্য জানাচ্ছে, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভারত নাক গলায় না। কোনও রাষ্ট্রে যখন যে দলের সরকার থাকে, নয়াদিল্লি তার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বাংলাদেশে এর আগে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, ভারত তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক বহাল রেখে চলেছে। কিন্তু বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, খালেদার এই অতিসক্রিয়তাকে ভাল চোখে দেখছে না দিল্লি। বিএনপির উদ্দেশ্য নিয়েও সন্দিহান বিদেশ মন্ত্রক। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, নভেম্বরে ‘দাঁতের চিকিৎসা’ করাতে লন্ডনে গিয়ে খালেদা পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর কর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে গিয়েছেন। লন্ডনের পাকিস্তান হাই কমিশনের কর্তাদের সঙ্গেও অনেক বার বৈঠকে বসেছিলেন খালেদা, বাংলাদেশে যা নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। তবে বিএনপি নেতৃত্ব এই সব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও বানানো’ বলে উড়িয়ে দিয়ে এসেছেন। কিন্তু খালেদা যে পাকিস্তানের একটি কট্টরপন্থী অংশের হাতে তামাক খেতে অভ্যস্ত, তাদের মাধ্যমে অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখলের চক্রান্তে লিপ্ত বলেই নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন— এই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে আওয়ামি লিগ। তাই সব মিলিয়ে কিছুটা সতর্ক ভাবেই বাংলাদেশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে মোদী সরকার।
সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা
দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়ে চলেছে। ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গত ১০ বছরে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথের মূল্য অনেক কমলেও জনসাধারণ এর সুফল পাচ্ছে না। ২০০৯ সালে যেখানে প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের মূল্য ছিল ২৭ হাজার টাকা, তা বর্তমানে ৬২৫ টাকায় নেমে এলেও গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের সেবার মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি। গত বছর জুনে প্রকাশিত তথ্যানুসারে, সার্কভুক্ত দেশগুলোর জনসংখ্যার অনুপাতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ শীর্ষে অবস্থান করছে। অথচ সে অনুপাতে সেবার মান, আউটসোর্সিংসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে আমাদের আয় বৃদ্ধির কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। ইতিমধ্যে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথমটির চেয়ে আটগুণ বেশি গতিসম্পন্ন ব্যান্ডউইথের পরও দেশে ইন্টারনেটের গতি বা সেবার মানবৃদ্ধির কোনো লক্ষণ নেই। এখনও নানা অজুহাতে ইন্টারনেটের মূল্য অপরিবর্তিত রাখার পক্ষেই কথা বলছেন ইন্টারনেট সেবাদাতারা। মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য ফোর জি নীতিমালাও চূড়ান্ত হয়েছে। তবুও ব্যবহারকারীদের আশ্বস্ত করার মতো কোনো সুসংবাদ নেই। কিছুদিন আগে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আমরা দেখেছি, প্রতি গিগাবাইট ইন্টারনেট ডাটা কিনতে সেলফোন অপারেটরদের ব্যয় গড়ে ২৬ পয়সা হলেও গ্রাহকের কাছে একই পরিমাণ ডাটা ২০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি করছে অধিকাংশ অপারেটর। তাছাড়া মেয়াদও বেঁধে দিচ্ছে তারা।
এটা স্পষ্টতই গ্রাহক ঠকানো ছাড়া কিছুই নয়। এ ক্ষেত্রে অপারেটরের পাশাপাশি বিটিআরসির দায়ও কম নয়। আমরা ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে, এমনকি ভারতের তুলনায়ও এগিয়ে থাকার আত্মতুষ্টিতে ভুগছি। অথচ ভারত তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বছরে লাখ লাখ লোকের নতুন কর্মসংস্থান করছে। কিন্তু আমাদের দেশে সবরকম সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আয় এখনও সন্তোষজনক নয়। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছে আমাদের সরকার। কিন্তু ডাটাভিত্তিক সেবা গ্রাহকদের জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী যেমন নয়, তেমনি ধীরগতির কারণে সর্বোচ্চ সুফলও মিলছে না। এটা সার্বিকভাবে ডিজিটালাইজেশনের পথে অন্তরায় বলে আমরা মনে করি। এ পরিস্থিতিতে বছরের শুরুতে সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার। দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেছেন, ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি এবং মূল্যহ্রাসই তার প্রথম অগ্রাধিকার। এটা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। আমরা দেখেছি, বেশ কয়েক বছর ধরেই তিনি ডাটাভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার অন্যায্য দাম নিয়ে মুখর ছিলেন। দেশের গ্রামগঞ্জে ইন্টারনেটের যে করুণ অবস্থা, প্রতিনিয়ত সেটাও তুলে ধরেছেন। এখন তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। আমরা আশা করি, এবার পরিস্থিতি বদলাবে, আমরা কম মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পাব।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক পার্বতীপুর, দিনাজপুর
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অনুষ্ঠেয় নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত করা হয়েছে। এভাবে আদালত কর্তৃক নির্বাচন স্থগিতের আদেশকে লঘুভাবে নেয়ার কিছু নেই। কারণ এই আদেশের কারণে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মতো একটি সংস্থা নির্বাচিত মেয়রের পরিবর্তে অন্যদের দ্বারা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিচালিত হওয়া এ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নাকচ করারই নামান্তর। ‘‘জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকার ভোট অনিশ্চিত’ শীর্ষক একটি রিপোর্টে যুগান্তর পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আদালতের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে আপিল করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। এমনকি তফসিল ঘোষণার আগেই বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংশোধনের সুপারিশ করা হলেও আমলে নেয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি) বা স্থানীয় সরকার বিভাগ। তখন আরও বলা হয়েছিল, এ জটিলতা রেখে তফসিল ঘোষণা করা হলে রিট হতে পারে, স্থগিত হয়ে যেতে পারে নির্বাচনও। শুধু তাই নয়, কমিশনের এক সভার কার্যপত্রে আইনগত জটিলতার বিষয়গুলো উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। উল্টো ইসির পক্ষ থেকে ‘রহস্যজনকভাবে’ বারবার বলা হচ্ছে কোনো জটিলতা তারা দেখছেন না।
এমন পরিস্থিতিতে এ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ইসি ও সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।’’ (যুগান্তর, ১৯.০১.২০১৮)। আদালতের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে আপিল করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না বলে উপরোক্ত রিপোর্টটিতে যা বলা হয়েছে তার কারণ এ ব্যাপারে আপিল করার কোনো ইচ্ছাই সরকারের নেই। শুধু তাই নয়, নির্বাচন স্থগিতের ব্যবস্থা যেভাবে করা হয়েছে তার থেকে স্পষ্টভাবেই বোঝা যায় যে, এক্ষেত্রে সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করেই নির্বাচন বন্ধ রাখার পরিকল্পনা কার্যকর করেছে। আদালতের নির্দেশের পরই বিরোধী দলের সমালোচনার মুখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল! এই ‘শ্রদ্ধাশীলতা’ কোথায় ছিল প্রধান বিচারপতি কর্তৃক ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের সময়? আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে তারা প্রধান বিচারপতির রায়কে মেনে নিতে অস্বীকার করে কেন তাকে নানাভাবে হেনস্থা ও অপমান করলেন? এর থেকে কি বোঝার অসুবিধা আছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের মতলব যে রায়ের দ্বারা সিদ্ধ হয় সেই রায়ের প্রতি তারা ‘শ্রদ্ধাশীল’ এবং যে রায়ে তাদের স্বার্থে ও আঁতে ঘা লাগে তা যতই যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায্য হোক, তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার প্রয়োজন তাদের নেই! উপরন্তু এভাবে স্বার্থসিদ্ধির ক্ষেত্রে দেশের প্রধান বিচারপতিকে পর্যন্ত অপমান করতেও তারা কোনো অসুবিধা বোধ করেন না! ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নিয়ে আওয়ামী লীগ অনেক খেলা তাদের শাসনকালে দেখিয়েছে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করার পর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নির্বাচনের কথা ছিল। কিন্তু সেই নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে কোনো নির্বাচন তারা দেয়নি। শুধু তাই নয়, এজন্য বিএনপির নির্বাচিত মেয়রকে তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তারা বহাল রেখেছিল। পরে তারা কোনোমতেই নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা না দেখে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে বিভক্ত করে প্রশাসক বসিয়ে পূর্ববর্তী নির্বাচনের আগে পর্যন্ত কাজ চালিয়ে এসেছিল। সে নির্বাচনেও তারা কারচুপি করছিল। কিন্তু এখন পরিণতি এমন দাঁড়িয়েছে যে কারচুপি করেও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনে তাদের জয়ের কোনো সম্ভাবনাই নেই। পরাজয়ের এই আশঙ্কা স্পষ্টভাবে দেখেই তারা খুব আগে থেকে নির্বাচন হতে না দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সেই সঙ্গে নির্বাচনে প্রার্থী দেয়া ইত্যাদির মহড়াও তারা দিয়েছিল! এ সবই ছিল জনগণকে প্রতারিত করে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করা।
তাদের এই কার্যকলাপের কারণ, ঢাকা সিটি নির্বাচনে পরাজিত হলে আগামী সাধারণ নির্বাচনের ওপর তার বড় রকম প্রভাব পড়বে এবং তাদের পরাজয়ের আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ এখন যতই চেষ্টা করুক, জাতীয় নির্বাচনের মুখে তারা যতই জনগণকে প্রতারিত করার চেষ্টা করুক, পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, তারা নিজেদের লোক ছাড়া অন্য কাউকেই আর ‘প্রতারণা’ করতে পারার মতো অবস্থায় নেই! এ উপলব্ধি যে তাদের একেবারে নেই তা নয়। উপরন্তু পরাজয়ের আশঙ্কাতেই তারা এখন সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত। সিটি কর্পোরেশনে পরাজিত হওয়ার ষোল আনা নিশ্চিত হয়েই যে তারা এই নির্বাচন বন্ধের জন্য পরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এটা এতই স্পষ্ট যে, এ নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা যাই হোক, যে কোনো বিরোধী সমালোচনা মোকাবেলার উদ্দেশ্যে তারা বিরোধী পক্ষের সবাইকেই বিএনপির লোক বা তাদের দরদী বলে আখ্যায়িত করতে অসুবিধা বোধ করে না। এর কারণ তাদের চিন্তা-চেতনার ক্ষুদ্রতা ও সামান্যতা। দেশের ভূমি বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় না থাকা। চুরি-দুর্নীতি-সন্ত্রাসের মাধ্যমে শহর থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত জনগণের ক্ষোভ ও বিরোধিতার মুখে তারা সব বিরোধিতাকে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য সফল হওয়ার নয়। কারণ তাদের ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি-সন্ত্রাসের ফায়দা বিএনপি জনগণের জন্য কিছু না করেই ইতিমধ্যে পেয়ে বসে আছে, যেমনভাবে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বিরোধী দল পেয়ে থাকে। কাজেই বিএনপির ঘাড়ে সব দোষ চাপিয়ে, তাকে নন্দঘোষ বানিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার সম্ভাবনা আওয়ামী লীগের নেই বললেই চলে। তাদের এমন অবস্থা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময়েও ছিল। এ কারণেই তারা নানারকম ফন্দি-ফিকির করে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের জোরে এক ভুয়া নির্বাচন করে ক্ষমতায় ফিরে এসেছিল। এবার কিন্তু পরিস্থিতি ঠিক আগের মতো নেই। কাজেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো নির্বাচন করার চেষ্টা যদি আওয়ামী লীগ করে তাহলে দেশে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আওয়ামী লীগ পরপর দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে ‘উন্নয়নের’ নামে যেভাবে লুটপাট, সন্ত্রাস, জনগণের পকেটমারি করেছে তাতে তারা এখন দেশের সমগ্র জনগণ থেকেই বিচ্ছিন্ন। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ এবং ভারতের সাহায্যের ওপর ভিত্তি করে বিগত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তির চেষ্টা যদি আওয়ামী লীগ করে, তাহলে তার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবেলা করে টিকে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব হওয়ার নয়। বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে, জনগণের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষার বিষয় বিবেচনা করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু ক্ষুদ্র স্বার্থচিন্তার বশবর্তী আওয়ামী লীগের পক্ষে এমনটি যে সম্ভব হবে তা মনে করার কারণ নেই। এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ যদি তাদের ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পুনরাবৃত্তির চেষ্টা করে, তাহলে তার থেকে উদ্ভূত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মোকাবেলা তাদের নিজেদেরকেই করতে হবে।
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল